ফন্ট সাইজ:
থিম:
হিয়া জ্বলে পিয়ার দরদে

৭ম পর্ব

লেখক: নুসরাত জাহান ইভা

যারা নাইকার ন্যাকামি পছন্দ করেন তাদের জন্য এই গল্প না।

জনরা - রোমান্টিক,, সাইকো,,থ্রিলার।

#হিয়া_জ্বলে_পিয়ার_দরদে

#নুসরাত_জাহান_ইভা

#পর্ব_৭

নিকোলাস ড্রাইভ করছে। মেহেক তার পাশের সীটেই। নিলয়,, শুভ্র,,এলিনা ব্যাক সিটে৷ মেহেক জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে৷ চোখজোড়া থেকে নোনতা পানি কপোল গড়িয়ে পরছে৷

আজ মেহেক খান বাড়ি ছেড়ে তার প্রিয়জন ছেড়ে অজানা গন্তব্যে পা বাড়িয়েছে। আসলেই কি অজানা!!! সে ত তার স্বামীর বাড়ি যাচ্ছে তাহলে অজানা কেন?? না মেহেক নিকোলাসকে স্বামী ভাবে না। তার চোখে নিকোলাস শুধুই ঘৃনিত পুরুষ।

মেহেক বাড়ি ছেড়ে চলে আসার সময় চিৎকার করে বলেছে - আমি ভুলে যাব আজকের পর থেকে আমার কোনোকালে মা বাবা ছিল। আমি কোনোদিনও আর এই বাড়িতে ফিরে আসব না। যদি কখনো আসিও তাহলে যেন আমার প্রাণহীন দেহটা আসে৷

মেহেকের কথায় হুমায়ন খান গম্ভীর এক নিশ্বাস ফেলেছিল শুধু। মেহেকের মা অনন্যা খান কাদতে কাদতে বার বার তার মেয়েকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল কিন্তু মেহেক প্রতিবারই দূরে সরে গেছে। মেহেকই সবার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে এসে বসেছিল। এলিনা অনন্যা খানকে স্বান্তনা দিয়ে এসেছিল।

এসেছি তোকে নিয়ে ফিরব বলে

মনেরই পথ চিনে আয় না চলে

তোর ছেড়ে জ্বর বুকে ছাড়ে না

পারছে তোকে ছাড়া নারে না

হঠাৎ নিকোলাসের গানের স্বরে মেহেক তার ভাবনা থেকে বের হয়। নিকোলাস ড্রাইভ করছে আর গান গাইছে।

- কারো পৌষ মাস ত কারো সর্বনাশ!!

মেহেক বিড়বিড় করে সিটে মাথা হেলিয়ে দিল।

~~~~~~~~

দীর্ঘ ১৭ ঘন্টা শেষে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন এ পৌছেছে সবাই। এখান থেকে সবার পথ আলাদা। নিলয়,, শুভ্র,,এলিনা শহরের দিকে থাকলেও নিকোলাসের বাড়িটা শহর থেকে একটু দুরেই। নির্জন পাহাড়ি এলাকার দিকে নিকোলাসের বাড়ি৷

নিলয় মেহেকের সাথে কথা বলতে চাইলে মেহেক মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়৷ সে নিলয়ের সাথে কথা বলতে চায় না৷

মেহেক ভাল করেই বুঝেছে এতে নিলয়েরও হাত আছে। তাই মেহেক মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে সে নিলয়কেও ছাড়বে না।

নিলয় অসহায় দৃষ্টিতে নিকোলাসের দিকে তাকালে নিকোলাস মাথা নেড়ে আশ্বাস দেয়৷ নিলয় চলে যায়।

পর পর সবাই চলে যায়। ঘন্টাখানেক ধরে অপেক্ষা করছে মেহেক আর নিকোলাস। নিকোলাসের পরনে অফ হোয়াইট রঙের টিশার্ট তার উপরে ব্লাক জ্যাকেট,, কার্গো প্যান্ট,,মুখে মাস্ক মাথায় ক্যাপ। কাধে ব্যাগ আর এক হাতে মেহেকের লাগেজ। অন্য হাতে ব্রেসলেট। গলায় N লেটারের একটা চেইন। সব মিলিয়ে মিস্টার পার্ফেক্ট। মেহেক আজও কুর্তি পরেছে সাথে স্কাই ব্লু কালার জিন্স৷ চুল গুলো চুরো করে বাধা৷

- আমরা যাচ্ছি না কেন?

মেহেকের প্রশ্নে নিকোলাস বাকা হাসে।

- ব্যাপার কি মিস্ট্রেস! এত এক্সাইটেড কেন স্বামীর বাড়ি যাওয়ার জন্য? তুমি কি কোনোভাবে আজকেই বাসর সারতে রাজি নাকি!!

মেহেক বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করল। চোখ মুখ কুচকে আর কোনো কথা না বলেই দাঁড়িয়ে থাকল। কিছুক্ষণ পর নিকোলাসের গাড়ি আসলো। গাড়িটি অত্যন্ত দামী এবং নজরকাড়া। মেহেক ভাল করে দেখলো গাড়িটিকে। গাড়িটির কালো রঙটা এতটাই আকর্ষণীয় যে মেহেক না চাইতেও বার বার তাকিয়ে থাকছে।

নিকোলাস তা দেখে মুচকি হাসলো।

- রোলস রয়েস ড্রপটেইল এটা। বেশ দামী গাড়ি৷

আরো কিছু বলার আগে মেহেক থামিয়ে দেয়৷

- এই গাড়িটার নাম আমি জানি৷ এত ডিটেইলস বলা লাগবে না। আপনার ফুটানি আপনি অন্য জায়গায় যেয়ে দেখান। আমার সামনে এসবের দাম মান মুল্য কোনোটাই পাবেন না।

বলেই মেহেক গাড়িতে উঠে। নিকোলাস হাসি থামাতে পারছিল না। অতিকষ্টে হাসি থামালেও ঠোটের কোণে এখনো হাসি ফুটে আছে। যাতে করে বা গালের টোলটা আরো স্পষ্ট হচ্ছে। মেহেক একবার চেয়ে চোখ অন্যত্র ঘুরিয়ে নিল।

নিকোলাসের গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর পরই সেখানে একটা লোকের দেখা মিললো। ছেলেটার পরনে ওয়েস্ট কোট৷ ফর্মাল প্যান্ট,,মুখে মাস্ক,, ঝাকড়া চুল থেকে ফোটায় ফোটায় ঘাম ঝরছে। মুখে মাস্ক থাকলেও বুঝা যাচ্ছে ছেলেটা হাসছে। একটুপর ছেলেটির সামনেও একটা গাড়ি আসে। ছেলেটি গাড়িতে উঠার পর দেখা যায় সেই গাড়িটিও নিকোলাস দের গাড়ির পিছন পিছনই যাচ্ছে।

ঘন্টাদুয়েক পর

নিকোলাসের গাড়ি থামলো তারই বাড়ির রাস্তায়। মেহেক গাড়ি থেকে বের হলো। এখন সন্ধ্যারাত। চারিদিক খুবই অন্ধকার। নির্জন এলাকা হওয়ায় এখানে তেমন কোনো রেস্টুরেন্ট কিংবা অন্যান্য শপও নেই। মেহেক বাড়িটার দিকে তাকালো। দুতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাড়ির সামনেই একটা সুইমিংপুল। তার পাশেই বিভিন্ন ফুলের গাছ। একপাশে বড় একটা গাছ অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছে। রাত দেখে বুঝা যাচ্ছে না কি গাছ। বাড়ির পিছনে বড় বড় পাহাড় আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে।

নিকোলাস নিজের হাত বাড়িয়ে দিল মেহেকের পানে। মেহেক তাকালো এবার।

- চলুন মিস্ট্রেস একসাথে যাওয়া যাক!!

নিকোলাসের মুখে হাসি। টোল পরা ছেলেটার দিকে তাকালে মেহেক থমকে যায়। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে পরে যায় এই চেহারার আড়ালের আসল সত্তাটাকে। আর তখনি মেহেকের মন বিষিয়ে যায়।

মেহেক নিকোলাসের হাতে হাত রাখল।

- বেশ ত চলুন তবে আপনার ধবংসের পথে।

নিকোলাসের মুখের হাসি মুহুর্তেই গায়েব হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে নিজেকে ধাতস্থ করে নেয়।

- ধ্বংস তো কেবল জীর্ণতাকে মুছে ফেলার পথ, আমি তো সেই ভস্ম থেকে জন্ম নেওয়া নতুন এক অধ্যায়।

- সেই অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই চুর্ণ বিচুর্ণ করে ফেলব আমি।

-​ চূর্ণ হয়ে যাওয়া মানেই পরাজয় নয় মিস্ট্রেস কোনো কোনো চূর্ণ হওয়াই আসলে পূর্ণ হওয়ার প্রথম ধাপ।

- পুর্ণ! বা পুর্ণতা কোনোটাই আপনার জীবনের খাতায় লিখা নেই মিস্টার আয়ান কায়সার!

- নিকোলাস,, নিকোলাস অলদ্রিন আমার নাম। পুরোনো আমি কবেই বিলীন হয়ে গেছি।

নিকোলাস থামলো কিছুক্ষণ। সে হাসফাস করছে।

- আপনি আমায় এত হাল্কা ভাবে নিবেন না নিকোলাস। আমি কিন্তু আপনার জীবনের প্রলয়কারী। যার এক থাবায় আপনার জীবন তছনছ হয়ে যাবে কোনো একদিন।

নিকোলাস তাকালো মেহেকের দিকে। মুখের অভিব্যক্তি বুঝা দ্বায়।

- ​আমি সেই প্রলয়কে ভয় পাই না, যা আমার ভেতরের ভয়কে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

- ধ্বংস হবেন আপনি। আপনার ধ্বংস আমার হাতেই।

- যেখানে সব শেষ হয়, সেখান থেকেই আমার শুরু; ধ্বংস আমায় গ্রাস করতে পারে না, বরং আমায় শুদ্ধ করে।

নিকোলাস আর মেহেককে কথার বলার ফুরসত দিল না।

- তোমার সাথে এখন এই মুহুর্তে কথা বলা চালিয়ে গেলে এই জীবনে আমার আর বাসর করা হবে না। চলো চলো ভিতরে চলো।

তারপর মেহেকের হাত ধরেই বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে নিকোলাস।

বাড়ির ভিতরটা খুবই সাজানো গুছানো। নিচলতলা বিশাল বড় হলরুম। ডাইনিং,, কাউচ,,একসাইডে কিচেন সেন্টার। মধ্যকার সিড়ি বেয়ে দুতলা দুইপাশে দুইটা করে ৪ টা রুম। সিড়ি দিয়ে ডান পাশের ঘরটাই নিকোলাসের। মেহেক আশপাশ নজর বুলিয়ে দেখে নিল। এইটা তার স্বামীর বাড়ি!! মেহেক কি এত সহজে স্বামীর বাড়ি আপন করে নিতে পারবে!!

নিকোলাস মেহেকের হাত ধরে নিজের রুমে নিয়ে গেল। নিকোলাসের রুমে মেহেক ঢুকতে চাইল না। সে তার জন্য নিকোলাসের রুমের বিপরীতমুখী রুমটায় যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। নিকোলাস তখনি হ্যাচকা টানে মেহেককে নিজের সাথে মিলিয়ে নিল।

- হেই কোথায় যাচ্ছো মিস্ট্রেস!!

- আমি আপনার সাথে একই রুমে একই বেডে থাকতে পারব না।

- মানো আর না মানো বিয়েটা কিন্তু আমাদের হয়েছে। নাউ উই'আর অফিশিয়ালি হাসবেন্ড- ওয়াইফ মিস্ট্রেস!!

- দুনিয়ার চোখে অফিশিয়ালি হলেও আমার চোখে তা শুধুই একটা এক্সিডেন্ট। এর বেশি কিছুইই না।

- আমার ধ্বংস চাও ত তুমি রাইট!! দূরে থেকে ধ্বংস কিভাবে করবে!!

- ধ্বংসের বাসনা মনস্থির করলে দূরে থেকেও ধ্বংস করা যায় মিস্টার নিকোলাস অলদ্রিন।

মেহেক নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। নিকোলাসকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বিপরীতমুখী রুমে যেয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। নিকোলাস ঠাই দাড়িয়ে রইল। হঠাৎই ক্ষোভে ফেটে পরে নিজ দরজায় খুব জোড়ে ঘুষি মারল। যার ফলে হাতের তালু ফেটে যেয়ে রক্তের হাল্কা তরল গড়িয়ে পরল।

মেহেক রুমে ঢুকে নিকোলাসের মুখের উপর দরজা ত দিয়েছে ঠিকই কিন্তু সে দরজার সামনেই হাটু গেড়ে বসে পরল। আচমকা জোড়ে জোড়ে চিৎকার করতে থাকলো।

- রা রায়হান আমি তোমার থেকে অনেক দূরে রায়হান অনেক দূরে। আর যে তোমার সুহাসিনীর দেখা মিলবে না রায়হান আর মিলবে না। তুমি খুশি হবে ত এবার!! একবার জিজ্ঞেস করতে পারতে রায়হান!! একবার জানতে চাইতে পারতে!! কেন কিছু না বলেই এভাবে সেদিন চলে গেলে!! এভাবে না মারলে কি হত না?!! অন্যভাবেও ত মারতে পারতে!! কেন এই পথটাই বেছে নিলে!! তোমার বিরহে আমি ছটফট করছি রায়হান। এসে দেখে যাও একবার কত সুখে আছি আমি তোমায় ছাড়া!! এত পাষাণ না হলেও পারতে। এই অধমকে সেদিন একটু বুঝার চেষ্টা করলেও পারতে রায়হান। নিষ্ঠুর পাষাণ মানব বুঝি একেই বলে!!

যাকে চেয়েছি তাকেই পাইনি, এই আক্ষেপ হয়তো সবার থাকে না। কিন্তু কিছু মানুষের ভাগ্যে ভালোবাসা আসে কেবল শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস হয়ে। হয়তো জীবন আমাদের শেখাতে চায় যে, সব সুন্দর গল্প পূর্ণতা পায় না, কিছু গল্প অসম্পূর্ণ থাকাতেই বেশি সুন্দর।

মেহেক বলতে বলতে ফ্লোরে মাথা রেখে শুয়ে পরল। বড্ড ক্লান্ত সে বড্ড ক্লান্ত।

মেহেকের আর্তনাদ দরজার বাইরে থেকে সবটাই নিকোলাস শুনল। ক্রোধে তার দুচোখ বেয়ে টপ টপ করে পানি পরছে। চোখ দুইটা অসম্ভব লাল হয়ে আছে। এই বুঝি মেহেককে সে ভস্ম করে দিবে এবার!!

​কিছু মানুষ চলে গিয়েও রয়ে যায় স্মৃতির পাতায়, আর রেখে যায় এক দীর্ঘশ্বাস যা সময়ের সাথেও ফিকে হয় না।

​বিরহ হলো এমন এক তুষের আগুন, যা কাউকে দেখাতে পারা যায় না, কিন্তু তা প্রতিনিয়ত ভেতরটাকে দহন করে।

​অপেক্ষা যখন অন্তহীন হয়ে পড়ে, তখন প্রতিটি নিস্তব্ধ রাত বিরহের এক একটি দীর্ঘ কবিতা হয়ে ওঠে।

​আমরা হয়তো বিচ্ছেদ মেনে নিই বাস্তবতার খাতিরে, কিন্তু মনের গহীনে সেই মানুষটির শূন্যস্থান কোনোদিন পূরণ হয় না।

নিকোলাস শব্দহীন বিড়বিড় করতে করতে একসময় অস্ফুটে স্বরে বলে উঠে -

যাকে ভালোবাসি তাকে না পাওয়ার যন্ত্রণাটা আসলে কোনো অভিযোগ নয়, এটা একটা নিঃশব্দ মেনে নেওয়া। পৃথিবীটা হয়তো এমনই—যেখানে আমরা যাকে খুঁজি, সে অন্য কাউকে খোঁজে। আর দিনশেষে আমরা সবাই কোনো না কোনো অপূর্ণতার গল্প বয়ে বেড়াই।

নিকোলাস মেহেকের দরজায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে। সে আর কিছু ভাবতে পারছে না এই মুহুর্তে। ব্যাথায় মাথা ফেটে যাবার উপক্রম। সারাদিনের জার্নি শেষে এখন একটু বিশ্রাম নেয়া খুবই প্রয়োজন। তাই নিকোলাস মেহেকের দরজার সামনেই বসে পরল হেলান দিয়ে।

অদুর থেকে দুইটা গানের লাইন ভেসে আসছে ~~

মায়া বড় কঠিন জিনিসরে বন্ধু

মায়া যে বড়ই স্বার্থপর

একজন মরে মায়ার টানে

মায়ার মানুষ রাইখা প্রাণে

আরেকজনে লয় না রে খবর

~~~~~~~~~~~~~

দূর থেকে নিকোলাসের বাড়িটা পর্যবেক্ষণ করে নিল গাড়িতে বসে থাকা ছেলেটা। মুখে তার বাকা হাসি।

চলবে,

হ্যাপি রিডিং❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন