᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟐𝟐
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
মিলনের সেই তীব্র উত্তেজনার পর যখন চারপাশ শান্ত হয়ে এল, রিভান দিলরুবাকে নিজের বুকের সাথে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। কায়রাভ তখন তাদের দুজনের মাঝখানে পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। রিভান পরম মমতায় ছেলের তুষারশুভ্র কপালে হাত রাখল, কিন্তু হাত রাখা মাত্রই তার অতিপ্রাকৃত ইন্দ্রিয় এক অদ্ভুত অসঙ্গতি টের পেল। কায়রাভের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণ ভ্যাম্পায়ার শিশুদের মতো শীতল নয়, বরং সেখানে এক তীব্র অন্তর্দহন চলছে।
রিভানের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখে দিলরুবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে বসল। সে রিভানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
❝তুমি ওর ভেতরের যে অস্থিরতাটা টের পাচ্ছ রিভান, ওটাই ওর অসুস্থতা। আর এই অসুস্থতার জন্যই গত তিন বছর ধরে আমি এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি।❠
দিলরুবা কায়রাভের ছোট হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলতে লাগল,
❝ও যখন জন্ম নিয়েছিল, তখন থেকেই ওর গ্ৰোথ সাধারণ বাচ্চাদের মতো ছিল না। তিন মাসেই ও কথা বলতে শিখেছে, ওর শরীরের গঠন পাঁচ বছরের বাচ্চার মতো হয়ে গেছে। আমি একজন প্রফেশনাল ডক্টর হয়েও কোনো হসপিটালে জয়েন করতে পারিনি কেবল ওর এই অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে রাখার জন্য। কারণ, ও যে প্রতিনিয়ত ভেতরে ভেতরে একটা মরণাপন্ন যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার কোনো ট্রিটমেন্ট মানুষের চিকিৎসার বইতে লেখা নেই।❠
রিভান সোজা হয়ে বসল, তার চোখজোড়া গভীর হয়ে উঠল।
❝কী ধরণের যন্ত্রণা, দিল?❠
❝ও মাঝেমধ্যেই তীব্র জ্বরে ছটফট করে, ওর শিরাগুলো নীল হয়ে চামড়ার ওপর ভেসে ওঠে। ও মানুষের তৈরি কোনো খাবার হজম করতে পারে না, আবার সাধারণ মানুষের রক্তও ও নিতে পারে না। ও যখন যন্ত্রণায় চিৎকার করতো, আমি ডাক্তার হয়েও কেবল ওর মাথায় জলপট্টি দেওয়া ছাড়া আর কিচ্ছু করতে পারতাম না। মিস্টার জামানকে আমি ওর এই অসুস্থতার কথা বলে কিছু টাকার সাহায্য চেয়েছিলাম ল্যাবের টেস্ট করার জন্য, আর সেই সুযোগেই ও আমার ছেলেকে বিক্রি করে দিল।❠ দিলরুবার চোখ দিয়ে আবার জল গড়িয়ে পড়ল।
রিভান দিলরুবার চোখের জল মুছে দিয়ে কায়রাভকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। সে কায়রাভের বুকের ওপর হাত রেখে তার হৃদস্পন্দন আর রক্তের প্রবাহ অনুভব করার চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ পর রিভানের ঠোঁটে এক ম্লান কিন্তু রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
❝ও অসুস্থ নয়, দিলরুবা।❠
রিভান শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল।
❝ও আসলে এক সংকর বা হাইব্রিড সন্তান। ওর অর্ধেক জিন মানুষের আর বাকি অর্ধেক রাজকীয় ভ্যাম্পায়ারের। আর এই দ্বন্দের কারণেই ওর ভেতরে এই দহন হচ্ছে।❠
❝মানুষের গর্ভে যখন কোনো রাজকীয় ভ্যাম্পায়ারের রক্ত জন্ম নেয়, তখন তার মানবীয় সত্তা আর ভ্যাম্পায়ার সত্তার মধ্যে একটা অবিরাম যুদ্ধ চলে।❠
রিভান দিলরুবাকে বুঝিয়ে বলতে লাগল।
❝ওর এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, এই তীব্র জ্বর—এগুলো কোনো রোগ নয়। এগুলো হলো ওর ভেতরের ভ্যাম্পায়ার সত্তা পূর্ণতা পাওয়ার লক্ষণ। ও আসলে ওর শরীরের মানবীয় দুর্বলতাগুলোকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে যাতে ও একজন পূর্ণাঙ্গ, অপরাজেয় ভ্যাম্পায়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।❠
দিলরুবা চমকে উঠে বলল,
❝কিন্তু ওর এই কষ্ট আমি কীভাবে দূর করব? ও তো ল্যাবের ওই তার আর কেমিক্যালের আঘাতে আরও দুর্বল হয়ে গেছে!❠
❝ওর এই পূর্ণতা পাওয়ার জন্য একটা উৎসের প্রয়োজন, দিল।❠
রিভান দিলরুবার খুব কাছে এসে তার ঘাড়ে নিজের বরফশীতল আঙুল ছোঁলাল।
❝ওর প্রয়োজন আমার মতো এক পিউর-ব্লাড ভ্যাম্পায়ারের রক্তের এনার্জি, যা ও অলরেডি আজকে অবচেতনভাবেই আমার শরীর থেকে কিছুটা টেনে নিয়েছে। আর দরকার...❠
রিভান দিলরুবার লকেটের দিকে তাকাল, যা সে ল্যাব থেকে উদ্ধার করে এনেছিল।
❝..আর্কানাসের সেই আদি উৎস ‘eternal well’-এর পবিত্র জল। ওই জল আর আমার রক্তের সঠিক মিশ্রণই কায়রাভকে এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়ে ভ্যাম্পায়ার রাজত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজপুত্র বানিয়ে তুলবে।❠
রিভানের কথা শুনে দিলরুবার মনে একাধারে স্বস্তি আর নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি হলো। তার মানে কায়রাভকে পুরোপুরি সুস্থ করতে হলে রিভানের এই ডার্ক ওয়ার্ল্ডেরই সাহায্য লাগবে।
রিভান দিলরুবাকে আবার বিছানায় টেনে নিল। তার সেই অতি-পসেসিভ রূপটা যেন ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে আরও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সে দিলরুবার কোমরে নিজের শক্ত হাত জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
❝তুমি গত তিন বছর অনেক কষ্ট করেছ, দিল। একজন মানুষের পক্ষে এক ভ্যাম্পায়ার রাজপুত্রকে আগলে রাখাটা যে কতটা অসম্ভব, তা আমি জানি। কিন্তু এখন আমি এসে গেছি। আমার ছেলের এই পূর্ণতা পাওয়ার পথে যারা বাধা দেবে, তাদের আমি পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেব।❠
রিভান দিলরুবার ঠোঁটে এক প্রগাঢ়, আশ্বস্তকারী চুম্বন দিল। তার হাত দুটো এখন দিলরুবার পিঠের ওপর দিয়ে আলতো করে স্লাইড করছিল, যেন সে তার ছোঁয়া দিয়ে দিলরুবার গত তিন বছরের সব ক্লান্তি আর মানসিক ক্ষত ধুয়ে মুছে দিতে চায়। দিলরুবাও রিভানের সেই চিরচেনা সুরক্ষার চাদরে নিজেকে সঁপে দিল। সে অনুভব করল, কায়রাভকে বাঁচাতে হলে তাকে রিভানের এই অন্ধকারের রানী হতেই হবে।
রিভান কায়রাভের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
‘ইলেক্ট্রা আর এড্রিয়ান ভেবেছিল আমার রাজত্ব কেড়ে নিয়ে ওরাই শেষ কথা বলবে। ওরা জানে না, আমার ছেলে যখন ওর পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পাবে, তখন পুরো ভ্যাম্পায়ার রাজ্য ওর পায়ের নিচে মাথা নত করবে।’
কায়রাভের শরীরের সেই নীল শিরাগুলো যখন আবার একটু শান্ত হয়ে এল, রিভান বিছানা থেকে নেমে তার সেই রাজকীয় কৃষ্ণবর্ণের লং-কোটটা পরে নিল। তার চোখজোড়ায় এখন আর কেবল ভালোবাসা বা অনুশোচনা নেই, সেখানে জ্বলছে এক চরম রণকৌশলের আগুন। সে জানে, কায়রাভকে পূর্ণ ভ্যাম্পায়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করাতে হলে এবং তার এই মরণপণ দহন থামাতে হলে আর্কানাসের সেই ‘পবিত্র জল’ (Pure Water) আজ রাতেই প্রয়োজন। কিন্তু রিভান নিজে এই মুহূর্তে মেগাসিটি ছেড়ে গেলে এড্রিয়ান বা ল্যাবরেটরির বাকি শত্রুরা আবার দিলরুবার ওপর হানা দিতে পারে।
ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ
রিভান তার স্টাডি রুমে গিয়ে টেবিলের ওপর রাখা একটি প্রাচীন রুপোলি পাত্রে নিজের হাতের তালু চিরে কয়েক ফোঁটা বিশুদ্ধ রাজকীয় রক্ত দিল। তারপর সে চোখ বুজে এক অতিপ্রাকৃত তরঙ্গ বাতাসে ছড়িয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যে জানালার ওপাশে এক কালচে ছায়ার আবির্ভাব হলো। ঘরের ভেতরে এসে হাঁটু গেড়ে বসল রিভানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং আদিম অনুচর—লুইস।
লুইস কেবল একজন দক্ষ যোদ্ধাই নয়, সে রিভানের ছায়াশরীরী রক্ষক, যে তিন বছর আগে রিভানের বন্দি হওয়ার পর থেকে আর্কানাসের আন্ডারগ্রাউন্ডে আত্মগোপন করে ছিল।
❝মাস্টার! আপনি মুক্ত!❠
লুইসের কণ্ঠে একাধারে বিস্ময় আর আনুগত্যের ছোঁয়া।
❝আমি জানতাম রাজকীয় রক্তকে কোনো শেকল চিরকাল বেঁধে রাখতে পারে না।❠
❝উঠে দাঁড়াও, লুইস।❠
রিভান তার গম্ভীর স্বরে বলল।
❝আমার মুক্ত হওয়ার চেয়েও বড় একটি খবর আছে। এই পৃথিবীতে আমার এবং দিলরুবার এক সন্তান আছে—কায়রাভ ক্রিমসন। ও এক হাইব্রিড রাজপুত্র। কিন্তু এই মুহূর্তে ওর মানবীয় সত্তা আর ভ্যাম্পায়ার জিনের দ্বন্দ্বে ও তীব্র দহনে ভুগছে। ওকে পূর্ণতা দিতে হলে আজ রাতেই আর্কানাসের সেই আদি উৎসের 'পবিত্র জল' প্রয়োজন।❠
লুইস চমকে উঠল। রিভানের এক সন্তান আছে, এবং সে পৃথিবীতেই বড় হচ্ছে! লুইসের চোখ দুটো শ্রদ্ধায় চকচক করে উঠল।
❝মাস্টার, আপনি আদেশ করুন। আমি নিজের জীবন দিয়ে হলেও সেই জল নিয়ে আসব।❠
❝কাজটা এত সহজ নয়, লুইস।❠ রিভান সেই রুপোলি পাত্রটি লুইসের হাতে দিল।
❝আর্কানাসের সেই আদি উৎস এখন ইলেক্ট্রা আর কাউন্সিলের কঠোর পাহারায় আছে। তুমি এই পাত্রটি নিয়ে ছদ্মবেশে সেখানে প্রবেশ করবে। পাত্রটিতে আমার রক্ত দেওয়া আছে, এটি উৎস ছোঁয়া মাত্রই পবিত্র জল নিজে থেকেই এর ভেতরে চলে আসবে। কিন্তু মনে রেখো, ইলেক্ট্রা যেন কোনোভাবেই টের না পায় যে এই জল কার জন্য যাচ্ছে।❠
❝আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, মাস্টার। আমি আজ রাতেই রক্তের নদী পার হয়ে হলেও সেই পিউর ওয়াটার নিয়ে আপনার চরণে হাজির হব।❠
এই বলেই লুইস এক লহমায় বাতাসে মিলিয়ে গেল।
লুইস চলে যাওয়ার পর রিভান আবার বেডরুমে ফিরে এল। দিলরুবা তখন কায়রাভের পাশে বসে ওর কপালে আলতো করে হাত বোলাচ্ছিল। রিভান পেছন থেকে এসে দিলরুবাকে তার চওড়া বুকের মাঝে টেনে নিল। তার সেই তীব্র ওয়ান-সাইডেড পসেসিভনেস যেন এখন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল তৈরি করেছে।
❝আমি লুইসকে পাঠিয়েছি, দিলরুবা। ও আজ রাতের মধ্যেই সেই জল নিয়ে ফিরবে।❠
রিভান দিলরুবার ঘাড়ের সেই পুরনো দংশনের দাগে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল।
দিলরুবা রিভানের বুকের উষ্ণতা অনুভব করে একটু শান্ত হলো। সে তিন বছর পর নিজেকে আবার সুরক্ষিত মনে করছে। রিভান দিলরুবার শার্টের ওপর হাত রেখে তার হৃদস্পন্দন অনুভব করল। সে ফিসফিস করে বলল,
❝লুইস জল নিয়ে আসার পর আমাদের ছেলের এই কষ্ট চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। আর তারপর... আমি ইলেক্ট্রা আর এড্রিয়ানের সেই সাজানো রাজত্ব ধুলোয় মিশিয়ে দেব। আমার দিল আর আমার আরিয়ানকে যারা রাস্তায় নামিয়েছিল, তাদের আমি আলোহীন এক নরকে বন্দি করব।❠
রিভান দিলরুবাকে বিছানায় আরও একটু জড়িয়ে ধরে তার ঠোঁটে এক গভীর, অধিকারবোধে মাখা চুম্বন দিল। সে আজ রাতে এক মুহূর্তের জন্যও দিলরুবাকে নিজের চোখের আড়াল হতে দেবে না।
এদিকে, ভ্যাম্পায়ার রাজ্য আর্কানাসের সেই বিশাল অন্ধকার দুর্গের কেন্দ্রস্থলে জ্বলজ্বল করছে ‘eternal well’ বা আদি উৎস। চারদিকে রুপোলি বর্ম পরিহিত ব্লাড-গার্ডরা পাহারা দিচ্ছে। ইলেক্ট্রা তখন দুর্গের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে কুটিল হাসছিল। সে এখনো জানে না যে রিভান বন্দিশালা ভেঙে মুক্ত হয়ে গেছে।
লুইস এক অদৃশ্য ছায়ার মতো গার্ডদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই উৎসের একদম কাছে পৌঁছে গেল। তার চারপাশের বাতাস তখন ভ্যাম্পায়ারদের পবিত্র শক্তিতে ভারী হয়ে আছে। লুইস সাবধানে রিভানের দেওয়া সেই রুপোলি পাত্রটি বের করল।
ঠিক যখন সে পাত্রটি উৎসের জলের দিকে বাড়াল, হঠাৎ চারপাশের দেওয়ালে লাগানো ঘণ্টাগুলো তীব্র আওয়াজে বেজে উঠল।
❝কে ওখানে?!❠
একজন উচ্চপদস্থ গার্ড চিৎকার করে উঠল এবং লুইসের দিকে তার অভিশপ্ত তরবারি তাক করল।
লুইস বুঝতে পারল তার উপস্থিতি ধরা পড়ে গেছে, কিন্তু সে পিছপা হওয়ার পাত্র নয়। সে এক হাতে তরবারি বের করল আর অন্য হাতে পাত্রটি দিয়ে উৎসের জল স্পর্শ করল। রিভানের রক্তমাখা পাত্রটি ছোঁয়া মাত্রই ভেতরের পবিত্র জল এক নীল আলো ছড়াতে ছড়াতে পাত্রের ভেতর জমা হতে লাগল।
ঘণ্টার সেই তীব্র শব্দে পুরো আন্ডারগ্রাউন্ড দুর্গ কেঁপে উঠল। লুইসের চারপাশ থেকে ডজনখানেক ব্লাড-গার্ড তাদের রক্তিম তরবারি উঁচিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কিন্তু লুইস তার এক হাতে রিভানের সেই মূল্যবান রুপোলি পাত্রটি বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে অন্য হাতের তলোয়ার দিয়ে গার্ডদের আক্রমণ ঠেকাতে লাগল।
❝ও রিভান ক্রিমসনের লোক! ওকে জ্যান্ত ধরো!❠
গার্ডদের লিডার চিৎকার করে উঠল।
লুইস বুঝতে পারল, এখানে আর এক সেকেন্ড দেরি করা মানে নিজের মৃত্যুর সাথে সাথে মাস্টারের সন্তানের জীবনকেও ঝুঁকিতে ফেলা। সে তার ভেতরের সমস্ত ভ্যাম্পায়ার শক্তি এক জায়গায় এনে নিজের শরীরকে এক কালচে ধোঁয়ায় রূপান্তরিত করল। গার্ডদের তরবারি সেই ধোঁয়াকে ভেদ করে চলে গেল, কিন্তু পুরোপুরি ছায়া হওয়ার আগেই একজনের তরবারির ধারালো কোপ লুইসের পিঠে এসে লাগল। পিঠের চামড়া চিরে রুপোর বিষ তার শরীরে ঢুকতে শুরু করল, কিন্তু লুইস যন্ত্রণার সেই চিৎকার চেপে ধরে এক লাফে আর্কানাসের সেই গোপন পোর্টালের দিকে ছুটে গেল।
সে যখন পোর্টাল পার হয়ে পৃথিবীর মাটিতে এসে আছড়ে পড়ল, তখন তার সারা শরীর রক্তে ভিজছে। কিন্তু তার ঠোঁটে ছিল এক বিজয়ী হাসি—তার হাতের সেই রুপোলি পাত্রে তখন উজ্জ্বল নীল আলো ছড়াচ্ছে আর্কানাসের পবিত্র জল।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
—চলবে—
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥