#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_45
🚫কপি করা নিষিদ্ধ
কিছুক্ষণ আগেও যে মেয়েটা ওর সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল, এখন সে লোহার শিকের ওপাশে। অথচ আরিয়ানের চোখে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বরং যত সময় যাচ্ছে, ততই ওর ভেতরে জেদটা বাড়ছে। কেউ একজন খুব নিখুঁতভাবে মেঘলাকে ফাঁসিয়েছে। আর সেই মানুষটাকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত শান্ত হবে না আরিয়ান খান।
লকাপের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান। চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে আছে। ওর সামনে দাঁড়ানো মেঘলা দুই হাত দিয়ে শিক আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
—আরিয়ান, আমি সত্যিই কিছু করিনি। বিশ্বাস করো আমাকে। আমি কাল রাতে অফিসেও যাইনি।
আরিয়ান ওর চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,
—আমি কি একবারও বলেছি তোমাকে বিশ্বাস করি না? পৃথিবীর সবাই যদি তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, আমি তবুও তোমার পাশেই দাঁড়াবো। কারণ আমি জানি, আমার মেঘলা এমন কাজ করতে পারে না।
মেঘলার বুকটা কেঁপে উঠলো। চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে লাগলো।
—কিন্তু সব প্রমাণ তো আমার বিরুদ্ধে। সিসিটিভি, অ্যাক্সেস লগ, করিম চাচার সাক্ষী...
আরিয়ান ওর হাতের উপর হাত রেখে বললো,
—প্রমাণ তৈরি করা যায়। কিন্তু সত্যিটাকে চিরকাল লুকিয়ে রাখা যায় না। আমি তোমাকে এখান থেকে বের করবো। আর যে এই খেলাটা খেলেছে, তাকে নিজের হাতে শেষ করবো।
মেঘলা অস্ফুট স্বরে বললো,
—তোমার কোম্পানি?
আরিয়ানের চোখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে উঠলো।
—কোম্পানি আবার দাঁড় করানো যাবে। কিন্তু তোমাকে হারানোর কথা আমি ভাবতেও পারি না।
ঠিক তখনই একজন কনস্টেবল এগিয়ে এসে বললো,
—ভিজিটিং টাইম ওভার। বাইরে যান।
মেঘলার হাতটা ধীরে ধীরে শিকের ভেতর থেকে সরে গেল। আরিয়ান একবার ওর ভেজা মুখটার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো।থানার বাইরে বের হতেই ফোন বেজে উঠলো।স্ক্রিনে নামটা দেখে আরিয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল।ফারহান খান।
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে উদ্বিগ্ন কণ্ঠ ভেসে এলো,
—আরিয়ান, আমি সব শুনেছি। এটা কি সত্যি?
—না ড্যাড। মেঘলা নির্দোষ।
—আমি জানি ও এমন কিছু করতে পারে না। কিন্তু মিডিয়াতে খবর চলে গেছে। কোম্পানির শেয়ার ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। তিনজন বড় ইনভেস্টর মিটিং ক্যানসেল করেছে।
আরিয়ান চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
—আমি সব সামলে নেবো।
—নিজেকে সামলে রাখো। আর বাড়িতে এসো। তোমার মা কান্নাকাটি করছে।
*****
খান ম্যানশনে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নীলিমা সোফায় বসে কাঁদছেন।
—এসব করতে পারে না। আমি জানি পারে না।
বড় ফুপি মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
—ভাবি, এত প্রমাণের পরেও?
ফারহান খান রাগে ধমক দিয়ে উঠলেন,
—আপা!একদম চুপ থাকবেন। মেঘলা আমার ছেলের স্ত্রী। ও নির্দোষ না অপরাধী সেটা আদালত বলবে। কিন্তু আমার বাড়িতে বসে আমি ওর বিরুদ্ধে একটা কথাও শুনতে চাই না।
বড় ফুপি চুপসে গেলেন।ঠিক তখনই আরিয়ান বাড়িতে ঢুকলো।ওর এলোমেলো চেহারা দেখে নীলিমা ছুটে এসে বললেন,
—মেঘলা কেমন আছে বাবা?
—ভালো নেই, মা।
কথাটা বলেই আরিয়ান নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ালো ও।পুরো ঘরে যেন মেঘলার উপস্থিতি ছড়িয়ে আছে।ড্রেসিং টেবিলের সামনে পড়ে আছে ওর চুড়ি।বিছানার উপর ওর প্রিয় টেডি।আর বালিশের পাশে একটা ছোট্ট কাগজ।আরিয়ান অবাক হয়ে কাগজটা হাতে নিল।তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা
"মিস্টার রাগী,
একদিন কিন্তু ঠিক তোমার মুখ থেকে 'ভালোবাসি' কথাটা বের করবো।
ইতি, তোমার বউ।"
কাগজটা পড়তেই আরিয়ানের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।ও ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো।প্রথমবারের মতো চোখ দুটো ভিজে উঠলো।
—পাগলি একটা...
অশ্রুসিক্ত চোখে ফিসফিস করে বললো,
—তুমি ফিরেই আসবে মেঘলা। তোমাকে ফিরিয়ে আনবো আমি। যেভাবেই হোক।
*****
একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছে ইশিতা।ওর ঠোঁটের কোণে বিজয়ীর হাসি।রাকিব কফির মগ হাতে নিয়ে বললো,
—বাহ! সবকিছু এত নিখুঁতভাবে করবে ভাবিনি।
ইশিতা মুচকি হাসলো।
—এটা তো মাত্র শুরু। এখনও অনেক কিছু দেখা বাকি।
—সিসিটিভিতে মেঘলার মুখ, ফেস স্ক্যান, এমনকি করিম চাচাও তাকে দেখেছে।কেউ বুঝতেও পারবে না এসব সম্ভব হলো কিভাবে?
ইশিতা রহস্যময় হাসি দিয়ে বললো,
—বলেছিলাম না?আমার কাছে ওদের সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার চাবি আছে।
ও পাশের সোফায় বসে থাকা মেয়েটির দিকে তাকালো।মেয়েটি ধীরে ধীরে মুখের উপর থাকা ওড়নাটা সরিয়ে ফেললো।মেয়েটির মুখটা হুবহু মেঘলার মতো!একদম একই চেহারা,একই চোখ।একই হাসি।আর সেই মেয়েটি ঠোঁট বাঁকিয়ে রহস্যময় হাসি দিয়ে বললো,
—সবাই ভাবছে আমি মেঘলা। কিন্তু আমি নীহারিকা।
চলবে...
💬 ১৫০ রিয়েক্ট পূর্ণ হলে পরবর্তী পর্ব আসবে।