--- ভাইয়া উতো। আইচতিরিম তাবো। আইচতিরিম এনে দাও।
বিছানায় শুয়ে থাকা ১৩ বছরের শেহযানের উদ্দেশ্যে উক্ত কথাটি বলল ছোট্ট প্রাণেশা। ও ডাকার পরও শেহযান চোখ দুটো বন্ধ করে রেখেছে দেখে প্রাণেশা রসগোল্লার মতো মুখ ফোলাল। এরপর আরেকটু কাছে গিয়ে ও ওর ছোট্ট ছোট্ট তুলতুলে হাত দিয়ে শেহযানের ডান হাতে টুকটুক করে কাতুকুতু দিল। বাচ্চা মেয়েটা এমন কাতুকুতু দিলো যে শেহযানের ঘুম ভাঙবে তো দূর, ও একটুখানি নড়লোও না পর্যন্ত!
প্রাণেশা ভাবুক হলো। এগিয়ে এসে বিছানা ঘেঁষে দাঁড়াল। প্রথমে দুই হাতে বেডশিটের কোণ শক্ত করে আঁকড়ে ধরল, যেন পাহাড়ে চড়তে যাচ্ছে ও। বেডটা উঁচুতে হওয়ায় প্রথম চেষ্টায় এক পা বেডের ওপর তুলতে গিয়েই ও পিছলে ফ্লোরে পড়ে গেল। তবে দমবার পাত্রী ও নয়। নতুন উদ্যমে আবার শুরু করল। আপ্রাণ চেষ্টা করে একপর্যায়ে পেটটা বিছানার ওপর চ্যাপ্টা করে ফেলে দিল ও। হাত দুটো দিয়ে বেডশিট টেনে ডাঙায় ওঠা মাছের মতো ছটফট করে দুই পা-ই বিছানায় তুলে ফেলল।
শেহযান তখনো নিদ্রারাজ্যে। ওর থেকে কোনোরূপ সাড়া না পেয়ে পুনরায় প্রাণেশা ডাকল,
--- আদু ভাই, আদু ভাই! আইচতিরিম এনে দাও।
বলতে বলতেই ও শেহযানের পেটের ওপর গিয়ে বসল। তারপর আর দেরি নেই। শেহযানের মুখের ভেতর নিজের তুলতুলে তর্জনী আঙুলটা ঢুকিয়ে দিল। খিলখিল করে হেসে উঠল ও। যেন বিশাল কোনো কেল্লা ফতে করে ফেলেছে ও। এটা ওর নিত্যদিনের অভ্যাস। আদ্রিক প্রাণেশার মামাতো ভাই, যাকে সবাই আদর করে ‘আদ্র’ বলে ডাকে। সে-ও তাকে আদ্র ভাই বলেই ডাকতে চায়, তবে বয়সটা ছোট বলে উচ্চারণে বড্ড গোলমাল হয়ে যায়। ‘আদ্র ভাই’ তার আধো-আধো মুখে রূপ নেয় ‘আদু ভাই’-এ। রোজ সকালে প্রাণেশা এভাবেই আদ্রিককে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। আজও তার ব্যতিক্রম নেই। আদ্রিক ভেবে শেহযানকেই ও জাগাতে এসেছে। খিলখিল করে হাসতে হাসতেই নিজের কাজ করতে ব্যস্ত হলো ও।
শেহযান ঘুমের মধ্যেই চরম বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল। সকালবেলা ওর মিষ্টি ঘুমটা ভেঙে দিতে কোন পাজির আগমন ঘটল, ও প্রথমটায় বুঝতে পারছিল না। খানিক পর মুখের ভেতরে নরম কিছুর স্পর্শ পেতেই তড়াক করে চোখ মেলে তাকাল শেহযান। ওর পেটের ওপর ছোট একটা তুলতুলে খরগোশছানা বসে আছে!
ছানাটির গুলুমুলু ফর্সা মুখ, আসমানি-নীলাভ দুটো চোখ। গাল দুটো পিঙ্ক পিঙ্ক। পিঠ পেরিয়ে যাওয়া চুলগুলো দুদিকে ছোট্ট দুটো পনিটেল করে বাঁধা। একটার ফিতা খুলে গেছে, তাই সেটা কাত হয়ে আছে। পরনে সাদা রঙের বেবিগাউন।
বার্বিডলের মতো বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে শেহযান ক্ষণেকের জন্য হাঁ করে রইল। মেয়েটি কিন্তু তখনও খিলখিলিয়ে হাসছে আর নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ করেই শেহযানের মস্তিষ্ক সজাগ হলো। মুখের ভেতর বাচ্চাটার হাত দেখতেই একহাতে ওকে কোমর ধরে তুলে নিয়ে খরগোশছানার মতোই কম্ফোরটারের উপর বসিয়ে দিল ও। নিজে ধড়ফড় করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। রাগী দৃষ্টিতে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে বলল,
--- হোয়াট রাবিশ! ইউ! আমার মুখের ভেতর হাত ঢোকাচ্ছ কেন? ইয়াক!
বাচ্চাটি চোখ বড় করে তাকিয়ে অমায়িক গলায় বলল,
--- তুমি আমাল আদু ভাই না?(তুমি আমাল আদু ভাই না?)। আদু ভাই বতে না (আদু ভাই বকে না)।
‘আদু ভাই!’ শেহযানের চোখ কপালে উঠল। ও ‘আদু ভাই’ হতে যাবে কেন? ও কি ওই বিখ্যাত গল্পের আদু ভাইয়ের মতো ফেল্টুস নাকি? এক ক্লাসে সাতবার ফেল মেরে বসে আছে? ও তো স্কুলের অলটাইম ক্লাস টপার! এই পুচকিটা ওকে আদু ভাই বলে ডাকছে কেন? ওকে কি দেখতে ফেল্টুসের মতো লাগে? কী সাংঘাতিক ব্যাপার! এই পুঁচকে মেয়েকে এখনই সত্যটা জানানো দরকার। জানিয়ে দেওয়া দরকার যে শেহযান মিহান চৌধুরী আদু ভাই নয়, ও হচ্ছে ক্লাসের সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ফার্স্ট বয়। এমনকি জেলাভিত্তিক পরীক্ষাতেও ও প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
ভাবতে ভাবতেই শেহযান মেজাজ কিঞ্চিৎ চড়িয়ে প্রশ্ন করল,
--- এই পিচ্চি! কে তুমি? আর আমার ঘরেই বা কী করছ?
মেয়েটি চট করে গাল ফুলিয়ে জবাব দিলো,
--- আমি পিত্তি নই, আমাল নাম আতে!
বাপ রে! এই দেড় ফুট বাচ্চার কি রাগ! কেমন বড়দের মতো করে তেজী কণ্ঠে বলছে, আমি পিচ্চি নই, আমার নাম আছে। আবার গালও ফোলাচ্ছে! ও বাবা! এই পিচ্চি তো আস্ত একটা মিনি অ্যাংরি বার্ড। হু!
দু’গালে হাওয়া ভরে মুখটা রসমালাইয়ের মতো করে রেখেছে প্রাণেশা। ও বুঝতে পারছে না এই নতুন ভাইয়াটা ওকে বকা দিচ্ছে কেন? গোলগোল চোখ দিয়ে ও দেখছে শেহযানকে।
ওর কান্ডকারখানা নীরবে দেখে গেল শেহযান। তারপর ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
--- তা কী নাম তোমার?
তৎক্ষণাৎ বাচ্চাটি উত্তর দিলো,
--- আমাল নাম পান (আমার নাম প্রাণ)।
--- হোয়াট?
‘পান’ আবার কোনো মানুষের নাম হয় নাকি? এমন আজব নাম শেহযান ইহজীবনে শোনেনি। চোখ-মুখ কুঁচকে আসে শেহযানের। দাদুমণিকে সবুজ রঙের একধরণের পাতা চিবোতে দেখেছে ও, যা খেলে ঠোঁট লাল হয়ে যায় সেটার নাম নাকি পান! ও তো এযাবৎকাল সেটাই জেনে এসেছে। কিন্তু এই খরগোশছানার মতো পুচকি মেয়েটার নাম ‘পান’ হতে যাবে কেন? ও তো দেখতে সবুজ পাতার মতো নয়! বিরক্তিতে শেহযানের নাকটা আপনাতেই কুঁচকে এল। ও আবারও বিরক্তি নিয়ে শুধাল,
--- কী পচা একটা নাম! ইয়াক!
শেহযানের এহেন মন্তব্য শুনে বাচ্চা মেয়েটির কান্না পেয়ে গেল। আসমানি-নীলাভ চোখ দুটোয় জল টলমল করছে পুঁচকেটার। ওর নাম কত সুন্দর। বাবাই, মাম্মাম, মিম্মি, মামা-ওয়েফার, আদু ভাই, লিহান ভাই ওরা সবাই বলে প্রাণেশার নাম হচ্ছে ওয়ার্ল্ডের বেস্ট নাম। আর এই নতুন ভাইয়াটা বলছে ওর নাম পচা! প্রাণেশার ঠোঁট দুটো উল্টে এলো। ও ভ্যা ভ্যা করে বলল,
--- তুমি পতা (তুমি পচা)। আমাল নাম চুন্দল (আমার নাম সুন্দর)।
বলতে বলতেই ফুঁপিয়ে উঠল ও। শেহযান ভড়কে গেল বাচ্চাটার এহেন কান্ডে। আরে ও কি এমন করল? বাচ্চাটা এমন ঠোঁট ভেঙে কেঁদে ফেলছে কেন? এ তো মহা মুশকিলে পড়া গেল! শেহযান অপ্রস্তুত হয়ে শোধাল,
--- হেই লিটলগার্ল, কাঁদছো কেন?
--- তুমি বতা (বকা) দিয়েচো তেনো?
শেহযান বিড়বিড় করছে, বতা আবার কি? ওদিকে প্রাণেশার কান্নার বেগ বেড়ে যাচ্ছে। শেহযান কি করবে বুঝতে পারছে না। ওর বাচ্চা মোটেও পছন্দ না। ওর মতে, ‘বাচ্চা’ এর চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছু পৃথিবীতে নেই।। ও ছোটবেলা থেকেই গম্ভীর স্বভাবের ছেলে। চৌধুরী বাড়ির ছোট ছেলে হলেও ওর মধ্যে বড়দের মতো একটা ভাব আছে। ও একেবারে ওর দাদুভাইয়ের মতো হয়েছে। প্রয়োজন ব্যতীত অযথা কারো সাথে কোনো কথা বলে না। এই পুঁচকে মেয়েটা কে? কোথা থেকে এলো? আর কেনোই বা শেহযানের ঘরে এসেছে সেসবের কিছুই শেহযান জানে না।
বাচ্চাটা ঠোঁট উল্টে কাঁদছে। টেডিবিয়ারের ন্যায় চোখ দুটো দিয়ে টুপটুপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ও আবার মুছে নিচ্ছে গড়িয়ে পড়া জলটুকু। শেহযানের পানে ছলছল নেত্রে তাকিয়ে ফুঁপাচ্ছে অনবরত।
আজ প্রথমবারের মতো গম্ভীর স্বভাবের শেহযান কোনো বাচ্চার কান্না দেখে বুকের মাঝে চিনচিন ব্যথা অনুভব করল। বেয়াদব হৃদপিণ্ডটা বাচ্চাটার কান্না সহ্য করতে পারছে না, কেমন মোচড় দিচ্ছে। শেহযান ওকে শান্ত করতে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে নরম স্বরে বলল,
--- স্যরি বেবিডল, আর তোমাকে বকবো না। হুস, কান্না বন্ধ করো। আর কেঁদো না, প্লিজ!
প্রাণেশা কিছুটা শান্ত হলো। তবে ফুঁপানো থামল না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল,
--- আল বতবে?( আর বকবে?)।
শেহযান তৎক্ষণাৎ মাথা নেড়ে বলল,
--- উহুঁ।
কান্নার মধ্যেই চেরির ন্যায় ঠোঁট এলিয়ে হাসি দিল প্রাণেশা। শেহযান স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল,
--- এবার বলো তোমার নাম কী?
--- পানেশা।
শেহযান বিড়বিড় করে বলল,
--- পানেশা আবার কেমন নাম?
কথাটা বিড়বিড় করে বললেও প্রাণেশা শুনতে পেল। ও গর্বিত গলায় বলে ওঠল,
--- বুটিফুল নাম (বিউটিফুল নাম)।
বুটিফুল শব্দটা শুনে কেন যেন হাসি পেল শেহযানের। শোধাল,
--- আর ইউ ট্রায়িং টু সে ‘প্রাণেশা’? আই মিন তুমি কি প্রাণেশা?
ছোট্ট প্রাণেশা সঙ্গে সঙ্গে মাথা দুলিয়ে বলল,
--- হুঁ হুঁ, পানেশা।
শেহযান পুনরায় জিজ্ঞেস করল,
--- লিসেন বেবিডল, হোয়াট’স ইওর ফুল নেম? আই মিন, তোমার পুরো নাম কী?
প্রাণেশা ফোকলা দাঁত বের করে উত্তর দিল,
--- পানেশা নূলাইন চোউদুলি। (প্রাণেশা নূরাইন চৌধুরী)।
ভ্রু কুঁচকে এলো শেহযানের। ওর সারনেম ‘চৌধুরী’ কিভাবে হয়? ও কি চৌধুরী বাড়ির কেউ হয়? শেহযান তো এই বাচ্চাটাকে আগে কখনো দেখেনি! কে ও?
প্রাণেশা হাতে থাকা ওর টেডিবিয়ারটা বুকে চেপে নানান অঙ্গভঙ্গি করছে। মাঝে মাঝে ঠোঁট পাউট করে টেডিতে অদৃশ্য চুমু খাচ্ছে। শেহযান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে গেল শুধু।
আচমকা শেহযান প্রাণেশার দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,
--- হেই, আমার ঘরে কিভাবে এসেছো তুমি?
--- হেতে হেতে (হেঁটে হেঁটে)।
থতমত খেয়ে গেল শেহযান। কি সাংঘাতিক বাচ্চা রে বাবা! প্রাণেশা ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশে চোখ মেলে দেখল। অচেনা সব জিনিসপত্র, বইখাতা আর এত্ত এত্ত ট্রফি ছাড়া সেখানে ওর কাঙ্ক্ষিত মানুষকে দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ করেই ওর মনে পড়ে গেল আসল কাজের কথা। ঠোঁট দুটো আবার ফুলিয়ে উঠে চোখের কোণে জল জমা করে ও কেঁদে ওঠার ঢঙে বলে উঠল,
--- আমাল আদু ভাই তই? আদু ভাই। আদু ভাই।
সবেমাত্র শান্ত হওয়া বাচ্চাটাকে আবার ‘আদু ভাই’ বলে চেঁচাতে দেখে শেহযানের সহ্যের বাঁধ ভেঙে গেল। এতক্ষণ ধরে এত মিষ্টি করে কথা বলার পরও মেয়েটি আবার সেই একই ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে চলেছে! মেজাজটা একলহমায় চড়ে গেল শেহযানের। ও ভ্রু জোড়া কুঁচকে কড়া গলায় ধমক দিয়ে উঠল,
--- স্টপ ইট। কতবার বলবো আমি তোমার আদু ভাই নই? আবার সেই শুরু করেছ? সাইলেন্স।
শেহযানের আচমকা কড়া ধমকে ছোট্ট প্রাণেশা থমকে গেল। ভয়ে ওর চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠল। পরক্ষণেই ও ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল। এবার আর কেবল চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে না, রীতিমতো গলা ছেড়ে কান্না জুড়ে দিল বাচ্চাটা।
শেহযান এবারে আরও মহা বিপদে পড়ে গেল। প্রাণেশার কান্নার আওয়াজে ওর কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। ও অস্থির হয়ে দরজার দিকে মুখ করে চিৎকার করে ডাকতে লাগল,
--- আম্মি। আম্মি, জলদি এসো। আমার ঘরে এটা কে ঢোকে বসে আছে? এটাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাও। স্টুপিড।
শেহযানের চিৎকার আর বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে তড়িঘড়ি করে ড্রইং রুম থেকে ছুটে এলেন শেহযানের আম্মু সাইমা চৌধুরী। দরজা ঠেলে রুমের ভেতরে প্রবেশ করলেন। উনার এক হাতে আইসক্রিমের আস্ত একটা বক্স। যেটা প্রাণেশার জন্যই আনানো হয়েছে। ব্যস্ত পায়ে ঘরে ঢুকেই দ্রুত এগিয়ে এসে বিছানা থেকে প্রাণেশাকে কোলে তুলে নিলেন তিনি। ওকে হেলেদুলে দোল খাওয়াতে খাওয়াতে আদুরে গলায় বললেন,
--- কী হয়েছে আম্মাজান? কাঁদছ কেন মা? কে আমার মিষ্টি সোনাটাকে কাঁদাচ্ছে, অ্যাঁ? কার এত সাহস?
প্রাণেশা শেহযানের আম্মুর গলা জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে মুখ লুকাল। তারপর ফোঁপাতে ফোঁপাতে শেহযানের দিকে ছোট্ট আঙুল তুলে ঠোঁট উল্টে অভিযোগের সুরে বলল,
--- ও বতা (বকা) দিয়েচে। ও পতা (পচা)।
শেহযানের আম্মু প্রাণেশার ডান গালে চুমু এঁকে শান্ত স্বরে বললেন,
--- না মা এরকম বলতে নেই। ও তোমার ভাইয়া হয় সোনা মা। তোমার শেহযান ভাইয়া।
পরপরই উনি ছেলেকে উদ্দেশ্য করে শাসনের সুরে বললেন,
--- শেহযান, বোনকে বকেছ কেন তুমি? ছোটদের সঙ্গে কেউ এভাবে কথা বলে? আর বকবে না ওকে। মনে থাকে যেন।
শেহযান হাঁ করে ওর আম্মুর দিকে তাকিয়ে রইল। যেই মেয়েটা সকাল সকাল ওর মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে, ওর ঘুমটা ভেঙে দিয়েছে তাকেই নাকি এখন উল্টো আদর দেওয়া হচ্ছে!
শেহযানের আম্মু আর কথা না বাড়িয়ে হাতের আইসক্রিমের বক্সটার ঢাকনা খুললেন। চামচ সরিয়ে আইসক্রিমের বক্সটাই প্রাণেশার ছোট্ট হাত দুটোর ওপর ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
--- এই নাও মা, তোমার আইসক্রিম। আর কেঁদো না, কেমন?
আইসক্রিমের বক্সটা হাতে পেতেই প্রাণেশার চোখ থেকে কান্না যেন জাদুর মতো হাওয়া হয়ে গেল। ফোঁপানো থামিয়ে ও কৌতূহল নিয়ে আইসক্রিম বাক্সের দিকে তাকাল। চামচ দিয়ে খাওয়ার কোনো আগ্রহই তার নেই, সোজা পুরো মুখে আইসক্রিমের বাক্সে গুঁজে দিল। আইসক্রিমের ঠাণ্ডা মিষ্টি ক্রিমে ওর ফোলা ফোলা গাল, নাক আর চিবুক একাকার হয়ে যেতে লাগল।
এই দৃশ্য দেখে শেহযানের মুখটা থ হয়ে গেল। নাক কুঁচকে মনে মনে ভাবল, কী পচা বাচ্চা রে বাবা! আইসক্রিম এভাবে কেউ খায়?
প্রাণেশার সেদিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। ও চেটে চেটে আইসক্রিম খেতে ব্যস্ত। চকলেট আর ভ্যানিলার স্বাদে ও এতটাই বিভোর যে একপর্যায়ে বলে উঠল,
--- বুটিফুল।
আইসক্রিম খেতে গিয়ে ‘বুটিফুল’ শব্দটা শুনে শেহযানের আম্মু হেসেই কূল পেলেন না। কিন্তু শেহযান চোখ কপালে তুলে দাঁড়িয়ে রইল। আইসক্রিম নাকি বিউটিফুল!
…চলবে…
# আত্মার টান
#সামিয়া
#সূচনা_পর্ব