ফন্ট সাইজ:
থিম:
শুধু বলো ভালোবাসি

৪৭তম পর্ব

লেখক: মুহসানাত নুসাইবা
#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
৪৭.
উজানরা চলে গিয়েছে বেশ কিছুক্ষন হলো। রুহানীকে নতুন একটা লাল হলুদ শাড়ি পরানো হয়েছে। বাড়ির প্রতিটা নারী শাড়ি পরে রয়েছে বাদ যায়নি ছোট্ট রুহিও। সে বেশ ফুরফুরে রয়েছে। এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। অবশ্য ওর সব সময় কাজই হলো ছোটাছুটি করা। সারা বাড়ি মানুষে গিজগিজ করছে। সকলে ব্যাস্ত কালকের প্রস্তুতি নিতে। উঠানে বসে সব খালা,চাচিরা মিলে কাটাকুটি করছে, মসলা বাটছে। সাউন্ড বক্সে মৃদু গান বাজছে। 
অন্যদিকে মাহতাব বাড়িতেও একই অবস্থা। মা,চাচিরা মিলে কাজ করছে। পুরো মাহতাব বাড়ি লাইটিং করা। ফুল দিয়ে সাজানো। উঠোনে লাইটে ঝকঝক করছে।
উজান সেই কখন থেকে ফায়ার হয়ে আছে। ভয়ে তার সামনে কেও যেতেই পারছে না। তার কাছে এখন সব ভালো কথাও তিতা লাগছে। যতক্ষণ রুহানীদের বাড়িতে ছিলো ততক্ষণ ভালোই ছিলো। এ বাড়িতে আসার পর আবার তার মেজাজ
চড়ে আছে। দূরে দাঁড়ানো রাসেল আর তুহিন আড় চোখে উজানকে পর্যাবেক্ষন করছে। কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। কখন যেনো আবার ধমকে উঠে। তাই চুপচাপ তাকে দূর থেকে ফলো করছে।
"রাসেল এদিকে আয়।"
উজান ডেকে উঠলো রাসেলকে।
ডাক শুনতেই দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো
রাসেল। উজান একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিলো রাসেলের হাতে। বললো,
"এটা রুহানীকে দিয়ে আয়।"
রাসেল বললো,
"কালকেই তো রুহানী এ বাড়িতে আসছে, তখন দিলেও তো হয়।" 
উজান ধমকে উঠলো, "তোকে যেটা বলছি সেটা কর।"
রাসেল মনে মনে বিরবির করলো, "খালি খ্যাকখ্যাক করে। বউহীন লোক।"
_____
সারা ঘর উলোটপালোট হয়ে আছে। প্রতিটা জিনিস অগোছালো। রুহানী ঘর গুছাতে গুছানে গেয়ে উঠলো,
'নান্টু ঘটকের কথা শুইনা অল্প বয়সে করলাম বিয়া,
মুরুব্বীরা কইলো সবাই নো টেনশন নো চিন্তা,
পাইছো জীবনে দারুণ একটা পোলা।
পোলা তো নয় সে তো আগুনের গোলা রে,'
পরের লাইন গাইতে গেলে হঠাৎ পাশ থেকে সুমাইয়া বলে উঠলো,
"চুপ কর। তুই কট খেয়ে বিয়ে করেছিস। কোনো নান্টু ঘটকের কথা শুনে না।"
রুহানী থেমে গিয়ে হাতের কাজ রেখে বাঁকা চোখে তাকালো সুমাইয়ার দিকে। এক ভ্রু উঁচু করে দুই তিন সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে আচমকা সুমাইয়ার ডান পায়ে লাথি মারলো। লাথির ঘষায় সুমাইয়ার পরনের সিল্কের শাড়ির কুচি ঝরঝর করে খুলে পরে গেলো মেঝেতে। সাথে নিজেও তাল সামলাতে না পেরে পা ভেঙে বসে পরলো। এমন সময় কোনো আগাম বাত্রা ছাড়া ঘরে প্রবেশ করলো রাসেল। রাসেলকে দেখে সুমাইয়া দুই হাটু এক যায়গায় নিয়ে হাত দিয়ে ধরে ওভাবে বসে রইলো। সুমাইয়াকে মেঝেতে এভাবে বসে থাকতে দেখে রাসেলের ভ্রু কুঁচকে গেলো। 
গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"কিরে তুই এভাবে ফ্লোরে বসে আছিস কেনো?"
সুমাইয়া মুখ ঘুড়িয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থমথমে কন্ঠে জবাব দিলো,
"আমার ইচ্ছে করছে তাই এখানে বসে আছি। তোমার কোনো সমস্যা?"
রাসেল এগিয়ে এসে তার সামনে বুকে হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,
"একটা প্লেট এনে দেই? তুই বরং প্লেট নিয়ে রাস্তায় এভাবে বসে থাক। দেখবি রাতারাতি তুই অনেক টাকার মালিক হয়ে যাবি। যাকে বলে বড়োলোক হওয়া।"
সুমাইয়া অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে গর্জে উঠলো,
"তুমি যাবে এখান থেকে?"
রুহানী মিটিমিটি হাসছে সুমাইয়ার নাজেহাল অবস্থা দেখে। একদম ঠিক হয়েছে। সে রাসেলকে জিজ্ঞেস করলো,
"কি হয়েছে ভাইয়া? হঠাৎ আসলে যে?"
রাসেল সুমাইয়ার উপর থেকে চোখ সরিয়ে রুহানীর দিকে ফিরে এগিয়ে গিয়ে ওর সামনে একটা শপিং ব্যাগ ধরলো। বললো,
"ভাইয়া এটা দিতে পাঠালো।"
রুহানী নিলো সেটা।
রাসেল জিজ্ঞেস করলো, "আমার আব্বা আম্মারা কই?"
"তাদের নানার কাছে। একটু আগেই নিয়ে গেলো।" রুহানী জবাব দিলো রাসেলের।
রাসেল আবার তাকালো সুমাইয়ার দিকে। রাসেলকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে সুমাইয়া ঝটপট নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো। রাসেব কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। এই মেয়ে উঠছে না কেনো? সে আবার জিজ্ঞেস করলো,
"সমস্যা কি তুই উঠছিস না কেনো?"
সুমাইয়া ভিষণ বিরক্ত হয়ে বললো,
"উফ। তুমি যাও তো, ভাই। যাও। হুদাই আমার পেছনে পরছো কেন।"
রুহানী হেসে বললো,
"যাও ভাইয়া ও এখানে এভাই বসে থাকুক।"
রাসেল আড় চোখে একবার তাকিয়ে চলে গেলো। সুমাইয়া মাথা উঁচিয়ে দেখলো রাসেল পুরোপুরি চলে গিয়েছে নাকি। যখন বুঝলো রাসেল চলে গিয়েছে তখনই এক লাফ উঠে দাঁড়ালো। লাফানোর ফলে শাড়ি আরো খুলে গেলো। সেদিকে তোয়াক্কা করলো না সুমাইয়া। দৌঁড়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। আবার দৌঁড়ে আসলো রুহানীর কাছে।
রুহানীর হাত থেকে কেড়ে নিলো শপিং ব্যাগটা।
"দেখি তোর কট খাওয়া বর কি পাঠিয়েছে তোর জন্য।"
রুহানী নাক ফুলিয়ে সুমাইয়ার থেকে আবার কেড়ে নিলো। ধমকে উঠলো,
"তোকে দেখাবো কেন? আমার বর আমাকে পাঠিয়েছে সেটা আমি দেখবো।"
সুমাইয়া মুখ বাঁকালো,
"হুহ ঢং দেখলে বাঁচি না।"
"তাইলে মরে যা।"
____
একটু রাত হতেই রুহী কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে সে বাবার কাছে যাবে। মেয়েকে কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছে না। সারা বাড়ি মাথায় তুলে কাঁদছে সে। 
বিছানায় গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে। বোনের এতো কান্না দেখে এবার ইজানও কেঁদে উঠলো। কেও থামার নাম নিচ্ছে না। 
 সব সময় শান্ত থাকা ইজানও সমান তালে বোনের সাথে কাঁদছে। রুহানী অতিষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়ে পরলো।
কাওকে শান্ত করতে না পেরে দুঃখে কষ্টে সেও কান্না করে দিলো। হঠাৎ মা'কে এভাবে হঠাৎ কাঁদতে রুহি আর ইজানের কান্না থেমে গেলো। ফেলফেল করে চেয়ে রইলো মায়ের দিকে। এবার মা'কে কাঁদতে দেখে আবার দু'জনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সুমাইয়া, মুজিবুর রহমান আর খালারা মিলে শান্ত করার চেষ্টা করলো। বিভিন্ন পন্থায় চেষ্টা করলো কান্না থামানোর। অবশেষে অনেক রাত করে তাদের কান্না থেমেছে। মায়ের কোলে গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়েছে দু'জনে।
বাচ্চারা এভাবে তার জন্য কাঁদছে এটা উজানের কানে আসতেই উজান আরো রেগে গেলো। তার ইচ্ছে করছে সব গুলোর মাথার খুলি উড়িয়ে দিতে। এসবের মানে কি? বিয়ে করছে ভালো কথা তাই বলে আলাদা থাকতে হবে? এবাড়িতে থেকেই তো সব আয়োজন করা যেতো। যত্তসব নাটক শুরু করে দিয়েছে সবাই। তার বাচ্চাদের এভাবে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয়? সে তখনই যেতে চেয়েছে সে বাড়ি কিন্ত তাকে কেও যেতে দেয়নি। জোর করে রেখে দিয়েছে। সেই থেকে আরো মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। রুহানীকেও ফোন করে ইচ্ছেমতো ঝেড়েছ। আর এদিকে রাত শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না। আশ্চর্য রাত এতো বড়ো কেনো! ঘরে ঘুম আসছে না তার। রাত তখন তিনটা বাজে। ছাদে উঠলো উজান। পকেট থেকে সিগারেট বের করে তা জ্বালিয়ে কয়েকটা টান দিয়ে ধোঁয়া উড়ালো। কিছুক্ষনের ভেতরে প্রথম সিগারেট শেষ হয়ে গেলে দ্বিতিয়টা জ্বালালো।
রুহানীর প্রতিক্ষিত বউ সাজার দিন আজ। পার্লার থেকে লোক চলে এসেছে রুহানীকে সাজাতে। তার পরনে লাল শাড়ি। সামনে বড়ো আয়নায় সে বারবার নিজেকে ঘুরে ঘুরে দেখছে। আবার বারবার নিজের মেহেদি রাঙা দুই হাত দেখছে। বাম হাতের মাঝে শুধু 'উজান' লেখা আর ডান হাতের মাঝে 'উজানের বউ' লেখা। যতোবার লেখাটা সে দেখছে আর তার গাল লাল হয়ে উঠছে। 
অন্য পাশে ইরা, সামিয়া, রাবিয়া, হাসি, সুমাইয়া সাজছে।
রুহি'কেও লাল রঙের রেডিমেড শাড়ি পরানো হয়েছে। উজান মেয়ের জন্য স্পেশাল ভাবে এই শাড়িটি বানিয়েছে। ছেলে ইজান আর তালহার জন্য পাঞ্জাবি। রুহি শাড়ি পরে সারা ঘর ঘুর ঘুর করছে। কিছুক্ষন পরপর এসে মা'কে দেখে যাচ্ছে। আবার বাবা'র জন্য বাহানা করছে। 
রুহানীর সাজা হয়ে গেলে মাথায় লাল ওড়নাটা পরিয়ে দেওয়া হলো। সুমাইয়া রুহানীকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে রুহানীকে কিছুক্ষন পর্যাবেক্ষন করে আচমকা ঢুলতে ঢুলতে এক প্রকার নাচতে নাচতে গেয়ে উঠলো,
~ভাবি আমার পরিয়াছে লাল রঙের শাড়ি,
দুই হাতে তে পরিয়াছে রেশমি কাচের চুড়ি
খোঁপাতে বাবলা গাছের ফুল,
কানে ঝুলিতেছে ঝুমকা নামের দুল।
সুমাইয়ার সাথে সাথে ইরা,সামিয়া,রাবিয়া'ও তাল মিলালো।
রুহানী লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো। তার ভিষণ লজ্জা লাগছে। সে এতো লজ্জা নিয়ে কিভাবে উজানের সামনে যাবে? জয়নব বেগম তখন ঘরে ঢুকলেন। রুহানীর সাথে কিছুক্ষন দুষ্টামি করে আবার বেরিয়ে গেলেন।
উজানরা চলে আসার সময় গয়ে গিয়েছে। সুমাইয়া রাসেলকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো তারা পাঁচ মিনিটের ভেতরে পৌঁছে যাবে। রুহানীর উত্তেজনা বারতে লাগলো। বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেলো। উজানকে বর বেসে দেখতে কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই কোনো রাজপুত্রের মতো? এমন সময় সুমাইয়া রুহানীকে টেনে ছাদে নিয়ে গেলো। তাদের পেছন পেছন ইরা, সামিয়া, রাবিয়া, হাসি সাথে আরো কিছু মেয়ে সবাই আসলো। ছাদে রেলিঙ ধরে দাঁড়াতেই দেখতে পেলো পরপর কতোগুলো প্রাইভেট কার এসে উঠানে থামলো। সবার সামনের গাড়িটা ফুল দিয়ে সাজানো। এটা বরের গাড়ি। রুহানী তখনই থমকালো যখন কানে ভেসে আসলো গাড়ি থেকে আসা গানের কিছু লাইন,
~চাই না আমি টাকা পয়সা, চাই না বাড়ি গাড়ি,
তোমায় আমি বউ বানাইয়া নিয়ে যাবো বাড়ি।
দেখতে তুমি এতো সুন্দর তাজা গোলাপ ফুল
কোনো কাজে মন বসে না, সব হয়ে যায় ভুল!
উজান গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো। তুহিন, রাসেল'রাও বেরিয়ে আসলো। ওরা বের হয়েই গানের তালে নাচতে শুরু করলো।
উজান বাইরে এসেই সোজা দৃষ্টি দিলো উপরে রুহানীর দিকে। রুহানীর হৃদপিণ্ড থমকে গেলো। উজানকে তার কল্পনার থেকেও বেশি সুন্দর লাগছে! লোকে বলে বিয়ের দিন নাকি ছেলেদের সুন্দর লাগে না কিন্ত এখানে তো একদম উল্টোটা হলো! উজানকে এতো সুন্দর লাগছে কেনো? রুহানীর ঠোঁট ফুলে উঠলো। এতো চমৎকার একটা পুরুষের সাথে কি তাকে মানাবে? বেমানান লাগবে না? উজানের সামনে সে বড়োই তুচ্ছ হয়ে গেলো না? 
পাশ থেকে সুমাইয়ার কোলে থাকা রুহি বাবাকে দেখে চেঁচিয়ে উঠলো,
"পাপা!"
রুহি ছটফট করতে শুরু করলো। সুমাইয়া বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে নিচে চলে আসলো। উজানের কোলে দিয়ে দিলো রুহিকে। ইজানও বাবার কাছে একটু থেকে তালহার সাথে খেলায় মগ্ন হয়ে গেলো।
মুজিবর রহমান, খালারা মিলে জামাইকে বরন করলেন। স্টেজে উজানকে বসানো হলো। ইতিমধ্যে বর যাত্রীদের খাওয়া দাওয়া পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। বিয়ে পড়ানো হবে এখন। কাজি প্রথমে উজানের কাছে আসলেন। উজানকে কবুল বলতে বললে মিলি সেকেন্ডও সময় নিলো না সে। সাথে সাথে বলে উঠলো,
"আলহামদুলিল্লাহ কবুল।"
উজানের কাজে সবাই হেসে উঠলো। কাজি রুহানীর কাছে যেতেই রুহানীর বুক কাঁপতে শুরু করলো। সেই রাতের প্রতিটা দৃশ্য চোখের সামনে প্রতিফলিত হতে থাকলো। কিভাবে তাদের অপদস্ত হতে হয়েছিলো, কিভাবে সে সমাজের কাছে কলঙ্কিত হয়েছিলো, কিভাবে সে কান্না করেছিলো, কিভাবে উজান তাকে এই সমাজের কথার বাণ থেকে বাঁচিয়েছিলো।
সব চোখের সামনে ভেসে বেরাতে থাকলো। চোখে জল চলে আসলো রুহানীর। তবে মুখে প্রশান্তির, তৃপ্তির হাসি ফুটে রইলো। রুহানীকে কবুল বলতে বললে সেও কোনো সময় ব্যয় করলো না। সাথে সাথে বলে উঠলো,
"আলহামদুলিল্লাহ কবুল।"
রুহানীকে উজানের পাশে এনে বসানো হলো। রুহানী রীতিমতো কাঁপতে শুরু করলো। উজান শক্ত করে ওর হাত চেপে ধরলো। ফিসফিসিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
"এখোনই এতো কাঁপছিস কেনো?"
উজানের কথার মানে বুঝতেই রুহানী চমকে উঠলো। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেলো। আশ্চর্য সে আজ এতো লজ্জা পাচ্ছে কেনো? বিয়ের তিন বছর হয়ে গেলো আর সে আজও এতো লজ্জা পাচ্ছে। অনুভূতিটা একদম সতেজ। 
কাপল পিক তোলার পর্ব শুরু হলো। একের পর এক ছবি তোলা হচ্ছে তাদের।
এদিকে রাসেল সেই কখন থেকে রুহিকে
খাওয়ানোর চেষ্টা করেই চলেছে। রাসেলের কথা হলো, ওর বাবা মায়ের বিয়ে আর ও খাবে না? ওর খেতেই হবে। 
এদিকে রুহি কিছুতেই খেতে চাচ্ছে না।
রাসেল অধৈয্য কন্ঠে বলে উঠলো, 
"নে বাপ খা, একটু খানি খা। তোর বাপ মায়ের বিয়ের খাবার এগুলা। কতো ভাগ্য নিয়ে জন্মালি তোরা বাপ মায়ের বিয়ে দেখতে পারছিস। এই সুযোগ মিস করিস না রে, মা।"
রাসেলের জোরাজোরিতে রুহি খেতে বাধ্য হয়। ইজান'কেও খাওয়ালো সে। তার একটাই কথা, বাবা-মা'য়ের বিয়ের খাবার কিছুতেই মিস দেওয়া যাবে না। সবার ভাগ্যে তো আর এই কপাল জোটে না। 
____
ছেলেরা আর মেয়েরা ভাগ হয়ে গেলো। আয়েশা, ইসরাত, সুমাইয়া, ইরা, সামিয়া, রাবিয়া সাথে আরো কিছু মেয়েরা।
এদিকে ছেলেদের দলে অভ্র, তুহিন, রাসেল, তাহের, উমর, সুমন, হাফিজ সাথে আরো কিছু ছেলেরা।
মেয়েরা একটা অকাজ করে বসলো। উজানকে স্টেজে বসানো হলে মেয়েরা মিলে উজানের জুতো চুরি করে ফেললো। 
তারা দাবি করে বসলো ত্রিশ হাজার না দিলে তারা কিছুতেই জুতো দিবে না। তাদের দাবি শুনে রাসেলের চোখ কপালে উঠে গেলো। সে বিষ্ময়ের চূড়ায় পৌঁছে গর্জে উঠলো,
"এ্যাই! তোরা জীবনে ত্রিশ হাজাত টাকা একসাথে দেখেছিস?"
সুমাইয়া চোখ কুঁচকে বললো, "না দেখিনি। তোমরা বরং টাকা গুলো দিয়ে আমাদের ত্রিশ হাজার টাকা একসাথে দেখার সুযোগ করে দাও।"
তুহিন অবাক হওয়ার ভান ধরে বললো, "কতোবড় ছোটোলোক চিন্তা করা যায়!"
"তুমি চুপ করো।" ইসরাত ধমকে উঠলো।
এবার আয়েশা বললো, "আরেহ দিয়ে দিন না চাচা। মাত্র ত্রিশ হাজারই তো।" 
অভ্র কপাল কুঁচকে আয়েশার দিকে তাকিয়ে বললো,
"তুমি না উজানের চাচি লাগো? তুমি চাচি হয়ে ওদের দলে কেনো?"
আয়েশা মুখের উপর বলে দিলো, 
"আপনি কে ভাই?"
অভ্র হকচকিয়ে উঠলো আয়েশার এহেন প্রশ্নে। এবার উজান মুখ খুললো। তুহিনকে ডেকে বললো,
"তুহিন। সব ছোটোলোক গুলোকে টাকা দিয়ে বিদায় কর।"
উজানের কথায় ছেলেরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। মেয়েরা দাঁত কটমট করে তাদের দিকে তাকালো। 
সন্ধ্যার দিকে রুহানীকে গাড়িতে ওঠানো হলো। গাড়ি চলতে শুরু করলো মাহতাব বাড়ির উদ্দেশ্যে।
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন