“ সন্ধ্যার ভায়োলিন ”— ০২ [১'ম খন্ড]
❝উপন্যাস #সন্ধ্যার_ভায়োলিন ❞পর্ব–০২
লেখিকা #বৃষ্টি_ইসলাম
#সিজন_০১
#পর্ব_০২
[০১.]~
শিফা মাথা নেড়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। তৎক্ষণাৎ কফির মগটা টেবিলে রেখে সেখান থেকে কেটে পড়ল, পা দ্রুত করে দরজার দিকে। আব্র হাসল ক্ষীণভাবে। সে রিভলভারটা নিয়ে আবার আলমারির লকারে সাবধানে রেখে দিল। হঠাৎই আলমারির ভেতর আরেকটা জিনিস নজরে পড়ল, একটা ভায়োলিন! পুরনো, কিন্তু তার সোনালি স্ট্রিংগুলো বোধহয় আজ-ও কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। আব্র ভায়োলিন হাতে তুলে হাঁটা দিল পুকুর ঘাটের দিকে।
মহলের বাগান থেকে পেঁচার গম্ভীর হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে বোধহয়। চারদিক থেকে মাগরিবের আজান ভেসে এসেছে বহু আগেই। যার দরুন অহু ছাদ থেকে নেমে সরাসরি নিজের রুমে চলে গিয়েছে। ওযু করে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিল। পালঙ্কে বসে ফোন চাপছে এক হাতে আর অন্য হাতে চামচ দিয়ে সেমাই খাচ্ছে। দৈবাৎ বিদ্যুৎ গতিতে কেউ অহুর রুমে প্রবেশ করল। অহু হকচকিয়ে উঠল, ভ্রু জোরা টেনে কুচকাল ভীষণ। পালঙ্ক ছেড়ে নেমে মেঝেতে দাঁড়াল। মুঠোফোনটা সাইড টেবিলের উপর রেখে, ভালো করে আশপাশ পরোখ করল। এ'তো অচেনা কেউ নয় অহুর হোম টিউটর তানহা মিস নিজেই। হঠাৎ কী হলো উনার? আশ্চর্য!
[📌 নোট— উপন্যাস এ ব্যবহৃত হয়েছে অহু ভার্সিটিতে পড়াকালীন কোচিং + প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ে। এই কাহিনি টুকু শুধু উপন্যাস এর কিছু অংশের প্লটে ব্যবহার করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে। ]
অহু ঠোঁট বাঁকিয়ে প্রবল বেগে প্রশ্ন ছুড়ল।
“কি হয়েছে মিস, আপনি হাঁপাচ্ছেন কেনো? কী এমন দেখেছেন হঠাৎ?”
তানহা পা এগিয়ে সোফায় গিয়ে বসল। কিছুটা থেমে দ্রুত আওড়াল।
“অহু তোমাদের বাড়িতে ঐ সুদর্শন ছেলেটা কে? আমি তো আগে কখনো দেখিনি, ছেলেটা কত হ্যান্ডসাম ইশ প্রথম দেখায় প্রেমে পরে গেলাম আমি।”—
অহু চমকালো, এ-কান্ড। মেয়ে মানুষও তাহলে আজকাল ছেলেদের দেখে টাসকি খায়। কিন্তু অহু কিঞ্চিৎ ভাবনায় বিভোর। ঠিক মিলিয়ে উঠতে পারলো না যেনো কার কথা বলছে তানহা। অহু মনে মনে আওড়ালো,
“কি বলছে মিস কাকে দেখল? কে এত হ্যান্ডসাম আবার এ-বাড়িতে?”
পরক্ষণেই অহু'র মস্তিষ্ক খুঁজে পায় সে প্রশ্নের উওর। নামটা অন্তরিন্দ্রিয়ে বাজতেই দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। বিরক্তিকর সহিত বুলি ছুড়ে মৃদু স্বরে।
“তানহা মিস ওটা তো আমার আব্র ভাইয়া আজকে কে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছে। আপনি উনাকে দেখে প্রেমে পড়ে গিয়েছেন। আশ্চর্য!”—
তিশা লাজলজ্জা ভুলে যায়। খাণিক লজ্জা পেয়ে আওড়ায়,
“কি যে বল?এত সুন্দর হ্যান্ডসাম ছেলে দেখলে কে না ফিদা হবে। কী সুন্দর করে ভায়োলিন বাজাচ্ছে পুকুর ঘাটে বসে। তুমি একটু উনার ফোন নাম্বারটা জোগাড় করে দাও না আমায়। আমি তো সিঙ্গেলই আছি।”
তানহার বেশরম কথাবার্তা শুনে অহুর কান ল
রক্তিম হয়ে ওঠে। ছাত্রীর সামনে শিক্ষক তার ভাইয়ের প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছে। কী লজ্জার কথা? গুরুজনেরা হয়তো সত্যিই বলে, প্রেমে পড়লে মানুষ লাজলজ্জা ভুলে যায়। অহুর চোয়াল চেপে আসে। কিঞ্চিৎ রাগ হচ্ছে তার এই বেশরম কথা শুনে। তানহার থেকে নজর টেনে এনে মেঝেতে নামায়। অতঃপর আর কথা না বাড়িয়ে পড়ায় মনোযোগ দেয় অহু। একটু পরে নিয়াও আসে। কারণ তাহা দু'জনকেই পড়ায়।
--------------------------
রাত ১০টা,
অহু নিজের কক্ষ থেকে বেড়িয়ে মহলের নিচতলায় আসে। এতক্ষণ এই মহলটা মানুষে গিজগিজ করছিল। কানের পোকা নড়ে গেছে অহুর। বেশ ক্ষুদা লগেছে, ডাইনিং টেবিলের একটা চেয়ার টেনে বসল। আশপাশে নজর বুলাল, বেশ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। অন্দরমহলের বাহির হতে কথোপকথনের আওয়াজ ভেসে আসছে। অহু চমকালো ভীষণ, প্রতিদিন এই সময় সবাই ডিনার করে। অথচ আজ কেউ নেই ডাইনিং এ। সবাই কোথু গেল, অহুকে রেখেই সবাই খেয়ে ফেলেছে নাকী?
দৈবাৎ রন্ধন শালা থেকে মহলের কর্তীদের আওয়াজ ভেসে আসল। অহু কন্ঠ স্বর দীর্ঘ করল, উচ্চ স্বরে সুধালো ভীষণ।
“আম্মা, কাকিজান কোথায় তোমরা সবাই? আজকে কি ডিনার করবে না? নাকী ডিনার করে ফেলেছো আমায় রেখে।”
ভ্রু কুঁচকিয়ে চেয়ে রইলো উওরের প্রত্যশায়। পরক্ষণেই অহুর আম্মিজান রন্ধন শালা হতে বেড়িয়ে আসলেন। ক্ষীণ কন্ঠনালী আওড়িয়ে জবাব ছুঁড়লেন,
“অহু আজকে একটু পরে খাবার খাবো। আব্র মহলের বাহিরে গিয়েছে পুরান ঢাকা। আব্র আসলে সবাই একসাথে খাবার খাবো। তুই একটু অপেক্ষা কর, আব্র চলে আসছে বোধহয়।”
পুনরায় আদিক্ষেতা দেখে অহু বেজায় রেগে গেল। অভিমান গুচলো মায়ের প্রতি। ভ্রু জোরা টেনে কুচকাল, কপাল চাপড়াল। আওড়াল,
“দেৎ খাওয়া লাগবে না। নিজের ভাইয়ের ছেলের প্রতি দরদ উতলে পরেছে একেবারে।”
বলেই অহু এক পা দু পা করে হেঁটে চলে আসল নিজ কক্ষে। জানালার পর্দা টেনে দিল। পেটে হাত দিয়ে ধপাস করে পালঙ্কে শুয়ে পরে। ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছিলো বটে। যাক গে ছাই, অভিমান চেপে ধরেই বালিশে গা এলিয়ে দিল।
[০২.]~
খান মহল, রাত ১টা।
আব্র বসে আছে নিজ কক্ষের বারান্দায়। পরনেতার হাফ হাতার ধূসর রঙের গেঞ্জি।
মনের গহীনে কোথাও একটা শূন্যতা কাজ করছে।
কিন্তু কি সেটা? আব্র আদৌ নিজেও জানে না, বুঝতে পারে না, সেই শূন্যতা পুরোনো অনুভূতি।
শুধুই ভাসে পুরোনো স্মৃতি!
বারান্দায় নিশি রাতের হাওয়া বয়ে বেড়াচ্ছে। অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। আব্র এই বারান্দায় বসে আর ভাবে না তার ভবিষ্যৎ। অনেক দিন পেরুলো ফিরে আসে না আর সে অতীত। বিষাদময়ী ভ্রম এক সে,
আব্র টাওজারের পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করল। কাঠির ম্যাচ দিয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে বেধরম টানতে লাগল। দৈবাৎ কক্ষের ভিতর হতে রিং বেজে উঠে ফোনের। আব্র উঠে দাড়ায়। এগিয়ে গিয়ে ফোনটা হাতে নেয়। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠা মাঝারি অক্ষরের নামটা দেখে ভীষণ বিরক্ত হয়।
“জিসা”
কপাল কুচকায়, ভ্রু যুগলে বিষন্ন ছাপ।
কলটা কেটে গেল, রিসিভ করল না আব্র। ফোনটা পালঙ্কে ছুঁড়ে মারল। জিসা হলো আব্রর ক্লাসমেট। ভীন দেশে পারি জমানোর পূর্বের রাতটাও ছিল আব্রর নির্ঘুম এবং বিদেশ থেকে আসার পরে আজকের রাতটা ও কাটল নির্দাহীন নির্ঘুম রজনী। কিছু বিষন্ন স্মৃতির ভ্রম থাকে যা মানুষকে জাগিয়ে রাখে। তদ্রূপ অন্ধকারের আলো ভেদ করে যখন সূর্য আকাশের উঁকি দিচ্ছিল, তখন আব্রর চোখ লেগে যায়।
অন্যদিকে ঠিক একই প্রহরে চন্দ্রের ন্যায় চন্দ্রাবালার চোখ প্রসারিত হয়ে ঘুম ভাঙ্গে। পাখ-পাখালির কিচিরমিচির শব্দ ভেসে আসে মহলের বাগান থেকে, পুনরায় একটা সুন্দর ভোরের সূচনা হয়। নামাজ পরে কাঠের তৈরি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল অহু। অতপর একটা সাধারণ টপস পরে মাথায় হিজাব পেচিয়ে বেরিয়ে পড়ল নিহা এবং শিফার সঙ্গে মর্নিং ওয়াকে। কিছুপথ হাঁটতেই শিফা দাড়ায়, শ্বাস টেনে এনে গহীনে নিয়ে আওড়ায়।
“এই অহু তুই আব্র ভাইয়াকে দেখেছিস? আব্র ভাই কত স্মার্ট হয়ে গেছে তাই নারে। কত্ত হ্যান্ডসাম আমাদের ভাই। মেয়েরা দেখলেই টাস্কি লেগে যাবে।”
অহু'র চোয়াল চেপে আসল। ভ্রু কুঁচাল ভীষণ। তবে কথা বাড়াল না। ঠোঁট উল্টিয়ে শুধু প্রতুত্তরে “হুম।”বললো। কালকে রাতের চেপে রাখা অভিমানটা আবার জাগ্রত হল। আগে মহলে শুধু অহুর প্রশংসায় করতো সকলে। এখন অহুর প্রশংসার ভাগ বসাতে কোন ভীন দেশ থেকে উরে এসে খান মহলে জুড়ে বসল। সবার মুখে আব্রর প্রশংসায় শুধু শুনছে অহু। কানটা তার বিষিয়ে উঠল।
-----------------------------
সকাল বেজে ৮টা,
ডাইনিং টেবিলে সকলে বসে আছে আব্র ব্যতীত। অহু মাথা নিচ করে খাবার খাচ্ছে। দৈবাৎ অহুর আম্মি ঝাঁঝাল কণ্ঠে আওড়ায়।
“কিরে, কাল রাতে তোকে এত ডাকলাম। তবুও তুই খেতে আসলি না কেনো?”
অহুর অভিমানী কন্ঠের স্পষ্ট জবাব।
“ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তাই ডাক শুনতে পারি নি।”
আর কোন প্রশ্ন এলো না। সকালের নাস্তা শেষ করে রেডি হয়ে অহু চলে গেলো জগন্নাথ ভার্সিটিতে। একই বাড়িতে আব্র এবং অহু রয়েছে কাল হতে। কিন্তু এখনো অব্দি তাদের দেখা হয়নি।
দুপুর ১২ টা।
অন্দরমহল হতে ভেসে আসা চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙলো আব্রর। নিজ কক্ষ হতে বেড়িয়ে নিচ তলায় নেমে আসে। দৈবাৎ ঘুম কাতুরে নজর অবরুদ্ধ হয় কিছু প্রতিচ্ছবির পানে। আব্রর ফুপি এসেছে, সঙ্গে আশাফ আশফিও। আশাফ আর আব্র সেইম ইয়ারের। আব্র তার ফুপিকে দেখে উষ্ঠা প্রসারিত করল। হাসি ফুটল গম্ভীর মুখে, এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল। সালাম করল। আশাফ দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে আব্রকে জড়িয়ে ধরল।
“হেই- কেমন আছিস। কী ব্যপার আমাদের ছাড়া তো ভালোই ছিলি মনেহয় লন্ডন। কি বডি বানিয়েছিস, ভাইইইই, হ্যা!”
আব্র কাঁধ চাপড়াল।
“তোর নজর লেগে যাবে শালা আমার উপর।”
আব্র আর আশাফ দু'জনেই আড্ডায় মেতে উঠল। আশফি অহুর ফেরার অপেক্ষায়।
অতঃপর দুই ভাই স্নানসম্ভব করে বাহিরে বেরিয়ে গেল। গাড়িতে চড়ে ঢাকার ব্যস্ত অলিগলিপথ ধরল। যানজটে গাড়ি আটকে পড়ল। আব্র ড্রাইভিং সীটে বসে গাড়ি চালাচ্ছে, তখন গাড়িটা স্থির। আশাফ গিয়েছেন এক সাড়তে। আব্র সানগ্লাসের ফাঁক দিয়ে চেয়ে আছেন ঢাকার উচ্ছ্বসিত ব্যস্ততার দৃশ্য। হঠাৎ এক পথচারিণী রাস্তা পার হচ্ছেন এমন সময় এক বিশাল মালবাহী ট্রাক এসে তাঁকে পুরোপুরি পিষ্ট করে চলে গেল। মুহূর্তেই চারপাশে চিৎকার-চেঁচামেচির মহানাদা উঠল। আব্রও হতবাক, কী থেকে কী হয়ে গেল এত তাড়াতাড়ি!
দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে ভিড় ঠেলে সামনে এগোতেই দেখল, মহিলার মস্তকের উপর দিয়ে ট্রাক গড়িয়ে গেছে। সম্পূর্ণ মাথা থেঁতলো হয়ে গেছে। রক্তের নদী বইছে, রাস্তা পুরো বিভীষিকাময় চেহারায় রঙিন। সকলে মুখে হাত চেপে চিৎকার করে উঠছে। কিন্তু আব্র একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। এই করুণ বিভৎস লাশ দেখেও তার কোনো হেলদোল নেই। সে তো মানুষই, তবুও কেন তার অন্তরে কোনো উথাল-পাথাল নেই? তার মস্তিষ্ক এই ভয়াবহ দৃশ্যকে এত সহজেই গ্রহণ করে নিল—আশ্চর্য! তাহলে, কী রহস্য লুকিয়ে আছে এই সুদর্শন চেহারার অন্তরালে?
[০৩.]~
ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় পপকন খেতে খেতে মহলে ফিরছে অহু। গাড়িতে চড়ে আসার সময় হঠাৎ বাইরে তাকিয়ে খেয়াল করলো। একটা বাইকের শোরুমের বাহিরে আশাফ দাঁড়িয়ে আছে। অহু আশাফকে এখানে এই সময় দেখে ভ্রু কুচকাল। আশাফও অহুকে দেখল। মহলে চলে আসার পর অহুর মনের ভিতর সংকোচ কাছ করছিল আশাফকে দেখে। কারণ অহু কালকে খান মহলে আশাফকে দেখেনি।
"তাহলে শোরুমের বাহিরে আজ কি করছিল আশফ ভাইয়া?"
মহলে ফিরে অহু দেখল তার একমাত্র ফুপি এসেছে, সাথেই দাঁড়িয়ে আছে আশফি এবং নিহা। আশফি দৌড়ে এসে অহুকে জড়িয়ে ধরে হাঁক ছুড়ল।
“কিরে কেমন আছিস? খুব মিস করছিলাম।”
আশফি অহুর থেকে এক বছরের ছোট তাই তারা একে অপরকে তুই করে সম্বোধন করে। অহু স্লান হেসে সহসা উওর দিল।
“আছি তো বেশ। কাল আসিস নি কেন তোরা?”
আশফি নাক টানল, আওড়াল।
“কাল আশাফ ভাইয়ার দরকারি মিটিং ছিলো রাতে বাড়িতে ফিরেছিল। তাই আর কাল আসতে পারি নি।”
অহু মাথা ঝাঁকায়, কলবে চেপে ধরা প্রশ্নটা বাহিরে টেনে আনে৷
“আচ্ছা আশফি আশাফ ভাইয়া কোথায় গেছে তুই কি জানিস?”
“দুপুরেই তো আব্র এবং আশাফ ভাইয়া একসাথে বাহিরে চলে গেলো। কিন্তু কোথায় গিয়েছে আমি জানি না।”
অহু ঠোঁট চাপল।
“ও আচ্ছা ঠিক আছে। সমস্যা নেই, চল আমরা উপরে যাই।”
পরক্ষণেই অহু তার ফুপির সাথে স্বাক্ষাৎ করে মহলের ওপরে চলে যায় আশফির সাথে।
এমনই সময় অপর দিকে আশাফকে তীক্ষ্ণ কন্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ল আব্র।
“ কিরে আশাফ তুই রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছিস কেন? কোন মেয়ে টেয়ে দেখে টাসকি খেলি নাকী?”
আশাফ কপাল চাপড়াল, বলল।
“আরে না ইয়ার রাস্তা দিয়ে অহু যাচ্ছিল গাড়িতে করে। তাই তাকিয়ে ছিলাম।”
আব্র থমকালো ভীষণ, ঘাড় কাত করে পিছন ফিরল। আশাফের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে তাকাল, উদ্বিগ্ন হয়ে আওড়াল মৃদু স্বরে।
“কে যাচ্ছিল?”
“অহু!”
এ-প্রথম কেউ আব্রর সামনে অহুর নাম নিল!
অহুর নাম শুনতেই আব্রর বাম নিলয়ের কম্পন তীব্র হয়ে গেল। বাম পাঁজর কেঁপে উঠল ভূমিকম্পের তুল্য
#চলবে #পাঠক?