ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

১৭তম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_17

🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️

কনফারেন্স হলে সবাই বসে আছে।আরিয়ান প্রজেক্ট ব্রিফ দিচ্ছে।

"এই প্রজেক্টে ভুলের কোনো জায়গা নেই।এই প্রজেক্টটা আমাদের কোম্পানির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।আর কোম্পানির সাইট ভিজিটের কাজ কে করেন?সে আমার সাথে ভিজিটে যাবে।"

ম্যানেজার বাসির সাহেব বললেন,

"স্যার, মিস মেঘলাই আমাদের সমস্ত সাইট ভিজিটের কাজ করেন।"

আরিয়ান একটু থমকে গেলো।তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য মেঘলার দিকে গেলো।তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,

"মিস মেঘলা,আপনি আমার সাথে দু ঘন্টা পর সাইট ভিজিটে যাবেন।"

একটু অস্বস্তি হলেও তা সামলে নিলো মেঘলা।

"ইয়েস, স্যার।"

তিথি নিচু গলায় বলল,

"মেঘলারে তুই তো গেলি। সাক্ষাত যমের সাথে একা একা যাবি‌।"

মেঘলা শান্ত গলায় বলল,

"ঠিক আছে তাহলে বলে দিচ্ছি তুই যেতে চাস। তুইই যা তবে।"

"পাগল হয়ে গেছিস তুই? আমায় বাঘের গুহায় পাঠাতে চাস?না বাবা,তুইই যা।আমি নাহয় এখানে বসে তোর জন্য দোয়া টোয়া করব।"

মেঘলা বিরক্তিতে মাথা নাড়লো।

--------------

বিকেলে মেঘলা আর আরিয়ান একসাথে লোকেশন ভিজিটে গেল।চারপাশে নীরবতা, শুধু কাজের কথা।

আরিয়ান বলল,

"এই জায়গার মার্কেটিং অ্যাঙ্গেলটা তুমি কিভাবে দেখছো?"

মেঘলা বিস্তারিত বুঝিয়ে বলল।আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

"তুমি এখনো নিজের কাজে সেরা।"

মেঘলার বুক কেঁপে উঠল।সে কথাটা এড়িয়ে গিয়ে আবার কাজের কথা বলতে লাগলো।সৎবিৎ ফিরে আসতেই আরিয়ানও বুঝতে পারলো ও কি বলে ফেলেছে।ওর নিজের উপর রাগ হতে লাগলো। পরের পুরোটা সময় ওদের মধ্যে শুধু কাজের কথাই চললো।

--------------

রাত নামছে ধীরে ধীরে।চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে গেছে।

নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান আর মেঘলা।

মাঝরাস্তায় ওদের গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে।মেঘলা কাঁপা গলায় বলল,

"আমাদের এখানে থাকা ঠিক হচ্ছে না। জায়গাটা ঠিক মনে হচ্ছে না।"

আরিয়ান চারপাশে তাকিয়ে বলল,

"শান্ত থাকো। আমি আছি।"

তার গলায় আত্মবিশ্বাস, কিন্তু চোখে সতর্কতা।মেঘলা এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।

ঠিক তখনই দূর থেকে কয়েকজন লোক এগিয়ে আসতে লাগল।তাদের হাঁটার ভঙ্গি অদ্ভুত।একজন এসে বলল,

"কি হয়েছে ভাই, গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি?"

আরিয়ান স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলল,

"হ্যাঁ, একটু সমস্যা হয়েছে। আমরা ঠিক করে চলে যাব।"

লোকটা হেসে বলল,

"এই জায়গায় এত রাতে দাঁড়িয়ে থাকা ভালো না।"

আরেকজন মেঘলার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় কিছু বলল।মেঘলা সেটা বুঝে ফেলল।তার শরীর কেঁপে উঠল।সে ধীরে ধীরে এসে আরিয়ানের পেছনে দাঁড়াল।তার হাত চেপে ধরল আরিয়ানের শার্ট।

"আমার ভয় লাগছে।"

খুব আস্তে বলল সে।আরিয়ান সেটা টের পেল।তার চোখ তখন ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।সে তাদের কথাবার্তা খেয়াল করতে লাগল।লোকগুলোর আচরণ, চোখের দৃষ্টি সবকিছু মিলিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গেল।এরা ভালো মানুষ না।সে নিচু গলায় বলল,

"শান্ত থাকো। যা বলি তাই করবে।"

কিন্তু হঠাৎ একজন মেঘলার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকালো।

"মেয়েটাকে রেখে যান।"

মেঘলা ভয় পেয়ে আরিয়ানের পেছনে লুকাল।তার হাত কাঁপছে।

আরিয়ানের চোখ মুহূর্তে বদলে গেল।সে এক পা সামনে এগিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

"আর এক পা এগোবি না।"

লোকগুলো হাসলো,

"না হলে কি করবি?"

আরিয়ান ধীরে বলল,

"তখন আমি থামব না।"

তার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল, যা বাতাসকে ভারী করে দিল।একজন ডাকাত হঠাৎ মেঘলার দিকে হাত বাড়াতেই আরিয়ান আর নিজেকে আটকাতে পারল না।সে ঝড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল।একের পর এক ঘুষি, লাথি।তার প্রতিটা আঘাত যেন জমে থাকা রাগের বিস্ফোরণ।

মেঘলা কাঁপা গলায় বলল,

"আরিয়ান, সাবধানে!"

কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে।একজন পিছন থেকে ছুরি নিয়ে আরিয়ানের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।

মেঘলার চোখে সেটা পড়তেই সে চিৎকার করে উঠল,

"না!"

এক মুহূর্তও দেরি না করে সে দৌড়ে এসে আরিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে গেল।ছুরিটা এসে তার বাহুতে লাগল।

"আহ!"

গলগলিয়ে রক্ত বের হতে লাগল।আরিয়ান পিছন ফিরে স্তব্ধ হয়ে গেল।

"মেঘলা!"

তার গলা কেঁপে উঠল।

মেঘলার চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।সে ধীরে বলল,

"তুমি ঠিক আছো?"

তারপরই তার শরীর আরিয়ানের কোলে ঢলে পড়ল।

আরিয়ান তাকে জড়িয়ে ধরল।তার কণ্ঠ ভেঙে গেলো,

"মেঘলা, চোখ খুলো।"

চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।লোকগুলো এসব দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলো।আরিয়ান মেঘলাকে বুকে চেপে ধরে বলল,

"তুমি আমাকে এভাবে ছেড়ে যেতে পারো না। আমি আবার তোমাকে হারাতে পারব না।"

তার চোখে জল।তার হাত রক্তে ভিজে গেছে।

দূরে কোথাও আলো জ্বলতে শুরু করল।কিন্তু সেই মুহূর্তে আরিয়ানের কাছে পৃথিবী থেমে গেছে।

তার সব ভয়,সব রাগ,সব অভিমান এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।মেঘলাতে।

চলবে...

💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন