#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_16
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
অফিসে হঠাৎ ঘোষণা এলো নতুন প্রজেক্টের জন্য
আউটডোর ট্রিপের।তিথি উত্তেজিত হয়ে বললো,
"ওয়াও, আমরা সবাই একসাথে বাইরে যাচ্ছি। এটা তো অনেক মজা হবে।"
রাহুল বললো,
"মজা হবে কিনা জানি না, কিন্তু স্যার সাথে থাকলে কাজ করতে করতে বারোটা বাজবে নিশ্চিত।"
মেঘলা চুপচাপ শুনছিল। ঠিক তখনই সেখানে আরিয়ান এলো। সবাই চুপচাপ হয়ে বসে রইলো।
"এই প্রজেক্টটা কোম্পানির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে একসাথে বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। আর হ্যাঁ এটা কোনো পিকনিক না। এটা দায়িত্ব।"
আরিয়ান সকলের দিকে একবার তাকিয়েই চলে গেলো।আরিয়ান যেতেই তিথি আর রাফি আবার বকবক শুরু করলো।
"ঠিকই বলেছিস, স্যারটা সত্যিই একটা যা তা।"
মেঘলা নিশ্চূপ হয়ে কিছু ভাবতে লাগলো।
--------------
পরদিন সকালে বাসে সবাই উঠছে।তিথি মেঘলার পাশে বসে বলল,
"জানিস কাল থেকে আমার বাম চোখটা লাফাচ্ছে।মনে হচ্ছে, এই ট্রিপে কিছু না কিছু গরবর হবে।"
মেঘলা জানালার দিকে তাকিয়ে আনমনে বললো,
"হওয়ার যা ছিল, তা অনেক আগেই হয়ে গেছে।"
তিথি ওর কথা বুঝতে না পেয়ে ওকে ধাক্কিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
"কি বললি? বুঝলাম না।"
"কিছু না।"
মেঘলার গলার স্বর নিচু।
"কি যে বলিস না আজকাল কিছুই বুঝি না মাথামুণ্ডু।"
"এতো বুঝতেও হবে না।তা বললি না তো ট্রিপের জন্য কি কি প্ল্যান করলি?"
তিথি উচ্ছসিত হয়ে ওকে সব বলতে থাকে। মেঘলা মনোযোগী শ্রোতার মতো সব শুনতে লাগলো।ঠিক তখনই আরিয়ান বাসে উঠলো।সবাই একটু সোজা হয়ে বসে গেল।সে চারপাশে তাকিয়ে বলল,
"সবাই সময়মতো এসেছে, ভালো। কাজের শুরুটা ঠিক হলে শেষটাও ঠিক হয়।"
তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য মেঘলার দিকে গেল।তারপর সে সামনে গিয়ে বসে পড়ল।
বাস চলতে শুরু করল।বাইরে রাস্তা বদলাচ্ছে, শহর পিছিয়ে যাচ্ছে।ভেতরে দুজন মানুষ পাশাপাশি থেকেও দূরে।মেঘলা নিজের মনে বলল,
"এই দূরত্বটাই হয়তো আমাদের ঠিক জায়গা।"
আরিয়ান জানালার বাইরে তাকিয়ে নিজ মনে বলল,
"আমি কেন এখনো তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারি না।"
--------------
রিসোর্টে পৌঁছানোর পর সবাই রিসেপশনে জড়ো হলো।
ম্যানেজার রুমের চাবি দিচ্ছে।তিথি খুশি হয়ে মেঘলাকে বললো,
"আমি আর তুই একসাথে থাকব,কত মজা করবো।ওহ আমার তো ভেবেই কি যে আনন্দ হচ্ছে।"
মেঘলা হালকা হাসলো।
ম্যানেজার লিস্ট দেখে দেখে সবাইকে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের চাবি দিয়ে দিলো।ঠিক তখন আরিয়ান সকলকে বললো,
"সবাই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এক ঘণ্টা পর কনফারেন্স হলে রিপোর্ট করবে।"
তার কণ্ঠে আগের মতোই কড়া নিয়ন্ত্রণ।
তিথি বিরবিরিয়ে বললো,
"হয়েছে আর মজা করা।"
--------------
রুমে ঢুকে তিথি ব্যাগ ছুঁড়ে দিয়ে বলল,
"উফ, কি সুন্দর জায়গা। কাজের মাঝেও একটু রিল্যাক্স পাওয়া যাবে।"
মেঘলা জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।বাইরে পাহাড় আর মেঘ।সে ধীরে বলল,
"সব জায়গা সুন্দর লাগে, যদি মন শান্ত থাকে।"
তিথি পেছন থেকে ওর কাঁধে হাত রেখে বললো,
"কি হয়েছে তোর মেঘলা? আবারো অতীত নিয়ে কষ্ট পাচ্ছিস?যে তোর বিশ্বাস ভেঙ্গেছে তার জন্য আজও তুই কষ্ট পাচ্ছিস।ব্যাটাকে পেলে দেখিস কি করতাম আমি! আমার মেঘলাকে কষ্ট দেওয়া।(মেঘলাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে)"
মেঘলার মুখে মুচকি হাঁসি ফুটে উঠলো।
"হয়েছে ছাড় এখন, কনফারেন্সের কথা ভুলে গেলি নাকি?"
"(হঠাৎ ওকে ছেড়ে দিয়ে) ভালো কথা মনে করিয়েছিস, তাড়াতাড়ি না গেলে আজ তো স্যার আমাদের গর্দান নিয়ে নিবে। ওকে আমি আগে ফ্রেশ হতে যাই।পরে তুই আসিস।"
মেঘলা হালকা হেসে মাথা নাড়লো।
"যা।"
তিথি তাড়াতাড়ি ওয়াশ রুমে ঢুকে গেলো।ও যেতেই মেঘলা আবার বাইরে চেয়ে রইলো।
ওদিকে আরিয়ান নিজের রুমে একা।সে কোট খুলে চেয়ারে রাখল।তার চোখ বন্ধ।তার মাথায় ঘুরছে একই মুখ।সে ধীরে বলল,
"আমি কেন এখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না?"
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন