ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার ব্যারিস্টার সাহেব

৯ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#আমার_ব্যারিস্টার_সাহেব 🎓

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ০৯

☣☘ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ☘☣

🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

☣☘ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ☘☣

তোহফাকে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে তাওহীদ আর সিদরা গাড়ির দিকে ফিরে এলো। তাওহীদ ড্রাইভিং সিটে বসল আর সিদরা পেছনের সিটে গিয়ে বসল, কারণ সে এখনো তাওহীদের সামনে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছিল। তাওহীদ গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে রিয়ার-ভিউ মিররে সিদরার দিকে তাকাল।

❝আপনাকে আজ অনেক ধন্যবাদ সিদরা। তোহফাকে প্রথমবার কোনো মায়ের হাত ধরে স্কুলে যেতে দেখে আমার ভেতরের একটা মস্ত বড় বোঝা হালকা হয়ে গেল।❠

তাওহীদের কন্ঠস্বরে আজ কোনো পাথুরে ভাব ছিল না, ছিল এক পরম স্বস্তি।

সিদরা মৃদু স্বরে বলল,

❝ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। ও তো এখন আমারও মেয়ে।❠

ঠিক এই সময়েই তাওহীদের ড্যাশবোর্ডে রাখা আইফোনটি তীব্র শব্দে বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল তাওহীদের জুনিয়র অ্যাসোসিয়েট ওকিল ফারহানের নাম। তাওহীদ ব্লুটুথ অন করে কলটা রিসিভ করল,

❝হ্যাঁ ফারহান বলো। আমি কোর্টের দিকেই আসছি।❠

ওপাশ থেকে ফারহানের গলাটা বেশ উত্তেজিত এবং কিছুটা চিন্তিত শোনাল,

❝স্যার! একটা জরুরি সমস্যা হয়ে গেছে। আপনি যে ল্যান্ড ডিসপিউটের বড় কেসটা লড়ছেন, সেই অপোজিট পার্টির ক্লায়েন্ট আজ সকালে কোর্টে নতুন কিছু ফেক ডকুমেন্ট সাবমিট করেছে। আর জজ সাহেব বলছেন, লাঞ্চের আগেই এই কাগজগুলোর প্রপার কাউন্টার জবাব না দিলে আমাদের ক্লায়েন্টের নামে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু হতে পারে! আপনাকে এখনই চেম্বারে আসতে হবে স্যার।❠

তাওহীদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার চোখের সেই নরম ভাবটা এক সেকেন্ডে গায়েব হয়ে সে আবার সেই গম্ভীর, ক্ষুরধার ব্যারিস্টার তাওহীদ চৌধুরী হয়ে উঠল। সে বলল,

❝আই অ্যাম অন মাই ওয়ে, ফারহান। পেপারসগুলো রেডি রাখো, আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি।❠

কলটা কেটে তাওহীদ সিদরার দিকে তাকাল। তার মুখে এখন চিন্তার রেখা। সে বলল,

❝সিদরা, কোর্টে একটা ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে। আমাকে এখনই চেম্বারে ছুটতে হবে। তোহফার ছুটি হতে এখনো তিন ঘণ্টা বাকি। আমি কি আপনাকে এখন বাসায় ড্রপ করে দেবো, নাকি আপনি অন্য কোনোভাবে...❠

সিদরা তাওহীদের পেশাগত ব্যস্ততাটা বুঝতে পারল। সে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে শান্ত গলায় বলল,

❝আপনাকে বাসায় যেতে হবে না, এতে আপনার সময় নষ্ট হবে। আপনি আমাকে স্কুলের সামনের এই ক্যাফে বা ওয়েটিং রুমে নামিয়ে দিন। আমি এখানেই বসে বই পড়ে বা তসবীহ পড়ে তিন ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারব। তোহফার ছুটির সময় হলে ওকে নিয়ে আমি একবারে উবার বা রিকশা করে বাসায় ফিরে যাবো। আপনি আপনার কেসটা হ্যান্ডেল করুন।❠

তাওহীদ সিদরার এই বুদ্ধিমত্তা আর সাপোর্টিভ মেন্টালিটি দেখে মনে মনে আবার মুগ্ধ হলো। কোনো সাধারণ মেয়ে হলে হয়তো এই পরিস্থিতিতে মুখ ভার করত বা একা থাকতে ভয় পেত। কিন্তু সিদরা পরিস্থিতিটা এক নিমেষে সহজ করে দিল।

তাওহীদ গাড়িটা স্কুলের পাশের একটা ক্যাফের সামনে থামাল। সে সিদরার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত নরম গলায় বলল,

❝আই অ্যাম রিয়ালি সরি সিদরা, বিয়ের পরেই আপনাকে এভাবে একা ফেলে যেতে হচ্ছে। আপনি তোহফাকে নিয়ে সাবধানে বাসায় ফিরবেন। আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে সাথে সাথে ফোন করবেন।❠

সিদরা মাথা নেড়ে গাড়ি থেকে নেমে গেল। তাওহীদ গাড়ির কাঁচ নামিয়ে শেষবারের মতো তার এই পর্দানশীন স্ত্রীর দিকে তাকাল, তারপর এক ঝটকায় গাড়ি স্পিডে চালিয়ে কোর্টের দিকে রওনা দিল।

সিদরা ক্যাফের একটা কোণার টেবিলে গিয়ে বসল। বাইরের চঞ্চল পৃথিবীর ভিড়ে সে তার ব্যাগ থেকে একটা ছোট দোয়ার বই বের করল।

ক্যাফের এক কোণায় বসে থাকা সিদরার চারপাশের পরিবেশটা বেশ শান্ত ছিল। টেবিলের ওপর এক কাপ হালকা গরম ল্যাতে কফি আর তার সাথে খোলা ছোট দোয়ার বই। বাইরে মাঝেমধ্যে ট্রাফিকের হর্ন আর মানুষের যাতায়াতের কোলাহল। সিদরা তসবীহ গুনতে গুনতে ঘড়ির দিকে তাকাল—আর মাত্র বিশ মিনিট বাকি তোহফার স্কুল ছুটি হতে। ঠিক তখনই তার ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর রাখা ফোনটা তীব্র কাঁপুনির সাথে বেজে উঠল।

স্ক্রিনে তাকিয়ে সিদরা দেখল একটি অপরিচিত ল্যান্ডলাইন নম্বর। বুকটা কেমন যেন ছ্যাৎ করে উঠল তার। কোনো দ্বিধা না করে সে কলটা রিসিভ করে কানে দিতেই ওপাশ থেকে এক ভদ্রমহিলার অত্যন্ত গম্ভীর ও কিছুটা উত্তেজিত কন্ঠস্বর ভেসে এলো,

❝হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি তোহফা চৌধুরীর মা কথা বলছেন? আমি তোহফার স্কুলের প্রিন্সিপাল অফিস থেকে বলছি।❠

সিদরা সোজা হয়ে বসল, তার কন্ঠস্বরে উদ্বেগ,

❝ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জি, আমি তোহফার আম্মু বলছি। কী হয়েছে আমার মেয়ের?❠

❝মিসেস চৌধুরী, আপনি কাইন্ডলি একটু দ্রুত স্কুলের সিক-রুমে আসুন। তোহফা টিফিন ব্রেকে অন্য একটা বাচ্চার সাথে ঝগড়া করে হাত কেটে ফেলেছে। ওর হাত দিয়ে বেশ রক্ত পড়ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ও আমাদের স্কুলের নার্স বা কোনো টিচারকে ওর গায়ে হাত দিতে দিচ্ছে না, ব্যান্ডেজ করতে দিচ্ছে না। ও শুধু চিৎকার করে ‘আম্মুউ’ ‘আম্মুউ’ বলে কাঁদছে। আপনি জলদি আসুন।❠

কথাটা শোনামাত্রই সিদরার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সে টেবিলে কফির টাকাটা রেখে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে এক দৌড়ে ক্যাফে থেকে বের হলো। তার পুরো শরীর কাঁপছিল, কিন্তু মনের ভেতর তখন শুধু তোহফার সেই ফুটফুটে নিষ্পাপ মুখটা ভাসছে। সে নিজের আবায়ার কুঁচিটা একহাতে ধরে দ্রুত পায়ে স্কুলের গেট পার হয়ে সোজা প্রিন্সিপাল অফিসের পাশের সিক-রুমের দিকে ছুটে গেল।

সিক-রুমের দরজার কাছে পৌঁছাতেই সিদরা শুনতে পেল তোহফার সেই চেনা কান্নার আওয়াজ, তবে আজ সেই আওয়াজে কোনো নখরা নেই, আছে এক তীব্র কষ্ট আর ভয়।

❝নোও! আমি ব্যান্ডেজু করব না! তোমরা পচা মানুষ! আমার আম্মুর কাছে যাবো... আম্মুউউ! তুমি কোথায়? তোহফার অনেক ব্যথা করছে...❠

তোহফা হিক্কা তুলে কাঁদছিল।

সিদরা দরজার পর্দা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখল তোহফা একটা ছোট মেডিকেল বেডের ওপর বসে আছে, তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে বেশ খানিকটা কেটে গেছে এবং সেখান থেকে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। স্কুলের নার্স তুলো হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তোহফা তাকে লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছেন তোহফার ক্লাস টিচার মিস মালিহা এবং স্কুলের প্রিন্সিপাল। আর ঠিক তাদের পাশেই অত্যন্ত আধুনিক দামী শাড়ি পরা এক ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন, যার চোখ-মুখে তীব্র ক্ষোভ। ওনার পাশে ওনার ছেলেও দাঁড়িয়ে কাঁদছিল, যার গালে তোহফার নখের আঁচড়ের দাগ স্পষ্ট।

সিদরা ঘরে ঢোকমাত্রই নেকাবের আড়াল থেকে তার চোখ দুটো তোহফার ওপর পড়ল। সে এক সেকেন্ডও দেরি না করে তোহফার দিকে এগিয়ে গেল,

❝তোহফা! আমার সোনা মা!❠

❝আম্মুউউ!❠

সিদরার গলার আওয়াজ আর তার সেই চন্দন কাঠের সুবাস পেতেই তোহফা বিছানা থেকে এক লাফে সিদরার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সে সিদরার গলাটা তার ছোট ছোট হাত দিয়ে এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরল যেন মনে হলো এই বুকে আশ্রয় না পেলে সে মরেই যাবে। তার চোখের জলে সিদরার কাঁধের আবায়া ভিজে যেতে লাগল।

সিদরা মেঝেতে বসেই তোহফাকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরল। তার নিজের চোখ দিয়েও জল গড়িয়ে পড়ছিল। সে তোহফার মাথায়, পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে পরম মায়ায় বলল,

❝মা এসে গেছি তো। মায়ের লক্ষ্মী সোনা আর কাঁদে না। দেখি কোথায় লেগেছে মা?❠

সিদরা তোহফাকে আলতো করে কোল থেকে একটু নামিয়ে ওর সেই রক্তাক্ত হাতটা নিজের হাতের ওপর নিল। নার্সের হাত থেকে ডেটল আর তুলোটা নিজের হাতে নিয়ে সিদরা খুব শান্ত গলায় তোহফাকে বলল,

❝তোহফামণি, মা একটু ফু দিয়ে ময়লাটা পরিষ্কার করে দিই? একটুও ব্যথা লাগবে না সোনা। তুমি আম্মুর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকো।❠

তোহফা সিদরার সেই মায়াবী চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে রইল এবং ফোঁস ফোঁস করে কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়ল। সিদরা খুব আলতো করে, পরম যত্নে তোহফার ক্ষতস্থানটা পরিষ্কার করে দিল এবং নার্সের বাড়িয়ে দেওয়া ব্যান্ডেজটা সুন্দর করে বেঁধে দিল। আশ্চর্যের বিষয়, এতক্ষণ যে বাচ্চাটা পুরো স্কুল মাথায় তুলেছিল, সে সিদরার হাতের ছোঁয়ায় এক্কেবারে শান্ত হয়ে সিদরার বুকে মুখ লুকিয়ে রইল।

ঠিক তখনই ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই আধুনিক ভদ্রমহিলা (যিনি অন্য বাচ্চাটির মা) অত্যন্ত চড়া গলায় সিদরাকে আক্রমণ করে কথা বলতে শুরু করলেন,

❝ওহ! তো আপনিই তাহলে এই বাচ্চার নতুন মা? তা যেমন মা, তেমনই তো মেয়ে হবে! ওড়না-বোরকা পরে নিজেদের খুব ধার্মিক দেখান, আর আপনাদের ঘরের বাচ্চার এই শিক্ষা? আমার শান্ত ছেলেটাকে ও কামড়ে দিয়েছে, নখ দিয়ে আঁচড়ে দিয়েছে! জাস্ট লুক অ্যাট হিজ ফেস! ও নাকি আমার ছেলেকে বলেছে, ওর আম্মু ম্যাজিক ড্রিংক খেয়ে ওকে সুপার-গার্ল বানিয়েছে, ও নাকি সবাইকে মেরে সোজা সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেবে! এসব কী ধরণের অদ্ভুত, ক্ষ্যাত আর ভায়োলেন্ট শিক্ষা দিচ্ছেন আপনারা বাচ্চাকে?❠

ভদ্রমহিলার এই চড়া সুরের এবং অপমানজনক কথায় সিদরা স্তব্ধ হয়ে গেল। সে তোহফার দিকে তাকাল। তোহফা সিদরার বুকে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

❝আম্মু... ও আগে আমার টিফিন বক্সটা কেড়ে নিয়েছিল। আর বলেছিল আমার কোনো আসল আম্মু নেই, তুমি নাকি নকল আম্মু, তুমি নাকি আবার চলে যাবে। তাই আমি রাগ করে ওকে...❠

তোহফার এই সরল স্বীকারোক্তি শুনে সিদরার বুকটা আবার কেঁপে উঠল। সে বুঝতে পারল, তার বাচ্চাটার ওপর অন্যায় করা হয়েছে। সিদরা তোহফাকে নিজের পেছনে আগলে রেখে উঠে দাঁড়াল। তার মাথায় ওড়না আর মুখে নেকাব থাকলেও, তার মেরুদণ্ড ছিল একদম সোজা। তার চোখ দুটোতে তখন এক শান্ত কিন্তু তীব্র দৃঢ়তা।

সিদরা সেই ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত মার্জিত, স্পষ্ট এবং গম্ভীর কন্ঠে বলল,

❝আসসালামু আলাইকুম। প্রথমত, বাচ্চাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি বা মারামারি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তোহফা যা করেছে, তার জন্য আমি ওর মা হিসেবে আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ও বাড়ি গিয়ে ওর এই ভুলের শাস্তি অবশ্যই পাবে। কিন্তু...❠

সিদরা একটু থামল, তার কন্ঠস্বর আরও কিছুটা দৃঢ় হলো,

❝আপনি তোহফার কাজকে কেন্দ্র করে আমার পোশাক, আমার পর্দা এবং আমার দ্বীনকে নিয়ে যে কটু কথা বললেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। পর্দা করাটা কোনো ‘ক্ষ্যাত’ বিষয় নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া বিধান এবং আমার সম্মান। আর আপনি শিক্ষার কথা বলছেন? আপনার ছেলে চার বছরের একটা বাচ্চার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে ‘নকল আম্মুর’ খোঁচা দিয়েছে, তার মাতৃহীনতার দুর্বল জায়গায় আঘাত করেছে। একজন মা হিসেবে আপনার ছেলেকে এই শিক্ষা দেওয়া কি উচিত ছিল? একটি বাচ্চার মানসিকতায় আঘাত করলে সে তো রিঅ্যাক্ট করবেই। আপনি যেমন আপনার ছেলের ব্যথায় ক্ষুব্ধ, আমিও আমার মেয়ের চোখের জলের জন্য সমভাবে ব্যথিত।❠

সিদরার এই জাস্ট টু দ্য পয়েন্ট, যুক্তিসঙ্গত এবং ধারালো জবাব শুনে পুরো সিক-রুম এক সেকেন্ডে স্তব্ধ হয়ে গেল। সেই দাম্পত্য ও আধুনিক ভদ্রমহিলা অপমানে আর রাগে লাল হয়ে গেলেন, কিন্তু সিদরার কথার পিঠে কোনো পাল্টা যুক্তি দেওয়ার সাহস ওনার হলো না।

প্রিন্সিপাল ম্যাম পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত এগিয়ে এলেন,

❝ওকে, ওকে। প্লিজ কাম ডাউন এভরিওয়ান। বাচ্চারা ভুল করেছে, আমরা বুঝতে পেরেছি। তোহফার হাত ব্যান্ডেজ করা হয়ে গেছে। মিসেস চৌধুরী, আপনি আজ তোহফাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। নো মোর আর্গুমেন্টস প্লিজ।❠

সিদরা প্রিন্সিপালকে মাথা নেড়ে ধন্যবাদ জানাল। তারপর তোহফাকে এক হাতে কোলে তুলে নিয়ে অন্যহাতে ওর স্কুল ব্যাগটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। স্কুলের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সিদরা খেয়াল করল, তোহফা তার ছোট হাত দিয়ে সিদরার নেকাবটা শক্ত করে ধরে রেখেছে।

গাড়ির পার্কিং লটের দিকে যেতে যেতে সিদরা ভাবল, আজ সে তোহফাকে বাঁচাতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু তোহফার মনের ভেতরের এই আঘাতটা তো অনেক গভীর। আর তাওহীদ যখন কোর্ট থেকে ফিরে মেয়ের এই ব্যান্ডেজ করা হাত দেখবে, তখন সে কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে? সিদরা কি পারবে তাওহীদকে শান্ত করতে?

✤✣ᚔᚔ✤✣

—চলবে—

✤✣ᚔᚔ✤✣

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন