ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (১ম খন্ড)

১০ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

পর্বঃ- ১০

🌿🌿🌿

কিয়ারা মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি দিয়ে বললো...

ঃ- নাহ

ওর কথায় কিরণ বেশ খানিকটা চটে গিয়ে শক্ত গলায় বলে...

ঃ- তাইতো তা থাকবে কেন? তোর কাছে আইডিয়া থাকলে তুই তো বুদ্ধিমতি হয়ে যাবি। তখন হবে আরেক সমস্যা, তাইনা?..

কিরণের রুক্ষ গলায় কিয়ারা মিনমিন করে বলল...

ঃ- রাগিস কেন? আমার কাছে আইডি না থাকলেও আমাদের কুবুদ্ধিমান বান্ধবীদের কাছে ভালো ভালো আইডিয়া পাবি। ওদের কে জিজ্ঞেস কর।

ওর কথায় দমে যায় কিরণ। হয়তো প্রস্তাবটা মনে ধরেছে ওর। কারণ এই বিপদ থেকে বের হতে ওরাই ওদের সাহায্য করতে পারবে। কিরণ খানিকটা থেমে চিন্তিত মুখে কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলল...

ঃ- তুই ওদের বিয়ের ব্যাপারটা জানাতে বলছিস? পরে যদি কোন সমস্যা হয়?..

ঃ- হুমমম! কোন সমস্যা হবে না। ওরা আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ড। কখনো ভিতরের কথা বাহিরে আনবে না। ইনশাআল্লাহ !..

ঃ- ওকে তাহলে চল! গোসল করে রান্না করি। কিছুক্ষণ পর ভাইয়ারা হসপিটাল থেকে খেতে আসবে এখনো রান্না-বান্না কিছুই হয়নি। সন্ধ্যায় ভাইয়ারা বাসায় না থাকলে ওদের সবাইকে গ্রুপ কল দিব কেমন। চল এখন তাড়াতাড়ি চল।

ঃ- আচ্ছা! ঠিক আছে চল।

--+--

সাত বান্ধবীর আসড় জমেছে একত্রে। ওরা সবাই হোয়াটসঅ্যাপ গ্ৰুপ ভিডিও কলে বসা। চুপচাপ মোটেও নেই তাঁরা কেউ। ওর বিয়ের বিষয়টা নিয়ে তোড়জোড় চলছে সবার মাঝে। বলতে গেলে একেক জন এতো বড় একটা শকট পেয়ে ক্ষেপা বাঘিনী হয়ে আছে কিয়ারার উপরে। ওর দোষ এতো বড় কান্ড ঘটিয়ে কেন কাউকে জানায়নি। পরিবারের বড়দের ভয়ে বলতে না পারেনি সেটা নাহয় ঠিক আছে কিন্তু ওদের অন্তত বলা দরকার ছিল।

তাই এখন ওকে নিয়ে প্রত্যেকের আহাজারি চিন্তার শেষ নেই। কিয়ারা আর কিরণ একত্রে ভিডিও কলে জয়েন করেছে কিয়ান ভাইয়ার ল্যাপটপ দিয়ে। বাকিরা সবাই যার যার বাড়িতে নিজ মোবাইলে জয়েন করেছে। এখন সন্ধ্যা সাতটার মতো বাজে। কিরণের কথা মতো ভিডিও কল জয়েন হয়েছিল আরও একঘন্টা মতন হবে। এতক্ষণ ওদের সাথে এই অনাকাঙ্খিত বিয়ের সকল বিষয়ে শেয়ার করা হয়ে গেছে। কিয়ারা কে একচোট ফ্রীতে সাবান ছাড়াই ধুয়ে দিয়েছে সবাই।

মনে মনে হয়তো সবাই একদফা মেরেও দিয়েছে।এখন বেশ চিন্তিত মুখে ভাবতে বসেছে কিয়ারার হারিয়ে যাওয়া স্বামী কে কিভাবে খুঁজে বের করা যায়। একেক জন্য একেক বুদ্ধি দিচ্ছে, কিন্তু কোনো বুদ্ধিই সেই লোকটাকে খুঁজে বের করার পথ বের করে দিচ্ছে না।

সবার মধ্যে কিয়ারা একটু জড়সড় ভাব নিয়ে বসে আছে। যেহেতু ও নিজেই সমস্যার মূল আসামী তাই আপাতত ওর বড় মুখ করে বসা উচিত নয়, এতে সবাই নিশ্চয়ই আরও ক্ষেপে যাবে ওর উপর। এমনিতেই ছোট খাটো একটা ঘুর্ণিঝড় ওর মাথার উপর ঝুলে আছে।

ওদের গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে চতুর মেয়ে হলো মাইমুনা! ফাজিল হলো রাফিয়া আর মেঘলা । সবচেয়ে পড়ুয়া মেয়ে সাফা, আর কিরণ ও বৃষ্টি সবচেয়ে বুঝদার। পরিস্থিতি অনুযায়ী সবাইকে বুঝিয়ে শান্ত করার ক্ষমতা ওদের আছে। আর কিয়ারা! সেটা না-হয় নাই বললাম। ওর গল্পে বুঝে যাবেন ও কেমন।

আচ্ছা যাই হোক! এবার মূল কাহিনীতে আসা যাক। গ্রুপ কলে সবাই লোকটাকে খুঁজে পাওয়া নিয়ে আলোচনা করছে। রাফিয়া সামনে থেকে কিয়ারার গো বেচারা মুখটাকে লক্ষ করে কিরণ কে উদ্দেশ্য করে ক্ষুব্ধ গলায় বলল...

ঃ- দোস্ত ওর থোবড়া খানার এই অবস্থা করে রাখছে কেন? আমারে কি ও এভাবে ইনোসেন্ট ফেস দেখিয়ে গলাতে চাইছে?.. অসভ্য মহিলা বিয়াডা করছে তো করছে, জামাইর নামডাও জানতে পারলো না। মন তো চাচ্ছে ইচ্ছা মতোন কতক্ষণ ধুলাই করি। এই কিরণ, তুই আমার হয়ে কয়েকটা ধুরূমধারুম করে লাগাতো এই বিয়াইত্তা বেডি রে । নাইলে আমার রাগ শান্ত হবে নাহ।

রাফিয়ার কথায় তৎক্ষনাৎ সায় দিল বাকী গুলো ও। কিরণের উদ্দেশ্যে বলল...

ঃ- হ্যাঁ রে কিরণ! আমাদের হয়েও দুটো দিস কিন্তু ওরে।

কিয়ারা গো বেচারা মুখ করে কিরণের দিকে তাকালো। কিরণ ওর অপরাধী মুখটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল টেনশনে। ওর বিষন্ন মুখটা দেখে সাফা কিয়ারার উদ্দেশ্যে বলল...

ঃ- কিরা রে! বান্ধুপি তুই কেমনে এই বিয়েটা করলি?চেনা নাই, জানা নাই, কেউ অপরিচিত লোককে অন্যের কথায় বিয়ে করে? আমিতো ভয়ে মরে যাচ্ছি, না জানি কোন বেডারে বিয়ে করেছিস তুই। উফফ লোকটা যদি কোনো নেশাখোর খারাপ লোক হয়? আর তোকে দেখে তার মন যদি বদল হয়ে যায়, ডিভোর্স দিতে রাজি না হয়?..তখন কি করবি তুই? আমরা কি করবো তখন?...

সাফার কথায় কিয়ারা আরো ঘাবড়ে গেল। কিয়ারা সেদিন রাতে লোকটাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পেয়েছিল। হয়তো কারও গাড়ীর সাথে এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় পরেছিল। তারপর আবার কাজি সাহেব ঐ লোকটাকে ভালো বলছিল না। খারাপ লোক বলেই পরিচয় দিচ্ছিল। হয়তো সন্ত্রাস টাইপের লোক হবে।

সাফার কথার কোন উত্তর কিয়ারা দিতে পারলো না টেনশনে। মনের মধ্যে তীব্র ভয় সৃষ্টি হলো অচেনা অজানা স্বামী নামক লোকটাকে নিয়ে। তখনই সাফার কথার উত্তর দিয়ে জুই শক্ত গলায় বলল...

ঃ- ডিভোর্স দিবে না মানে? অবশ্যই ডিভোর্স দিবে। আমাদের বোন আমরা এমনই ছেড়ে দিব মনে করেছিস? ওহ ছোট মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি, পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বিয়েটা করে ফেলেছে। এরমানে এই না লোকটার সাথে ওর সংসার করতে হবে। আমরা আগে লোকটাকে খুঁজে বের করবো , যদি তখন আমাদের কথায় ডিভোর্স দিতে রাজি না হয় তাহলে তখন নাহয় ভাইয়াদের সবটা জানিয়ে চুপিসারে ওর ডিভোর্স নিয়ে নিব ঝামেলা শেষ। আমাদের পরিবারকে এসব জানাবো না। ভাইয়াদের কেও রাজি করাবো, দরকার হলে পা ধরে ঝুলে থাকবো তাও যাতে বড়দের কাউকে না জানায় কিছু।

বৃষ্টি বলল

ঃ- সে না-হয় বুঝলাম! কিন্তু লোকটাকে কিভাবে খুঁজবো সেটাই তো বুঝতে পারছিনা। আচ্ছা কিরা তুই লোকটার মুখটাও কোন ভাবেই মনে করতে পারবি না, বা কোনো জায়গার নাম যেখানে লোকটাকে পেয়েছিলি?...

ঃ- নাহ! কিচ্ছু মনে নেই।

ওদের কথার মাঝে ফোড়ন কেটে মেঘলা বলল...

ঃ- জায়গার নামটা মনে আছে?.. সেখানে তুই লোকটাকে খুঁজে পেয়েছিলি?..

কিয়ারা মাথা নাড়িয়ে আবারও না' বলতেই আরও হতাশ দেখা গেল সবাইকে। খানিকটা সময় চুপ থেকে মেঘলা আবারও দ্রুত প্রশ্ন করল কিরণকে। বলল...

ঃ- আচ্ছা কিরণ কিয়ারার না-হয় মনে নেই ওর কোথায় ছেলেটার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। কিন্তু তোর তো মনে আছে তোরা সেদিন রাতে কোন জায়গায় কোন হোটেলে উঠেছিলি?..

কিরণ ভদ্রভাবে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলল...

ঃ- হ্যা মনে আছে আমার। গাজীপুরের একটা হোটেল উঠে ছিলাম। কিন্তু কেন?.. সেটা দিয়ে কী হবে?..

কিরণের কথায় যেন আশার আলো ফুটলো ওদের মুখে। তৎক্ষনাৎ উৎসাহে সহিত মেঘলা বলল...

ঃ- দারুন! এখন নিশ্চয়ই এটাও মনে আছে তোরা কিয়ারা কে সেদিন রাতে কোথায় খুঁজে পেয়েছিলি?..

ঃ- নাহ আমার এটা মনে নেই। অনেক আগের কথা জায়গার নামটা ভুলে গেছি। আর তাছাড়া সেদিন রাতে কিয়ান ভাইয়া আমাকে আর কায়রান ভাইয়া কে হোটেলে রেখে ওকে আনতে গিয়েছিল। এখন কিয়ারা বলতে পারবে জায়গার নামটা কি ছিল।

সবাই এবার একবুক আশা নিয়ে কিয়ারার দিকে তাকাতেই কিয়ারা সাথে সাথে বলে উঠলো...

ঃ- আমি তো জানি না সেই জায়গার নাম। সবকিছু অপরিচিত ছিল আমার কাছে। তারপর কিয়ান ভাইয়া আমি যেই নম্বর দিয়ে ফোন করেছিলাম সেটার লোকেশন ট্র্যাক করে আনতে গেছিল আমাকে সেদিন রাতে।

ওর এই কথায় চেতে উঠে মেঘলা বললো...

ঃ- কেউ আমারে বল একটু! এই গাঁধী মাইয়ার সাথে আসলে কি করা উচিত। আমার তো হেব্বি রাগ উঠতেছে উফফ!

পুনরায় সবার মুখে হতাশা নেমে আসলো। এতো বড় একটা জেলা কোথায় থেকে খুঁজবে সেই এলাকা যে এলাকায় আমি হারিয়ে গিয়ে ছিলাম। প্রত্যেকের হতাশা মধ্যে হঠাৎ কিয়ারা উৎসাহের সহিত বলে উঠলো..

ঃ- আমি জানি না তবে কিয়ান ভাইয়া বলতে পারবে সেই জায়গার নামটা কি। ভাইয়া সবকিছু চিনে।

কিয়ারার কথায় মেঘলা তৎক্ষনাৎ বলে উঠল...

ঃ- আরে বাহ! কিরা রানীর মাথায় দেখি ঘিলুও আছে দেখছি। এই কিরণ দ্রুত ওর ভাইয়াকে ফোন করে জায়গার নামটা জেনে নে তো।

কিরণ কিছু বলার আগেই রাফিয়া বলল...

ঃ- তুই ঐ জায়গার নাম দিয়া কি করবি? কাজটা কি?ওটা জেনে কি হবে?..

ঃ- পরে বলছি আগে কিরণ তুই ভাইয়ার থেকে জায়গার নামটা জেনে নে। কল দে ভাইয়াকে।

তারপর কিরণ বলল..

ঃ- আমি কিয়ান ভাইয়াকে ফোন করে বলবো কি? কি বলে জায়গার নামটা জিজ্ঞাসা করবো? ভাইয়া যদি জিজ্ঞেস করে এতোদিন পরে ওই জায়গার নাম কেন জানতে চাইছি তখন কি বলবো?..

পাশ থেকে মেঘলা কুবুদ্ধি খাটিয়ে বলল।।।

ঃ- তোর কিছু বলতে হবে কেন। যা বলার কিরাই বলবে। ওহ-ই ওর ভাইকে ফোন করে জিজ্ঞেসা করবে ওকে সেদিন রাতে গাজীপুরের কোথায় খুঁজে পেয়েছিল সেই নামটা বলতে। সমস্যা যখন ওর তাহলে ওকেই সাহায্য চাইতে হবে। আর ভাই যদি কিছু জিজ্ঞাসা করে তাহলে বলবে এসাইনমেন্ট দিয়েছে কলেজ থেকে 'এ মেমোরিয়াল ডে' উপর। ওর জীবনের স্মরণীয় দিন হিসাবে সেই দিনের কথা লিখতে চাচ্ছে এজন্য নামটা ওর চাই ব্যাস, কাজ হয়ে যাবে।

ওর কথায় সবাই সায় দিল। কিয়ারা সবাইকে ভিডিও কলে রেখেই কিয়ান ভাইয়াকে কল দিলো ৷ ভাই রোগী দেখায় ব্যস্ত ছিল। তবে ওর এতো দিন পরে ওই জায়গার নাম জিজ্ঞেস করাতে প্রশ্ন করেছিল কেন? কী দরকার হঠাৎ করে?.

কিয়ারা মেঘলার শিখানো কথা গুলোই বলে দিয়েছে। তার ফলস্বরূপ সফলও হয়েছে। কিয়ান ভাইয়া জায়গার নামটা বলতেই কিয়ারা কলটা কেটে দিলো এবং ওদেরকে জানায় গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের দিকে কোন এলাকায় ওকে খুঁজে পেয়েছিল ভাইয়া।

ওর এই কথায় মেঘলা সন্তুষ্টির সাথে বললো...

ঃ- দারুন! আমাদের অর্ধেক কাজ এখানেই শেষ হয়ে গেছে। কিয়ারাকে যদি কিয়ান ভাই গাজীপুরের, রাজেন্দ্রপুরের দিকে কোন এলাকায় খুজে পায়। তারমানে কিয়ারা সেই রাতে সেই এলাকার কোন বাড়ীতেই ছিল ঐ লোকটার সাথে। ওর বিয়েটা সেই এলাকার কাজি সাহেব দিয়েছিল। এখন আমাদের যে কাজটা করতে হবে সেটা হলো, আমরা তো গাজীপুর মানে এখানেই আছি।

এখন শুধু রাজেন্দ্রপুর এলাকায় যেতে হবে এবং সেই এলাকায় যতগুলো কাজি আছে সবগুলোর বাড়ি খুঁজে বের করতে হবে। আর আমাদের প্লাস পয়েন্ট হলো সেই কাজি মসজিদের ইমাম ও ছিল। এখন সেই পরিবারকে চিহ্নিত করতে হবে যে একসাথে কাজী আর মসজিদের ইমাম ও ছিল। তারপর কাজির কাছ থেকে আমরা কিয়ারার কাবিননামার একটা ফটোকপি নিয়ে আসবো।

কারণ সেই কাবিননামায় নিশ্চয়ই ওর অজ্ঞাত স্বামী অথাৎ ঐ অচেনা, অজানা লোকটার কোন নাম-ঠিকানা দেওয়া থাকবে। সেই ঠিকানা অনুযায়ী না-হয় আমরা লোকটাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো। কি বলিস তোরা?...

মেঘলার এমন চতুর বুদ্ধিতে সবাই উৎসাহের সহিত সহমত পোষণ করল। সেই সাথে একটা আশা ফিরে এলো যেন সবার মধ্যে। সিদ্ধান্ত নিল ওরা সবাই রাজেন্দ্রপুরে যাবে একসাথে।

কিন্তু তাতে মূল ঝামেলা হলো কিয়ারা আর কিরণ যাবে কিভাবে। ওদের বাসা থেকে তো এতো দূরে কোনদিন যেতে দিবে না। এখন বাসায় কীভাবে ম্যানেজ করবে । কি থেকে কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। তখনই মাইমুনা বলে উঠল...

ঃ- আরে দোস্ত চিল কর। এতো চাপ নিসনা। কিরার স্বামী খোঁজার বুদ্ধি যখন বের হয়েছে, তখন তোদের বাসা থেকে আসার একটা না একটা উপায় ঠিক বের হয়ে যাবে। এই কিরা একটা এ্যাক্টিং করে দেখা তো । ধর তুই ভাইয়াদের কে বলবি যে রাফিয়া এক্সিডেন্ট করেছে, অনেক অসুস্থ।

মানে জীবন-মরণ এর মাঝে ঝুলে আছে। আর যখনি ভাইয়ারা আসবে ওনাদের সামনে এমন ভাবে এ্যাক্টিং করবি যেন বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। দেখে যাতে মনে হয় দুদিন ধরে না খেয়ে আছিস ওর চিন্তায় নাওয়া খাওয়া সব বাদ দিয়ে শুধু গড়াগড়ি করে কাঁদবি। তোর দেখাদেখি কিরণ ও কাঁদবে ওর চিন্তা করার ভান ধরে। আর তখন বাধ্য হয়েই ভাইয়ারা তোদের আসতে দিবে রাফিয়া কে দেখার জন্য । বুদ্ধিটা কেমন দিলাম বল!..

কিরণ ওর এই কথা শুনে বলল..

ঃ- ভালো বুদ্ধিই দিয়েছিস। কারণ হুটহাট কেঁদে দেওয়ার গুণটা কিরার বেশ ভালোই আছে। তাই ও এ্যাক্টিং করলেও সত্যি সত্যিই মনে হবে।

~~

রাতে যখন ওদের ভাইয়ারা হসপিটাল থেকে বাসায় এলো তখন সবার পরামর্শ অনুযায়ী এ্যাক্টিং করা শুরু করলো কিয়ারা। কিরণের কথাই ঠিক হলো ওর এ্যাক্টিং দেখে বোঝার উপায় নেই যে ও এ্যাক্টিং করছে। ওরা সারারাত আর ঘুমাবো না এ্যাক্টিং চলতেই থাকলো। এভাবেই রাত শেষ হয়ে ভোর হয়ে গেছে ।

কিন্তু এর মধ্যে ঝামেলা হয় গেছে আবার, কিয়ারা আজ এই গোপন রহস্য কিরণের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গোসল করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। মাঝরাত থেকে জ্বর উঠেছে কিয়ারার। ওর অবস্থা বেগতিক দেখে ভাইয়ারা হসপিটাল এ নিয়ে গিয়েছে কিয়ারা কে সাথে কিরণ ও আছে। অসুস্থতার কারণে চোখ দু'টোও খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছিল না কিয়ারার ।

ওর আবার এই ভাবে হুটহাট জ্বরের বাতিক আছে। কায়রান ভাইয়া এসেই রোগী দেখায় ব্যস্ত হয়ে গেছে। কিয়ারা কে কিয়ান ভাইয়া ডক্টর দেখিয়ে বাহিরে বেরিয়ে এলো ডক্টরের কেভিন থেকে তখনো কিয়ারা বেহুঁশের মতো কিরণ ও কিয়ান ভাইয়াকে দুইপাশ থেকে ধরে হাঁটছে। কিয়ারার এমন বেহাল অবস্থার মধ্যেই কিয়ান ভাইয়া কাউকে সালম দিয়ে উঠলো....

ঃ- আসসালামু আলাইকুম ভাই।

ঃ- ওয়ালাইকুম সালাম! আরে কিয়ান যে!.. তা তোমার সাথে ওরা কারা ?...

অল্পস্বল্প পরিচিত কন্ঠের কথা শুনে বন্ধ চোখের পাতা খুলে তাকাতে চাইলো কিয়ারা। নিভে যাওয়া চোখে অল্প তাকাতেই চোখে পরল অল্পসল্প পরিচিত লম্বাটে একটা মুখ। এই মুখটা কিয়ারা আগেও বেশ কয়েক বার দেখেছে, কিন্তু কোথায় দেখেছে সেটা মনে করতে জ্বরের ঘোরে। এরিমধ্যে কিয়ান ভাইয়া লোকটার কথায় উত্তর করে বলে উঠলো...

ঃ- ভাই, আমার ছোট বোনটা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরেছে তাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আপনি এখানে কেন, আপনার কেউ হসপিটাল এ নাকি?...

ঃ- হ্যাঁ আমি এখানে একটা কাজে এসেছিলাম মাহাদ ভাইয়ের সাথে। তা তোমার বোনের কি হয়েছে?...

মাহাদ নামটা মস্তিষ্কে যেতেই অল্পসল্প পরিচিত লোকটাকে চিনে ফেললো কিয়ারা। ওও আচ্ছা এটা তো রাহুল ! মাহাদ খানের এসিস্ট্যান্ট ওরফে বডিগার্ড। তারমানে মাহাদ খানও কিয়ারার আশেপাশেই কোথাও আছে বিষয়টি মাথায় আসতেই আতঙ্কিত হলো কিয়ারা।

কারণ কাল সকালে কিয়ারা কে হুমকি দিয়েছিল লোকটা তার সামনে কোন ভাবেই যাতে না পরে কিয়ারা। অথচ চব্বিশ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ঘুরেফিরে আবারও লোকটার সম্মুখে এসে পরলো ও। সুস্থ থাকলে এখান থেকে দৌড়ে চলে যাওয়া যেত কিন্তু অসুস্থ বলে একা ঠিক করে দাড়াতেও পারছে না।

ধূর কি ভাবছে সুস্থ থাকলে কী আর এখানে আসতো মরতে?..

ওর এসব মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার মধ্যেই কিয়ান ভাইয়া রাহুল নামক লোকটার কথার উত্তরে বলল...

ঃ- আসলে ওর মাঝরাত থেকে হঠাৎ করেই ভীষণ জ্বর। সকাল থেকে অবস্থা একটু বেশি সিরিয়াস হওয়ায় আমি হসপিটাল এ আসার সময় আমার সাথে নিয়ে এসেছি।

কিয়ান ভাইয়া বাকি কথা শেষ করার আগেই কিয়ারা গা গুলিয়ে বমি করতে চাইলো কিন্তু এ্যাক্টিং এর চক্করে কাল রাত থেকে না খাওয়ার ফলে পেটে কিছুই নেই আর তাই বমিটা হলো না। ওর এই অবস্থা দেখে কিয়ান ভাইয়া বললো…

ঃ- কিয়ারা! এই কিয়ারা! কষ্ট হচ্ছে তোর? একটু বসবি?.. আমার কেভিনে চল!..

এই বলেই কিয়ারা কে তৎক্ষনাৎ কোলে তুলে নিয়ে নিজের কেবিন এর দিকে যেতে শুরু করল। কিয়ারার চোখে বুঁজে আসছিল দূর্বলতায়।

চোখ বন্ধ করার আগে চোখে পরলো রাহুলের ঠিক পিছনে এসে দাড়ানো মাহাদ খানকে। উনি কেমন চোখ দুটো ছোট ছোট করে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে কিয়ানের কোলে থাকা কিয়ারার দিকে।

হয়তো ওর অসুস্থতা তার চোখে পরেছে কিন্তু এটাই বুঝে উঠতে পারছে যে, চব্বিশ ঘন্টা যেতে না যেতেই একটা মানুষ হঠাৎ করে আজ কিভাবে অসুস্থ হয়ে পরলো সেটা?

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন