ফন্ট সাইজ:
থিম:
Her Golden voice

৪র্থ পর্ব

লেখক: Mihirima Toha

#Her_golden_voice_

#মিহিরিমা_তুহা
#পর্বসংখ্যা_৪
( ⚠️ সতর্কবার্তা: গল্পের কিছু অংশে অস্বস্তিকর ও হয়রানিমূলক পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে, যা কিছু পাঠকের জন্য সংবেদনশীল হতে পারে।
পাঠকদের নিজ দায়িত্বে ও সতর্কতার সঙ্গে পড়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। )
সকালের আকাশটা আজ বেশ অদ্ভুত রকমের মেঘলা। দমকা হাওয়ায় চারপাশের গাছপালা দুলছে, আর আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কালচে মেঘ দেখে মনে হচ্ছে—যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে।
‎
‎গত রাতেও সেই অচেনা ছেলেটার কথা ভাবতে ভাবতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি ফ্লোরা। লোকটা কে? কেন সেই গার্ড এর সাথে কথা বলছিল ? তাদের দুজনের মধ্যে কি সম্পর্ক ?  এসব ভাবনা মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতেই রাত কেটে গিয়েছিল তার। ফলস্বরূপ, সকালে কলেজে যাওয়া তো দূরের কথা, বিছানা ছাড়তেই তার বেশ দেরি হয়ে গেল। দুপুরের দিকে ঘুম থেকে উঠল ফ্লোরা। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই কিছু খেয়ে নিল। তারপর গোসল সেরে নিজের ঘরে এসে কিছুক্ষণ বসে রইল। আজ কলেজে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে বিকেলের দিকে তার একাডেমিতে যাওয়ার কথা।
‎
‎ফ্লোরার সংগীতের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আলাদা ভালোবাসা। সে গান গায়, গিটার বাজায়, আর ধীরে ধীরে আরও বেশ কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র বাজানোও শিখেছে। সপ্তাহে তিন দিন সে একাডেমিতে যায়।শুক্রবার, শনিবার এবং মঙ্গলবার।
‎
‎আজ মঙ্গলবার। বিকেলের দিকে বের হওয়ার সময়ও আকাশের মেঘলা ভাব কাটেনি। বরং দেখে মনে হচ্ছিল, দিনের আলো যেন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে। যে কেউ আকাশের দিকে তাকালে ভাববে—হয়তো সন্ধ্যা নেমে এসেছে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা বলছে ভিন্ন কথা।
‎
‎এখনো বিকেল।
‎
‎হলুদ রঙের সুন্দর একটি জর্জেটের জামা পরে বাড়ি থেকে বের হলো ফ্লোরা। হালকা কাপড় হওয়ায় দমকা বাতাসে জামার নিচের অংশ বারবার উড়ে উঠছিল। তার সঙ্গে ছিল বাদামী রঙের একটি ওড়না, যেটা সে হালকাভাবে কাঁধের ওপর জড়িয়ে রেখেছে। এক হাতে তার ছোট গিটারের ব্যাগ। গিটারটি আসলে খুব বড় নয়—প্রায় ত্রিশ ইঞ্চির একটি ছোট গিটার, যেটাকে অনেকটা ইউকুলেলের মতোই দেখায়।
‎
‎ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে মেইন রোডে এসে পৌঁছাতেই তার চোখ পড়ল রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি সুন্দর বাইকের দিকে।ফ্লোরা বরাবরই বাইক দেখতে পছন্দ করে।বাইকগুলোর দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ তার মনে হলো, আজ চারপাশটা যেন একটু বেশিই অদ্ভুত লাগছে।সে সামান্য পিছনে ফিরে তাকাল।
‎
‎আর তখনই চোখে পড়ল—তার আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন লোক।
‎
‎তাদের পোশাক প্রায় একই রকম। তাদের মধ্যে একজনকে ফ্লোরা আগে দেখেছে। সেই পরিচিত লোকটা। সেই বডিগার্ড । আর বাকি দুজন সম্পূর্ণ অচেনা। এক নজর দেখেই ফ্লোরার বুঝতে বাকি রইল না—লোকগুলো সাধারণ কোনো পথচারী নয়। তারা যেন তাকে অনুসরণ করছে। কিন্তু কেন?চুপচাপ হাঁটতে থাকা ফ্লোরা বিরক্ত হয়ে মনে মনে বলল,
‎
‎— হঠাৎ এমনভাবে আমাকে পাহারা দেওয়া হচ্ছে কেন?
‎
‎তবে প্রশ্নটার উত্তর তার জানা নেই। খিটখিটে মেজাজ নিয়েই সে সামনে এগিয়ে যেতে লাগল।
‎
‎ঠিক তখনই—
‎
‎ধাক্কা!
‎
‎—উফ!
‎
‎হঠাৎ সামনের দিক থেকে এসে কেউ তার সঙ্গে ধাক্কা খেতেই প্রায় চিৎকার করে উঠল ফ্লোরা। তার চোখ পড়ল একটি লম্বাটে বোর্ডের দিকে। নিচে চাকা লাগানো সেই বোর্ডের ওপর দাঁড়িয়েই একজন দ্রুত গতিতে আসছি।স্কেটবোর্ড!
‎
‎ফ্লোরা বিরক্ত হয়ে বলল,
‎
‎—এগুলো কি রাস্তার মধ্যে চালানোর জিনিস নাকি?
‎
‎তার কথায় সামনের ছেলেটি দ্রুত পিছনে ফিরে তাকাল।
‎
‎লম্বা একটি ছেলে। মুখে স্পষ্ট অস্বস্তির ছাপ। সে তাড়াতাড়ি বলল,
‎
‎—সরি, ভাবি—
‎
‎কথাটা মুখ থেকে বের হতেই ফ্লোরার চোখ বড় হয়ে গেল।
‎
‎—কী বললে?
‎
‎ছেলেটিও যেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে মুহূর্তের মধ্যেই কথাটা শুধরে নিল।
‎
‎—আম… মানে, আপু! আই অ্যাম সরি!
‎
‎ফ্লোরা বড় বড় চোখে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইল। তার এমনিতেই মেজাজ খারাপ। তার ওপর এই ছেলেটা তাকে কী বলে ডাকল? মনের ভেতর ইচ্ছে করছিল ইচ্ছেমতো দু-চারটা কথা শুনিয়ে দিতে। কিন্তু ছেলেটার উদ্বিগ্ন মুখ দেখে শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিল সে। ছেলেটা আবারও চিন্তিত কণ্ঠে বলল,
‎
‎—আপনার কোথাও লাগেনি তো?
‎
‎ফ্লোরা ছোট করে উত্তর দিল,
‎
‎—না। ঠিক আছি।
‎
‎তারপর আর কোনো কথা না বলে খিটখিটে মেজাজ নিয়েই সামনে হাঁটতে শুরু করল সে। আর স্কেটবোর্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা কিছুক্ষণ সেখানেই স্থির হয়ে রইল।
‎তার চোখ তখনও দূরে চলে যাওয়া ফ্লোরার ওপর।
‎
‎মেয়েটি ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। আর ছেলেটা ঠোঁট চেপে দাঁড়িয়ে রইল, যেন একটু আগের ভুল কথাটার কথা মনে পড়তেই নিজের ওপরই বিরক্ত হচ্ছে। 
‎
‎স্কেটবোর্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা কিছুক্ষণ দূরে চলে যাওয়া ফ্লোরার দিকে তাকিয়ে রইল । তারপর ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে স্কেটবোর্ডে পা রাখল সে।
‎
‎—এই মেয়ে তো ভাইয়ের পুরোই অপজিট!
‎
‎নিজের কথাতেই যেন মজা পেল ছেলেটা। মাথা নেড়ে ধীরে ধীরে স্কেটবোর্ড চালিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
‎
‎কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াল ফ্লোরাদের বাসার সামনে। স্কেটবোর্ডটি এক পায়ের পাশে রেখে মাথা উঁচু করে দোতলার দিকে তাকিয়ে রইল সে। মনে হচ্ছিল, কারও জন্য অপেক্ষা করছে।
‎
‎কারও একজনের।
‎
‎
‎
‎
‎সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরেছে ফ্লোরা।
‎
‎এখন সে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে ছড়িয়ে আছে ময়দা, ক্রিম, বিভিন্ন উপকরণ আর কিছু এলোমেলো বাসনপত্র।
‎আজ সে নিজের হাতে কেক বানানোর চেষ্টা করছে। স্ট্রবেরি কেক।নিজের হাতে একটি সুন্দর স্ট্রবেরি কেক বানানো অনেক দিনের স্বপ্ন তার। কিন্তু এতদিনেও সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। তাই আজ আবার নতুন করে চেষ্টা করছে।
‎
‎কিন্তু সমস্যা হলো—
‎
‎এখন পর্যন্ত কেক তৈরির কাজ যতটা সহজ ভেবেছিল, আসলে ততটা সহজ নয়। ঘড়ির দিকে তাকাতেই ফ্লোরার চোখ বড় হয়ে গেল। রাত সাড়ে নয়টা। এতক্ষণ কাজ করতে করতে মাথাটাও যেন ভার হয়ে এসেছে তার। হঠাৎই তার কিছু একটা মনে পড়ল।
‎
‎—ওহ নো!
‎
‎চকলেট! কেকের জন্য চকলেটের প্রয়োজন ছিল। অথচ বাড়িতে চকলেট নেই।
‎
‎দ্রুত নিজের ব্যাগ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ফ্লোরা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল। মেইন রোড দিয়ে গেলে চকলেটের দোকান অনেক দূরে পড়বে। তাই সময় বাঁচাতে সে ছোট একটি গলি দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। গলিটা খুব বেশি অন্ধকার নয়। রাস্তার পাশের আলোয় চারপাশ মোটামুটি দেখা যাচ্ছে।যাওয়ার সময় গলির আশেপাশে কয়েকজন মানুষ ছিল। তাই খুব একটা অস্বস্তি হয়নি তার।চকলেট কিনে ফেরার সময়ও প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল।
‎
‎কিন্তু কিছুদূর আসতেই—
‎
‎ফ্লোরার মনে হলো, চারপাশটা কেমন যেন অস্বাভাবিক শান্ত। সে আশপাশে তাকাল।যাওয়ার সময় যে কয়েকজন মানুষকে দেখেছিল, এখন তাদের কাউকেই দেখা যাচ্ছে না।একজনও না।
‎
‎হঠাৎ—
‎
‎পেছন থেকে একটা শব্দ হলো। ফ্লোরা দ্রুত পিছনে ফিরে তাকাল। কেউ নেই।তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই কেঁপে উঠল।
‎
‎গতকাল আয়াতের সঙ্গে বসে দেখা সেই ভৌতিক সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যেই নিজের ওপর বিরক্ত হলো সে। —উফ! আমি এসব কী ভাবছি!
‎
‎চারপাশে তো আলো রয়েছে। সবকিছুই দেখা যাচ্ছে। তবুও কেন যেন বুকের ভেতর অস্বস্তিটা বাড়ছিল। সে হাঁটার গতি একটু বাড়িয়ে দিল।
‎
‎কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর আবারও তার মনে হলো—
‎
‎কেউ যেন তার পেছনে রয়েছে।
‎
‎ঠিক তখনই—
‎
‎হঠাৎ কেউ পেছন থেকে এসে তার মুখ চেপে ধরল!
‎
‎ফ্লোরার হাত থেকে চকলেটের বাক্সটা মাটিতে পড়ে গেল। সে আতঙ্কে ছটফট করতে লাগল।
‎
‎নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুজন ছেলে। তাদের সঙ্গে একা লড়াই করা তার পক্ষে সহজ নয়। তবুও ফ্লোরা হার মানল না।
‎
‎মুখের ওপর থেকে হাত সরানোর চেষ্টা করতে করতে সে চিৎকার করার চেষ্টা করল—
‎
‎—বাঁচাও!
‎
‎তার কণ্ঠ ঠিকমতো বেরোচ্ছিল না। তবুও সে আবার চেষ্টা করল।
‎
‎—আমাকে ছাড়! তোদেরকে ছাড়তে বলেছি! ছাড় আমাকে!
‎
‎একজন ছেলের মুখে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
‎
‎—বেশ তেজ আছে তো!
‎
‎ভেতরে ভেতরে ভয় পেলেও ফ্লোরা সেটা প্রকাশ করল না। তার চোখ দ্রুত চারপাশে ঘুরতে লাগল। একটা প্রশ্নই তখন তার মাথায় ঘুরছিল—
‎
‎তার বডিগার্ড কোথায়?কোথায় গেল তারা? আজ তো সারাদিনই তাকে অনুসরণ করছিল! তাহলে এখন? এখন কেন কেউ নেই? এক মুহূর্তের জন্য সে অমনোযোগী হয়ে পড়তেই তার পায়ে আঘাত লাগল।
‎
‎—আহ!
‎
‎মৃদু আর্তনাদ করে মাটিতে বসে পড়ল ফ্লোরা। ব্যথায় তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল।
‎নিজের বাড়ির এত কাছাকাছি এমন কিছু ঘটবে—সে কখনো ভাবেনি।
‎
‎একজন ফ্লোরার চুলগুলো শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরে তাকে দমিয়ে ফেলার চেষ্টা করল। এতটাই শক্ত ছিল সেই টান যে, তার মনে হচ্ছিল—মাথার সমস্ত চুল বুঝি একসঙ্গে উপড়ে বেরিয়ে আসবে।  ফ্লোরার বুকের ভেতরটা ভয়ে কেঁপে উঠল। টেনে তাকে মাটিতে শুইয়ে ফেলা হলো । সে বুঝতে পারছিল—
‎
‎পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠছে। কিন্তু ফ্লোরা হার মানার মেয়ে নয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করবে সে। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে হঠাৎ সাহস করে সে নিজের হাত বাড়িয়ে দিল। তার দিকে ছুটে আসা  ছেলেটার চোখের দিকে আঘাত করতেই—
‎
‎—আআআহ!
‎
‎ব্যথায় চিৎকার করে উঠল ছেলেটা। সে পিছিয়ে গেল এবং চোখ চেপে ধরল।তার চিৎকার শুনে আশপাশে লুকিয়ে থাকা আরও দুজন বেরিয়ে এল।একজন আহত ছেলেটাকে ধরে বলল,
‎
‎—একটা মেয়েকে সামলাতে পারোস না? দেখ, কী অবস্থা করে দিল!
‎
‎আহত ছেলেটার চোখ থেকে রক্ত পড়ছিল। সে ক্ষিপ্ত হয়ে ফ্লোরার দিকে তাকাল। এদিকে বাকি দুজন আবার ফ্লোরাকে শক্ত করে আটকে ফেলল।
‎
‎ফ্লোরা প্রচণ্ড রাগে এবং ভয়ে কাঁপছিল। কিন্তু তবুও মাথা নিচু করল না। সে রাগে চিৎকার করে উঠল,
‎
‎—তোদের ঘরে মা-বোন নেই? এত সাহস কোথা থেকে আসে তোদের!
‎
‎কথা শেষ হওয়ার আগেই—
‎
‎ঠাস!
‎
‎একটা জোরালো চড় পড়ল তার গালে। ফ্লোরার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।চোখের সামনে সবকিছু কেমন যেন ঘুরতে শুরু করল। তবুও সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল । না। সে অজ্ঞান হতে পারবে না। কোনোভাবেই না।নিজেকে বাঁচাতে হবে। সে দুর্বল কণ্ঠে নিজেকেই যেন বলল,
‎
‎—না... আমি...  না...
‎
‎কিন্তু ঠিক তখনই একজন তার গলা শক্ত করে চেপে ধরল। ফ্লোরা শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করল। তার দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। চারপাশের শব্দগুলো ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে লাগল। তার মাথা ঘুরছিল। চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল। সে হাত-পা ছুড়ে নিজেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করল। কিন্তু শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছিল। তার চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছিল। তখন তার কানে একটা কথা ভেসে আসলো ।
‎
‎একজন ছেলে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
‎
‎—এর পর কী করব? শরীরটাকে নিয়ে…? ফেলে দিয়ে আসব ...? নাকি ভোগ করব ? কথাটা বলেই সামান্য হাসলো ছেলেটা । 
‎
‎
‎এই সব কথা এসে শুনতে পাচ্ছে । কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না নিজের জন্য । কিন্তু ধীরে ধীরে আশেপাশের শব্দগুলাও তার কানে পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল ।  ঠিক তখনই—
‎
‎তার মুখের ওপর গরম  তরলের মতো কিছু অনুভূত হলো। ফ্লোরার শরীর কেঁপে উঠল। ভয় আরও তীব্র হয়ে উঠল তার মনে। সে আর কিছু বুঝতে পারছিল না । শুধু অনুভব করছে—
‎
‎চারপাশটা ক্রমশ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। শেষবারের মতো চোখ খুলে রাখার চেষ্টা করল ফ্লোরা। কিন্তু পারল না। ধীরে ধীরে তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল।
‎
‎আর তারপর—
‎
‎সবকিছু অন্ধকার।
‎
‎
‎চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন