সন্ধ্যার পর পর, শুদ্ধ ইরফানদের বাসায় এসেছে।
শুদ্ধ ইনায়ার ঘরে টোকা দিয়ে বলে, 'ইনায়া, আছিস?'
ইনায়া ভিড়িয়ে রাখা দরজা খুলে দিয়ে বলে, 'কিছু বলবে শুদ্ধ ভাইয়া?'
শুদ্ধ ইনায়ার পাশ কাটিয়ে ঘরের ভেতরে এসে বলে, 'বলবো তো অনেক কিছু। এখানে বস।'
ইনায়া কোমরে হাত রেখে বলে, 'বসতে হবে না। এভাবেই বলো।'
শুদ্ধ চোখ ছোট ছোট করে বলে, 'তোর পছন্দের মানুষ আছে?'
'মানে?'
শুদ্ধ হেসে বলে, 'আরেকটা লজ্জা পেতে হবে না। বলে ফেল। পছন্দের কেউ থাকলে আমি নিজে সব ব্যবস্থা করব।'
ইনায়া মাথা নাড়িয়ে বলে,
'না, নেই।'
শুদ্ধ এবার দাঁড়িয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে একটি পিক দেখিয়ে বলে,
'দেখ তো একে পছন্দ হয়?'
ইনায়া এগিয়ে এসে ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা লোকটির ছবিটির দিকে তাকিয়ে বলে,
'এটা কে?'
'তোর বর।'
ইনায়া অবাক হয়ে বলে,
'মানে?'
শুদ্ধ ফোন পকেটে রেখে হেসে বলে,
'পেটটা একটু মোটা। তুই দিনে দুইবার করে বরের পেটের উপর উঠে কয়েকটা লাফ দিবি। দেখবি দু'দিনে পেট চিকনিচামিলিদের মতো হয়ে যাবে।'
ইনায়া তেজি কন্ঠে বলে,
'আমি এই পেট মোটা লোককে বিয়ে করব না।'
শুদ্ধ হেসে বলে,
'তাহলে টাকলু মামা কে বিয়ে করবি?'
ইনায়া চেঁচিয়ে ওঠে,
'শুদ্ধ ভাইয়া?'
শুদ্ধ হাসতে হাসতে তার শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বলে,
'মেয়েরা হাসবেন্ডের বডির ব্যাপারে মনে হচ্ছে খুব সিরিয়াস। নো চিন্তা বোন, তুই কাল বিকালে শাড়ি পরে রেডি হয়ে থাকিস, তোর সাথে নায়কের মতো ছেলের বিয়ে হবে, বুঝলি?'
ইনায়া অবাক হয়ে বলে,
'তাহলে এই লোক কে? এই লোকটার সামনে আমি শাড়ি পরে যাবো না।'
শুদ্ধ ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,
'শাড়ি না পরলে পেট মোটার সাথে টাকলু-ও অ্যাড হবে। চুপচাপ শাড়ি
পরে রেডি হয়ে থাকবি।'
ইনায়া অসহায় মুখে চেয়ে রইল। কি হলো ব্যাপারটা?
পরদিন বিকালে,
শুদ্ধের কল পেয়ে মাইরা হোস্টেল থেকে নেমে আসে। শুদ্ধ গাড়ির দরজা খুলে মাইরাকে বসতে বললে মাইরা অবাক হয়ে বলে,
'কোথায় যাবো ভাইয়া?'
শুদ্ধ হেসে বলে,
'তোমার ননদের বিয়ে। সেখানেই যাবো। ওঠো।'
মাইরা অবাক হয়ে বলে,
'আমার ননদ?'
শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে বলে,
'তোমার ননদ নেই?'
মাইরা বুঝলো শুদ্ধ তাকে ইরফানদের বাড়ি নিয়ে যাবে। অস্বস্তি নিয়ে বলে,
'ভাইয়া, আমি ওই বাড়িতে যাবো না প্লিজ! আপনার ভাই আমাকে দেখলেই শুধু থাপড়াতে আসে।'
শুদ্ধ শব্দ করে হেসে ফেলে। অতঃপর বলে,
'তুমি আমার ভাইকে অন্যভাবে শায়েস্তা করবে, তুমি তো জিনিয়াস মাইরা! এভাবে পিছিয়ে গেলে হবে?'
মাইরা কি বলবে বুঝল না। বিড়বিড় করল,
'ইচ্ছে তো করে টাক বানিয়ে দিতে।'
এরপর শুদ্ধের জোরাজুরিতে গাড়িতে উঠে বসে। সে টিউশন থেকে মাত্র ফিরেছিল। পরনে বোরখা সাথে হিজাব বাঁধা আছে এখনো, তাই রেডি হওয়ার প্রয়োজন পড়লো না।
শুদ্ধ মাইরাকে নিয়ে ইরফানদের বাড়ি এসে সরাসরি ইনায়ার ঘরে এসেছে। ইনায়া মাইরাকে দেখে বলে,
'আরেকটা মাইরা তুমি? কেমন আছো?'
মাইরা হেসে উত্তর করে,
'আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি আপু। তুমি কেমন আছো?'
ইনায়া উত্তর করে। শুদ্ধ মাইরার উদ্দেশ্যে বলে,
'মাইরা শোনো, ইনায়াকে বিয়ের কনে সাজিয়ে দিবে, তার চেয়েও বেশি
সাজিয়ে দিবে, পারবে না?'
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলে,
'এতো সাজবো কেন আমি?'
শুদ্ধ বলে,
'আমি বলেছি তাই।'
ইনায়া বিরক্ত হয়ে বলে,
'সাজবো না আমি। শুধু শাড়ি পরব।'
শুদ্ধ দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
'বোনের বাচ্চা ত্যাড়া, ত্যাড়ার বাচ্চা বোন, চুপচাপ আমার কথা শোন।
নয়তো দশটা থাপড় খাবি।'
ইনায়া বিরক্ত হলো। তবে কিছু বলল না। মাইরা শুদ্ধের কথা শুনে মিটমিটিয়ে হাসলো। শুদ্ধ মাইরার দিকে চেয়ে বলে,
'আমার বোনকে সাজাতে পারবেনা মাইরা?'
মাইরা মৃদুহেসে বলে,
'একটু একটু পারি। পার্লারের মতো করে পারিনা ভাইয়া।'
শুদ্ধ পাত্তা না দিয়ে বলে,
'ওহ হো মাইরা, আমি তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। মনে কর, একটা লিপস্টিক না চপস্টিক বলে ওটাকে,'
মাইরা আর ইনায়া হেসে ফেলে। শুদ্ধ বোকাচোখে তাকায়। মাইরা হাসি
আটকে বলে,
'ওটা চপস্টিক না, লিপস্টিক।'
শুদ্ধ কিছু একটা ভেবে একটু ভাব নিয়ে বলে,
'আমি এসব জানিনা মানে, আমি পিওর ভার্জিন, বুঝলে? আমার বউটা
কত ভাগ্যবতী হবে, ভাবতেই....'
মাঝখান থেকে মাইরা বলে ওঠে,
'আপনি গর্বে গর্বে গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছেন তাই না ভাইয়া? ব্যাপারটা কিন্তু মারাত্মক কিউট হবে।'
শুদ্ধ ভোতামুখে তাকায়। মাইরা পাশে থাকলে তাকে একটা না একটা উচিৎ জবাব গিলতে হয়। সে আর কিছু বলল না। ইনায়াকে সাজতে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
শুদ্ধ ইরফানদের ড্রয়িং রুমের সোফায় আয়েশ করে বসে আছে। পকেট থেকে ফোন বের করে ফাইজের হোয়াটসঅ্যাপে ইনায়ার শাড়ি পরা একটি পিক পাঠালো, পিকটি কিছুক্ষণ আগে ইনায়ার ঘরে গিয়ে তুলে এনেছে। এরপর একটি মেসেজ লিখল,
'ইনায়াকে সুন্দর লাগছে না সোনা? ওর বর টা আরও বেশি কিউট, জানিস? দেখতে চাইলে চলে আসিস। আমি পাঁচ কেজি চমচম মিষ্টি এনেছি। বোনের বর হবু জামাই আসছে বলে কথা! ওখান থেকে দু'টো মিষ্টি তোর জন্য তুলে রাখরো কাঁদিস না যেন কেমন? তোকে সুখবর, দিলাম সাথে দু'টো মিষ্টি-ও রাখছি। উফ, আমি যে কেন এত দয়ালু!'
এরপর দু'টি লজ্জা পাওয়ার ইমোজি দিয়ে মেসেজটি ফাইজের নাম্বারে সেন্ড করে দেয় শুদ্ধ।
এরপর চোখ বুজে রেখে মিটিমিটি হাসে।
ফাইজ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল অফিস যাবে বলে। শুদ্ধের মেসেজ পেয়ে বেচারা দ্রুত ইরফানের বাড়ির দিকে গাড়ি ঘুরিয়েছে। এই শুদ্ধকে বিশ্বাস নেই।
প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় ইরফানের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছায়। গাড়ি থেকে নেমে ফাইজ দ্রুতপায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে বেল চাপে। রুমা নেওয়াজ দরজা খুলে দিলে ফাইজ সালাম দেয় ভদ্রমহিলাকে।
এরপর জিজ্ঞেস করে,
'আন্টি, শুদ্ধ কোথায়?'
রুমা নেওয়াজ উত্তর দেন,
'ড্রয়িং রুমে আছে বাবা। ওদিকে যাও।'
ফাইজ দ্রুতপায়ে ড্রয়িংরুমের দিকে যায়। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখল তারেক নেওয়াজ, শুদ্ধ, একটি অপরিচিত ছেলে বসে আছে সোফায়। তাদের সামনে ইনায়া শাড়ি পরে বসে আছে, পাশে মাইরা। যাকে সে শুদ্ধের বাড়ি দেখেছিল, শুদ্ধের কপি ভার্সন হিসেবে। তারেক নেওয়াজ ফাইজকে দেখে বলে,
'ফাইজ আব্বু যে, এসো এসো ভেতরে এসো।'
ফাইজ ভেতরে এসে ভদ্রতাসূচক তারেক নেওয়াজকে সালাম দিল। আড়চোখে ইনায়ার দিকে তাকালো, আরেকবার শুদ্ধের পাশে বসা অপরিচিত ছেলেটির দিকে তাকালো। ইচ্ছে তো করছে ইনায়াকে জন্মের মতো শাড়ি পরা ভুলিয়ে দিতে। শুদ্ধ ফাইজের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটিয়ে হাসছে। ফাইজ শুদ্ধের পাশে এসে বসলো। শুদ্ধ ফিসফিসিয়ে বলে,
'সামনের সোফায় যা সোনা। নয়তো ইনায়ার হবু বরকে ঝাপসা দেখবি তো!'
ফাইজ কটমট দৃষ্টিতে তাকায় শুদ্ধের দিকে। এখানে তারেক নেওয়াজ না থাকলে সে যে কি করতো। ফাইজ হঠাৎ-ই দাঁড়িয়ে গিয়ে তারেক নেওয়াজের উদ্দেশ্যে বলে,
'আঙ্কেল, শুদ্ধের সাথে আমার কাজ আছে। আপনারা বসুন।'
শুদ্ধ হাসি লুকিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ভাবলো ফাইজকে আরেকটু জ্বালিয়ে আসা যাক। ফাইজ নিজেই শুদ্ধের হাত ধরে টেনে ড্রয়িং রুমের বাইরে নিয়ে যায়। এরপর রেগে বলে,
'তুই আঙ্কেল আন্টিকে ভুলিয়ে ভালিয়ে এই ছেলেকে এনেছিস তাইনা?
ইনায়ার বিয়ে হয়ে গেলে তোকে খুন করে ফেলব বলে দিলাম।'
শুদ্ধ ফাইজের বুকের বা পাশে হাত রেখে ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে, 'আহারে, লিটল কুইনের জন্য এখানে খুব ব্যথা হচ্ছে তাই না সোনা? আমি মালিশ করে দিব তো, বলছি তেল গরম করে আনি, একটু ওয়েট করবি?' ফাইজ শুদ্ধর কলার ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
'তোকে আমি ছাড়বো না শুদ্ধ।'
শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে ফাইজকে জড়িয়ে ধরে বলে,
'এইযে আমি ধরলাম। তোকে ছাড়তে হবে না সোনা।'
ফাইজ শুদ্ধকে ধাক্কা দেয়। শুদ্ধ দু'পা পিছিয়ে গিয়ে অসহায় কণ্ঠে বলে, 'আমার সোনা টা রা'গ করেছে! আয় সোনা, একটা চুমু খেয়েই রা'গ
ভাঙিয়ে দিচ্ছি।'
ফাইজের ইচ্ছে করছে একে কাঁচা চিবিয়ে খেতে। শুদ্ধ আবারও এগিয়ে
আসলে ফাইজ বিরক্ত কণ্ঠে বলে,
'এরকম করছিস কেন? লিটল কুইনকে ভালোবাসি আমি।'
শুদ্ধ দু'হাত প্যান্টের পকেটে রেখে, দু'পা সামান্য ফাঁক করে দাঁড়িয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
'তোর বোনকে দিবি, আমার বোনকে নিবি। সহজ হিসাব।'
ফাইজ রেগে বলে,
'আমার বোনের উপর তোর নজর কবে পড়েছে?'
শুদ্ধ হেসে বলে,
'তোর বোনটা পুরাই আগুণ সোনা! আহ! কবে যে বিয়েটা করব, আর তারপর ওকে...'
ফাইজ রেগে বলে,
'তোর লজ্জা করেনা আমার সামনে এসব বলতে, আমি ফারাহ'র বড় ভাই।'
শুদ্ধ লজ্জা পাওয়ার ভান করে বলে,
'সেই লজ্জা পাচ্ছি। ইশ! বিয়ের পর কি যে হবে আমার আর তোর বোনের! ভাবতেই আমি লজ্জায় কালো হয়ে যাচ্ছি রে!'
ফাইজ চোখমুখ কুঁচকে তাকালো। এই বেয়াদবটা জীবনে ভালো হবে না।
শুদ্ধ যথেষ্ট ভালো ছেলে। জীবনসঙ্গী হিসেবে শুদ্ধকে যে পাবে নিঃসন্দেহে সে ভাগ্যবতী হবে। এটা ফাইজ অস্বীকার করতে পারবে না।
ঠিক সেভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না, এই বাঁদরের বাঁদরামিতে জীবন অতিষ্ঠ হবে। কিন্তু রাজি না হলে এই বাঁদর সত্যি সত্যি তার লিটল কুইনকে অন্য কোথাও বিয়ে দিবে, ইরফানের যা মেজাজ, ওর বোনকে পছন্দ করে জানলে তাকে না জানি কি করে! তবে শুদ্ধ যেমন বিপদের, তেমনি খুব কাজের। এ চাইলে চুটকি বাজিয়ে ইনায়ার সাথে তার সব সেট করে দিবে। সবচেয়ে বড় কথা, শুদ্ধ মানুষ হিসেবে ভালো। ওকে তার বোনের বর হিসেবে না মানার মতো তেমন কোনো কারণ নেই। এসব ভাবনা রেখে ফাইজ বলে,
'টাইম দে। বাবা মা কে রাজি করাতে হবে।'
শুদ্ধ হাসলো। সে পারেনা এমন কোনো কাজ আছে না-কি! অতঃপর মিটিমিটি হেসে বলে,
'ইনায়ার শর্ত আছে।'
ফাইজ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। শুদ্ধ বহুকষ্টে তার হাসি চেপে রাখলো। অতঃপর বলে,
'ইনায়ার ইচ্ছে, ইনায়া যাকে বিয়ে করবে, বিয়ের আগে ওর হবু বরের
প্যান্ট খুলে চেক করবে, সব ঠিকঠাক আছে কি-না!'
শুদ্ধর কথাটা শুনে ফাইজ চোখ বড় বড় করে তাকায়। হতভম্ব হয়ে
বলে,
'কিহহহ!'
শুদ্ধ মুখ চেপে হাসছে। ফাইজ আবারও কিছু বলতে গিয়ে পিছনে ইনায়াকে দেখে কেশে ওঠে। ইনায়া বিস্ময় দৃষ্টিতে ফাইজের দিকে চেয়ে আছে। মাইরা একবার শুদ্ধর দিকে তাকায়, আরেকবার ফাইজের দিকে তাকায়। ইনায়ার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে,
'আপু সত্যি তোমার এরকম ইচ্ছে?'
ইনায়া শব্দ করে বলে ওঠে, 'ছিঃ!'
ইনায়ার কথা শুনে শুদ্ধ পিছু ফিরে তাকায়। অতঃপর হেসে বলে, 'সত্যি কথা বললে সবার রিয়েকশন ছিঃ-ই হয়। তাই না বোন?'
শুদ্ধর কথা শুনে মাইরা শব্দ করে হেসে ফেলে।
ফাইজ কোমরে হাত দিয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে সমানে কাশছে। শুদ্ধ ফাইজের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলে,
'সত্য কথায় কারো কারো আবার কাশি-ও উঠে যায়!'
ইনায়া লজ্জায় মাইরার হাত ধরে টেনে দ্রুত তার ঘরের দিকে যায়। এই শুদ্ধ ভাইয়ার জন্য তাদের জীবন অতিষ্ঠ।
ইনায়া চলে গেলে ফাইজ শুদ্ধর দিকে চেয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, 'বেয়াদব, তুই ভালো হবি না?'
শুদ্ধ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে,
'চুমু খেতে লেট করছি বলে এভাবে বলছিস? এক্ষুনি চুমু খাচ্ছি সোনা, আয় আয়!'
ফাইজ বিরক্ত হয়, ভেতর থেকে রাতুল বেরিয়ে এসে বলে,
'শুদ্ধ, এখানে কি করিস? ভেতরে আয়।'
ফাইজ রাতুলের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। শুদ্ধ রাতুলের ঘাড়ে ডান হাত তুলে ফাইজের দিকে চেয়ে হেসে বলে,
'পরিচয় করিয়ে দিই। আমার মামাতো ভাই রাতুল।'
রাতুল ফাইজের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলে ফাইজ রাতুলের সাথে হাত মেলায়। ফাইজ অবাক হয়, খুব বুঝল শুদ্ধর কারসাজি! শুদ্ধর দিকে রেগে তাকায়। এই বেয়াদব কি লেভেলের বাঁদর ভাবা যায়?
শুদ্ধ ফাইজের দৃষ্টি পাত্তা দিল না।
ফাইজের দিকে চেয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
'কেমন দিলাম?'
ফাইজ বিরক্ত হলো, এই বাঁদরকে আর কি বলবে?
তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইনায়াকে কেউ দেখতে আসেনি ভেবে।
এরপর রাতুলের সাথে টুকটাক বলে। এরপর শুদ্ধকে মৃদুস্বরে
বলে,
'ইনায়ার সাথে একটু কথা বলার ব্যবস্থা করে দে।'
শুদ্ধ ভাবুক হয়ে বলে,
'ব্যবস্থা করা যায়! আগে ফারাহ'র সাথে আমার ব্যবস্থা করে দে।
করবি?'
ফাইজ কটমট দৃষ্টিতে তাকায় শুদ্ধের দিকে। দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
'কোনো দরকার নেই।'
শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে বলে,
'তাহলে এবার যেতে পারিস। তোর ভাগের মিষ্টি আমি খেয়ে ফেলেছি।
এখানে থেকে আর কি করবি সোনা?'
ফাইজ বিরক্ত হয়। আর কিছু বলল না। এর সাথে কথা বলাই বেকার।
বাড়ি থেকে বেরোতে নিলে রুমা নেওয়াজ ফাইজকে পিছু ডাকে কিছু খাওয়ার জন্য। ফাইজ আরেকদিন আসবে বলে চলে যায়। এই শুদ্ধের জন্য কাজ ফেলে চলে এসেছিল।
মাইরা ইনায়ার ঘরে এসে ইনায়াকে বলে,
'আপু, তোমার না আজকে বিয়ে? এই বাড়ি সাজায়নি কেন? আর তেমন মানুষ-ও নেই।'
মাইরার কথায় ইনায়া হেসে ফেলল। গতকাল শুদ্ধ তাকে এক পেট মোটা লোকের পিক দেখিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আজ যখন ইনায়া শাড়ি পরতে রাজি হচ্ছিল না, তখন শুদ্ধ বলেছে, বাড়িতে ইনায়াকে দেখতে আসবে না। তবে ইনায়া যদি আজ শাড়ি পরে, তাহলে শুদ্ধ তাকে তার ইচ্ছা মতো ১০ টা শাড়ি কিনে দিবে। ইনায়া কোনো প্রশ্ন ছাড়া-ই শাড়ি পরতে রাজি হয়েছে। ভাইদের কাছ থেকে এমন অফার পাওয়া মানে বিশাল কিছু। অতঃপর মাইরাকে বলে,
'আরে শুদ্ধ ভাইয়া ঢপ দিয়েছে তোমাকে। প্রথমে আমাকেও দিয়েছিল।'
মাইরা বুঝল শুদ্ধ তাকে এখানে আনার জন্য মিথ্যা বলেছে। সে খাবার খাওয়ায় মনোযোগ দিল। এই বাড়ি থেকে যেতে পারলে যেন বাঁচে মেয়েটা।
শুদ্ধ মাইরাকে ইরফানের বাড়ি ঘড়ির কাটা জানান দেয় রাত ৮ টা। এসেছিল সন্ধ্যার আগে আগে।
মাইরা রুমা নেওয়াজ, ইনায়াকে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে শুদ্ধের সাথে। শুদ্ধ তাকে হোস্টেলে রাখতে যাবে।
মাইরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ইরফানকে একবারও দেখেনি, হয়তো বাসায় ছিল না, এই ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মাইরা। হঠাৎ রাস্তার অপর-পাশে পরিচিত গাড়ি দেখে মাইরা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। শুদ্ধের গাড়ি ভেতরে গ্যারেজে। তাহলে এটা কার? এটা ইরফানের বাড়ি, গাড়িটা ইরফানের গাড়ি-ই লাগছে। ভার্সিটিতে প্রতিদিনই তো দেখে। মাইরা ঢোক গিলল। মাত্র ভাবলো এই লোকের সাথে দেখা হয়নি, বেঁচে গিয়েছে, ওমনি হাজির! কিন্তু মাইরার মনে হলো গাড়িতে কেউ নেই। মাইরা ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখল, আসলেই গাড়িতে কেউ নেই। মাইরা আশেপাশে তাকালো। একদম ফাঁকা। মুখে চুইনগাম চিবোতে চিবোতে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায় আর মনে মনে হাসে। দুষ্টুমি করার সুযোগ পেলে মিস করা যায় না-কি!
গতবার চুইনগাম লাগিয়ে দেয়ায় ইরফান ঘুষি মেরে গাড়ির কাঁচ ভেঙেছিল, কি রাগ বাবা! অবশ্য ছেলে মানুষের রাগ দেখতে ভালোই লাগে। আগেরবারের মতো এইবারও এটা লাগিয়ে-ই দৌড় লাগাবে, ততক্ষণে শুদ্ধ ভাইয়া-ও এসে যাবে। মাইরা তার মুখ থেকে চুইনগাম বের করে বাম হাতে নেয়, গাড়ির দরজায় লাগাতে গিয়ে ভাবলো এর আগে গাড়ির দরজায় লাগিয়েছিল, এবার গাড়ির স্টিয়ারিং-এ লাগালে আরও ভালো হবে। ভাবনা অনুযায়ী ইরফানের গাড়ির দরজা খুলে ফেলে। এরপর আশেপাশে তাকিয়ে আবারও দেখে নেয়, কেউ আছে কি-না! কাউকে না দেখে গাড়ির ভেতর একটুখানি এগিয়ে গিয়ে হাতের চুইনগাম গাড়ির স্টিয়ারিং-এর নিচের দিকে ভরিয়ে দিতে থাকে মনোযোগের সাথে।
ইরফান একটি ইম্পর্ট্যান্ট কল রিসিভ করতে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গাড়ির পাশে এসে দাঁড়িয়ে মাইরাকে চিনতে পারে, গাড়ির ভেতর লাইট জ্বালানো, যার ফলে মাইরার করা অকাজ ইরফানের চোখ এড়ায় না। ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগান্বিত স্বরে বলে,
'হোয়াট দ্য হেল?'
মাইরা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। দ্রুত উল্টো ঘুরে তাকায়, ইরফানকে দেখে ঢোক গিলে, সরতে চাইলে নিজের পায়ের সাথে নিজের পা বেঁধে সিটের উপর ঠাস করে পড়ে যায়।
শুদ্ধ গাড়ি দাঁড় করিয়ে, গাড়ি থেকে নেমে মাইরাকে খুঁজছিল। ইরফানকে দেখে এগিয়ে এসে ইরফানের পিছনে এসে দাঁড়িয়ে মাইরার করা কান্ড দেখে অবাক হয়, এই মাইরাটার কি সাহস! শুদ্ধ কিছু বলতে গিয়ে-ও জিভ গুটিয়ে নেয়।
ইরফান তার গাড়ির ভেতর থেকে মাইরাকে টেনে বের করার জন্য একটু নিচু হলে শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে পিছন থেকে বেশ কায়দা করে ইরফানকে ধাক্কা দেয়, ফলস্বরূপ ইরফান মাইরার উপর ঠাস করে পড়ে যায়। মাইরার ঠোঁটজোড়ার সাথে ইরফানের ঠোঁটজোড়া মিলিত হয়। ইরফান ও মাইরা দু'জনেই চোখ বড় বড় করে দু'জনের দিকে তাকায়।
শুদ্ধ দ্রুত পকেট থেকে ফোন বের করে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা পিক ক্লিক করে নেয়। পিকগুলোর দিকে একবার নজর দিলে শুদ্ধর নিজের-ই চোখ বড় বড় হয়ে যায়। দ্রুত ফোনের আলো অফ করে ফোন পকেটে রাখে। ছিঃ! ছিঃ! এসব দেখে তো সে অশুদ্ধ হয়ে গেল রে! তবে মিটিমিটি হেসে বিড়বিড় করল,
'খেলা জমে ক্ষির!'
এরপর গলা ঝেড়ে বলে,
'কি রে ইরফান, তোর কিসমিস খাওয়া হলো?'
ইরফান সীতাকুণ্ড গিয়ে এর আগেও নিজের খেই হারিয়ে মাইরাকে দু'বার চুমু খেয়েছিল। এবারও নিজের খেই হারিয়ে মাইরার ঠোঁটজোড়া আঁকড়ে ধরতে নিয়েছিল, তখনই শুদ্ধ'র কথায় ইরফান সম্বিৎ ফিরে পায়। এক সেকেন্ডও সময় ব্যয় না করে দ্রুত মাইরার উপর থেকে উঠে দাঁড়ায়।
মাইরা হতদন্ত হয়ে গাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এক দৌড় দিতে গেলে ইরফান শক্ত হাতে মাইরার হাত টেনে ধরে। লজ্জায় মাইরার মাথা কাটা যাচ্ছে। সে তওবা করল, আর জীবনে ইরফানের পিছে লাগতে আসবে না। মাইরা মাথা নিচু করেই হাত মোচড়ায়, ইরফান মাইরার হাত ছাড়লো না। একে তো এই স্টুপিড মেয়েটাকে দেখলেই তার কি যেন হয়ে যায়, যে কারণে সে নিজের উপর সাথে এই স্টুপিড মেয়ের উপর চরম বিরক্ত। এখন প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। মাইরার দিকে চেয়ে শক্ত গলায় বলে, 'আমাকে কি করেছ কেন, স্টুপিড?'
মাইরা হাসফাস করে। একটানা হাত মোচড়ায়। ছাড়াতে না পেরে চোখেমুখে অসহায়ত্ব ঘিরে ধরে। মাথা উঁচু করে মিনমিন করে বলে, 'আমি কিছু করিনি, আপনি আমার উপর এসে পড়েছেন। আমি না আপনার......'
শুদ্ধ এদের দেখে মিটিমিটি হাসছিল। মাইরার কথার মাঝে থামিয়ে দিয়ে শুদ্ধ বলে ওঠে,
'বউ। মাইরা তো তোর বউ। একটু কিসমিস খেতে চাইতে পারে না?'
ইরফান শুদ্ধর দিকে চেয়ে রেগে বলে,
'সাটআপ।'
শুদ্ধর কথায় মাইরার কাঁদতে ইচ্ছে করল। সে বলতে চেয়েছিল সে ইরফানের স্টুডেন্ট, মাঝখান থেকে শুদ্ধ চরম সত্যি কথা বলে দিল।
ইরফানের হাত আলগা হয়েছে বুঝতে পেরে মাইরা তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে এক দৌড়ে শুদ্ধর গাড়িতে গিয়ে উঠে বসে।
ইরফান শক্ত চোখে মাইরার দিকে চেয়ে রইল। শুদ্ধ ইরফানের বাহুতে হাত রেখে লজ্জা পাওয়ার ভান করে বলে,
'তোকে বসতে দিলাম, আর তুই শুয়ে পড়লি? আহা! আমার সোনা টা কত লুমান্টিক!'
ইরফান রেগে শুদ্ধর কলার ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
'তোদের দুই বাঁদরকে ছাড়বো না আমি।'
শুদ্ধ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে, 'ওয়াও! সত্যি! যাই মাইরাকে এই সুখবরটা দিয়ে আসি!'
একটু থেমে মিটিমিটি হেসে বলে,
'আমাকে যেভাবে ধরার ধরিস, মাইরাকে কিভাবে ধরবি যেন?'
ইরফান বিরক্ত হয়ে শুদ্ধকে ধাক্কা দেয়। এরপর গটগট পায়ে বাড়ির ভেতর চলে যায়। যাওয়ার আগে দারোয়ানকে গাড়ির চাবি দিয়ে যায়, আর বলে, গাড়ির স্টিয়ারিং ক্লিন করে গাড়ি গ্যারেজে তুলে রাখতে।
শুদ্ধ হাসলো। সে ভেবেছিল, মাইরাকে এনে আসল কাজটা-ই হলো না, ইরফান না থাকায়। কিন্তু লাস্টে এসে তো আসল কাজের পুরো পিএইচডি হয়ে গেল। বাহ! বাহ!
এরপর এগিয়ে যায় মাইরাকে তার হোস্টেলে রাখতে যাওয়ার জন্য।
রাত ১২ টার কাছাকাছি।
ইরফান উদাম শরীরে ডিভানের উপর পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। ভার্সিটি রিলেটেড কিছু কাজ করছে ল্যাপটপে। আর একটু পর পর ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিচ্ছে।
ফোনে টুং করে পর পর কয়েকটা নোটিফিকেশন আসতেই ইরফান হাতে ফোন নিয়ে চেক করে। ইমোতে গিয়ে দেখল শুদ্ধ কিছু পিক সেন্ড করেছে। ইরফান তীক্ষ্ণ চোখে পিকগুলোর দিকে তাকায়। দু'আঙুলের সাহায্যে পিকগুলো জুম করে করে দেখে। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার আর মাইরার ঠোঁটজোড়া মিলিত। ইরফান প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো পিকগুলোর দিকে চেয়ে রইল গম্ভীর মুখাবয়বে, তার অনুভূতি বোঝা যায় না।
হঠাৎ-ই মাইরার করা বাঁদরামির কথা মনে পড়লে বিরক্ত কণ্ঠে আওড়ায়, 'স্টুপিড বাঁদর।'
পিকগুলো ডিলিট করতে গিয়ে-ও করল না ইরফান। বরং সেইভ করে রাখলো। এরপর ফোন রেখে আবারও তার কাজে ব্যস্ত হয়।
পরদিন,
মাইরা মিলাকে টেনে ধরে বসে আছে মাঠের এক কোণে। মাইরা নিজেও ক্লাসে যাচ্ছে না, মিলাকেও যেতে দিচ্ছে না। তাদের প্রথম ক্লাস থাকে ইরফানের। গতকাল ইরফানদের বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মাইরা ইরফানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে সে লজ্জায় হার্ট অ্যাটাক করবে। একটু পর পর ডান হাত তুলে ঠোঁটে ছোঁয়ায়, মনে হচ্ছে ইরফানের ঠোঁটের ছোঁয়া এখনো তার ঠোঁটে লেগে আছে। যতবার ভাবছে ইরফানের ঠোঁট তার ঠোঁটের সাথে লেগেছিল, ততবার পুরো শরীর শিউরে উঠছে। এ কী অনুভূতি তার!
মিলা রেগে বলে,
'কি সমস্যা তোর? ক্লাস মিস দিলে তোর ইরফাইন্না স্যার বাঁশ দিবে, ভুলে গেলি? এমনিতেই একটা বাঁশ খেয়ে বসেই আছিস, তাও শিক্ষা হচ্ছে না?'
মাইরা অসহায় চোখে তাকালো। সে বলতে-ও পারছে না, সইতেও পারছে না। কি করবে এখন? আসলেই তো সে আর কত বাঁশ খাবে? তার প্রথম সেমিস্টারে ইংলিশে ইরফান তাকে ইচ্ছে করে ফেইল করিয়ে দিয়েছে, আবার রিটেক দিতে হবে তাকে। এখন এভাবে ক্লাস মিস দিলে, না জানি সেই রিটেকেরও আবার রিটেক দেয়া লাগে। মিলা মাইরাকে ঝাঁকিয়ে বলে,
'কি রে, যাবি না-কি থাকবি?'
মাইরা চেঁচিয়ে বলে,
'চল চল, মনে হচ্ছে ক্লাস উড়ে যাচ্ছে। ওই জিনিস ইরফাইন্না স্যারকে না
দেখলে তো তোর হচ্ছে না!'
কথাটা বলে মাইরা মিলার হাত ধরে টেনে ক্লাসের দিকে যেতে থাকে।
মিলা তব্দা খেয়ে চেয়ে আছে। ডান হাতে মাইরার পিঠে থাপ্পড় দিয়ে
বলে,
'বেয়াদব, আজেবাজে কথা বলার জায়গা পাস না?'
মাইরা পাত্তা দিল না। ক্লাসরুমে গিয়ে একদম লাস্টে গিয়ে বসে।
কিছুক্ষণ পর ইরফান ক্লাসরুমে প্রবেশ করে। মাইরা নিজেকে গুটিয়ে মিলার দিকে চাপতে থাকে, যেন ইরফান তাকে একটু-ও দেখতে না পায়। মিলা হঠাৎ-ই ফিসফিসিয়ে বলে,
'জানিস মাইরা, তামিল মুভিতে নায়কদের চুল, দাঁড়ি কি সুন্দর বড় বড় থাকে, আমার তাদের হেব্বি লাগে। এই দু'টো-ই ইরফান স্যারের মাঝে আছে। সেই লাগে রে ইরফান স্যারকে। শুধু একটু কম রাগ আর হাসলেই একদম পারফেক্ট হতো!'
মিলার কথা শুনে মাইরা চোখ ছোট ছোট করে তাকায় মিলার দিকে। এরপর সামনে দাঁড়ানো ইরফানের দিকে তাকায়। ইরফান গম্ভীর মুখাবয়বে লেকচার দিতে ব্যস্ত।
মিলার কথাটা মাইরার একটুও ভালো লাগলো না। মনে হচ্ছে মিলা ইরফানের দিকে নজর দিচ্ছে। যতই হোক, ইরফান তার স্বামী! কথাটা ভাবতেই মাইরা নিজেই যেন নিজের কাছে থতমত খায়। এসব ভাবনা বাদ রাখলো। গলার জোর কমিয়ে মিলার উদ্দেশ্যে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
'তোর নজর ঠিক কর মিলা। বদনজর দেয়া মহিলাদের মতো হলে তোর পাছায় লাথি দিয়ে তোকে এই ক্লাসরুম থেকে বের করে দিব, বলে দিলাম।'
মিলা কিছু বলতে চায়, তবে তার চোখে পড়ল মাইরার পাশে ইরফান
দাঁড়িয়ে মাইরার দিকে রেগে তাকিয়ে আছে। মাইরা মিলার দৃষ্টি অনুসরণ করে বামদিকে তাকালে ইরফানকে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
ইরফান শক্ত কণ্ঠে বলে,
'স্টুপিড গার্ল। আর একটা কথা বললে থাপ্পড় দিয়ে সব দাঁত ফেলে এই ভার্সিটি থেকে তোমাকে আউট করে দিব। আন্ডারস্ট্যান্ড?'
কথাটা বলে গটগট পায়ে সামনে চলে যায়। মাইরার ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। আর কত অঘটন ঘটবে তার সাথে! অনেকেই
মাইরার দিকে চেয়ে আছে। মাইরা সবার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকালো। সে জোকার না-কি! বরং এই ইরফাইন্না স্যার অসহ্যকর। হুটহাট সবখানে চলে আসে।
মাইরার দৃষ্টি দেখে সবাই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বসে।
মিলা মুখ টিপে হেসে মাইরার বাহুতে হাত বুলিয়ে বলে,
'তোর ভাগ্য টা সেই মাইরা!'
মাইরা কটমট দৃষ্টিতে তাকালো মিলার দিকে। মিলা হাসি আটকে সামনে দৃষ্টি রাখে।