#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_9
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
মেঘলা আজ ক্লাসে যায়নি। হোস্টেলের বিছানায় চুপচাপ শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে।স্নিগ্ধা পাশে বসে নরম গলায় বললো,
“তুই কাল সারাদিন কিছু খাসনি। এভাবে চলবে?”
মেঘলা ওর দিকে না তাকিয়েই ধীরে বললো,
“সবকিছু ভুল ছিল মনে হচ্ছে।”
“সব না। মানুষটা ভুল না,পরিস্থিতি ভুল হতে পারে।”
মেঘলা চোখ বন্ধ করে বললো,
“আমি নিজ চোখে দেখেছি, স্নিগ্ধা। ওরা দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে ছিল।”
ওদিকে-
আরিয়ান ক্যাম্পাসে পাগলের মতো খুঁজছে মেঘলাকে।
রিদ্ম ওর কাঁধে হাত রেখে বললো,
“এত চিন্তা করিস না।ওকে একটু সময় দে,দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।”
“কিন্তু ও তো আমাকে ভুল বুঝছে!”
আরিয়ান হতাশ গলায় বললো।তানভীর বললো,
“তুই কি ওকে প্রমাণ দিতে পারবি?”
আরিয়ান চুপ করে রইলো।
রাতে মেঘলার ফোনে আরিয়ানের কল আসে।সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রিসিভ করে না।মেসেজ আসে,
“প্লিজ, একবার কথা বলো!”
মেঘলার চোখ ভিজে যায়। কিন্তু সে রিপ্লাই দেয় না।দুজনই একই আকাশের নিচে,কিন্তু দূরত্বটা যেন মাইলের পর মাইল।
---------------
পরদিন স্নিগ্ধা নিজেই তদন্তে নামে।সে নাবিলকে বললো,
“এই ছবিটা কোথা থেকে এসেছে যে করেই হোক খুঁজে বের করতে হবে।”
নাবিল বললো,
“ঠিক আছে, আমি দেখছি কি করা যায়।”
ওদিকে-
শুভ দ্বিধায় পড়ে গেছে।সে রাকিবকে বললো,
“ভাই, এসব কি ঠিক হচ্ছে।না মানে আরিয়ান ভাই জানলে...”
কথা শেষ না হতেই রাকিব রেগে বললো,
“চুপ থাক! আমার লোক হয়ে ওই আরিয়ানকে ভয় পাচ্ছিস তুই।”
শুভ চুপ করে গেলেও তার মনে কোথাও একটা ভয় ও অপরাধবোধের সৃষ্টি হলো।
অবশেষে নাবিল জানতে পারে ছবিটা এডিট করা!সে দৌড়ে এসে স্নিগ্ধাকে বলে,
“এটা তো এডিটেড ছবি!”
স্নিগ্ধা অবাক হয়ে বললো,
“মানে কেউ ইচ্ছে করে পাঠিয়েছে যাতে মেঘলা আরিয়ান ভাইয়াকে ভূল বোঝে!”
“হ্যাঁ, আর আমার সন্দেহ হচ্ছে হয়তো এটা রাকিব।কারণ ওই একমাত্র যে আরিয়ান ভাইয়া আর মেঘলার উপর রেগে ছিল।"
ওদিকে-
শুভ আর সহ্য করতে না পেরে একদিন মেঘলার কাছে আসে।
“আমি একটা কথা বলতে চাই।”
মেঘলা অবাক হয়ে বললো,
“জি, কি কথা?”
“ওই ছবি যেগুলো আপনাকে পাঠানো হয়েছিল আর ওইদিন যা আপনি দেখেছেন,সব প্ল্যান ছিল।”
মেঘলার মাথা যেন ঘুরে গেলো।
“মা..মানে?”
“রাকিব আর ইশিতা ওরা ইচ্ছে করে এসব করেছে আপনার আর আরিয়ান ভাইয়ের মধ্যে ভূল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে।”
মেঘলার চোখ ভিজে উঠলো।ও বিরবির করে বললো,
“আমি… আমি ওকে ভুল বুঝেছি।
আকাশ কালো হয়ে এলো।বৃষ্টি শুরু হলো।মেঘলা দৌড়ে বের হলো ক্যাম্পাস থেকে।
ওদিকে-
আরিয়ান একা দাঁড়িয়ে আছে সেই একই জায়গায় যেখানে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।মেঘলা দৌড়ে এসে থামলো।
“আরিয়ান!”
আরিয়ান অবাক চোখে ঘুরে তাকালো।মেঘলা কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“আমি ভুল করেছি, আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনি।”
আরিয়ান ধীরে বললো,
“তুমি কষ্ট পেয়েছিলে, এটা স্বাভাবিক ছিল।”
“না! আমি তোমার পাশে থাকা উচিত ছিল।”
বৃষ্টি ততক্ষণে ভিজিয়ে দিয়েছে দুজনকেই।মেঘলা এগিয়ে এসে বললো,
“ক্ষমা করতে পারবে আমায়?”
আরিয়ান এক পা এগিয়ে এসে মেঘলার চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বললো,
“উহু, তুমি ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনো কাজই করো নি। তোমার জায়গায় আমি হলেও একই কাজ করতাম।
মেঘলা কেঁদে তাকে জড়িয়ে ধরে।চারপাশে শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি আর তাদের নীরব ভালোবাসা।বৃষ্টি একটু কমে এসেছে।দুজন এখনো কাছাকাছি দাঁড়িয়ে।
মেঘলা লজ্জা পেয়ে বললো,
“আমি আজকে অবশ্যই বলবো।”
আরিয়ান ভ্রু নাচিয়ে দুষ্টু হেসে বললো,
“আচ্ছা তা কি বলবে?”
মেঘলা চোখ বন্ধ করে বললো,
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
এক মুহূর্তের নীরবতার সৃষ্টি হলো।তারপর আরিয়ান ধীরে তার দুই গালে হাত রেখে বললো,
“আমি ও অনেক আগেই তোমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি।”
মেঘলার চোখে জল কিন্তু এবার সেটা আনন্দের।রিদ্ম আর স্নিগ্ধা দূর থেকে এসব দেখে হাসছিলো।স্নিগ্ধা খুশি হয়ে বলল,
“অবশেষে!”
রিদ্ম বললো,
“ওদের ভালোবাসা জিতলো।”
আরিয়ান মেঘলার দিকে তাকিয়ে বললো,
“এইবার আর কাউকে আমাদের মাঝে আসতে দেব না।”
মেঘলা মাথা নাড়িয়ে বললো,
“কখনো না।”
কিন্তু দূরে দাঁড়িয়ে ইশিতা চুপচাপ তাকিয়ে ছিল।তার চোখে অদ্ভুত এক আগুন।
চলবে...
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন