ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (১ম খন্ড)

৪র্থ পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

পর্বঃ- ০৪

🌿🌿🌿

ওরা যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পরই বিশেষ অতিথির গাড়ি ঢুকলো কলেজের গেইট ধরে। তারমানে কলেজের এরাই চিফ গেস্ট। সেই সাথে এই কলেজের ওনার। ছাত্র-ছাত্রী জনসভায় ওরা গিয়ে পিছনের দিকের একটা সারিতে বসলো। ঐ সারিতে ওদের বাকি বান্ধবীরাও বসেছে। ওরা সবাই ওদের দুজনকে চেপে ধরেছে যে এতো লেইট হলো কেন ওদের আসতে।

কিয়ারা কিরণ কে ওদের দিকে ঢেলে দিয়ে বলেছে যে ওর সাজগোজের জন্য দেরি হয়েছে। তারপর ওরা সবাই কিরণ বেচারির ধোলাই করছে, আর কিয়ারা ওদের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছে। কিয়ারার হাতে ফোন নেই। কিরণের হাতে কায়রান ভাইয়ার একটা ফোন আছে। সেটাই দিয়ে সে অলরেডি ছবি তুলা শুরু করে দিয়েছে।

কিয়ারা ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো । তৎক্ষনাৎ তাকিয়ে দেখলো অতিথিদের ঝাঁক ঝমকপূর্ণ বেশ কয়েকটা সাদা-কালো গাড়ি। গেইট ধরে কলেজের ভিতরে ঢুকছে । সিনিয়র ভাইয়া আপুরা সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে তাদের ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে।

সেই স্বাগতে স্যাররাও দাঁড়িয়ে আছে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে। দূর থেকে অল্প সল্প চোখে লাগলো ওর। তিনটা গাড়ি থেকে তিনজন মানুষকে বের হতে দেখলো ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায়। তাদের সাথে আবার কিছু বডিগার্ড টাইপের লোকও আছে।

একজন বেশ বৃদ্ধা আর বয়স্ক টাইপের লোক। সাদা পাকা দাড়ি আর চুলে ভরপুর উনার মাথাটা। দ্বিতীয়জন অর্ধবয়স্ক হবে! বয়সটা পঞ্চাশ ঊর্ধ্বে হবে। উনার চুলগুলো দূর থেকে ঠাহর করতে পারছিনা কতটা পাকা হবে? তবে তৃতীয়জনকে চোখে লাগার মতোনই ছিল। দূর থেকে এক ঝলক দেখেই বুঝতে পারলাম শত শত নারীর রাতের স্বপ্ন হতে বাধ্য এই পুরুষ।

আহা এই বুঝি সেই পুরুষ যাকে নিয়ে বিগত এক মাস ধরেই গঞ্জন শুনছিলাম কলেজের সিনিয়র আর ওদের ক্লাসমিট মেয়েদের মাঝে? হতেই পারে অস্বাভাবিক কিছু না। সুন্দর পুরুষদের নিয়ে মেয়েরা সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখবে এটাই স্বাভাবিক।

ও নিজেও বিবাহিত না হলে এই মূহুর্তে লোকটার উপর প্রথম ঝলকেই ক্রাশ নামক বাঁশটা বসত। কিন্তু বিবাহিত মহিলাদের তো পরপুরুষ দেখা পাপ। হারাম এক প্রকার।এখন কিয়ারা লোকটার দিকে নজর দিলে পাপ হবে নিশ্চয়ই। তাই সভ্যতা সুলভ দৃষ্টি সরিয়ে নিলো লোকটার থেকে।

ঠিক হয়ে বসতে বসতে খেয়াল করলো তাদের তিনজনকে পিন্সিপাল স্যার সহ বাকি স্যাররা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের কক্ষের দিকে। পিছন পিছন সিনিয়র ভাইয়ারাও আছেন। কিয়ারা এবার ঘাড় ঘুরিয়ে সোজা হয়ে বসলো। কারণ উনারা সবাই এবার হয়তো ওদের সামনে এসে বসবেন স্টেজের আসনে। ওর মনোযোগ তখন খালি আসনগুলোর দিকে।

সিনিয়র ভাইয়ারা কতো ছুটাছুটি করছে অনুষ্ঠানটা সামলাতে গিয়ে। এই গরমে একেক জনের ঘেমে নাজেহাল অবস্থা। সাদা পাঞ্জাবি ঘেমে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে তাদের।বিশেষ অতিথি, সাইড অতিথি দেখার জন্য অল্প সল্প কৌতুহল ওরো ছিল। কিন্তু ওর মনোযোগ সব নষ্ট হলো হঠাৎ কিরণের টানাটানিতে। বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরে তাকালো। কিরণ ঠোঁট উল্টিয়ে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো...

ঃ- কিরা আমি ওয়াশরুম যাব! প্লিজ আমার সাথে চল।

কেমনডা লাগে? বাসা থেকে মাত্র আসলো। এখন বসতে না বসতেই ম্যাডামের ওয়াশরুমের ঠ্যালা দিতে হলো?...এতক্ষণ বাড়িতে ঘসামাজা করেছিল তখন ওয়াশরুম যায়নি কেন?..মেজাজ খারাপ হলো কিয়ারার চাপা রাগে দাঁত পিষে বললো...

ঃ- তুই কি আজকে প্রতিঙ্গা করেছিস? আমাকে শান্তি দিবি না? এমনিতেই তোর জন্য এতো লেট হলো এখন বসতে না বসতেই তোকে ওয়াশরুমের ঠ্যালা দিতে হলো?...

ঃ- প্লিজ জানস চল না। আসলে সাজুগুজ করায় ব্যস্ত ছিলাম বলে ওয়াশরুমে যাওয়া হয়নি। ভেবেছিলাম সাজ শেষ করে একেবারে যাব। কিন্তু তাড়াহুড়ো এখানে চলে এসেছি বলে আর যাওয়া হয়নি। প্লিজ চল না বোন। নাহলে মহা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে যে।

ঃ- গুড! ভেরি গুড! ভালো কাজ করেছিস। এখন আমি তোর সাথে যেতে পারবো না ন- আকার না। ওদের থেকে কাউকে নিয়ে যাহ। আর নাহলে পেট চেপে ধরে বসে থাক। আমি পারবো না তোর সাথে কোথাও যেতে।মাফ চাই জানস।

কথাটা বলেই সামনে তাকাতে চাইলে পাশ থেকে কিরণ খপ করে ওর হাতটা খামচে ধরে অসহায় গলায় বলল...

ঃ- প্লিজ কিয়ারা চল না প্লিজ। বেশি ইমারজেন্সি পেয়েছে। প্লিজ! নাহলে এখানেই কিছু হয়ে যাবে। তুই বল তোর কি কোনো মানসম্মান নেই?..এমন হলে ব্যাপারটা কেমন হবে তখন?..

আর আমি তোর সাথেই যাব, ওরা কেউ এখন উঠতেই চাইবে না।

ওর মতিগতি বুঝার চেষ্টা করলো কিয়ারা। কিরণ এর অসহায় মুখ টা দেখে হতাশার নিশ্বাস ফেললো, মেয়েটা আসলেই ওকে আজকে শান্তি দিবে না।

ওয়াশরুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে কিয়ারা। হাতে কিরণের ব্যাগ আর ফোন। আর কাঁধে ওর ছোট ব্যাগটি ঝুলছে। করিডোরে দাঁড়িয়ে আশপাশটা নজর বুলিয়ে দেখলো। নাহ আপাতত এইদিকটায় তেমন একটা মানুষ নেই। সবাই মাঠে স্টেজের দিকটায় আছে। ওয়াশরুমের বাহিরে করিডোর একপাশের দেয়ালে থাই গ্লাসে নিজের প্রতিবিম্বটা এক পলক দেখে নিলো।

গোছানো শাড়ি, গোলাপী রঙের চুড়িতে দেখতে খারাপ লাগছে না। মোটামুটি ঠিকঠাকই লাগছে। তারপরও চঞ্চল হাত অল্প ল্যাপ্টানো কাজলটা মুছে নিতেই তখন কানে বাজল কারও গমগমে ডাক ' এই মেয়ে ' এই মেয়ে এদিকে এসো।

স্বাভাবিক ভাবেই ঘাড় বাঁকিয়ে সেদিকে তাকালো কিয়ারা। দেখতে পেলো ওদের পৌরনীতি ম্যাডামকে। তিনিও হাফ সিল্কের গোলাপী শাড়ি পরিহিতা। বয়স ত্রিশ! শ্যামবর্ণ গায়ে রঙটা খারাপ লাগছে না। বেশ ভালোই লাগছে। তবে উনি এতো তাড়াহুড়ো করে ডাকছে সেটা লক্ষ করে বুঝলো ম্যাডাম আসলে ওকেই ডাকছিল।

এতে একটু চমকিত হলো কিয়ারা। এক বুক সাহস নিয়ে এগিয়ে গেল ম্যামের দিকে। ওকে দেখেই ম্যাম তাড়াহুড়ো করে প্রশ্ন করে বললেন...

ঃ- এই মেয়ে!.. তুমি কোন ডিপার্টমেন্ট?

ম্যামের তাড়াহুড়োর কথায় বুঝতে পারলো তিনি ওকে ঠিক চিনতে পারেনি, তাই মিনমিন স্বরে ম্যামকে বললো...

ঃ- ম্যাম আমি মানবিক ডিপার্টমেন্টে ইন্টারের স্টুডেন্ট!

ব্যস্তায় ম্যাম ফের বললো...

ঃ- ওহ তুমি তো আমারি ছাত্রী। আচ্ছা শুনো! আমার হাতের এই ফাইলস গুলো ফাউন্ডার স্যারের রুমে নিয়ে যাও। সোজা পিন্সিপাল স্যারকে দিবে। বলবে তানিয়া ম্যাডাম দিয়েছে কেমন। যাও!

এতক্ষণ না চমকালেও এবার বেশ জড়োসড়ো চমকালো ম্যামের কথায়। ফাউন্ডার্স স্যারে রুমে যাবে মানে? সেখানে তো এই মূহুর্তে সবাই বসে আছে ও যাওয়া মানেই নিঘাত সর্বনাশ। এতো বড় বড় মানুষদের মাঝে ও ছোট খাটো মানুষ হয়ে কেন যাবে? ইসস্! ওর তো এখনই ভয়ে বুক কাঁপছে । হার্ডবিট বেড়ে যাচ্ছে।এই কাঁপাকাঁপির রোগ নিয়ে সেখানে যাবে কিভাবে?..

অজস্র ভয় থাকার পরও ম্যাডামের মুখের উপর না করার সাহস হলোনা ওর। ম্যাম যদি ওকে বেয়াদব বলে ধমক লাগায়?.. সেই ভয়ে ম্যাডামের হাত থেকে কাগজ পত্র গুলো নিজের হাতে তুলে নিল। ম্যাডাম তাড়াহুড়োয় ওর হাত খালি করে ব্যাগ আর ফোনটা নিজের কাছে রাখতে রাখতে বলল, ফাইলস গুলো পিন্সিপাল স্যারকে দিয়ে তারপর এগুলো নিয়ে নিও। অসহায়ের মতো কিয়ারা মাথা নাড়াতেই ম্যাম দ্রুত পায়ে চলে গেল অফিস রুমে দিকে।

অসহায় কিয়ারা নাক মুখ কুঁচকে এক পলক ওয়াশরুমের বন্ধ দরজার দিকে তাকালো। মেয়েটা সত্যি আজকে ওকে শান্তি দিবে না। সব ওর জন্যেই হলো আর ও এখনো ওয়াশরুমেই বসে আছে। প্রচন্ড আতংকের সঙ্গে ফাউন্ডার্স স্যারের দরজায় কড়া নেড়ে অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো ।

চোখে পড়ল বেশ কয়েকজন মানুষকে। বিশেষ করে অতিথি সভার সবাই এখানেই বসা। তারমানে তাঁরা এখনো স্টেজে উঠেননি। কিয়ারা এই প্রথম কলেজের ফাউন্ডার্সদের সামনাসামনি দেখলো। দেখতে সবাই মাশাল্লাহ। তিনজনই সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি পরিহিত। উনাদের সবাইকে দেখে সর্বপ্রথম ওর মাথায় যেটা আসল সেটা হলো ' উনার সবাই কি ব্রিটিশ নেতাদের বংশধর নাকি? (ভাববেন না যে আমার নেতা পছন্দ তাই বলছি)

ঃ- এই মেয়ে!..কি চাই?

ভরাট গলায় বলা পিন্সিপাল স্যারের হঠাৎ প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেল কিয়ারা। প্রচন্ড অস্বস্তিতে সিঁটিয়ে গিয়ে ধীর গলায় বললো...

ঃ- স্যার আমাকে তানিয়া ম্যাম পাঠিয়েছেন । এই ফাইলস গুলো আপনাকে দেওয়ার জন্য।

ঃ- ওহ আচ্ছা! ফাইল গুলো তোমার পিছনের বসে থাকা স্যারের কাছে দিয়ে দাও।

স্বাভাবিক ভাবেই পিছনে ফিরেছিল কিয়ারা। সাহস নিয়ে ফাইলস গুলো এগিয়ে দিয়েছিল লোকটাকে। কিন্তু ইয়াং যুবকের অল্প পরিচিত মুখটা দেখে মূহুর্তেই ঠায় নিজ স্থানে থ মেরে দাঁড়িয়ে পরলো। শরীরের মধ্যে তৎক্ষনাৎ হাড় কাঁপানো বিদ্যুৎ বয়ে গেল এমনটা মনে হলো যে শক্ খেলো সেই বিদ্যুৎতের তেজে তৎক্ষনাৎ ওর হাত দুটোও কেঁপে উঠল তুমুল গতিতে। এই লোকটা! এই লোকটাকে চেনা পরিচিত লাগছে।

কোথাও দেখেছিল মনে হচ্ছে! কিন্তু কোথায়? কোথায়? সেকি ওর পরিচিত কেউ? কই ওর তো তেমন কিছু মনে পরছে না? ওর ধ্যানের মাঝেই লোকটা ওর থেকে কাগজ গুলো নিজে হাতে তুলে নিল সহজ ভাবেই। কিয়ারা যে উনার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে সেদিকে উনি এক পলক চোখ উঁচিয়ে তাকাল না পযন্ত। ওকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হাল্কা ভ্রু দুটি কুঁচকে কাগজ গুলো একের পর এক চেক করে গম্ভীর গলায় বলল...

ঃ- কাগজে সমস্যা আছে। নেইম প্লেসের জায়গা গুলোতে ভুল। এগুলা সংশোধন করতে দ্রুত পাঠান।

বাক্য গুলো শেষ করতে করতে হাত বাড়িয়ে কাগজ গুলো পুনরায় ওর হাতে তুলে দিতে দিতে চোখ উঁচিয়ে তাকাল পিন্সিপাল স্যারের দিকে। তখনো লোকটা ওকে দেখলো না। হয়তো দেখার প্রয়োজন মনে করছে না তাই। কিন্তু কিয়ারা হ্যাবলা মতো তাকিয়ে ছিল লোকটার দিকে। ও এইবার খেয়াল করলো লোকটার চোখের মণি টা নীল রঙের। এমন অদ্ভুত আকর্ষণীয় চোখজোড়া দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মত চেয়ে রইল। আর ঠিক তখনই পিন্সিপাল স্যার পুনরায় ওকে ডেকে বলল।

ঃ- এই মেয়ে শুনো!

কিয়ারা অস্থির ভাবে ঘুরে তাকালো স্যারের দিকে। তিনি হয়তো বারবার এই মেয়ে, এই মেয়ে বলে ডাকতে চাচ্ছেন না ফাউন্ডার্সদের সামনে। তাই সহজ ভাবেই ওর নাম জিজ্ঞেস করে বললেন...

ঃ- নাম কি তোমার!..

প্রচন্ড অস্বস্তিতে মিনমিন করে বললো ...

ঃ- কিয়ারা!...

স্যার পুনরায় বললেন...

ঃ- কি নাম??..

কিয়ারা হাসফাস করে উত্তর দিলো..

ঃ- জ্বি স্যার! কিয়ারা চৌধুরী।

ওহ আচ্ছা! শুনো কিয়ারা এই ফাইলস গুলো তোমার তানিয়া ম্যামকে দিয়ে বলবে ভুল গুলো দ্রুত ঠিক করে পুনরায় পাঠাতে। এখন যাও!

কিয়ারা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে আড়চোখে তাকালো পাশের লোকটার দিকে তিনি তখনো ওকে দেখলো না পর্যন্ত।আর কিয়ারা তখনো লোকটার চোখজোড়ার দিকে বসিভূত হয়ে তাকিয়ে রইল। কিন্তু লোকটার এই গম্ভীর অ্যাটিটিউডে মূহুর্তেই অপমান বোধ করলো কিয়ারা ।

কেন বারবার হ্যাংলার মতো তাকাচ্ছে লোকটার দিকে তাও বুঝতে পারছে না। শুধু লোকটাকে ওর ভীষণ পরিচিত মনে হচ্ছে, লোকটার চোখজোড়ার ওকে ভীষণ ভাবে আকর্ষিত করছে। কিন্তু এজন্য বারবার তাকাতে হবে নাকি ?.. অদ্ভুত তো ।

কিয়ারা তোমার বাসায় কোথায়? কথাবার্তায় তো মনে হচ্ছে না তুমি গাজীপুরের মেয়ে? অন্য জেলার নাকি?

কিয়ারা গম্ভীর লোকটার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তাকালো বৃদ্ধা বয়স্ক লোকটার দিকে। কি অমায়িক হাসি উনার মুখে। বয়স আশির কাছাকাছি মনে হলেও দেখতে বেশ ফিটফাট দেখা যাচ্ছে। উচ্চবিত্ত পরিবারের লোক বলে কথা। তারা তো এমনই যোয়ান থাকবে তাই না। তাছাড়া বড়লোকদের কি আর বয়স বাড়ে নাকি অহংকারের মতোন?

তবে এই বয়স্ক লোকটার মুখের আদৌলে ওর অহংকারী ভাবটা চোখে পড়লো না। সেটা পরলো সেটা হলো সচ্ছতা আর শুদ্ধতার হাসি মুখ। সেই হাসিতে কিয়ারা উসখুস করে মাথা কাত করে সম্মতি দিলো। বুঝালো হ্যা ও অন্য জেলার মেয়ে । লোকটা ফের হাসলো। আগ্রহ নিয়ে বলল...

ঃ- তা কোন জেলার মেয়ে তুমি?..

ঃ- জ্বি উত্তরা!

ওর কথা শুনে বেশ মজা পেল যেন বয়স্ক লোকটা। ফের ওকে বলল...

ঃ- ওও আচ্ছা ,আচ্ছা তুমি তাহলে উত্তরার মেয়ে? ভালো তো! তা কিয়ারা তুমি কোন ক্লাসে পড়?..

কিয়ারা প্রচন্ড অস্বস্তিতে উসখুস করে মাথা নত করে উত্তর দিলো

ঃ- জী ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।

ওও আচ্ছা, ভালো, ভালো। তুমি তাহলে ভা...

বৃদ্ধা লোকটাকে বলতে না দিয়ে নীল চোখ ওয়ালা গম্ভীর লোকটা তৎক্ষনাৎ ওর উদ্দেশ্যে বললো...

ঃ- গেট আউট!.. আউট।

কিয়ারা চমকে পিছনে তাকালো। লোকটা যে ওকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বললো সেটা বেশ বুঝতে পারলো। কিন্তু কেন? ও কি ইচ্ছা করে এখানে দাঁড়িয়ে আছে নাকি? উনার দাদাজানই তো ওকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে তাহলে ওকে লোকটা এতো মানুষের সামনে অপমান করছে কেন? কি করেছে আমি?ওরা তো একে অপরকে ঠিকমতো চেনেও না। তাহলে?..

মাহাদ বিহ্যাব ইউর সেলফ! এভাবে বলছো কেন?..

(রেগে গিয়ে বলল)

কিয়ারা এতক্ষণে বুঝলো নীল চোখের লোকটার নাম তাহলে মাহাদ। আর বয়স্ক লোকটা উনার দাদু হয়। কিয়ারা নাম তো জানে না। তবে বেশ শক্ত গলায় মাহাদ নামক লোকটাকে শাসাতে চাইল। কিন্তু ততক্ষণে লজ্জা আর অপমানে ওর চোখে জল চলে এল। লোকটি ফের কিয়ারা কে উদ্দেশ্য করে বললো:-

ঃ- আই সে গেট আউট !..

কিয়ারা তখন লজ্জায়, অপমানিত বোধ করে আর দাঁড়ালো না ওখানে, কোনো রকমে প্রিন্সিপাল স্যারকে বলে চলে আসলো। তবে দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় কি মনে করে যেন পিছনে ফিরে তাকালো, দেখলো নীল চোখের লোকটা তখনো ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

লোকটি বেশ সন্দেহ নিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে, কিন্তু কিয়ারা ঠিক বুঝলো না যে উনি কি নিয়ে সন্দেহ করছেন ওকে?..?..

তবে লোকটার অপমান ওর বেশ গায়ে লেগেছে। রাগে দুঃখে চোখে জল চলে এল । চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিয়ে তারপর তানিয়া ম্যাম কে কাগজপত্র গুলো দিয়ে চলে আসলো। ক্যাম্পাসে এসে দেখলো কিরণ ওকে খুঁজে চলেছে।

ঃ- কিরে কোথায় চলে গেছিলি তুই?.. আমি সেই কখন থেকে খুঁজে চলেছি !..

ঃ- আমাদের ডিপার্টমেন্টের তানিয়া ম্যাম ডেকেছিল।

ঃ- ওহ আচ্ছা!..কিসের জন্য ডেকেছিল রে?.?..

ঃ- আমি করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন উনি আমাকে ডেকেছেন, ফাউন্ডার স্যারদের কাছে প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে কিছু কাগজপত্র দিয়ে আসার জন্য।

ঃ- ওও আচ্ছা ঠিক আছে।

আমার ব্যাগ টা দে তো মেকআপ টা একটু ঠিক করেনি ।

ঃ- ব্যাগ তো ম্যামের কাছে রেখে এসেছি, তুই দ্বারা আমি গিয়ে নিয়ে আসছি।

এই বলে কিয়ারা ম্যাডাম এর কাছ থেকে ব্যাগ আনতে চলে গেল।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন