#মনের_রঙে_তুমি
#লেখনীতে: সুমনা সাথী।
[০৩]
মীর বাড়ির সদস্য সংখ্যা খুব বেশি নয় আহির, তার ছোট ভাই আরোশ, মা আরিফা বেগম, বাবা রউফ মীর, দাদা তায়েফ মীর এবং দাদি আনজোরা বেগম। সবাই বসেছে ডাইনিং টেবিলে। ঝকঝকে পরিবেশ। ছিমছাম সাজানো খাবারের পাত্র। সব ঠিকঠাক। শুধু এক জায়গায় অস্বস্তি নুহার মনে। এই বাড়ি, এই মানুষগুলো সবাই অচেনা। পরিচিত বলে কেউ নেই৷ সবমিলিয়ে নতুন পরিবেশে সে বেশ অসস্তিতে আছে। নুহার চোখ হঠাৎই গিয়ে পড়লো আহিরের দিকে। মনে পড়ে গেল আহিরের সেই শর্তের কথা।ভেতরটা কেমন যেন ধমকে উঠল। মনে হলো, এই মুহূর্তেই যদি হাতে ধরা কাটা চামচটা আহিরের বুকে ঠুকে দেওয়া যেত, তৃপ্তি হতো! শয়তান! বেয়াদব!
ঠিক তখনই আহিরও চোখ তুলল। চোখাচোখি হতেই নুহা তড়িঘড়ি করে মাথা নিচু করে ফেলল। তায়েফ মীর কথা বললেন,
' তা দাদুভাই, শেষমেশ তাহলে বিয়েটা করছো? তোমার মা বলল মেয়ে নাকি তোমার পছন্দ হয়েছে। তাহলে আর দেরি কিসে? দিনক্ষণ ঠিক করে ফেললেই হয়। শুভ কাজে বিলম্ব করাটা ভালো না।'
আহির হাতের চামচটা মাঝপথে থামিয়ে রাখল। চোখ ঘুরিয়ে একবার তাকাল নুহার দিকে চোখে-মুখে বিরক্তি নিয়ে আহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আহির স্বাভাবিক ভাবে বলল,
' হ্যাঁ দাদু, মেয়ে পছন্দ হয়েছিল ঠিকই। তবে মেয়েটা বয়সে অনেকটাই ছোট হবে। এই বয়সী মেয়েরা সাধারণত আমাদের মতো ছেলেদের খুব একটা পছন্দ করে না। তাই ভাবছি বিয়েটা না করাই ভালো।'
আরিফা বেগম ছেলের এমন কথায় চোখ রাঙালেন। চাপা রাগ আর কিছুটা অভিমান নিয়ে বললেন,
' এটা কেমন কথা আহির? আরোযা আমার বান্ধবীর মেয়ে। সেই ছোটবেলা থেকে তোদের বিয়ের কথা ভাবছি আমি। ওকে আমার বউমা করব এ ইচ্ছেটা কত দিনের জানিস? আর তুই বলছিস বয়স কম! ভার্সিটিতে পড়ে মেয়ে, ছোট কী করে হয় বলতো?'
আরোশ একটু ভাবুক ভঙ্গিতে করল,
' ছোট হয় না আবার? এই যে নুহা, ওকে দেখেই তো বোঝা যায় কতটুকু বড়। তাছাড়া ভাইয়া হয়তো মেয়েটাকে পছন্দ করেনি আম্মু কারণ... দেখতে অতটাও সুন্দর না। আমার তো মনে হয় বরং আব্বু যাকে পছন্দ করেছিল তার সঙ্গেই ভাইয়ার বিয়ে হওয়া উচিত। মেয়েটা সুন্দর ভাইয়া আর আমার মতোই স্মার্ট। '
আরিফা বেগম ক্ষুদ্ধ চোখ তাকালেন আরোশের দিকে।
রউফ মীর চুপচাপ বসে আছেন মুখে মুচকি হাসি। খাবার টেবিলে বাকি সবাই বেশ চুপচাপ। নুহা অবাক হয়ে একেক জনকে দেখছে। সবাই বেশ স্বাবাবিক। আরিফা বেগম গম্ভীর গলায় বললেন,
' চুপ কর! ভাইয়ের চামচা! কাল থেকে আমার হাতে আর খেতে দিবো না তোকে, তোর আব্বুর পছন্দ করা ভাইয়ের বউয়ের হাতে খাস! আর নুহা কি হ্যাঁ, "আপু" ডাকবি ঠিক।'
আরোশ একটু চুপসে গেল। বয়সে বড় হলেও রাতের খাবার সে একা খেতে পারে না। সবসময় মায়ের হাতেই খায়। হঠাৎ এমন কথা শুনে মুখটা শুকিয়ে গেল তার।
চুপচাপ খেতে লাগল সে। তায়েফ মীর আবার গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
' আহ বউমা, রাগ করছো কেনো? হতে পারে দাদুভাইয়ের মেয়েটা পছন্দ হয়নি। জোর করে তো আর ভালোলাগানো যায় না! তাই না?তা দাদুভাই, একটা কথা বলো তোমার কি নিজের কেউ আছে? মানে যাকে তুমি নিজে পছন্দ করো? থাকলে বলো না, আমরা দেখে নিই। আর কতদিন এমনি এমনি চলবে? বয়স তো তোমার কম হলো না।'
আহির গম্ভীর গলায় বলল,
' তোমরা আমার বিয়ের জন্য এত তাড়াহুড়ো করছো কেন বলো তো? যেন আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি! আমার বয়স আর কতই বা? মাত্র সাতাশ!'
রউফ মীর এক চুমুক পানির গ্লাসে দিয়ে বিরক্তি চেপে রেখে বললেন,
' মাত্র সাতাশ? আমার সাতাশে তুই সাত বছরের ছিলি। তোর মাকে তাহলে কত বছরে বিয়ে করেছি একটু ভাব। এসব ইতিহাস তুই বুঝবি না, তুই তো আবার ডাক্তার সাইন্স এর ছাত্র। '
আহির কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
' সেটা তোমার সমস্যা আব্বু। তুমি বাল্যবিবাহ করেছো। আর এখন সেটাকেই ইতিহাস বলে চালিয়ে দিচ্ছো।'
' ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলাম আমি। যদি ওটাই বাল্যবিবাহ হয়, হোক। ভালোবেসেছিলাম, বিয়ে করেছি। প্রয়োজনে আবার করবো! তোমার মতো বসে বসে বুড়ো হবো! আমার ছেলে এমন হলো কি করে বলোতো আরো?'
আরোশ ভাবুক ভঙ্গিতে চোখে থাকা চশমার কাঁচটা ঠেলে দিয়ে বলল,
' আবার করবা মানে কী আব্বু? বলে দিচ্ছি দ্বিতীয় মা কিন্তু একদম এলাউ করবো না! আমার আম্মু বেস্ট!'
টেবিলে খানিকটা থমথমে ভাব জমে গেল। সবার মুখে চাপা হাসি। রউফ মীর ভ্রু কুঁচকে একবার ছেলেদের দিকে তাকালেন, তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারেন না এরা তার ছেলে। এদের মানুষ করেছিলেন কোন ভুলে। বউ ছেলে মিলে তার জীবন শেষ করতে বাকি রেখেছে।
আরিফা বেগম তখনো আরোশকে নিজ হাতে খাওয়াচ্ছিলেন। মুখে কোনো কথা না বলেই থামলেন।
হাতে থাকা প্লেটটা শব্দ করে টেবিলে রেখে তিনি ড্রয়িং রুমের দিকে চলে গেলেন। আরোশ বিস্মিত হয়ে পিচু ডাকলো,
' আম্মু, আমার খাওয়া শেষ হয়নি তো!'
উত্তর এলো,
' বড় হয়েছিস, একা একা খা। কয়দিন পর তো একা একা বিয়েও করবি! তখন মায়ের দরকার কী?'
আহির যেতে যেতে আরোশের মাথায় হালকা চাপড় দিয়ে বলল,
' নিজে খেয়ে ফেল ভাই। সব আব্বুর দোষ! উনিই আম্মুকে রাগিয়েছেন।তোর ভাই বেস্ট তুই তো জানিস। '
এক এক করে সবাই টেবিল ছেড়ে উঠে গেল। রউফ মীর বসে রইলেন চেয়ারে হেলান দিয়ে। হাতে পানির গ্লাস ধরা।
মনে মনে কি যেন ভাবতে লাগলেন। আরোশ খাবারের চামচ থামিয়ে একটু কাত হয়ে বাবার দিকে তাকাল।
রউফ মীরের চোখের দিকে চোখ পড়তেই তিনি ভ্রু কুঁচকে চোখ রাঙিয়ে দিলেন। বলতে চাইলেন, 'খাবি খা চুপচাপ, সেন্টিমেন্ট দেখিয়ে কী হবে!'
--------------
নুহা বারান্দায় এসে দাঁড়াল। বাহিরে আকাশ মেঘে ঢাকা। চাঁদের আলো কুয়াশার মতো আবছা। ডাইনিং টেবিলের খুনসুটি, বাবা-ছেলের হাসি সবই সুন্দর, কিন্তু সেই সৌন্দর্য যেন বিষে পরিণত হলো নুহার হৃদয়ে। ভেতর থেকে ওঠে এলো পুরোনো অভিমান। একরাশ না পাওয়া। এক পাহাড় সমান শূন্যতা। চোখের কোণে ভিজে এলো অজান্তেই। তারপর ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইল আকাশের দিকে। চাঁদটাও আজ যেন বুঝে গেছে তার মনখারাপ। এই চাঁদই তো নুহার একাকিত্বের বন্ধু। সাক্ষী বহু রাতের অশ্রুজলের।এমন সময় ফোনে কথা বলতে বলতে আহির এসে দাঁড়াল বারান্দায়। নুহার দিকে চোখ পড়তেই থমকে গেল। নুহার পরনে হালকা গোলাপি কুর্তি। গায়ে সাদা ওড়না। খোলা চুলে চাঁদের আলো পড়ে মোহনীয় হয়ে উঠেছে মেয়েটা। কিন্তু চোখের পানির উৎস টা আহির বুঝলো না? বারবার হাতের উল্টোপিঠে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।আহির এগিয়ে এল। কণ্ঠে কিছুটা ঠাট্টার নিয়ে বলল,
' এত রাতে একা এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?ব্রেকআপ হয়েছে নাকি?'
নুহা একবার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল,
' চাঁদটা আজও মেঘে ঢেকে গেছে… ছোটবেলায় এই দৃশ্যটা খুব বিরক্ত লাগতো।'
আহির হেসে বলল,
' তুমি তো এখনো ছোটই!'
কথাটা শুনেই নুহা ঘুরে দাঁড়াল। চোখে বিস্ময় আর কিছুটা রাগ।বলল,
' একটু আগে কী বললেন আপনি?'
আহির ভড়কে গিয়ে হাসল।বলল,
' মানে, বলছিলাম মন খারাপ কেনো? ব্রেকআপ হলো নাকি?”
' আপনি আমাকে ঠিক কী ভাবেন বলুন তো? কতটুকু চেনেন আপনি আমাকে? বারবার আমার চরিত্রে আঙুল তোলেন কোন সাহসে?'
আহির থমকে গেল। বুঝল,কথাটা সে মজা করে বললে ও মেয়েটা কথাটা অন্যভাবে নিয়েছে। আহির আর রাগাতে চাইলো না। নরম হয়ে বলল,
' সরি… আমি ওভাবে বলতে চাইনি। আসলে... আমি তো মজা করছিলাম। কি হয়েছে তোমার সব ঠিক তো? বাড়ির জন্য মন খারাপ?এতদূরে একা আছো কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক!'
নুহা গভীর গলায় বলল,
' আমার একা থাকার অভ্যাস আছে, বুঝেছেন? কেউ পাশে থাকবে এমন আশা করি না। আর আপনি হঠাৎ করে এত বন্ধুসুলভ ব্যবহার করছেন কেনো? এখানেই বা এসেছেন কেনো?'
আহির কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
' ফ্রেন্ডলি? আমি? উহু... আমার অনেক ফ্রেন্ড আছে। তোমাকে ফ্রেন্ড বানানোর প্রয়োজন নেই আমার। আমি এসেছিলাম তোমাকে শর্তটা মনে করিয়ে দিতে।'
নুহা বিরক্ত চোখে তাকালো,
' এই আপনি ডাক্তার না কোনো উকিল৷ বলেছি তো আমি আপনার সাথে যাব। আর আপনার শর্তে রাজি তো বার বার মনে করানোর কি আছে। আজব লোক। মানুষের ডাক্তার বলে তো মনে হয়না। '
কথাগুলো বলে নুহা আর দাঁড়ালো না সোজা ঘরে দিকে চলে গেল৷ আহির অবাক হয়ে নুহার যাওয়া দেখলো৷ মেয়েটা তাকে পেয়েছেটা কি?রাগ দেখালো? কি বলে গেল সে মানুষের ডাক্তার না! এত বড় অপমান করে গেল। চেয়ে চেয়ে কথা বলতে এসেছে দেখে এই একরত্তি মেয়ে ও কিনা ইগো দেখাচ্ছে? ড.আহির ইবনান মীর কে?
--------------
সকালটা বেশ শান্ত। রাতভর বৃষ্টি হয়েছিল। ঝমঝম শব্দে জানালা জেগেছিল বারবার। আর সকালট ধোয়া ধোয়া আলোয় মোড়া। আকাশ মেঘহীন তবু রোদ উঠেনি পুরোপুরি। একটা কোমল ধূসর আলো চারপাশে ছড়িয়ে আছে। বৃষ্টির পর প্রকৃতি একটু ক্লান্ত। একটু শান্ত।রাস্তাঘাট, গাছের পাতা, কার্নিশ, খোলা উঠোন সব ভিজে। পাখিরা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়া গাছে বসে ডেকে উঠছে নতুন সুরে। বাতাসে একধরনের স্নিগ্ধ ঠান্ডা ভাব। নুহা আয়নায় একবার নিজের চেহারার দিকে তাকালো। যথাযথভাবে প্রস্তুত সে। আজ ওর ভার্সিটিতে ক্লাস আছে। ধীরে ধীরে নিচে নামলো। সিঁড়ি ভেঙে ডাইনিং স্পেসে এসে সে খানিক থমকে দাঁড়ালো।
সবার চোখ তখন তার দিকে। টেবিলে আগে থেকেই পুরো মীর পরিবার বসে আছে। আহির, আরোশ, রউফ মীর, তায়েফ মীর, আনজোরা বেগম এবং রান্নাঘরের দিক থেকে আসছেন আরিফা বেগম, ট্রেতে গরম পরোটা। সুগন্ধ নাখে আসচ্ছে। আরোশ চোখ পাকিয়ে বলল,
' আম্মু, চলে এসেছে নুহা। এবার আমাদের খেতে দাও, না হলে আমার স্কুলে দেরি হয়ে যাবে।'
আরিফা বেগম চোখ কুঁচকে ছেলেকে ধমক দিলেন,
' বলেছি না, নুহাকে 'নুহা' বলে ডাকবি না! তোর চেয়ে বয়সে বড় সম্মান দিতে শেখ আগে। এই সব অসভ্যতা আমার সামনে চলবে না।'
রউফ মীর, তায়েফ মীর ও নুহাকে হাসি মুখে ডেকে বসালেন৷ তায়েফ মীর চেয়ার টেনে দিলেন বসার জন্য। নুহা কেমন যেন অবাক হয়ে গেল। এত মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করছে? এই দৃশ্য তার জীবনের এক অচেনা অধ্যায়। নুহা চুপচাপ তায়েফ মীরের পাশের চেয়ারে বসলো। খাওয়ার মাঝখানে রউফ বললেন,
' আহির, তুমি নুহাকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে তারপর তোমার হাসপাতালে যেও। ওর ভার্সিটি রেখেই তোমার হাসপাতাল। '
নুহা তাকালো আহিরের দিকে। আহির খাওয়ায় মনোযোগ দিয়ে বলল,
' আমি কেনো, আব্বু? তুমিই নিয়ে যাও না। আমার টাইম কড়া, দেরি চলবে না।'
নুহা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
' আঙ্কেল, আমি একাই চলে যাব। সমস্যা নেই। '
রউফ বললেন,
' তোমার কাকু আমার ছোটবেলার বন্ধু। আর আমি তোমার সম্পর্কে সব কিছুই জানি। আমার সুযোগ হলে আমিই নিয়ে যেতাম। আহির নিয়ে যাও ওকে খুব বেশি দেরি হবে না। '
আহির উঠে দাঁড়িয়ে গেল। কাঁধে ব্যাগ তুলে নিতে নিতে বলল,
' দশ মিনিট।'
---------------
নুহা ধীরে ধীরে দরজা পেরিয়ে বাইরে এলো। চোখে মুখে একধরনের অস্বস্তি। মনের মধ্যে দোদুল্যমান কিছু ভাবনা। সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে আহির। গাঢ় কালো শার্টে মোড়া তার সুঠাম দেহ। হালকা বাতাসে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে অবিন্যস্ত। সূর্যের আলো এসে তার ফর্সা গায়ের ওপর পড়ে কালো শার্টটাকে যেন আরও গাঢ় করে তুলেছে। নুহা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো অস্পষ্ট এক দৃষ্টিতে। কিছু একটা ভাবলো, তারপর হঠাৎই সচকিত হয়ে নিজের চোখ সরিয়ে নিলো। কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে অন্যমনস্ক কণ্ঠে বলল,
' আপনি চলে যান, আমি একাই চলে যাবো।'
আহির বোধহয় কিছুটা বিরক্ত হলো। গলায় হালকা বিরক্তির নিয়ে বলল,
' বুঝতে পারছি না আমার সাথে এত কিসের সমস্যা তোমার। ঠিক আছে, একাই যাও। তবে শর্তটা মনে রেখো... আমি কিন্তু অপেক্ষা করব।'
নুহা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর নিজের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে চুপচাপ বাইকে উঠে পড়ল। আহির কিছুটা অবাক হলেও মুখে কিছু বলল না। হেলমেট এগিয়ে দিলো নুহার দিকে। নুহা সেটা মাথায় পরে নিলো। বসার পরেও আহিরকে একবার ছোঁয়ার প্রয়োজন বোধ করল না সে।
[এই পর্বে ৫০০ রিয়াক্ট হলেই পরের পর্ব পাবেন 🐸]