ফন্ট সাইজ:
থিম:
হিয়া জ্বলে পিয়ার দরদে

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: নুসরাত জাহান ইভা

যারা নাইকার ন্যাকামি পছন্দ করেন এই গল্প তাদের জন্য না।

জনরা - রোমান্টিক,, সাইকো,,থ্রিলার।

#হিয়া_জ্বলে_পিয়ার_দরদে

#নুসরাত_জাহান_ইভা

#পর্ব_৬

মেহেক একটা ক্যাফেতে বসে আছে। কফির কাপে কিছুক্ষণ পর পর চুমুক দিচ্ছে আর বাইরের পরিবেশ উপভোগ করছে। হঠাৎ একটা পুরুষালী আওয়াজে মেহেক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়।

- আরে সুহাসিনী যে!!

রায়হান বলতে বলতেই মেহেকের সামনের চেয়ারে বসে পরে।

- একটা সফট ড্রিংক্স প্লিজ।

ওয়েটারকে উদ্দেশ্য করে বলেই আবার মেহেকের দিকে তাকায়৷

মেহেক খেয়াল করে রায়হানকে। তামাটে চেহারাটায় কি যে একটা মায়া কাজ করে!! আজও স্যুটবুট পরনে। তবে উপরে স্যুটটা খুলে হাতে নিয়ে রেখেছে। কালো ফর্মাল শার্ট আর প্যান্টে রায়হানকে সুন্দর লাগছে। চোখে কালো সানগ্লাস হাতে কালো ঘড়ি৷ মাশা আল্লাহ!!

মেহেক বিড়বিড় করে বলেই ফেললো। রায়হান হাসলো একটু। মেহেক তাকালো সেদিকে।

- আমি সুহাসিনী নই।

আপনি বলেছেন দ্বিতীয় বার দেখা হলে আপনার নাম বলবেন। রায়হান হাতে থাকা ড্রিংক্সে ঠোট ছোয়ালো।

- মেহেক সাইনা।

- বাহ সুন্দর নাম ত!!

- স্টক করছিলেন আমায়?

মেহেকের কথায় রায়হান এবার মুচকি হাসলো।

- স্টক করে যদি আপনার দেখা পাওয়া যায় তাহলে নাহয় স্টকই করছিলাম!!

মেহেক বুঝলো এই ছেলে সোজাভাবে কথা বলতে পারে না বা বলবেও না। তাই বেশি ঘাটলো না।

এরপর থেকে বেশ কয়েকবারই মেহেকের সাথে রায়হানের দেখা হয়েছে৷ মেহেকের প্রতি ছিল রায়হানের একটা অন্যরকম টান আর যত্ন। একবার মেহেক আর রায়হান কথা বলতে বলতে হাটছিল হঠাৎ মেহেক একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খায়৷ মেহেক খেয়াল না করলেও রায়হান মেহেককে অন্যপাশে নিয়ে যায়। মেহেকের নজরে আসে তা৷

মেহেক সবসময় ঢিলেঢালা জিন্সের সাথে কুর্তি পরে৷ নিতম্ব ছড়ানো চুলগুলো সবসময় খোলাই রাখে। রায়হান যতবারই মেহেকের সাথে দেখা করতে আসে ততবারই নিজ হাতে পকেট থেকে চুরি বের করে মেহেকের হাতে পরিয়ে দেয়৷

- এত চুরি কোথায় পান আপনি?

- আমি এই পর্যন্ত যত কালারের চুরি আছে এই দেশে তার দুই জোড়া করে কিনে রেখেছি শুধুমাত্র আমার সুহাসিনীকে নিজ হাতে পরিয়ে দিব বলে৷ ভালবাসি মেহেক সাইনা৷ এই রায়হান আহমেদ তোমায় খুব ভালবাসে৷ হবে আমার সুহাসিনী? ভালবাসার চাদরে সবসময় জড়িয়ে রাখব তোমায়। বুক পকেটে রেখে দিব তোমায়। যখন দেখতে ইচ্ছে করবে বের করে দেখব আবার লুকিয়ে রাখব আমার অন্তরের গহীনে।

..............

বারান্দার রেলিঙে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে অতীতের স্মৃতিচারণ করছিল মেহেক।

- রায়হান!! কোথায় তুমি! একবার দেখা দেও। এই অশান্ত মনকে শান্ত করো রায়হান৷ বিরহে পোড়াও,, পানিতে ডোবাও তাও অন্তত একটাবার দেখা দেও,,,দেখা দেও।

মেহেকের চোখ ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। চোখের পানি কপোল ছোয়ার আগেই মেহেক তা মুছে ফেলে।

টিপ টিপ বৃষ্টিতে কি যে ভাল লাগছে

হৃদয়ের কথাগুলো শিষ দিয়ে ডাকছে

গুলা ছেড়ে গান ধরল নিকোলাস৷ শব্দটা ক্রমশই তার দিকে আসছে৷ নিকোলাস বারান্দার সামনে এসে দাড়াল।

মেহেক চোখ দুইটা বন্ধ করে আছে৷ সে দেখতে চায় না নিকোলাসকে৷ তার আগে চোখ দুইটা ঝলসে যাক।

- মিস্ট্রেস!! বারান্দায় কি করছো! তোমার অপেক্ষা করার কথা ছিল বিছানায় বসে আমার জন্য।

নিকোলাসের কথা যেন সুচের মত বিধছে মেহেকের সর্বাঙ্গে। চোখ খুলে নিজেকে শান্ত করে নিল৷ তারপর হঠাৎই নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে নিকোলাসকে থাপ্পড় মারল।

নিকোলাস চোখ দুইটা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে আবার খুললো। মেহেক তাকিয়েই আছে নিকোলাসের দিকে।

- আমার থাপ্পড় মারলে মিস্ট্রেস!! শালার কপাল দেখেছো পুরুষ মানুষ বাসররাতে পায় আদর সোহাগ আর আমি পাই থাপ্পড়!! মিস্ট্রেস প্লিজ এমন করো না৷ আমি ক্লান্ত বড্ড ক্লান্ত৷ প্রিন্সেস থেকে মিস্ট্রেস বানিয়েছি কত কাঠখড় পুড়িয়ে তা তোমার জানা নেই। এখন আসো ত আমায় একটু জড়িয়ে ধরো।

নিকোলাস মেহেকের হাত ধরে৷ মেহেক এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়৷

লজ্জা লাগছে না আপনার!! একটা মেয়েকে এভাবে ঠকাতে!! আপনার সাথে এমন ত কিছু করি নি তাও কেন আমায় এত কষ্ট দিলেন!! কেন আমার ভালবাসাকেই বলি হতে হলো আপনার হাতে!!

- ফাক ইওর ভালবাসা। এসব ভালবাসা ছিল না৷ মোহ ছিল। যদি ভালবাসা থাকতো তাহলে রায়হান তোমার সাথে এরকম করতে পারতো না। অন্তত একটাবারের জন্য হলেও তোমার কাছে কৈফিয়ত চাইতো।

আপনিও রায়হানের জায়গায় থাকলে ঠিক এরকমটাই করতেন মিস্টার নিকোলাস অলদ্রিন।

- নেভার এভার। আমি যাকে ভালবাসি তাকে বিশ্বাসও করি। যেই সম্পর্কে বিশ্বাস নেই সেই সম্পর্ক কেবলই নাম মাত্র। আমি তোমায় ভালবাসি মিস্ট্রেস। প্লিজ ট্রাস্ট মি মিস্ট্রেস! ইউ আর মাই এনটায়ার ওয়ার্ল্ড। ইউ ইউ আর মাই

থামুন আপনি৷ আপনার কথা গুলো বিষের ন্যায় শরীরে তীব্র জ্বালা করছে। আপনি চলে যান সামনে থেকে আপনার উপস্থিতি আমার বিরক্ত লাগছে। দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার।

নিকোলাস এবার মেহেকের দুহাত ঝাপ্টে ধরে৷

- মিস্ট্রেস আমার চোখের দিকে তাকাও।

নিকোলাসের হাস্কিস্বরে মেহেক এবার তার চোখের দিকে তাকালো।

- চোখ নাকি কথা বলে!! চোখ দেখলেই নাকি মানুষ বুঝে চোখের ভাষা। তুমি ত ব্রিলিয়ান্ট!! তুমি দেখো ত একটু ভাল করে। এই চোখে কি দেখতে পারছো মিস্ট্রেস??

- আপনার ধ্বংস।

মেহেক দাতে দাত চেপে সগোক্তি করলো।

- কবুল মিস্ট্রেস কবুল। তাও কবুল।তোমাকে পাওয়ার পথে যদি ধ্বংসও লিখে রাখা থাকে, তবে আমি সেই ধ্বংসস্তূপেই আমার ঘর বাঁধতে রাজি আছি। তাও তুমি শুধু আমারই থাকো।

- আমি আপনাকে শান্তিতে বাচতে দিব না মিস্টার নিকোলাস অলদ্রিন!! জীবনটাকে নরক বানিয়ে দিব। ভালবাসা কতটা বিরহ দেয় তা আমি আপনাকে প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে বুঝাব। একটা সময় আপনি আমার কাছে ভালবাসা ভিক্ষা চাইবেন। আমার ভালবাসা চাইবেন। ভালবাসা না পেতে পেতে আপনার দম আটকিয়ে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মরার উপক্রম হবে তাও আমি এই মেহেক সাইনা আপনাকে কোনোদিন ভালবাসব না৷ যে সব কিছু আপনার পছন্দের সে সব কিছু আমি নিজের হাতে বিনাশ করব।

নিকোলাস হাসলো। তবে ঠোটে ফুটলো না সেই হাসি।

- আমি জানি এ পথে শুধুই বিনাশ, তবুও তোমার দিকেই আমার যাত্রা; কারণ তোমার শূন্যতায় বেঁচে থাকার চেয়ে তোমার পূর্ণতায় শেষ হওয়া অনেক বেশি সুন্দর।

- নিয়ম শব্দটার মানে বুঝেন মিস্টার নিকোলাস অলদ্রিন! অন্যের ভালবাসা কেড়ে নিয়ে নিজে ভালবাসা পেতে চান!! হাসালেন আমায়।

- পৃথিবীর সব নিয়ম ভেঙে চুরমার হয়ে যাক, আমি শুধু তোমার ভালোবাসায় ধূলিসাৎ হতে চাই মিস্ট্রেস।

- তা কখনোই হবে না। এই চোখে কখনো আপনার জন্য ভালবাসা দেখবেন না৷

- না জান না অভিশাপ দিলেও হয়তো মেনে নিতাম, কিন্তু তোমার চোখে আমার জন্য এই অবজ্ঞা সইবার মতো পাথর আমি নই।

- আমি চাইলেই আপনাকে ছেড়ে দিতে পারি। তবে আমি তা করব না। বিরহের অনলে না পোড়ানো পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হবো না। আর এটাই হবে আমার তরফ থেকে আপনাকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

- হয়তো তোমার অধিকার ছিল আমাকে ত্যাগ করার, কিন্তু যে হৃদয়ে কেবল তোমারই নাম লেখা মিস্ট্রেস সেখানে তোমার ঘৃণার আঁচড় সইবার ক্ষমতা বিধাতা আমায় দেননি।

- দিবে বিধাতা। সবকিছুর হিসেব এক এক করে দিবেন।

মেহেক নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়৷

- আর যদি তুমি আমায় ভালবেসে ফেলো!!

- সেদিনই হবে এই পৃথিবীতে আপনার শেষ দিন।

নিকোলাস মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। ঘাড় এপাশ উপাশ করে বুকে হাত বিধে দাড়াল।

- আমিও দেখব আমায় ভালো না বেসে কিভাবে থাকো!

- আপনার চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্টেট মিস্টার নিকোলাস অলদ্রিন।

- কালকে আমার সাথে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হও মিস মেহেক অলদ্রিন!!.

নিকোলাস হাসলো৷ অত:পর গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে বিছানার সামনে গেল।

তোকে ছাড়া চলে না

রাতে রাত ঢলে না

কোনো কথা বলে না এ মন

নিকোলাস খাটে উপুড় হয়ে শুয়ে পরল৷ বাইরে বারন্দায় মেহেক দাঁড়িয়ে রইল। ঠোটে তার গুন গুন করে গান

আমায় ডুবাইলি রে

আমায় ভাসাইলি রে

আকুল দরিয়ায় বুঝি কুল নাই রে

হঠাৎ বৃষ্টি নামলো ধরনী জুড়ে৷ মেহেক তাকালো আকাশ পানে। আচ্ছা মেহেকের যখনি মন খারাপ হয় তখনই কেন বৃষ্টি নামে!! বৃষ্টিও কি চায় না মেহেক একটু কাদুক৷ চিৎকার করে কাদুক!!

রায়হানের রুম বিধস্ত হয়ে আছে। রায়হান খাটের কোণায় দু হাত দিয়ে মাথা চেপে বসে আছে। নুহার থেকে খবর পেয়েছে মেহেকের বিয়ে গেছে নিকোলাস নামের ছেলেটার সাথে।

রায়হান মাথার চুল খামচে ধরল।

- ক কি করলাম আমি এটা? মেহেককে একটাবার বুঝার চেষ্টা করলাম না?! মেহেক কি সত্যিই আমাকে না নিকোলাসকে ভালবাসতো!! ন না মেহেক আমাকে ভালবাসতো৷ হতেও পারে আমি ভুল করেছি। হ্য হ্যা আমি ভুলই করেছি। আমার সেদিন একটাবার মেহেকের সাথে কথা বলা উচিত ছিল৷ সুহাসিনী কথা দিয়েছিল সে আমার হবে। আমার সুহাসিনী আমার সাথে বসন্ত কাটাতে চেয়েছিল আমৃত্যু পর্যন্ত। লাল কৃষ্ণচুড়ার নিচে হাটতে চেয়েছিল আমার হাত ধরে। গোটা একটা জীবন পার করতে চেয়েছিল আমারই নামে।

রায়হান পাগলের মতন আচরণ করছে। থেকে থেকে নিজ বুকে অনবরত কিল ঘুষি দিচ্ছে।

-​ সুহাসিনী তুমি কেন নেই আজ? কিন্তু দেখো তুমি নেই শহরটা আজও আগের মতোই আছে, শুধু আমার ভেতরে এক একটা আস্ত বসন্ত পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। চারপাশে পলাশ আর শিমুলের মেলা বসবে ঠিকই, কিন্তু তোমার হাতটা ধরা হবে না বলে এই ফাগুন আমার কাছে কেবলই ক্যালেন্ডারের কয়েকটা তারিখ হয়ে থাকবে। সুহাসিনী ও আমার সুহাসিনী বসন্তের দখিনা বাতাস যখন গায়ে লাগবে , তখন মনে হবে বাতাসটা যদি তোমার কোনো খবর নিয়ে আসত! একসাথে কৃষ্ণচূড়ার নিচে হাঁটা হবে না আর এই আক্ষেপ হয়তো আগামী কয়েকটা বসন্ত বয়ে বেড়াতে হবে।

রায়হান উম্মাদের ন্যায় বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।

অদুর থেকে কয়েকটা গানের লাইন ভেসে আসছে৷

ভাবি যেতে যেতে থেমে

সেই দেখা শেষ দেখা না হোক

তোমার আমার প্রেমে

আমি কি একাই স্মৃতির বাহক

​

চলবে,,

(সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করবেন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন