#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
২৭
দুপুর দুইটার দিকে রফিকুল সাহেব বাড়িতে এসে হাজির হলেন। এই অসময়ে তাকে বাড়িতে কেও আশা করেনি। রফিকুল সাহেব উজানের হাতে ফ্লাইটের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
"রাত আটটায় তোমার ফ্লাইট। সব কিছু গুছিয়ে নাও।"
উজান অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। বললো,
"ফ্লাইট? কিসের ফ্লাইট? হঠাৎ কোথায় যাবো?"
"থাইল্যান্ড যাবে তুমি এক মাসের জন্য। বাড়িতে থাকা তোমার জন্য সেইফ না। কিছুদিনের জন্য দেশের বাহিরে যাও। আর আমাদের বিজনেসের কিছু কাজ আছে করে আসো।"
"কিন্ত বাবা এভাবে কিভাবে যাবো!" উজান নাখোশ করলো।
"এখন নিজের ঘরে যাবে। লাগেজ বের করবে। লাগেজে একমাসের পোশাক গুছিয়ে নিবে। ছয়টা বাজলে গাড়িতে করে এয়ারপোর্টে যাবে সেখান থেকে প্লেনে উঠে সোজা থাইল্যান্ড চলে যাবে। সহজ না? এইতো এভাবেই যাবে।"
রফিকুল সাবেন সুন্দর করে গুছিয়ে বলে দিলেন কিভাবে যেতে হবে।
রফিকুল মাহতাবের কথায় সবাই হেসে উঠলো। উজানের বিরক্তিতে কপাল ভাজ পরলো। রাগে গজগজ করতে করতে নিজের ঘরে চলে গেলো। রুহানীও পেছন পেছন আসলো। বেশি দেরি নেই এখনই সব গুছিয়ে ফেলতে হবে।
ঘরে এসে রুহানী উজানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"আগের বারের মতো বিদেশ গিয়ে আবারও ভুলে যাবেন না তো?"
উজান তাকালো রুহানীর চোখের দিকে। শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো,
"আগের বারের মতো আবারও সেই একই প্রশ্ন করবো?"
"অবশ্যই।" রুহানী ছটফটিয়ে বলে উঠলো।
উজান ঝুঁকলো রুহানীর দিকে। চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
"আমি দূরে গেলে কষ্ট হবে তোর?"
রুহানী উজানের চোখের দিকে তাকিয়ে জবাব দিলো,
"আমার অনেক কষ্ট হবে, উজান ভাই। আপনি না থাকলে আমার দম বন্ধ হয়ে আসবে। আমি একা থাকতে পারবো না।আমি আপনাকে ভালোবাসি । তাহলে আমার কষ্ট হবে না কেনো বলেন?"
উজান স্নিগ্ধ হাসলো। গতবার রুহানী যেভাবে বলেছিলো 'ভালোবাসি না' ঠিক একই ভাবে এখন বলছে, 'ভালোবাসি'! এটাকেই বলে সময়।
রুহানী উজানের হাসতে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে মন্থর কন্ঠে বলে উঠলো,
"আরেকটা কথা বলবো, উজান ভাই?"
উজান বললো, "বল।"
"আপনার চোখে এক অদ্ভুত নেশা আছে। সেই চোখে একবার তাকালে বাহ্যিক নেশার প্রয়োজন হয় না। আপনার চোখই যেন নেশার সমুদ্র। মাতাল করে রাখে দৃষ্টি, ডুবিয়ে রাখে হৃদয়।"
উজান শক্ত করে জরিয়ে ধরলো রুহানীকে। হেসে উঠলো, "তাই নাকি! আমার বউ তো দেখি দিন দিন পেকে যাচ্ছে! কাহিনিকি কি? হুম?"
রুহানীও জরিয়ে ধরলো উজানকে। বললো,
"আপনি পাকিয়েছেন ফর্মালিন দিয়ে।"
____
সন্ধ্যা ছয়টা বাজে। উজান রেডি হয়ে নিচে নেমে আসলো। অভ্রও রেডি হয়ে আসলো। অভ্র এগিয়ে দিতে যাবে। গাড়িতে উঠে বসতেই হায়াত এগিয়ে আসলো। হামিদা অভ্রকে বললেন,
"যাওয়ার পথে হায়াতকেও দিয়ে এসো। মেয়েটাকে এতো করে বললাম আরো দুইটা দিন থেকে যেতে কিন্ত কিছুতেই থাকলো না।"
হায়াতও সাথে যাচ্ছে শুনে রুহানীর গা জ্বলে উঠলো। দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে রইলো। রুহানী এগিয়ে জানালায় ঝুঁকে বললো,
"সাবধানে যাবেন। সাবধানে থাকবে।"
উজান বলল, "দ্রুত চলে আসবো।"
রুহানীর চোখে পানি চিকচিক করছে। এক ফোটা পানি গড়িয়ে পরলো। উজান ডান হাত দিয়ে তা আলগোছে মুছে দিলো।
গাড়ি চলতে শুরু করলো। দৃষ্টি সীমানার বাহিরে চলে গেলো।
____
"আমার উজানকে লাগবে, বাবা। যেকোনো মূল্যেই হোক না কেনো আমার উজানকে চাই।"
হায়াতের কান্ডে জালাল শেখ বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।
"মাথা খারাপ তোমার, আয়াত?" অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন জালাল শেখ।
"হ্যাঁ। হ্যাঁ আমার মাথা খারাপ। আমার উজানকে লাগবে, বাবা।" হায়াত অস্থির হয়ে বললো।
"হায়াত! রিলাক্স হও, মা। উজান বিবাহিত। তুমি কি বলছো তুমি নিজে বুঝতে পারছো?"
হায়াত বললো, "সো হোয়াট? বিবাহিত তো কি হয়েছে? আমি কিছু জানি না, বাবা। আমার ওকেই লাগবে। তুমি...তুমি ওই রুহানীকে মেরে ফেলো বাবা।"
"হায়াত!"
জালাল শেখ ধমকে উঠলেন।
হায়াত হাতের কাছে যা পাচ্ছে সব ছুড়ে মারছে। অস্থির ভাবে হাত পা ছুড়ছে। জিনিস পত্র ভাঙছে। তার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো মাহতাব বাড়িতে যতক্ষণ ছিলো। আর যখন...আর যখন সকাল বেলায় উজান আর রুহানীকে এক সাথে দেখলো তার ইচ্ছে করছিলো রুহানীকে গলা টিপে মারতে। আর রুহানীর গলার দাগটা! উজানের ঠোঁট কাটা। ও সব বুঝেছে। নিজের বাড়িতে এসেই সে পাগলামি শুরু করে দিয়েছে। তার যে করেই হোক উজানকে লাগবে। যেকোনো মূল্যেই হোক তার উজানকে চাই।
পাশে থাকা কাচের জগটা তুলে এক আছাড় মারলো। জালাল শেখ হতভম্ব হয়ে আছেন হায়াতের কান্ডে। হায়াতকে কখনো এমন রুপে দেখেনি সে। হায়াত সর্বদা শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে।
হায়াত পাশে থাকা ছুড়ি হাতে তুলে নিলো। ডান হাতে ধরে বাম হাতে চেপে ধরলো। জালাল শেখ হকচকিয়ে গেলেন।
হায়ার হাতে ছুড়ি চেপে ধরে বললো, "উজানকে আমার চাই, বাবা। ওরে ছাড়া আমি বাচবো না। উজাকে আমার কাছে এনে দাও। রুহানীর পাশে আমি ওকে দেখতে পারছি না।"
জালাল শেখ হার মানলেন মেয়ের কাছে। তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন,
"শান্ত হও, হায়াত। তুমি যা বলবে তাই হবে। আমার একমাত্র মেয়ে যেটা চায় সেটা না দেওয়ার সাধ্য আমার আমার নেই। উজান তোমাই থাকবে।"
বাবার কথায় হায়াত একটু শান্ত হলো।
____
রাত তখন দশটা বাজে। আকাশের অবস্থা ভালো না। মেঘ গর্জন করছে থেকে থেকে। অভ্র বাড়ি ফিরে এসেছে। রাতের খাবার খেয়ে যে যার ঘরে চলে গেলো।
গভীর রাত হয়ে গিয়েছে। বাড়ির প্রতিটা মানুষ ঘুমিয়ে গিয়েছে।
রুহানী গভীর ঘুমে নিমজ্জিত। হঠাৎ উদরে কারো হাতের স্পষ্ট অনুভব হলো। মুখের উপর নিঃশ্বাস আছড়ে পরছে। কোমরের হাত স্পষ্ট ঘারো হচ্ছে। ঘুমের ঘোরে রুহানী অস্পষ্ট টের পাচ্ছে।
এবার বাম পাশের ঘাড়ে নিঃশ্বাসের প্রগাঢ়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্চে ঘাড়ে। হঠাৎ রুহানী ঘুমের ঘোরেই সজাগ হলো। জোরে শ্বাস নিলো। এটা তো উজানের ঘ্রাণ না! তাহলে এটা কে? তড়াক করে চোখ খুললো। নিজের উপর কোনো পুরুষের অবস্থান দেখে চমকে উঠলো। এটা উজান না! তাহলে কে? হাত দিয়ে ধাক্কা দিলো। চিৎকার করে উঠলো,
"কে?"
লোকটা সেকেন্ডে ভেতরে ঘর থকে বেরিয়ে গেলো।
রুহানী অস্থির হয়ে আবার চেঁচিয়ে উঠলো, "কে!"
পুরো রুম অন্ধকার হয়ে আছে। অন্ধকারে দেখা গেলো না সে কে ছিলো। কে ছিলো লোকটা? তার সাথে...তার সাথে কি করছিলো! আল্লাহ!
রুহানী ছটফট করে উঠলো। হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। কে ছিলো এই লোকটা? অস্থির হয়ে উঠলো রুহানী। ফুপিয়ে উঠলো। দুই পা ভাজ করে দুই হাত দিয়ে হাটু জরিয়ে ধরে কাঁদছে। পুরো শরীর কাঁপছে তার।
এতো রাতে নিজের ঘর থেকে একটা লম্বা গড়নের পুরুষকে হন্তদন্ত পায়ে বেরোতে দেখে উজান সেখানেই থমকে গেলো। কিছু ভাবার আগেই হঠাৎ রুহানীর চিৎকার ভেসে আসলো। উজান এক দৌড়ে উপরে উঠে আসলো। রুহানীকে এভাবে বসে থাকতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো। কি হয়েছে বুঝতে একটুও দেরি হলো না তার। দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে রুহানীকে জরিয়ে ধরলো। হঠাৎ ধরায় রুহানী ভয় পেয়ে ছিটকে সরে আসলো।
চিৎকার করে উঠলো, "কে?"
উজান রুহানীকে টেনে এনে জরিয়ে ধরলো, "রুহানী আমি। শান্ত হও জান।"
প্রিয় পুরুষের ঘ্রান পেতেই রুহানী শক্ত করে জরিয়ে ধরলো উজানকে। ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
"ওটা কে ছিলো উজান ভাই? ওটা...ওটা আপনি ছিলেন না। তাহলে ওটা কে ছিলো?"
উজান রুহানী মাথা শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে রাখলো।
"কেও না। কেও ছিলো না ওটা। শান্ত হ। ভুল দেখেছিস তুই।"
"না। না। আমি ভুল দেখিনি। আমি স্পষ্ট অনুভব করেছি ও আমাকে বাজে ভাবে ছুঁয়েছে, উজান ভাই।" রুহানীর গলা কাঁপছে।
উজানের কপালের রগ দপদপ করছে। মুখ নীল হয়ে গিয়েছে। হাতের শিরা জেগে উঠেছে। চোখ লাল হয়ে গিয়েছে রাগে। তবুও নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো।
সে রুহানীকে ধরে শুয়ে পরলো। বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললো, "ভুল দেখেছিস তুই। সপ্ন ছিলো। শান্ত হ, জান। কিছু হয়নি। এভাবে কাঁদিস না জান, আমি মরে যাবো।"
রুহানী গুনগুন করে কাঁদতে কাঁদতে ওভাবেই ঘুমিয়ে গেলো। কিন্ত ঘুম হলো না শুধু উজানের।
আকাশের আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারনে আজকে ফ্লাইট অফ করা হয়েছিলো। অভ্রকে আগে পাঠিয়ে দিয়েছিলো সে। সাথে বলে দিয়েছিলো যেনো বাড়িতে এই ব্যাপারে না বলা হয়। সে রুহানীকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলো। সে তার এক ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়েছিলো একটা কাজে। সেখান থেকে ফিরতে এতো রাত হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় ছিলো প্রচুর জ্যাম।
____
সকালে ঘুম ভাঙতেই সামনে উজানকে দেখতে পেলো রুহানী। তাকে তাকাতে দেখে উজান গম্ভীর কন্ঠে বললো,
"ঘুম ভেঙেছে? দ্রুত উঠে পর। ফ্রেশ হয়ে খাবি চল।"
রুহানী জিজ্ঞের করলো,
"আপনি ফিরে এসেছেন কেনো?"
"ফিরে আসিনি। আবহাওয়া খারাপের কারনে ফ্লাইট অফ ছিলো। সন্ধ্যায় ফ্লাইট।"
রুহানী বললো, "ওহ আচ্ছা।"
রুহানী ফ্রেশ হয়ে আসতেই দুইজনে নিচে নেমে আসলো। নিচে বাবা,চাচারা সব পরিবারের সবাই উপস্থিত আছে। উজান অন্যদিনের তুলনায় আজকে বেশি গম্ভীর হয়ে আছে। সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে বলে উঠলো,
"রায়হান কোথায়?"
"এতো বড়ো বেয়াদব হয়েছো তুমি যে বড়ো ভাইয়ের নাম ধরে ডাকছো? দিন দিন কোন পর্যায়ে চলে যাচ্ছো তুমি একবারও ভেবে দেখেছো?"
রফিকুল মাহতাব ধমকে উঠলেন।
উজান তার কথায় কোনো জবাব দিলো না। সে হামিদা বেগমের দিকে তাকালো। জিজ্ঞেস করলো,
"তোমার বড়ো ছেলে কোথায়?"
"সে তো ঘরে। ঘুম মনে হয়।" হামিদা জবাব দিলেন।
উজান আর কোনো কথা না বলে আবার উপরে উঠে গেলো রায়হানের ঘরের দিকে। সবাই একে-অপরের দিকে তাকালো। আবার কি হয়েছে এই ছেলের!
রায়হানের ঘরের সামনে এসে থামলো উজান। ঘরের দরজা এক লাথি দিয়ে খুলে ফেললো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ানো রায়হান চমকে পেছনে ফিরলো। উজানকে এখানে দেখে অবাক হয়ে গেলো। উজান দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসলো। রায়হায় কিছু বলার পূর্বেই উজান সর্বশক্তি দিয়ে ওর মুখে ঘুষি মারলো। রায়হার ছিটকে পেছনে হেলে গেলো। নাক ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসলো। অবাক চোখে উজানের দিকে তাকাতেই উজান এবার সর্বশক্তি দিয়ে পেট বরাবর লাথি মারলো। রায়হাত গিয়ে পরলো ড্রেসিং টেবিলেরের উপর। ড্রেসিং টেবিলের আয়না ভেঙে গুরিয়ে গেলো। সব রায়হানের উপরে পরলো।
উপরে ভাঙচুরের আওয়াজ পেতেই সবাই চমকে উঠলো। হামিদা বলে উঠলেন,
"উপরে কিসের আওয়াজ হলো?"
সবার আগে রুহানী ছুটে গেলা। রুহানীর পেছন পেছন সবাইও ছুটে গেলো
উজান রায়হানের কলার টেনে উঠালো। আচমকা হামলায় রায়হান বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। রায়হান উল্টো প্রতি উত্তর করার আগে উজান এবার তাকে নিচে ফেলে পাশ থেকে কাঠের চেয়ার নিয়ে রায়হানের পিঠে আছাড় মারলো। রায়হার মুখ দিয়ে আওয়াজ টুকুও বের করতে পারলো না।
উজার তার ডান হাত পা দিয়ে পারিয়ে ধরলো। অন্য পা দিয়ে গলা চেপে ধরলো।
এতোক্ষনে বাড়ির সবাই চলে এসেছে। রায়হানকে এই অবস্থায় দেখে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। সকলের মুখের ভাষা যেনো হারিয়ে গেলো।
"আল্লাহ! উজান কি করছিস কি এগুলা!" হামিদা চেঁচিয়ে উঠলেন। রফিকুল সাহেব হতভম্ব হয়ে গেলেন। রাফিদ মাহতাব, আফতাব মাহতাব চেঁচিয়ে উঠলেন।
রুহানী সেখানেই থমকে গেলো। সে বুঝে গিয়েছে উজান কেনো এমন করছে!
তুহিন, রাসেল গিয়ে উজানকে টেনে ধরলো। কিন্ত তাদের টানাটানিতে কোনো কাজেই আসছে না। উজান ওদের দুইজনকে ছাড়িয়ে রায়হানের মুখ বরাবর জোরে জোরে পরপর কতোগুলো লাথি মারলো। রায়হানের মুখের নকশা বদলে গেলো। রফিকুল সাহেব এগিয়ে এসে উজানকে টেনে সরালো। উজানের গালে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় মারলো। রুহানী এগিয়ে আসতে গেলে হামিদা রুহানীর হাত টেনে ধরলো। রুহানী অসহায় চোখে তাকালো হামিদার দিকে।
অভ্র গিয়ে রফিকুল সাহেবকে থামালো। রফিকুল সাহেব অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উজানের দিকে। উজানের চোখ ফেটে যেনো রক্ত বেরিয়ে আসবে। হাত আর কপালের রগ দপদপ করছে। নাক ফুলে আছে।
রফিকুল সাহেব চেঁচিয়ে উঠলেন, "তোকে জন্ম দেওয়াই আমার জন্য চরম ভুল হয়েছে। জন্মের সময় তোকে মেরে ফেলার দরকার ছিলো। তুই... তুই একটা..."
রাগে গলা কাঁপছে রফিকুল সাহেবের। উজান লাল চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। উজ্জ্বল শ্যামলা মুখ লাল হয়ে আছে তার। হামিদা ছুটে গেলেন রায়হানের কাছে। রায়হান জ্ঞান হারিয়েছেম তাকে ধরে কেঁদে চলেছেন। চেঁচিয়ে উঠলেন,
"আমার ছেলে চোখ খুলে না কেন। আল্লাহ!"
রাফিদ মাহতাব, আফতাব মাহতাব রায়হানকে এসে ধরলেন। রায়হানের নিঃশ্বাস খুব ক্ষীণ ভাবে চললে। রফিকুল সাহেব আবার চেঁচিয়ে উঠলেন,
"কি হলো কথা বলছিস না কেনো? ওকে এভাবে মারলি কেনো?"
অভ্র বললো, "ভাইজান তুমজ জানো উজান কোনো কারন ছাড়া শুধু শুধু ওকে মারবে না।"
"তুই চুপ কর বেয়াদব। কি এমন হয়েছে যে এভাবে মারবে? কি করেছে রায়হান?" আবার চেঁচিয়ে উঠলেন রফিকুল সাহেব।
"কি করেছে সেটা পরের কথা সবার আগে এটা শুনো, উজানের ভিডিও ভাইরাল কে করেছে যানো? তোমার এই আহ্লাদের বড়ো ছেলে। উজানের সাথে ওর কিসের শত্রুতা বলো? ও কেনো উজানের ভিডিও ভাইরাল করলো সেটার জবাব দাও আগে।"
অভ্রর সবায় সবার মাথায় বজ্রপাত হলো যেনো। সবাই আরেক দফা চমকালো।
আফতাব মাহতাব বললেন, "এখন এই সবের সময় না। রায়হানকে হসপিটালে নিতে হবে দ্রুত।"
সবাই ধরাধরি করে রায়হাতকে হসপিটালে নিয়ে গেলো।
রাসেল বিরবির করলো,
"শালা এমন মারা মারে যে সবগুলারে হসপিটালের ভর্তি করে ছাড়ে!"
____
উজান ঘরে আসতেই গায়ের শার্ট টেনে খুলে দূরে ছুড়ে মারলো। রুহানী পেছন পেছন এসে দাঁড়ালো। উজান বিছানায় গিয়ে মাথা নিচু করে বসলো। দুই হাটুতে হাত রেখে মাথা চেপে ধরলো। রাগে মাথা এখনো গিজগিজ করছে। রুহানী সামনে এসে দাঁড়ালো তার।
আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো, "কাল রাতে ওইটা রায়হান ভাইয়া ছিলো তাই না?"
উজান কোনো জবাব দিলো না। ওভাবেই বসে রইলো। রুহানীর চোখে পানি চিকচিক করছে। কান্না আটকে বলে উঠলো,
"আমার জন্য বারবার আপনাকে বিপদে পরতে হচ্ছে। প্রতিবার আপনি আমার জন্য মারামারি করছেন। সব নষ্টের মূল আমি। আমার মরে যাওয়া উচিত তাই না? আমি আপনার ঘাড়ে বিপদ হয়ে এসেছি।"
হঠাৎ উজান দাঁড়িয়ে গেলো। রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো তার দিকে। দুই পা এগিয়ে আসলো। আচমকা শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে রুহানীর ডান গালে চড় মারলো। চড়ের ধাক্কায় ডান দিকে হেলে গেলো রুহানী। বিষ্ময় চোখে তাকালো উজানের দিকে। তার ডান গালে উজানের বড়ো বড়ো পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ বসে গেছে।
উজান রুহানীও হাত টেনে সোজা করলো। রাগে গজরাতে গজরাতে বললো,
"আরেকবার এইসব চিন্তা মাথায় আনলে সেদিনই তোকে মেরে ফেলবো তারপর আমি মরবো।"
রুহানী উজানকে জরিয়ে ধরলো। ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
____
কিছুক্ষন পর অভ্র আসলো। উজানকে বলল,
"রেডি হয়ে নে। বের হতে হবে।"
উজান জবান দিলো, "আমি কোথাও যাবো না।"
"উজান এটা তোর মত আর না মতের বিষয় না। তোকে যেতেই হবে এটা আমার আদেশ।"
উজান অভ্রর উপর কোনো কথা বলতে পারে না। সে বললো,
"আমি এই পরিস্থিতির ভেতরে কিভাবে যাবো?"
"রুহানীর দায়িত্ব আমার। আজকে থেকে ওর সাথে সুমাইয়া থাকবে। তুই নিশ্চিন্তে থাক।"
উজান রুহানীর দিকে তাকালো। রুহানী পাথা নাড়িয় সায় দিলো। অবশেষে উজান রাজি হলো। বিকালের দিকে ফ্লাইটের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো।
চলবে...
(কেমন হয়েছে আপনাদের মতামত জানাবেন কিন্ত। ভুলক্রটি হলে মাপ করবেন।)