#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ২৮
🌿 🌿 🌿
সেদিন কায়রা শশুরবাড়ি চলে যাওয়ার পর কিয়ারা ও কিরণ ভাইয়েদের সাথে গাজীপুরে চলে এসেছে। সেদিনের পর কেটে গিয়েছে আরো তিন দিন। কিয়ারা রা ফিরে এসেই পরের দিন থেকে আবার নিজেদের কলেজ, কোচিং, পড়াশোনা দৈনন্দিন জীবনের রুটিন মাফিক চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আর একবারেও মাহাদের সাথে দেখা হয়নি কিয়ারার। কিয়ারা এখানে ফিরে এসে নিরিবিলি পরিবেশে একা একা চিন্তা করে যে, কী করবে ?.. কার সাথে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবে??.. কে ওকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ও এতো চিন্তা ভাবনা করেও কোন কুল কিনারা খুঁজে বের করতে পারছে না। ঐ লোকটার সাথে আবার দেখা হলে তখন ও কি করবে। পরিস্থিতি কিভাবে হ্যান্ডেল করবে। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না কিয়ারা। কলেজে যাওয়ার জন্য ইউনিফর্ম পরে রেডি হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল এগুলো। এর মধ্যেই কিরণ ওয়াশ রুম থেকে কলেজের ইউনিফর্ম পরে বেরিয়ে এলো। কিয়ারা কে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কিরণ ডেকে উঠল।
ঃ- এই কিরা…. এই এভাবে ধ্যানে মগ্ন হয়ে কী ভাবছিস তুই??..
ওর হঠাৎ ডাকে কিয়ারা নিজের মস্তান্তিক ভাবনা চিন্তার ইতি টেনে দিল। আর তারপর পিছন ফিরে কিরণের দিকে তাকালো।
ঃ- কি আর ভাববো .. , আমি এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না যে কি করবো। এই বিষয় টা কীভাবে হ্যান্ডেল করবো। কাকে জানাবো??.. কে আমাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে??.. কিচ্ছু বুঝতে পারছি ।
চিন্তিত স্বরে বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আমি তোর অবস্থা টা বুঝতে পারছি। কিন্তু আমিও এই বিষয়ে কোনো সাহায্য করতে পারছি না। জীবন টা তোর, তাই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটাও তোকেই নিতে হবে। আচ্ছা আমি ভাবছিলাম যে, আমরা যদি কায়রা আপুর সাথে তোর এই বিষয়টা শেয়ার করি!... তাহলে কেমন হয়??... একে তো মাহাদ ভাইয়া আপুর ভাসুর তার পরে আবার তোর বড় বোন। উনি নিশ্চয়ই তোর সিচুয়েশন টা বুঝতে পারবে।
শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো কিরণ।
ওর এই কথা শুনে কিয়ারা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। হয়তো কিছু ভাবলো, তারপর বলল…
ঃ- এমনটা আমিও ভেবেছিলাম। কিন্তু তোর কী মনে হয় আপাই আমাকে মাফ করবে??.. আর এই বিষয়টা হালকা ভাবে নিবে। আমরা যতটা সহজ ভাবছি এটা কিন্তু ওতোটা সহজ নয়। আপাই একবার জানতে পারলে আমাকে মেরেই ফেলবে।
ঃ- হ্যাঁ আমি এটাও জানি। কিন্তু দেখ আমরা মানে তুই যদি সত্যি এটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভেবে থাকিস। যদি সত্যি সত্যিই তুই এই বিষয়ে কোনো সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে চাস , তাহলে আমাদের অবশ্যই বড় কারো সাথে আলোচনা করতে হবে। দেখ মাহাদ ভাই যে তোকে বেঁচে থাকতে আর নিজে থেকে ছাড়বে না।
সেই বিষয়টা তো সেদিন তাদের বাড়িতে থাকতেই ক্লিয়ার করে দিয়েছে। মাহাদ ভাইয়া তোকে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। এখন তোর পালা। তোকে সবকিছু বিবেচনা করে তারপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা কোনো মামুলি ব্যাপার নয় কিয়ারা। এটা তোর সারা জীবনের প্রশ্ন। তাই সেখানে অবশ্যই বড়দের মতামত থাকা আবশ্যক। এতো বড় সিদ্ধান্ত তুই একা একা নিতে পারিস না। আর আমার মনে হয় বড়দের মধ্যে আপুকে জানালেই সবচেয়ে ভালো হয়। এখন তুই ভেবে দেখ কি করবি।
ওর এই কথাগুলো শুনে কিয়ারা ভেবে দেখল ও কিছু ভুল বলেনি। আসলেই ও একা একা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই ঠিক করলো কায়রা আপু কে জানাবে। তারপর যা হয় হোক। কিছু ভালোর জন্য কিছু রিস্ক ও নিতে হয়। ও নাহয় একটা রিস্ক নিল। আপাই নিশ্চয়ই ওকে সাহায্য করবে। প্রথমে হয়তো ভীষণ রাগ করবে কিন্তু পরে সাহায্য ও করবে নিশ্চয়ই। এসব চিন্তা ভাবনা করে কিয়ারা বলে উঠলো…
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। আমরা আপাই কে সব জানাবো। এখন কলেজে চল। আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।
তারপর ওরা বাসা থেকে বেরিয়ে রিক্সায় করে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
এখন সময় বিকাল সাড়ে তিনটায়। কলেজ- কোচিং শেষ করে তারপর ওরা এখন বাড়ি ফিরবে। কলেজ থেকে বেরিয়ে রাস্তার ফুটপাত ধরে কিয়ারা ও কিরণ একা হাঁটছিল। হঠাৎ কিয়ারার চোখে পড়ল রাস্তার এক পাশে ছোট্ট একটা খরগোশ, রক্তে ভেজা আর কাঁপতে থাকা শরীর নিয়ে পড়ে আছে। কিন্তু ওকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিল ওর চোখজোড়া। স্বচ্ছ আকাশের মত নীল চোখদুটো যেন সাহায্যের জন্য নীরব আর্তি করছে।
ঃ- আল্লাহ!.. এতো ছোট্ট ছানা টাকে কে এভাবে কষ্ট দিল।
কিয়ারার বুক কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তও দেরি না করে ব্যাগ থেকে ওড়নাটা খুলে আলতো করে খরগোশটাকে জড়িয়ে নিল।
রাস্তায় যাতায়াত করে থাকা আসে পাশের লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেও কিয়ারার চোখে তখন শুধু সেই আহত প্রাণীটা —যেন তার অসহায় ডাক শোনার মতো আর কেউ নেই। সে তাড়াহুড়ো করে কাছের ভেটেরিনারি হাসপাতালে ছুটে গেল। ওর সাথে কিরণ ও ছুটলো।
হাসপাতালের ডাক্তার খরগোশটাকে দেখে প্রথমে অবাক হলেও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেন। কিয়ারা পুরো সময় পাশে দাঁড়িয়ে তার ছোট্ট কানটা আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল, যেন বলছে—
“ভয় পেয়ো না, আমি আছি।”
ড্রেসিং শেষ হলে ডাক্তার বললেন…
ঃ- ভাগ্য ভালো থাকায় কোনো হাড়গোড় ভাঙ্গেনি। শুধু একটু চোট লেগেছে। হয়তো কোনো গাড়ি অসাবধানতাবশত ধাক্কা মেরে দিয়েছে। কয়েকদিন যত্নে রাখলে ও পুরোপুরি সেরে উঠবে।
ঃ- আলহামদুলিল্লাহ!.. ধন্যবাদ ডক্টর।
কিয়ারার ঠোঁটে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠল। সে খরগোশটাকে নিজের কোলের মধ্যে নিয়ে এলো। তারপর বাসায় চলে আসলো।
ঘরে ফিরে একটা ছোট বাক্সে তুলো বিছিয়ে, পানি আর গাজর রেখে দিল তার জন্য। স্নেহে ভরা চোখে তাকিয়ে বলল—
“এখন থেকে তুই একা নোস, আমি আছি তো।” আমি সবসময় তোর খেয়াল রাখবো।
দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল। খরগোশটা ধীরে ধীরে সেরে উঠল। কিয়ারার যত্ন, আদর আর ভালোবাসায় সে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেল। কিয়ারার ঘর ভরে উঠল খরগোশের লাফঝাঁপ আর হাসির শব্দে।
এক আহত প্রাণকে দেখে যেভাবে কিয়ারা বুকে টেনে নিল, তাতে সবাই অবাক হলেও তার হৃদয় জানে—ভালোবাসা শুধু মানুষকেই নয়, সব জীবকেই বাঁচিয়ে তোলে।
এখন যেন খরগোশ টাই কিয়ারার জীবনের একটা অংশ হয়ে উঠেছে। কলেজ কোচিং শেষ করে কিয়ারার বাকিটা সময় এই সুন্দর প্রাণীটার সাথেই কাটে। ও আবার ওই নীল চোখের খরগোশ টার একটা মানানসই সুন্দর নামও ভেবেছে।
ঃ- এই কিরণ… ওর একটা সুন্দর নাম দেওয়া দরকার। এভাবে খরগোশ বলতে ভালো লাগে না।
খরগোশ টার পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলল কিয়ারা। কিরণ ওর কথার সাথে একমত হয়ে বলে উঠলো….
ঃ- হ্যাঁ.. নাম তো একটা দেওয়াই লাগে কিন্তু তুই কি কোনো নাম ভেবেছিস??...
ঃ- হ্যাঁ দু'দিন ধরে ভেবে বের করেছি। ও যেহেতু ছেলে খরগোশ, আর ওর চোখ দুটোও নীল রঙের। তাই ওর নাম হবে “নীলো” আমার নীলো!...
নামটা কেমন বল..?..
ঃ- নামটা দারুন হয়েছে। একদম খরগোশ টার সাথে হুবহু মিলে গিয়েছে। খুশীতে গদগদ হয়ে বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- এই খবরদার আর খরগোশ বলবি না। আজ..এখন থেকে ওর নাম “নীলো” তাই একদম ওকে আর খরগোশ বলবি না। গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- সে নাহয় বুঝতে পারলাম। কিন্তু তুই কী ওই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলি??... কিছু কি ভাবলি??... কায়রা আপু কে জানাবি?..
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলে উঠলো কিরণ ।
ঃ- এখনো কিছুই ভেবে উঠতে পারছি না। আপাই যখন জানতে পারবে তখন কী ঝড় টাই না যাবে আমার উপর দিয়ে।
ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আচ্ছা তুই কাউকে জানানোর আগে একবার মাহাদ ভাইয়ার সঙ্গে আবার কথা বলে দেখ। উনি হয়তো উনার সিদ্ধান্ত পাল্টাতেও পারেন। যেহেতু এতো দিনে তোর সাথে তিনি কোনো ধরনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি।
শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- হুমমম এটা ঠিক বলেছিস যে, এই কয়দিনে উনি আমার সাথে যোগাযোগ করার কোনো চেষ্টা করেননি। কিন্তু তাতে কিভাবে বুঝবো যে উনি উনার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলতে পারেন ??.. তাহলে বলছিস যে, উনার সাথে দেখা করি??...
ঃ- হ্যাঁ সেটাই ভালো হবে। আগে তুই আর একবার কথা বলে দেখ। আর উনাকে আমার দুলাভাই হিসেবে মেনে নিতে কিন্তু কোন সমস্যা নেই।
হি হি করে হাসতে হাসতে বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- একদম বাজে কথা বলবি না আমি উনাকে একদম সহ্য করতে পারবো না। আগে উনার সাথে আমার যখনই দেখা হয়েছে, উনি তখনই আমাকে অপমান করেছেন। তাই একদম উনার হয়ে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করবি না তুই।
বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। আমি নাহয় সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করবো না। কিন্তু তুই কী করবি।দেখা করতে যাবি উনার সাথে??... আরো একবার কথা বলে দেখ।
বলে উঠলো কিরণ।
ঃ- ঠিক আছে তাহলে কালকে কলেজ থেকে আগে বের হবো আমি। তারপর উনার সাথে দেখা করে আসবো নাহয়।
হতাশার নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে উঠলো কিয়ারা। কিরণ ওর কথার সাথে একমত হয়ে বললো…
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। তুই তাহলে কালকে কলেজ থেকে আগে বের হস। কিন্তু তুই উনাকে পাবি কোথায়??.
ঃ- আরে পেয়ে যাবো । উনি এলাকার নেতা মশাই। তারপর আবার মন্ত্রী পুত্র কি না, উনার তো আবার চ্যালার অভাব নেই। কাউকে না কাউকে জিজ্ঞেস করলে উনার খোঁজ ঠিক পাওয়া যাবে।
শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো কিয়ারা।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে নীলো কে খাবার দিল। তারপর কলেজের জন্য রেডি হলো কিয়ারা। কিরণ ও রেডি হয়ে বের হলো। তারপর দুজনে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। বাসার নিচে এসে একটা রিকশা নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে চলে গেল।
------------
কলেজ থেকে কিয়ারা টিফিন পিরিয়ডে বের হয়ে এলো। কিরণ কে বলেছে কলেজ ছুটি হলে বাসায় চলে যেতে। ও ওখান থেকে সোজা বাসায় চলে যাবে।
কিয়ারা কলেজ থেকে বেরিয়ে রাস্তার ফুটপাত ধরে হাঁটতে শুরু করল। কোথায় পাবে ঐ লোকটাকে কিছুই জানে না। প্রায় দশ মিনিট ধরে হাঁটছে কিয়ারা। কিন্তু রাস্তায় ঐ লোকটার কথা জিজ্ঞেস করার মতো কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। তবে আজকে কিয়ারার ভাগ্যটা ভালো থাকায় কিছুটা সামনেই রাহুল কে দেখতে পেলো। রাহুল রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে দলের আরও কিছু ছেলেদের সাথে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল।
কিয়ারা কিছুটা দ্রুত সম্ভব হেঁটে রাহুলের দিকে এগিয়ে গেল। ওকে নিজের দিকে আসতে দেখে রাহুল ওর সাথে থাকা বাকি ছেলেদের চলে যেতে বলল।
ঃ- আসসালামু আলাইকুম।
ভাবী আপনি এখানে!..
মৃদু হেসে সালাম দিয়ে বলল রাহুল।
ঃ- কেন এখানে আসতে মানা আছে নাকি?..
ওর সালামের জবাব দিয়ে কথাটা বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- না না তা হবে কেন। আসলে এই অসময়ে হঠাৎ এখানে আসলেন তাই আর কি বললাম।
রাহুল তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো।
ঃ- হ্যাঁ এদিকে আসলাম একটু কাজ ছিল তাই। তা আপনাদের ভাই কোথায়??.? উনার সাথে দেখা করা যাবে এখন??... উনার সাথে আমার জরুরী একটু কাজ ছিল তাই।
মৃদু স্বরে বলে উঠলো কিয়ারা।
ঃ- হ্যাঁ দেখা করা যাবে না কেন?.. অবশ্যই যাবে। ভাই এখন উনার ফ্ল্যাটে আছে। চলুন আমি আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।
এই বলে রাহুল কিয়ারা কে নিজের সাথে আসতে বলে আগে আগে হাঁটতে শুরু করল। কিয়ারাও রাহুল কে অনুসরণ করে হাঁটতে লাগলো। আরো সামনে কিছু দূর হেঁটে গিয়ে একটা তৃতীয় তলা বিল্ডিং এর সামনে দাঁড়ালো।
কিয়ারা আসে পাশে তাকিয়ে দেখলো দলের ছেলেপেলে নিচে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। রাহুলের সাথে ওকে দেখে সবাই নিজেদের কথা বন্ধ করে ওদের দিকে তাকিয়ে রইল। সবাই কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে রইল ওর দিকে। রাহুল ওদের সবাই কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে কি যেন একটা বললো ইশারা করে। ওরা সবাই রাহুলের ইশারা বুঝতে পেরে ওকে সালাম দিয়ে সবকটা অন্যদিকে চলে গেল।
কিয়ারা হঠাৎ এতো গুলো ছেলেকে ওকে সালাম দিতে দেখে একটু হকচকিয়ে গেল। তারপর রাহুল ওকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় উঠে এলো। কিয়ারা চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখলো বিল্ডিং টা বেশ বড়সড় আছে। কিন্তু বাহিরে থেকে ওতটা বড় মনে হয় না। রাহুল এগিয়ে গিয়ে তৃতীয় তলার বিশাল এপার্টমেন্টের ডোরবেল টা চাপলো। কিছুক্ষণ পরে বিশাল আকারের দরজা টা খুলে গেল।
মাহাদ হয়তোবা ঘুমাচ্ছিল। চোখমুখ দেখে কিয়ারার অন্তত তাই মনে হচ্ছে। মাহাদ রাহুল কে আবছা আবছা দেখে ভিতরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। আর যাওয়ার আগে ওকে একটা কড়া করে ব্ল্যাক কফি বানিয়ে দিয়ে যেতে বললো। যদি কাজের কোনো কথা থেকে থাকে তাহলে ও পড়ে শুনবে। এখন মাথাটা প্রচন্ড ধরে আছে। এই বলে নিজের কথা শেষ করে রাহুল কে কিছু বলতে না দিয়ে ভিতরে চলে গেল। মাহাদ একবার ও খেয়াল করলো না যে রাহুলের পিছনে আরও একজন চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিল।
রাহুল একবার মাহাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকালো। আর একবার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা কিয়ারার দিকে তাকালো। ও বেচারা পড়েছে এই দুই প্রান্তের দুই মানুষের চিপায়। যাক কি আর করার আছে পড়েই যখন গিয়েছে। রাহুল কিয়ারা কে উদ্দেশ্য করে বলল…
ঃ- ভাবী, আপনি নিজেই তো শুনলেন যে, ভাই কী বললো। আমাকে চলে যেতে হবে আমার দলের ছেলেদের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। আপনি একটু কষ্ট করে ভাইকে কফি টা বানিয়ে দেন। আমি আসি হ্যাঁ!...
এই বলে রাহুল চলে গেল। আসলে মূলত রাহুলের এখন তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ নেই। কিন্তু ওদের দুজনকে আরও কাছাকাছি আনার জন্য এই বাহানা টা দিয়ে গেল। কিয়ারা আস্তে ধীরে এপার্টমেন্টের ভিতরে ঢুকলো। তারপর খুঁজে খুঁজে কিচেনে চলে গেল। তারপর খুঁজে খুঁজে ব্ল্যাক কফি বানানোর উপকরণ গুলো বের করলো। তারপর সব মিলিয়ে কফি মেশিনের সাহায্যে ব্ল্যাক কফি বানিয়ে ফেলল। ভাগ্যিস কফি মেকার টা ওদের বাসায়ও আছে তাই কিভাবে কি করতে হয় সেটা জানতো। নাহলে তো মহা ঝামেলায় পড়তে হতো ওকে।
যাক অবশেষে কফি টা বানানো গেছে। এখন এটা ঐ লোকটাকে দিয়ে আসতে পারলেই বাঁচে। ওর মনে হয় আর আজকে উনার সাথে কথা বলা হবে না। যা করতে এসেছিল তা তো হলোই না। এখন শুধু এই কফির মগ টা কোনো রকম উনার রুমে দিয়ে আসতে পারলেই হলো। তারপর ও এখান থেকে মানে মানে কেটে পড়বে।
যেই ভাবা সেই কাজ। কিয়ারা বিসমিল্লাহ বলে কফির মগ টা হাতে তুলে নিয়ে মাহাদের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। কিয়ারা মাহাদের ঘরের সামনে গিয়ে চুপটি করে দাঁড়াল।
--- চলবে ---
ইনশাআল্লাহ