#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
#প্রাপ্তমনষ্ক_এলার্ট 🔞
পর্বঃ- ৪৭
🌿🌿🌿
দরজা খুললো ধীরে, ভেতরে অন্ধকারের গন্ধ।
হালকা ম্লান আলোয় রুমটা ভরে আছে অচেনা নীরবতায়।
মাহাদ এক পা ভেতরে ঢুকে পিছনে ফিরে তাকালো—
তার চোখের দৃষ্টি যেন কিছু খুঁজছে, কিছু বোঝাতে চাইছে।
কিয়ারার কাঁধে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল।
তার মনে হচ্ছিল, এই দরজার ভেতরে ঢুকলেই হয়তো তার জীবন আগের মতো থাকবে না আর।
তারপর মাহাদ আর কিছু না বলেই নিজের রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো। কিয়ারা কিছুক্ষণ বাহিরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর ও নিজের রুমে ঢুকে গেল।
রুমে ঢুকে দেখলো, কিরণ অলরেডি শুয়ে পরেছে। তাই ও কি করবে বুঝতে পারছে না। না গেলে লোকটা নিজে চলে আসবে এখানে। আর তখন আরো ঝামেলা বাড়বে। ও বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচলটা আঙুলের মাথায় পেঁচিয়ে আবার খুলে ফেলছে।
ঃ- কিরে, তুই এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেন??... ঘুমাবি না নাকি?...
কিরণ ঘুমু ঘুমু কন্ঠে বলে উঠলো। কিয়ারা একটু মিন মিন করে বলল…
ঃ- উনি আমাকে ডেকেছেন। না গেলে লোকটা এখানে চলে আসবে। কী করবো বল তো?!..
ঃ- তো তুই এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেন?.. যাবি সে না, নাহলে ভাইয়া এখানে চলে আসলে বিষয়টা নিশ্চয়ই ভালো দেখাবে না। তোর হাসব্যান্ড হন উনি, আর কেউ না জানুক তুই তো জানিস!.. তাহলে এতো হেজিটেড করার কি আছে??!...
কিরণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ওকে বলে উঠলো। কিয়ারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল…
ঃ- আচ্ছা আমি তাহলে যাই, আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত, তুই প্লিজ একটু সবটা ম্যানেজ করে নিস। যদিও আমি সবাই উঠে যাওয়ার আগেই চলে আসবো।
ঃ- ঠিক আছে, আমি সেটা ম্যানেজ করে নেব। কিন্তু তুই তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস। নাহলে কিন্তু ঝামেলায় পড়ে যাবো। আমাদের বাড়ির সবকটা কিন্তু এই তলাতেই আছে।
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে।
এই বলে কিয়ারা রুম থেকে চুপে চুপে বেরিয়ে এলো।
কিয়ারা যেই মাহাদের রুমের দরজা সামান্য খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো।
দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল মাহাদ।
“ক্লিক”— সেই শব্দটাই কিয়ারার বুকের ভেতর গিয়ে বাজলো।
চারপাশে ম্লান আলো, পর্দা টানা, আর সেই অচেনা নীরবতা—
যেখানে শুধু দু’জনের নিঃশ্বাস ভেসে বেড়াচ্ছে।
কিয়ারা এক পা পেছাতে গিয়েছিল, কিন্তু মাহাদের হাত যেন তাকে চেপে ধরলো দেয়ালের সাথে।
ওর চোখে সেই আগুন—
যা কোনো যুক্তি মানে না, কোনো ভয় মানে না, শুধু দাবি করে।
ঃ- তুমি কি ভেবেছো আমি তোমাকে এত সহজে ছেড়ে দেব?....
তার কণ্ঠস্বর ছিল নিচু, গভীর, আর বেপরোয়া।
কিয়ারা চোখ বন্ধ করে ফেলে।
ও বুঝতে পারছিল, এ রাতটা আর শুধু একটা সাধারণ রাত থাকবে না…
এটা হবে এমন এক রাত, যা ওর শরীর-মন দুটোতেই দাগ কেটে যাবে।
মাহাদের ঠোঁট কাছে এল,
তার আঙুলগুলো কিয়ারার চুলে জড়িয়ে গেল,
আর কিয়ারা বুঝলো—
এ ভালোবাসা নয়, এ আসক্তি, এ দখলদারিত্ব,
যা থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।
ঘরের দেয়ালে, মেঝেতে, বিছানার চাদরে—
শুধু তাদের নিঃশ্বাসের ভারী শব্দ,
এবং একের পর এক উন্মাদ মুহূর্ত…
মাহাদের আঙুল কিয়ারার কোমর জড়িয়ে নিল শক্ত করে।
তারপর ধীরে ধীরে সেই আঙুল গলিয়ে নামতে লাগলো, যেন প্রতিটা স্পর্শ দিয়ে ওর শরীরটাকে নিজের ছাপ দিয়ে দিচ্ছে।
কিয়ারার নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো, বুক ওঠানামা করতে লাগলো দ্রুততর।
মাহাদ কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বললো—
ঃ- আমার রায়া.. আমার হুঁরপরি…তুমি জানো না, আমি কতটা উন্মাদ তোমার জন্য…।
ওর ঠোঁট একবার গলায়, একবার কাঁধে, একবার বুকের খাঁজে—
তারপর বেপরোয়া হয়ে আরও গভীরে নামতে লাগলো।
কিয়ারা শিউরে উঠলো, দুই হাত দিয়ে মাহাদের শার্ট আঁকড়ে ধরলো।
মাহাদের চোখে তখন পাগলামি—
শুধু দখল করার, ভেঙে ফেলার, আবার নিজের করে গড়ে তোলার নেশা।
তার আঙুল, ঠোঁট, আর উষ্ণ নিঃশ্বাস একসাথে মিলেমিশে কিয়ারাকে এমন এক জগতে নিয়ে গেল,
যেখানে না ছিল লজ্জা, না ছিল ভয়, শুধু অন্ধকারের নেশা আর উন্মাদ ভালোবাসা।
ওর শরীরের প্রতিটা বাঁকে, প্রতিটা কাঁপনে মাহাদ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছিল।
“তুমি শুধু আমার… শুধুই আমার,”— ফিসফিস করলো,
আর কিয়ারার ঠোঁটে দাবিদার চুম্বন বসালো, এত গভীর যে ওর নিঃশ্বাসই যেন কেড়ে নিলো।
মাহাদ কানে হালকা কামড় বসিয়ে নিচু স্বরে উত্তর দিলো—
ঃ- আমি কিছুই পাত্তা দিচ্ছি না… আমি শুধু তোমাকে চাই, এখন, এই মুহূর্তে চাই।
তারপরই ওর হাত কিয়ারার পিঠ বেয়ে শাড়ির আঁচল ধরে টান দিল।
এক ঝটকায় আঁচলটা মাটিতে গলে পড়ে গেল,
আর কিয়ারার শরীর যেন অর্ধেক উন্মোচিত হয়ে মাহাদের সামনে কাঁপতে লাগলো।
মাহাদের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো,
সে একের পর এক স্তর খুলতে লাগলো—
কখনো ধীরে ধীরে, কখনো বেপরোয়া ঝড়ের মতো।
প্রতিটা ফাঁসে কিয়ারার গা শিউরে উঠছিল,
ঠোঁট থেকে চাপা শব্দ বের হচ্ছিল।
মাহাদ ফিসফিস করলো—
ঃ- এই রঙ, এই গন্ধ, এই শরীর… সবকিছু শুধু আমার জন্য। এখানে কখনো অন্যকারো নজর, অন্যকারো ছোঁয়া থাকবে না, কখনো না।
তার চোখে আগুন,
হাতে দখলদারিত্ব,
ঠোঁটে উন্মাদনা—
যখন শেষ গিঁটটা খুলে দিল, তখন কিয়ারা নিঃশ্বাস বন্ধ করে মাহাদের বুকে লুটিয়ে পড়লো।
আর মাহাদ?... লোকটা
ওকে পাগলের মতো নিজের বাহুডোরে আটকে নিয়ে কাঁপতে থাকা শরীরটা আদরে ভরিয়ে দিতে লাগলো—
যেন বাইরের পৃথিবীর কোনো মানে নেই, শুধু এই অন্ধকার, বেপরোয়া ভালোবাসাটাই সত্যি।
কিয়ারার গায়ে এখন কেবল লাজুক কাপড়ের শেষ টুকরো,
মাহাদের চোখ যেন তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।
সে এক পলকও সরালো না—
বরং প্রতিটা ইঞ্চি চোখে গিলে নিচ্ছিল।
কিয়ারা হাত দিয়ে বুক ঢাকতে চাইলো,
কিন্তু মাহাদ সঙ্গে সঙ্গেই ওর কব্জি ধরে কানে ফিসফিস করে বললো—
ঃ- লুকিও না… তুমি যেমন আছো, ঠিক তেমনই আমি তোমাকে চাইছি ।
ওর কণ্ঠে আদেশ, অথচ ভালোবাসার নেশা।
মুহূর্তেই কিয়ারার শরীর কেঁপে উঠলো।
তারপর মাহাদ ধীরে ধীরে ঠোঁট রাখলো কিয়ারার গলা বেয়ে কাঁধে,
একেকটা চুম্বন যেন দাবানল ছড়াচ্ছিল।
ওর হাত পিঠ বেয়ে নেমে কোমরে এসে থামলো,
তারপর নিঃশ্বাস কেঁপে উঠলো কিয়ারার কানে—
ঃ- তুমি আমার রায়া… শুধু আমার হুঁরপরি।
কিয়ারার ঠোঁট থেকে চাপা শব্দ বেরিয়ে এলো,
শরীর নিস্তেজ হয়ে গেল মাহাদের বুকে।
কিন্তু মাহাদ থামলো না—
আরো গভীর, আরো বেপরোয়া হয়ে প্রতিটা স্পর্শে
ওকে নিজের দখলে নিল।
শাড়ির শেষ টুকরোটাও সরে গেল…
আর অন্ধকার ঘর ভরে উঠলো নিঃশ্বাস, উত্তাপ আর উন্মাদনায়।
কিয়ারা নিজেকে আর সামলাতে পারলো না—
মাহাদের আলিঙ্গনে হারিয়ে গেল পুরোপুরি,
শরীরের সবটুকু অবসাদ আর আবেগ মিশে এক অগ্নিকুণ্ড হয়ে উঠলো,
যার তীব্রতায় বাইরের দুনিয়া হারিয়ে গেল।
শাড়ি মেঝেতে গলে পড়ে আছে,
কিয়ারার নিঃশ্বাস এলোমেলো, চোখ আধো বুঁজে আছে।
মাহাদ একটুও দেরি করলো না—
ওকে বুকের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে ধরলো, যেন আলাদা হওয়া অসম্ভব।
তারপর ঠোঁট নামলো কিয়ারার ঠোঁটে—
প্রথমে কোমল, কিন্তু মুহূর্তেই দাবদাহে ভরা।
ওর ঠোঁটের ভেতর পুরোপুরি ডুবে গেল মাহাদ।
কিয়ারা প্রথমে লজ্জায় সরতে চাইলো,
কিন্তু মাহাদের শক্ত হাত ওকে আরো কাছে টেনে নিল।
ওর হাত কিয়ারার পিঠ বেয়ে কোমর ধরে উঠলো,
আঙুলগুলো নরম চামড়ার স্পর্শে থরথর করে কেঁপে উঠলো।
চুমুর ফাঁকে ফিসফিস শব্দ—
“তুমি জানো না, তোমার জন্য আমি কেমন পাগল।”
কিয়ারা চোখ মুছে মাথা গুঁজে দিল মাহাদের বুকে,
কিন্তু মাহাদ সেটা মেনে নিল না।
ওর থুতনি তুলে আবারও ঠোঁটে ঝাঁপিয়ে পড়লো।
প্রতিটা মুহূর্তে চুম্বন গভীর হচ্ছিল,
স্পর্শ বেপরোয়া হচ্ছিল,
আর কিয়ারা সম্পূর্ণরূপে গলে যাচ্ছিল মাহাদের বাহুডোরে।
ঘর ভরে উঠলো শুধু তাদের দম নেওয়ার শব্দে,
আর শরীরের উত্তাপের ঝড়ে—
যেখানে দু’জনেই একে অপরকে হারিয়ে দিলো,
অন্ধকারে, আদরে, উন্মাদনায়।
মাহাদ যেন আর নিজের ভেতরের আগুন কন্ট্রোল করতে পারছিল না।
কিয়ারাকে বুকের সাথে এমনভাবে চেপে ধরলো যে ওর নিঃশ্বাস আটকে আসছিল।
ঃ- আমাকে থেকে পালানোর চেষ্টা কোরো না রায়া…—
ওর কণ্ঠে হুমকির সাথে জ্বালাময়ী প্রেমের মিশ্রণ।
“তুমি শুধু আমার… শুধু আমার।”
কিয়ারা ফিসফিস করে বললো,
ঃ- আপনি… কেউ জেনে যাবে… প্লিজ…”
কিন্তু মাহাদ ওর কথা শেষ করার আগেই ওর ঠোঁটে দাবানলের মতো চুম্বন বসিয়ে দিলো।
এমন এক চুম্বন, যেখানে অধিকার আর উন্মাদনা একসাথে মিশে ছিল।
কিয়ারার কাঁধ থেকে শাড়ি ইতিমধ্যেই মেঝেতে পড়ে গেছে।
চুলগুলো এলোমেলো, চোখে কাঁপুনি—
মাহাদ ওর প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে যাচ্ছিল।
ওর আঙুলগুলো কিয়ারার শরীর বেয়ে বেয়ে নামছিল,
প্রতিটা ইঞ্চি জমিন নিজের করে নিচ্ছিল।
কিয়ারার বুক ধকধক করছিল, ঠোঁট কাঁপছিল, তবু প্রতিরোধ গলে যাচ্ছিল প্রতিটা স্পর্শে।
“তুমি আমার স্ত্রী, রায়া,”—
মাহাদ ফিসফিস করে ওর কানে বললো, দাঁত দিয়ে আস্তে কামড় দিলো কানের লতিতে।
“আমার ছাড়া আর কারো অধিকার নেই তোমার উপর।”
কিয়ারার ঠোঁট থেকে অস্পষ্ট আহ্লাদী শব্দ বেরিয়ে এলো—
ভালোবাসা আর লজ্জার মিশ্রণ।
ওর হাত অসহায়ভাবে মাহাদের শার্টের কলারে আঁকড়ে ধরলো,
কিন্তু শরীরের প্রতিক্রিয়া বলে দিচ্ছিল—
ওর সমস্ত বাধা ভেঙে যাচ্ছে।
রাতটা বেপরোয়া স্পর্শ,
অগ্নি-চুম্বন আর উন্মত্ত ভালোবাসার ঝড়ে ভরে উঠলো।
দু’জনার নিঃশ্বাস মিশে গেল,
ঘর ভরে উঠলো শুধু দুটো নামের মাদকতায়—
“মাহাদ…”
“কিয়ারা…”
এমন এক বন্য ভালোবাসা,
যার পর কিয়ারা সকালে আর ঠিকভাবে হাঁটতে পারবে না।
তার গলায় আঁচড়ের দাগ, ঠোঁটে তৃষ্ণার ছাপ,
শরীরে একরাশ অবসাদ—
তবুও ভেতরে এক মিষ্টি তৃপ্তির হাসি।
সূর্যের আলো বেডরুমের জানালা দিয়ে ভেসে আসছে। কিয়ারা ধীরে ধীরে বিছানায় চোখ মেলল। শরীর এখনও মাহাদের গতরাতের আদরের স্মৃতিতে মুড়িয়ে আছে—প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি চুমু, প্রতিটি উন্মাদ মুহূর্ত মনে ভেসে উঠছে।
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে গেল, কিন্তু মনে হলো পায়ে শক্তি নেই। হাঁটা কষ্টকর, বুক এখনও দ্রুত তালে ধুকছে। মাহাদ পাশে এসে দাঁড়াল, চোখে দুষ্টু হাসি আর চোখে গভীর ভালোবাসা।
— “কি হয়েছে, আমার রায়ার?... ঠিকমত হাঁটতে পারছে না?... আমি একটু বেশিই হার্ড হয়ে গিয়েছিলাম বুঝি!!...
সে ফিসফিস করল।
কিয়ারা লজ্জায় শুধু মাথা নত করল। —
ঃ- হ্যাঁ… আপনি… অনেক বেশি…”
মাহাদ হেসে কিয়ারার গালে চুমু দিল, হাত ধরে আলতো করে তাকে সমর্থন করল।
ঃ- আমি জানতাম… তোমাকে ভালোবাসা কখনো সহজ হয় না, বিশেষ করে যখন তুমি আমার কাছে আছো। আগের বার অল্পতেই ছেড়ে দিয়েছিলাম, কারণ সেটা প্রথম বার ছিল তাই। এখন থেকে এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে যাও। আর কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।
এক উষ্ণ প্রেমের আর গভীরতার অনুভূতি।
কিয়ারা ধীরে ধীরে মাহাদের দিকে তাকাল, চোখে স্নিগ্ধতা আর হৃদয়ে অদ্ভুত তৃষ্ণা। মাহাদের স্পর্শে তার শরীরে এখনও যেন উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে, মনে হচ্ছে রাতের উন্মাদনা এখনও থেমে যায়নি।
ছোট ছোট হাসি, আলতো স্পর্শ আর হৃদয়ের মিল—এভাবেই ভোরের নীরবতায় যেন তাদের ভালোবাসার পরিধি আরও গভীর হয়ে গেল।
মাহাদ কিয়ারা কে কোলে তুলে ওয়াশ রুমে নিয়ে গেল। তারপর ওর পোশাক গুলো দিয়ে ওকে বাথটাবের মধ্যে শুইয়ে দিল। তারপর গোসল শেষ হলে দরজায় নক করতে বললো। ও ওখানে থেকে গিয়ে আর কিয়ারা কে লজ্জায় ফেলতে চায়নি। তাই ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে গেল মাহাদ।
বেশ কিছুক্ষণ পরে কিয়ারা গোসল শেষে পোশাক পড়ে নিল। লোকটা ওকে একটা টকটকে লাল রঙের থ্রি পিস দিয়ে গিয়েছে। এর সাথে ওর গোপন জিনিস টাও ছিল। কিন্তু লোকটা এসব কখন কিনলো?... আর তিনি ওর সঠিক মাপ কিভাবে বুঝলেন??... ছিঃ ছিঃ কি লজ্জার বিষয়, লোকটা এগুলোও বুঝে নিয়েছে।
তারপর কিয়ারা পোশাক পড়ে ওয়াশ রুমের দরজায় নক করল। প্রায় নক করার সাথে সাথেই দরজা খুলে ভেতরে চলে এলো লোকটা। যেন তিনি ওর ডাকের অপেক্ষাতেই দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তারপর কিয়ারা কে আবার কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল। তারপর একটা বড়সড় তোয়ালে দিয়ে ওর চুলগুলো এলোমেলো ভাবে পেঁচিয়ে দিল। কারণ চুলের পানিতে জামার ব্যাকসাইড পুরোটা প্রায় ভিজে গিয়েছে। যেহেতু ওর চুলগুলো বেশ বড়সড় রকমের লম্বা।
তারপর একটা পানির গ্লাস এগিয়ে দিল ওর সামনে। কিয়ারা গ্লাস টা হাতে নিতেই, তিনি ওর দিকে আবার দুটো ট্যাবলেট এগিয়ে দিলেন। গতবারের মতো কিয়ারা বুঝতে পারলো এগুলো কিসের ট্যাবলেট দিচ্ছে ওকে লোকটা।
কিন্তু তাও জিজ্ঞেস করল…
ঃ- এগুলো কিসের জন্য??...
ঃ- তুমি তো ঠিক ভাবে দাঁড়াতেই পারছো না। তাই এগুলো, যাতে তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাও। নাহলে বাড়ির সকলের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে তো। তাড়াতাড়ি ভালো বউয়ের মতো খেয়ে নাও।
তারপর কিয়ারা আর কোনো প্রকার প্রশ্ন না করেই ওখান থেকে একটা ওষুধ মুখে পুরে নিল। মাহাদ ওকে ওষুধ খেতে দেখে ওয়াশ রুমে ঢুকে গেল। এদিকে কিয়ারা অন্য ওষুধ টা বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। এখন এই কাজ টা কি ও আগাম চিন্তাভাবনা করে করেছে সেটা নাকি কিছু না ভেবেই এই অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য কাজ টা করে ফেলেছে!... সেটা ও নিজেই হয়তো ভালো জানে।
— — —
সকালে কিরণের ডাকে কিয়ারার ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুম থেকে উঠে বিছানায় কিছুক্ষণ গড়াগড়ি খেয়ে উঠে বসলো।
ঃ- মুচড়ামুচড়ি বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হ। কলেজে যেতে হবে আমাদের, সেটা ভূলে যাস না।
কিরণ রেগেমেগে চিৎকার করে বলে উঠলো। কিয়ারা এবার তড়িঘড়ি করে উঠে কলেজের ড্রেস নিয়ে ওয়াশ রুমে দৌড় মেরেছে।
ওরা খাঁন ম্যানশন থেকে পরের দিন বিকালে সকলে চলে এসেছিল। কিয়ারা যখন চলে আসছিল, বারবার এদিকে ওদিকে খুঁজেছিল তাকে। কিন্তু তিনি কোথাও ছিলেন না। কিয়ারা খুঁজে পায়নি তাকে চলে আসার সময়। তারপর কেটে গেছে গোটা এক সপ্তাহ। লোকটার সাথে ওর সেদিন রাতের পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বোধহয় আবার গায়েব হয়ে গিয়েছেন। তবে রাহুল ভাইয়ার কাছ থেকে ও খবর শুনেছিল যে, উনি নাকি ঢাকায় গিয়েছেন, উনার মায়ের কাছে।
কিন্তু তাই বলে কি ওকে একটা ফোন ও দিতে পারছে না??.. এতো কিসের ব্যাস্ততা উনার?..
খবিস লোকটা সবসময় ওর সাথে এমন করে। ও নিজেও আর লোকটার সাথে কথা বলতে চাইবে না। আর বদমাইশ লোকের ফোনের আশায় বসে থাকবে না।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই কিয়ারা ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে এলো। তারপর বেল্ট বেঁধে, স্কার্ফ বেঁধে কলেজের ব্যাগটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমে এসে দাঁড়ালো। তারপর কিরণ কে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে এলো।
কলেজে এসে দাঁড়িয়েছে সবে মাত্র, হঠাৎ ওদের দলের বাকি গুলো এসে হামলে পড়লো ওদের উপর।
ঃ- কিরে কি করছিস??.. মেরে ফেলবি নাকি??.. সর সর এভাবে কলেজে ঢুকতে না ঢুকতেই সবকটা এসে চেপে ধরলি কেন??...
কিয়ারা রাফিয়া কে সরাতে সরাতে বলে উঠলো।
ঃ- বান্ধুপি কাহিনী তো ঘইট্টা গেছে। তোরা এখনো জানো না।
রাফিয়ার কথা শুনে কিরণ বলল…
ঃ- কেন, কি হয়েছে?.. আর না বললে আমরা জানবো কিভাবে শুনি??..
ঃ- মেঘলার পিছনে যেই সিনিয়র ভাইয়া টা চড়কির মত ঘুরঘুর করতো না!...
ওকে পুরো কথাটা শেষ করতে না দিয়েই কিয়ারা মাঝখানে বলে ফেলল…
ঃ- হ্যাঁ সেটা তো আমরা আগে থেকেই জানি। তারপর কি হলো সেটা বল??.. সেই ছেলেটি কি অন্য কাউকে পটিয়ে নিয়েছে??...
ঃ- এই বেডি, কথার মধ্যে বাম হাত ঢুকাবি না বলে দিচ্ছি। আগে আমাকে বলতে তো দিবি নাকি!..
শোন, তারপর যেটা হলো আজকে আবার ঐ ভাইয়া টা মেঘু কে প্রপোজ করেছে। তারপর মেঘু অনেক ভেবে চিন্তে প্রপোজাল এক্সেপ্ট করে ফেলেছেএএএএএএএ…. ।
ঃ- কিহহহহহহহহহহহ!.... এতো বড় সিনেমা টা মিস্ করলাম । সব এই ছেমড়ির জন্য হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ওকে ঘুম থেকে উঠতে রিতিমত যুদ্ধ করতে হয় আমাকে। উফফফ্….
কিরণ কিয়ারা কে ধাম করে একটা কিল মেরে বলে উঠলো। কিয়ারা পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলল…
ঃ- সব দোষ এখন আমার হয়েছে, তাইনা??... আচ্ছা মেঘুর বাচ্চা তাহলে আমাদের বাদ রেখে প্রপোজাল এক্সেপ্ট করলো কেন??... এই তুই কি আর একটু অপেক্ষা করতে পারলি না!..
মেঘলার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো কিয়ারা। মেঘলা মিন মিন করে বলল….
ঃ- আসলে আমি তোদের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু ছেলেটা অনেক ক্ষণ ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিল। তাই আর দেরি না করে আমি দয়া মায়া দেখিয়ে তাড়াতাড়ি এক্সেপ্ট করে নিয়েছি।
ঃ- আহা এসেছেন , দয়ার সাগর নিয়ে। তোকে একটা লাত্থি মারতে ইচ্ছে করছে এখন। সর সামনে থেকে খচ্চর বেডি।
এই বলে কিয়ারা ক্লাসে চলে গেল। বাকিরাও ওর পিছনে পিছনে ক্লাসে ঢুকে গেল।
---চলবে---
ইনশাআল্লাহ