#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
২৬.
ঘড়ির কাঁটা ঠিক তিনটায় গিয়ে ঠেকেছে। ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে বেরিয়ে এলো আয়েশা। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা। অভ্র বিছানায় বসেছিলো।পা ফ্লোরে ঝুলছে, দুই হাত দিয়ে বিছানার ধার চেপে ধরে শরীরটা হালকা পেছনে হেলান দিয়ে আছে। আয়েশা বেরিয়ে আসতেই অভ্র মিটিমিটি হাসলো। তার হাসি দেখে আয়েশার বুক ধড়ফড় করে উঠলো। এই লোকের হাসি মানে ভয়ংকর হাসি। হাসির পেছনে লুকিয়ে আছে সয়তানি বুদ্ধি। আয়েশা আড় চোখে তাকিয়ে এগিয়ে আসতেই অভ্র আচমকা দাঁড়িয়ে গেলো।
অভ্র এগিয়ে এসে বললো, "চলো ছাদে যাই।"
আয়েশা চমকে উঠলো। এতো রাতে ছাদে! আয়েশা বলে উঠলো,
"এতো রাতে ছাদে যাবেন? মাথা খারাপ নাকি?"
"আরেহ, রাতেই তো ছাদে যেতে হয়। শেষ প্রহরের ছাদের নীরবতা, ঠান্ডা বাতাস, চারপাশের অন্ধকার সব মিলিয়ে একেবারে অন্যরকম পরিবেশ। এই সময় ছাদ হয়ে যায় প্রেম করার জন্য মোক্ষন জায়গা।"
আয়েশা ভ্রু কুঁচকে গেলো। প্রেম করার জন্য ছাদ মোক্ষন যায়গা? তাহলে এই লোক এতোক্ষন কি করলো রুমের ভেতরে?
আয়েশা বললো, "আমি যাবো না। আমার ঘুম আসছে আমি ঘুমাবো।"
অভ্র হাত ধরলো আয়েশার। টেনে নিয়ে যেতে যেতে বললো, "ঘুমের জন্য সারাদিন পরে আছে। রাতটা আমার সাথে জেগে কাটাও। যদি সকালে উঠা নিয়ে বাড়ির লোক কি বলবে এর ভয়ে থাকো তাহলে এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। আমার বাড়ির লোক যানে অনেক পরিশ্রমের ফল তুমি। অবশ্যই এতো সহজে ছাড়বো না।"
অভ্রর কথায় আয়েশা হতভাগ না হয়ে পারলো না। এই লোক এতো ঠোঁট কাটা!
ছাদে পা রাখতেই মন জুরিয়ে গেলো। ঠান্ডা হাওয়া এসে গা ছুঁয়ে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে শরীর কেঁপে উঠলো আয়েশার। গোসল করার পর থেকেই শরীর ঠান্ডা ছিলো, তার ওপর মধ্যরাতের ঠান্ডা বাতাস গায়ে এসে লাগলো কাঁপন ধরিয়ে।
ছাদটা বিশাল। দরজার পাশে সাদা বাল্ব জ্বলছে। আলোয় ছাদের অর্ধেকটা আলোকিত, বাকি দিকটা অন্ধকারে ঢাকা।
অভ্র আর আয়েশা ছাদের বাম দিকে এগিয়ে গেলো। রেলিঙের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো অভ্র।
আয়েশাকে সামনে দিয়ে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো অভ্র। অভ্র বলে উঠলো,
"বুঝলে আয়েশা বিবি..."
অভ্র থেমে গেলো। অভ্রকে থামতে দেখে আয়েশা জিজ্ঞেস করলো,
"কি হলো? বললেন না যে?"
"তুমি শুনতে চাও?"
"অবশ্যই।"
"তাহলে শুনো।"
অভ্র গম্ভীর কন্ঠে খুব সিরিয়াস হয়ে বলে উঠলো,
"বুঝলে আয়েশা বিবি, আমাদের খুব দ্রুত প্রসেসিং শুরু করতে হবে।"
আয়েশা ঠিক বুঝলো না তার কথা। জিজ্ঞেস করলো,
"কিসের প্রসেসিং?"
"আবার কিসের? অবশ্যই বাচ্চার। ছোটো ভাগ্নের থেকে গুনে গুনে সাত বছরের বড়ো হয়েও আমার আগে ওর বাচ্চা হয়ে যাচ্ছে ভাবা যায়! আশ্চর্য! আশ্চর্য! বড়োই আশ্চর্যের বিষয়! এটা কি আমার ব্যার্থতা না, বলো? এবার যদি উজাইন্নারও আগে বাচ্চা হয়ে যায় তখন? তখন তো সবাই আমার পুরুষত্বের দিকে আঙুল তুলবে!"
এক নাগাড়ে কথা শেষ করে থামলো অভ্র। আয়েশা হতভম্ব হতেও ভুলে গেলো যেনো। এই মানুষটা এতো কথা জানে! সবার সামনে তো কেমন গম্ভীরমুখে থাকে! কথাও বলে গুনে গুনে খুব হিসেব করে!
অভ্র আবার বললো, "না..না..না উজানকে এবার আগে হতে দেওয়া যাবে না। আমাকে ফাস্ট হতে হবে।"
বলেই এবার সে আয়েশাকে ছেড়ে হাত টেনে ধরলো, "চলো আমরা এখন থেকেই প্রসেসিং শুরু করি।"
আয়েশা চরম বিরক্ত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নিলো,
"উফ থামেন তো আপনি! আশ্চর্য! চুপচাপ দাঁড়ান।"
____
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলো বিছানার সাথে হেলান দিয়ে উজান বসে ফোন ঘাটছে। রুহানী ডাক দিলো,
"উজান ভাই?"
রুহানীর ডাকে উজানের কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। রুহানী আবার ডাকলো,
"ও উজান ভাই?"
উজান চোখ তুলে তাকালো। রুহানী হালাল হেসে বললো,
"চলেন যাই।"
উজান ভ্রু তুলে বললো, "কোথায়?"
রুহানী হেলতে দুলতে গেয়ে উঠলো,
"চলো না যাই, বসি নিরিবিলি, দুটি কথা বলি, নিচু গলায়।
আজ তোমাকে ভোলাবো আমি আমার মিষ্টি কথা মালায়।"
উজান হেসে উঠলো। জিজ্ঞেস করলো,
"কি চাস খুলে বল।"
রুহানী মুখ গম্ভীর করার চেষ্টা করে বললো, "কি খুলবো?"
উজান বাঁকা হেসে হললো, "ইউর উইশ। এনিথিং অর এভরিথিং।"
রুহানী থতমত খেলো। আবার বললো, "চলেন আমার সাথে।"
"কোথায়?"
"ছাদে।"
উজান চমকে উঠলো, "পাগল নাকি? কয়টা বাজে দেখেছিস? এতো রাতে ছাদে কি?"
রুহানী ঠোঁট ফুলিয়ে বললো, "চলেন না, প্লিজ। আমার অনেক দিনের সখ ছিলো, রাতে ছাদে যাবো কিন্ত একা যেতে ভয় করে। এখন যেহেতু আপনি আছেন তাহলে আর ভয় কিসের?"
উজান মাথা নাড়িয়ে উঠে বসলো।
"চল।"
রুহানী খুশি হয়ে উজানের পেছনে পেছনে গেলো। ছাদে উঠে তারা ডান দিকে গেলো।
রুহানী বড়ো করে শ্বাস নিয়ে বললো, "আহ শান্তি।"
রুহানীর পেছনে এসে দাঁড়ালো উজান। রুহানীর পিঠ এসে ঠেকলো উজানের বুকে। উজান নিচু হয়ে রুহানী ঘাড়ে থুতনি রাখলো। দুই হাত দিয়ে রুহানীর কোমর জরিয়ে ধরলো। মিশিয়ে নিলো নিজের সাথে। রুহানী হেসে উজানের হাতের উপর হাত রাখলো।
কিছুক্ষন সব কিছু নিরবতা থাকার পর রুহানী আচমকে প্রশ্ন করলো,
"আপনি কখনো প্রেম করেছেন, উজান ভাই?"
"না।" উজান সোজাসাপ্টা জবাব দিলো।
"কেনো?"
"প্রয়োজন পরেনি তাই।"
"প্রয়োজন পরেনি কেনো?"
"ঘরে বউ পালছিলাম তাই বাহিরে নজর যায়নি।"
রুহানী চমকে উঠলো। পেছনে ঘুরে দাঁড়ালো। এখন উজান আর সে মুখোমুখি। উজান ছাড়লো না রুহানীকে। ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। রুহানী পিঠ ঠেকলো রেলিঙের দেয়ালে।
রুহানী জিজ্ঞেস করলো,
"ঘরে বউ পালছিলেন মানে?"
"তোকে পালছিলাম তো।"
রুহানী থমকে গেলো। চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে রইলো।
"মানে...মানে আপনি..."
"শাট আপ।" রুহানীর কথা শেষ হওয়ার আগে উজান ধমকে উঠলো।
রুহানী থতমত খেলো। চোখ পিটপিট করে তাকালো। যদিও অন্ধকারের ভেতরে কোনো কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। দরজার পাশের লাইটের আলো হালকা এদিকে এসে পরেছে। রুহানী উজানের দিকে তাকিয়ে রইলো। ঘরে এতো সুন্দর একটা আইটেম থাকতে সে কিভাবে বাহিরের পচা মাছে মুখ দিয়ে ছিলো তার মাথায় ঢুকে না। আসলেই সে একটা বলদ ছিলো। উজান ভাই ঠিকই বলে, সে একটা বলদ। তার মানে উজান ভাই আগে থেকেই তাকে ভালোবাসে! রুহানী বাকরূদ্ধ হয়ে গেলো। কিছু বলতে যাবে তার আগেই উজান তার মুখ বন্ধ করে দিলো। দাঁত বসিয়ে দিলো তার ঠোঁটে। রুহানী খামচে ধরলো উজানের বুকের দিকের শার্ট। উজান ছেড়ে দিলো।
রুহানী তেতে উঠে বললো,
"সমস্যা কি ভাই? এভাবে হুট হাট কামড়ে ধরেন কেনো? আমাকে কি খাবার মনে হয়?"
উজান বললো,
"খাবার কেনো হবে? মিষ্টি বল, মিষ্টি। আমার ব্যাক্তিগত সুইট।"
রুহানী অবাক না হয়ে পারলো না। কিছুদিন ধরে দেখছে উজান ভাই একদম চেঞ্জ। তার সাথে থাকলে কেমন উলোট পালোট করে দেয় তাকে!
উজান আবারও তার ঠোঁট দখল করে ফেললো। রুহানীর হটাৎ নজর গেলো দরজার দিকে। মাত্রই তুহিন আর ইসরাত ভেতরে ঢুকলো। চমকে উঠলো রুহানী। ছটফট করে উজানকে ছাড়াতে গেলে উজান ছাড়লো না। ওর দুইহাত শক্ত করে ধরে ফেললো।
তুহিন আর ইসরাত উজান আর রুহানীকে এখানে এভাবে দেখে সেখানেই থমকে দাঁড়ালো। চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো তাদের। একে ওপরের দিকে তাকালো।
রুহানী না পেরে উজানের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। আলতো করেই কামড়েছে। উজান তাও ছাড়লো না। রুহানী এবার জোরে কামড়ালো। উজানের নিচের ঠোঁট ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসলো। উজান অবাক হয়ে ছেড়ে দিলো। অবাক চোখে তাকালো রুহানীর দিকে।
রুহানী দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বললো,
"পেছনে তাকান আর আমাকে ছাড়েন।"
উজান ছাড়লো না তবে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো। উজানকে তাকাতে দেখে তুহিন দাঁত কেলিয়ে হেসে উঠলো। তুহিন আর ইসরাতকে দেখে উজান ছিটকে সরে আসলো।
উজান গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো, "তোরা এতো রাতে এখানে কেন?"
তুহিন দাঁত কেলিয়ে সেভাবেই জবাব দিলো, "ছাদ কি তোমার বাপের? ওহ না তোমার বাপেরই তো। যাইহোক, ছাদ কি তোমার একার বাপের? আমাদের কথা ছেড়ে আগে নিজের কথা বলো। এতো রাতে এখানে কেন তোমরা?"
"প্রেম করতে আসছি।" উজানের সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো।
ইসরাত লজ্জায় তুহিনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। রুহানীও লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে রাখলো। তুহিন আরো কিছু বলতে যাবে এমন সময় দেখা গেলো বাম পাশ থেকে অভ্র আর আয়েশাও এগিয়ে আসছে। তারা আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে এসেছে। উজান, তুহিন চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো অভ্রর দিকে।
মাঝে দরজার সামনে তুহিন আর ইসরাত আর ডান পাশে উজান আর রুহানীকে দেখে অভ্রর ভ্রু কুঁচকে গেলো।
অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"তোরা এখানে কেন!"
এই সময় অভ্রকেও আসা করেনি কেও।
সবাই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে ঘুরেফিরে তাকাচ্ছে! এই সময় কেও কাওকে আশা করেনি!
তুহিন বললো, "আরেহ অভ্র চাচা আপনিও কি এখন প্রেম করতেই এসেছেন? কিন্ত আজকে না আপনার বাসর রাত?"
ইসরাত পেছন থেকে তুহিনের কোমর খামচে ধরলো। ব্যাথায় কুঁকরে উঠলো তুহিন। পেছনে ফিরে বললো,
"কি হয়েছে জান? খামচি মারো কেন?"
ইসরাত দাঁতে দাঁত চেপে বললো, "চুপ করো অসভ্য লোক!"
ইসরাতের মাথাতে তোয়ালে পেঁচানো। আয়েশার মাথাতেও তোয়ালে পেঁচানো।
রুহানী ছোটো আওয়াজে বললো,
"আশ্চর্য দুইজনের মাথাতেই তোয়ালে পেচানো!"
উজান ধমকে উঠলো,
"বলদ চুপ কর। তোর মাথায়ও পেচানো।"
রুহানী মাথা চেপে ধরলো। আসলেই তো!
অভ্র বিরবির করলো,
"শান্তিতে বউ নিয়ে একটু ছাদেও আসা যাবে না! এখন তো দেখছি বউ নিয়ে রাতে ছাদে আসার জন্যে হলেও একটা ব্যাক্তিগত ছাদ বানানো লাগবে।"
আয়েশা ওর শার্ট টেনে ধরলো। অভ্র ফিরতেই বলে উঠলো, "ঘরে চলুন।"
অভ্র আয়েশার হাত ধরে আড় চোখে সবার দিকে তাকাতে তাকাতে ছাদ থেকে বেরিয়ে গেলো।
তুহিন দাঁত বের করে হেসে বললো, "চাচা লজ্জা পাইছে! হেহে।"
ইসরাত ফিসফিস করে বললো, "চুপ করো না বাল।"
তুহিন বউয়ের দিকে অসন্তুষ্ট চোখে একবার তাকিয়ে আবার উজানের দিকে তাকালো। উজান ভ্রু তুলে তাকিয়ে আছে।
তুহিন বললো,
"ভাই আপনি যাবেন না নিচে? দুইজন জোরা কবুতর তো ভালোই সময় কাটাইলেন এতোক্ষন। এবার আমাদের একটু থাকতে দ্যান, প্লিজ।"
উজান রুহানীর হাত ধরে নিয়ে চলে গেলো ছাদ থেকে।
এতোক্ষনে যেনো ইসরাত হাফ ছেড়ে বাচলো। ঘুরে এসে তুহিনের সামনে দাঁড়িয়ে তার শার্টের কলার চেপে ধরলো। হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
"তুমি ভালো হবে কবে সেটা বলো? মানুষ জন দেখো না উলটা পালটা কথা বলো কেনো? লজ্জা করে না? তোমরা জন্মগত নির্লজ্জ সেটা না হয় বুঝলাম অন্তত আমাদের কথাটা একবার ভাবো, লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করে।"
"তোমরা মেয়েরা এতো লজ্জা নিয়ে ঘুমাও কেমনে? এতো লজ্জা থাকলে আমি ক্রিকেট টিম বানাবো কিভাবে আজব!"
আকাশে মেঘ জমেছে। টিপটিপ বৃষ্টি পরছে এবার। তুহিন সেদিকে তাকিয়ে বললো,
"শালা বৃষ্টিও আমাদের প্রেম সহ্য করতে পারছে না।"
____
সকালে খাবার খেয়ে অতিথিরা একে একে সবাই বেরিয়ে গেলো। সুমন, হাফিজ বাবা চাচাদের সাথে খেয়ে উঠে গিয়েছে।
এবার বাড়ির ছেলে মেয়েরা খেতে বসেছে।
সামিয়া, ইরা তার পাশে হায়াত, সুমাইয়া। সুমাইয়ার পাশে রাসেল। তাদের সামনে আয়েশা, অভ্র, তুহিন, ইসরাত।
উজান আর রুহানীও আসলো সে সময়। সুমাইয়াদের সামনে বসলো। উজানের দিকে তাকিয়ে সুমাইয়া চমকে উঠলো।
জোরে চেচিয়ে বলে উঠলো, "উজান ভাইয়া! তোমার নিচের ঠোঁটে কি হয়েছে? এভাবে ফুলে আছে কেনো! কেটেছে কিভাবে?"
সুমাইয়া কথায় সবাই উজানের দিকে তাকালো। উজান থমকে গেলো। রুহানী লজ্জায় হাসফাস করে উঠলো। তুহিন সয়তানি হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে বলে উঠলো,
"ভাইয়ের ঠোঁটে মধু লাগানো ছিলো, তাই মৌমাছি কামড়ে দিয়েছে।"
ইসরা দাঁত খিচে চোখ বন্ধ করে থাকলো। এই লোক জীবনেও শোধরাবে না!
তুহিনের কথায় সুমাইয়ার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।
"কি বলো! মৌমাছি কোথা থেকে আসলো বাড়িতে!"
"এটা যেই সেই মৌমাছি না। বড়ো মৌমাছি ছিলো।" তুহিন আবার বললো।
উজান পা দিয়ে লাথি মারলো তুহিনকে। সুমাইয়াকে বললো,
"চুপচাপ খা।"
সুমাইয়া আর কিছু বললো না। হঠাৎ রুহানীর দিকে নজর গেলো। রুহানীর গলার থেকে হালকা ওড়না সরে গিয়েছে। সুমাইয়া সেদিয়ে তাকিয়ে আবার জোরে বলে উঠলো,
"রুহানী তোর গলায় কি হয়েছে? ওরকম কালচে হয়ে আছে কেনো?"
এবার সবার নজর গিয়ে রুহানীর উপরে পরলো।
রুহানী ছটফট হাতে গলা ঢেকে ফেললো। উজান বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে ফেললো। হায়াত চট করে তাকালো রুহানীর দিকে। দুই পা দিয়ে খামচে ধরলো ফ্লোর। প্লেট শক্ত করে ধরলো। শুকনো ঢোক গিললো।
"চুপ কর তুই। সবার এদিয়ে ওদিকে নজর যায় কেন তোর এতো? মানুষের চোখ তো না যেনো বাজ পাখির চোখ!"
এবার রাসেল ধমকে উঠলো সুমাইয়াকে।
রাসেলের ধমক খেয়ে বিরবির করে খেতে শুরু করলো সুমাইয়া। তার ভুল কিসে সে বুঝতে পারছে না।
চলবে...