ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

৩৪তম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_34

❌❌❌ গল্পটি আর আসবে না। কেন? কারণটা হলো আপনাদের এই নিশ্চুপতা।আপনারা গল্প পড়েন ঠিকই কিন্তু কোনো রেসপন্স নেই। হতে পারে আমার লিখা আপনাদের পছন্দ হয়নি।আপনাদের পছন্দ হওয়ার মত লিখা এখনও উপহার দিতে পারি নি। আর কেউ গল্পটি সম্বন্ধে না কোন প্রচার করেন না কিছু।তাই আমি ঠিক করেছি গল্পটি আর আসবে না।সারাদিন এত ঝামেলার মধ্যে গল্প লিখে যদি কোন রেসপন্সই না পাই লিখে কি লাভ বলুন?

🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️

মেঘলা আরিয়ানদের লিভিং রুমের সোফায় বসে আছে। ওর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি কাজ করছে ঠিকই কিন্তু নীলিমা ও ফারহানের আন্তরিক ব্যবহারে বেশ অনেকটা অস্বস্তি লাঘবও হয়ে গেছে। নীলিমা এতক্ষন ওর সাথেই বসে ছিলেন এখন ফারহানের ডাকে একটু ভিতরে গেছেন।আসলে ভিতরে মাহবুবকে ফোনে ফারহান সবকিছু জানাচ্ছেন?আচ্ছা মা বাবা কি রকম রিয়েক্ট করবে এসব জানলে আর তাছাড়া, রাকিব সম্পর্কে কি উত্তর দেবে ও?এতক্ষণ ধরে এসবই ভাবছিল মেঘলা।ও একবার দূরে চেয়ারে বসে আরিয়ানের দিকে তাকায়।এতসব ভাবনার সাথে ক্ষণে ক্ষণেই জেগে উঠছে পাঁচ বছর ধরে ওর করা ভুলের অপরাধবোধ।

এদিকে ডাইনিং টেবিলে চেয়ারে বসে আছে আরিয়ান। ওর মুখভঙ্গি শক্ত।রাগে ওর সারা শরীর কিরমির করছে।ওই ব্যাটা রিদ্ম কি করছে কে জানে?আসার পর থেকে ওর রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে?ও নাকি তেলাপোকা মারছে?যদি কোন বদমাইশি করে তবে ওর একদিন কি আমার একদিন।এছাড়া এতসব ঘটনা আর নিতে পারছে না ও।ভাগ্যও যেন উপহাস করছে ওকে নিয়ে।আরিয়ান আর না পেরে দাঁতে দাঁত চেপে সিঁড়ির থেকে হাটা দিলো।ঠিক তখনই ওর কানে কিছু কথা আসায় ও থেমে গেলো।

"তা কি গো মেয়ে জঙ্গলে যে ছেলেটার সাথে ছিলে শুনলাম সে কি তোমার চেনাজানা নাকি?"

কথাটি বলেছেন আরিয়ানের বড় মামি।বিয়ের কাজ না হওয়ায় কাল অতিথিদের বেশিরভাগই চলে যাওয়ার পরও দশেক মতো অতিথি রয়ে গেছে যাদের বাসা দূরে এছাড়াও যারা একটু কাছের।

প্রশ্নটা শুনে মেঘলা একটু চমকে উঠলো।ও মাথা তুলে তাকাতেই দেখলো বড় মামি,ছোট খালা,এক ফুফু আর দু-একজন আত্মীয়া ওর চারপাশে বসে আছেন।সবার চোখেমুখে কৌতূহল।

মেঘলা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।কিভাবে উত্তর দেবে বুঝতে পারছে না।রাকিবের নাম শুনলেই এখন ওর গা ঘিনঘিন করে ওঠে।

বড় মামি আবার বললেন,

"আরে ভয় পাচ্ছো কেন?আমরা তো এমনিই জিজ্ঞেস করছি।ছেলেটা কে ছিল?"

মেঘলা ধীরে বললো,

"আমার ভার্সিটির পরিচিত ছিল।"

"ওমা!পরিচিত ছিল?তাহলে তোমাকে ওইভাবে জঙ্গলে ডেকেছিল কেন?"

আরেকজন আগ্রহ নিয়ে বলে উঠলেন,

"হ্যাঁ সেটাই তো।এমন তো আর এমনি এমনি হয় না।"

মেঘলার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।ওর হাতদুটো আঁচলের উপর শক্ত হয়ে এলো।এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ওর ভীষণ অস্বস্তি লাগছে।

ঠিক তখনই ডাইনিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিয়ানের মুখ আরও শক্ত হয়ে গেলো।ও বুঝতে পারছে মেঘলা অস্বস্তিতে পড়েছে।কিন্তু ও নিজেও এগিয়ে যাচ্ছে না।শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনছে।বড় মামি এবার কণ্ঠ নামিয়ে বললেন,

"মা কিছু মনে করো না।কিন্তু ছেলেটার কি তোমার উপর আগে থেকেই...মানে..."

বাকিটা শেষ করলেন না তিনি।মেঘলা চোখ নামিয়ে ফেললো।অনেকক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বললো,

"হ্যাঁ।ওর খারাপ উদ্দেশ্য ছিল।ভার্সিটিতেও ছিল।"

কথাটা শুনে সবাই থমকে গেল।ছোট খালা অবাক হয়ে বললেন,

"আস্তাগফিরুল্লাহ!তাহলে তো অনেক আগে থেকেই ছেলেটা সমস্যা করতো?"

মেঘলা মৃদু মাথা নাড়লো।ঠিক তখনই সিঁড়ির কাছ থেকে গম্ভীর গলা ভেসে এলো।

"আর এই প্রসঙ্গটা এখানেই শেষ হবে।"

সবাই ঘুরে তাকালো।আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।চোয়াল শক্ত।চোখদুটো ঠান্ডা।ও ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বললো,

"ও আজ অনেক কিছু পার করেছে।তাই এসব প্রশ্ন এখন না করাই ভালো।"

বড় মামি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন।

"আরে বাবা আমরা তো এমনি..."

"আমি জানি।"

আরিয়ান শান্ত গলায় বললো।

"তবুও ওর রেস্ট দরকার।"

মেঘলা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলো আরিয়ানের দিকে।ওকে ডিফেন্ড করছে?কিন্তু আরিয়ান একবারও ওর দিকে তাকালো না।ঠিক তখনই ভেতরের রুম থেকে নীলিমা বেরিয়ে এলেন।

"আচ্ছা তোমরা এখনও এখানে বসে আছো কেন?"

তিনি মেঘলার পাশে বসে পড়লেন।

"মা তুমি অনেক ক্লান্ত।সকাল থেকে কি ঝড়টাই না গেছে তোমার উপর দিয়ে।"

মেঘলা হালকা হাসার চেষ্টা করলো।নীলিমা ওর গাল ছুঁয়ে বললেন,

"চলো একটু ফ্রেশ হয়ে নাও।"

এমন সময় ফারহানও বেরিয়ে এলেন।তার মুখে এখন আগের চেয়ে অনেক স্বস্তি।

"মাহবুবের সাথে কথা হয়েছে।ওরা রওনা দিয়েছে।আর সব শুনে আলহামদুলিল্লাহ শান্ত আছে।"

মেঘলার বুক থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেল।বাবা অন্তত ভুল বুঝছেন না।ধীরে ধীরে রাত আরও গভীর হলো।এক এক করে অতিথিরাও নিজেদের রুমে চলে গেলেন।মাহবুব আলম আর শারমিন বেগমও এসে পৌঁছালেন।মেয়েকে দেখে আবারও আবেগঘন একটা সময় পার হলো।অনেক কথাবার্তা,ব্যাখ্যা,দুশ্চিন্তা আর স্বস্তির পর অবশেষে বাড়িটা শান্ত হয়ে এলো।রাত তখন অনেক।মেঘলা বসে ছিল নীলিমার পাশে।

হঠাৎ নীলিমা একটু ইতস্তত করে বললেন,

"মা একটা কথা বলি?"

মেঘলা তাকালো।

"হুম?"

নীলিমা মৃদু হেসে বললেন,

"তোমাদের জন্য রুম রেডি করা আছে।"

কথাটা শুনে মেঘলার পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেল।রুম?মানে...?নীলিমা যেন ওর অস্বস্তি বুঝতে পারলেন।

"ভয় পেও না মা।যা হয়েছে তা নিয়ে এখন আর কেউ কিছু ভাবছে না।তোমরা শুধু বিশ্রাম নাও।"

মেঘলা কিছু বলতে পারলো না।ওর গাল হালকা লাল হয়ে উঠলো।

অন্যদিকে আরিয়ানও স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে।রিদ্ম পাশ থেকে ফিসফিস করে বললো,

"যাও বর সাহেব।শুভকামনা রইলো।"

আসলে রিদ্ম এতক্ষণ ধরে বাসর ঘরই সাজাচ্ছিলো।আরিয়ান এমন দৃষ্টি দিল যে রিদ্ম সাথে সাথে মুখ বন্ধ করে ফেললো।

---------------

মেঘলা দরজার সামনে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। বুকের ভেতরটা কেমন ধুকপুক করছে। জীবনে কতবার ও কল্পনা করেছে আরিয়ানের সামনে দাঁড়ালে কি বলবে, কিভাবে নিজের ভুলের ব্যাখ্যা দেবে। অথচ আজ যখন সেই সুযোগটা সত্যি সত্যি এসেছে তখন ওর গলায় যেন সব শব্দ আটকে গেছে।

আরিয়ান কোনো কথা না বলে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। ঘরটা সুন্দর করে সাজানো। বিছানার উপর গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো, একপাশে ফুলের তোড়া রাখা। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অনেক যত্ন নিয়ে সাজানো হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ঘরের সৌন্দর্য দুজনের কারোরই চোখে পড়লো না।মেঘলা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলো। দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দ হতেই ওর বুকটা কেঁপে উঠলো।

আরিয়ান একবারও ওর দিকে তাকালো না। ও সোজা আলমারির দিকে গিয়ে একটা বালিশ আর চাদর বের করলো। তারপর ঘরের এক কোণে রাখা সোফার দিকে এগিয়ে গেল।মেঘলা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।

"তুমি ওখানে কেন যাচ্ছো?"

আরিয়ান থামলো না।

"ঘুমাবো।"

ওর শুষ্ক ও নির্লিপ্ত উত্তর।মেঘলার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।

"কিন্তু বিছানা তো..."

আরিয়ান এবার ধীরে ঘুরে তাকালো।

"বিছানাটা তোমার জন্য যথেষ্ট বড়। সমস্যা হবে না।"

কথাগুলো এতটাই ঠান্ডা ছিল যে মেঘলার মনে হলো কেউ যেন বরফ ঢেলে দিল বুকের ভেতর।কয়েক মুহূর্ত নীরবতা দেখা দিল।বাইরে কোথাও দূরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। ঘড়ির টিকটিক শব্দটাও যেন অস্বাভাবিক জোরে কানে আসছে।মেঘলা ঠোঁট কামড়ে ধরলো।

"আরিয়ান... আমার তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।"

আরিয়ান সোফায় বসে বালিশটা পাশে রাখলো।

"আমার নেই।"

মেঘলা থমকে গেল।

"একবার শুনবে?"

"শুনে কি লাভ?"

মেঘলার চোখ ভিজে উঠলো।

"প্লিজ..."

আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর মাথা উঁচু করে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলো।

"বলো।"

মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। কোথা থেকে শুরু করবে বুঝতে পারছে না।

"আমি... আমি জানি আমি অনেক বড় ভুল করেছি।"

আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে তিক্ত হাসি ফুটলো।

"শুধু ভুল?"

মেঘলার বুক কেঁপে উঠলো।

"আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনি।"

"হুম।"

"রাকিব আজ সব বলেছে। সবকিছু।"

"তাতে?"

মেঘলা অবিশ্বাস নিয়ে তাকালো।

"তাতে?"

আরিয়ান এবার ওর দিকে তাকালো। চোখ দুটো অদ্ভুত শান্ত। কিন্তু সেই শান্তির নিচে জমে আছে বছরের পর বছর চাপা কষ্ট।

"তাতে কি বদলে গেছে মেঘলা?"

ওর গলা ভারী হয়ে এলো।

"পাঁচ বছর আগে যখন সবাই আমাকে দোষী ভাবছিল তখন তুমি কোথায় ছিলে?"

মেঘলা মাথা নিচু করে ফেললো।আরিয়ান ধীরে ধীরে বলতে লাগলো,

"আমি অপেক্ষা করেছিলাম। ভেবেছিলাম অন্তত তুমি একবার জিজ্ঞেস করবে। একবার বলবে, 'আরিয়ান, সত্যিটা কি?'"

ও হাসলো। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ নেই।

"কিন্তু তুমি সেটা করোনি। তুমি অন্যদের কথা বিশ্বাস করেছিলে।"

মেঘলার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো।

"আমি জানি..."

"না, তুমি জানো না।"

আরিয়ান এবার উঠে দাঁড়ালো।

"তুমি জানো না কেমন লাগে যখন সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা তোমাকে অপরিচিতের মতো বিচার করে।"

মেঘলা কাঁদতে কাঁদতে বললো,

"আমি প্রতিদিন অনুতপ্ত হয়েছি।"

"পাঁচ বছর পরে?"

"আমি সত্যিই দুঃখিত।"

আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।

তারপর নিচু গলায় বললো,

"কিছু কিছু জিনিসের জন্য দুঃখিত বলাটা যথেষ্ট হয় না।"

কথাটা ছুরির মতো গিয়ে বিঁধলো মেঘলার বুকে।

ও কাঁপা গলায় বললো,

"তুমি চাইলে আমাকে শাস্তি দাও। রাগ করো। কিন্তু এভাবে দূরে সরে যেও না।"

আরিয়ান চোখ বন্ধ করলো এক মুহূর্তের জন্য।

সত্যি বলতে ওরও কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ কষ্ট। কারণ এত বছর পরেও মেঘলাকে কাঁদতে দেখলে ওর বুকের ভেতরটা নরম হয়ে যায়।

কিন্তু সেই নরম অনুভূতির উপরে জমে আছে পাহাড়সম অভিমান।

"আজ অনেক রাত হয়েছে।"

এটাই ছিল ওর উত্তর।

মেঘলা অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো।

আরিয়ান ধীরে ধীরে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। তারপর মুখ ফিরিয়ে নিল অন্যদিকে।স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলো এই মুহূর্তে আর কোনো কথা বলতে চায় না।ঘরের আলো নিভে গেল।অন্ধকারে বিছানার একপাশে বসে রইলো মেঘলা।আজ প্রথমবার ও সত্যিকারের উপলব্ধি করলো, ভুল স্বীকার করা যতটা কঠিন, তার চেয়েও কঠিন ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস আবার জোড়া লাগানো।ও মুখ চেপে কান্না থামানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু পারলো না।নিঃশব্দে চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।

অন্যদিকে সোফায় শুয়ে থাকা আরিয়ানও চোখ বন্ধ করে আছে। কিন্তু ঘুম ওর কাছেও ধরা দিচ্ছে না।কারণ ওর বুকের ভেতরেও আজ পুরনো ক্ষতগুলো আবার নতুন করে জেগে উঠেছে।

চলবে...

💬গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন