#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ০৯
🌿🌿🌿
🌺 আফনান মাহাদ খান , গায়ের রং হলুদ ফর্সা, সিক্স প্যাক বডি, লম্বায় প্রায় ছয় ফুট তিন ইঞ্চি। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং যেটা মেয়েদের মনকে আকর্ষণ করে তা হলো তার নীল রঙের চোখের মণি। আর তার লুকস মানে যখন সে বাহিরে বের হয় রাস্তায় সব মেয়েদের চোখ থেকে মন সব তখন তার দিকে ফোকাস করা থাকে।(এটা তো গল্প লিখতে তো আর সমস্যা নেই 😉)
আফনান মাহাদ খানেরা দুই ভাই।
মাহাদ বড়, ওর ছোট ভাই ফারহান মানাফ খান। ভাইয়ের মতোই হলুদ ফর্সা, মিডিয়াম স্বাস্থ্য, লম্বায় ছয় ফুট এর কাছাকাছি। বড় ভাইয়ের মতোই সুদর্শন। এবার অনার্স প্রথম বর্ষের স্টুডেন্ট।
মাহাদ এর বাবা মাহফুজ খান, মা মিতালী খান । মাহাদ এর বাবা রা দুই ভাই দুই বোন। মাহাদ এর বাবা বড় , মেজো চাচা মনির খান তার স্ত্রী মাহমুদা খান।
তাদের তিন সন্তান বড় ছেলে মায়ান খান মেজো মেয়ে মুক্তা খান ছোট মেয়ে মীরা খান। মায়ান আর মানাফ দুজন একসাথে পড়াশুনা করে। মুক্তা ইন্টার এ উঠল। আর মীরা নাইন এ পড়ে।
মাহাদ এর সেজো ফুপি মনিরা শেখ, ফুপা নাদিম শেখ। তাদের দুই সন্তান বড় ছেলে নাঈম শেখ ছোট মেয়ে নাঈমা শেখ। নাঈম আর মাহাদ সমবয়সী। নাঈমা আর মুক্তা সমবয়সী।
ছোট ফুপি মারুফা শেখ, ফুপা আমিনুল শেখ। তাদের দুই ছেলে মেয়ে, বড় ছেলে অয়ন শেখ, ছোট মেয়ে অয়ন্তি শেখ অয়ন মাহাদ নাঈমদের সমবয়সী।
অয়ন্তি আর মীরা সমবয়সী।
মাহাদের দুই ফুপুর যেখানে বিয়ে হয়েছে তারা আপন দুই ভাই হয়।
মানে একই বাড়িতে দুই ফুপুর বিয়ে হয়েছে।
মাহাদের দাদাজান ফিরোজ খান।
দাদিজান মাহফুজা খান।
🌺 কিয়ারা চৌধুরী। পরিবারের সবার আদরের রাজকন্যা দেখতে লাল ফর্সা, মিডিয়াম স্বাস্থ্য, লম্বায় পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি,আর সব চেয়ে আকর্ষণীয় যেটা সেটা হলো তার হাঁটু পর্যন্ত লম্বা কালো চুল। একটু চঞ্চল , ভীষণ লাজুক স্বভাবের কিয়ারা। একটু বোকাসোকা ভীতু মানুষ।আর সহজেই সবাই কে বিশ্বাস করে ফেলের বদ স্বভাব ও তার মধ্যে বিদ্যমান।
কিয়ারা রা তিন ভাই বোন। বড় ভাই কিয়ান চৌধুরী, হলুদ ফর্সা,মিডিয়াম স্বাস্থ্য, দেখতে দারুন সুদর্শন পুরুষ। পেশায় একজন ডক্টর।
তারপর বড় বোন কায়রা চোধুরী।
ভাইয়ের মতোই হলুদ ফর্সা, মিডিয়াম স্বাস্থ্য,কোমর পর্যন্ত লম্বা ব্রাউন কালার চুল। পড়াশোনায় এবার অনার্স তৃতীয় বর্ষ তে উঠেছে।
কিয়ারার মা নীলাশা চৌধুরী,বাবা নেহাল চৌধুরী।
কিয়ারার বাবা রা তিন ভাই
কিয়ারার বাবা মেজো।
বড় চাচা নামীর চৌধুরী তার স্ত্রী নায়লা চৌধুরী। তাদের তিন সন্তান বড় ছেলে কায়রান চৌধুরী পেশায় একজন ডক্টর। মেজো ছেলে নীলাভ চৌধুরী কানাডায় গিয়েছে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে। ছোট মেয়ে কিরণ চৌধুরী। কিরণ ও কিয়ারা বেস্ট ফ্রেন্ড। দুজনে একসাথেই পড়ে।
ছোট চাচা নাজির চৌধুরী তার স্ত্রী নাজমা চৌধুরী। তাদের তিন সন্তান বড় মেয়ে নামিরা চৌধুরী , অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছে ।
জমজ ছেলে মিশাল চৌধুরী ও মেহরান চৌধুরী। ওরা দুজনে ক্লাস নাইনে পড়ে।
কিয়ারার দুই ফুপিও আছে। বড় ফুপি নোলক মির্জা, বড় ফুপা আনাস মির্জা।
তাদের দুই সন্তান বড় ছেলে আরিয়ান মির্জা। ছোট মেয়ে আরিয়া মির্জা কিয়ারার সমবয়সী। তারপর ছোট ফুপি নৌরিন মির্জা ছোট ফুপা আনাম মির্জা ।
তাদের দুই সন্তান। বড় মেয়ে আলিশা মির্জা , আলিশা আর কায়রা সমবয়সী। ছোট মেয়ে আরিফা মির্জা । আরিফা কিয়ারার সমবয়সী। আনাস ও আনাম তাদের দুই ভাই এর সাথে কিয়ারার দুই ফুপুর বিয়ে হয়েছে।
কিয়ারার দাদাদাদি অনেক আগেই গত হয়েছেন। ও হ্যাঁ কিয়ারাদের জয়েন ফ্যামিলি।
এখন ভয়ার্ত মুখে জড়সড় অবস্থায় বসে আছে কিয়ারা খাটের এক কোণায় অপরাধী মুখে। আর ঠিক সামনেই কিরণ তব্দা মেরে মাথা চেপে বসে আছে শকট হয়ে। দুজনের গায়ে এখনো কলেজ ড্রেস জড়ানো।
সময়টা দুপুরে তিনটার ঘরে। সকালে মাহাদ খানের সামনে থেকে পালিয়ে কিয়ারা কোন রকম বাসায় এসেছে।আর এসেছে থেকেই ব্ল্যাকমেইল করছে কিরণ। বলেছে ওর কাছে কেন লুকানো হলো এতো বড় কথাটা?..
এখন যদি কিয়ারা আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সব ফটাফট না বলে তাহলে ভাইয়ারা বাসায় আসলে তখন তাদের সব কিছু বলে দিবে কিয়ারা চুরি করে বিয়ে করে ফেলেছে। ওর কথায় ভয় পেয়ে বাধ্য হয়ে কিয়ারা শুরু থেকে সবকিছুই বললো, যা যা সেদিন রাতে কিয়ারার সাথে হয়েছিল ঐ অচেনা অজানা লোকটাকে নিয়ে।
আর তখন থেকেই ওর হঠাৎ বিয়ের বিষয়টা নিয়ে রিয়েক্ট করছে কিরণ। যেন ওর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরেছে এমন আচরণ করছে। করারই কথা আসলে কিয়ারার বড় বোনের বিয়ে এখনো হয়নি সেখানে ও পরিবারের সবার ছোট হয়ে গেছে লুকায়িত ভাবে বিয়ে করে নিয়েছে তাই এই বিষয়টি কারো সহজে মেনে নেওয়ার কথাও না।
কিরণের ক্ষেত্রেও তাই। কিয়ারার গোষ্ঠীর মধ্যে ওর বড় ভাই-বোন আছে যাদের ওর আগে বিয়ে হওয়ার কথা তারপর সিরিয়ালে শেষের দিকে কিয়ারা। সেখানে ও নিজেই সবাইকে টপকে সিরিয়াল ভেঙ্গে সবার আগে বিয়ে করে বসে আছে। বিগত দুই ঘন্টা ধরে কেমন তব্দা মেরে বসে আছে কিরণ ওর বিয়ের ঘটনা টা জানার পর।
প্রথম প্রথম ওর এমন ঝিম মেরে বসে থাকাটা ঘাবড়ে যাওয়ার মত বিষয় হলেও করলেও এখন বেশ বিরক্ত লাগছে কিয়ারার। আর কতক্ষণ এমন একভাবে বসে বসে ঝিমানো যায়?.. এখনতো কিছু একটা বলা দরকার ওর তাই না? অদ্ভুত! বিয়ে হয়েছে সেই এক,দেড় বছর আগে, এতোদিন যাবত ভয়ে পেয়ে এসেছে মনে মনে সবাই জানলে কি হবে?
সবাইকে কিভাবে ফেস করবে সেই ভয়। এখনো ভয় আছে তবে এজন্য আর কতক্ষণ এমন মরার ঝিম মেরে বসে থাকা যায়? এবার নড়াচড়া করা দরকার। এতো পুরাতন বিয়ের বিষয়টা নিয়ে লম্বা রিয়াকশন কিভাবে দিবে ?
কিন্তু এখন ওর প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে! কিরণের হতভম্ব মুখটার দিকে তাকিয়ে একটু সহজ হলো কিয়ারা। এবার যাহ হবার হবে। এখন একটু নড়াচড়া করার দরকার নাহলে পা ঝিম ধরে যাবে। এই ভেবে দ্বিধা কাটিয়ে কিয়ারা সহজ গলায় বললো...
ঃ- কিরণ এক জায়গায় বসে থাকতে থাকতে আমার পা অবশ হয়ে গেছে বোন । তোরও নিশ্চয়ই হয়েছে ?.. একটা কাজ করি চল, দুজন ফ্রেশ হয়ে,খাওয়া-দাওয়া করে, তারপর আবার এসে সেইম দুঃখী দুঃখী পোজ নিয়ে এভাবে সন্ন্যাসী সাধুর মতো ধ্যানে বসবো কেমন। শরীরে তখন ভালো এনার্জি পাবো, তাও দয়া করে এখন আমাকে ছেড়ে দে বোন।
কিয়ারার কথা গুলো যেন আরো আগুনে ঘি ঢালার কাজ করলো, কিরণ ওর এই কথা শুনেই হঠাৎ করে হামলে পরল কিয়ারার উপর।পাশ থেকে কুশন টা নিয়ে এলোপাথাড়িভাবে মারতে শুরু করলো কিয়ারা কে । হাতের কুশনটা দিয়ে কিয়ারার মুখের উপর চেপে ধরে তেজি গলায় বললো..
ঃ- গর্দভ মহিলা! এতো বড় কান্ড ঘটিয়ে তোর এখন খাবার গেলা লাগবে ? এই ছেমরি!.. এতো গুলো দিন তুই এতো বড় ঘটনা টা পেটে রেখে খাবার হজম করলি কিভাবে রে ?.. টেনশনে আমি মরে যাচ্ছি আর তুই এখন খাবার এর কথা বলছিস?...
দু'হাতে জোর খাটিয়ে মুখের উপর থেকে কুশনটা সরিয়ে বড় বড় নিশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করা চেষ্টা করলো কিয়ারা। মনে হচ্ছে আর একটু হলেই দম বন্ধ হয়ে মরে যেত। শোয়া থেকে উঠে বসলো কিয়ারা, হাঁপাতে হাঁপাতে কিরণের দিকে রেগে তাকিয়ে বললো..
ঃ- অসভ্য মহিলা! কুশন চাপা দিয়ে আমার জামাইকে বিধবা বানানোর ষড়যন্ত্র করিস তাই না? মরলে তো আমি মরবো! বউ হারালে আমার জামাই হারাবে, তোর কি? তুই তো আর কিছু হারবি না! ও মাগো! কতো বড় ষড়যন্ত্র৷ ভাগ্যিস গায়ে জোর থাকায় আজ একটুর জন্য আমার জামাই বিধবা হওয়ার থেকে বেঁচে গেল। ইশশ বেচারা জামাই টাহ, বউ দেখার আগেই বিধবা হয়ে যেত।
কিয়ারার এমন কথা শুনে কিরণ ওর দিকে তেড়ে এসে ওর বাহু চেপে ধরে আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে বললো...
ঃ- উল্টা-পাল্টা কথা বলবি তো আমি সোজা গিয়ে ভাইয়াদের কাছে বিচার দিব তোর নামে। বলে দিব তুই লুকিয়ে বিয়ে করে নিয়েছিস। তারপর কি হবে ভেবেছিস? তোকে কে বাঁচাবে বড়দের হাত থেকে হু হু? তখন ডাকিস তোর ঐ অচেনা, অজানা, নাম না জানা জামাইকে। সে বাঁচাবে তার বউকে সবার হাতের গণধোলাই খাওয়া থেকে কেমন? আমি বরং বলে দেই সবাইকে। কি বলিস? আর ওটা বিপত্নীক হবে বিধবা নয় গাঁধী।
কিরণের হুমকি স্বরুপ কথায় চুপসে গেল কিয়ারা। ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেল মূহুর্তেই। পরিবারের বড়দের জন্যই তো বিয়ের বিষয়টা এতোদিন যাবত লুকিয়ে রেখেছিল কিয়ারা।
এখন কিরণ বুঝি সেই ভয়টাই বুঝে ওর বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে ওকে ভয় দেখিয়ে। কিয়ারা অপরাধী মুখ করে ওর দিকে তাকিয়ে ভয়ার্ত গলায় বললো..
ঃ- এভাবে ভয় দেখাচ্ছিস কেন? তুই না আমার বোন+বেস্টফ্রেন্ড লাগিস। তাহলে এভাবে মীর জাফরের মতো কাজ করবি আমার সাথে?..তোর একটুও মায়া নেই আমার জন্য?..
ঃ- এই মহিলা!.. একদম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করবি না, অবশ্যই করবো! হাজারবার করবো! কেন করবো না তুইই বল? তোর কী কোন ধারণা আছে তুই কতো বড় ঝামেলায় ফেঁসে গেছিস?
বিয়ে কি কোন ছেলেখেলা?
তুই আধার রাতে কাকে বিয়ে করেছিস তাও জানিস না। ভালো মানুষ বিয়ে করেছিস, নাকি চোর-ডাকাত, লুচ্চা, বদমাশ, নাকি বিবাহিত কোনো পুরুষকে বিয়ে করেছিস তাও বলতে পারছিস না। এখন আবার বলছিস নাম-ঠিকানা সেটাও জানিস না, যাহ তাও মানলাম কিন্তু শেষে কি বললি এটা?..
যাকে বিয়ে করলি তার চেহারাটাও নাকি ভুলে গেছিস দীর্ঘদিন না দেখায়। এটা কোনো কথা? একেতো বিয়ের মতোন এতো গুরুত্বপূর্ণ বিয়ের বিষয়টা লুকিয়ে-চুরিয়ে করে ফেলেছিস। লোকটার নাম-ঠিকানা না জেনে অপরাধ তো করেছিসই, এখন আবার অজ্ঞাত স্বামীর চেহারা টাও ভুলে গেছিহ । মানে সিরিয়াসলি কিয়ারা ?..
তোর আইডিয়া আছে এই বিয়ের জন্য তোকে সামনে কতোটা সাফার করতে হবে? জীবন এতো সহজ? লোকটা যদি বিবাহিত খারাপ লোক হয় তখন কি করবি তুই? হুট করে যে বিয়ে করে নিলি, আমাদের সমাজে ডিভোর্সির মানে বুঝিস? তুই স্বামী সংসার করিসনি, বা তোর কোন পরিস্থিতিতে বিয়েটা হয়েছিল সেটাও কেউ দেখবে না। বরং সবাই তোর দিকে আঙ্গুল তুলে বলবে তুই ডিভোর্সি। বিয়ের আগে একটা মেয়ে যদি দশটা ছেলের সাথে হারাম প্রেম করে, হারাম ভাবে শরীর বেঁচে দেয়, তাঁকে আমাদের সমাজে কলঙ্কিনী বলে না বরং বয়সের দোষ বলে চালিয়ে দেয়।
অথচ একটা ভালো মেয়ে যদি আল্লাহর পবিত্র কালিমা পরে একজন পুরুষের সঙ্গে দুইদিন সংসার করে এবং সংসার ভেঙ্গে যায়। তাহলে সবাই মেয়েটাকে অপরাধী বলে, তাঁর দিকেই আঙ্গুল তুলে কলঙ্কিনী বলে দাবি করে। অথচ বিয়ে আর তালাক দু'টোই কিন্তু ইসলামের শরীয়তে হালাল। এখন তুই বল তোর সাথে আমার কি করার দরকার।
তুই আমার বোন বিদায় আমার কলিজা জ্বলছে এই ভেবে যে, এই সমাজ তোকেও বিনা কারণে ডিভোর্স বলে কলঙ্কিনী বলবে। তবে এখন তার চেয়েও বড় কথা হলো তুই কোনো খারাপ লোকের চক্করে পরিস নি তো আবার।
লোকটার পরিচয় জানলে অন্তত খুঁজ নিতে পারতাম লোকটা কে?.. ভালো না খারাপ, বিবাহিত না অবিবাহিত। কিন্তু তুই তো সেটাও জানিস নাহ যেমন চুপিসারে বিয়েটা করেছিস ঠিক তেমন চুপিসারে ডিভোর্সটাও নিয়ে নিতাম ভাইয়াদের কে সবটা জানিয়ে। ইসলামে ছেলেদের একসঙ্গে চারটা বিয়ের হুকুম দিলেও মেয়েদের কিন্তু এই বিয়ের হুকুম দেয়নি ততক্ষণ যতক্ষণ না পযন্ত স্বামীর সাথে তার তালাক হচ্ছে বা বিধবা হচ্ছে মেয়েটি।
তুই বুঝতে পারছিস? তোর জীবন পুরোটায় আটকে গেল। ঐ লোকটাকে তালাক না দিলে তুইও লাইফে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবি না। আর পরিবারের বড়দের কাউকেও তো জানানো যাবে না তাহলে মেরেই ফেলবে। তুই যদি মনে করে থাকিস তোর গোপন বিয়ের খবর কেউ জানে না তাই চুপিসারে দ্বিতীয় বিয়েটা করে নিবি তাহলে তুই অনেক বড় পাপ করবি। প্রথম স্বামী থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে তো হবেই না উল্টো যিনাকারী মহিলা হিসেবে গণ্য হবি তুই।
কিরণের দীর্ঘ বক্তব্যে দমে গেল কিয়ারা। সত্যি বলতে কিয়ারা তো এতোটা গভীরে কখনো ভেবেই দেখেনি। ওর মাথায়ই আসেনি জীবনের আবার দ্বিতীয় বার বিয়ে করতে হবে। পরিবারের মেয়ে ওহ, ভবিষ্যতে একটা সময়ে একবার না একবার তো ওকে বিয়ের জন্য চাপ দিবেই সবাই। তখন কিয়ারা কি করবে?..
কিরণের কথার গভীরতা চিন্তা করতেই কান্না পেল কিয়ারার। তীব্র অপরাধ বোধে মিইয়ে গিয়ে ধরা গলায় বললো...
ঃ- আমি সরি কিরণ। আমি ভুল করে ফেলেছি। আসলে তখন এতো কিছু আমার মাথায় আসেইনি।আর সেদিন পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে ঐ সময় আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না। তীব্র ভয়ে ভুল করে ফেলেছি। এখন কি করবো?
কিয়ারার অশ্রুসিক্ত টলমল চোখের দিকে তাকিয়ে কিরণ কিছুটা শান্ত হয়ে বসল। চিন্তিত হয়ে ভারি নিশ্বাস ফেলে কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলল...
ঃ- কী আর করবি? যা করার তাতো আগেই করে ফেলেছিস। নিজের এতো বড় বিপদ বাঁধিয়ে চুপ করে আছিস এই ভয়ে যে পরিবারের বড়রা জানলে কি বলবে? অথচ তুই যে নিজের কতোবড় ক্ষতি করলি সেটা একটুও বুঝলি না। কারও কোনো ক্ষতি হয়নি, তুই নিজের ক্ষতি করেছিস কিরা। আল্লাহ তোকে একটু সুবুদ্ধি দান করুক। এটা কি করে ফেললি কিয়ারা।
ওর কথার তালে সত্যি সত্যিই কিয়ারা চুপ করে বসে আছে। কিরণকে কি বলা উচিত বুঝতে পারছে না। কিরণ ও খানিকটা চুপ থেকে আবার বলল...
ঃ- আমাদের লোকটাকে খোঁজা দরকার বুঝলি।
কিরণের কথার মানে তৎক্ষনাৎ বুঝলো না কিয়ারা। সেই অচেনা লোকটাকে এখন খুঁজে কি করবে ওরা ?.. আর খুঁজলেও বা পাবে কোথায়? কিভাবে খুঁজবে?.. লোকটার সম্পর্কে কিছুই তো জানে না ওরা। এসব ভাবতে ভাবতেই কিরণ কে বললো..
ঃ- কেন?
ঃ- কেন মানে?.. তোর ডিভোর্স নিতে হবে না লোকটার থেকে। নয়তো আমাদের পরিবার যখন তোর বিয়ে কথা বলবে অন্যকারও সাথে,, তখন কি করবি? এক স্বামীকে ডিভোর্স না দিলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তাই ডিভোর্সটা মাস্ট বি প্রয়োজন বুঝলি। নাকি অন্য কিছু ভাবছিস?..
কিরণের কথায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। কারণ ওর অচেনা স্বামীকে নিয়ে এই মূহুর্তে অনুভূতির চেয়েও বেশি ভয় কাজ করছে। কিয়ারা বললো…
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে ।
ওর সম্মতিতে কিরণ ফের প্রশ্ন করে বলল...
ঃ- কিন্তু লোকটাকে কিভাবে খুঁজে বের করবো? তুই তার নাম-ঠিকানা কিছু জানিস না। তাকে দেখলেও চিনবি না তুই। এমন অবস্থায় লোকটাকে খুঁজি কিভাবে বলতো? আমার মাথায় তো কিছুই আসছে না। তোর কাছে আইডিয়া আছে কোনো?..
—চলবে—
ইনশাআল্লাহ