#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_44
🚫কপি করা নিষিদ্ধ
এর মধ্যে বেশ কিছুদিন কেটে গেছে।মেঘলা ও আরিয়ানের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি হয়েছে।মেঘলা নিজের দুষ্টুমি দিয়ে আরিয়ানের অভিমান ভাঙ্গানোর মিশনে লেগে আছে তবে তার ফলাফল কিছু হচ্ছে কি না তা আরিয়ানের আচরণ দেখে বোঝা দায়।তবে এটুকু বোঝা যাচ্ছে অভিমানের প্রাচীর ধীরে ধীরে ভেঙে পুরনো কিছু ফিরে আসছে।
নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছে মেঘলা।আজ কাজের চাপটা তুলনামূলক বেশি।এমন সময় অফিসে কয়েকজন পুলিশ প্রবেশ করলো।অফিসের সকলে দাঁড়িয়ে গেলো।পুলিশ!অফিসে!কি ব্যাপার?সকলের মধ্যে ফিসফিস শুরু হয়ে গেলো। মেঘলাও অবাক হয়ে দাঁড়ালো।সকলের সামনে দাঁড়ানো একজন পুলিশ দেখে মনে হচ্ছে এএসপি হবেন জিজ্ঞাসা করলেন,
—আপনাদের সিইওকে ডাকুন।
ম্যানেজার সাহেব হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এলেন।
—স্যার কোনো প্রবলেম হয়েছে কি?
—প্রবলেমটা কি সেটা আপনাকে নয় আপনাদের সিইওকেই বলা হবে।তাকে ডাকুন যান!
বাইরে এতো চেঁচামেচি শুনে আরিয়ান কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো।পুলিশ দেখে ওর ভ্রু কুঁচকে গেলো। ও এগিয়ে এসে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,
—কি হয়েছে অফিসার?আপনারা এখানে?
—আপনি তো আরিয়ান খান এই কোম্পানির সিইও এন্ড ফারহান খানের একমাত্র পুত্র?
—জ্বি আমিই আরিয়ান খান।কিন্তু বললেন না তো আপনার এখানে কেন?
—সেটা খুব তাড়াতাড়িই জানতে পারবেন।(পেছনে থাকা একজন অফিসার কে কিছু দিতে ইশারা করতেই)এই যে দেখুন।(জিনিসটি আরিয়ানের দিকে এগিয়ে দিয়ে)
আরিয়ান অফিসারের দিকে তাকিয়ে সেই জিনিসটি হাতে নিল।একটি খাম।খামের ভেতরের কাগজটি মেলে ধরতেই আরিয়ানের চোখ কপালে উঠে গেলো।এসব কি!কাগজটি স্কাইলাইন গ্রুপ অফ ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাথে কিছু ড্রাগ ডিলারদের ডিলের।আরিয়ান অবাক হয়ে বললো,
—এসব... মানে এসব কি?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
অফিসার যেন কোনো কৌতুক শুনলেন এমন করেই হাসলেন।
—সব অপরাধীরাই একই কথা বলে মিস্টার খান।তবে সত্যিটা এটাই আপনাদের কোম্পানি আজকাল ড্রাগেরও ডিল করছে।
নিজেকে সামলে নিয়ে আরিয়ান বললো,
—দেখুন অফিসার হয়তো আপনাদের কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।আমাদের কোম্পানিতে এরকম কোনো কাজই হয় না।
—আচ্ছা তবে কাগজটাও ভুল।বাই দ্যা ওয়ে আপনাদের সকল ফিন্যান্সিয়াল বিষয় কে হ্যান্ডেল করেন অর্থাৎ আপনাদের মার্কেটিং অফিসার কে?
মেঘলা এতক্ষণ অবাক হয়ে সব দেখছিল।ওর মাথায় কিছুই ঢুকছে না।কি বলছেন এনারা।হঠাৎ করে অফিসারের প্রশ্নের ও একটু ঘাবড়ে গেলো।আরিয়ান বললো,
—যা কথা বলার আমার সাথে বলুন।মার্কেটিং অফিসারের...
এএসপি ওকে থামিয়ে দিলেন।
—দেখুন আমরা আমাদের কাজটা খুব ভালো করেই জানি।সো সেটা আপনার কাছ থেকে শিখতে হবে না। জলদি বলুন!আমরা অহরাত্র সময় নিয়ে এখানে আসিনি।
ম্যানেজার সাহেব বললেন,
—স্যার এই যে ইনি মিসেস মেঘলা আমাদের মার্কেটিং অফিসার।
নিজেকে সামলে মেঘলা সামনে এগিয়ে এলো।পুলিশ ওর আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে বললেন,
—সো মিসেস মেঘলা আপনার এই বিষয় নিয়ে কি মতামত?এন্ড এই কাগজটা নিয়েও?
মেঘলা একবার আরিয়ানের দিকে চাইল।যে এখনো ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে যেন ভীষণ বিরক্ত এসবে।মেঘলা অফিসারের দিকে চেয়ে বললো,
—দেখুন স্যার আমাদের কোম্পানিতে সত্যি এরকম কোনো কাজ হয় না।আর যে সমস্ত ডিল হয় সেগুলোর সমস্ত রিপোর্ট সব আমি নিজে দেখি।সো এরকম কিছু হওয়ার কোন চান্সই নেই।
অফিসার তাচ্ছিল্য করে বললেন,
—সেটা তো দেখাই যাবে কিসের চান্স আছে আর কিসের নেই? ছাড়ুন এসব আপাতত আপনি আমায় এটুকু বলুন গত মাসে আর এই মাসে যত যত ডিল হয়েছে আপনাদের কোম্পানি থেকে সমস্ত রিপোর্ট আমাদেরকে দেখাতে পারবেন।
—অবশ্যই স্যার।তবে এজন্য আপনাদের আমাদের অফিসের মার্কেটিং রিপোর্ট রুমের দিকে যেতে হবে। সেখানে সমস্ত ডকুমেন্ট আছে।
—ওকে আর হ্যাঁ(বাকি স্টাফদের উদ্দেশ্য করে)আপনারা সবাই এখানেই থাকুন।কেউ কিন্তু বাহিরে যাবেন না।আমাদের দুজন পুলিশ এখানে থাকবেন।অ্যান্ড মিস্টার খান এন্ড মিসেস মেঘলা আপনারা আমার সঙ্গে চলুন।
মেঘলা ও আরিয়ান পুলিশদের সঙ্গে রিপোর্ট রুমের দিকে অগ্রসর হলো।
*****
রিপোর্ট রুমের সিকিউরিটি ডিভাইসে নিজের ফেস স্ক্যান করে লক ডোর খুললো মেঘলা।এএসপি সাহেব সবটাই আড় চোখে লক্ষ্য করলেন।রিপোর্ট গুলো যে আলমারিতে থাকে সেখানে সবাইকে নিয়ে গেলো মেঘলা।ও চাবি নিয়ে আলমারি খুলতে যাবে এমন সময় এএসপি সাহেব বাদ সাধলেন।
—স্টপ। আপনার খুলতে হবে না।রাশেদ(একজন পুলিশ এগিয়ে এলো)যাও ওনার থেকে চাবিটা নিয়ে আলমারি খুলো।
—জ্বি স্যার।
রাশেদ নামের পুলিশটি মেঘলার হাত থেকে চাবিটা নিয়ে আলমারি খুললো।তারপর সে এক এক করে ফাইলগুলো অফিসারের হাতে দিল।অফিসার বেশ মনোযোগ দিয়ে সেগুলো দেখতে লাগলেন।কয়েক মিনিট নীরবতা কাটার পর হঠাৎ করেই এএসপির ভ্রু কুঁচকে গেল।
—ইন্টারেস্টিং!
আরিয়ান এগিয়ে এসে বললো,
—কি হয়েছে?
অফিসার একটা ফাইল সামনে ধরলেন।
—এটা কি আপনার কোম্পানির অফিশিয়াল ডকুমেন্ট?
মেঘলা মাথা নাড়লো।
—জি।
—তাহলে এই সিগনেচার কার?
কথাটা শুনে মেঘলা অবাক হয়ে ফাইলটার দিকে তাকালো।পরের মুহূর্তেই ওর শরীর কেঁপে উঠলো। কোম্পানির সাথে ড্রাগ ডিলের কাগজ!ওখানে স্পষ্ট ওর সিগনেচার!আর শুধু একটা না।আরও কয়েকটা ডকুমেন্টে একই সিগনেচার।মেঘলা হতভম্ব হয়ে বললো,
—স্যার!আমি...আমি এই ডকুমেন্টগুলো জীবনে দেখিনি!
এএসপি ঠান্ডা গলায় বললেন,
—কিন্তু এখানে তো আপনার সাইন।
—না স্যার!আমি সত্যি বলছি এগুলো আমি করিনি।
অফিসার এবার আরও কিছু কাগজ বের করলেন।
—তাহলে এগুলো?
মেঘলা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।এসব ডিলের নাম পর্যন্ত ও কখনো শোনেনি।আরিয়ানের মুখ আরও শক্ত হয়ে গেল।
—অফিসার,আমি নিশ্চিত এখানে কেউ কিছু করেছে।
—সেটা তদন্তেই বের হবে মিস্টার খান।
অফিসার এবার কড়া গলায় বললেন,
—মিসেস মেঘলা,এই সমস্ত ডকুমেন্টে আপনার সিগনেচার আছে।অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে সমস্ত সন্দেহ আপনার উপরেই যাচ্ছে।
মেঘলার মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।
—স্যার!আমি নির্দোষ!
—সবাই এটাই বলে।
কথাটা শুনেই মেঘলার চোখে পানি চলে এলো।
—প্লিজ স্যার!আমি সত্যিই কিছু জানি না।
আরিয়ান দাঁত চেপে বললো,
—ওকে এভাবে কথা বলবেন না।ও এমন কিছু করতে পারে না।
এএসপি শান্তভাবে বললেন,
—মিস্টার খান,শুনেছি আপনি ওনার স্বামী।আপনার বিশ্বাস থাকতেই পারে।কিন্তু আমাদের কাছে প্রমাণটাই বড়।
কথাটা শুনে আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।এদিকে মেঘলার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।ও বারবার ভাবার চেষ্টা করছে কোথায় ভুল হলো?কিভাবে এসব সম্ভব?ঠিক তখনই আরেকজন পুলিশ অফিসার তাড়াহুড়ো করে ভেতরে ঢুকলেন।
—স্যার!
—হ্যাঁ?
—যে একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে,সেটার সেকেন্ডারি অথোরাইজেশনও মিসেস মেঘলার আইডি দিয়ে করা।
মেঘলা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল।
—হোয়াট?
এএসপি এবার গম্ভীর হয়ে গেলেন।
—মিসেস মেঘলা,আমি দুঃখিত।কিন্তু আপনাকে আমাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে।
—কি!
মেঘলার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো।
—স্যার বিশ্বাস করুন,আমি কিছু করিনি!
আরিয়ানের মুখটাও শক্ত হয়ে গেল।
—অফিসার নিশ্চয়ই কোথাও ভুল হচ্ছে।
এএসপি ঠান্ডা চোখে বললেন,
—ভুলটা কোথায় হচ্ছে সেটা আমরাও জানবো মিস্টার খান।
উনি একজন অফিসারকে বললেন,
—সিসিটিভি ফুটেজ বের করো।
অফিসের সিকিউরিটি রুমে গিয়ে ফুটেজ বের করা হলো।সকলের চোখ তখন মনিটরের দিকে।প্রথমে সব স্বাভাবিকই ছিল।কিন্তু গতকাল রাতের ফুটেজে হঠাৎ করেই দেখা গেল রিপোর্ট রুমের সামনে একজন নারী এসে দাঁড়ালো।মুখটা স্পষ্ট হতেই আরিয়ান ও মেঘলা চমকে উঠলো।মেঘলা! আরিয়ান তড়িৎ মেঘলার দিকে তাকালো।মেঘলা মাথা নেড়ে না বোঝালো।এএসপির মুখে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।ফুটেজে কয়েক সেকেন্ড পর মেঘলা ফেস স্ক্যান করে ভেতরে প্রবেশ করলো।
মেঘলার চোখ বিস্ফোরিত হয়ে গেল।
—না!এটা আমি না!
কিন্তু পরের ফুটেজে দেখা গেল মেঘলা প্রায় পনেরো মিনিট পর বেরিয়ে যাচ্ছে।এএসপি সাহেব গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করলেন,
—মিসেস মেঘলা,এই রুমে প্রবেশের অথরাইজেশন আর কারো আছে?ফেস লক সিস্টেম থাকার পরও?
মেঘলা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
—না...শুধু আমার।
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে বললো,
—অফিসার একটা ফুটেজ দিয়ে কিছু প্রমাণ হয় না।
—শুধু ফুটেজ নয় মিস্টার খান।
এএসপি সাহেব কথা শেষ করতেই পিছন থেকে একজন মধ্যবয়স্ক মানুষকে নিয়ে আসা হলো।লোকটাকে দেখে আরিয়ান অবাক হয়ে উঠলো।
—করিম চাচা!
করিম চাচা এই অফিসের পুরনো পিয়ন।প্রায় পঁচিশ বছর ধরে এই কোম্পানিতে আছেন।ফারহান খানেরও ভীষণ বিশ্বস্ত মানুষ।করিম চাচা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।
—করিম চাচা আপনি এখানে?
এএসপি বললেন,
—উনিই আমাদের সাক্ষী।
মেঘলার বুকটা ধক করে উঠলো।
—সাক্ষী?
করিম চাচা কাঁপা গলায় বললেন,
—মা...আমি তো মিথ্যা বলতে পারি না।কাল রাতে আমি কিছু ফাইল রেখে বাড়ি যাওয়ার সময় দেখলাম আপনি রিপোর্ট রুম থেকে বের হচ্ছেন।আমি জিজ্ঞেসও করেছিলাম এত রাতে কেন এসেছেন।আপনি বলেছিলেন জরুরি কাজ আছে।
মেঘলা যেন জমে গেল।
—চাচা!আমি?আমি তো কাল রাতে এখানে আসিইনি!
করিম চাচার চোখেও পানি এসে গেল।
—আমি জানি না মা।কিন্তু আমি যাকে দেখেছি সে আপনিই ছিলেন।
আরিয়ান রাগে বলে উঠলো,
—অসম্ভব!করিম চাচা,আপনি হয়তো ভুল দেখেছেন।
—না বাবা।আমার চোখে এখনও এতটা ঝাপসা হয়ে পড়েনি।
এএসপি সাহেব এবার আরেকটি কাগজ বের করলেন।
—আর এই যে রিপোর্ট রুমের অ্যাক্সেস লগ।গতকাল রাত দশটা বত্রিশ মিনিটে মিসেস মেঘলার ফেস দিয়ে রুম ওপেন হয়েছে।
মেঘলার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
—আমি...আমি কিছুই করিনি।
এএসপি তীক্ষ্ণ চোখে বললেন,
—মজার ব্যাপার কি জানেন?সিসিটিভি,অ্যাক্সেস লগ আর একজন পুরনো বিশ্বস্ত কর্মচারীর সাক্ষ্য।তিনটা প্রমাণই কিন্তু আপনার দিকে ইঙ্গিত করছে।
মেঘলা চোখের পানি আটকে আরিয়ানের দিকে তাকালো।ওর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।আরিয়ান নিজেও যেন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সবকিছু এত নিখুঁতভাবে সাজানো যে মুহূর্তের জন্য ওরও মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।তবুও পরের মুহূর্তেই ও দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
—নো!আই ডোন্ট বিলিভ ইট।মেঘলা এটা করতে পারে না।
এএসপি ভ্রু তুললেন।
—এত প্রমাণের পরেও?
আরিয়ান দৃঢ় গলায় বললো,
—হ্যাঁ।কারণ আমি আমার স্ত্রীকে চিনি।
এএসপি সাহেব কয়েক সেকেন্ড আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বললেন,
—ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে দেয় মিস্টার খান।আর আপনার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আপনি সেই অন্ধত্বের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।তবে দুঃখের বিষয় আইন কিন্তু অনুভূতি দিয়ে চলে না।চলে প্রমাণ দিয়ে।আর এই মুহূর্তে সমস্ত প্রমাণ আপনার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
মেঘলার চোখ বেয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে।ও শুধু অসহায় চোখে কখনো আরিয়ানের দিকে তো কখনো অফিসারদের দিকে তাকাচ্ছে।কিন্তু ওর মাথায় কিছুই ঢুকছে না।সবকিছু যেন দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে।এএসপি গম্ভীর গলায় বললেন,
—মিসেস আশা?
একজন মহিলা পুলিশ এগিয়ে এলো।
—জ্বি স্যার।
—মিসেস মেঘলাকে এরেস্ট করুন।
আরিয়ান যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারলো না।
—হোয়াট?এক মিনিট!আপনারা এভাবে ওকে নিয়ে যেতে পারেন না!
—আমরা খুব ভালো করেই পারি মিস্টার খান।বরং এই কেসে আপনার কোম্পানির নাম জড়িয়ে যাওয়ায় আপনারও সাবধান হওয়া উচিত।
—দেখুন অফিসার—
—নো!এনাফ ইজ এনাফ।আপনি বারবার আপনার স্ত্রীকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন,আজ থেকে স্কাইলাইন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য খারাপ সময় শুরু হলো।
আরিয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল।
—হোয়াট ডু ইউ মিন?
এএসপি ঠান্ডা হাসলেন।
—মিডিয়াতে খবর পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না।আপনাদের কোম্পানির বিরুদ্ধে ড্রাগ ডিলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।ইনভেস্টররা সরে যাবে।শেয়ার পড়ে যাবে।ক্লায়েন্টরা চুক্তি বাতিল করবে।আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়...
উনি একটু থামলেন।
—তাহলে ধরে নিন স্কাইলাইন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেষ দিন এসে গেছে।
মেঘলা ভয়ে কেঁপে উঠলো।
—না!না স্যার!প্লিজ!এসব বলবেন না।কোম্পানির কোনো ক্ষতি করবেন না।আমি কিছু করিনি।
এএসপি কঠোর গলায় বললেন,
—এই কথাটা আদালতে গিয়ে বলবেন।
লেডি কনস্টেবল মেঘলার হাত ধরে বললো,
—চলুন।
মেঘলা হঠাৎই আরিয়ানের দিকে তাকালো।ছলছল চোখে ফিসফিস করে বললো,
—আরিয়ান...
শব্দটা শুনতেই আরিয়ানের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
—মেঘলা!
ও তড়িঘড়ি করে সামনে এগিয়ে এলো।কিন্তু দুজন পুলিশ ওকে আটকে দিল।
*****
—দেখুন অফিসার আমি আপনাকে কতবার বলছি মেঘলা নির্দোষ।আপনারা বুঝতে চাইছেন না কেন?
—হাহ্!(টেবিলে রাখা এভিডেন্স গুলো উদ্দেশ্য করে) আপনার ওয়াইফের নির্দোষ আবার নমুনা তো দেখাই যাচ্ছে।তবে উনি নির্দোষ কিনা এটা জানার থেকে বর্তমানে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কেসে উনার সাথে আপনারা আর কারা কারা যুক্ত আছেন সেটা জানা।
আরিয়ান বিরক্তিতে চ সূচক শব্দ করে জোরে বললো,
—কতবার বলছি আপনাকে(নিজেকে শান্ত করে)দেখুন হয়তো আপনারা মেঘলার এগেইনস্টে অনেকগুলো এভিডেন্স পেয়েছেন বাট নিশ্চয়ই এগুলো কারো ষড়যন্ত্র।কেউ ফাঁসাতে চাইছে ওকে।
মেঘলা মন্ত্রমুগ্ধের মতো আরিয়ানের দিকে চেয়ে আছে। আশেপাশে ঘটা এতসব কাণ্ডের আঁচ যেন ওকে একটুও ছুঁতে পারছে না।তখন অফিসে এএসপি সাহেবকে বলা কথাটি আর এখন এসব!অভিমান যতই থাকুক কিন্তু ভালবাসাকে গ্রাস করতে পারেনি এক ফোঁটাও।মানুষটা আজও ওকে ঠিক ততটাই ভালোবাসে যতটা শুরুতে বাসতো।মনের গহীনে কোথাও একটা আফসোসও হলো।আচ্ছা ও কেন পারলো না আরিয়ানকে এতটা বিশ্বাস করতে?ওর বিশ্বাস,ভালোবাসা বুঝি এতই ঠুনকো?আরিয়ানের কথায় অফিসার তেঁতে উঠলেন,
—হ্যাঁ রাজ্যের সকলে তো আপনার ওয়াইফকে ফাঁসানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।সিসিটিভি ক্যামেরা মিথ্যে,সাক্ষীদের বয়ান মিথ্যে,আরও যত এভিডেন্স সবই মিথ্যে।শুধুমাত্র একমাত্র সত্যবাদী আপনি এবং আপনার ওয়াইফ।
আরিয়ান বলার চেষ্টা করলো,
—আমি সেটা...
এসপি সাহেব ওকে থামিয়ে দিলেন।তেঁতে উঠে বললেন,
—এতক্ষণ ধরে আপনার এই মনগড়া কাহিনী অনেক সহ্য করেছি।এখন যা হবে সব কোর্টে।(একজন লেডি কনস্টেবলকে উদ্দেশ্য করে)এই ওনাকে লকাপে ঢুকাও।
—আপনি এভাবে আমার ওয়াইফকে লকাপে নিতে পারেন না।
—আচ্ছা তা কিভাবে পারি বলে আপনার মনে হয়? আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে আপনার ওয়াইফকে কাস্টাডিতে নেওয়ার জন্য।এখন দেখুন বেল করাতে পারেন কিনা।লইয়ার খুঁজুন গিয়ে।
লেডি কনস্টেবলটি মেঘলাকে হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকলো।
—চলুন!
মেঘলা আরিয়ানের দিকে তাকালো।
—আরিয়ান!
আরিয়ান এএসপিকে বললো,
—অফিসার আমার কথাটা শুনুন...
—আরে মিয়া যান তো এখান থেকে।অযথা ক্যাচাল করবেন না।
মেঘলাকে লকাপে ঢোকানো হলো।ও সেলের দুই দন্ড ধরে কাঁদতে কাঁদতে এদিকেই তাকিয়ে আছে।আরিয়ান দৌড়ে ওর সামনে গেলো।ওর হাতের উপর হাত রেখে বললো,
—কোনো চিন্তা করো না তুমি।খুব তাড়াতাড়ি আমি তোমায় বের করে নিয়ে যাবো।তুমি যে নির্দোষ সেটাও প্রমাণ করবো।একটু সময় দাও।
মেঘলা ছলছল চোখে আরিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
—তুমি বিশ্বাস করো তো আমায়?
আরিয়ান যেন থমকে গেল।কিছুক্ষণ পর ওর হাতের চাপ আরও শক্ত করে বললো,
—পুরোপুরি।
চলবে...
💬১০০ রিয়েক্ট পূর্ণ হলে পরবর্তী পর্ব আসবে