#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ০৩
🌿🌿🌿
কিয়ারার জীবনে হঠাৎ ঐ আগস্তকের আগমন ঘটেছিল। দিনটি ছিল মার্চের তিন তারিখ, সেদিন ওর এসএসসি রেজাল্ট বেরিয়েছিল। রেজাল্ট নিয়ে ভীষণ চিন্তায় ছিলো কিয়ারা। তাই রেজাল্ট মোটামুটি ভালো হওয়ায় বেজায় খুশি হয়ে ছিল। তাইতো ভাইয়ার সাথে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে চলে গিয়েছিলো সে-বার ঢাকা শহরের দিকে রেজাল্ট এর খুশী সেলিব্রেট স্পেশাল ভাবে করার জন্য।
আর হয়েছিলও তাই। ওর জীবনে সবচেয়ে স্মরণীয় দিনটা ছিল ২০১৯ এ ওর এসএসসি রেজাল্ট এর দিন। সেই দিনটার কথা আজও মনে করলে বুক মুচড়ে উঠে তীব্র ভয়ে। আবার অজানা এক অদ্ভুত অনুভূতিও হয় অন্তরে। উফ কি যে ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল কিয়ারা সেই রাতে ঐ অচেনা যুবকের সাথে।
চেনা নেই, জানা নেই, তারপরও হুট করে ঐ লোকটার সাথে সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্কে বেঁধে গেল। হুজুর দেখতে বুড়ো লোকটা যদি ওর চরিত্র নিয়ে ওমন পাপি কথা না বলতো তাহলে হয়তো বিষয়টা অন্য রকম হতো। স্বাভাবিক ভাবে তখন কিয়ারা তাদের বুঝাতে পারতো আসলে ওরা সত্যিই বিপদে পরে উনাদের কাছে সাহায্যের জন্য এসেছিল।
কিন্তু তেমন কিছু হলো না। উল্টো কলঙ্কের তকমা গায়ে মেখে , চরিত্রে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে,ভয় দেখিয়ে বিয়েটা দিয়ে দিল একটা অপরিচিত অজানা লোকের সঙ্গে যার নামটা পযন্ত জানা নেই ওর। যার সাথে ওর আর ইহো জীবনে দেখা সাক্ষাৎ হওয়ার কোনো চান্স নেই। যাকে কিয়ারা সাহায্য করতে চাইলো বিপদগ্রস্ত, জখমি ছিল বলে তার সাথেই ওর বদনাম রটিয়ে সোজা বিয়ে নামক পবিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে দিল।
উফফ খোদা, সেই পরিস্থিতির কথা ভাবতেই গা শিউরে উঠে । ওর জীবনে কিয়ারা এতো জটিল আর স্মরণীয় মূহুর্ত দ্বিতীয়টা পায়নি। আর পাওয়ার কথাও নয়। পরিবারের ছায়াতলে বড় হয়েছে কিয়ারা তাই কখনো সেইভাবে পুরুষ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা ছিল না ওর শুধু বাড়ির আপন পুরুষ গুলো ছাড়া। বাহিরের মানুষদের সম্পর্কে ওর কোন ধারণা নেই।
পুরূষ মানুষ তো নয়ই।এই যেমন চাচাতো-খালাতো ভাইবোনরা ছাড়া আর কি। আচ্ছা যায় হোক! এবার মূল কথায় আসা যাক। ওর যার সাথে বিয়ে হয়েছিল লোকটাকে কিয়ারা সেই রাতে আঁধারের রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় দেখেছিল।
তারপর ওদের সাহায্যকারীর বাসায়, মানে যে বাসায় ওদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই বাসায়ও দেখেছিল লোকটাকে মোমবাতির মৃদু আলোয়। মানে লাইট ছিল না। সেরাতে বেশ ঝড়-তুফান হয়েছিল বলে সেই এলাকায় বিদুৎ সংকট ছিল। সেজন্য মূলত কারেন্ট ছেড়ে ছোট একটা মোমবাতির অল্প আলোয় ওদের দুজনের বিয়েটা দিয়েছিল কাজী সাহেব।কিয়ান ভাইয়া কে হারিয়ে ফেলা, কাজি সাহেবের হুমকি-ধামকি, তুচ্ছতাচ্ছিল্য,আবার অচেনা লোকটাকে নিয়ে ভয়, অচেনা জায়গা নিয়ে আতংকিত, টেনশন সবকিছু মিলিয়ে কিয়ারার অবস্থা ছিল নাস্তানাবুদ, যা বলার বাহিরে। আতঙ্ক এতোটাই ছিল যে ঐ অল্প সময়ে দেখা অচেনা অজানা স্বামীর মুখটা ও আর মনে রাখতে পারেনি।
সোজা কথা ভুলে গেছে আরকি। ব্যাপারটা এমন না যে ও ইচ্ছাকৃত ভাবে অচেনা স্বামীর চেহারাটা ভুলে গেছে তাকে মনে রাখতে চায় না বলে। আসলে সত্যিটা বলতে লোকটাকে কিয়ারা মনে রাখতে চেয়েছিল।আর এজন্যই সেদিন রাতের শেষ প্রহরে পালিয়ে আসার সময় ঘুমন্ত স্বামীর মুখটা ও বেশ ভালোভাবেই দেখেছিল। জীবনের শেষ দেখা বলে স্বামীর মুখটা স্মরণে রাখতেও চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য ওর সহায় হলো না।
ওর ছোট মস্তিষ্ক থেকে আস্তে আস্তে অচেনা অজানা স্বামী নামক মানুষটার আবছা আলোয় দেখা মুখটা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আজকাল স্বামীর মুখটা স্মৃতিচারণ করলেও তেমন কিছুই আসে না মস্তিষ্কে শুধু ধোঁয়াসা একটা মুখ ছাড়া। তবে লোকটার বডিফিটন্সে আর হাইট-টা শুধু চোখে ভাসে ঐ একটু আরকি।
এমনিতেই তো লোকটা নামটাও জানে না যে স্মরণে রাখবে বা খুঁজে বের করবে। কি এক অদ্ভুত ভাবে বিয়ে হলো ওর। ধুম করে হওয়া স্বামীটা কেমন ধুম করেই বিলুপ্ত হয়ে গেল কিয়ারার জীবন থেকে। ২০১৮ সালে হওয়া ঐ ঘটনা প্রায় বিগত এক বছর পর আবারও ওর জীবনে এক নতুন মোর নিল। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর এখন ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ ২০২১ শেষের দিকে।
যথারীতি ওর কলেজে ভর্তি হওয়া চিন্তাটাও ওর বাপ-ভাইয়ের উপর ছিল বরাবরের মতো। এতে অবশ্য ওর নিজস্ব কোনো মতামত নেই। পরিবারের মেয়ে তাঁরা যেখানে বলবে সেখানেই ভর্তি হতে হবে ওর কথার কোনো গুরুত্ব দেওয়া হবে না এই বিষয়ে। তাই পড়াশোনার বিষয়ে কখনো মাথা ঘামায়নি।
ওর সাথে অবশ্য কিরণ আছে। ওকেও ওর বড় চাচা ওর সাথেই ভর্তি করিয়েছে। যেহেতু ওরা দুজন জন্মের পর থেকেই এক সঙ্গে হেলেদুলে, হেসেখেলে বড় হয়েছে, পড়াশোনাও একত্রে করেছে, সেহেতু ওদের আলাদা করার কথা কারও চিন্তাতেই ছিল না। আর চিন্তাতে থাকলেও ওরা সেটা হতেই দিতো নাহ ।
তাই সাথী হিসাবে কিরণ কে পেয়েছে বরাবরের মতই। আচ্ছা যাই হোক! পরিবারগত অনেক বুঝ-পরামর্শ করার পর বড়দের আদেশ আসলো ওদের দুজনকে কিয়ান ভাইয়াদের সাথে ওখানে থেকেই পড়াশোনা করতে হবে।
মানে ওদের ভাইয়ার ফ্ল্যাটে থাকতে হবে এমনটাই কথা রইল। তারপর হলোও ঠিক তাই! ভর্তি পরীক্ষা জন্য ভাইয়ার হাত ধরে সোজা চলে গেলো উত্তরা টু গাজীপুর শহরে। ওখানে ভাইয়ারা চাকুরির সুবিধার্থে থাকলেও গাজীপুর শহরটার সাথে ওদের আত্মার সম্পর্ক ছিল আরও গভীরে । মোটকথা বলতে গেলে ওখানে কিয়ারার আম্মুর নিজ বাড়ি।
সেই হিসাবে প্রতি বছরই ওদের যাতায়াত থাকতো গাজীপুরে। কিন্তু তারপরও ওর এই শহরটাকে আপন মনে হতো না। এখানে পড়াশোনা নিয়েও ছিল বেশ আপত্তি। ওর ইচ্ছা ছিল উত্তরাতে কোথাও ভর্তি হবে। ওখানে কি ভালো কলেজ নেই নাকি?..সেখানে ওর স্কুলের পুরোনো বেশ কিছু বান্ধবীও ছিল তাদের ছেড়ে আসতেও মন নারাজ ছিল। ওর এতো এতো নারাজি একটুও চোখে দেখেনি কেউ, কানেও তুলেনি। ছোট মানুষ হওয়ায় পরিবারের বড়রা যা বলে সেটাই শুনতে হতো ওদের।
কিয়ারার আজও মনে আছে সেদিনকার কথা। কি কান্নাটাই না করেছিলো, কাঁদতে কাঁদতে গোটা একদিন খাওয়া দাওয়া বন্ধ রেখেছিল। মানে পুরো অনশনে নেমে গিয়েছিল । ওখানে পড়তে যাবে না বলে। তারপরও কিয়ারা প্রচন্ড হতাশ,ওর এতো বিদ্রুপ শূন্যে তুলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই এসেছিলো গাজীপুরে ভাইয়ের হাত ধরে। প্রথম কয়েকদিন প্রচুর করে মন খারাপ চালিয়ে রেখেছিলো বাড়ির সবার সাথে , যাতে একটু মায়া-দয়া দেখিয়ে ওকে এখান থেকে নিয়ে যায়।
কিন্তু ভাগ্য ওকে এবারও প্রচন্ড রকমের হতাশ করল! ওর ভিষণ রকমের মন খারাপেও আব্বুর শক্ত মন নরম হলো না। আর না ওর এখান থেকে পুরোনো শহরে ফিরে যাওয়া হলো। প্রচন্ড অনিহা আর এক বুক কষ্ট নিয়েই কিয়ান ভাইয়ারা ওদের গাজীপুরে একটা ভালো কলেজে ভর্তি করিয়ে দিল। ওদের বাসা থেকে কলেজ মোটামুটি দূরে , অটো রিকশা দিয়ে যেতে হয়।
কিয়ারা মানবিকের স্টুডেন্ট। মূলত ওর ছোট থেকেই রাজনৈতিক বিষয় গুলোতে প্রচন্ড ইন্টারেস্ট ছিল আর সেজন্য মানবিক নিয়ে পড়াশোনা। বাসার কাউকে না জানিয়ে নিজে নিজেই পাকামো এই মানবিক বিভাগে ঢুকেছিল নবম শ্রেণিতে। কিরণ অবশ্য প্রথমে সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা স্টার্ট করে ছিল পরে বইয়ের সাথে যুদ্ধে পেরে উঠেনি। তাই বাধ্য হয়ে সাইন্স ছেড়ে মানবিক শাখায় ওর দলে যোগ দিয়েছে।
তারপর নতুন বান্ধবী হলো আবার,বেশ কৌতুক করেই ওর ছয় বান্ধবীরা (মাইমুনা , রাফিয়া,সাফা, মেঘলা, বৃষ্টি) উপরের দিকে দু'হাত তুলে মোনাজাত করতো ওর জন্য। ভিষণ রকমের ক্ষেপাত ওকে । কিয়ারা রাজনীতি ভীষণ পছন্দ করতো তাই । মারামারি, লড়াই পছন্দ করতো। এমনিতে ওর আবার রক্তে ফোবিয়া আছে কিন্তু। তবে মাঝেমধ্যে বোকার মতোন চেতে যেতো ওদের উল্টোপাল্টা , বাঁশ মার্কা দোয়ায় আবার মাঝেমধ্যে বেশ ইনজয় করতো, যখন ভবিষ্যত মন্ত্রীর বউ বলে ভেঙাতো কিয়ারা কে।
এই একটা কথায় কখনো কিয়ারা চেতে যেতো না। বেশ ভালোই লাগতো। পছন্দের রাজনৈতিক নেতা বলে কথা। নেতা জামাই পেলে সমস্যা কি? বরং ভালোই লাগবে। মনে মনে যেমন ওদের দোয়া করা নিয়ে খুশিতে লাফাতো। তেমনি ভয়ে ভয়ে থাকতো এই ভেবে যে, এই বজ্জাত বান্ধবীদের দোয়াতে যদি বুড়ো জামাই পায় তখন?.. বুড়ো জামাই কি শুধু ওরে ধরে ধরে মারবে,আর তার নিশ্চিত আরো বউ-বাচ্চা থাকবে?..
ইস্ কি বিচ্ছিরি অবস্থা। তবে ওর এতোসব চিন্তাতে এক বালতি পানি ঢেলে গেলো ঐ আকস্মিক হওয়া বিয়ের পরপরই। আজ বছর পার হলো কিয়ারা কাউকে বলে না ওর রাজনীতি পছন্দ বা মন্ত্রী জামাই চাই । কেউ এই নিয়ে মজা করলেও চুপ করে থাকে এখন। বিয়ে নিয়ে এই বিষয়ে ওর হঠাৎ চুপ করে থাকার কারণটা আজও কেউ ধরতে পারলো না। আর পারবেই বা কিভাবে ও তো কাউকে আজ পযন্ত ওর হঠাৎ হওয়া বিয়ের ঘটনাটি সাহস করে বলতেই পারেনি ।
এই ভয়ে যে, বিয়ে মতো এতো বড় একটা বড় ঘটনা শুনলে সবাই ওকেই দোষ দিবে। তাছাড়া পরিবারের সদস্যরা যখন ওকে এই বিয়ের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করবে তখন আমি কি বলবো তাদের? ওর কাছে তো কোন উত্তর নেই। তাছাড়া কিয়ারার আব্বু ভিষণ রকমের রাগী আর জেদি মানুষ।
উনার কানে এই খবর যাওয়া মানেই ওকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া। উনার কাছে সম্মান সবার আগে, আর এটা !.. মান সম্মান যাওয়ার মতো কাহিনীই ঘটিয়ে ফেলেছে ও । আব্বুর ভয়ে আজ পর্যন্ত কিয়ারা কারো সাথে শেয়ার করতে পারছে না । এমনকি কিরণ কেও বিয়ের বিষয়টা শেয়ার করতে পারছে নাহ। তবে বেশি দিন মনে হয় হজম করে রাখতে পারবে না কারণ কিয়ারা ওরে কিছু না বলে পেটের ভেতর জমিয়ে রাখতেই পারে না । না জানি কখন কথায় কথায় বলে ফেলে, আর আবার ফেঁসে যায়।
কিয়ারা জানে না লোকটা কে ছিল, আর কাকেই বা সেই রাতে ও বিয়ে করেছিলাম। শুধু মাত্র ঐ বৃদ্ধ লোকটির জন্য এতো বড় ঘটনা ঘটে গেল। অবশ্য কাকে দোষ দেবো আমি তখন পরিস্থিতিটাই ছিল ঐ রকম। আমি লোকটার নামটা পযন্ত জানতে পারি নি।
এজন্যই মূলত চুপ থেকে গেলাম নিরবে। কাউকে জানিয়ে ঝামেলা আর বাড়াতে চাইনা। আজকাল শুধু হতাশা কাজ করে নিজের মাঝে স্বামী শব্দ নিয়ে। ঐ দিনের কথা মনে করলে এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় অন্তরে।
নাম-দাম, ঠিকানা, পরিচয়পত্র কিছুই জানি না তার। যাও একটু করে লোকটার মুখটা মাথায় ছিল দীর্ঘ সময়ের দূরত্বে তার আদৌ-আদৌ চেহারাটাও ভুলে যাচ্ছি দিন কে দিন। আমার ভাগ্যে কি লেখা আছে কে জানে? কিন্তু সেই মানুষটার জন্য আমার জীবন যেন থেমে আছে।
অদ্ভুত ভাবে আজও তার কথা আমার স্মৃতিতে গেতে আছে দৃঢ় ভাবে। নিশ্চিত বিয়েতে অনিশ্চিত , অচেনা , অজানা স্বামীর দেখা ইহজীবনে আর কখনো পাবো না এটাও জানি। তারপরও লোকটা আমার মস্তিষ্ক জুড়ে বিচরণ করে। অদ্ভুত এক অনুভূতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক এসব বিষয়ে ভেবেই এক দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল কিয়ারা। ওর জীবনের ফেলে আসা দিন গুলো আবারও একবার স্মৃতিচারণ করে নিল । বুক ভরে নিশ্বাস ফেলে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো কিরণ এর দিকে। মেয়েটা সেই তখন থেকেই সেজে যাচ্ছে থামাথামি নাই।
এক ঘন্টার বেশি সময় হবে আয়নার সম্মুখে বসেছে ঘসামাজা করতে, ঘসেই যাচ্ছে, ঘসেই যাচ্ছে তারপরও সাজ কমপ্লিট হলো না মেয়েটার ?.. আজব। এবার বেশ বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে আসল ওর কিরণের এতো লেইট হওয়াতে। আজ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান আছে। সেটা অবশ্য ওদের জন্য নয়। কিয়ারা বিরক্ত হচ্ছে এই মূহুর্তে কিরণ কে নিয়ে নিয়ে।
মেয়েটা এখনো বিরতিহীন ভাবে সেজেই চাচ্ছে। সামান্য একটু অনুষ্ঠানের জন্য এতো সাজতে হবে? আজব। এবার কিয়ারা বেশ রাগী গলায় বললো কিরণ কে...
ঃ- ব্রিটিশ মহিলা আর কতক্ষণ আমাকে এইভাবে বসিয়ে রেখে সাজবি? সামান্য একটা অনুষ্ঠানের জন্য তোর এতো সাজতে হবে? ছেলেদের লাইন মারতে যাবি কলেজে? কায়রান ভাইয়ার কাছে বিচার দিব তোর নামে দেখিস। তাড়াতাড়ি কর বেডি।
ওর চটে যাওয়াতে কিরণ তাড়াহুড়ো করে আয়নার সম্মুখে ঝুঁকে লিপস্টিক লাগাতে লাগাতে বললো...
ঃ- শুধু শুধু রাগিস কেন ?..চল কিরা!.. এইতো শেষ আমার। আর অল্প।
ঃ- কিরণ এবার কিন্তু তুই বাড়াবাড়ি করেছিস! সত্যি আমার গরম লাগছে এই বালের শাড়ি পরে। তুই কি উঠবি নাকি আমি তোকে ফেলে চলে যাব ভাইয়ের সাথে? আর তুই আবার আমাকে কিরা বললি?...
আয়নার সম্মুখে থেকে তাড়াহুড়োয় মেকাপের জিনিসপত্র গোছাতে গোছাতে ব্যস্ত ভঙ্গিতে কিরণ বললো...
ঃ- সরি! সরি! জানস এইতো শেষ আমার। চল, চল, দ্রুত আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলে সিনিয়রদের পাল্লায় পরে যাবো আবার। চল চল।
কিরণের হঠাৎ এতো তাড়াহুড়ো গাঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ঠোঁট উল্টায় কিয়ারা। মেয়েটা সত্যি পাগল। একতো নিজেই দেরি করেছে তারপর আবার সেটা নিয়ে নিজেই আফসোস করছে। অদ্ভুত! আজ আর ভাইয়ার বাইকে চড়লো না ওরা কেউ।
যেহেতু শাড়ী পরেছে তাই রিক্সা ধরে সোজা কলেজ গেইটে নামতেই চোখে লাগল কলেজ ভারি প্যানেলের সাজসজ্জা। সেই সাথে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভারি ভারি পোষাক ।ছেলেরা সবাই সাদা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা সবাই গোলাপী শাড়িতে আবদ্ধ।
এ যেন এক রঙিন মেলা।এই মেলায় সামিল হওয়ার থেকে কিন্তু ওরাও বাদ পরেনি। কিরণ আর কিয়ারা দুজনই গোলাপী রঙের শাড়ি পরেছে। ছোট ছোট পা ফেলে কলেজের গেইট ধরে ভিতর ঢুকে বুঝলো ওরা আসলেই একটু বেশি দেরি করে ফেলেছে। ওদের আরও আগে আসার উচিত ছিল। কারণ অলরেডি প্রধান অতিথি আসার সময় হয়ে গিয়েছে।
—চলবে—
ইনশাআল্লাহ