#গোধূলির_রক্তিম_শিখা
#লেখনীতে_পরিনিতা
কাগজ অনিকের হাতে দিয়ে সে লোকটা চলে গেলো। বাড়িতে উপস্থিত সবাই চুপ হয়ে আছেন। ফুল চুপচাপ সবার খাওয়া প্লেট নিয়ে গেলো রান্নাঘরের দিকে।
তারপর এসে সে দরজার ওপাশে দাঁড়ালো। তার ভাবমূর্তি বুঝা দ্বায়। বলতে গেলে পাথরের ন্যায় মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।
সবার নিরবতা ভেঙে অনিক ই বলে উঠলো,
" শহরে ক'দিন পর ই আবেদন করি। সেখানে গিয়ে ট্রেনিং ও দিয়েছি। এতদিন পর আজ এলো ফলাফল। এখানে যাওয়া আমার একান্তই সিদ্ধান্ত ছিলো। বাবা আপনি যদি বলেন তাহলে যাবো না।"
হোসেন হাওলাদারের দিকে সবাই তাকালো।।নুরুন্নেছা বেগমের তো ইতিমধ্যে চোখের পানি ও পড়ে গিয়েছে। হোসেন হাওলাদার কিছুক্ষণ পর গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
" দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছো। যদি সৎ নিয়ত থাকে তবে যাও। নিজের স্ত্রী'র ও অনুমতি নিয়ে নিও, তার অধিকার অবশ্যই আছে এতে। "
অনিকের আড়চোখে দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলের দিকে তাকালো। ফুল নজর লুকালো তার স্বামীর কাছ থেকে। এ নজর বুলানো যে সম্ভব নয় আজ আর। অনিক এসে তার মায়ের হাতে ধরলো, নুরুন্নেছা বেগম আরও জোরে কাঁদতে লাগলেন, তিনি শুনেছেন সেনাবাহিনীতে বছরের পর বছর চলে যায় এক নজর দেখা পাওয়া যায় না, একমাত্র নারী ছেঁড়া ধন তার।
অনিক তার মা'কে জড়িয়ে ধরলো। এরপর নিজের রুমের দিকে রওনা হলো। দরজার ছিটকিনি আটকে নিচের দিকে মাথা নত করে বসে থাকা বউয়ের পাশে বিছানায় বসলো।
অনিকের দু হাতে ফুলের গাল ধরলো, মুখটা তুলে ধরলো সে মুখের কাছে। কিন্তু তার বধু তার দিকে নজর দিচ্ছে না অব্দি। অনিক কিছুক্ষণ চেষ্টা করলো না তার পরও এ মেয়ের ভাবমূর্তির কোন হেলদোল হলো না।
অবশেষে অনিক বললো,
" আচ্ছা আবেদন পত্র আমি গ্রহণ করবো না। এবার হাসো বউ। এমন মুখ দেখতে আমি অভ্যস্ত নই মোটেও।"
ফুল সাথে সাথে বললো,
" আমি চাই আপনি চাকরিটা করুন।"
অনিক ভ্রু কুঁচকে বললো,
" তাহলে মুখটা অমন করে রেখেছো কেনো?"
ফুল অনিকের দিকে এবার তাকিয়ে বললো,
" খারাপ লাগছে তাই এমন করে রেখেছি মুখ। শান্তনা হিসেবে আপনি মাথায় হাত বোলাতেই পারেন। "
অনিক সাথে সাথে মাথায় হাত বুলাতে লাগলো তার আদুরে হাতে।
একধ্যানে চেয়ে থাকলো তার অর্ধাঙ্গিনীর দিকে।
ফুল বললো,
" কি দেখছেন?"
"কি বললে খুশি হবে? "
"মানে?"
" দেখছি আমার অর্ধাঙ্গিনীকে , দেখছি আমার আধার ঘরের চাঁদকে, দেখছি আমার হৃদয়ের হৃদয়হরণী'কে, দেখছি আমার গোধূলির রক্তিম শিখা'কে।"
ফুল লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলো স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে। আজকাল লোকটা তাকে নিয়ম করে তিনবেলা যেনো লজ্জা দেবে বলে পণ করেছে। ফুল মুখ লুকালো অনিকের বুকে।
তারপর আহ্লাদী হয়ে বললো,
" আপনি বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছেন হাওলাদার সাহেব। বউকে এত আস্কারা দিবেন না, নয়তো সে লোভী হয়ে যাবে, যত্নের লোভী, আহ্লাদী হবার লোভী।"
অনিক একগাল হেঁসে ফুলের তার দু হাতের বন্ধনে জড়িয়ে নিয়ে কপালে একটা দীর্ঘ চুম্বন করলো। তারপর বললো,
" সব মঞ্জুর বেগম সাহেবা। এই এক জীবন অনিক হাওলাদার আপনার নামে উৎসর্গ করলো। আপনার যত লোভী হতে মন চায় অনুগ্রহ করে তার চেয়ে দশ গুন বেশি লোভ জন্মাক, বাকিটা অনিক হাওলাদার বুঝে নেবে।"
________________
পরেরদিন প্রেমা আর রাসেল এলো। কারণ অনিক আগামীকাল চলে যাবে ট্রেনিং এর জন্য বগুড়াতে।
ফুল শাশুড়ীর সাথে হাতাহাতি করে রান্নাবান্না শেষ করেছে। থালাবাসন ধুয়ে আসতে গেলেই তার মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো। ভাবলো দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে হয়তো এমন হচ্ছে।
বিকালের দিকে বাড়ির ক'জন মহিলা এসে কথাবার্তা বলতে এলো নুরুন্নেছা বেগমের সাথে। গল্পগুজব করছেন ওনারা।
অনিক-ফুল, রাসেল-প্রেমা সবাই বসে রোদ পোহাচ্ছিলো আর টুকটাক কথা বলছিলো। তখন ই হটাৎ ফুলের গলা কাঁপিয়ে বমি চলে এলো গরগর করে। দৌড়ে গিয়ে দূরে বমি করতে লাগলো। অনিক দৌড়ে গেলো বউয়ের পিছনে। ফুলের বমি থামছেই না। প্রেমা পানি নিয়ে গেলো। অনিকের উদ্বিগ্নতার শেষ নাই। ফুল কুলি করে উঠে দাঁড়াতে নিলেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলেই সে ফুলকে ধরে ফেলে৷ এবং সবার সামনে দিয়ে পাঁজা কোলে করে বউকে নিজের রুমে নিয়ে যায়। নুরুন্নেছা বেগম ও পিছুপিছু গেলেন। তেল পানি দিলেন তিনি ফুলের মাথায়। ক্লান্ত হয়ে ফুল চোখ বুজার সাথে সাথে ই ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালো। অনিক উদ্বিগ্ন হয়ে ফুলের শিরের কাছে বসে রইলো। একেএকে সবাই বেরিয়ে আসলো।
নুরুন্নেছা বেগম আবার ও এসে শাক কাটতে বসলেন। প্রেমা আর রাসেল ও বসলো।
মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন বললেন,
" আমার ছেলেডারে দেইখা শুইন্যা ই বিয়া করাইছিলাম ভাবি, কিন্তু সংসারে শান্তি নাই। পোলায় বউয়ের কথায় উঠে আর বইয়ে। তবে মাইয়াডায় আল্লায় দিলে ভালো ই আছে, মাইয়ার জামাই মাইয়ার কথা মতই চলে। এইটুকু ও নড়চড় করে না।"
নুরুন্নেছা বেগম হ্যাঁ ও বললেন না, আবার না ও বললেন না।
মহিলা আবারও মুখ ভেঙচিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের স্বরে বলে উঠলো,
" আম্নের পোলায়ও দেহি বউর লাইগ্যা পাগল হইয়া গেছে এ দেড় মাস না যাইতেই। কেমন লাজ শরমের মাথা খাইয়া কোলে তুইলা নিলো। পরে দেখমু আম্নের হাতছাড়া হইবো পোলায়। আমার পোলায় ও এমন কুয়ারা করে বউ লইয়া।"
নুরুন্নেছা বেগম বললেন,
" এটাকে আমি খারাপ নজরে দেখছি না ভাবি। সবার ই অধিকার আছে স্বামীর আদরযত্ন পাবার। আমার ছেলের বউ আলহামদুলিল্লাহ। "
মহিলা বলে উঠলো,
" ডাইলের মজা তলে। ক'দিন যাক দেখবেন আর কি।"
প্রেমা এতক্ষণ এদের কথা চুপচাপ শুনছিলো। বরাবরই সে এসব মানুষের গা জ্বালানো কথা শুনলে রাগে প্রতিবাদ করে উঠতো। নেহাত জামাই পাশে তাই এতক্ষণ চুপ ছিলো। কিন্তু এ মহিলা রীতিমতো অন্তঃকলহ লাগাতে চাইছেন তাই আর চুপ করে থাকতে পারলো।
সে এগিয়ে এসে বললো,
" পোলায় পোলার বউর কথা একটু শুনলে বা আদরযত্ন করলে পোলারে বউ কাইড়া নিয়া গেছে, আর মাইয়ার জামাই মাইয়ার কথা শুনলে ওইটা ভালো তাই না? তা আপনার ছেলের বউ ও তো কারো মেয়ে, তার বাবা-মা ও আপনার মতই চায় যে তাদের মেয়ে ভালো থাকুক। তাইলে এত কূটনামি ক্যান চাচি? আর আমগো ঘরের পোলারা বউগরে এমনেই রাণী কইরা নিজে রাজা হয়। এখন আপনে ঘরে অযথা কথা বলে ক্যান ঝগড়া বাধাইতে চাইতাছেন? এইডা ছাড়া কি আর কাম নাই? "
মহিলা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
" মাইয়া মাইনষের এত চোপা থাহন ভালা না। আমরা সবই জানি। জামাইরে তো তোর মনেই ধরে না। খবর বাতাসে ছড়ায় বুঝলি মাইয়া। দেখবি এমন চোপার লাইগা এইডাও হারাবি।"
প্রেমা সাথে সাথে বললো,
" আপনার এত সময় আমায় নিয়ে ঘাটাঘাটি করে খবর বের করার। বিনা উপার্জনে এমন খাটেন ক্লান্ত লাগে না?"
মহিলা দুজন গজগজ করতে চলে গেলেন।
প্রেমা ও উঠে ঘরে চলে গেলো। রাসেল ও বউর পিছুপিছু গেলো। দরজা আটকে ওপাশে ফিরে থাকা বউয়ের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে বললো,
" পাছে লোক কতকিছুই বলবে তাতে কান দেবার দরকার কি?"
প্রেমা ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকে বললো,
" উনি ভুল বলেছেন, আপনাকে মনে না ধরলে আমি কখনোই বিয়ে করলাম না।"
রাসেল এসে প্রেমার সামনে বরাবর দাঁড়িয়ে বললো,
" তবে ধরা দিচ্ছো না কেনো বউ?"
প্রেমা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
" ভয় হয়। নিজেকে হারানোর ভয়। যদি কোনমতে সামলানো মনটা গুড়িয়ে যায়। "
রাসেলের কন্টে ব্যাকুলতা। সে প্রেমার দিকে তাকিয়ে বললো,
" যখন সামনে থাকা ব্যাক্তিটা তার সমস্ত ব্যাকুলতা উজাড় করে দেয় তখন সায় দেওয়া উচিত। দ্বিতীয় বার ভালোবাসাটা দোষের কিছু নয়। ভালোবাসলে ভালোবাসা ই যায়। "
বলেই রাসেল প্রেমাকে কোলে করে বিছানায় শুইয়ে দিল। বাইরে তখন সূর্যাস্তের শেষ সময়, গোধূলি লগ্ন বিদ্যমান ।
প্রেমার কেমন হাসফাস লাগলো, সে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
" কি করছেন?"
রাসেলের ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,
" ভালোবাসছি। "
প্রেমা আজ একটু ও দূরে সরে গেলো না।সে চায় তাদের মধ্যকার দূরত্ব শেষ হোক।
প্রেমা রাসেলের গলা তার দু'হাতে জড়িয়ে নিয়ে বললো,
" আপনি ভালোবাসেন আমায়?"
রাসেল প্রেমার গলায় ঠোঁট ছোঁয়া দিতে দিতে বললো,
" বাসি। "
প্রেমা আবারও বললো,
" আপনার আমাকে ভালো লাগে?"
রাসেল সাথে সাথে নিঃসংকোচে উত্তর দিলো,
" খুব। "
প্রেমার তার হাতে বন্ধন দৃঢ় করলো রাসেলের গলা জড়িয়ে ধরে বললো,
" আমাকে কোনদিন ছেড়ে যাবেন না তো?"
রাসেল প্রেমাকে চুপ করিয়ে দিয়ে ওর কানের ওপাশটায় ফিসফিসিয়ে বললো,
" সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে তা ছাড়াছাড়ি মরণে ও হয় না। "
শুরু হলো তাদের নব্য অধ্যায়। হাওলাদার বাড়ির সে ছোট্ট মেয়েটা, চঞ্চল মেয়েটা কারো বউ হবার প্রথম ধাপ পাড় করলো।
____________________
রাত হয়ে গেলো। কতক্ষণ পর পর ফুল বমি করছে। শরীর বেশ ক্লান্ত মেয়েটার৷
নুরুন্নেছা বেগম তখন থেকে ই প্রেমার মায়ের সাথে খুচুরখুচুর করছেন। অতঃপর প্রেমার মা অনিককে রুম থেকে বের করে দিলো। রাসেলকে ও বের করলো। রুমে এখন প্রেমা, তারা দুই জা আর ফুল আছে ।
নুরুন্নেছা বেগম ফুলের মাথার কাছটায় গিয়ে বললেন,
" শরীর খারাপ শেষ তারিখ কবে তোমার? এই মাসে হইছো নি?"
ফুল মৃদু স্বরে উত্তর দিলো,
" না মা। "
নুরুন্নেছা বেগম জা এর দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি করলেন। প্রেমা কিছুটা বুঝলো। সে গদগদ হয়ে বললো,
" আমি কিন্তু একাই দশ বস্তা মিষ্টি খাবো বলে দিলাম। টুসু আপু খবর দেও। মিষ্টি খাওয়াও ভাবি।"
ফুল এখনও বিশ্বাস করতে পারছে। মেয়েটা এবার কেঁদেই দিলো। মাতৃত্বের জন্য একসময় কেউ একজন তার তলপেট বরাবর লাথি ও দিয়েছিলো। আজ সেখানে ই ছোট্ট প্রাণের সূচনা হচ্ছে সবার ভাষ্যমতে। ফুল পেটে হাত বুলালো।
ফাইমা বেগম (প্রেমার মা) রুম থেকে বের হতেই অনিক তাকে ঘিরে ধরে বললো,
" কি হইছে কাকি? কি হয়েছে ওর?"
ফাইমা বেগম সেসবের উত্তর না দিয়ে ই রান্নাঘরের দিকে গেলেন। ঘরে মিষ্টি আগে থেকেই ছিলো। সেখান কিছু মিষ্টি এনে প্রথম মিষ্টি টা অনিকের মুখে দিয়ে বললো,
" আমি দাদি হতে যাচ্ছি। বাকিটা বুঝে নে। "
হোসেন হাওলাদার ও এলেন মাত্র ই। আসামাত্র ই তিনি শুনলেন। অনিক একবার নিজের রুমের দিকে আরেকবার তার বাবার দিকে তাকালো। মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো তার।
সবাই ভাবলো অনিক খুশি না। নুরুন্নেছা বেগম এসে জিজ্ঞাসা করতেই অনিক বললো,
" আমি কাল বগুড়া সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এ যাবো না। ওর এ অবস্থায় আমাকে দরকার। "
নুরুন্নেছা বেগম বললেন,
" এ কেমন কথা। ও মেয়ে মানুষ সন্তান হবে স্বাভাবিক। আমরা ও মা হইছি। আমরা আছি তো। চিন্তা করিস "
না অনিক কিছুতেই মানতে রাজি না।
একপর্যায়ে হোসেন হাওলাদার অনিকের দিকে তাকিয়ে বললেন,
" তোমার বাবা এখবও জীবিত আছে। আমি আছি অনিক। আমি আছি।"
"আমি আছি" এ বাক্যটা যেনো অনিকের সকল সংশয় দূর করে দিলো। বাবার দিকে তাকিয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো তার চোখ থেকে।
__________
রাত প্রায় মধ্যরাত। অনিক ফুলের ঘুমন্ত চেহারার দিকে একধ্যানে তাকিয়েই আছে। যেনো নজর সরালেই তার বঁধু হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। বর বারবার পেটে হাত বুলাচ্ছে। ফুল আদুরে হয়ে গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছে।
__________
পরেরদিন সকাল ভোরে ই অনিকের যাত্রা হলো নব্য সূচনায়। টুসু রাসেল ও এলো বিদায় জানাতে। যাওয়ার সময় অনেক পিছু ফিরে আরেকটি বার স্ত্রী'র দিকে তাকালো।
_________________
চলে গেলো ৬ টা মাস। ফুল এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গায়ের গঠনে এসেছে পরিবর্তন। পেট তার বড়সড় ই। গায়ের উজ্জ্বলতা যেনো আরও দ্বীগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে খাবার তেমন খেতে পারে। বমি আসে শুধু।
হোসেন হাওলাদার এখনও অব্দি ফুলের সাথে কথা বলেন নি।
রাতে তিনি খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হটাৎ ওনার বুকে ব্যাথা উঠে । উনি মেঝেতে বসে কাতরাচ্ছিলেন। ফুল তা দেখে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো।
চলবে....