ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোধুলির রক্তিম শিখা

অন্তিম পর্ব

লেখক: পরিনিতা

#গোধূলির_রক্তিম_শিখা 

#লেখনীতে_পরিনিতা 
ফুলের চিৎকার শুনে নুরুন্নেছা বেগম দৌড়ে এলেন। বাড়িতে শুধু ফুল আর নুরুন্নেছা বেগম ই আছেন। ফাইমা বেগম প্রেমাদের বাড়িতে গেছেন।
স্বামীকে আগলে ধরে চেঁচিয়ে নুরুন্নেছা বেগম বললেন,
" কি হইছে, আপনার কি হইছে?"
ফুল সাথে সাথে বললো,
" ডাক্তার ডাকুন মা। কাঁদার সময় নয়।"
নুরুন্নেছা বেগম ফুলকে এখানে রেখেই পাশের বাড়িতে দৌড়ে গেলো। 
এদিকে হোসেন হাওলাদারের অবস্থা বেগতিক। ফুল এমন একজনের অবস্থা আগেও দেখেছে আহসানের মায়ের তখন ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে হাতের আঙুলের মাথাগুলো ফুটো করে দিয়েছিলো একটু একটু করে। ফুল ভারি পেট নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সুই এনে হোসেন হাওলাদার এর সবগুলো আঙুলের মাথা ফুটো করে দিলো, যাতে রক্ত বের হয়।
মিনিট পাঁচেক পর ই চারেদিক থেকে লোকজন দৌড়ে আসতে আসলো। ডাক্তার ও এসেছে, তিনি সহ সবাই। এখানকার হাসপাতালে নিয়ে গেলো ওনাকে।
নুরুন্নেছা বেগম ও গেলেন সাথে। অন্তঃসত্ত্বা মানুষ যদি সমস্যা হয় তাই পাশের বাড়ির একটা মেয়েকে ফুলের কাছে রেখে সবাই চলে গেলো।
ফুল কাঁদতে লাগলো বসে বসে। আর শুধু দোয়া করতে লাগলো। পরক্ষনেই তার মাথায় এলো বিকালেই ৬০ হাজার টাকা তার শশুর একজনকে ধার দিয়েছন ভেজাল মেটানোর সে পাঁচদিন বাদে ই দেবে। ঘরে সঞ্চয়কৃত কিছু ই নেই। 
ফুল ফয়সালের বয়স্ক পাশের বাড়ির ই দু'জনকে পাঠালো নিজেদের বাড়িতে।
সকাল হয়ে এলো। ফুল ঘরের সামনেই বসে আছে। চোখে তার ঘুম নেই। তখন দেখা গেলো প্রেমার মা'কে। মানে তার চাচি শাশুড়িকে।
ফুল ওনাকে দেখে এগিয়ে এসে বললো, 
" বাবার কি খবর কাকি?"
প্রেমার মা মলিন কন্ঠে বললো,
" আজ এই কিছুক্ষণের মধ্যে ১০ হাজার টাকা লাগবো।শহরে পাঠাইতে হইবো ভাইজান স্ট্রোক করছে। ৫ হাজার জোগাড় হইছে বাকি আরও চেষ্টা করছি। মেয়ের শশুর বাড়ি থেকে নিতে বলছিলাম আমি, ভাইজান মানতেছেন না।"
বলেই ভদ্রমহিলা ঝরঝর করে কেঁদে দিলেন।
ফুল ঘর থেকে একটা পুঁটলি এনে। একটা কালো রঙের বোরকা পড়ে নিলো। শুধু চোখ ছাড়া এবার আর কিছু ই দেখা যাচ্ছে না। 
কাকিশাশুড়ির হাত ধরে বললো, 
" চলো কাকি। আমাকে নিয়ে যাও ওখানে।"
প্রেমার মা সাথে সাথে ই বললো,
" না না তোমার এই অবস্থায় যাওয়া লাগবো না।ভাউজান না করছে, যদি কিছু হয়!"
ফুল এবার কেঁদে দিয়ে বললো, 
" আমি বাবাকে দেখতে চাই কাকি। আমার এখানে থেকে উল্টো দম বন্ধ হয়ে আসছে। চলুন।"
প্রেমার মা ফুলের মাথা মুছে দিয়ে বললো,
" ভাইজান বড় ভাগ্যবান তাইতো তোমাকে ছেলের বউ করে পেয়েছেন। চলো। আর মিনু কই কালকে ঘুমায় না?"
ফুল জানালো সকাল হতেই সে ফুলকে বলে চলে গিয়েছে।ঘরে কাজ আছে, রান্না করবে সে।
দু'জনে চললো হাসপাতালের উদ্দেশ্য। 
আস্তে আস্তে হেঁটে প্রায় ২০ মিনিটের মত লাগলো হাসপাতাল যেতে। 
একটা রুমে হোসেন হাওলাদারকে রাখা হয়েছে। গরুর গাড়ির ব্যাবস্থা ও করেছেন। দু গ্রাম পেরিয়ে ট্রেনে করে যাবেন শহরে। রাসেল বসে বসে চাচা শশুরকে বিনয় অনুরোধ করছে সে টাকা এনেছে নেওয়ার জন্য কিন্তু হোসেন হাওলাদার নিতে নারাজ। 
এদিকে ডাক্তার এসে জানালো তারা এক্ষুনি রওনা হতে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।শহরে তাদের ই উন্নত হাসপাতালে হোসেন হাওলাদারের চিকিৎসা হবে। 
হোসেন হাওলাদার উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন,
" টাকা কে দিয়েছে? টাকা তো বাকি ছিলো। "
তখন ই ফুল রুমে ঢুকলো। শশুরের থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে বললো , 
" আমি দিয়েছি বাবা। বাবা বলে যেহেতু ডেকেছি আমি আপনার মেয়ে ই। মেয়ের টাকা আর বাপের টাকার পার্থক্য নেই বাবা। আপনি সেড়ে উঠুন বাবা, তারপর ওই গম্ভীর চেহারার আড়ালে আমাকে মায়ায় জড়িয়ে রাখুন। নুরুন্নেছা বেগম কাঁদছেন। হোসেন হাওলাদার এর মনটা ভাড় হয়ে উঠলো। করিম আলী সহ ফয়সাল, ফারবিন বেগম ও এসেছেন।
হোসেন হাওলাদার করিম আলীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
 " করীম যাইবা সাথে? বেয়াইয়েরে নিয়া চলো অনিকের মা।"
করীম আলী সাথে সাথে বললেন,
" হ হ যামু। আমি তো হেই জন্য ই এতক্ষণ কইতে চাইছিলাম চলোন।"
সবাই রওনা হলো।
ওখানে শহরে চিকিৎসা শুরু হলো। ডাক্তার হোসেন হাওলাদারকে জিজ্ঞাসা করলেন, হাতের আঙুলের ডগা গুলো ফুটো কে করেছে। হোসেন হাওলাদার জানালেন তার ছেলের বউ করেছে। ডাক্তার বললেন, 
"ওটাই প্রাথমিক চিকিৎসা ছিলো। আল্লাহর দোয়ায় আর আপনার পুত্রবধুর বুদ্ধিমত্তায় প্রশংসা করতেই হয়। নয়তো আজ অন্য কিছু হতে পারতো।"
প্রায় পনেরো দিন পর হোসেন হাওলাদারকে বাড়িতে আনা হলো। তিনি মোটামুটি সুস্থ তাকে চিন্তামুক্ত থাকতে বলা হয়েছে।
ফুল হোসেন হাওলাদার এর জন্য আলাদা রান্না করছে তেল ছাড়া, মশলা একেবারে কম দিয়ে। আর বাকি সবার জন্য ও আলাদা করে রেধেছে। নুরুন্নেছা বেগম এসেই বউকে বকলেন, এ শরীর নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেনো করছে সে। ফারবিন বেগম এতদিন এখানেই ছিলেন। মেয়ের এ অবস্থায় তিনি একা ছাড়েন নি।
হোসেন হাওলাদার একটু স্থির হয়ে বসতেই ফুল পাওনাদার সেদিন যে ৬০ হাজার দিয়ে গেছিলো চারদিন পর এসে তা তার শশুরকে দিলো। হোসেন হাওলাদার কিছু বলতে নিলেই ফুল বললো, 
" আপনি যদি আমাকে মেয়ে বলে না ভাবেন তাহলে আবার সেই টাকার কথা তুলবেন। আমি ও আজ তা হাত পেতে নেবো।"
হোসেন হাওলাদার চুপ হয়ে অন্য দিকে ফিরে রইলেন। ফুল একটা মুচকি হাসি হেঁসে চলে আসলো। 
নুরুন্নেছা বেগম দেখলেন ফুলের মুখটা কেমন শুকনা। কেমন যেনো দেখাচ্ছে। জোর করে তাদের গ্রামে গর্ভবতী মহিলাদের চেক করার জন্য শহরের আপারা আসছিলো। সেখানে নিয়ে গেলো। তারা জানালো ফুলের পুষ্টির প্রয়োজন দুধ ডিম খেতে হবে নিয়মিত। 
ফুল ঘরে এসে নুরুন্নেছা বেগমকে নিজের রুমে গিয়ে বললো, 
" ডাক্তার আপারা কতকিছুই বলে মা। আপনারা আমাকে নিয়ে ব্যাস্ত হবেন। আপনার ছেলে এ সাত'মাস টাকা দেয় নি। আপনারা তা-ও আমাকে অভাব দেখান নি, বেশ যত্নে রেখেছেন। আমি আর বোঝ বাড়াতে চাই না মা। আমি ঠিক আছি।"
হোসেন হাওলাদার দরজার এপাশ থেকে সব শুনলেন। তিনি নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে গেলেন।
ঘন্টা খানেক বাদে দুজন ছেলে নিয়ে যার মধ্যে একজন নেহাল ও রয়েছে বাড়িতে এসেছেন , বড় বড় চার বোতল দুধ। যেখানে প্রায় ১০ কেজি গরুর দুধ হবে। নেহালের হাতে একটা ডিমের টেরি। হোসেন হাওলাদার এর হাতের একটা আছে। 
নুরুন্নেছা বেগম এগিয়ে এলেন। ফুল ও এসে দাঁড়ালো। ফুলকে দেখেই হোসেন হাওলাদার বললেন,
" তোমার ছেলের বউকে বলে দেও সে যদি আমাকে নিজের বাবা ভাবে তাহলে বার্তি যেনো একটা কথা না বলে। মেয়েরা বাবাদের কাছে কখনোই বোঝা হয়ে না। "
নেহাল মুচকি হেঁসে বললো, 
" ভাবি রাধছেন কি আজ। খাইয়া ই কিন্তু যামু।"
নুরুন্নেছা বেগম বললেন,
" তোরে কে দাওয়াত দিছে? বউ আর নাতিরে আনছ না কেনো? "
নেহাল বললো,
" ক্যান ক্যান আমি কি পর নাকি? এইতো ক'দিন আগে ই সে এসে থেকে গেলো।"
_______________
পরের মাসেই অনিক এলো। ফুলের তখন আটমাস শেষ। এসেছে তিনদিনের ছুটি নিয়ে। 
ফুলকে বুকে আগলে নিয়ে বললো,
" খাবার খাও না ঠিক মতো?"
ফুল আহ্লাদী হয়ে গদগদ হয়ে বললো, 
" বাবা দুধ রোজ করেছেন। প্রতিদিন দুটো ডিম করেও খাচ্ছি।"
অনিক ফুলের কাছ থেকে বের হয়ে বাবার পায়ের কাছটায় বসে বললো,
" আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না বাবা?"
হোসেন হাওলাদার বললেন,
" আমি কারো উপরেই রেগে নেই। "
____________________
কেটেছে আরও একমাস। ফুলের তারিখ অনুযায়ী আজ অনাগত কেউ এ পৃথিবীতে আসার কথা। সকাল থেকে ই তার শরীর কেমন কেমন যেনো লাগছে। প্রেমা টুসু সহ সবাই আছে। ফারবিন বেগম ও আছেন।
রাত তখন মধ্যরাত ফুল বাইরে থেকে এসেই ঘরের দরজার সামনে আসতেই ব্যাথায় আল্লাহ বলে উঠলো। হোসেন হাওলাদার ঘুমান নি তিনি স্পষ্ট শুনতে পেলেন। এগিয়ে এলেন। ফুলকে রুমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গর্ভধারণের ব্যাথায় সে তখন দিশেহারা। হোসেন হাওলাদার পাশের রুমেই বসে মেয়েটার সে আত্ন চিৎকার শুনছে। 
তখনই নুরুন্নেছা বেগম বললেন, পাশে বাড়ি থেইকা দাইকে(যিনি গর্ভধারণে সাহায্য করেন) আনতে হবে। এতরাতে একা যাওয়া যাবে না। করিম আলী আর ফয়সাল এখনও এসে পৌঁছায় নি। হোসেন হাওলাদার বললেন তিনি যাবে। এই শীতে দিয়ে ক্ষেতের আইলে দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে তিনি গেলেন। সে ভদ্রমহিলা'কে নিয়েও এলেন।
ফুলের ব্যাথা বাড়তেই থাকলো। ফুল এক মূহুর্তে বললো,
" আমারে সবাই মাফ কইরা দিয়েন।"
ফারবিন বেগম কেঁদে দিয়ে বললেন,
" এক চড় দিমু।এগুলা কয় না আম্মা।"
ফুল আমতাআমতা করে বললো, 
" আমার শশুরকে ডাকুন তার সাথে কথা আছে আমার। "
হোসেন হাওলাদারকে বলামাত্র ই তিনি এলেন। ফুল শশুরের হাত ধরে কেঁদে কেঁদে বললো, 
" আমি আপনার সাথে বড্ড অন্যায় করেছি বাবা। মাফ করে দেন বাবা। দায়দাবি রাইখেন না।"
হোসেন হাওলাদার এবার হুহু করে কেঁদে দিলেন, একটু দূরে দাঁড়ানো করিম আলী ও ফয়সাল সহ বাকি সবাই নিজেদের কান্না থামিয়ে চুপ হলো মূহুর্তের জন্য। 
হোসেন হাওলাদার ছেলের বউর হাত ধরে কেঁদে দিয়ে বললো, 
" এসব বলে না মা। আমার কোন রাগ নাই। তুমি তো আমার ছেলের বউ না আমার মেয়েই। আল্লাহ ভরসা মা। "
বলেই তিনি আর বসে থাকলেন না। ফুলের মাথা মুছে দিয়ে চলে গেলো।
করিম আলী ও কাঁদছেন। ফুল বাবার দিকে তাকাচ্ছে, করীম আলী সামনে এগোলো না। ফুলের ব্যাথার পরিমান বেড়েছে। 
সারারা ব্যাথা সহ্য করে অবশেষে ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে ই ফুলের কোল আলো করে, এলো এক কন্যাসন্তান। যে দেখতে হুবহু যেনো তার মায়ের মতই।
নুরুন্নেছা বেগম ফারবিন বেগম থেকে কোলে নিলেন। কাঁদলেন ভদ্রমহিলা। 
এরপর স্বামীকে বললেন,
" মেয়ে হয়েছে গো। আমার আপু এসেছে।"
কিছুক্ষণ পর হোসেন হাওলাদার এর কোলে দিলে তিনি ঝরঝর করে কেঁদে দিলেন। করীম আলীর কোলে দিলে তার সমস্ত কিছু মনে পড়ে যায় , কীভাবে জমিদারের পোলায় তার ফুলেরে এ কারণে মারধর করতো। আজ তবে তার ফুল আসলেই প্রকৃত সুখী। করীম আলী হাসছেন আবার কাঁদছেন তো। ফয়সালের ও কোলে ফয়সাল চুমু খেলো তার ভাগ্নি কে।
_______________
এক সপ্তাহ পর অনিক এলো। ছুটি পেয়েছে সে অনেক দরখাস্ত দেওয়ার পর। বাড়িতে ঢুকতেই আগে স্ত্রী'কে একনজর দেখলো। তারপর প্রেমা "অনিমা" কে কোলে তুলে দিলো অনিকের। ফুল-অনিকের মেয়ের নাম রেখেছে অনিমা৷ হোসেন হাওলাদার রেখেছে।
অনিক সে ছোট্ট শরীরটার উষ্ণতা নিজের কোল জুড়ে অনুভব করতেই কেঁদে দিলো। কঠিন মনের ছেলেটা ও কাঁদলো। এ কান্না আজ আনন্দের। 
মেয়েকে প্রেমার কোলে দিয়ে রুম থেকে বের হলো। হোসেন হাওলাদার বসে আছেন। 
হোসেন হাওলাদার ছেলেকে দেখেই দাঁড়ালেন। ছেলের থমথমে মুখ দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রথম বারের মত ছেলেকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। অনিক কাঁদল খুব।তার বাবা তাকে আগলে ধরেছে বার বার। 
অনিক বললো, 
" সন্তান বাবা-মা এর কাছে কি আজ উপলব্ধি করলাম যখন নিজে সন্তানের বাবা হলাম। আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন বাবা।"
হোসেন হাওলাদার ছেলেকে ছেড়ে হাসিহাসি মুখ করে বললেন,
" আমার নাতনি যেনো আমার বউমার মত হয়। তোমার মত দস্যি না হয়।"
অনিক বাবার দিকে তাকিয়ে হেঁসে ফেললো। 
পরেরদিন অনিক ফুল আর অনিমাকে নিয়ে টিকাকেন্দ্রে গেলো।
অনিক গেলো মেয়েকে কোলে নিয়ে ভেতরে,,
ফুল বাইরে টেবিলে বসে ছিলো। শরীর আলহামদুলিল্লাহ ভালো তার। 
তখন কেউ একজন তাকে বললো,
" ফুল!"
ফুল বোরকা পড়া। কে তাকে এভাবে চিনে ডাক দিলো, তাকাতেই সে দেখলো আহসানকে। শুকনো কাঠের ন্যায় হয়ে গেছে। গায়ের জামাটাও কয়েক জায়গায় ছেঁড়া। 
ফুল চুপ করে রইলো অন্য দিকে ফিরে।
আহসান নিজে থেকেই বলতে শুরু করলো,
" আমি তোমার প্রতি খুব অন্যায় করেছি। ক্ষমা চাওয়ার মুখ ও নেই আমার। সমস্যা তোমার মাঝে নয় আমার মাঝেই ছিলো, আমি ই কোনদিন বাবা হতে পারবো না। তাই নিশি আরেকজনের সাথে বিয়ে করে সংসার করছো।জুয়ার টাকা জোগাতে জোগাতে ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয়েছে। আম্মাও বিছানা থেকে উঠতে পারে না। "
ইতিমধ্যে ই অনিক এসে দাঁড়ালো। টিকা দিয়েছে অনিমা কে। মেয়েটা কাঁদছে ভীষণ। 
ফুল অনিকের হাত ধরে বললো, 
" এ টা আমার সংসার। ফুলের সংসার। এ সংসারে অতীতের কোন ঠাই নেই। আর আপনাদের আগেই ক্ষমা করেছি, ক্ষমা না করলে আক্ষেপ থাকে। কিন্তু আমি আপনাদের আক্ষেপে ও রাখতে চাই না, ঘৃণার পরিমাণ যে অতটাই বেশি। আমার সংসারের জন্য দোয়া রাখবেন।"
অনিক হাসলো নিঃশব্দে। স্ত্রী'কে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।
_________________
কাটলো তিনদিন। বিকেল হয়েছে। গোধূলির রক্তিম শিখা লগ্ন চারপাশে বিদ্যমান। অনিক কোত্থেকে যেনো উদয় হলো। মেয়েকে কোলে নিয়ে উঠানের পশ্চিম পাশে বসে থাকা ফুলের কানে সরিষা ফুল গুঁজে দিয়ে একধ্যানে চেয়ে রইলো। আর ফুলও নিত্যদিনকার মতই বললো,
" কি দেখছেন?"
অনিক ফুলের উড়তে থাকা চুলগুলো কপাল থেকে এক পাশে সরিয়ে কানের পাশে গুঁজে দিয়ে বললো,
" দেখছি আমার অর্ধাঙ্গিনী'কে, দেখছি আমার সন্তানের জননী'কে, দেখছি আমার আঁধার ঘরের চাঁদকে, দেখছি আমার হৃদয়ের হৃদয়হরণী'কে, দেখছি আমার গোধূলির রক্তিম শিখা "কে।"
~~~~~~~~~~~~সমাপ্ত~~~~~~~~~~~~~~~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অন্তিম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন