ফন্ট সাইজ:
থিম:
সন্ধ্যার ভায়োলিন

৫ম পর্ব

লেখক: বৃষ্টি ইসলাম

“ সন্ধ্যার ভায়োলিন

#লেখিকা #বৃষ্টি_ইসলাম 
#সিজন_০১
#পর্ব_০৫
[০১.]~
হঠাৎ চোখটা লেগে আসলো আব্রর। চোখ বুজতেই কিছুক্ষণ পর আব্র অনুভব করলো তার মস্তিষ্কের কল্পনাতে কিছু ভাসছে।কোন এক অবয়ব, ঘোলাটে প্রতিচ্ছবি তার। সে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। ছোট ছোট এলো কেশ। অন্ধকারে অবয়ব না বুঝা গেলেও বুঝতে পারা যায় তার যায় তার উপস্থিতি। যা আব্রর ঘুমন্ত মস্তিষ্ক জুরে বিচরণ করছে।
তার অবয়ব দেখার আগেই হঠাৎ করে জেগে উঠলো আব্র। আব্র একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো, স্লান হেসে নিঃশব্দে সুধালো।
 ❝অস্পষ্ট স্বাক্ষাতেই তুমি আমার মস্তিষ্কের পিছু নিয়েছো। বুঝো কতটা ভয়ঙ্কর তুমি?❞
আব্র পাশ ফিরে তাকালো। পরোখ করলো জিসা আব্র'র সাথে কিঞ্চিৎ হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে। কিছুটা বিরক্ত নিয়ে জিসাকে স্বাভাবিক করে তার সিটে বসালো আব্র।
অপর পাশে তাকালো, দেখলো ডেভিড তার ফোনে কিছুর ছবি দেখছে জুম করে। আব্রও বসে রইলো কিন্তু আর ঘুমালো না। হঠাৎ আব্রর মনে পরল আজ তো মহলে আব্রর জন্য সবাই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। আব্র জিভ কাটলো, ভাবলো এয়ারপোর্টে নেমে আশাফকে একটা মেসেজ করে জানাবে।
~
~
খান মহল, দুপুরে মধ্যে লগ্ন। 
চারপাশ হতে ফজরের আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে। যার দরুন গোসল করে জোহরের নামাজ পড়ে নিলো।
তৈরি হচ্ছে অহু। আজ মহলে অনুষ্ঠান, তবে যার জন্য এই আয়োজন তার এখনো কোন খোঁজ নেই ! আব্র ভাই এখনো মহলে ফিরে নি, কেউ জানে না তার খবর। মহলের সবাই অনেক চিন্তিত বিশেষ করে আলিনা খান। আব্রকে সবাই এখন অব্দি কল করেই চলেছে। কিন্তু তার ফোন এখনো বন্ধ বলছে। 
অহু তৈরি হয়ে নিতে নিতে দেখলো নিহা এবং আশফি রেডি হয়ে ইতিমধ্যে চলে এসেছে অহু'র রুমে। অহুও তাদের সাথে তৈরি হয় অন্দর মহলের নিচতলায় পা বাড়ালো। খান মহলে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আলাদা করে হল রুম রয়েছে।
অহু সহ সবাই পৌঁছালো সেখানে। সুক্ষ্ম নজর দিয়ে পরোখ করলো অহু, দেখলো হলে ইতিমধ্যে সকল অতিথি'রা উপস্থিত হয়েছে।সকলে আব্রর কথা জিজ্ঞেস করছে। সবাইকে আজমল এবং আলিনা খান কোন একটা বলে বুঝিয়ে দিচ্ছে। অহু নিজেও আব্রকে তালাশ করছে। তার মন'টাও বেজার। অহু, আশফি, শিফারা সবাই মিলে ফটোসুট করছিলো। একটা আগন্তুক মেয়ে ফটো তুলে দিচ্ছিলো তাদের। মেয়েটা হঠাৎ কিছু একটা নজর করে বুলি ছুড়ল।
“অহু তুমি একটু হাসো। তোমাকে কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে মুখে হাসি নেই কেনো?”
সবাই অহু'র দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ টিপলো শিফা হেসে। সাদা একটা চুড়িদার পড়েছি অহু আজ। হালকা একটু সেজেছে, কপালে একটা ছোট্ট টিপও দিয়েছে। চিকন কাজল এঁকেছে আঁখি যুগলে। সবাই বলছে অহুকে বেশ সুন্দর লাগছে।
অহু মনে মনে ভাবছে,
“আচ্ছা, আব্র ভাইয়াও কি আমাকে দেখে চমকে গিয়ে বলবে “তোকে তো বেশ সুন্দর লাগছে।”
কথাগুলো আনমনে ভেবেই নিজেই হেসে উঠছে। লজ্জায় মুখ লুকালো। পরক্ষণেই ভাবলো হঠাৎ আব্র ভাইয়া'কে নিয়ে ভাবার এ কারণ কী? অহু এ-সংলাপও আওড়াচ্ছে মনে মনে।
একটু পর পারুও চলে আসলো হলে।
পারু'র বাসা খান মহল থেকে কিছুটা দূরে। পার'র আব্বু আর অহুর আব্বু খুবই ভালো বন্ধু। পারু আসতেই গল্প জুড়ে দিলো অহু। হঠাৎ করে আশাফ মহলের বাহির থেকে ছুটে আসলো হতদন্ত হয়ে। উদ্বিগ্ন হয়ে আওড়ালো আজমল খানের নিকট দাঁড়িয়ে, 
“আব্র লন্ডনে চলে গিয়েছে। মাত্রই মেসেজ করে বললো আমায়।”
আশাফের কথা শুনে আজমল খান রেগে আগুনে হয়ে উঠলেন। শীতল চক্ষু দ্বয় পরক্ষনেই রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। রাগে ফুঁসতে থাকলেন। চোয়াল চেপে আসলো তার। হলরুম থেকে বেড়িয়ে অন্দরমহলে চলে আসলেন। পিছন পিছনে সকলেই আসলেন। আজমল খান কাঠের সোফায় গিয়ে বসলেন। পরক্ষণেই রাগ৷ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলিনা খানকে কথা শোনাতে লাগলেন। 
“দেখেছো আব্রর আম্মু, দেখো তোমার ছেলের কান্ড দেখো।”
আলিনা খান এগিয়ে আসলেন। আকুতিভরা কন্ঠে বুলি ছুড়লেন।
“আপনি শান্ত হন। হয়তো কোন দরকারে গেছে, চলে আসবে আব্র। ”
মুহুর্তেই জবাব আসল।
“আর কত আহ্লাদী দিয়ে মাথায় তুলবে। সবার সামনে আমাকে আজ ছোট করলো সে।”
“আপনি চুপ করুন,সবাই শুনবে। আব্র চলে আসবে ঠিকই। চিন্তা করবেন না।”
কর্কশ কন্ঠ স্বর।
“আমার সামনে তোমার ছেলের সাফাই গাইতে আসবে না একদম।”
আজমল খান বেজায় রেগে আছেন। 
অনুষ্ঠানে আসা অনেকেই বিষয়টা আড়চোখে পরোখ করলো। নানারকম কথা বলতে শুরু করলো অন্তরালে। 
আজমিন খান, আজমল খানকে বুঝিয়ে মহলের বাহিরে নিয়ে গেলেন কিছু মুহূর্তের জন্য। সবাই'কে আলিনা খান “ সরি ” বলে বিদায় দিয়ে দিলেন। কি আর করার?
অহু এ-পুরো কাহিনী'টাই নিজ চোখে পরোখ করেছে। তার মনটাও অনেকটাই আপসেট হয়ে গেলো এরকম ঘটনায়। উদাসীন হয়ে পরলো কিছু ভেবে। অজানা মেঘ বাসা বাঁধলো অন্তঃকোণে। পারু'কে নিয়ে চলে গেল অহু নিজের রুমে। পারু'র সাথে অনেকক্ষণ গল্প গুজব করার পর পারুও চলে গেল তাদের বাসায়। অহু'র পরনে এখনো অনুষ্ঠানের ড্রেস'ই। পারু বেড়িয়ে যেতেই অহু পালঙ্কে গা এলিয়ে দিলো। চোখ বুঁজলো, ভাবতে থাকলো। 
“আব্র ভাইয়া কেন চলে গেলেন? নিচে সবাই বলছিল আব্র ভাইয়া কেন চলে গেছে? কিন্তু আমার মনে ব্যতিক্রম প্রশ্ন কেনো? কবে আসবে আবার আব্র ভাইয়া ? আমি কি আরেকটি বার তাকে দেখতে পাবো? না মানে উনাকে আরেকটি বার দেখতে ইচ্ছে করছে। স্বাক্ষাত হলে একবার জিজ্ঞেস করতাম উনাকে উনি কি আমার পরিচিত কেউ আদো।? আমার মন এপ্রশ্ন বারংবার করছে আমায়। আমার কেনো মনেহয় উনাকে আমি চিনি, আগেও দেখেছি কোথাও। বেশ পরিচিত আমরা দু'জন। নাকী এ-কল্পনা শুধুই ভ্রুম।”
এসব আলাপন ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়লো অহু। মন খারাপ আর একরাশ অভিমান বুকে বেঁধে। শতশত প্রশ্ন মস্তিষ্কে জুড়ে।
[০২.]~
দুবাই,
দুবাই এয়ারপোর্টে আব্র'রা পৌঁছেছে কিছু সময় পূর্বেই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর একটা ব্ল্যাক বি.এম.ডাব্লিউ গাড়ি এসে আব্রদের রিসিভ করে নিয়ে গেল। দুবাইয়ের রাস্তা দিয়ে আপন মনে এগিয়ে চলছে গাড়ি।
বড় বড় ইমারত পেরিয়ে গাড়ি এসে থামলো একটা 5★ হোটেলের সামনে। আব্র খুবই ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত তাই আর অপেক্ষা না করে চলে গেলো হোটেলের ভিতরে।
নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নেয় আব্র। খুব ক্লান্ত থাকায় আব্র বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। শরীর অনেক ক্লান্ত ছিল তাই চোখের পাতা এক করতেই ঘুমের দেশে তলিয়ে যায় আব্র।
~
~
খান মহল, সন্ধ্যার পর।
অহু ঘুম থেকে উঠে মহলের নিচে নামলো। দেখলো মহলের সবাই অনেক চিন্তিত আব্রর জন্য। আলিনা খান অসুস্থ হয়ে পড়েছে আব্রর এরকম কান্ডে। আজমল খান খুব কথা শুনিয়েছেন আলিনা খানকে।
বলা বাহুল্য বাড়ির সকলেই অনেক অসন্তুষ্ট।
অহুরও মনটাও ভালো নেই।
অহু আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না সেখানে। আলিনা খানের পরিস্থিতি অমুমান করে বেশ খারাপ লাগছিলো অহুর। কত বছর পর নিজের ছেলেকে কাছে পেয়েছিলেন তিনি কিন্তু কী হয়ে গেলো হঠাৎ?
অহু উদাস মন নিয়ে চলে গেলো মহলের ছাদে। ঘষা মাজা উঠে যাওয়া রঙ। শৈবালে ঘিড়ে ধরা দেয়াল। কাঠের নড়বড়ে রেলিং। অহু ছাদে গিয়ে দোলনায় বসে দুলতে লাগল। আকাশের দিকে চাইলো। হঠাৎ অহু'র অন্তরিন্দ্রিয়ে একটা গান বেজে উঠলো। অজানা শর্তে অহু'র উষ্ঠা জোড়া নড়ে উঠলো অভিমান অভিযোগ চেপে ধরে।
“বুকের ভিতর নোনা ব্যথা, চোখে আমার ঝরে কথা!
এপার ওপার তোলপাড় একা
যাও পাখি বলো তারে,সে যেন ভুলে না মোরে!
সুখে থেকো, ভালো থেকো!
মনে রেখো এ আমারে
সোনার ও পালঙ্কের ঘরে রেখে ছিলাম যারে!”
~
বড়ই উদাস উদাস লাগছিলো অহুর নিজেকে! হঠাৎ বক্ষপিন্জর ব্যথা অনুভব করছে শুধু আরেকটি বার আব্রকে দেখার জন্য! এ-ব্যাথার হঠাৎ জেগেছে। হঠাৎ এ-ইচ্ছে মনে চেপেছে। দেখা হলে অহু জানতে চাইবে। কেনো আব্র সবাইকে না বলে লন্ডন চলে গিয়েছে? সবাই কত কষ্ট পাচ্ছে তার জন্য। সে কি জানে না,বুঝে না। একবার বলে গেলে ক্ষতি হতো কী?
এইসব কারণের পিছনে আরো একটি লুকায়িত কারণ আছে। 
প্রথম দেখাতেই চন্দ্রাবালার মনে দাগ কেটে গেছে, আন্দোলন শুরু হয়েছে যেন তীব্র তার প্রস্থানে। অহু মনে মনে আওড়াতে থাকল।
 ❝ব্যাপারটা এমন নয় যে,আমি প্রথম দেখাতেই ভালোবাসে ফেলিছি তাকে। ব্যপারটি খাণিক এরকম তার সৌন্দর্য আমার চোখ উপভোগ করতে চাচ্ছে। তার সৌন্দর্যে আমার বক্ষস্থল কম্পন অনুভব করতে চাচ্ছে। তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমার পৃথিবীটা থমকে যেতে চাচ্ছে। তার সাথের দর্শনের প্রহরে যেন থেমে যায় এই পৃথিবীর সকল হাওয়া, থেমে যায় যেন আলো, অন্ধকারের গতি, থেমে যায় যেন আমার নিশ্বাস যার দরুন আমার পাজরে কম্পন শুরু হবে। আর আমি অস্থির হয়ে পরবো! ❞
নাহ আর ভাবতে পারছে না অহু। এখানে থাকলে এরকমই লাগবে তার। হঠাৎ কী হয়ে গেলো তার। এসব কী বকছে সে?
একটু পর বিষন্ন মন নিয়ে প্রস্থান ঘটিয়ে অহু চলে গেলো আলিনা খানের রুমে। আলিনা খানের শরীর খুবই খারাপ, রক্তচাপ বেড়ে গেছে।শুধু হাসফাঁস করছে আব্রর জন্য। খুবই খারাপ লাগছিলো এই পরিস্থিতিতে অহুর!
[০৩.]~
মধ্যে নিশীথ, দুবাই। 
দুবাইয়ে যখন মাঝরাত, তখন আব্রর ঘুম ভেঙ্গে যায়। অস্থির হয় বিছানায় বসে। পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে Whats app এ ঢুকে। পরোখ করে আশাফের অনেকগুলো মেসেজ এসেছে। মেসেজ'গুলো পড়ে সেরকম গ্রাহ্য করল না আব্র। তবে শেষে একটা মেসেজ এবং ফটো দেখে আতকে উঠল আব্র। আলিনা খানের ছবি, অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে আছেন তিনি। মাথায় পানি ঢালছে কেউ একজন। আব্র বুঝলো, তার মায়ের এরূপ অবস্থার কারণ। অস্থির হয়ে পড়ল আব্র! কিছু একটা ভাবলো তৎক্ষনাৎ, ডেভিড কে মেসেজ করল।
“ Where Are you DeVid? please come to my room and immediately. I'm waiting for you..! ”
আব্র ডেভিড কে মেসেজ দিয়ে রুমের ডোর ওপেন করে চলে গেলো শাওয়ার নিতে।
~
ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে দেখলো ডেভিড, জিসা আব্র'র রুমে। জিসা হালকা ঝিমুচ্ছে। আব্র রেডি হতে হতে বললো দ্রুত।
“আমরা এখনই বেড় হবো। ”
জিসা চমকায়, সংলাপ করে ভ্রুকুটি কুঁচকে।
“ what nonsense Abro? I'm sorry... ”
পুরো৷ সংলাপ শেষ না করতেই আব্র'র কর্কশ কন্ঠ স্বর ভেসে আসল।
“আমি যেহেতু বলেছি এখন যাবো। সো, আমি এখনি যাব। ডেভিড শেখকে ফোন দিয়ে এখনই ইনফর্ম করে দাও। আমরা আসছি,নয়তো প্ল্যান ক্যান্সেল।”
ডেভিট আব্রর crazy look দেখে ভয় পেল। বুঝলো আব্র রেগে আছে। যার দরুন সংক্ষিপ্ত প্রতুত্তর করল। 
“ okay ”
~
~ 
ডেভিড ড্রাইভিং করছে আর পিছনের সিটে জিসা আব্র বসে আছে। আব্র এখনো এংরি মুডে আছে তাই। জিসা আব্রকে কিছু বলার সাহস পেলো না। আব্রর রাগ সম্পর্কে জিসা ডেভিড অবগত।
আধা ঘন্টা ড্রাইভিং করার পর গাড়ি এসে থামলো বাংলো বাড়ির গেটের সামনে। জিসা ডেভিড আব্র গাড়ি থেকে নামলো। একজন শেখ এসে আব্রকে জড়িয়ে ধরে হ্যান্ডসেক করল। এবং বাংলোর ভিতরে নিয়ে গেল। ভিতর থেকে আরেক জন শেখ বলে উঠল ইংরেজিতে।
“হেই আব্র তুমি চলে এসেছো। খুবই ভালো চলো উপরে যাই আমরা। ঐখানে রয়েছে তারা সবাই। চলো আমার সাথে উপরে।”
#চলবে #পাঠক?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন