ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছদ্মবেশ

১২তম পর্ব

লেখক: মেহেদী হাসান রিয়াদ

#ছদ্মবেশ (পর্ব ১২)

#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ 
ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙে রুশানের। ঘুমু ঘুমু চোখে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে ভালো করে তাকিয়ে দেখে আরিশা আন্টির ফোন। ফোন রিসিভ করে রুশান বলে,
 "আসসালামু আলাইকুম, আন্টি।"
আরিশা আন্টি ওপাশ থেকে সালামের উত্তর নিয়ে বলে,
 "রিমির সাথে কি করেছিলে গতকাল? হঠাৎ করে ও এত ভদ্র হয়ে গেছে কিভাবে?"
ঘুম কাতুর চোখেও হাসি আসলো রুশানের। হাসি দমিয়ে রেখে আন্টিকে বলে,
 "কই কিছুই তো করিনি আন্টি। ওকে শুধু একটু বোঝালাম, যে এসব ভালো না। ঠিকঠাকভাবে চলতে। এই আর কি।"
আরিশা আন্টি একটু ভেবে বললো,
 "কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে না ওর মতো মেয়েকে কিছু বুঝিয়ে লাভ হবে বলে। তুমি নিশ্চই কোনো পানিশমেন্ট দিয়েছো বা কোনো প্যাঁচের মধ্যে ফেলেছো। নাহলে ওর মতো মেয়ে এত সহজে সোজা হওয়ার কথা না।"
রুশান একটু হেসে বললো,
 "সে কোথায় আন্টি?"
 "উঠে পড়তে বসেছে এখন।"
 "আচ্ছা পড়ুক, তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। খেয়েছে কিছু?"
 "না এখন নাস্তা তৈরি শেষ হয়নি।"
 "আচ্ছা।"
.
.
কিছুক্ষণ পর ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে সবাই। নিবিড় রেডি হয়ে রাজের রুমে এসে বসলো। মুখে হাসি নিয়ে বলে,
 "ইদানিং দেখি অরিনের সাথে খুব ভাব জমেছে তোমার। দুজন দুজনকে ছাড়া কিছুই বুঝোনা। লুকিয়ে প্রেম করছো নাকি দু'জন।"
নিবিড়ের কথায় লজ্জা মাখা মুখে রাজ বলে,
 "আরে ওসব কিছু না। আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড।"
 "থাক ভাই, আমার কাছে অন্তত মিথ্যা বলতে হবে না। মেয়ে ফ্রেন্ড তো আমাদেরও আছে। কই আমরা তো এমন একটার সাথে আরেকটা আঠার মতো লেগে থাকি না?"
রাজ এবার উত্তর দেওয়ার মতো কিছুই খুঁজে পেলো না। রাজের নীরবতা দেখে নিবিড় আবার বলে,
 "আচ্ছা অরিন মেয়েটা তো অনেক ভাবওয়ালি ছিলো। তাকে কিভাবে পটিয়ে নিলে ভাই?"
রাজ এবার দুই হাত কোমরে রেখে হেসে বলে,
 "আরে ভাই, পটালাম কই? আর আমার মতো এমন ক্ষেত টাইপের ছেলেকে কি কোনো মেয়ে পছন্দ করবে, বলো?"
নিবিড় উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
 "শুনো, কিছু ভালোবাসা দিক দেখে হয় না। হঠাৎই হয়ে যায়। আমার মনে হয় ওই মেয়েও তোমার উপর ফিদা। তাই এমন লেগে থাকে সারাক্ষণ। তুমিও ঝুলে পড়ো, দেখবে জীবনটা রঙিন হয়ে উঠবে।"
রাজ একটু লজ্জা পেলেও তা প্রকাশ করলো না। অন্য দিকে ফিরে জামা পরতে পরতে বলে,
 "ভাই বাদ দাও তো ওসব। দেরি হয়ে যাচ্ছে চলো।"
.
.
এদের ফ্রেন্ডস মহলের আড়ালেও আরেকটা গল্প আছে। ছেলে হারানো এক মায়ের গল্প। যে প্রতি বারের মতো আজও সেই ছোট্ট ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছে।
আবরার রুমে এসে দেখে খাটের এক পাশে বসে সেই ছোট্ট ফাহাদের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছে ফারহা। ছবিটায় কি সুন্দর হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে সেই ছোট্ট ফাহাদ।
বিশ বছর হয়ে গেলো আজ। তবুও সেদিনের পর আর একটা নজরের জন্যও দেখেনি ছেলেকে। কারা নিয়ে গেছে বা কোথায় হারিয়ে গেছে তা কিছুই জানে না। থানা পুলিশ অনেক কিছু করেও খুঁজে পেলো না তাদের ছেলেকে।
সেই ঘটনার বিশ বছর পার হয়ে গেলো। হয়তো সেই ছোট্ট ফাহাদ আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। নয়তো আকাশের তারা হয়ে গেছে অনেক আগেই।
ফারহাকে দুই হাতে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো আবরার। সন্তান হারানো একজন মাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা তার জানা নেই। সেও তো বাবা। কষ্ট তো তারও হয়।
ফারহা আবরারের বুকে মাথা রাখা অবস্থায় বলে,
 "আমার ফাহাদ একদিন ঠিকই ফিরে আসবে।"
তবে কে সেই ছোট বেলায় হারিয়ে যাওয়া ফাহাদ? রাজ, রুশান, নিবিড়, তুষার, নিলয় এদের ফ্রেন্ডস মহলেও কেউ নয় তো? নাকি সেও জড়িয়ে আছে নির্জনের সেই অন্ধকার জগতের মাঝে।
.
.
আজও ভার্সিটি যায়নি তুষার। রেস্টুরেন্টের টেবিল মুছতে মুছতে খেয়াল করে ফোনটা ভাইব্রেট হচ্ছে। কেউ হয়তো ফোন দিয়েছে। ম্যানেজারের থেকে একটু অনুমতি নিয়ে সাইডে গেলো সে। দেখে বাড়ি থেকে ফোন। কল ব্যাক করলে তার ছোট বোন ফোন রিসিভ করে। আর বলে,
 "মায়ের ওষুধ শেষ ভাইয়া। ওষুধ কিনতে হবে। তার জন্য কিছু টাকা লাগবে।"
মায়ের অনেক ওষুধ একসাথে কিনতে হয়। তাই টাকা পয়সাও কম লাগে না। আর মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেক দিন ধরেই এখানে ওখানে কাজ করে টাকা জমাচ্ছে সে। ছোট বোনকে বলে,
 "আচ্ছা চিন্তা করিস না। আমি বিকালের মাঝেই ম্যানেজ করে টাকা পাঠিয়ে দিবো। আর মাকে একটু ফোনটা দিবি, দুই মিনিট কথা বলি।"
তুষারের ছোট বোন দৌড়ে মায়ের কাছে ফোনটা নিয়ে গেলো। তুষার এক মিনিট কথা বলতেই ম্যানেজার এসে গালাগাল শুরু করলো তাকে। কাস্টমার সব বসে আছে আর সে আসছে এখানে ফোনালাপ করতে। তুষার একটু রগচটা স্বভাবের হলেও এখন সবই সহ্য করতে হচ্ছে তাকে। মাঝে মাঝে নিজের রাগ সামলে রাখার জন্য হলেও কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকে সে। কারণ এখনো অনেক টাকা জমানো বাকি।
.
.
কলেজে আসার পর অরিন দৌড়ে এসে রাজকে আলাদা করে এক পাশে নিয়ে চলে গেলো। কারণ তার কিছু হোমওয়ার্ক বাকি ছিলো। প্রাইভেট ভার্সিটি দেখে রেগুলার পড়ার প্রতি গুরুত্বটা বেশি থাকে সব সময়ই।রাজকে এভাবে নিয়ে যাওয়ায় নিবিড় চুপচাপ দাঁড়িয়ে একটু হেসে গুন গুন করে বলে,
 "পিরিতি কাঠালের আটা, লাগলে পরে ছাড়েনা,,,,,"
তখনই নিলয় পেছন থেকে নিবিড়কে ডেকে বলে,
 "দেখ ওই মেয়েটা গতকাল আমাকে চিঠি দিয়েছিলো।"
নিবিড় হেসে বলে,
 "তোর মতো আবুলকেও মেয়েরা চিঠি দেয়? বাহ্, দারুণ তো।"
 "আরে বাল, আমার জন্য না। তুষারের জন্য দিয়েছিলো। তুষারকে মনে হয় পছন্দ করে।"
নিবিড় হেসে বলে,
 "আরে ভাই, এটা তো গুড নিউজ। ফেইক আইডির সাথে রিলেশন করে যা তা অবস্থা করেছিলো এর আগে। এখন রিয়েলটা জুটলেই হয়।"
নিলয় বলে,
 "কিন্তু দোস্ত আমি তো একটা আকাম করে ফেলেছিলাম তখন।"
 "কি?"
 "তুষার যে একটা মেয়ের সাথে টাংকি মারতে গিয়ে মার খেয়ে এসেছিলো, এটা আমি ওই মেয়েকে বলে দিয়েছিলাম। এর পর সে আবার চিঠিটা নিয়ে নিলো। আর বললো, সালার লুইচ্চার দল।"
নিবিড় এবার কোমরে হাত দিয়ে বলে,
 "তুই সালা সব সময় ওই তুষারকেই বাশ দেস। তুষার যদি কখনো এসব জানতে পারে, তোর কপালে কি আছে তা তুইও জানিস না।"
.
.
রাত তখন মোটামুটি গভির বলা চলে। ঐদিন লোকগুলো ধরে আনার পর থেকেই অত্যাচার করে চলছে। কিন্তু এখনো মুখ খুলতে পারেনি তাদের। গা বেয়ে কয়েক ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে মেঝেতে আছড়ে পড়লো। তবুও টু শব্দ করছে না তারা।
রুশানও কম নয়। ইশারা দিতেই একজন লোক এসে একটা প্লেট রেখে গেলো। যেটাতে ছিলো ছোট ছোট অনেক কাচের গুঁড়ো। কেউ মুঠোয় নিয়ে চাপ দিলে টপ টপ করে রক্ত গড়িয়ে পড়বে এমন।
রুশান তাদের তিনজনের সামনে মুখ নিয়ে বলে,
 "তোদের আগেও এখানে কয়েকজন এসেছে। কেউই বেঁচে বের হতে পারেনি এখান থেকে। এখন তোদেরকেও সেই দুইটা অপশন দিচ্ছি।
অপশন নাম্বার ১ঃ যা যা জানতে চাইছি সকল তথ্য দিয়ে আমাদের হেল্প করবি আর শত শত মানুষের জীবন বাঁচবে এতে। আর তোরা মুক্তি পেয়ে যাবি।
অপশন নাম্বার ২ঃ সামনে থাকা এই কাচের গুঁড়ো গুলো এখন খেতে হবে তোদের। এগুলো খাবি আর মৃত্যুর যন্ত্রণায় কাতরাবি। এখন অপশন বেছে নেওয়ার দায়িত্ব তোদের। এক মিনিট সময় দিলাম ৩ জনকে।"
এক মিনিট পার হলো, দুই মিনিট পার হলো, তিন মিনিট পার হয়ে গেলো। এখনো কেউই মুখ খোলেনি একটুও। রুশান রাগে টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে যায়। আর ইশারা করলেই কয়েকজন এগিয়ে এসে ওই তিনজনের মাঝে একজনকে খুলে নেয়।
আর বাকি দুজনের সামনে গাল টিপে হাঁ করিয়ে কাচের গুঁড়ো গুলো খাওয়াতে লাগলো। লোকটা ছটফট করছে। আর বাকি দুজন তাকিয়ে আছে তার দিকে।
তাকে খাওয়ানোর পর ছেড়ে দিতেই মেঝেতে পড়ে ধাপড়াতে লাগলো সে। গাল দিয়ে পাইপের মতো রক্ত বের হতে লাগলো। যেই রক্তে ফ্লোরে ভেসে তা লাল রং ধারণ করেছে। রুশান এবার বাকি দুই জনের দিকে তাকালে দেখে তারা এখনো নিশ্চুপ। রুশান কপালে হাত দিয়ে বলে,
 "তোরা কি মাটির তৈরি ভাই? জীবন চলে যাচ্ছে তোদের। আর তোদের বসের তো এতে একটুও ক্ষতি হবে না। যা যাচ্ছে তোদেরই যাচ্ছে। তাহলে কেন ওর জন্য নিজেদেরকে এভাবে বলি দিচ্ছিস তোরা? আরে নিজের ভালো তো পাগলেও বুঝে। কিছুক্ষণ পর তোদের অবস্থাও এর মতো হবে। ভয় করছে না একটুও?"
লোক দুটো এখনো চুপ করে বসে আছে পাথরের ন্যায়।
To be continued...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন