#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ১৬
🌿🌿🌿
ঃ- কায়রা আপুর তো সেই ভাবে চলছে দিনকাল কী তাইনা আপুউউউউ?... নামিরা বলে উঠলো কায়রা কে উদ্দেশ্য করে…।
ঃ- মানে?.. তুমি এমন ভাবে বলছো যেন আপু আমাদের জন্য দুলাভাই ঠিক করেছে । আর তার সাথে আপুর দিনকাল হেব্বি চলছে।
ঃ- হ্যাঁ তাই তো!.. কিরা একদম ঠিক বলেছে। এই তোমরা সত্যি করে বলো এমন কিছু নাকি হুঁ?...
কিয়ারার কথায় তাল মিলিয়ে বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- হ্যাঁ রে তবে আর বলছি কি?.. আপুর তো বিয়ে ঠিক হয়েছে রে।
ঃ- কিহহহহহহহহ?... মানে কি বলছো তুমি এসব?..
ঃ- এই তুমি কি মজা করছো নামিপু ?...কবে হলো?..কখন হলো?.. কীভাবে হলো?.. আমাদের জানায়নি কেন কেউ?..
কিরণের কথার সাথে একমত হয়ে বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ রে আমি সত্যি বলছি, বিশ্বাস নাহলে তুই আপুকেই জিজ্ঞেস করে দেখ না?.. কথাটা
বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- এই আপাই!.., নামিপু কি সত্যি বলছে ?.. আমি ঠিক শুনছি তো ?.. এই চুপ করে আছো কেন তুমি কিছু বলো?.. কায়রার উদ্দেশ্যে বলল কিয়ারা।
ঃ- এই কিরা তুই দেখছিস না যে, আমাদের প্রিয় কায়রা আফা লজ্জায় লাল নীল হয়ে গেছে। তারমানে কী দাঁড়াল?..যে নামিপু সত্যি কথাই বলছে। অলরাইট?..
ঃ- আলহামদুলিল্লাহ!.. আলহামদুলিল্লাহ!..
অবশেষে একটা বিয়ে খেতে যাচ্ছি আমরা। তা এটা ভাইয়ারাও যানে না ?.. নাকি শুধু আমাদের দুজনকেই জানানো হয়নি?..বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- হ্যাঁ আমার প্রিয় বোনুরা!.. সবাই জানে এই সুখবর টা শুধুমাত্র তোমারা দুজনে জানতে না। আর ভাইয়ারা না জানলে কথা আগাতো নাকি অবশ্যই ভাইয়ারা জানে। বলল নামিরা।
ঃ- তাহলে এতো বড় কথাটা আমাদের দুজনকে জানানো হয়নি কেন?.. আর এই জন্যই ভাইয়ারা দুজনেই এসেছে। নাহলে আমাদের তো একজনই নিয়ে আসতে পারতো। এবার সব কিছু বুঝতে পারছি কিন্তু সবার কথা বাদ দিলাম নাহয় তবে তোমরা দুজনেও আমাদের সাথে মীর জাফরের মতো কাজটি করতে পারলে?.. আপাই আমি তোমার মায়ের পেটের আপন বোন তো ??.. না মানে আপন বোন হলে কি এতো বড় কথাটা আমাকে না বলে পারতে বলো ?..?... কথাগুলো বলে উঠলো কিয়ারা।
ওর এই কথা শুনে কায়রা বলে উঠলো…
ঃ- এই কিয়ু!..একদম আজেবাজে কথা বলবি না খবরদার। আমার বিয়ের খবর আমি নিজেই কি করে দিতাম তোকে ?.. আমার কী শরম নাই নাকি বোনু?..
ঃ- হ্যাঁ সেই তো!.. আমাদের প্রিয় কায়রা আপুর কী শরম নাই নাকি বল ?.. যে উনি নিজেই আমাদের বলবে?..
দুষ্টুমি করে বললো কিরণ। ওর এই কথায় উত্তর দিয়ে কিয়ারা বলে উঠলো…
ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ তাইতো!... আপাই এর অনেক শরম তাই বলতে পারেনি। কিন্তু এই নামিপু!.. তুমি কেন বললে না। নাকি তোমার ও লজ্জা করছিল?..হু হু?..
ঃ- এই কিয়ু!.. তুই কি বলছিস হ্যাঁ?.. আমি কেন লজ্জা পেতে যাবো?.. বিয়ে কী আমার ঠিক হয়েছে?.. বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- আরে নাহ!.. তোমার কেন হবে। কিরা বুঝিয়েছে তুমি যদি নতুন নতুন শালি হবে এই খুশিতে লজ্জা পেয়ে আমাদের বলতে পারনি । কি কিরা তুই সেটাই বুঝিয়েছিস তাইনা?..
কথাটা বলে উঠলো কিরণ, কিয়ারা কে উদ্দেশ্য করে।
ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ সেটাই বলেছি বাবা!..
তোমরাও না কিচ্ছু বুঝতে চাওনা ধূর।
~~~~~~~”+”~~~~~~~
মাহাদের পার্টি অফিসে…..
ঃ- ভাই মহেজ সাহেব তো আমাদের কে ভাবীর সম্পর্কে কোন তথ্যই দিতে পারলো না। এখন তাহলে কিভাবে ভাবী কে খুঁজে বের করা যাবে?.. আমরা কিভাবে খুঁজবো তাকে।
রাহুল বলে উঠলো মাহাদ কে উদ্দেশ্য করে। ওর এই কথা শুনে মাহাদ বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো তারপর বলে উঠলো..
ঃ- মহেজ সাহেব তো আমার কোনো কাজেই আসলো নাহ । তুই আবার রাজেন্দ্রপুরে যাবি তারপর উনাদের বাড়িতে যতো গুলো ফোন পাবি প্রত্যেকটি সিমের নাম্বার নিয়ে আসবি। এনে সেগুলোর কল ডিটেইলস চেক করবি। ৩/৩/২০১৮ ইং তারিখের রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে যত কল আছে। আর বিশেষ করে ঐদিন আমাকে পিকআপ করে নেওয়ার জন্য তোকে যেই নাম্বার থেকে মেসেজ দিয়েছিলাম, মাস্ট বি ঐ নাম্বারটা খুব ভালো করে চেক করবি। এখন যাহ তুই।
তারপর রাহুল চলে গেল মাহাদের দেওয়া কাজ সম্পন্ন করতে। এদিকে মাহাদ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে অফিস থেকে বেরিয়ে এলো।
মাহাদ খান বাড়ির মেইন গেট দিয়ে ঢুকে বাড়ির গ্যারেজে নিজের গাড়ি টা পার্ক করে এলো। তারপর বাড়ির মেইন দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর মেইন ডোরের কলিং বেল চাপলো। কলিং বেল শুনে কাজের মেয়ে লতা এসে দরজা খুলে দিল। কাজের মেয়ে লতা দরজা খুলে মাহাদ কে দেখে সালাম দিয়ে চুপচুপ একপাশে সরে গেল।
মাহাদ লতার সালামের উত্তর দিয়ে ড্রইং রুমে এসে দাঁড়ালো। দেখলো বাড়ির ছোট সদস্যরা সব ড্রইং রুমে বসে একসাথে মুভি দেখছে । ওদের দেখে মাহাদ বলে উঠলো..
ঃ- কি হচ্ছে এখানে?...
হঠাৎ করেই মাহাদের গলা শুনতে পেয়ে ওরা সবাই লাফিয়ে উঠলো। মানাফ বলে উঠলো…
ঃ- আরে বড় ভাইয়া তুমি এতো তাড়াতাড়ি ফিরলে আজ?.. তুমি তো তোমার ফ্ল্যাটেই বেশি থাকো। আজ হঠাৎ করে আসলে যে !..
ঃ- তো কি হয়েছে?.. আমি কী আসতে পারিনা নাকি?.. আর তোরা এমন রিয়েক্ট করছিস যেন তোরা কোন ভূত দেখেছিস।
ঃ- আরে না ভাইয়া!.. তেমন কিছু না। আসলে তুমি তো হঠাৎ করেই এসেছো তাই সবাই একটু চমকে উঠলাম। মাহাদের কথার উত্তরে বলে উঠলো মায়ান।
ঃ- বাকিরা সবাই কোথায়?..
ঃ- চাচ্ছু তো এখনো আসেনি। আর দাদা দাদী ফুপুদের বাসায় গিয়েছে। বাবা চাচ্ছুর সাথে গিয়েছে। আর মা তার রুমে আছেন। মাহাদের প্রশ্নের জবাবে বলে উঠলো মুক্তা।
ঃ- ও আচ্ছা!.. কিন্তু দাদা দাদী হঠাৎ করে ওখানে কেন গেলেন?...
ঃ- সেকি ভাইয়া তুমি জানো নাহ ?..নাঈম ভাইয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে যে !... বলে উঠলো মানাফ।
ঃ- কী?.. কবে হলো আমাকে তো বললো না কেউ।
ঃ- তোমাকে তো পাওয়াই যায় না, তাই হয়তো বলতে পারেনি। ওর কথার উত্তরে বলে উঠলো মানাফ।
ঃ- ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।
এই লতা আমাকে একটা ব্লাক কফি দিয়ে যা।
এই বলেই মাহাদ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে চলে গেল।
ঃ- লতাপু যাও যাও !..
তাড়াতাড়ি ভাইয়া কে তার কফি দিয়ে এসো। নাহলে ভাইয়া রেগে যাবে। লতার উদ্দেশ্যে বলল মিরা।
ঃ হে হে ঠিকই বলছো মিরাদি। আমি এক্ষুনি যাইতাছি। মাহাদ ভাইয়ের বেলাক কপি নিয়া।
এই বলে লতা তড়িঘড়ি পায়ে কিচেনের দিকে এগিয়ে গেল।
~~~
তিনটি ফ্লোরে মোট চব্বিশটি রুম নিয়ে তৈরি এই খান বাড়িটি। প্রতিটা ফ্লোরে আটটি করে রুম রয়েছে। বাড়ির বড়োরা সবাই নিচতলায় থাকে। আর ছেলেমেয়েদের সবাই তারা উপরে দুতলায় থাকে ।
তবে শুধু মাহাদের রুম হচ্ছে তিন তলায়। আর তিন তলার বাকী রুম গুলো গেস্ট রুম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিছুক্ষণ পর মাহাদ এর রুমে লতা গিয়ে কফি দিয়ে এসেছে। মাহাদ কে ডিনার এর জন্য ডেকেছিল কিন্তু মাহাদ যায়নি, খাবেনা বলেছে।
আর কিছুক্ষণ বাদেই মাহাদ নিচে নেমে আসলো । নিচে এসে দেখলো মাহাদ আর মানাফ ক্যারাম খেলছে। ওকে বাহিরে যেতে দেখে ডেকে উঠল মানাফ …
ঃ- ভাইয়া এতো রাতে তুমি এখন আবার কোথায় যাচ্ছো ?... এই কয়েক ঘণ্টা আগেই তো আসলে।
ঃ- আমি আমার ফ্ল্যাটে যাচ্ছি । আর ভালো কথা আমার তখন খেয়াল ছিল না, তুই তো মায়ের কাছে ঢাকায় ছিলি । এখানে কখন আসলি?..
ঃ- আমি আজ বিকালে এসেছি। নাঈম ভাইয়ার বিয়ে নাকি আমাদের এই বাড়িতেই হবে। এটা দাদা দাদী ঠিক করেছে শুনলাম আর এটার জন্যই হয়তো দাদা দাদী ফুপুদের বাসায় গিয়েছে।
ঃ- ওহ আচ্ছা ভালো!... আমি আসছি এখন তাহলে।
এই বলেই মাহাদ বাহিরের দিকে এগিয়ে গেল। বাহিরে এসে গ্যারেজ থেকে নিজের গাড়ি টা বের করে, চলে গেল নিজের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে।
তিনটি ফ্লোর নিয়ে তৈরি এই ভবন টি। নিচতলায় পার্টি অফিস বানিয়েছে , আর দ্বিত্বীয় তলায় দলের ছেলেরা থাকে। আর উপরে তৃতীয় তলা পুরোটা নিয়ে তৈরি মাহাদ এর নিজস্ব ফ্ল্যাট।
………..”পরদিন সকালে পার্টি অফিসে”............
রাহুল একটি কাগজ এনে রাখলো মাহাদ এর টেবিলের উপর। তারপর মাহাদ এর উদ্দেশ্যে বলল…
ঃ- ভাই এই নিন সকল কল ডিটেইলস এর লিস্ট। আপনি যেভাবে বলে দিয়েছিলেন, সেভাবেই চেক করেছি। এখানে ঐদিন শেষ রাতে দেড় ঘণ্টা ধরে এই মার্ক করা নাম্বারে একটানা কল করা হয়েছে।
ঃ- গুড, ভেরি গুড!.. এটা কার নাম্বার, কোথায় কার নামে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে?.... এগুলো বের করেছিস ?...
টেবিলের উপর রাখা কাগজ টা হাতে নিয়ে তাতে চোখ বুলিয়ে নিল। তারপর রাহুলের দিকে তাকিয়ে বলল মাহাদ।
ঃজ্বী ভাই !... এটা কিয়ান চৌধুরী নামক একটি ছেলের নামে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে। আর এটা উত্তরার কোন যায়গা থেকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।
ওর কথা শুনে মাহাদ চুপ করে রইলো, হয়তো কিছু ভাবছে। কিছু মূহূর্ত পরে মাহাদ রাহুল কে বললো….
ঃ- ঠিক আছে!.. তাহলে এবার এই কিয়ান চৌধুরীর সব ডিটেইলস আমার চাই। আমার সিক্স সেন্স বলছে এর সাথে তোর ভাবীর নিশ্চয়ই কোন না কোন কানেকশন আছে। তাই এর সমস্ত তথ্য চাই আমার, কি করে, কোথায় থাকে, পরিবারে কে কে আছে?.. সবকিছুর ইনফরমেশন চাই আমার। এখন যাহ তোর কাজে লেগে পর।
ঃ- জ্বি আচ্ছা ভাই!.. আমি সব ইনফরমেশন নিয়ে আসছি।
এই বলে রাহুল চলে গেল।
এদিকে মাহাদ সবকিছু ভালোভাবে চিন্তা করে নিজে নিজে বললো….
ঃ- আমি যাকে সন্দেহ করছি সবকিছু তাঁর দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর আমি যদি শুধু একটা বার কানফর্ম হয়ে যাই, যে আমি যাকে সন্দেহ করেছি এটা সেই। যে আমাকে অসুস্থ জ্ঞানহীন অবস্থায় রেখেই পালিয়ে গিয়েছে। তাহলে তার কপালে শনির দশা নাচছে।
আমাকে বারবার মিথ্যা কথা বলেছেন। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আপনি অন্যের দেওয়া প্রেমপত্র নিয়েছেন। আমারই সামনে, আমারই বাড়িতে এসে অন্যের দেওয়া কোকাকোলা পান করেছেন। কিচ্ছু ভূলিনি আমি সব মনে আছে আমার। এতো গুলো ভূলের শাস্তি যে আপনাকে পেতেই হবে। কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
—চলবে—
ইনশাআল্লাহ