ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

৩৩তম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_33

🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️

আরিয়ানের বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেঘলা আর আরিয়ান।

রাস্তায় মেঘলা পুরোটা সময় চুপচাপ থেকেছে।অবশ্য তার গুরুতর কারণও আছে।সকালে যখন ওর ঘুম ভাঙে নিজেকে এলোমেলো অবস্থায় আরিয়ানের এতোটা কাছে দেখে ওর মাথায় বাজ পরে।প্রথমে এক্সিডেন্টলি বিয়ে আর এখন অযাচিতভাবে সম্পর্কের জল গড়িয়ে সীমানা পেরিয়ে যাওয়া।মেঘলার নিজেকে পাগল পাগল লাগছিলো।আরিয়ান নিজেও অবাক হয়েছে।নিশ্চয়ই দুধেই কিছু ছিলো।হুঁশ ফিরতেই লোকগুলোকে গালি দিতে বাকি রাখে নি ও।এইজন্য যে ও কখনোই এভাবে কিছু চায়নি।মেজাজ খারাপ হলো ওর।কিন্তু মেঘলার থমথমে মুখটা দেখে কিছু বলতে পারে নি।

মেঘলা কোনো কিছু না বলে চুপচাপ তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসে।আরিয়ান বুঝলো মেঘলার মনে বিষয়টা অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে।তাই তো গাড়িতেও চুপচাপ বসেছিলো ও।এখনও ও ঠিক একইভাবে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে।

বাড়িটার সামনে প্রচুর আলো।গেটের দুইপাশ ফুল দিয়ে সাজানো।হয়তো আরিয়ানের বিয়ের জন্য।কিন্তু এই মুহূর্তে এসবের কিছুই ঠিকভাবে অনুভব করতে পারছে না মেঘলা।ওর মাথার ভেতর এখনও সকালবেলার ঘটনাগুলো ঘুরছে।ঘুম ভাঙতেই নিজেকে আরিয়ানের বুকের এতটা কাছে দেখে ওর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।ওদের মাঝখানের দূরত্বটাই যেন একরাতে হারিয়ে গেছে।ভাবতেই বুক কেঁপে উঠছে ওর।

আরিয়ানও অস্বস্তিতে দাঁড়িয়ে আছে।ওর নিজের অবস্থাও খুব একটা ভালো না।ও জীবনে কখনও ভাবেনি এমন পরিস্থিতিতে পড়বে।গত রাতের কথা মনে পড়তেই ও বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করলো এক মুহূর্তের জন্য।লোকগুলোকে হাতের সামনে পেলে হয়তো সত্যিই মেরে ফেলতো ও।

ঠিক তখনই বাড়ির ভেতর থেকে তাড়াহুড়ো করে কয়েকজন বেরিয়ে এলো।সবার আগে ছিলেন নীলিমা।চোখমুখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ।পেছনে ফারহান,রিদ্ম আর আরও কয়েকজন আত্মীয়।আরিয়ানকে দেখেই নীলিমা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন।

“আরিয়ান!”

তিনি দ্রুত এগিয়ে এলেন। আরিয়ানের মুখটা হাতের আঁজলায় নিয়ে বললেন,

“তুই কোথায় ছিলি বাবা?জানিস আমরা কতটা টেনশনে ছিলাম?”

ফারহানের শক্ত ও গম্ভীর গলায় বললেন,

“এটা কোনো ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আরিয়ান?কাল তোমার বিয়ে ছিল!বর হয়ে এভাবে কেউ গায়েব হয়?”

আরিয়ান ক্লান্ত গলায় বললো,

“আব্বু,আমি এখন এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না।”

“তুমি চাইলেই হবে না।এত মানুষের সামনে আমাদের...”

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ওনার চোখ গিয়ে পড়লো মেঘলার উপর।এতক্ষণ তিনি খেয়ালই করেননি মেয়েটাকে।মেঘলা একটু দূরে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। ওকে দেখতেই বিস্ময়ে ওনার চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। উনি কিছু বলবেন এমন সময়ই নীলিমা অবাক হয়ে বলে উঠলেন,

“আরে মেঘলা মা তুমি? আরিয়ানের সাথে!”

অপরিচিত কণ্ঠে নিজের নাম মেঘলা তড়াক করে মাথা তুললো। আরিয়ানের মা আমার নাম জানে!মুহূর্তেই নীলিমার মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠলো।

“তুমি আরিয়ানের সাথে?মা তুমি ঠিক আছো তো?”

মেঘলা কিছু বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো।ওর মাথা এখনও ঠিকভাবে কাজ করছে না।কিন্তু পরের কথাটাতেই ওর বুক ধক করে উঠলো।

নীলিমা স্নেহভরা গলায় বললেন,

“যাক আলহামদুলিল্লাহ।কমপক্ষে আমার হবু বউমা তো ওর সাথে ছিল।”

হবু বউমা!শব্দটা যেন সজোরে এসে আঘাত করলো মেঘলার মাথায়।ওর চোখ ধীরে ধীরে বড় হয়ে গেলো।

কী বললেন উনি?হবু বউমা?ও অবিশ্বাস নিয়ে একবার নীলিমার দিকে আরেকবার আরিয়ানের দিকে তাকালো।ঠিক তখনই যেন একসাথে সবকিছু মাথার ভেতর জোড়া লাগতে শুরু করলো।কাল ওর বিয়ে ছিলো,আরিয়ানেরও বিয়ে ছিলো,ও পাত্রের ছবি দেখে নি। তবে কি...?না না না!তাহলে যার সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল সে আর কেউ না।আরিয়ান!

মেঘলার শরীর ঠান্ডা হয়ে এলো।ওর পা কেঁপে উঠলো হালকা।মনে হলো মাটিটাই সরে যাচ্ছে নিচ থেকে।এতদিন ধরে যার সাথে একই অফিসে কাজ করেছে…যাকে ভুলে থাকার হাজার চেষ্টা করেছে…যার সাথে ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল তুলে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে…অজান্তেই আবার সেই মানুষটার সাথেই ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল?

আরিয়ানও স্থির চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।ওর মুখেও স্পষ্ট বিস্ময়।মনে হচ্ছে সেও এইমাত্র পুরো সত্যিটা বুঝতে পেরেছে।ও মাথা ঘোরাচ্ছে।মনে হচ্ছে শরীরের ভারসাম্য রাখাও দায়।

মেঘলার নজর এবার ফারহানের দিকে পড়লো।সে সবিনয়ে বললো,

"আসসালামু ওয়ালাইকুম স্যার।"

ফারহান হেসে জবাব দিলেন,

"ওয়ালাইকুমুস সালাম, মেঘলা মামণি।তবে এখন স্যার ডাকলে কিন্তু চলবে না।এভাবেই আমি তোমার বাবার বন্ধু।আর এছাড়াও আমাদের নতুন আরেকটা সম্পর্কও হতে যাচ্ছে।"

মেঘলার যেন আজ অবাকের উপর অবাক হওয়ার দিন। স্যারই বাবার বন্ধু।বাবা আমায় বললোও না?

ওর বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত চাপা কষ্ট জমতে লাগলো।তাহলে সবাই জানতো?শুধু ও আর আরিয়ান ছাড়া?ওদের কাউকেই একবারও জানানো প্রয়োজন মনে হলো না কার সাথে কার বিয়ে হচ্ছে?কেন?কেন এমন করলো সবাই?

আরিয়ান এবার ধীরে ধীরে ফারহানের দিকে তাকালো।ওর গলার স্বর অস্বাভাবিক শান্ত।

“আব্বু,তোমরা জানতে তাও আমায় বলো নি?”

ফারহান ভ্রু কুঁচকে বললেন,

“কি?”

“যে মেঘলাই…”

ওর বাকিটা আর বলা হলো না। ফারহান ওকে থামিয়ে দিলেন। তাচ্ছিল্য ভরা কণ্ঠে বললেন,

"তোমায় বহুবার ছবি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে তা নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি?"

আরিয়ান চুপ হয়ে গেলো। নীলিমা এবার মেঘলার কাছে এলেন।ওর মাথায় হাত রেখে কোমল গলায় বললেন,

"কোথায় গিয়েছিলে তুমি মা?জানো আমরা সবাই কত টেনশনে ছিলাম তোমাদের জন্য।থানা-পুলিশ পর্যন্ত করা হয়েছে!"

মেঘলা ও আরিয়ান যেন বিস্ময়ে কথা বলতে ভুলে গিয়েছে।

ফারহান এবার গম্ভীর গলায় বললেন,

"এসব কি আরিয়ান? কোথায় ছিলে তোমরা?"

আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেললো।তারপর সংক্ষেপে পুরো ঘটনাটা বললো।জঙ্গলে কি হয়েছিল,কিভাবে পরিস্থিতির চাপে গ্রামের ইমাম ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়েছে,সব। কিন্তু ওদের মধ্যকার পূর্ববর্তী সম্পর্কের কথা চেপে গেলো।

সব শুনে নীলিমার চোখ রাগে ভরে উঠলো।

"ওই রাকিব নামের ছেলেটার এত সাহস!"

ফারহান খানও চোয়াল শক্ত করলেন।

"আমি ওকে ছাড়বো না।"

মেঘলা মাথা নিচু করে বসে ছিল।হঠাৎ ও আস্তে বললো,

"আঙ্কেল...মানে..."

ফারহান খান নরম হয়ে গেলেন।

"বাবা বলো মা।"

মেঘলা থেমে গেল।ওর গলা কেঁপে উঠলো।

"আমার জন্য এত সমস্যা হয়ে গেল।"

নীলিমা সাথে সাথে বললেন,

"একদম এসব বলবে না।তোমার কোনো দোষ নেই।"

ইতিমধ্যে আত্মীয়রা ফিসফাস শুরু করে দিয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে নীলিমা ধীরে মেঘলার মাথায় হাত রাখলেন। মমতাময়ী কণ্ঠে বললেন,

“চলো মা ভেতরে চলো। সবাই চলো।বাকি কথা ভেতরে হবে।”

মেঘলা একবার আরিয়ানের দিকে তাকালো।

আরিয়ানও ঠিক তখনই ওর দিকে তাকিয়েছিল।

দুজনের চোখ কয়েক সেকেন্ডের জন্য আটকে গেলো।

সেখানে হাজারটা প্রশ্ন,হাজারটা না বলা কথা আর অদ্ভুত এক দূরত্ব।

চলবে...

💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন