#মনের_রঙে_তুমি
#লেখনীতে:সুমনা সাথী
[১০]
নিশুতি রাত। চারপাশ নিস্তব্ধ। মাথার উপরে বিশাল গোলাকৃতি পূর্ণিমার চাঁদ। নির্মল, শুভ্র। চাঁদের আলোয় চারপাশ যেন রূপোর প্রলেপে মোড়ানো। তৃণগুলোর ডগায় জ্যোৎস্নার নাচ দেখতে মনোমুগ্ধকর লাগে। গাছের পাতাগুলো ধীরে ধীরে দুলছে হাওয়ার মৃদু ছোঁয়ায়।
ছাদের ঠিক কোণার দিকে একটা পুরোনো চৌকি রাখা, তার গায়ে জ্যোৎস্নার রেশ এসে পড়েছে। দূরে কোথাও একটা ঝিঁঝিঁর ডাক ভেসে আসচ্ছে মাঝে মাঝে। ছাদের কার্নিশে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহির। চোখ জোড়া স্থির চাঁদের দিকে। গভীর, চিন্তিত, আর খানিকটা বিরক্ত।
নিঃশ্বাসে একটা অস্থিরতা কাজ করছে। হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখলো, রাত এগারোটা পার হয়ে গেছে। রাতের খাওয়া-দাওয়া সে শেষ করেছে অনেক আগেই। নুহা এখনো আসেনি। নিশ্চয়ই দাদা-দাদির সঙ্গেই ব্যস্ত এমনটাই ভাবার চেষ্টা করলো আহির। কিন্তু অপেক্ষাটা যতটা দীর্ঘ হচ্ছে, আহিরের ধৈর্য ততটাই কমছে।
হাত ঘড়ির ঘন্টার কাঁটা'টা বারোটার কাঁটা ছুঁতেই যেন আহিরের সহ্যের বাঁধ ভেঙে গেল। ছাদের শান্ত হাওয়া বিরক্ত লাগতে শুরু করলো। মেজাজ ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। আর না। আহির নেমে এল নিচে। সরাসরি গেল নুহার ঘরের দরজার সামনে। দরজা বন্ধ মানে নুহা ভিতরে। এবং তার কোনো ইচ্ছেই নেই বের হওয়ার। আহির দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। ঠোঁট কামড়ে রাগ সংবরণ করার চেষ্টা করল। কিন্তু পারেনি। মনে মনে গর্জে উঠলো। এই মেয়ে ভাবে কি নিজেকে? আহির ইবনান মীরের ইগো বলে কিছু নেই নাকি?চোয়াল শক্ত করে টান পায়ে নিজের ঘরে ফিরে গেল। কিছুতেই মাথা ঠান্ডা করতে পারছেনা। ভেতরে জমে থাকা রাগ যেন দগদগে আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে শরীরজুড়ে। রুমে ঢুকেই একদৃষ্টে তাকালো ঝোলানো হেভি ব্যাগ এর দিকে। যেখানে জিমের সময় সে পাঞ্চ প্র্যাকটিস করে। সময় নষ্ট না করে পাঞ্চ গ্লাভস হাতে তুলে নিলো। তারপর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে একের পর এক ঘুসি চলল দম ফুরানো পর্যন্ত। এক সময়, হাঁপাতে হাঁপাতে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়লো আহির। মাথার ঘামে চুল এলোমেলো। চোখে বিস্তর ক্লান্তি, কিন্তু মনের আগুন একদম নিভেছে এমনটা বলা যাবে না। নিজেকে বোঝালো অনেক হয়েছে, যথেষ্ট করেছে সে। আর না। এবার নিজেকে তার সামলানো উচিত।
_________
সকালের আলো আস্তে আস্তে ছড়িয়েছে পুরো দিগন্ত জুড়ে। জানালার পাশে রাখা পর্দার ফাঁক গলে সূর্যের কোমল কিরণ এসে মুখে পড়ছে নুহার। ঘুমের মধ্যে বার বার চোখমুখ কুঁচকে আসাটাই তার চরম বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ। ঘড়ির এলার্মের তীক্ষ্ণ শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। কিছুটা আনমনা ভঙ্গিতে উঠে বসলো নুহা। আজ ক্লাস আছে ভার্সিটিতে তাড়াতাড়ি রেডি হতে হবে। কিছুটা তাড়াহুড়ো করে প্রস্তুত হয়ে নিচে নেমে এলো। সিঁড়ি বেয়ে নামতেই নিচের ডাইনিং স্পেসে চোখ পড়লো সবাই ইতোমধ্যেই নাস্তার টেবিলে বসে গেছে। ঘরের মধ্যে গরম পরোটার গন্ধ ভেসে আসছে। নুহা ধীরে পা ফেলে চুপচাপ গিয়ে নাস্তার টেবিলে বসে পড়লো। আরোশ একদৃষ্টে নুহার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
' কি ব্যাপার নুহা? তোমায় এমন মনমরা লাগছে কেন? আবার কি হলো?'
নুহা মুখ নিচু করে প্লেটে রাখা এক টুকরো পরোটায় কামড় দিল। কিছুটা ভয়ে আছে সে।
' তেমন কিছু না ছুটু।'
ছুটু কথাটা কানে আসতেই আরোশ চোখমুখ কুঁচকালেও আরিফা বেগম সামনে থাকায় কিছু বলল না। আরিফা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন,
' তোমার কি শরীর খারাপ, নুহা ?'
নুহা কিছু বলার আগেই চোখ পড়লো মূল দরজার দিকে যাওয়া আহিরের দিকে। কালো প্যান্ট আর মেরুন শার্ট পরা। শার্টটা সুচারুভাবে ইন করা। হালকা স্পাইক ভাবে কাটা চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা। হাতে ব্যাগ। নাস্তার টেবিলে না এসে, দরজার দিকে যাচ্ছে কেনো? আরিফা বেগম তাকে দেখে ডেকে উঠলেন,
' কিরে, নাস্তা না করেই বেরিয়ে যাচ্ছিস যে?'
আহির একবার পেছন ফিরে তাকালো। বলল,
' আমার দেরি হয়ে গেছে আম্মু। আজ বাইরে খেয়ে নেবো। ইমারজেন্সি কাজ আছে।'
রউফ মীর, হাতের চায়ের কাপ নামিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
' কিন্তু নুহার ভার্সিটি আছে। ওকে নিয়ে...'
কথা শেষ হওয়ার আগেই গটগট করে বেরিয়ে গেল আহির। রউফ মীর অবাক চোখে ছেলের চলে যাওয়া দেখলেন। নুহা চুপ করে বসে রইলো।
_________
মাঝে কেটে গেছে বেশ কয়েকটি দিন। এই ক'দিনে নুহাকে আহিরের চোখ এড়িয়ে চলতে হয়নি একটুও, কারণ আহির নিজেই যেন বেপাত্তা হয়ে গেছে। অনেক রাত করে বাড়ি ফেরা, আবার সকাল সকাল বেরিয়ে যাওয়া এই তার রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতে সারাদিন হাসপাতালেই কাটে তার। আজকের সকালটা কিছুটা আলাদা। নিচতলার দিক থেকে হঠাৎ করেই চেঁচামেচির শব্দে নুহার ঘুম ভেঙে গেল। অস্থির মনে নেমে এল নিচে। সিঁড়ি ভাঙতেই চারপাশের বাতাসে একধরনের টানটান উত্তেজনা অনুভব করলো সে। গলার স্বর দুটো পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে। রউফ মীর আর আহির। নিচে নেমে গিয়ে যতটুকু বুঝলো, তা হলো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তায়েফ মীরের হৃদযন্ত্রের অপারেশন। নুহার মনে হলো কতদিন পর আহিরকে দেখলো সে! তবে আহির তার দিকে তাকালো না। সুন্দরভাবে উপেক্ষা করলো।
আসলে এইরকম ঘটনা এখন আর নতুন কিছু না নুহার জন্য। একই ছাদের নিচে বসবাসের ফলে মাঝে মাঝে দেখা হয়ে যায় দু'জনের । কোনো কাজে কথা বলতে হলে আহিরের তরফ থেকে দু-একটা কাটা বাক্য ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না। প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়ে বিরক্তি আর গা-জ্বালানো উদাসীনতা। আর সবচেয়ে যেটা যন্ত্রণাদায়ক তা হলো তার এড়িয়ে যাওয়া। ঘরের মধ্যে উপস্থিত থেকেও একরকম অনুপস্থিত থাকা। তবুও আজকের এই একটুখানি দেখা যেন কোথাও নুহার ভেতরের আবেগগুলোকে নাড়া দিয়ে গেল। বেশকিছুক্ষণ পর তায়েফ মীরকে নিয়ে আহির, রউফ মীর, আরিফা বেগম হাসপাতালের দিকে রওনা হলো। বাড়িতে রইলো নুহা, আরোশ আর আনোয়ারা বেগম। নুহার ভেতরটা যেন হঠাৎ করেই কেমন অস্থির লাগলো। তায়েফ মীরের অপারেশনের কথা ভেবেই একরকম অস্থির হয়ে আছে সে। যতক্ষণ না সে নিজে চোখে দেখে আসে, তায়েফ সুস্থ ততক্ষণ শান্তি নেই। এর মধ্যেই আরিফা বেগমের কাছ থেকে খবর এলো অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভয় কিছুটা কেটেছে। আরিফা বেগম জানালেন, কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরবেন আর তখন নুহাকে নিয়েই আবার হাসপাতাল যাবেন।
__________
তবে স্বাভাবিক পরিবেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ঘনিয়ে এলো, তবুও আরিফা বেগম বাড়ি ফিরলেন না। নুহা প্রথমে অস্থির হয়ে বারবার ফোন করলো প্রতিবারই ফোন বেজে কেটে গেল। কোথাও যেন একটা অজানা আশঙ্কা বুকের ভেতর কুন্ডলী পাকাতে শুরু করলো নুহার । এরই মধ্যে বাড়িতে হাজির হলেন আহির'দের এক আত্মীয়রা। যাদের থেকে নুহা জানতে পারলো তায়েফ মীর আর নেই। কথাটা শুনে যেন পুরো বাড়িতে শোকের ধস নেমে এলো। আস্তে আস্তে আত্মীয়স্বজনের ভিড় বাড়লো। কান্না আর উদ্বেগে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। নুহা থম মেরে বসে ছিল কিছুক্ষণ। বুকের ভিতর অসহনীয় কষ্ট অনুভব করলো। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না আরোশকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলো। এমন কান্না তার অনেক বছর হয়নি। ঢাকায় আসার মাসখানেক আগে বড় চাচি মারা গিয়েছিলেন, তখনো এতটা কাঁদেনি সে। অথচ এই মানুষটার সাথে মাত্র ক’দিনের চেনা কীভাবে যেন এক অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতায় তার হৃদয়ের এক কোণে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
নুহা অবাক হলো আজকের আরোশকে দেখে। যে আরোশ নুহার কাছে প্রায় ঘেঁসতেই চাইনা সে আজ তার কোলে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। নিজের অজান্তেই নুহার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। বাড়িতে আসা এত আত্মীয়,চেনা-অচেনা মানুষের মধ্যে আরোশকে নুহার সান্নিধ্য স্বস্তি দিচ্ছে । রাত গভীর হলে তায়েফ মীরের নি থ র দেহ এসে পৌঁছালো বাড়িতে। অ্যাম্বুলেন্সের শব্দে কেঁপে উঠলো নুহা। নিজেকে সামলে আরোশকে শান্ত করতে চেষ্টা করলো। সিদ্ধান্ত হলো, রাতের মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করা হবে। তবে সবকিছুর মাঝেও রউফ মীর কঠোর কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন আহির কোনো অবস্থাতেই তার বাবার ম'র'দে'হ ছুঁতে পারবে না। এসব কেনো হচ্ছে নুহা কিছুই বুঝলো না। আহিরের অপরাধ কি তাও তার জানা হলোনা। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা, আত্মীয়রা রউফ মীরকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। আহির যে তায়েফ মীরেরই রক্ত-মাংস তা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন। জানাজায় যাওয়ার আগে মাত্র একবারই ঘরে ফিরেছিল আহির গোসলের জন্য। তার চেহারায় ক্লান্তি, যন্ত্রণা, এবং ভেতরে ভেতরে চলতে থাকা ঝড় স্পষ্ট ছিল। এক মুহূর্তের জন্য নুহার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিলো সেই মুখটা কিন্তু কিছু বলার সুযোগ হয়নি।
তারপর আর দেখা মেলেনি আহিরের। বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে। এই কয়েকদিনে আহির বাড়ি ফেরেনি, এমনকি কারো ফোনও ধরেনি। কোথায় যেন গায়েব হয়ে গেছে সে। আনোয়ারা বেগম স্বামী হারানোর দুঃখের সঙ্গে আহিরকে হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা। প্রতি মিনিটে তিনি আহিরের কথা জিজ্ঞেস করেন! রউফ মীর এতদিন কঠোর থাকলে ও শেসমেষ নরম হয়ে তিনি নিজেই পরিচিতজনদের ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন ছেলের। কিন্তু কারো কাছেই আহিরের কোনো খবর নেই। নুহার ও অস্থিরতা বাড়লো। এই মুহুর্তে,এই অবস্থায় বাড়ির লোকেদের ফেলে রেখে কোথায় আছে ওই স্বার্থপর লোকটা। একা একা নিশ্চয়ই গুমরে ম র ছে।
_________
সবুজে মোড়া এক নিভৃত গ্রাম মধুপুর। গ্রামের কিছু কিছু জায়গায় ইটের রাস্তা হলেও কিছু জায়গায় এখনো কাঁচা রাস্তার ছোঁয়া পাওয়া যায়। মাথার ওপর ঝুঁকে থাকা বিশাল বিশাল তালগাছ , নারকেল গাছ, আর বাঁশঝাড়ের ফাঁক গলে রোদ নামছে ধীরে ধীরে। পাখিরা সারাদিনের ছোটাছুটি শেষে একেকটা গাছকে আপন ঠিকানা ভেবে নীরবে বসে পড়েছে। পাশের ধানক্ষেতে কাকের কণ্ঠে হঠাৎ কর্কশতা, আবার কোথাও শালিকের কিচিরমিচির। কানে ভেসে আসে দূরের কোনো গরুর ঘন্টা ধীরে ধীরে চরে ফেরার সুরে। চালের চালার ছাউনিগুলো সোনালি রঙে দীপ্ত। সূর্যের শেষ আলিঙ্গনের সময়। গ্রামের মাঝখানে একটুকরো মাঠ। মাঠের কোণে বসে থাকা কয়েকটা ছেলে ধুলোয় মাটির বল ছুঁড়ে খেলছে। কারো কারো মা ডাক দিচ্ছে 'এদিকে আয়, সন্ধ্যা নামছে।'
আকাশের রঙ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। নীলচে আকাশে মিশছে ধূসর ছায়া। দিগন্তের কোণে একফালি চাঁদ লাজুক মুখে উঁকি দেবে এবার। সন্ধ্যার শালীনতা নামছে আস্তে আস্তে।
আহির ধীর পায়ে হেঁটে বাঁশের তৈরি পুরোনো গেটটা পার হয়ে উঠোনে পা রাখতেই এক মুহূর্তে থমকে গেল। বারান্দার কোণায় নিচু পিঁড়িতে বসে থাকা মেয়েটাকে দেখে। সূর্যের শেষ আলোয় মেয়েটার মুখটা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। কাঙ্ক্ষিত মুখটা হঠাৎ করে দেখার পরেও অপলক তাকিয়ে থাকাটা জরুরি মনে হলোনা আহিরের একধরনের নিস্তব্ধতা ভর করলো তার চোখে-মুখে। এমন সময় উঠুন থেকে প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এগিয়ে এলেন৷ পরনে নীল ছাপা শাড়ি পুরোনো শাড়ি ৷ বললেন,
' দাদু ফিরছোস, তোর অপেক্ষায় বসে ছিলাম এতক্ষণ! দেহ তো এই মাইডারে চিনস নাকি?'
নুহা চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো। আহিরের দিকে তাকালো। কতদিনের চেনা মুখটা কত অচেনা লাগছে আজ।সব সময়ের দেখা পরিপাটি মানুষটাকে বড্ড এলোমেলো লাগছে। পরিপাটি থাকা চুলগুলো আজ এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে কপাল জুড়ে। এতদিন সে এখানে ছিল। এই গ্রামে। আহির খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উঠোনে থাকা টিউবওয়েলের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
' কে উনি, আমি উনাকে চিনি না।'
এক মুহূর্তের জন্য নুহা যেন অবাকের শেষ সীমানই পৌঁছে গেল। কী বললো আহির? চেনেনা? এই একটা বাক্য যেন বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে গেল। নুহার মেজাজ খারাপ হলো। নুহা মনে মনে ভাবলো এই গ্রামের এত বড় বড় তাল-নারকেল গাছের সঙ্গে কোনোভাবে ধাক্কা খেয়ে হয়তো স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে আহির! সিনেমায় যেমন হয় আরকি! নয়তো নুহাকে চেনেনা এই লোক। এখানে এসে নাটক শিখেছে নাকি? বৃদ্ধা আবার বললেন,
' তয় ওই যে কইলো হেতি তোর বউ লাগে!'
আহির টিউবওয়েলের নিচে পানি নিয়ে হাত-মুখ ধুচ্ছিল। কথাটা কানে যেতেই এক ঝটকায় মাথা তুললো। চট করে নুহার দিকে তাকালো। আহিরের চোখে রাগ, অবাক হওয়া নাকি বিরক্তি নুহা বুঝতে পারল না। সে শুধু কোনোমতে একটা হালকা হাসি দেয়ার চেষ্টা করলো।
_________________নোট:
আচ্ছা আমি কবে বলেছি আমি রানিং গল্প বাদ দিয়ে নতুন গল্প লিখবো? আমি জাস্ট আমার একটা ইচ্ছের কথা বলেছি আর আপনারা ধরে নিলেন আমি আমি নতুন গল্প লিখবো আর এগুলো বাদ দিয়ে দেব। মানে এমনিতে কমেন্ট বক্সে আপনাদের গল্প সম্পের্ক কমেন্ট পাওয়া যায়না অথচ জাজমেন্ট এর সময় চলে আসেন, এত এনার্জি কোথায় পান না মানে আমাকে যদি দিতেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যেতাম, আলসেমি ও দূর হতো আর প্রতিদিন গল্প ও দিতে পারতাম 😌