ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (২য় খন্ড)

৪৬তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম🌿

#দ্বিতীয়_খণ্ড 
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন 
পর্বঃ- ৪৭
🌿🌿🌿
কিয়ারার চাচাতো বোন কিরণের সঙ্গে মাহাদের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট রাহুলের বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। 
কিরণ সব সময়ই পরিবারের আদেশ নিষেধ মেনে থাকা মেয়ে। 
একটুখানি চুপচাপ, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়।‌
কিন্তু পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে কেউ নিতে পারবে না। 
অন্যদিকে মাহাদের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট—রাহুল।
সে মাহাদের ছায়ার মতো।
সব কিছু জানে, সবকিছু বোঝে, কিন্তু কথা কম বলে। ক্ষমতা নেই, নাম নেই, 
কিন্তু দায়িত্ববোধ আর সততা আছে।
খান ম্যানশনে বাচ্চাদের ঘিরে অনুষ্ঠান–নামিরা ও নীলাভের বিয়ের সময় কিরণরা কয়েকদিন সেখানে ছিল।
আর তখন সবকিছুর দায়িত্ব রাহুল তার ভাই সমতুল্য বসের সাথে পালন করেছে। কিরণ তাকে বেশ গভীর ভাবে লক্ষ্য করেছিল।
রাহুল সেই দুটো বিয়েতে গেস্টদের ম্যানেজ করে, ডেকোরেশন সামলায়, সময়, গাড়ি সবকিছু একা হাতেই সামলায়। 
কিরণ প্রথমে শুধু লক্ষ্য করে—
লোকটা খুব শান্ত, কিন্তু চোখে ক্লান্তি।
সেদিন গাঁয়ে হলুদের রাতে কনেদের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস আনতে গিয়ে কিরণ আর রাহুল একসাথে বের হয়।
ওদের মধ্যে টুকটাক কথা হয়। সাধারণ কথাবার্তা যেটাকে বলে আর কি। কোনো নাটকতা নেই, সাবলীল ভাবে ওরা বেশ কিছুক্ষণ আলাপ আলোচনা করে। তবে কিরণের দিক থেকেই কথা বলার প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। 
কিরণ জানতে পারে লোকটা এতিম। এই দুনিয়ায় মাহাদ ও তার পরিবার ছাড়া আপন বলতে ওর আর কেউই নেই। ও একটা এতিমখানায় বড় হয়েছে। কিন্তু কিরণ বুঝে ফেলে— এই মানুষটা কারো পরিচয়ে বড় নয়,
নিজের কাজে বড়।
কিরণ জানে রাহুল মাহাদ ভাইয়ার কাছের মানুষ।
আর এই পরিবারে তাকে একজন সদস্য হিসেবেই দেখা হয়।
কিন্তু রাহুল কিরণ কে একদিন স্পষ্ট করে বলেছে 
“আমি বড় কিছু দিতে পারবো না।
কিন্তু আপনাকে ছোট করেও রাখবো না।…”
এই লাইনটাই কিরণের সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। ওর মনে হচ্ছিল এই লোকটা ওর জন্য পারফেক্ট, জীবনসঙ্গী হিসেবে। 
আর তারপর থেকে প্রায়শই ওদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। 
পরিবারে যখন কিরণের বিয়ের কথা ওঠে, সাধারণ ভাবে পাত্র খোঁজা হয়।
ঠিক তখনই রাহুলের থেকে স্বীকারোক্তি নিয়ে মাহাদ নিজে কিরণের পরিবারের সাথে কথা বলে।
কারণ মাহাদ জানে রাহুল কে।
ও জানে ছেলেটা কেমন। আর তারপর খোঁজ খবর নিয়ে কিরণের পরিবার অমত করার কোনো কারণ খুঁজে পায়নি। 
এরপর একদিন চৌধুরী পরিবার রাহুল কে নিজেদের বাড়ির একজন জামাতা হিসেবে দেখলো। 
— — —
চৌধুরী বাড়ির ভেতর সেদিন অদ্ভুত এক নীরবতা ছিল।
জাঁকজমক ছিল, আলো ছিল—
কিন্তু অকারণে হাসাহাসি ছিল না।
এটা ছিল এমন এক বিয়ে,
যেখানে কেউ জোর করে খুশি দেখানোর চেষ্টা করেনি। এই সম্পর্কে সবাই বেশ খুশি ছিল।‌
কিরণ আয়নার সামনে বসে ছিল।
হাত ভরা মেহেদি কিন্তু চোখ ভরা চিন্তা।
সে জানে, এই বিয়ে তাকে কেউ উপহার হিসেবে দিচ্ছে না,
সে নিজেই নিজের জীবন বেছে নিচ্ছে। যদিও ওর লোকটার উপর ভীষণ ভরসা আছে। 
কিয়ারা ধীরে এসে কিরণের পাশে দাঁড়ায়।কোনো উপদেশ না,
শুধু বলে—
ঃ- ভয় লাগলে মনে রাখিস তুই একা না। তোর সাথে পুরো পরিবার রয়েছে। আর যাকে তোর জন্য বাছাই করা হয়েছে, তাকে তুই ভালোবাসিস। সে তোকে ভালোবাসে, আর এটাই তোর সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই একদম ঘাবড়ানোর কিছু নেই। 
কিরণের চোখ ভিজে ওঠে।
এই প্রথম সে বুঝতে পারে—
এই পরিবারের মতো পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ভাগ্যের ব্যাপার। আর কিয়ারার মতো বোন পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। 
অন্যদিকে খান ম্যানশনে রাহুল শেরওয়ানি পরে তৈরি হয়েছে। কিন্তু বুকের ভেতর চাপা শ্বাস, ও কিরণের ভরসা টিকিয়ে রাখতে পারবে তো?!..
সে জানে আজকের দিনটা
তার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
মাহাদ সামনে এসে দাঁড়ায়।
কাঁধে হাত রেখে শুধু বলে—
ঃ- আজ থেকে তুমি শুধু আমার কাছের মানুষ না, তুমি কারো স্বামী। তোমাকে আমি সবসময় নিজের ভাইয়ের মতো দেখেছি। আর আজ তুমি যার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছো, তাকেও আমি আমার ছোট বোন মেনেছি। তাই নিজের সকল দায়িত্ব ভালোবেসে পালন করবে। যাতে কোন ভাবেই তোমার বড় ভাইয়ের বদনাম না হয়। 
এই কথাটা রায়হানের মাথা নিচু করে দেয়।‌ ওর চোখে জল চলে আসে, মাহাদ ভুল কিছু বলেনি। ওর আঠারো বছর বয়স হতেই এতিমখানা থেকে ওকে বের করে দেওয়া হয়। তারপর কত কষ্টেই না ওর এক একটা দিন পার হতো। এরপর বেশ কিছুদিন পর মাহাদের সাথে দেখা হয়, ও মাহাদের গাড়ির সামনে এসে এক্সিডেন্ট হয়েছিল। তারপর মাহাদ সবকিছু জেনে ওকে সবসময় নিজের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করেছে। ওর মতো এতিম কে থাকার জায়গা দিয়েছে, খাবার খাইয়েছে। 
রাহুল এগিয়ে এসে মাহাদ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।‌ এতে মাহাদ নিজেও একটুখানি আবেগী হয়ে গেল। 
— — —
বরের প্রবেশ শেষে হালকা নাস্তা পানির পড়ে বিয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। রাহুল কে স্টেজে বসানো হয়েছে 
সে আর চোখে আসে পাশে তাকিয়ে কিরণ কে খুঁজে নিল। 
কিরণের চোখে দেখে নিল,
নিজের ভবিষ্যতে।
ঃ- জি, আমি রাজি, কবুল করছি। 
এই তিনটা শব্দ যেন শব্দ নয়—
একটা ভালোবাসার চুক্তি।
বরের বিয়ের কাজ শেষ করে কাজী এবার কণে কে ডাক দেয়।
কিরণকে আনা হয় , হালকা রঙের শাড়ি, ভারী গয়না নয় , নরমাল সাজগোজ, কিন্তু চোখে দৃঢ়তা।
কাজী প্রশ্ন করে—
ঃ- আপনি কি এই বিবাহে রাজি আছেন?..?..
এরপর এক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর কিরণ পরিষ্কার কণ্ঠে বলে—
ঃ- জি, আমি রাজি আছি, কবুল করছি। 
কোনো কাঁপুনি নেই, কোনো চাপ নেই। যেন সুন্দর করে নেওয়া প্রস্তুতির অংশ।
 বিয়ের পর দোয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর বর কণের উপর ফুল ছিটানো হয়।
কিন্তু সবচেয়ে শক্ত মুহূর্তটা আসে
যখন কিরণের বাবা রাহুলের হাতে কিরণের হাত তুলে দেন।
আর বলেন..
ঃ- মেয়েটাকে আদরে শাসনে বড় করেছি। আজ থেকে তুমি ওর প্রধান অভিভাবক হলে। ওকে আগলে রেখো, ওর সব ভুল গুলো ক্ষমা করে দিও।
রাহুল শুধু বলে…
ঃ- আমি ওকে বদলাতে চাই না।
আগলে রাখতে চাই। হয়তোবা আপনার মতো অতোটা ভালো রাখতে পারবোনা। কিন্তু খারাপও রাখবো না। কথা দিলাম, ওকে কখনো আমার দ্বারা কষ্ট পেতে দেবো না। 
দূর থেকে কিয়ারা সব দেখে।
তার নিজের জীবনের ভুল, কষ্ট, সন্তানের নিয়ে একার যুদ্ধ— সবকিছু মনে পড়ে যায়।
মাহাদ ওর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ও বুঝতে পারছে কিয়ারা কি ভাবছে, তবে ও কোনো কথা বলে না।
কিন্তু তার চোখে আজ অহংকার নেই—শুধু উপলব্ধি। 
সে বুঝে গেছে—
ভালোবাসা মানে দখল না,
সম্মান। 
কিরণ যখন বিদায় নেয়,
চোখ ভেজে, কিন্তু পা কাঁপে না। কারণ সে মনে করে সে সঠিক জীবনসঙ্গী পেয়েছে। আল্লাহ চাইলে সে সুখী হবে। 
রাহুল ওর পাশে এসে দাঁড়ায়। এক ধাপ এগিয়ে এসে ওর ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো। যেন ওকে সাহস যোগাতে চাইলো। 
এই বিয়েতে কোনো নাটক নেই, 
কোনো ষড়যন্ত্র নয়। এই বিয়েটা দুজন মানুষের সচেতন সিদ্ধান্ত।
বিয়েটা জাঁকজমকপূর্ণ না।
কিন্তু সম্মানজনক।
কিয়ারা নিজে কিরণের পাশে এসে দাঁড়ায়। এই বিয়েতে কোনো জোর নেই, কোনো ব্ল্যাকমেইল নেই।
মাহাদ দূর থেকে দেখে তার জীবনের ভুলগুলোর ভেতর। 
এই একটা সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে, 
এই শান্তি সে অনুভব করে।
— — — 
বিয়ের রাতের পরের সকালটা অদ্ভুতভাবে শান্ত ছিল।
খান ম্যানশনে বহুদিন পর কেউ ফিসফিস করে হাঁটছিল না—
শব্দগুলো স্বাভাবিক ছিল,
হালকা।
কিয়ারা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।
রোদ এসে পড়েছে তার চুলে।
পেছন থেকে মাহাদ এসে থামে।
কোনো রাগ নেই, কোনো প্রশ্ন নেই। তার নীল চোখের চাহনিতে আছে একরাশ ভালোবাসা। 
শুধু একটা নিঃশ্বাস—
যেটা অনেকদিন পর একসাথে নেওয়া হলো।
মাহাদ ধীরে বলে,
ঃ- সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে না, কিয়ারা।কিন্তু আমরা ঠিক থাকবো।
কিয়ারা ঘুরে তাকায়, চোখে জল,
কিন্তু ভাঙা নয়।
ঃ- এইটুকুই যথেষ্ট। 
অন্য রুমে বাচ্চারা ঘুমাচ্ছে।
নতুন ডেকোরেশনে ভরা ঘর—
কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা দেয়ালে না, বাতাসে। ভয়ের বদলে নিরাপত্তা।
মাহাদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একবার দেখে নেয়।
পাঁচ বছরের শূন্যতা সে ফিরিয়ে আনতে পারবে না—
কিন্তু বর্তমানটাকে নষ্টও করবে না।
এটাই তার তরফ থেকে নিজের করা ভুল গুলোর প্রায়শ্চিত্ত।
— — — 
বিদায়ের আগে কিরণ কিয়ারাকে জড়িয়ে ধরে। কোনো কথা হয় না।
দুই নারী, দুই যুদ্ধ, একটা বোঝাপড়া।
রাহুল দূর থেকে মাথা নুইয়ে সম্মান জানায় মাহাদকে। এটা ভয় নয়, এটা ভীষণ শ্রদ্ধার বিষয়। 
সন্ধ্যায় খান ম্যানশনের আলো জ্বলে ওঠে। এই বাড়িতে এখনো অতীত আছে— কিন্তু সেটা আর ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করে না।
মাহাদ কিয়ারার হাত ধরে।
কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না।
কারণ…
কিছু সম্পর্ক প্রতিশ্রুতিতে নয়,
একসাথে থাকার সিদ্ধান্তে বাঁচে।
রাহুল কিরণ কে নিয়ে নিজের উপার্জিত অর্থে কেনা একটি ফ্ল্যাটে উঠেছে। যদিও মাহাদ ওদের খান ম্যানশনে যেতে বলেছিল, কিন্তু রাহুল আপত্তি করে বলেছে যে আগে নিজের সংসারে নিতে চাইছে। 
পরে নাহয় এসে খান ম্যানশনে ঘুরে যাবে। কিরণও ওর কথায় নীরব সম্মতি জানালো। তারপর আর কেউ ওদের জোরাজুরি করেনি। মাহাদও একই সময়ে কিয়ারা ও পুরো পরিবার নিয়ে ফিরে এসেছিল। 
— — — 
ঠিক এক বছর পরে, 
খান ম্যানশনের উঠোনে এখন বকুল গাছ নেই, কিন্তু তার জায়গায় আছে ছোট একটা স্মৃতিফলক।
নাম নেই। শুধু একটি লাইন—
“যে এসেছিল, থেকেছে আমাদের ভেতরে। আর বেঁচে আছে আমাদের স্মৃতিতে।”
কিয়ারা প্রতিদিন সেখানে দাঁড়ায় না।
মাহাদও না। কারণ শোককে তারা অভ্যাস বানায়নি।
বাচ্চারা স্কুলে যায়। হাসে খেলে বড় হচ্ছে, ঝগড়া করে।
মাঝে মাঝে মাহাদের গলা নকল করে কথা বলে আর কিয়ারা দূর থেকে হাসে। সবাই’ই সবার মতো ভালো আছে।‌ অয়ন ও নামিরার একজন কন্যা সন্তান হয়েছে, যার বয়স পাঁচ মাস, নাম রাখা হয়েছে নাবিলা।
 কিরণ ও রাহুলেরও ঘর আলো করে সন্তান আসতে চলেছে। কিরণ সাত মাসের প্রেগন্যান্ট। ডক্টর জানিয়েছেন যে ওর ছেলে বেবি হবে। আর রিদিতা তার ছেলে কে নিয়ে আবার বাহিরে নিজের ঠিকানায় ফিরে গিয়েছে। সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত, হাসিখুশি জীবন যাপন করছে। 
মাহাদ আর কিয়ারার সম্পর্ক টা আবার আগের মত হয়ে গিয়েছে। এখন একজন অন্যজনকে যেন চোখে হারায়। কিয়ারা বাবার বাড়ি গেলেও বেশি দিন থাকতে পারে না, সর্বোচ্চ দু'দিন থাকতে পারে। তারপর আবার মাহাদের কাছে হার মেনে ওকে বাচ্চাদের নিয়ে ফিরে আসতে হয়। 
রাতে, ঘর অন্ধকার হলে—
মাহাদ কিয়ারার হাত খোঁজে।
এখন আর নিশ্চিত হতে চায় না।
সে জানে এই হাতটা সবসময় তার সাথে সঙ্গ দিতে আছে।
কিছু ক্ষত সারে না। কিন্তু কিছু মানুষ
সেই ক্ষতের উপর হাত রেখে বেঁচে থাকতে শিখে , ভালো থাকতে শিখে যায়।
খান ম্যানশন এখন আগের মতো ভারী নয়। দেয়ালগুলো এখনো উঁচু, দরজাগুলো এখনো শক্ত—
কিন্তু বাতাসটা বদলে গেছে।
সকালে জানালা খুললে কিয়ারা প্রথমে সূর্য দেখে না,
দেখে বাচ্চাদের জুতো এলোমেলো পড়ে আছে কিনা।
কারণ এখন তার সকাল শুরু হয় শব্দ দিয়ে…হাসি, দৌড়, তর্ক, আর “আম্মু” ডাকে ভরা শব্দ।
মাহাদ আগের মতো চুপচাপ মানুষই।
কিন্তু এখন তার নীরবতা আর শূন্য নয়।
সে কথা কম বলে,
কিন্তু যখন বলে—
শুধু প্রয়োজনের জন্য নয়,
মানুষটার জন্য বলে।
বাচ্চারা জানে না
কত বড় যুদ্ধ পেরিয়ে তারা এই ঘরে এসেছে।
তবে জানে যে তাদের একজন ভাই ছিল। যে কখনো স্কুলব্যাগ কাঁধে নেবে না, কখনো বাবার হাত ধরে হাঁটবে না। মায়ের হাতের মজার মজার খাবার খাওয়ার বায়েনা ধরবে না। 
আর তাই তারা চেষ্টা করে—
এই দুই জীবনের ভেতর
অতিরিক্ত ভালোবাসা ঢেলে দিতে।
অপরাধবোধ থেকে নয়, আল্লাহর প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞতা থেকে।
বকুল গাছের নিচে যাওয়া এখন আর কষ্টের নয়।
সেখানে কেউ কাঁদে না।
মোমবাতি জ্বালায় না।
শুধু দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক মিনিট।
মাহাদ একদিন নীরবে বলেছিল—
ঃ- ও যদি থাকত… আমি কেমন বাবা হতাম জানো?..?..
কিয়ারা কিছু বলেনি।
শুধু তার হাতটা শক্ত করে ধরেছিল।
কারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর
ভাষায় হয় না।
রাতে, যখন বাচ্চারা অন্য ঘরে ঘুমায়—ঘরটা নিঃশব্দ হয়। সেই নিঃশব্দতায় মাহাদ কিয়ারার কপালে পরম আবেশে ঠোঁট রাখে।
এখন আর রাগ ভাঙানোর জন্য নয়।
ভালোবাসা প্রমাণের জন্যও নয়।
শুধু এই জন্য যে আমি সবসময় আছি। 
সবকিছু ঠিক হয়ে যায়নি, কিছু স্মৃতি এখনো ভারী। কিছু নাম এখনো বলা যায় না।
কিন্তু তারা শিখেছে সব ক্ষত সারাতে হয় না, কিছু ক্ষতকে সাথে নিয়ে
বাঁচতে হয়।
আর ভালোবাসা মানে ভুলে যাওয়া নয়, ভালোবেসে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
“তারা সুখী হয়নি নিখুঁত বলে—
তারা সুখী হয়েছে
কারণ তারা ভাঙা অবস্থাতেই
একজন আরেকজনকে ধরে রেখেছিল। সব গল্প সুখে শেষ হয় না।
কিন্তু সব গল্পকে সুখে শেষ হতে হয়—
এমন কোনো নিয়মও নেই।
🌿— সমাপ্ত —🌿
নোটঃ- আপনাদের প্রিয় রুহের মাহরাম এখানেই সমাপ্ত হচ্ছে। এতো দিন ধরে যারা আমার পাশে ছিলেন, সবাইকে আমার তরফ থেকে অফুরন্ত ভালোবাসা।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন