#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ২৫
🌿🌿🌿
অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক অতিথিরা চলে এসেছে। কায়রার বাড়ির লোকজন ও মাত্রই চলে এসেছে। কিয়ারা রা গিয়ে সবার সাথে দেখা করে এসেছে। এখন কিরণ আর কিয়ারা কায়রার ফোন টা হাতানোর পায়তারা করছে। ফোনটা কায়রার সামনে স্টেজে রাখা আছে। এখন স্টেজে উঠে সেটা আনতে হবে। কিন্তু কথা হলো স্টেজে উঠে কে আনবে ফোনটা। কিরণ আর কিয়ারা একজন অন্যজন কে ঠেলছে।
ঃ- তুই যাহ!.. দেখ কিরা ফোন টা তোর দরকার। তাই তোকেই আনতে হবে। আমি পারবো না।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- আমার প্রয়োজন বলে যে আমাকেই আনতে হবে, এটা কোথায় লেখা আছে শুনি??..
আর আপাই যদি জিজ্ঞেস করে যে এখন ফোন টা দিয়ে কি করবো, তখন কি বলবো?..
বাসার কথাও তো বলতে পারবো না। কারণ বাসার সবাই এখানেই আছে।
বলে উঠলো কিয়ারা।
কিরণ ওর তাকিয়ে কটমট করে বলে উঠলো….
ঃ- ওওও আচ্ছা.!.. তোকে জিজ্ঞেস করবে আর আমি আনতে গেলে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না বুঝি?.. আর তাছাড়া এখন অনুষ্ঠান চলাকালে তোকে নিশ্চয়ই আপু পুলিশের মত জেরা করবে না। যাহ গিয়ে নিয়ে আয়। আমি আছি তোর পিছন পিছন।
এই বলে কিয়ারা কে ধাক্কা দিয়ে সামনে স্টেজের দিকে এগিয়ে দিল। তারপর আর কি … ওর প্রয়োজন তাই এখন ওকেই ঝড়ের মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে মাহাদ ও মাত্রই স্টেজে উঠে গিয়ে কায়রার সাথে কথা বলছে।
ঃ- তোমার সাথে এই নিয়ে আমার দ্বিতীয় বার দেখা হয়েছে। সব সময় এভাবেই হাসিখুশি আর আনন্দে থেকো। ও যদি তোমায় কোনো বিষয় কোনো প্রকার কষ্ট দেয় তুমি আমাকে বলবে। ঠিক আছে!.
ঃ- জ্বী ভাইয়া!. আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
কায়রা মৃদু স্বরে হেঁসে বলে উঠলো।
মাহাদ কায়রার দিকে একটা বেশ বড়সড় গহনার বক্স এগিয়ে দিল। আর তারপর বলল….
ঃ- এটা আমার তরফ থেকে তোমার জন্য একটা ছোট্ট উপহার। আসি আমার কাজ আছে। আবার পরে কখনো দেখা হবে।
এই বলে মাহাদ স্টেজে থেকে উঠে দাঁড়ালো। কায়রা গহনার বক্স টা খুলে দেখলো ওখানে একটা ডায়মন্ড নেকলেস সেট রয়েছে। যেটা অনেক সুন্দর। কায়রার খুব পছন্দ হয়েছে।
মাহাদ স্টেজ থেকে নামতে গিয়ে দেখলো কিয়ারা স্টেজের দিকে আসছে। ও ভ্রু কুঁচকে পিছনে ফিরে স্টেজের দিকে তাকালো। দেখলো স্টেজে নাঈমের কিছু বন্ধুরা উঠে কথা বলছে নিউ কাঁপলদের সাথে।
কিয়ারা যেই না মাহাদ কে ক্রচ করে যাবে মাহাদ সামনে নিজের পা বাড়িয়ে দিল। আর তারপর যা হওয়ার কথা তাই হলো। কিয়ারা এক প্রকার হুমড়ি খেয়ে মাহাদের গায়ের উপর পড়লো। সবাই তো দেখেছে যে কিয়ারা বেখেয়ালে পড়ে যেতে গিয়ে মাহাদের উপর পড়েছে। কিন্তু আসলে তো মাহাদ ইচ্ছে করে ওকে নিজের উপর ফেলেছে। মাহাদ কিয়ারার কোমর জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে উঠলো…
ঃ- এখন স্টেজে যাওয়া যাবে না। যেভাবে এসেছো সেভাবে ফিরে গিয়ে নিজের জায়গায় দাঁড়াও।
ঃ- আপনি আমার গার্ডিয়ান নন। আর আমি আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই। আমি তো এখনই যাবো। আপনি আমাকে ইচ্ছে করে ফেলেছেন যাতে আমি পড়ে যাই আর সবাই আমাকে দেখে হাসে। আপনি তো সবসময় আমাকে অপমান করার তালে থাকেন সেজন্য। কিন্তু আমি তো পড়লাম না। আর তাই আপনার প্লান টা আনসাকসেস হয়েছে। হুহহহ ছাড়ুন আমাকে!...
কিয়ারাও মাহাদের মতো ফিসফিস করে বলে উঠলো।
ঃ- ওখানে এখন নাঈমের বন্ধুরা আছে। তাই এখন কোনো ভাবেই স্টেজে যাওয়া যাবে না। আমি বলেছি যে না মানে না। আমার কথা টা কি বুঝা গেল??.. না কি আমার স্টাইলে বোঝাতে হবে?..
মাহাদ দাঁতে দাঁত চেপে বললো।
কিয়ারা এবার একটু ভয় পেলো। কিন্তু তাও ওকে নিজের জেদ বজায় রাখতে হবে। তাই বললো…
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। বুঝতে পেরেছি , এখন স্টেজে যাবো না। এবার ছেড়ে দিন।
ওর কথা শুনে মাহাদ গম্ভীর হয়ে ওর দিকে তাকালো। ও তো এতো সহজে মেনে যাওয়ার মেয়ে নয়। তাও ওকে ছেড়ে দিল। কিন্তু ছেড়ে দিয়েই হয়তো ভূলটা করলো। কিয়ারা এক ছুটে স্টেজে চলে গেল। ও জানেও না যে পিছনে ঘুমন্ত সিংহের কথা অমান্য করে তাকে জাগিয়ে দিয়ে এসেছে। আর এর জন্য যে ওকে কতটা সহ্য করতে হবে তার কোনো খেয়াল নেই ওর।
মাহাদ প্রচন্ড রেগে গিয়ে হনহনিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।
কিয়ারা স্টেজে গিয়ে কায়রার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। ওকে দেখে নাঈমের এক বন্ধু বলে উঠলো….
ঃ- কি রে নাঈম!.. এই সুন্দরী রমণী কে রে?.. তোর শালী নিশ্চয়ই।
ঃ- হ্যাঁ এটা আমার শালী। খবরদার কেউ নজর লাগাস না।
বলে উঠলো নাঈম।
ঃ- নজর তো লেগেই গেছে। এতো সুন্দরী শালী থাকলে নজর তো লাগবেই।
নাঈমের অপর এক বন্ধু বলে উঠলো।
ঃ- আপু থাকো তুমি। আমি ওদিকে যাই আর তোমার ফোন টা একটু নিলাম। এই বলেই কিয়ারা স্টেজ থেকে নেমে যাচ্ছিল।
পিছন থেকে নাঈমের অপর এক বন্ধু বলল…
ঃ- আরে আরে, সুন্দরী বেয়াইন তো কথা না বলেই চলে যাচ্ছে।
কিয়ারা ওদের কথার কোনো জবাব না দিয়ে ফোনটা নিয়ে হেঁটে কিরণের দিকে চলে এলো।
ঃ- তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। দেখলি আমি গিয়ে নিয়ে আসলাম। ভাব দেখিয়ে বলল কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ…হ্যাঁ আপুর রিসেপশন পার্টি বলে বেঁচে গেলি তুই। আচ্ছা দুলাভাই এর বন্ধুরা কী বলছিল?. তোকে দেখে।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- আর বলিস না। পাম দিচ্ছিল আমাকে। কিন্তু আমি কোনো উত্তর দেইনি। চুপচাপ চলে এসেছি।
ঃ- আচ্ছা এখানে তো কথা বলা যাবে না। চল অন্যদিকে যাই।
ওদেরকে এভাবে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখে আরিয়া ও আরিফা একে অপরের সাথে আলাপ করছিল।
ঃ- ওরা দুজন আবার কিসের প্লান করছে রে। ওরা কিছু একটা তো করছে।
ঃ- হ্যাঁ তুই ঠিকই বলেছিস। এখন বুঝবো কি করে যে ওরা দুজনে মিলে ফুসুরফুসুর করে কি খিচুড়ি পাকাচ্ছে।
ঃ- আচ্ছা চল ওদের পিছু নিই। দেখি কি করে। হাতে তো আবার কায়রা আপুর ফোনটাও দেখতে পাচ্ছি।
এই বলে ওরা দুজনেও কিয়ারা দের পিছু নিল।
কিয়ারা ও কিরণ কথা বলতে বলতে দুতলায় উঠে গেল। হঠাৎ করে পিছনে ফিসফিস আওয়াজ শুনে ওরা পিছনে ফিরলো। ওদের কে পিছনে ফিরতে দেখে আলিয়া ও আরিফা পিলার এর পিছনে লুকিয়ে গেল।
কিন্তু কিরণ বুঝে ফেললো যে ওদের কে কেউ ফলো করছে। তারপর এদিকে ওদিকে ভালো করে চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিল।
আর তখনই আলিয়ার শাড়ির আঁচল দেখে ফেলল। তারপর ও কিয়ারা কে ইশারা করে দেখালো। এই বাড়ির সব মেয়েরাই যেহেতু একরকম শাড়ি পরেছে। তাই এটা তো অন্য কেউ হতে পারে। তবে ওদের মনে হচ্ছে এখানে দুজন মানুষ আছে। আর তারা যে কারা হতে পারে সেটাও ওরা আন্দাজ করতে পারছে।
কিরণ আস্তে আস্তে করে পিলারের দিকে এগিয়ে গেল। আর তারপর হুট করেই শাড়ির আঁচলটা ধরে টান মারলো। আর দেখতে পেলো যে ওদের আন্দাজই সঠিক হয়েছে।
ঃ- কিরে তোরা এখানে কী করছিস?.. আবার চোরের মত এভাবে আমাদের পিছু নিচ্ছিলি কেন??... বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আব… আ…ম… আমরা তোদের পিছু কেন করতে যাবো। আমরা তো নিজেদের ঘরে যাচ্ছিলাম।
বলে উঠলো আরিফা।
ঃ- ওওও আচ্ছা তোদের ঘরে যাচ্ছিলি । ঠিক আছে ভালো কথা। কিন্তু… কিন্তু.. তোরা পিলারের পিছনে লুকিয়ে ছিলি কেন??... বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আমরা…মানে আমরা… ইয়ে মানে…ইয়ে…ওই আর কি… ইয়ে…
বলে উঠলো আরিফা।
ঃ- কি ইয়ে মানে ওই আর কি লাগিয়ে রেখেছিস???... তোরা আমাদের ফলো করছিলি??...
ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কিরণ।
ঃ- হ্যাঁ করছিলাম। তো কি হয়েছে??... আর তোরা দুজনে এতো কি ফুসুরফুসুর করছিলি??...
বলে উঠলো আরিফা।
ঃ- হ্যাঁ আর তোরা ফোন দিয়ে কি করছিস??.... কায়রা আপুর ফোন তোদের কাছে কি করছে??... বলে উঠলো আরিয়া।
ঃ- আমরা ফোন দিয়ে কি করছি সেটা তোদের কে কেন বলতে হবে ??... যাহ এখান থেকে??.. আর আমরা প্রেম করছি। তোরা করবি??.. তাহলে আয়।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- কীহহহহহহহহ?.... আমি এক্ষুনি গিয়ে বলছি ফুপাদের কে দাঁড়া তোরা??... বলে উঠলো আরিয়া।
ঃ- হ্যাঁ যা…যাহ এক্ষুনি গিয়ে বলে আয়। তবে সাবধান!.
প্রমান দেখাতে না পারলে কিন্তু তোরাই উল্টো ফেঁসে যাবি।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- এই ও ফাজলামো করছে। তোরা যা তো ভাই!.. এমনি এনেছি। ওখানে ওতো মানুষের মধ্যে আমার ভালো লাগছিল না। তাই আপাই এর ফোনটা নিয়ে এসেছি।
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- তো এতোক্ষণ ধরে এতো নাটক করার কী দরকার ছিল??... যত্তসব ঢং….
বলে উঠলো আরিফা।
এই বলে মূখ ভেংচি কেটে ওরা দুজনে ওখান থেকে চলে গেল।
ঃ- দেখলি… কি করলো ওরা?.. এখন যদি আমরা খেয়াল না করতাম, তাহলে তো ওরা সব শুনে নিতো। আর তারপর যে কি হতো সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- হ্যাঁ… তা তো তুই ঠিকই বলেছিস। আর আমরা খেয়াল করেছিলাম বলেই এই যাত্রায় বেঁচে গেলাম। এখন যার জন্য এসেছি সেটা করি চল। তাড়াতাড়ি চল…!..
বলে উঠলো কিয়ারা।
তারপর ওরা দুজনে সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় চলে এলো। কিয়ারা ফোনে মহেজ সাহেবের নাম্বার টা উঠিয়ে বিসমিল্লাহ্ বলে কল দিল। আর এইবার হয়তো আল্লাহ ওদের দিকে মূখ তুলে তাকিয়েছেন। তাইতো প্রথম বারেই কলটা ঢুকে গেল। কিন্তু কেউ রিসিভ করলো না।
ঃ- ধূর বা*… এতো দিন ধরে তো ফোনটাই খোলা পেতাম না। আর আজ খোলা পেয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। কলটা কেউ রিসিভই করছে না। ধ্যাত ত্যেরি…
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- থাক… থাক… ধৈর্য হারাস নাহ। এতোদিন তো ফোনটাই খোলা পাসনি। এখন যেহেতু ফোনটা খোলা তাহলে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ কলটা রিসিভ করবে। তুই কল দিতে থাক।
বলে উঠলো কিরণ।
কিয়ারা ওর কথা শুনে আবার ও কল করলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই কলটাও রিসিভ হলো না। কিয়ারা তৃতীয় বারের মতো কল করলো। আর আল্লাহর অশেষ রহমতে এই বার কলটা অপর দিক থেকে রিসিভ হয়েছে।
কিয়ারা তড়িঘড়ি করে সালাম দিল। আর তারপর নিজের পরিচয় দিল। কলের ওপাশ থেকে মহেজ সাহেব বলে উঠলেন…
ঃ- মানে আপনি সেই নারীটি!...
আপনার স্বামী মানে উনি আমাকে ধরে মানে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। আপনার খোঁজ পাওয়ার জন্য। আপনার কোনো পরিচয় বা কোনো তথ্য পাওয়ার আশায়। কিন্তু আমি উনাকে কোনো ভাবে সাহায্য করতে পারি নি।
ঃ- ওওও আচ্ছা । চাঁচা আপনি কি কোনো ভাবে আমার স্বামীর ফোন নাম্বার টা আমাকে দিতে পারেন। তাহলে অনেক উপকার হতো চাঁচা ।
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- কেন মা?... আপনি কি এখনো আপনার স্বামী কে খুঁজে পাননি??...
বলে উঠলো মহেজ সাহেব।
ঃ- জ্বী না চাঁচা। এখনো খুঁজে পাওয়া যায় নি। আমরা আপনার বাড়িতেও গিয়েছিলাম। তার বিষয়ে কোনো খোঁজ পাওয়ার জন্য। কিন্তু তখন দুর্ভাগ্যবশত আপনি বাড়িতে ছিলেন না।
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ শুনেছিলাম। আমি গ্ৰামে গিয়েছিলাম বাবা কে সাথে নিয়ে। ফিরে আসার পরে আমার ছেলের কাছে শুনেছিলাম আপনাদের আসার কথা।
এখন আমি আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি মা!..
ঃ- আপনি কি আমাকে উনার ফোন নাম্বার টা দিতে পারবেন?... তাহলে অনেক উপকার হতো চাঁচা। বলে উঠলো কিয়ারা।
তারপর মহেজ সাহেব কিয়ারা কে একটা ফোন নাম্বার দিলো।
ঃ- ওকে, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চাঁচা। আল্লাহ হাফেজ।
এই বলে কলটা কেটে দিল কিয়ারা। কিরণ পাশে বসে কিয়ারার হাত চেপে ধরে উচ্ছাসিত গলায় বলল…
ঃ- কিরা… ফাইনালি পুরাতন দুলাভাই এর ফোন নাম্বার টা পাওয়া গেছে। ইয়েস… ইয়েএএএএ….
ঃ- হয়েছে… হয়েছে থাম এবার। তোর চিৎকার শুনেই সবাই অনুষ্ঠান রেখে এখানে চলে আসবে। তারপর আর জানতে হবে না যে সেই মানুষটি কে। আর পুরাতন দুলাভাই মানে কি?..
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। এখন ফোন কর। আর পুরাতন দুলাভাই মানে হচ্ছে তোর বিয়ে তো আরো আগেই হয়েছে। তাই পুরাতন দুলাভাই । বুঝলি..!..
ঃ- হ্যাঁ বুঝলাম। কিন্তু আমরা ঘরে বসে থেকে বুঝবো কিভাবে?.. যে উনার ফোন কি না।
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- ঠিক বলেছিস। এখন চল তাহলে নিচের দিকে যাই। উনার আশেপাশে থেকেই কল করবি। আর উনার ফোন নিশ্চয়ই উনার সাথেই থাকে। এখন নিচের দিকে যাই চল।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- সে নাহয় যাবো। কিন্তু উনি যদি নিচে না থাকেন তাহলে???...
ঃ- তুই আগেই কুফা মার্কা কথা বলিস না তো। নিশ্চয়ই থাকবে। চল আগে গিয়ে তো দেখি। না থাকলে তখন নাহয় অন্য কোনো উপায় বের করবো।
বলে উঠলো কিরণ।
তারপর ওরা নিচের দিকে গেল।
নিচে নেমে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে মাহাদ কে খুঁজলো। দেখলো সুইমিং পুলের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু লোকের সাথে কথা বলছে। কিয়ারা ও কিরণ মাহাদের থেকে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে দাঁড়ালো। তারপর চারপাশে খেয়াল করে দেখলো যে কেউ ওদের কে দেখছে কিনা। বিশেষ করে আরিয়া ও আরিফা তখনকার মতো ওদের কে আবার ফলো করছে কি না সেটাও দেখলো।
ঃ- আরে ধূর বেডি!.. কেউ দেখছে না। তুই এখন ফোনটা কর তো ভাই।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- করছি তো, একটু দ্বারা না।
এতো তাড়াহুড়ো করছিস কেন??...
তারপর কিয়ারা আল্লাহর নাম নিয়ে বিসমিল্লাহ্ বলে…
কল করলো। ওর হার্টবিট বেড়ে গিয়েছে অজানা আতঙ্কে। কলটা মাহাদের পার্সোনাল ফোনে বেজে উঠলো। তবে মাহাদ রিসিভ করলো না। কিরণ বলে উঠলো…
ঃ- কিরা রে ফোন টা তো !.. মানে উনার ফোনটাই তো বেজে উঠল। কিভাবে কি.. মানে… উনিই তোর সেই অপরিচিত স্বামী।
কিরণ উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো।
ঃ- কিরণ ,আমি মনে হচ্ছে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবো রে । এটা মানে… উনি মানে কি করে… এটা কীভাবে হতে পারে। আচ্ছা অন্য কারো কল ও তো হতে পারে। এটাও তো হতে পারে যে একই টাইমে হয়তো ওনার ফোনে অন্য কারো কল এসেছে।
ভীষণ অস্থির হয়ে বলে উঠলো কিয়ারা। কিন্তু এটা কিরণ মানতে চাইলো না। তাই ও বলে উঠলো…
ঃ- আচ্ছা উনার কাছে চল। কাছে গিয়ে কলটা করলেই বুঝা যাবে যে, তুই করেছিস সেটা?.. নাকি অন্য কারো কল??...
ঃ- হ্যাঁ ঠিক বলেছিস। চল তাহলে যাই…
এই বলে ওরা মাহাদের দিকে এগিয়ে গেল। ওরা যেতে যেতে মাহাদের কথা বলা শেষ হয়ে গেল। মাহাদ পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখলো যে কিয়ারা ওর কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। মাহাদ কিয়ারা কে দেখে তখনকার কথা মনে পড়ে গেল। যে কিভাবে মাহাদের কথা অমান্য করে তখন স্টেজে গিয়েছিল। আর এটা মনে পড়তেই মাহাদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। কিয়ারা ওর হাতের ফোনটা দিয়ে মহেজ সাহেবের দেওয়া ফোন নাম্বারে আবার কল করলো। আর তারপর ও নিজের চোখে দেখলো যে মাহাদের হাতের মুঠোয় থাকা ফোন টা বেজে উঠলো।
কিয়ারা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। মাহাদের হাতের দিকে তাকিয়ে রইল। ওকে এভাবে নিজের ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মাহাদ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। কিয়ারা আবার কল দিল। দেখলো মাহাদের ফোন টা বেজে উঠলো। কিয়ারা আবারও কল দিল দেখলো ফোন টা আবারও বেজে উঠল। কিন্তু ওকে অবাক করে দিয়ে মাহাদ এবার কলটা রিসিভ করলো। কলটা রিসিভ কল। ও হ্যালো হ্যালো করলো কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আসছে না। মাহাদ ফোন টা কেটে দিল। আর তারপর সামনে তাকিয়ে দেখলো কিয়ারা এখনো এক দৃষ্টিতে ওর হাতে থাকা ফোনটার দিকে তাকিয়ে আছে।
মাহাদ এবার একটু ভাবনার পরে গেল। ও কিয়ারার চোখের সামনে তুড়ি মেরে বলে উঠলো ….
ঃ- কি সমস্যা??... এমন অদ্ভুত বিহ্যাভ করছো কেন??.
আর এভাবে তখন থেকে এক ধ্যানে আমার ফোনের দিকে তাকিয়ে আছো কেন?...
মাহাদের কথা শুনে কিয়ারার ধ্যান ভেঙ্গে গেল। ও বিশ্বাসই করতে পারলো না যে, প্রমাণিত হয়ে গেল এই নীল চোখের গম্ভীর, বদমেজাজি লোকটা ওর সেই অপরিচিত স্বামী। কিয়ারা নিজেকে বিশ্বাস করানোর উদ্দেশ্যে আবার কল দিল। আর তারপর মাহাদের হাত থেকে ফোন টা টেনে নিয়ে নিল। তারপর ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কায়রার নাম্বার টা দেখেই ও সব বুঝে গেল।
কিয়ারা একবার মাহাদের দিকে তাকাচ্ছে তো একবার ওর হাতে থাকা ফোনটার দিকে তাকাচ্ছে।
ঃ- আপনি?.. মানে.. আপনি… সেই মানুষটি… ?...
কিয়ারার কন্ঠ টা যেন একটু কেঁপে উঠল। মাহাদ এতক্ষণে সবটা স্পষ্ট করে বুঝতে পারলো।
ঃ- যাক অবশেষে খুঁজে পেলেন। ম্যাডাম!.. তা আপনি আমার পার্সোনাল ফোন নাম্বার কোথায় থেকে পেলেন?..?...
ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল মাহাদ।
---চলবে---
ইনশাআল্লাহ