#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ১৭
🌿🌿🌿
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিচে নেমে আসলো কিরণ। এসে দেখলো বাড়িতে মানুষ জন দিয়ে ভরে গিয়েছে। বিয়ে উপলক্ষে সকল আত্নীয়-স্বজন আসা শুরু করেছে। ওদের ফুপিরাও তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলে এসেছে। কিরণ আরিয়া ও আরিফা কে দেখেই কিয়ারা কে ডাকতে শুরু করলো।
ঃ- কিরা!.. এই কিরা!.. তাড়াতাড়ি নিচে আয় মহিলা। তুই এখনো রুমে কী করছিস?.. ফ্রেশ হতে এতোক্ষণ লাগে?... দেখে যা কারা এসেছে। ওর চিল্লাচিল্লি শুনে কিয়ারা তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসলো। এসে কিরণ কে বললো...
ঃ- এই কী হয়েছে তোর?.. এভাবে ফাটা বাঁশের মতো চিল্লাচিল্লি করছিস কেন?..
ঃ- ঐদিকে তাকিয়ে দেখ!.. কারা এসেছে?.. কিয়ারা ওর ইশারা অনুযায়ী সেদিকে তাকিয়ে দেখলো আরিয়া দের কে। ওদের দেখে কিয়ারা ওর উপর বিরক্ত হয়ে গিয়ে বলল...
ঃ- সিরিয়াসলি কিরণ?.. তুই এই ঢংগি দের কে দেখানোর জন্য আমাকে এভাবে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে ডাকছিলি?...
ঃ- হ্যাঁ রে!... বাড়িতে এতো মানুষ জন আর তুই এখনো নিচেই আসিসনি। তাই তোকে ওভাবে ডাকছিলাম আর কি।
ঃ- ধেত্ !.. তুই জানিস যে ওরা যখনই দেখা হয় তখনই ঝগড়া করে। আমার পিছনে ওরা সারাক্ষণ লেগে থাকে। আর তুই কি না ওদের কে দেখানোর জন্য আমাকে এভাবে ডেকে আনলি।
ঃ- আরে এখন বিয়ে বাড়িতে, এতো মানুষ জনের মধ্যে নিশ্চয় ওরা তোর পিছনে লাগবে না।
ঃ- তাহলে তুই ওদের কে এখনো চিনতেই পারিস নি।
ওদের নিজেদের মধ্যে কথা বলার মধ্যেই হঠাৎ করেই পিছন থেকে কেউ ডেকে উঠল কিয়ারা কে।
ঃ- এই কিয়ারা!... কেমন আছো তুমি?..
কিয়ারা পিছনে ফিরে আরিয়ান কে দেখে আবার তড়িঘড়ি করে অন্যদিকে ফিরে গেল।
ঃ- হ্যাঁ এটারই বাকি ছিল।এখন যেন ষোলকলা পূর্ণ হলো।
এসে গেছে ছ্যাবলামি করার জন্য । মনে মনে বলে উঠলো কিয়ারা। আরিয়ান ওদের দিকে এগিয়ে এসে বলল...
ঃ- কি হলো?.. কথা বলছো না কেন কিয়ারা?.. বিরক্ত হচ্ছো?
.ঃ- আব্ না ভাইয়া তেমন কিছু না। আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া,ভালো আছি ভাইয়া। আপনি কেমন আছেন ভাইয়া?...
ঃ- হ্যাঁ ভালো আছি কিন্তু তুমি এভাবে কথার আগায় মাথায় ভাইয়া লাগাচ্ছ কেন?.. শুনে মনে হচ্ছে আমি তোমার মায়ের পেটের আপন ভাই। বিরক্তি নিয়ে বললো আরিয়ান।
ঃ- তোকে তো আমি কখনো আমার আসেপাশেও দেখতে চাই না। সেখানে নিজের ভাই বানানোর কোন প্রশ্নই আসে না। ফিসফিস করে বলল কিয়ারা।
ঃ- এই কিয়ারা!.. তুমি কি আমাকে কিছু বললে?.. বলে উঠলো আরিয়ান।
ঃ- আমমম্ না ভাইয়া !.. আমি তো কিছুই বলিনি।
ঃ- আচ্ছা থাকো। পরে কথা বলবো তোমার সাথে এখন কিয়ান দের সাথে দেখা করে আসি।
এই বলে আরিয়ান ওদের সামনে থেকে চলে গেল।
ঃ- হ্যাঁ তোর সাথে কথা বলতে আমার বয়েই গেছে। যত্তসব আদিখ্যেতা বলেই পাশ ফিরে দেখলো আরিয়া ও আরিফা ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আরিয়া ওদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো...
ঃ- কিরে কখন আসলাম অথচ তোরা কেউ গিয়ে কথা বললি না তো?...
.ঃ- কেন তোরা আসতে পারলি না কথা বলতে। বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আমরা তোদের বাড়িতে এসেছি সো তোরা যাবি আমাদের সাথে কথা বলতে। বললো আরিফা।
ঃ- কেন আমাদের ঠ্যেকা পরেছে?.. আর কোথায় লেখা আছে , যে তোরা আমাদের বাড়িতে এসেছিস বলে আমাদের আগে কথা বলতে যেতে হবে। আর তোদের ভাব দেখে তো মনে হচ্ছে আমরাই এখানে বেড়াতে এসেছি।
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আচ্ছা এবার থাম তোরা!.. একজন এসে কথা বললেই তো হয় । এটা নিয়েও এখন তোদের ঝগড়া করতে হবে?..
ঃ- এই কী বললি তুই?.. আমরা ঝগড়া করছি?.. আমরা করছি না ও করছে আমাদের সাথে?..
ঃ- এক হাতে কখনো তালি বাজে না। যাইহোক আমরা কায়রা আপুর রুমে যাচ্ছি। তোরা গেলে আসতে পারিস। এই বলে কিরণ কিয়ারা কে টেনে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। ওদের পিছন পিছন আরিয়া ও আরিফা ও এগিয়ে গেল। তখনই হঠাৎ পিছন থেকে ডেকে উঠল কেউ।
ঃ- এই তোরা সবাই এমন দল বেঁধে কোথায় যাচ্ছিস?..
ওরা পিছনে ফিরে দেখল আলিশা দাঁড়িয়ে আছে। কিয়ারা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো আলিশা কে। আর তারপর বলল....
ঃ- আলিশাপু তুমি কখন এসেছ?.. দেখলাম না তো।
ঃ- আমি এই মাত্র আসলাম। তা তোরা সবাই কেমন আছিস ?..
ঃ- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আমরা।
তুমি কেমন আছো আপু?.. বলতে বলতে এগিয়ে গেল কিরণ।
ঃ- আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। তা তোরা সবাই উপরে কোথায় যাচ্ছিস?.. সবাই তো নিচে।
ঃ- আরে না যার বিয়ে উপলক্ষে সবাই এখানে সেই তো এখানে নেই। উপরে নিজের রুমে ঘাপটি মেরে বসে আছে। তিনি লজ্জায় মুখ লাল নীল হলুদ করে বসে আছে। আমরা তার কাছেই যাচ্ছিলাম।
ঃ- ওও আচ্ছা!.. চল তাহলে আমিও যাই তোদের সাথে। এখানে মুরুব্বিদের মাঝে আমাদের কাজ নেই।
ঃ- আমরা তো উপরে আপুর রুমে যাচ্ছি আলিশাপু।বলল কিরণ।
ঃ- আচ্ছা আমিও যাবো তোদের সাথে। চল চল !.. বলল আলিশা ।
ঃ- ঠিক আছে চলো তাহলে।
এই বলে ওরা চলে গেল উপরে কায়রার ঘরে।
ঃ- এই যে হবু বউ!.. কী খবর আপনার?.. আপনাকে তো আজকাল দেখাই যায় না। হুঁ হুঁ, হবু স্বামী নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত নাকি?.. যে বোনেদের আর খোঁজ নেওয়ার সময় পাননি। তাইনা?.. বলল আলিশা।
ঃ- আরে এ কাকে দেখছি আমি!.. আলিশা তুই কখন আসলি?.. আলিশা কে জড়িয়ে ধরে বললো কায়রা।
ঃ- এইতো আসলাম কিছুক্ষণ হলো । তোকে খুঁজলাম কিন্তু ওরা বললো তুই নাকি লজ্জায় লাল নীল হয়ে ঘরে বসে আছিস। তাই ওদের সাথে আমিও উপরে চলে এলাম ।বলল আলিশা।
ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ ভালোই করেছিস। বাসায় এতো মানুষজন, আবার তাঁরা সবাই আমার বিয়ে উপলক্ষে এসেছে। এই জন্যই একটু আন ইজি লাগছিল তাই আর নিচে নামি নি রে !.. বলে উঠলো কায়রা।
ঃ- এই যে!... শুধু তোমারা দুজনেই কথা বলছো। বলি এবার আমাদের ও একটু সুযোগ দাও। বললো কিরণ ওদের উদ্দেশ্যে।
ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ!.. সেই কখন থেকে দেখছি তোমারা দুজনেই কথা বলেই যাচ্ছ তো বলেই যাচ্ছ। আমরাও তো কিছু বলতে চাই নাকি??..
কিরণের কথার সাথে তাল মিলিয়ে বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- এই থাম একটু বোন!.. আল্লাহ অনেক দিন পর দেখা হয়েছে। তাই একটু কথা বলছিলাম। বাবা গো বাবা!.. তোরা ওমনি কী শুরু করে দিলি রে!.. বললো আলিশা।
ঃ- কেন অনেক দিন পর কেন?.. আমাদের নাহলে কোন ফোন নেই কিন্তু তোমাদের দুজনেরই তো নিজস্ব ফোন আছে। তাহলে কি কথা হয়না তোমাদের?.. বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ হয় তো কথা। কিন্তু সামনাসামনি তো অনেক দিন পর দেখা হলো বল!.. আর ফোনে কথা বলা আর সামনাসামনি কথা বলা এক হলো নাকি?.. বলল আলিশা।
ঃ- হ্যাঁ সে ঠিকই কিন্তু তাও আমাদের একটুখানি সুযোগ দিবে তো ভাই। আমরাও তো অনেক দিন পরে বাসায় আসলাম। হুঁ হুঁ বল বল ?..
ঃ- এই তোরা কী শুরু করলি বলতো ?.. থাম এবার একটু। আর তোরা সবাই এখানে তাহলে নামিরা কোথায়?.. বলে উঠলো কায়রা।
ঃ- আমি এসে গেছি বোনুগনস্ !.. দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- তুই এসেছিস!.. এসেছিস ভালো কথা কিন্তু সাথে করে এই বিচ্ছু দুটো কে কেন আনলি?..বলল কায়রা ।
ঃ- আরে নিচে সব বড়দের মাঝে এই ছানা দুটো ঠোক্কর খাচ্ছিলো। ওদের দেখে আমার খুব মায়া হলো তাই সাথে করে নিয়ে এলাম। কায়রার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- এই আপুই একদম আমাদের অপমানস করবে না বলে দিলাম। বললো অমুক।
ঃ- হ্যাঁ ঠিক ঠিক!.. আর কিসের ছানা??.. কে ছানা??..কারা ছানা??.. আমরা এবার ক্লাস নাইনে পড়ি। তাই তুমি আমাদের এভাবে অপমানস করতে পার না আপুই। বলে উঠলো অমুক ।
ঃ- এই নামিপু!.. তুমি একদম আমার ভাইদের কে এভাবে কী যেন, হ্যাঁ অপমানস করবে না। আমার ভাইয়েরা অনেক বড় হয়ে গেছে, তাই তাদের কে তুমি এভাবে ছানা বললে ওদের প্রেস্টিজ লাগে। বুঝলে ?.. তাই খবরদার আমার ভাইদের আর ওসব বলো না তুমি। নামিরার উদ্দেশ্যে বললো কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ!.. তোর এই বড় বড় ভাইদের কে আমি আর ছানা বলে ইনচাল্ট করবো না। বলল নামিরা।
ঃ- বোনুই দেখো আপুই আবার আমাদের কে ভেঙাচ্ছে । বললো অমুক।
ঃ- এই আমি আবার কখন তোদের কে ভেঙালাম?.. বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- এই যে তুমি এই মাত্রই তো ইনচাল্ট বললে। এটা কি ভেঙানো নয়??.. বলে উঠলো অমুক।
ঃ- আচ্ছা হয়েছে!.. এবার তোরা থাম তো একটু। উফফফ বাবা একবার শুরু হলে আর থামাথামির কোন নামই নেই। বলল কিরণ। ওর কথা শুনে ওরা চুপ হয়ে গেল।
ঃ- আচ্ছা আমি ভাবছি অন্য কথা।
বলে উঠলো আরিয়া।
ঃ- তুই আবার কী ভাবছিস?.. ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কিরণ।
ঃ- কী আর ভাববে?.. কীভাবে অন্যের পিছনে লেগে থাকা যায় সব সময় সেটাই হয়তো ভাবছে। বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- এই তুই একদম খোঁচা মেরে কথা বলবি না বললাম কিন্তু। কথাটা বলে উঠলো আরিফা।
ঃ- কেন বললে কি করবি রে?.. আর আমি কী মিথ্যা কথা বলেছি নাকি?.. তোরা যে সুযোগ পেলেই আমার পিছনে লেগে থাকিস এটা সবাই জানে। বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- কেন তুই কি বিশ্বসুন্দরী নাকি?. যে আমরা সব সময় তোর পিছনে লেগে থাকবো?.. বলে উঠলো আরিয়া।
ঃ- আরে নাহ !.. ও হলো রানী এলিজাবেথ , আর তা না হলে প্রিন্সেস ডায়ানা । কথাটা বলেই আরিয়া ও আরিফা হেঁসে উঠল।
ঃ- যাক অবশেষে তোরা নিজেরাই স্বীকার করলি যে আমি সত্যিই বিশ্বসুন্দরী। কথাটা বলেই কিয়ারা দুষ্টু ভাবে হেসে উঠল। ওর এই কথা শুনে আরিয়া ও আরিফা কটমট করে তাকিয়ে রইল ওর দিকে কিন্তু আর কিছু বললো না। ওদের এভাবে রাগে ক্ষোভে ফুঁসতে দেখে আরো একটু কেরোসিন ঢালার মতো করে কিয়ারা আবার বলল...
ঃ- আর হ্যাঁ আর একটা সত্যি কথা বলি শোন!.. আমি যদি সত্যিই প্রিন্সেস ডায়ানা হই তাহলে তোরা হলি প্রিন্সেস ডায়নি । ওর এই কথা শুনে ওখানে থাকা সব গুলো খটখটিয়ে হেঁসে উঠল। ওদের সবাই কে হাসতে দেখে আরিফা বলল..
ঃ- এখন তোমরা হাসছো ?.. আর এতোক্ষণ তো চুপ করে শুনছিলে।
ঃ- তখন আমাদের হাঁসি পায়নি তাই চুপ করে ছিলাম। কিন্তু এখন বোনুই এর লাস্ট কথাটা শুনে ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে। বিশ্বাস কর, ভীষণ হাঁসি পাচ্ছে। বলে উঠলো মিশাল, আর ওর এই কথায় তাল মিলিয়ে সবাই আবার একসঙ্গে হেসে উঠলো।
আর সেটা দেখে আরিফা ও আরিয়া চোখ মুখ অন্ধকার করে বসে রইল।
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে!.. অনেক হয়েছে এবার তোরা থাম। ওদের সবার উদ্দেশ্যে বলল কায়রা।
ঃ- সে নাহয় থামলাম। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা!.. বলে উঠলো আলিশা।
ঃ- তুমি আবার কী ভাবছো এখন আপু ?.. বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- ভাবছি যে, আমরা তো আমাদের বোন কে যার তার সাথে বিয়ে দিতে পারি না। তাইনা বল তোরা?..
ঃ- হ্যাঁ সেটা তো বুঝলাম। তারপর বলো কী করবে এখন?.. বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- শোন আমরা যদি সবাই মিলে নতুন হবু দুলাভাই এর সাথে দেখা করতে যাই!.. কেমন হবে তাহলে ?.. বলে উঠলো আলিশা। ওর এই কথা শুনে আরিয়া বলে উঠলো..
ঃ- আমিও তখন এটাই বলতে চাইছিলাম। কিন্তু ঐই কিয়ারা টার জন্য বলতে পারলাম না।
ঃ- হ্যাঁ তোমাদের কথাটা তো ঠিকই আছে কিন্তু এখন আমরা নিচে গিয়ে যদি এই কথা টা বলি?.. তাহলে যাওয়া তো হবেই না উল্টো উনারা এক রাম ধমক দিয়ে উপরে পাঠিয়ে দিবে। বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ কিরা ঠিক কথাই বলছে । বড়রা কেউ রাজি হবে না। বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- তাহলে এখন উপায়?.. বলল অমুক।
ঃ- উপায় এখন একটাই। এটা বলার সাথে সাথেই সবাই কায়রার দিকে তাকালো। ওদের কে এভাবে নিজের দিকে তাকাতে দেখে কায়রা বলে উঠলো..
ঃ- কী?.. তোরা এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস কেন?.. খবরদার এর মধ্যে আমাকে ফাঁসাবি না কিন্তু। আমি এমন খুশির দিনে কারো কোন ধমক খেতে পারবো না। একটু দয়া কর ভাই!.. আর তাছাড়া তোরা দেখবি তোদের দুলাভাই কে। এখানে আমার কী কাজ ?..
খবরদার কেউ আমাকে ফাঁসাবি না। ওর এই কথা শুনে আলিশা বলে উঠলো.. দুলাভাই নাহয় আমাদের। কিন্তু জামাই টা কার ?.. আর বিয়ে টা কার সাথে হচ্ছে?..
ঃ- হ্যাঁ আমার সাথে হচ্ছে। আমার জামাই হবে। কিন্তু তাই বলে তোরা বলির পাঁঠা আমাকেই বানাবি?.. আমি না নতুন বউ?.. একটু তো দয়া কর তোরা?.. বলে উঠলো কায়রা।
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। যাও তোমাকে ছেড়ে দিলাম পাখি। কারণ আমার মনে হচ্ছে তুমি বললেও কোন কাজ হবে নাহ । বলে উঠলো নামিরা। ওর কথা শুনে আলিশা জিজ্ঞেস করল..
ঃ- তাহলে কার কথায় কাজ হবে?.. সেটা ফটাফট বলে ফেল দেখি নামু। বলে উঠলো আলিশা।
ঃ- শোন আমাদের আগে বড় ভাইয়াদের রাজি করাতে হবে। তাহলেই বড়রাও যেতে দিবে কোন সমস্যা হবে না। বলে উঠলো নামিরা।
ঃ- হ্যাঁ এটা ঠিক কথা কিন্তু এই অসাধ্য সাধন করবে কে শুনি?.. বলে উঠলো আরিফা। আর ওর এই কথা শুনে সবাই ভাবনায় পড়ে গেল। আসলেই ভাইয়ারা কখনোই রাজি হবে না। কিন্তু রাজি করাতেই হবে। কিছুক্ষণ ভেবে সবাই একবার চোখাচোখি করেই হঠাৎ সবাই কিয়ারার দিকে তাকালো।
ওদের কে এভাবে হুট করেই একসাথে ওর দিকে তাকাতে দেখে কিয়ারা ভরকে গেল। আর বলে উঠলো…
ঃ- অসম্ভব!.. এই খবরদার আমাকে বলির পাঁঠা বানাবে না তোমরা।
ঃ- সরি আপাতত তোর এই কথা টা মানতে পারছি নাহ। ভাইয়াদের কে তুই ই রাজি করাবি । কারণ তারা তোকেই বেশি আদর করে হুহহ । বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- হ্যাঁ ঠিক তাই!.. তাহলে ডিসিশন ফাইনাল। বললো নামিরা। এই বলে সবাই কিয়ারা কে বগলদাবা করে নিয়ে চললো ভাইয়াদের ঘরের উদ্দেশ্যে।
ওরা প্রথমে কায়রান এর ঘরে গেল। কিন্তু গিয়ে দেখলো কায়রান নিজের ঘরে নেই। তারপর সবাই আবার দল বেঁধে কিয়ান এর ঘরের দিকে এগুলো। আর তারপর কিরণ দরজায় নক করল..
ঃ- কিয়ান ভাইয়া আসবো?..
ঃ- হ্যাঁ আয় ।
বলে উঠলো কিয়ান আর তারপর ওরা সবাই ঘরে ঢুকে দেখলো কায়রান ও এখানে। ওরা দুই ভাই মিলে কিসের যেন হিসাব নিকাশ করছে। হয়তো বিয়ের বিষয়ে কোনো কিছু হবে। ওদের সবাই কে একসাথে দেখে কায়রান বলে উঠলো...
ঃ- কিরে ফাজিল এর দল !.. আজ হঠাৎ তোরা সবাই একসাথে ?.. কি ব্যাপার হ্যাঁ?... কোন মতলব আছে না কি?.. ওর এই কথা শুনে আলিশা রেগে কটমট করে তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো...
ঃ- বাই এনি চান্স আপনি কি আমাকেও ফাজিল বললেন?.. কায়রান ভাইয়াআআ?..
ঃ- আব, হ্যাঁ!.. আমি এখানের সবাইকে বলেছি। আর তুই যেহেতু সবার সাথেই এসেছিস । তারমানে কি দাঁড়ায়?..
ভ্রু নাচিয়ে বলল কায়রান। আলিশা ওর কথা শুনে দাঁত কিরমিরিয়ে বলল...
ঃ- আপনি, আপনি একটা...
ওকে ওর কথা শেষ করতে না দিয়েই আরিয়া বলে উঠলো..
ঃ- এই আপু তুমি একটু থামবে?.. আমরা যেটা বলতে এসেছি সেটা বলি আগে??..
ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ তাইতো!.. আর আপু তুমি এভাবে ভাইয়ার সাথে ঝগড়া করছো কেন?.. ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কিরণ।
ঃ- আচ্ছা তোরা চুপ করে থাক একটু প্লিজ। ভাইয়া আসলে একটা আবদার ছিল তোমাদের কাছে। দুই ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো কায়রা।
ঃ- হ্যাঁ বল না কি বলবি । আমি তো দেখেই বুঝতে পেরেছি যে সব কটা দল বেঁধে এমনি এমনি আসিস নি। বলে উঠলো কিয়ান।
ঃ- আসলে ভাইয়া আমরা মনে আমরা আর কি একটু...
ঃ- আরে ঠিক করে বলবি তো নাকি?.. খালি আমরা আমরা করে যাচ্ছিস ।
ঃ- আসলে আমরা একটু ঘুরতে যেতে চাইছিলাম আর কি। মাঝখান থেকে ফট করেই বলে উঠলো কিয়ারা। ওর কথা শুনে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে রইল। কিয়ারা যখন দেখলো যে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে তখন ও আবার মিনমিন করে বলল...
ঃ- না মানে নতুন হবু দুলাভাই কে নিয়ে আর কি হে হে।
কথাটা কোন রকমে বলেই হে হে করে হেসে দিল। সামনে তাকিয়ে দেখলো যে কিয়ান ও কায়রান ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। এটা দেখে কিয়ারা ভ্যেটকানো বন্ধ করে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। কিয়ান একবার ওদের সবাইকে দেখে নিয়ে বলে উঠলো..
ঃ- কি বললি?.. আবার বলতো ঠিক বুঝতে পারলাম না তোর কথা। ওর এই কথা শুনে কিয়ারা তো ভয়ে কাঠ হয়ে গেল। কিয়ারার অবস্থা দেখে কায়রা বলে উঠলো...
ঃ- আসলে ভাইয়া হয়েছে কি ওরা মানে আমি না মানে আমরা ...
ঃ- সম্ভব নয়। তোরা এখন আসতে পারিস। ওর কথা শেষ করতে না দিয়েই কিয়ান বলে উঠলো। কিয়ানের না বোধক উত্তর শুনে ওরা সবাই একসাথে বলে উঠল...
ঃ- প্লিজ ভাইয়া!.. তোমরা রাজি হয়ে যাও প্লিজ!.. আমরা একারা তো যাবো না তোমাদের সাথে যাবো । প্লিজ প্লিজ আর না করো না।
ওদের অনুনয় বিনয় শুনে কিয়ান বললো..
ঃ- যদিও আমরা রাজি হয়ে যাই । কিন্তু তাও বাসার বড়রা রাজি হবে নাহ। ওর এই কথা শুনে কিয়ারা বলল..
ঃ- তোমরা বললে অবশ্যই রাজি হয়ে যাবে। প্লিজ ভাইয়া তোমরা রাজি হয়ে যাও। দেখো আমাদের কি অধিকার নেই যে নিজেদের বোন কে কোথায় কেমন ছেলেথ সাথে বিয়ে দিচ্ছে সেটা জানার। প্লিজ রাজি হয়ে যাও। অবশেষে এতো অনুনয় বিনয় করার পর ওরা দুজনে রাজি হল ।
ঃ- ঠিক আছে যা মেনে নিলাম। বিকেলে তোরা সবাই তৈরি থাকিস। বড়োদের আমরা রাজি করিয়ে নেব। বলে উঠলো কিয়ান।
ওর এই কথা শুনে ওরা সবাই লাফিয়ে লাফিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সবাই কায়রার রুমে গিয়ে বসলো তারপর কে কী পোশাক পরবে সেগুলো ডিসাইড করতে লাগলো।
~~~~~~"+"~~~~~~~
এদিকে মাহাদ এর অফিস রুমে...
রাহুল এসে মাহাদের টেবিলের সামনে দাঁড়ালো। তারপর হাত থেকে একটা ফাইল মাহাদ এর টেবিলের উপর রেখে দিলো আর বললো...
ঃ- ভাই!..আপনার কথা অনুযায়ী কিয়ান চৌধুরীর সব ডিটেইলস বের করেছি। সব কিছু এই ফাইলে আছে। কিয়ান চৌধুরী নামক ছেলেটি ভাবীর বড় ভাই হয়। কিন্তু...
মাহাদ রাহুল কে থেমে যেতে দেখে বললো...
ঃ- এখানে আবার কিন্তু কিসের?... রাহুল বলল...
ঃ- ভাই আপনাদের হসপিটাল এর ডক্টরদের মধ্যে যে আপন চাচাতো দুই ভাই ডক্টর আছে না?..
ঃ- হ্যাঁ আমার মনে আছে। তো কি হয়েছে সেখানে?..
ঃ- আমাকে শেষ করতে তো দিবেন ভাই!.. সেই ডক্টরই ভাবীর বড় ভাই। কিয়ান চৌধুরী আর চাচাতো ভাই কায়রান চৌধুরী। তারা আপনাদের হসপিটাল এর দু'জন বড় ডক্টর।
ঃ- মানে বলতে চাইছিস তোর ভাবী আমার এতো কাছে থেকেও তাকে খুঁজে পেতে আমার এতো সময় লাগলো। তাইতো ?..?..
রাহুল হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ল। তারপর মাহাদ টেবিলের উপর থেকে রাহুলের দেওয়া ফাইল টা হাতে নিয়ে আস্তে করে খুললো। তারপর দুটো পেইজ উল্টাতেই তৃতীয় পেইজ এ মাহাদ এর চোখ আটকে গেল। দেখলো গোলাপী রঙের গাউন এর সাথে সাদা ওড়না পরিহিত কিয়ারা চৌধুরী।
মাহাদ যে এতো গুলো দিন ধরে নিজের অজান্তে অজ্ঞাত অবস্থায় হওয়া বউয়ের খোঁজ করছিল। আজ এতদিন পর ফাইনালি সে তার বউ কে খুঁজে পেল। মাহাদ আকৃষ্ট করে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল কিয়ারার ছবিটার দিকে। তারপর হঠাৎ করেই একে একে কিয়ারার সাথে ওর দেখা হওয়ার মুহূর্তগুলো মনে পরতে লাগলো। আর সেই মুহূর্তেই মাহাদ প্রচন্ড রাগে ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। আর নিজ মনে বলে উঠলো...
ঃ- অবাধ্য নারী!.. দেখা হওয়ার পর থেকেই আমাকে এক এর পর এক মিথ্যা বলেছেন। আমার হালাল নারী হয়েও অন্য পরপুরুষের প্রেমপত্র গ্ৰহন করেছেন । সব নাহয় মেনে নিলাম কিন্তু আমারই বাড়িতে গিয়ে আমার টাকায় কেনা কোকাকোলা অন্য পরপুরুষের হাত থেকে নিয়ে পান করেছেন।
ঠিক করেননি ম্যাডাম। একদম ঠিক করেননি, আমি বলেছিলাম আমার পরিচিত কেউ না হওয়ায় শুকরিয়া আদায় করতে। কিন্তু এখন আপনি শুধু পরিচিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কিন্তু এখন দেখছি আপনি তারচেয়েও বেশি কিছু হয়ে বসে আছেন।
—চলবে—
ইনশাআল্লাহ