ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

৮ম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_8

🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️

ক্যাম্পাসে আজ একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে।সবাই প্রচন্ড ব্যস্ত ও হাসিখুশি।কিন্তু মেঘলা একা বসে আছে।নাবিল কাছে এসে বললো,

—কি রে, তুই পারফর্ম করবি না? আর এভাবে একা বসে আছিস কেন?

—না রে ইচ্ছে নেই‌।

মেঘলা নিচু গলায় বললো।

ওদিকে আরিয়ান স্টেজের পেছনে দাঁড়িয়ে বারবার মেঘলার দিকে তাকাচ্ছে।রিদ্ম ওর কাঁধে হাত রেখে বললো,

—এভাবে তাকিয়ে থাকলে কোনো লাভ হবে না।যা গিয়ে সরাসরি ওর সাথে কথা বল।

আরিয়ান মেঘলার দিকে এগিয়ে গেলো।

ওকে হতাশ গলায় বললো,

—মেঘলা আর কতদিন এভাবে থাকবে?

—আমি যেভাবেই থাকি না কেন সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।আর এতে তো আপনার কোনো যোগসূত্র নেই!

আরিয়ান করুন গলায় বললো,

—মেঘলা!দেখো তুমি যা ভাবছো ভুল ভাবছো। ইশিতার সাথে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

মেঘলা কাঁপা কিন্তু দৃঢ় গলায় বললো,

—দেখুন আপনার কার সাথে সম্পর্ক আছে আর কার সাথে নেই সেটা তো আমার দেখার বিষয় না।

—ড্যাম ইট!(আরেকটু এগিয়ে এসে) কেন বুঝতে পারছো না আমি ওকে ভালবাসি না। আমি তো তোমাকে....

আরিয়ান থেমে গেল।

—কি?

মেঘলা চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে রইলো।

—আমি…

ঠিক তখনই ইশিতা এসে নাকি স্বরে বললো,

—ওহ আরিয়ান এখানে কি করছ তুমি? আমি তোমায় কোথায় কোথায় খুঁজছি।চলো আমার তোমার সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।

মেঘলা তাচ্ছিল্য হেসে বললো,

—হ্যা আপু আপনারা যান।(আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে)গুরুত্বপূর্ণ কথা সেড়ে নিন।

মেঘলা চলে গেল।আরিয়ান হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।ইশিতা ওর কাঁধে হাত রেখে ধীরে বললো,

—তুমি এখনো আমাকে ইগনোর করতে পারো না।

আরিয়ান ওর হাত ছাড়িয়ে রেগে বললো,

—তুমি কেন এসব করছো ইশিতা?

ইশিতা ঠান্ডা গলায় বললো,

—বিকজ আই ওয়ান্ট ইউ ব্যাক!

আরিয়ান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো,

—ইউ ওয়ান্ট মি ব্যাক।(ওর চোখে চোখ রেখে) আমি কখনোই তোমার ভালোবাসা ছিলাম না ইশিতা। ছিলাম শুধুমাত্র একটা জেদ।(আঙ্গুল তুলে)আজও তুমি এই জেদের জন্যই এসব করছ।আই ওয়ার্নিং ইউ, আমার লাইফে প্রবলেম ক্রিয়েট করার চেষ্টাও করো না। সেটা তোমার জন্য ভালো হবে না। কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নিও।

বলে ওখান থেকে চলে গেল।ও যেতেই ইশিতা বাঁকা হাসলো।

*****

ক্যাম্পাসের এক কোণে রাকিব আর ইশিতা বসে আছে।রাকিব দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে বললো,

—মেয়েটা এখনো পুরো ভাঙেনি।

ইশিতা বাঁকা হেসে বললো,

—ভাঙবে ভাঙবে আর আরিয়ানের লাইফ থেকে দূরেও সরবে।জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ!

—প্ল্যানটা কি?(ভ্রু কুঁচকে)

—সিম্পল।ওদের মাঝের বিশ্বাস ভেঙে দিতে হবে। তাহলেই কেল্লা ফতে!

ওরা দুজন উচ্চস্বরে হেসে উঠলো।

*****

মেঘলা ফোনে ওর বড় ভাই রাহাতের সাথে কথা বলছে।

—তুই কাঁদছিস?

রাহাত জিজ্ঞেস করল।

—না!

—মিথ্যা বলিস না। কি হয়েছে?

মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বললো,

—আমি কাউকে বিশ্বাস করেছিলাম।কিন্তু এখন বুঝতে পারছি না ও ঠিক কি না।

রাহাত মৃদু হেসে বললো,

—দেখ, আমি বলবো বিশ্বাস খুবই দামি একটা জিনিস। কিন্তু যদি তোর সন্দেহ থাকে, তবে সত্যিটা খুঁজে বের করার চেষ্টা কর।

কথাগুলো মেঘলার মনে গেঁথে গেল।

ওদিকে রাকিব কুটিল হেসে শুভকে বললো,

—আগামীকাল এমন কিছু করবো যে ওরা নিজেরাই আলাদা হয়ে যাবে।

শুভ একটু দ্বিধার সাথে বললো,

—ভাই, এসব একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? পরে কোনো ঝামেলা হলে।

রাকিব চোখ রাঙিয়ে বললো,

—আবারও ওই আরিয়ানের চামচামি করছিস তুই।ওই আরিয়ান পুরো ভার্সিটির সামনে আমায় অপমান করেছে। এতো সহজে ছেড়ে দেব ওকে আমি!

একটা অন্ধকার পরিকল্পনা তৈরি করা হলো।

*****

পরদিন সকালে মেঘলার ফোনে অজানা নাম্বার থেকে একটা ছবি আসে।ছবিতে আরিয়ান আর ইশিতা খুব কাছাকাছি, যেন আলিঙ্গন করছে।মেঘলার হাত কেঁপে উঠল।ও কাঁপা কাঁপা গলায় নিজেই নিজেকে বললো,

—না… এটা হতে পারে না।

ও দৌড়ে ক্যাম্পাসে গেল।ঠিক তখনই সামনে সেই দৃশ্য দেখলো।ইশিতা ইচ্ছে করে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে আছে।মেঘলার চোখ ভিজে গেলো।

—তাহলে এটাই সত্যি!

ও বিরবির করে বললো।আরিয়ান হঠাৎ ওকে দেখে চমকে গেল।ও ইশিতার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বললো,

—মেঘলা! লেট মি এক্সপ্লেইন। তুমি যেটা ভাবছো...

—আমি আর কিছু শুনতে চাই না!”

মেঘলা পিছিয়ে যেতে যেতে বলল।চারপাশের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।মেঘলা কাঁদতে কাঁদতে বললো,

—আমি ভুল করে ছিলাম।

ও দৌড়ে চলে গেল।আরিয়ান হতবাক হয়ে গেলো।

—ইশিতা, তুমি এটা ইচ্ছে করে করেছো!

আরিয়ান ইশিতার হাত ছাড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রেগে চিৎকার করে উঠল।ইশিতা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,

—হ্যাঁ করেছি বিকজ লাভ ইজ আ ওয়ার আরিয়ান।

দূরে দাঁড়িয়ে রাকিব হাসছিল।

—এখন শুরু হলো আসল খেলা।

আর এভাবেই একটি ভালোবাসার গল্পে ভাঙন শুরু হলো।

চলবে...

💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন