ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের অমল কাব্য (সিজন-২)

২য় পর্ব

লেখক: DRM Shohag

পরদিন,

মাইরা ভার্সিটির মাঠে পা ছড়িয়ে বসে আছে। পাশে মিলা। মাইরা কথা বলছে না মিলার সাথে। গতদিন মিলার জন্যই সে থাপ্পড় খেয়েছে, এটাই তার কথা। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিলার সাথে আগামী তিন দিন কথা বলবে না। এই বেদ্দপটাকে কে এত করে বলেছিল, রেস্টুরেন্টে যাবো না, যাবো না। কিন্তু নাহ, এ তো শোনেই নি। তাকে টেনেই নিয়ে গেল। আর তারপর ইরফানের হাতের দানবীয় থাপ্পড়। মাইরা জীবনে ভুলবে না। ইশ! একদম কেটে দিয়েছে মনে হচ্ছে। এখনো গালটা ব্যথা হয়ে আছে।

মিলা মাইরাকে ঝাঁকিয়ে বলে,

'আরে আমি তো জানতাম না, ইরফান স্যার ওখানে, জানলে তো আর যেতাম না। আমার কি দোষ? কথা ক ময়না।'

মাইরা হঠাৎ রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে বলে,

'আমি ছাড়বো না ওই ইরফাইন্না স্যারকে দেখিস। আমার এত সুন্দর, নরম, ফর্সা গালটায় থাপ্পড় মেরে পুরো থেবড়ে দিয়েছে। আমি অভিশাপ দিলাম, তার জীবন, যৌবন সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ওই ইরফাইন্না স্যার জীবনে বউ পাবে না। আর যদি বউ পায়ও, এমন বউ পাবে, যে তার মাথা টাক করে দিবে, আর ওই টাকলু ইরফাইন্না স্যারের মাথায় সেই বউ দেদারসে তবলা বাজাবে। সেদিন ইরফাইন্না স্যার বুঝবে, আমার মতো কিউট, সুইট, অবলা মেয়েকে থাপ্পড় মারলে কতটা ভয়ংকর তার পরিণতি হয়। আমি তো তাহাজ্জুদ পড়ে ওই ইরফাইন্না স্যারের জন্য দোয়া করব, যেন আমার একটা না একটা অভিশাপ বাস্তবায়ন হয়ই।'

একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলো। এবার একটু হালকা লাগছে।

ইরফান আর শুদ্ধ গাড়ি সাইড করে এদিক দিয়েই অফিস রুমের দিকে যাচ্ছিল। মাইরার কথা শুনে ইরফানের পা থেমে যায়, সাথে শুদ্ধের। শুদ্ধ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। হায় আল্লাহ! এই মাইরা এসব বলার আর জায়গা পায়নি? আড়চোখে ইরফানের দিকে তাকালে দেখল, দু'হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চোখমুখ শক্ত করে উল্টো ঘুরে বসে থাকা মাইরার দিকে চেয়ে আছে।

শুদ্ধ ইরফানকে টানতে টানতে বলে,

'আয় সোনা, তোকে আমি চুন্দল বউ এনে দিব। মাইরার কথা ভুলে যা। তোর যৌবন শেষ হওয়ার আগেই আমি তোকে বউ এনে দিব। ময়না

কান্দে না।'

এমনি-ই ইরফান রেগে ফায়ার হয়ে আছে। এর উপর শুদ্ধের কথা শুনে হাত ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে নিয়ে চিৎকার করে বলে,

'সাটআপ।'

শুদ্ধ শার্ট উঁচু করে বুকে থুতু দিল। ওদিকে ইরফানের এত জোরে চিৎকারে কিছু স্টুডেন্ট এদিকে তাকিয়েছে। সাথে মাইরা আর মিলা দ্রুত পিছু ফিরে তাকায়। মাইরা ইরফানকে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকায়। ইরফান খেয়ে ফেলা চোখে তার দিকে চেয়ে আছে। মাইরা ঢোক গিলল। তার বলা কথাগুলো ইরফান শুনে নিয়েছে না-কি! ইরফানের দৃষ্টি দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। মাইরা, মিলা দু'জনেই ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। মাইরা বারবার ঢোক গিলছে। ইরফান বড় বড় পা ফেলে মাইরার সামনে এসে দাঁড়ায়। মাইরা দু'পা পিছিয়ে যায়। ইরফান রাগান্বিত স্বরে বলে, 'স্টুপিড গার্ল, হোয়াট আর ইউ সেয়িং?'

মাইরা কেঁপে ওঠে। মিনমিন করে বলে,

'স্যরি স্যার!'

ইরফান ধমকে বলে,

'হোয়াট? আমি বউ পাবো না?'

মাইরা ঢোক গিলল। মনে মনে বলে,

'পাবেনই না তো। এমন জাঁদরেল মানুষের বউ কেউ হবে না। হলেও

দু'দিন পর পালিয়ে যাবে।'

কিন্তু কথাগুলো মুখে আর বলতে পারলো না।

শুদ্ধ অসহায় চোখে চেয়ে আছে। গতকালকেই মাইরা যে মারটা খেয়েছে! আজ সকাল হতে না হতেই কিসব হচ্ছে! শুদ্ধ মেকি হেসে বলে,

'আরেও ইরফান, ওর কথা ধরছিস কেন? আমি তো বললাম, তোর যৌবন শেষ হওয়ার আগে আমি তোকে এক সুন্দরী বউ এনে দিব।'

ইরফান রেগে তাকায় শুদ্ধের দিকে। শুদ্ধ মেকি হাসলো। শুদ্ধের কথা শুনে মাইরা মনে মনে হাসলেও, মনে মনে দোয়া-ও পড়ছে,

'আল্লাহ, এই জাঁদরেল মানুষটার থেকে এবারের মতো বাঁচিয়ে দাও।'

এরপর ঢোক গিলে বলে,

'না মানে.. মিস্টেক। ভুল করে বলে ফেলেছি। আপনি অনেক সুন্দর বউ পাবেন স্যার! আমি বলতে চাইছিলাম, আপনার বউ আপনাকে বেশি বেশি ভালোবাসবে, আদর করবে...'

ঘোশ ভালোবাসবে, আদর করবে...

এটুকু বলে ডান হাতে মাইরা তার মুখ চেপে ধরে। যাহ! আবার ভুলভাল বলছে। মাইরার কথা শুনে শুদ্ধ শব্দ করে হেসে ফেলে। ইরফান দাঁতে

দাঁত চেপে বলে,

'হোয়াট দ্য হেল?'

মাইরা কেঁপে ওঠে। শুদ্ধ মুখে হাত দিয়ে হাসছে। তার যেমন খারাপ লাগছে, তেমন মাইরার উদ্ভট কথায় হাসি-ও পাচ্ছে।

মাইরা এখন কি করবে? গতকালকের মতো আরেকটি শক্ত থাপ্পড় তার গালে পড়লে আজ তার অজ্ঞান হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

হঠাৎ ইরফানের পকেটে ফোন বেজে উঠলে ইরফান পকেট থেকে ফোন বের করে কল রিসিভ করে ফোন কানে ধরে। শক্ত দৃষ্টি মাইরার পানে।

মাইরা ঢোক গিলল। স্যার তো! তাই একটু-আধটু সম্মান দিতে হচ্ছে। আর এজন্য এদিক-ওদিক যেতে-ও পারছে না। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে থাপ্পড় খাবে? অসহায় চোখে তাকায় সামনে। শুদ্ধ ইরফানের পিছন থেকে ইশারায় বোঝাচ্ছে, দৌড় দাও। মাইরা দৌড় দাও।

মাইরা বুঝতে পেরে ইরফানের দিকে তাকালো। ইরফানের দৃষ্টি এখনো তার দিকে বুঝতে পেরে সাথে সাথে মাথা নিচু করে নেয়। এসব কথা এই খোলা মাঠে বলা একদম উচিৎ হয়নি। ইশ! কত বড় মিস্টেক হয়ে গিয়েছে! ভাবলো এবার এক দৌড়ে একদম ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে যাবে। যেই ভাবনা, সেই কাজ। ইরফানের দিকে আর তাকালোই না। বারবার আশেপাশে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে হাতের ব্যাগ শক্ত হাতে ধরে পাশ থেকে মিলার হাত শক্ত করে ধরে। হঠাৎ উল্টো ঘুরে এক দৌড় দেয়। ইরফানের চোখে পড়তেই শক্ত করে আওড়ালো,

'স্টুপিড গার্ল।'

কলের ওপাশে থাকা ব্যক্তি ভ্রু কুঁচকে বলে,

'জ্বি স্যার?'

ইরফান রাগান্বিত স্বরে বলে,

'সাটআপ!'

ইরফান এত জোরে ধমক খেয়ে লোকটি ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। শার্ট উঁচু করে বুকে থুতু দেয়। স্টুপিড বয় বললে তাও মানতো, কিন্তু সে গার্ল কেন হতে যাবে! ওদিকে ইরফান ফোন কেটে দিয়েছে। লোকটি মাথা চুলকালো। হঠাৎ কি হলো কে জানে!

ইরফান বাম হাত মুষ্টিবদ্ধ করে, ডান হাতে শক্ত করে ফোন ধরে রাখে।

মাইরার কথাগুলো তার হজম হচ্ছে না। থাপ্পড় মারতে না পেরে রেগে আরও বোম হয়ে গিয়েছে। শুদ্ধ পাশ থেকে ইরফানের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকিয়ে বলে,

'তাকিয়ে লাভ নেই রে! চলে গেছে! কষ্ট পাস না সোনা। তোকে আমি চুন্দল চুন্দল বউ এনে দিব। বউটা আবার তোকে আদর-ও করবে। আমার বোনের দোয়া কিন্তু খুব খাঁটি!'

ইরফান রেগে শুদ্ধের শার্টের কলার ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

'ওই স্টুপিড গার্লকে আমি ছাড়বো না।'

শুদ্ধ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে,

'কি বলছিস কি রে! আমার কিউট, সুইট বোনটাকে ধরে ফেলেছিস? ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! আমার বোনকে ধরেছিস তো ধরেছিস, আবার বলছিস, ছাড়বি না! যাহ দুষ্টু!'

ইরফান শুদ্ধকে ধাক্কা মেরে চেঁচিয়ে বলে,

'সাটআপ!'

এরপর হনহন করে অফিসরুমের দিকে চলে যায়। শুদ্ধ হাসছে। কি রে ভাই, এই মাইরা মনে হচ্ছে তার ঘাড়ত্যাড়া ভাইকে ভালোই টাইট দেয়। কি ডোজ টাই না দিল! প্রথমে তো বলল, যৌবন শেষ হবে, বউ পাবে না। আর তারপর বউ পেলেও না-কি ইরফানকে টাকলু মামা বানিয়ে দিবে পুরো! আবার নাকি বউ তবলা বাজাবে! কথাগুলো ভেবে শুদ্ধ আবারও হেসে ফেলল। আশপাশ দিয়ে কিছু স্টুডেন্ট যাওয়ার সময় শুদ্ধকে সালাম দিলে শুদ্ধ নিজেকে সামলে নেয়। অফিসরুমে গিয়ে আগে মন খুলে হাসতে হবে।

ইরফানের ভয়ে মাইরা মিলাকে টেনে ভার্সিটি থেকে বের করে নিয়ে এসেছে। মিলা আবার মাইরাকে জোর করেই তাদের বাসায় টেনে এনেছে। মিলার মা মাইরাকে আজ ভার্সিটি শেষে এমনিতেও আসতে বলেছিল। এজন্য মাইরা না করেনি। আসতে বলার কারণ মিলাদের বাড়িতে ছোটোখাটো এক দাওয়াতের আয়োজন করেছে। মিলার অনেক আত্মীয় সাথে এই বিল্ডিংয়ের মানুষদেরও খাওয়াবে।

মাইরা মিলার ঘরে মন খারাপ করে বসে আছে। মন খারাপ তার মা আর ভাইয়ের জন্য। গতকাল গিয়ে ফিরে এসেছে। অভিমানে মাকে একটা কলও করেনি। মা-ও কল করেনি। মাইরার মন বলে,

নিজের মা হলে বুঝি কল করে খোঁজ নিত?

নিজের মা হলে বুঝি কল করে খোজনিত?

কথাটা ভেবে মাইরার মন খারাপের পাল্লা দ্বিগুণ হয়। সে এই কষ্ট কাকে বোঝাবে? কাকে বলবে? তার খুব ইচ্ছে করে মায়ের সাথে থাকতে। নিয়ম করে ভাইয়ের সাথে দুষ্টুমি করতে। প্রথম যখন মাইরাকে হোস্টেলে রেখে গেল, তখন মাইরা তার মাকে একবার বলেছিল, মা, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তোমাদের বাসার স্টোর রুমে আমার জন্য একটু জায়গা হবে?

মাইরার মা মলিন গলায় উত্তর দিয়েছিল,

থাকতে থাকতে শিখে যাবি।

পরের প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে বলেছিল,

সাবধানে থাকিস কেমন!

মাইরা অবাক হয়ে শুধু দেখছিল সেদিন তার মাকে। মাইরার মনে হচ্ছিল, তার মা বদলে গিয়েছে। মাইরার খুব খারাপ লাগে, কিন্তু কিছু করার নেই। এটাই তার নিয়তি! কথাগুলো ভাবতে গিয়ে চোখের কোণে নোনা অশ্রু জমেছে।

মিলা গোসল করে বের হয়ে মাইরাকে মনমরা হয়ে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে বলে,

কি হইছে রে তোর?

মাইরা দ্রুত ডানহাতের উল্টোপিঠে চোখের কোণে লেগে থাকা পানি মুছে নেয়। নিজেকে সামলে মিলার দিকে চেয়ে হেসে বলে, তোর কপালে কবে এক টাকলা জামাই জুটবে সেই চিন্তায় আমার মাথার সব চুল পেকে যাচ্ছে ময়না।

মিলা মাইরার কপালে আলতো থাপ্পড় দিয়ে বলে,

লাথি খাবি বেদ্দপ।

মাইরা দাঁত কেলিয়ে হাসে। মিলা হাসতে হাসতে মাইরার দিকে খেয়াল করল। মাইরার ভেজা চোখ তার চোখ এড়ায় না। সে জানে, মাইরা একটু ফাঁক পেলেই তার মা আর ভাইয়ের কথা ভাবতে বসে যায়। তার খুব মন খারাপ হয়। মিলার এটা ভেবে-ও মন খারাপ হয়, তার একটা ভাই নেই বলে। তার ভাই থাকলে সে যুদ্ধ করে হলেও মাইরাকে তার ভাইয়ের বউ বানিয়ে এই বাড়িতে আনতো। আর তারপর মাইরার মা বাবার অভাব পূরণ করে দিত। কিন্তু আফসোস, তার তো ভাই নেই।

মাইরা মিলাকে থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মিলাকে ঝাঁকিয়ে বলে, কি রে, কোন দুনিয়ায় হারালি?

মিলা নিজেকে সামলে বলে,

তোকে ভাই বউ করতে না পারার শোক পালন করছিলাম।

মাইরা হেসে বলে,

আসলেই। আমি এমন এক ছেমড়ির সাথে বন্ধুত্ব করলাম, যার এক বড় ভাই নেই। মানে পুরাই নিরামিষ। কোথায়, বান্ধবীর বড় ভাই থাকবে, সে আমাকে একটু একটু করে পছন্দ করবে। তারপর প্রপোজ করবে। আর তারপর বলবে, 'ওগো আমার সুইটি, কিউটি, তুমি আমার জান, প্রাণ। তুমি-ই হবে আমার একমাত্র বউ। নয়তো আমি দেবদাস হয়ে ঘুরে বেড়াবো গো!'

কিন্তু হায়, সব স্বপ্নই রয়ে গেল! না আছে চৌকি, আর না আছে চৌকির তলা।

মিলা হাসতে হাসতে বলে,

মাইরা, তুই এক্টিং-এ সেরা রেহহহ!

মাইরা ভাব নিয়ে বলে,

দেখতে হবে না, মানুষটা কে!

মিলা মাইরাকে নিয়ে তাদের ডায়নিং টেবিলে এসে বসেছে। মিলাদের বাড়ির চারিদিকে অনেক মানুষ। এই টেবিলে মাইরাদের খেতে দিবে। মাইরা, মিলার পাশে আরও চারজন মেয়ে বসেছে। তাদের মধ্যে একজন সামিয়া। বাকি তিনজন তার রুমমেট। এখানে তারা চারজন মিলে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে।

মাইরা সামিয়াদের উদ্দেশ্যে হেসে বলে, হাই! আমি মাইরা!

সামিয়া সহ বাকি তিনজন মাইরার সাথে মৃদু হেসে কথা বলল। সবাই পরিচিত হলো। সামিয়ার গ্রামের নাম শুনে মাইরা কিছুটা আওয়াজ করে বলে ওঠে,

হায় হায় আপু, তুমি তো আমার গ্রামের মানুষ। তাহলে আমি আর তুমি আজ থেকে দুই বোন।

মাইরার গলার আওয়াজ মোটামুটি জোরে হওয়ায় আশেপাশের অনেকেই তাকিয়েছে। মাইরা একটু বিব্রতবোধ করে। সামিয়া মৃদু হাসলো। মিলার সাথে মাইরাকে এর আগে বেশ কয়েকবার দেখেছিল এখানে, কিন্তু আজ কথা বলার সুযোগ পেয়ে বুঝল, মেয়েটি খুব মিশুক।

মাইরা মাথা নিচু করে খাওয়ায় মন দেয়। পাশ থেকে মিলা বিড়বিড়িয়ে

বলে,

তুই ভালো হবি না? সবাই তোরে জোকার ভাবলো! এখন আমাকে সবাই বলবে আমি এক জোকারকে নিয়ে ঘুরি।

মাইরা মুখ বাঁকিয়ে বলে,

তুই তো ভালো, এতেই হবে। সবাই ভালো হলে দেশ চলবে কি করে?

মিলা মাইরার পেটে একট গুতো দিয়ে বলে,

গাধি, ভালো মানুষ দিয়েই দেশ চলে।

মাইরা মিলার দিকে চেয়ে বলে,

ওরে আমার গাধির দাদি, খারাপ মানুষ আছে বলেই ভালো মানুষ দিয়ে দেশ চলে। নয়তো সব ভালো মানুষের পায়ের ছায়ায় একটা করে লাথি দিয়ে সবাই সবার পায়ের ছাঁটার মানচিত্র পাল্টে দিত!

মাইরার কথা শুনতে পেয়ে সামিয়া শব্দ করে হেসে ওঠে। মাইরা-ও সামিয়ার দিকে চেয়ে মেকি হাসলো। এরপর আবারও খাওয়ায় মন দেয়।

নাছিম মিলাদের ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে ফোনে ব্যস্ত ছিল। এই বাড়িটি মূলত তাদের। আগে তার মা একাই এখানে থাকতো। গতকাল সে একেবারে চলে আসলো। এখন মা, ছেলে থাকে। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেয়া। কিছুক্ষণ আগে মাইরার আওয়াজ করে কথা শুনে মাথা উঁচু করলে তার সোজা মাইরাকে বসে খেতে দেখে অবাক হয়।

গত ছয় মাস আগে নাছিম ছুটিতে দেশে এসেছিল। তখন মাইরাকে সে তাদের বাড়ির সামনে একবার দেখেছিল। এরপর গতকাল রেস্টুরেন্টে দেখেছে, ইরফানের হাতে মার খেতে। খারাপ লেগেছিল তার। কারণও আছে।

মাইরাকে ছয় মাস আগে দেখে কিছু ফিল করেছিল সে। যার রেশ সে এই ছয় মাসে কাটাতে পারেনি। মাইরাকে একবার দেখল, আর তারপর ভাবনা থেকে বের করতে পারেনি। যার ফলস্বরূপ সে মেয়েটির উপর বাজেভাবে পিছলেছে। সেই যে মাইরার দিকে তাকিয়েছে, চোখ সরানোর নাম নেই। দৃষ্টিতে মুগ্ধতা!

মাইরা খাওয়ার মাঝে হঠাৎ মাথা উঁচু করে সামনে তাকালে নাছিমের সাথে মাইরার চোখাচোখি হয়। মাইরা সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নেয়। একটু পর আড়চোখে মাইরা নাছিমের দিকে তাকালে দেখল ছেলেটি হা করে তার দিকে চেয়ে আছে। মাইরা চোখ ছোট ছোট করে প্লেটের দিকে চেয়ে খাবার চিবোয়। কে রে এই ছেলে? এমন হাবার মতো চেয়ে আছে! আরেকবার চোখ তুলে তাকালে একই অবস্থা দেখে, প্রচণ্ড বিরক্ত হলো মাইরা।

মিলাকে গুতিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,

ওই ছেলে কে রে?

মিলা মাইরার দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকালে দেখল, মাইরা সোজা তাদের বাড়িওয়ালির ছেলে অর্থাৎ নাছিম বসা। গলা নামিয়ে বলে, ওই ছেলেটা নাছিম ভাইয়া। আমাদের বাড়িওয়ালির ছেলে।

মাইরা মাথা নাড়িয়ে বলে,

ওহ, বুঝেছি বুঝেছি। তোর বাড়িওয়ালির ছেলে তো পুরাই লুইচ্চা, নালিশ দিস না?

মাইরার কথাটি শুনে সামিয়া কেশে ওঠে। মিলা চোখ বড় বড় করে তাকায়। সামিয়া মাইরার কাছাকাছি বসায় সামান্য আওয়াজ করে বলাতেই মাইরার কথা শুনতে পেয়েছে। মাইরা সামিয়া আর মিলার এক্সপ্রেশন দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে,

তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ কেন? আমি সত্যি বলছি। সেই কখন থেকে এই ছেলে হ্যাবলার মতো এদিকে তাকিয়ে আছে!

সামিয়া মৃদু হেসে বলে,

তোমাকে পছন্দ হয়েছে হয়তো।

মাইরা মুখ কুঁচকে বলে,

এ্যাহ! সামনে আসলে বলব, আমি পাঁচ বাচ্চার মা!

সামিয়া অবাক হয়ে বলে,

আসলেই?

সামিয়ার কথায় মাইরা, মিলা দু'জনেই হেসে ওঠে। মাইরা বলে, আরে নাহ! এটা পিছন থেকে ছেলে তাড়ানোর নিঞ্জা টেকনিক।

সামিয়া এবার নিজেও একটু হাসলো।

বিকালে শুদ্ধ বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন স্ক্রোল করছিল। ফোনে কল আসলে কল রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ফাইজ বলে, বাসায় আয় শুদ্ধ।

শুদ্ধ হেসে বলে,

যার তার বাসায় আমি যাই না। যাহ!

ফাইজ হতাশ কণ্ঠে বলে,

আরে তুই এটলিস্ট আয়। নাছিমকে বললাম, সে না-কি ভাড়াটিয়ার বাড়ির দাওয়াত খেয়ে আর নড়তে পারছে না। তোর ভাই ইরফানের তো

কাজের শেষ নাই। এখন তুই কোনো ফালতু অজুহাত দিস না। আয়। অন্তরা-ও এসেছে।

শুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলে, এতো জোরাজোরি করছিস কেন? কাহিনী কি?

ফাইজ মৃদু হেসে বলে, আমার বোনকে দেখতে আসবে। পছন্দ হলে আঙটি পরিয়ে দিয়ে যাবে। তুই আয়।

শুদ্ধ হতাশ কণ্ঠে বলে, তোর বোনের বিয়ের বয়স কবে হলো? সে যাক, কোন গুহায় লুকিয়ে রাখতি, জীবনে তো দেখলাম না।

ফাইজ হেসে বলে, আমার বোন অনেক ভদ্র। কারো সামনে যায় না। তুই আয়। ছেলেরা কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে।

শুদ্ধ ছোট করে বলে, আচ্ছা আসছি। এরপর কল কেটে রেডি হতে যায়।

ফারাহ ঘরের কোণায় গাট্টা মেরে বসে আছে। সে ছেলে পক্ষের সামনে যাবে না। তার কথা সে সবে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। তার কোনো বান্ধবীর বিয়ে হয়নি। আর তাকে এখন বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। এসব মানা যায়? ফারাহ'র পাশে তার বান্ধবী নুসরাত বসে আছে। একটু পর পর ফারাহ'কে ঠেলে বলে,

'ফারাহ রেডি হবি তুই?'

ফারাহ মন খারাপ করে বলে,

'আমি জীবনেও বিয়ে করব না। আজকে আংটি দিয়ে গেলে আমার বিয়ে কনফার্ম। ভাইয়া, আম্মু, আব্বু কেউ আমার কথা ভাবছে না। আমিও ভাববো না।'

নুসরাত ভ্রু কুঁচকে বলে,

'কি করবি তুই?'

ফারাহ'কে পরানোর জন্য বেডের উপর রাখা শাড়িটা ফারাহ হাতে নিয়ে শাড়ির ভাঁজ খুলতে খুলতে বলে,

'যাচ্ছি আমি। এই ছেলেরা চলে গেলে আবার আসবো। তুই-ও যেতে চাইলে চল।'

নুসরাত অবাক হয়ে বলে,

'মানে?'

ফারাহ নুসরাতের হাত ধরে টেনে বেলকনিতে নিয়ে যায়। এরপর বেলকনির গ্রিলে শাড়ি বাঁধে। নুসরাত ফারাহ'র মনোভাব বুঝতে পেরে বলে,

'আমি গেলাম ভাই। এসবে আমি নাই।'

ফারাহ তার কাজ শেষ করে কোমরে শক্ত করে ওড়না বেঁধে নেয়।

এরপর রেলিঙের উপর উঠে বলে,

'তাহলে থাক। সবাই এসে তোকেই ধরবে।'

কথাটা বলে ফারাহ শাড়ির সাহায্যে বহু কসরত করে নামতে থাকে।

তাদের বাসা চারতলা। ফারাহ'রা থাকে দোতলায়।

নুসরাত অসহায় কণ্ঠে বলে,

'এ্যাই ফারাহ আমিও যাবো।'

ফারাহ নিচে নামতে নামতে হাঁপানো কণ্ঠে বলে,

'আমি নামার পরে তুই নামিস।'

শুদ্ধ ফাইজদের গ্যারেজে তার গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে আসছিল। হঠাৎ-ই বাড়ির ডানদিকে চোখ পড়লে মনে হলো কোনো মেয়ে ঝুলছে। শুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মোড় ঘুরিয়ে সেদিকে এগিয়ে যায়।

ফারাহ শাড়ি বেয়ে বেয়ে নেমে মাটিতে দু'পা শব্দ করে রাখে। বা হাত কোমরে রেখে লম্বা শ্বাস নেয়। এরপর মাথা উঁচু করে নুসরাতের উদ্দেশ্যে বলে,

'নুসরাত নেমে আয়।'

কথাটা বলে চুলগুলো খোঁপা করতে করতে পিছু ফিরলে একদম তার সামনে শুদ্ধকে জহুরি চোখে চেয়ে থাকতে দেখে ফারাহ'র চোখ বড় বড় হয়ে যায়। হায় আল্লাহ! এটা তো তার ভাইয়ের বন্ধু। সাথে তার ভার্সিটির টিচার। ফারাহ দ্রুত ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে শুদ্ধর পাশ কাটিয়ে দৌড় লাগায়।

শুদ্ধ হতভম্ব হয়ে যায়। সে ফাইজের বোনকে কখনো দেখেনি। বেচারা

শুদ্ধ হতভম্ব হয়ে যায়। সে ফাইতে বোনকে কখনো দেখেনি। বেচারা বুঝতে পারছিল না মেয়েটি কে, উপর থেকে এভাবেই বা নামলো কেন। কিন্তু ফারাহ'কে লুকিয়ে এভাবে দৌড় দিতে দেখে ভাবে, কোনো চোর। নয়তো এমন করবে কেন? চোরকে তো ধরতে হবে। ভাবনা অনুযায়ী শুদ্ধ-ও ফারাহ'র পিছু দৌড় লাগায়।

নুসরাত সাড়ি ধরে নামছিল। মেয়েটা শাড়ির অর্ধেক জায়গায় এসে পিছু ফিরলে ফারাহ আর পিছে একটি ছেলেকে দৌড়াতে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আরও শক্ত করে শাড়ি চেপে ধরে। এসব কি হচ্ছে?

ফারাহ দৌড়ায় আর পিছু ফিরে শুদ্ধকে তার পিছে দৌড়াতে দেখে পায়ের গতি আরও বাড়ায়। শুদ্ধ দৌড়ায় আর বলে,

'এই চোর দাঁড়া। শুদ্ধর হাত থেকে বাঁচা ইয়ামপসিবল!'

ফারাহ ঢোক গিলে দৌড়াতে থাকে।

শুদ্ধ এখানে এসে ফাইজকে কল করেছিল। ফাইজ শুদ্ধকে এতোক্ষণে-ও ভেতরে যেতে না দেখে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু সামনে তাকিয়ে শুদ্ধকে এভাবে দৌড়াতে দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। দ্রুত এগিয়ে আসতে আসতে বলে,

'এ্যাই শুদ্ধ এভাবে দৌড়াচ্ছিস কেন?'

শুদ্ধ চেঁচিয়ে বলে,

'তোদের বাড়িতে চোর ঢুকেছিল ফাইজ। কথা বলিস না। ওকে ধরতে দে।'

কথাটা বলতে বলতে ফারাহ'র বা হাত ধরে ফেলে। ফারাহ তার হাত মোচড়ায়, শুদ্ধ শক্ত করে ধরে বলে,

'আর পালাতে পারবে না বাচাধন, থুক্কু বাচিধন।'

ফাইজ এগিয়ে এসে শুদ্ধর পাশে ফারাহ'কে দেখে অবাক হয়ে তাকায়। শুদ্ধ হেসে বলে,

'দেখেছিস চোর ধরেছি। থুক্কু এ তো চুন্নি। নে এবার একে বাঁধ।'

ফারাহ রে'গে তাকায় শুদ্ধর দিকে। এই লোকটা তার ভাইয়ের বন্ধু আর স্যার না হলে যে কি করত, ফারাহ নিজেও জানেনা। ভাইয়ের ধমকে ফারাহ ঝাঁকি দিয়ে ওঠে।

'ফারাহ এখানে কি করছিস?'

ফাইজের কথা শুনে শুদ্ধ বিস্ময় চোখে ফারাহ'র দিকে তাকায়। ফারাহ'র হাত ছেড়ে দেয়। এটা ফাইজের বোন? ফাইজের বোনের নাম শুনেছিল বহুবার। আজকেই প্রথম দেখল। অবাক হয়ে বলে,

'এটা তোর বোন? এ তো চুন্নিদের মতো পালাচ্ছিল।'

ফারাহ'র ইচ্ছে করল শুদ্ধর মুখ ভেঙে দিতে। বারবার তাকে চুন্নি বলছে।

মাথা নিচু করে মিনমিন করে বলে,

'ভাইয়া আমি বিয়ে করব না।'

ফাইজ রে'গে বলে,

'বিয়ে কি দিয়ে দিচ্ছি? শুধু দেখতে আসছে তোকে। তাছাড়া তোর পছন্দ না হলে বিয়ে ক্যান্সেল করব। দেখতে প্রবলেম কি তোর? পালাচ্ছিলি কেন?'

ফারাহ মিনমিন করে বলে,

'আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা। আর ছেলে চলে গেলেই আবার চলে আসতাম।'

ফারাহ'র কথা শুনে শুদ্ধ শব্দ করে হেসে দেয়। ফাইজ শক্ত কণ্ঠে বলে,

'ফারাহ ঘরে যা। পাঁচমিনিটে রেডি হবি। যা।'

ফারাহ সাথে সাথে তার বাড়ির দিকে পথ ধরে। একটু এগিয়ে গিয়ে নুসরাতের হাত ধরে দ্রুত এগিয়ে যায়। রা'গ লাগছে তার। কোন ব'জ্জাত আসছে তাকে দেখতে। উফ! অ'স'হ্য লাগছে সবকিছু।

শুদ্ধ হেসে বলে,

'তোর বোন তো বহুত সুন্দর! এজন্যই ঘরের কোণায় লুকিয়ে রাখতি! বুঝলাম বুঝলাম!'

ফাইজ চোখ ছোট ছোট করে বলে,

'একদম আমার বোনের দিকে নজর দিবি না। ওর হবু বর আছে।'

শুদ্ধ নিচের ঠোঁটে ডান হাতের বুড়ো আঙুল ঘষে বলে,

'নজর তো পড়ে গেল!'

'আমার বোনকে তোর মতো বে'য়া'দ'ব এর হাতে তুলে দিব? অসম্ভব!'

'আমি কখন বললাম, আমার হাতে তুলে দিতে? চোরের মন পুলিশ পুলিশ না-কি সোনা!'

'ইহজীবনে না। তোর নজর ঠিক কর বে'য়া'দ'ব।'

'ওহে আদবে ভরপুর রাজপুত্র! তোমার নজর কোথায় সে খবর কিন্তু আমার কাছে আছে সোনা!'

ফাইজ শুদ্ধর কথায় থতমত খেয়ে তাকায়। উল্টো ঘুরে যেতে যেতে বলে,

'ভেতরে আয়।'

শুদ্ধ হাসলো। দু'হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে এগিয়ে যেতে যেতে বিড়বিড় করে আওড়ায়,

'ফারাহ! সুন্দর নাম! দেখতে তো ফাটাফাটি!'

দুপুরের রোদ পড়ে গেলে মাইরা মিলাদের বাসা থেকে বের হয়। আশেপাশে রিক্সা খুঁজে না পেয়ে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করে। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে ইরফানকে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকায়। ওরে আল্লাহ! ইরফাইন্না স্যার কোথা থেকে আসলো? যার থেকে বাঁচতে আজ ভার্সিটিতে ক্লাস-ই করল না। সেখানে এই লোকটা এখানে এসে হাজির! ইরফান এদিকেই এগিয়ে আসছে। মাইরা ঢোক গিলল। ডান হাতে সাইড ব্যাগ শক্ত করে ধরে উল্টো ঘুরে দৌড় দেয়। একটু যেতেই সেই সকালের মতো অবস্থা হয়, বোরখার সাথে পা বেঁধে ঠাস করে রাস্তায় পড়ে যায়। কিন্তু এবার বসে পড়েছে।

ইরফান বা হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে ডান হাতে ধরে রাখা ফোনে মগ্ন হয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ কিছুর শব্দ পেয়ে ইরফান সামনে তাকায়। বা দিক ফিরে বুঝল, একটি মেয়ে পড়েছে। একটু খেয়াল করতেই সকালের মেয়েটি বুঝতে পেরেই চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। বিড়বিড় করে, 'স্টুপিড গার্ল!'

নাছিম বাসা থেকে বেরিয়েছিল একটু আগেই। মূলত ব্যবসার কাজে ইরফান তাকে ডেকেছে। খুব ইম্পর্ট্যান্ট না-কি! ফাইজ কল করে তাদের বাড়ি যেতে বলেছিল। সে দুপুরে এতো খেয়ে রেস্ট নিবে বলে গেল না। এদিকে ইরফান তাকে টেনেই বাড়ি থেকে বের করে আনলো। এরকম বন্ধু থাকলে কি আর মনের সুখে একটু বিশ্রাম নেয়া যায়? নাছিম হতাশ!

হঠাৎ চোখে পড়ে মাইরা পড়ে গিয়েছে। নাছিম দ্রুতপায়ে এগিয়ে এসে অবাক হয়ে বলে,

'আরে আরে তুমি পড়লে কিভাবে?

মাইরা মাথা তুলে তাকায়। নাছিমকে দেখে বিরক্ত হয়। সব অলক্ষুণে লোক তার সামনেই এসে পড়ছে। বিড়বিড় করল, 'লু'ইচ্চা বেডা!'

নাছিম নিচু হয়ে মাইরাকে ধরে তুলতে চাইলে পিছন থেকে ইরফান নাছিমের শার্টের কলার টেনে ধরে। নাছিম পিছু ফিরে ইরফানকে দেখে বলে,

'ছাড়। কি করছিস? মেয়েটা পড়ে গিয়েছে।'

ইরফান নাছিমকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে শক্ত কণ্ঠে বলে,

'কোনো স্টুপিড কে হেল্প করা আমাদের কাজ নয়।'

নাছিম বিরক্ত হয়। গতকাল মেয়েটিকে ইরফান থা'প্প'ড় মেরেছিল। তার খারাপ লেগেছে। আর ইরফান তো মেয়েটিকে দুই চোখে সহ্য-ই করতে পারছে না। গতকালকের ঘটনার জন্য-ই এই হাল। অতঃপর ইরফানের উদ্দেশ্যে বলে,

'মেয়েটা উঠতে পারছে না। উঠতে হেল্প করি। তুই যা।'

ইরফান নাছিমের কলার আরও শক্ত করে ধরে ধরে বলে,

'উঠাতে চাইলে ওকে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।'

নাছিম অবাক হয়ে বলে,

'মানে?'

ইরফান বিরক্তির শ্বাস ফেলে নাছিমের কলার ধরে টেনে উল্টোদিকে নিয়ে যায়। মাইরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ইরফানের দিকে। মানে কি পরিমাণ খারাপ আর নি'ষ্ঠু'র লোক হলে এইরকম কথা বলে ভাবা যায়? তাকে পুরো ডাস্টবিনে ফেলতে বলছে। সে কি ময়লা?

ইরফানের দিকে চেয়ে মাইরা ইরফানকে বকতে বকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে।

'নিজে আস্ত এক ডাস্টবিন হয়ে আমাকে ডাস্টবিনে ফেলতে চায়! আপনাকে আমি নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবো ইরফাইন্না স্যার। মাইরাকে চিনেন না তো!'

কথাগুলো বলতে বলতে মাইরা বেশ ক'ষ্ট করে উঠে দাঁড়ালো। কোমরের বারোটা বেজেছে।

আশেপাশে তাকালে তেমন মানুষ দেখতে না পেয়ে মাইরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। খালি রিক্সা পেয়ে দ্রুত উঠে পড়ে রিক্সায়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন