ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোধুলির রক্তিম শিখা

৫ম পর্ব

লেখক: পরিনিতা

#গোধূলির_রক্তিম_শিখা 

#লেখনীতে_পরিনিতা 
ফ্ল্যাশব্যাক,
দু'পাশে ফসলের ক্ষেত মাঝে বয়ে গিয়েছে আঁকাবাকা উচু প্রায় ১০-১৫ ফুট প্রসস্থ রাস্তা। রাস্তাটা কাঁচা মাটিতে তৈরি করা। সে পাকিস্তানি আমল থেকে ই এ গ্রামের রাস্তাটি এমন। তবে গঞ্জের ওদিকের রাস্তাটা আবার পিচঢালা করা। 
গ্রামের হাই স্কুলের যাওয়ার জন্য এ রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করা লাগে। প্রেমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট হাঁটার পরই স্কুল। স্কুলে যাওয়ার পথের একটা অংশ হচ্ছে মিরা বাড়ির সামনের রাস্তা। যা মিরা বাড়ির রাস্তা নামে পরিচিত। দুপাশে বনজঙ্গলে ঘেরা শুধু মাঝখানে ১০-১৫ ফুট প্রসস্থ রাস্তা । পাশে রয়েছে বাঁশ ঝার। সারাক্ষণ সেখান কাক কা কা করে ডাকে।সে বাড়ির সামনে রাস্তার পূর্বপাশে রয়েছে পুকুরের ঘাট। পাশেই রয়েছে একটা ব্রিজ ওখানে গায়ের যত বখাটেদের আড্ডা। গাঁয়ের যত বাজে আড্ডাবাজি, মেয়েদের উত্তপ্ত করা থেকে শুরু করে গাঁয়ের সমস্ত বাজে ছেলেদের আড্ডা সেখানে। অনেক সময় অনেক মেয়েরা একা আসার সময় এ রাস্তার পাশের বাড়ির উঠানের উপর দিয়ে ক্ষেতের ওদিক দিয়ে চলে যায়।
প্রেমা ও তা-ই করে। কিন্তু ক'দিন হলো সে বাড়ির মেয়েলোকেরা এ ব্যাপারটা নিয়ে অনিহা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছে তাদের বাড়ির উঠানে দিয়ে যেনো কোন স্কুলগামী কেউ না যায়। তাদের অভিযোগ যখনতখন নাকি মেয়েরা বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়ার সময় হাহা হিহি করে। যা বাড়ির গুরুজনদের মোটেও পছন্দ না। 
কিন্তু প্রেমা মোটেও তেমন না। সে বাড়িতে যতই চঞ্চল স্বভাবের হোক না কেনো রাস্তাঘাটে সে মোটেও তেমনটা করে না। তার কাছে সবার আগে বাড়ির সম্মান। সে চায় না তার জন্য অন্তত তার বাবা জেঠার মাথানিচু হোক।
আজ প্রেমা মিরা বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মাথানিচু করেই যাচ্ছিলো একা একা। কারণ, তার সই নিলা আজ আসবে না। তারা রোজ একসাথে ই যায় কিন্তু আজ ওর নাকি জ্বর হয়েছে তাই যাবে না বলেছে। নিলা আর তার বাড়ি পাশাপাশি ই।
প্রেমা বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো মেম্বারের ছেলে হাসেম হাতে একটা গোলাপ নিয়ে কেমন বিশ্রী ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। 
এ ছেলেটা বরাবরের মতই বেয়াদব স্বভাবের। কিছুদিন আগেও বিচার বসেছিলো এর নামে, দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক আপুর গালে নাকি জোর করে চুমু খেয়েছিলো। বিচারে অবশ্য তেমন কিছু ই হয়নি। ওই আপুটার বাবা হতদরিদ্র তার টাকার জোর কম ছিলো বলে সুষ্ঠু বিচারও হয়নি। শুধু মেম্বার তার ছেলেকে ধমকেছে এই যা। 
প্রেমার সেসব মনে পড়লেই কেমন গায়ে কাটা দিয়ে উঠছিলো।
প্রেমা দু কদম হাঁটতেই হাসেম এসে সোজা তার পথ আটকে দাঁড়ালো। সঙ্গে সঙ্গে হাসেমের পাশে থাকা ছেলেগুলো ঘাটের বসার জায়গাতে বসে শিস বাজিয়ে নানারকম হাসিঠাট্টা করতে লাগলো। প্রেমা ভেতরে ভেতরে ভীষণ ভয় পেলো। কিন্তু প্রকাশ করলো না। পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই হাসেম আবার ও ওর সামনে এসে দাঁড়ালো। হাসেম ছেলে উচ্চতায় ৫.৫ হবে, শার্টের বোতামগুলো খুলে রেখেছে, মাথায় কেমন বড়বড় চুল। 
প্রেমা হাসেমের দিকে না তাকিয়েই বললো,
" রাস্তা আটকে দাঁড়াচ্ছেন কেনো আপনি? "
হাসেম সেসব কথা উপেক্ষা করে বললো,
" আমি তোমাকে ভালোবাসি। "
বলেই গোলাপটা এগিয়ে দিতেই প্রেমা দু কদম পিছিয়ে গেলো।
বললো,
" মাফ করবেন। আমি এসব পছন্দ করি না। "
বলেই যেতে নিলেই হাসেম প্রেমার গায়ে জড়ানো স্কুল ড্রেসের সাথে ওড়না গায়ে জড়ায়, সে সাদা রঙের ওড়নাটা টেনে ধরলো। প্রেমা চোখ বড়বড় করে হাসেমের দিকে তাকালো। কেমন বিশ্রী ভাবে হাসছে আর বলছে,
" সোজা কথায় ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকাতে হয়। তোর সাহস হয় কি মেম্বারের ছেলেকে এড়িয়ে যাবার? তোর অবস্থা ও ওই মেয়েটার মতই করবো যাতে আর মুখ না দেখাতে পারছ।"
প্রেমা কিছু বললো না কাঁদতে লাগলো আর ওড়না ছাড়ানোর জন্য জোরাজুরি করতে লাগলো। সে ভীষণ ভিতু প্রকৃতির এসব কখনও মোকাবিলা করে নি তাই মেয়েটার আরও বেশি ভয় হচ্ছে। হাসেমের পাশে থাকা ছেলেগুলোও কেমন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগলো প্রেমাকে উদ্দেশ্য করে।
পাশে এক বৃদ্ধ যাচ্ছিলো। তিনি এসব দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসলেন। হাসেম লোকটাকে দেখতে পেয়ে তৎক্ষনাৎ ওড়না ছেড়ে দিলো। প্রেমা সে সুযোগ নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দৌড়াতে লাগলো। 
হাসেম প্রেমার দৌড়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
" পালিয়ে আর যাবে কোথায়! "
_____________________
বর্তমানে অনিক প্রেমার হাত ধরে গরুর মতো টানতে টানতে নিয়ে আসলো। ২০ মিনিটের পথ ১০ মিনিটেই শেষ করলো। মিরা বাড়ির সামনে এসে দেখলো কেউ নেই সেখানে। অনিক জানে হাসেম এ সময়ে কোথায় থাকতে পারে। একটু সামনেই চায়ের দোকানের সামনে তার আড্ডা, রোজা এ সময়ে সেখানেই থাকে। 
নেহাল আর রাসেল এ পথ দিয়েই আসছিলো। অনিককে আর প্রেমাকে এভাবে আসতে দেখে তারা এগিয়ে আসলো।
অনিককে জিজ্ঞাসা করলে অনিক ওদের দিকে আগুন চোখে তাকালো। তারা দু'জন তেমন কিছু বুঝলো না শুধু এতটুকু ই বুঝলো যা হয়েছে প্রেমাকে ঘিরে হয়েছে।
অনিকের পিছু পিছু তারাও চললো। মিনিট দশেকের মধ্যে অনিক একটা চায়ের দোকানের সামনে প্রেমাকে নিয়ে আসলো। চায়ের দোকানে হাসেম সহ তার তিন বন্ধু ছিলো। 
ওরা নিজদের আড্ডাতে মশগুল ছিলো তাই প্রেমাদের দেখতেই পেলো না। হাসাহাসি করছে একে-অপরের সঙ্গে আর বিশ্রী ধরনের গালিগালাজ করছে।
অনিক প্রেমাকে টান দিয়ে হাসেমের সামনে দাঁড়া করালো। হাসেম সঙ্গে সঙ্গে দাড়িয়ে গেলো।
অনিক হাসেমের চোখে চোখ রেখে বললো,
" ওর ওড়না ধরে টান এবার। সুবর্ণসুযোগ দিয়েছি তোকে আমি ভাই হয়ে। টান শরীর থেকে ওড়না। বদনাম করবি না ওরে? কর।"
হাসেম ওর দিকে তাকিয়ে বললো,
" তোর সাথে আমার কোন লেনাদেনা নাই। নিজ থেকে আইয়া নাটক করবি না।"
অনিক দাঁতমুখ খিঁচিয়ে হাসেমকে হ্যাঁচকা টান দিয়ে ওর কলার চেপে ধরে চিৎকার করে বললো,
" টান ওর গা থেকে ওড়না। এখন পারবি না তাই তো?"
বলেই অনিক আশেপাশে তাকালো। কিছু ই পেলো না তেমন। অনিক দেখতে পেলো একটা কাঁচা সদ্য ভাঙা ছোটখাটো মাঝারি সাইজের কড়ই গাছের ডাল পড়ে আছে। সেটাকে নিয়ে হাসেমের দিকে এগিয়ে সাথে সাথে ওর ডান হাত বরাবর বারি দিয়ে বললো,
" দে এবার গায়ে হাত দে। ক্ষমতার বড়াই দেখিয়ে মেয়েদের গায়ে হাত বাড়াচ্ছিস। সবসময় মনে করেছিস পার পেয়ে যাবি? ও আমার বাড়ির মেয়ে। সম্পর্কে আমার বোন হয়। তোর কোন বাপ আছে আমি দেখবো এবার।"
বলেই অনিক একের পর এক বারি দিতেই লাগলো। হাসেমের সাথে দু'জন ও আসতে নিলেই রাসেল আর নেহাল মিলে ওদের দুজনের সাথে মারামারি করতে লাগলো। শেষে হাসেমের সাথের সুজন পালালো হাসেমকে ছেড়ে। কিন্তু অনিক এখনও অব্দি হাসেমকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ই যাচ্ছে। 
প্রেমা অনিককে আটকানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। রাসেল আর নেহাল অনিককে আটকালো। হাসেমকে চায়ের দোকানে পাশে থাকা ক'জন ধরলো।
অনিক আবার চিৎকার করে বললো, 
" ফের কোন মেয়ের ওড়না টানবার আগে একবার আমাকে স্মরণ করিস।"
হাসেম রক্তাক্ত অবস্থায় ও বললো,
" খুব ভুল করলি অনিক। আমার বাপেরে চিনস না তুই? "
অনিক আবার ও ওর দিকে তেড়ে আসতে চাইলো কিন্তু নেহাল আর রাসেলের জন্য পারলো না।
তবুও বললো,
" তোর কোন বাপ আছে অনিকের সামনে নিয়ে আয় যা। "
বলেই অনিক প্রেমার হাত ধরে বললো, 
" চল।"
সেখান থেকে প্রেমাকে নিয়ে চলে আসলো অনিক।
______________
ফুল গোসল করে তার আগের তিন বছরকার আগের একটা সেলোয়ার সুট পড়লো। কিন্তু বেশ সমস্যা হলো তা পড়তে কারণ বয়সের সাথে সাথে মানুষের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন হয়। করিম আলী ছেলেমেয়ের জন্য রাত দিন কষ্ট করে হলেও চাইতেন একটু ভালো ভাবে রাখতে। কিন্তু এক ঝড়ে সমস্তটা কেমন যেনো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলো।
ফুল উঠানের এক পাশে একটা পাঠি বিছিয়ে বসেছে। ফারবিন বেগম মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছেন। আর নিরবে চোখের পানি ফেলছেন। 
ফুল কেমন নীরব হয়ে গেছে। কিন্তু বছর তিনেক আগেও মেয়েটা বেশ চঞ্চল ছিলো। যে কি-না প্রকৃতি প্রেমি ছিলো। সারাক্ষণ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে নিজেকে বিলীন করে রাখতে চাইতো। কিন্তু তা-ও একটা সময় পর নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে তার জন্য, যেনো কোন শকুনের নজরে না পড়ে যায় এ ভুবনমোহিনী । কিন্তু কি হলো! সে-ই তো ভুল করে হলেও নজরে চলেই এলো মেয়েটা। সে ভুল ফুলের গায়ে কাটা হয়ে বিধলো। 
ফারবিন বেগম থালাবাসন ধোঁয়ার জন্য ঘাটে গেলেন। মেয়ের ক্ষতবিক্ষত শরীর দেখে এ ঘরের কারোর পেটে ই ভাত গেলো না। করিম আলী তাড়াহুড়ো করে কাজে গেলেন এই আশায়,মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম কিছু টাকা এনে মেয়ের জন্য ঔষধ কিনে আনবেন। ফয়সালটাও যাওয়ার সময় তার আপুর দিকে ই তাকিয়ে ছিলো। 
ফারবিন বেগম (ফুলের মা) গেলেন ঘাটে থালাবাসন ধোঁয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই তিনি কাজে মন বসাতে পারছেন না। মেয়ের এমন নীরবতা মোটেও ঠিক লাগছে না।
মন পাথর হলে অন্তরাত্মার মরণ হয়, এমনটা ফারবিন বেগম মোটেও চান না। 
ফারবিন বেগম তাড়াহুড়ো করে থালাবাসনগুলো ধুয়ে গেলেন পাকের ঘরের দিকে। ফুল সেখানেই বসে ছিলো আর মাঝে চুলায় পাতা গুজছিলো।
ফারবিন বেগম গিয়ে দেখলেন পাতার আগুন প্রায় ফুলের আঙুল ছুঁইছুঁই। লেগেও গিয়েছে একটু কিন্তু মেয়েটা আগুনের দিকেই তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে আছে। 
ফারবিন বেগম দৌড়ে গিয়ে মেয়ের হাত ধরলেন। আঙুলে ফু দিতে লাগলেন,
ফুল দেখলো তার মায়ের আকুলতা তার জন্য। নিঃশব্দে হাসলো মেয়েটা।
এরপর বললো,
"আম্মা আগুনকে কি করে উপলব্ধি করাই এই ছলচাতুরীর দুনিয়ায় এই নিকৃষ্ট মন আগুন ছাড়াই জ্বলছে অহলের দহনে?"
ফারবিন বেগমের থেকে কোন উত্তর আসলো না।
ফুল ফের আগুনের দিকেই তাকিয়ে রইলো।
ফারবিন বেগম (ফুলের মা) : তোরে আমি একটু দুচোখ ভরে সুখী দেখতে চাই। মরার আগে এইটাই আমার শেষ ইচ্ছা। 
ফুলের তার আম্মার দিকে তাকিয়ে বললো,
" সুখ কি আম্মা? "
ফারবিন বেগম আঁচলে মুখ ঢাকলেন দু কদম এগিয়ে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভারি একটা নিশ্বাস নিয়ে বললেন,
" জানি না। মেলা দিন হইলো সুখের লাগুর পাই না।"
বলেই ফারবিন বেগম পাশের বাড়িতে গেলেন কাজ করতে সেখান থেকে ওনাদের দেওয়া কিছু খুদ এনে রান্নায় চাপাবে পরের দিনের জন্য। 
________
রাতে অনিক বাড়িতে ফিরলো। সেই যে তখন প্রেমাকে বাড়িতে দিয়ে গিয়েছে তারপর থেকে আর দেখা যায় নি তাকে।
অনিক ঘরে ঢুকেই দেখলো হোসেন হাওলাদার (অনিকের বাবা) বসে আছেন গম্ভীর হয়ে। অনিক গিয়ে ওনার পাশে বসতেই উনি উঠে সোজা রুমের দিকে চলে গেলেন।
নুরুন্নেছা বেগম (অনিকের মা) এসে ছেলের পাশে বসে বললেন,
" কাল বিকালে বিচার বসবে মতিনের চায়ের দোকানের সামনে। মারামারি কেনো করতে গেলি মেম্বারের ছেলের সাথে?"
অনিক নিঃশব্দে উঠে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
বলাবাহুল্য যে বাড়ির কেউ প্রেমার কথাটা জানে না। দুপুরে নাকি মেম্বার এসেছিলো বাড়িতে, এসে ওনার ছেলের হাত ভেঙেছে মাথা ফেটেছে, পায়ে চোট পেয়েছে সেসবের বর্ণনা দিয়ে গিয়েছেন কিন্তু কেনো এসব হলো সেসব কিছু ই তিনি উল্লেখ করেন নি। 
অনিক এসব নিয়ে মাথা ঘামায় ও না। সমাজের এসব নীতি নেওয়াজ তার কাছে অহেতুক ই মনে হয়। তার মতে, নারীরা মায়ের জাত। আর সে মায়ের জাতের সম্মানে যে নূন্যতম আঘাত হানবে সে সমস্ত বিচারের উর্ধ্বে। 
অনিক বিড়বিড় করে বললো,
" মাইরের উপরে কোন ঔষধ নাই।"
____________
সকালে প্রেমা ঘুম থেকে উঠেই অনিকেদের ঘরে এলো। অনিকের রুমের দরজা খোলা ই থাকে। প্রেমা দরজা পযন্ত গেলো পর রুমের। শীতের সকালের সোনালী রঙা রোদ জানালা দিয়ে এসে অনিকের চোখে-মুখে পড়ে কি সোনালি, রূপালী পরাগের মতো চিকচিক করছে। 
অনিকের দেখতে একেবারে সিনেমার হিরোদের মতই। গাঁয়ের প্রায় প্রতিটি মেয়েদের কিশোরী মনের তোলপাড় করা যুবক সে। কিন্তু ওর রগচটা স্বভাবের কারণে কোন মেয়েরা সামনে আসার সাহস ও পায়নি। এইতো সেদিন ওদের বাড়ি থেকে দু বাড়ি পরের এক মেয়ে প্রেমার কাছে চিঠি দিয়েছিলো অনিককে। অনিককে বলতেই প্রেমা উল্টো ঝারি খেয়েছে। প্রেমার অবশ্য এ ব্যাপারটা ভালো ই লাগে। এ জন্য ই হয়তো এ পুরুষের জন্য তার এত আকুলতা, এত উদ্বিগ্নতা। কিন্তু এ উদ্বিগ্নতা কখনও প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশ করলে যদি হারিয়ে ফেলে চিরতরে সে ভয়ে প্রকাশ করা ই হয়নি। 
____________
বিকাল হয়ে এলো। হোসেন হাওলাদার স্কুল থেকেই ওদিক দিয়ে বিচারের ওখানে চলে গিয়েছেন।
অনিক এলো বাড়িতে। প্রেমা ঘরেই ছিলো। অনিক সোজা গিয়ে প্রেমার হাতটা ধরে বেরিয়ে গেলো। পেছন থেকে প্রেমার মা ফাইমা বেগম পেছন থেকে জোরে জোরে অনিককে ডাকলেও অনিক একটাবারের জন্য দাঁড়ালো না।
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন