#মনের_রঙে_তুমি
#লেখনীতে: সুমনা সাথী
[১১]
আহির এক ঝলক নুহার দিকে তাকিয়ে আবার মুখ ঘুরিয়ে নিল। বারান্দার বাঁশের রেলিং এ শুকাতে দেওয়া পুরনো গামছাটা তুলে এনে মুখ মুছতে লাগল। আহিরের এই নিষ্পৃহতা বৃদ্ধা রাহেলার সহ্যের সীমা ভেঙে দিল। তিনি কাঁপা গলায় বলে উঠলেন,
' কী রে, মুখ খুলবি না? বিয়া করছিস অথচ আমাগো কানে একটা কথাও পৌছাইলি না!'
আহির রাহেলার দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গরসে ভেজা কণ্ঠে বলল,
' তুমিও এতো সরল কেনো বলোতো? কোথা থেকে কোন মেয়ে এসে বলল আমার বউ, আর তুমি বিশ্বাসও করে ফেললে? তোমাকে ছাড়া আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারি। এত সাহস আমার আছে? তোমার উচিত ছিলো যেই আসুক তারে ঘাঁড় ধরে বের করে দেওয়া।'
রাহেলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
' আঁতলামির শেষ কর! ঝগড়া হয়, মান-অভিমান হয় এইসবই সংসারের রং। তাই বইলা বউরে ফালাইয়া নিজেই পালাইয়া আসবি? ওই মাইয়া দুপুর থাইকা একমুঠো খাইছে না। তোর লাইগা বসে আছে। সব ভুল ভুইলা, বিদ্বেষ ফালাইয়া তোরে খুঁজতে খুঁজতে এতদূর আইছে। এখন এইসব রং-ঢং ছাড়, ঘরে যা। কথা কই মিটমাট কর।'
আহির আর কিছু না বলে ঘরের দিকে পা বাড়াল। নুহা একদৃষ্টিতে ওর চলে যাওয়া দেখল। রাহেলা চোখে ইশারা করলেন পিছে যাওয়ার জন্য। নুহাও উপায় না পেয়ে এগিয়ে গেল ঘরের দিকে। মাটির দেয়ালে ঘেরা ছোট্ট ঘর। এক কোণে কাঠের খাট। পাশে পুরনো এক টিনের আলমারি। আর একপাশে ধুলোমলিন এক বাক্স। আহির খাটের কিনারায় বসে আছে। চুপচাপ। নুহা খানিক দূরে বসে পড়ল। নিস্তব্ধতার মাঝে টিকটিকির ডাকে সময় টের পাওয়া গেল। হঠাৎ খুব নিচু গলায় নুহা বলল,
' আপনি রাগ করে আছেন?'
আহির মুখ ঘোরাল,
' নাতো… কোন বিষয়ে?'
' আসলে যখন এসেছি কেউ আপনার বিষয়ে কিছু বলছিল না। বারবার প্রশ্ন করছিল আমি আপনার কে? বাধ্য হয়ে বলেছি আমি আপনার স্ত্রী। বলেছি, আপনি আমার সাথে ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন। কিছু মিথ্যে বলতে হয়েছে… দুঃখিত। কিন্তু আপনি যে এভাবে কাউকে কিছু না বলে এতদিন এখানে পড়ে আছেন আপনি কি সেটাকে ঠিক মনে করেন?'
আহির কোনো কথার উত্তর দিলো না৷ নুহা একটু এগিয়ে এসে নরমভাবে বলল,
' আপনার বাড়ির অবস্থা ভালো না ডাক্তার। দাদি অসুস্থ বারবার আপনার কথা জিজ্ঞেস করে। আন্টিও খুব চিন্তিত। আর আরোশ? ও কেমন চুপচাপ হয়েগেছে। আপনাকে ছাড়া হোমওয়ার্ক করবে না ঠিক করছে। আংকেলও এই কয়েকদিনে ভাবছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় আপনার খোঁজ নিচ্ছিলেন। হাসপাতালে আপনার জায়গা ফাঁকা। আপনার বন্ধু, আপনার জুনিয়ররা খোঁজ নিচ্ছে। একজন ডাক্তার আপনি। এত দায়িত্ব ফেলে কীভাবে এমন নির্বিকার হয়ে থাকতে পারেন?'
আহির কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। তারপর গম্ভীর কন্ঠে বলল,
' আমি ডাক্তারি ছেড়ে দেব ঠিক করেছি।'
নুহার ক্ষণিকের জন্য চমকালো। নুহার মনে হলো তার ভাবনাটাই সঠিক নাতো? এই লোক নিশ্চিত কোনো বড় গাছের সাথে ধাক্কা-টাক্কা খেয়ে মাথার গন্ডগোল বাঁধিয়েছে। নুহার খুব করে জানতে ইচ্ছে করলো ডাক্তারি ছেড়ে তিনি কি এই গ্রামে হালচাষ করার কথা ভাবছেন। কিন্তু আহিরের থমথমে, গম্ভীর মুখ দেখে নুহা নিজের কৌতূহলটুকু দমন করে জিজ্ঞেস করলো,
'কোনো বিশেষ কারণে? দেখুন আমি জানি আপনি..... '
আহির নুহার কথা শেষ করতে দিলো না।
' তার আগে তুমি বলো তুমি এখানে কেন এসেছো?'
' আপনাকে নিয়ে যেতে। দেখুন, আপনি এভাবে সবার থেকে দূরে থাকছেন; এটা কি ঠিক? বাড়ির এই পরিস্থিতিতে আপনার উচিত সবার পাশে থাকা৷ আমি কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তাই আমি আন্টিকে কথা দিয়েছি আপনাকে বাড়িতে ফিরিয়ে তারপর আমি যাব। অনেক কষ্টে আমি আপনাকে খু্ঁজে পেয়েছি। আপনি প্লিজ, আমার সাথে চলুন।'
আহির হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। চোখেমুখে অদ্ভুত উগ্রতা। বলল,
' এখনো যথেষ্ট সময় আছে। চলে যাও । আমার জন্য বা আমার বাড়ির লোকের জন্য তোমাকে এত ভাবতে কে বলছে?'
নুহা শান্তভাবে বলার চেষ্টা করল,
' দেখুন.....'
আহির রীতিমত গর্জে উঠলো,
' আইসে গেট আউট! এখনই!'
নুহা থমকে গেল। চোখের পাতায় অপ্রতিরোধ্য এক কুয়াশা জমে উঠল। দরজার কাছে রাহেলা দাদিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বুঝতে পারল, তাঁর কানেও গেছে এই বিস্ফোরণের শব্দ। আহিরের আচরণে দগ্ধ বুক নিয়ে, নুহা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। ভিতরটা কেমন ভেঙে গেল। একপ্রকার ছুটেই বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
--------------
সন্ধ্যা পেরিয়ে এখন গভীর নিশুতি। আকাশ একখানা কালো শাড়ি জড়িয়ে বসে আছে গাঁয়ের মাথায়।
বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জনে রাত তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। একটা দিন ফুরালো এখন রাতের পালা।
ধূলিধূসর উঠোনের কোণায় দাঁড়িয়ে পুরনো কাঁঠাল গাছটা। চাঁদের কণা ছুঁয়ে তার গা বেয়ে নেমে এসেছে লম্বা কালো ছায়া। মাঠ থেকে ফেরা গরুগুলো খামারে জাবর কাটছে। গ্রামটা নিঃস্তব্ধ। রাস্তাগুলো শুয়ে আছে ক্লান্ত শিশুদের মতো। মোড়ের একমাত্র চায়ের দোকানের আলোটা ও নিভে গেছে। কোনো এক গৃহস্থবাড়িতে মাদুর পেতে কেউ গল্প করে চলেছে। চাঁদের আলোর নিচে গল্পগুলোও ধোঁয়ার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। আহির অনেকক্ষণ ধরে ঘরের কোণায় বসে। চোখে স্থিরতা নেই। মনে বিক্ষোভ।প্রশ্ন, ক্লান্তি, অপরাধবোধে তার মন পিঞ্জর ছিন্ন করা পাখির মতো ছটফট করছে। জানালার ফাঁক দিয়ে তাকায় অন্ধকারে ডুবে থাকা ঝোপঝাড়ের দিকে। অস্থির মনটা অন্ধকারেই ডুবে যেতে চাইছে বারবার। উঠে পড়লো আহির। দরজাটা ঠেলে বেড়িয়ে আসে উঠোনে।উঠোনটা শুনশান। বাতাসে কেবল কাঁঠাল পাতার খসখস শব্দ। আহির চারপাশে চোখ ঘুরায় নুহাকে খোঁজে।বারান্দার এক কোণে বসে রেডিও চালিয়ে রেখেছেন রাহেলার স্বামী, মতিন মিয়া। জাল বুনছেন। আহিরকে দেখে একটু চোখ সরিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
' কি গো দাদু, কারে খুঁজো?'
আহির হালকা হেসে বলল,
' না… তেমন কিছু না। দাদি কোথায়?'
মতিন মিয়া মুচকি হেসে বললেন,
' রান্নাঘরে। আর যারে খুঁজতেছো… সেও ঐখানেই।
অভিমান করে চলেই যাচ্ছিল, কষ্টে কষ্টে আটকাইলাম।'
আহির এগিয়ে গেল উঠোনের শেষপ্রান্তে। যেখানে ছনের চালের নিচে ছোট রান্নাঘর। রাহেলা বেগম চুলার পাশে বসে খুন্তি হাতে নাড়ছেন।পাশে বসা নুহা হাসি মুখে গল্প করছে। আহির কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলো। নুহা তাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ভান করলো যেন আহিরের উপস্থিতিই টের পায়নি। রাহেলা হেসে বললেন,
' বউয়ের লাইগা এত ছটফটানি, তাইলে রাগ দেখানোর দরকারটা কি?'
আহিরের কণ্ঠ কঠোর হলো,
' তোমাকে চলে যেতে বলেছিলাম। এখনো যাওনি কেন?'
নুহা চুপ করে রইলো। আহিরের আবারও খোঁচাপূর্ন কথাটা বলল,
' এটা কি কোনো রিসোর্ট না কি? যত ইচ্ছা এসে থাকা যাবে?'
নুহা চোখ তুলে তাকালো। কণ্ঠে প্রত্যয়ের রেশ রেখে বলল,
' আপনি কি এই বাড়ির মালিক? নাকি কেয়ারটেকার?দারোয়ান?আমাকে যেতে বলার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?'
রাহেলা বুঝলেন পরিস্থিতি দ্রুত অশান্ত হচ্ছে। তিনি শান্ত গলায় বললেন,
' আস্তে মা… স্বামীর সঙ্গে কেউ এভাবে কথা কয় না।
আর দাদু, মেয়েটা এই রাতের বেলা কোথায় যাইবো ক তো ? তুই অহন যা তো ভেতরে।'
নুহা উঠে দাঁড়াল। চোখে জল টলমল করছে। নিজেকে কঠিন রেখে বলল,
' ঠিক আছে। আমি চলে গেলে যদি আপনার শান্তি হয়, তবে যাচ্ছি আমি।'
আহিরকে পাশ কাটিয়ে নুহা এগিয়ে গেল বাইরে। আহির হতবাক। কেবল দাঁড়িয়ে রইল নির্বাক। রাহেলা রীতিমতো ধমক দিয়ে উঠলেন,
' তুই এখনও দাঁড়ায়ে আছোস? দৌড়ায়ে ধর ওরে!
এটা শহর না, দুচার পা হাঁটলেই গাড়ি মিলে যায় না।
এই রাইতে মেয়েটা না জানি কী বিপদে পড়ে!'
নুহা তখন গেটের দিকে এগোচ্ছে। মতিন মিয়া দ্রুত গিয়ে পথ রোধ করার চেষ্টা করছেন। আহির পেছন থেকে গলা তুলে বলল,
' দাদু, ওরে বলো এইসব পাকনামি বন্ধ করতে। এটা শহর না। সন্ধ্যার পর একটাও গাড়ি চলে না। কোনো বিপদ হলে তো আমার উপরেই দোষ আসবে।'
নুহা ঘুরে দাঁড়াল। চোখের কোণে জল চিকচিক করছে। পুরো শরীর কাঁপছে রাগে। আহির তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা রেগে আগুন হয়ে গেছে। সে বুঝে উঠতে পারল না এতটাও রেগে যাওয়ার কী আছে? সে কী এমন বলেছে? ছিঁচকাদুনী একটা। নিজেই একটা আপদ এর নাকি আবার হবে বিপদ। নুহা গলা চড়িয়ে বলল,
' দাদু, তাকে বলুন আমাকে নিয়ে ভাবার দরকার নেই।
আমি মরলেও তার কিছু যায়-আসে না।'
আহির তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। ধমক দিয়ে বলল,
' আর একবার বেয়াদবি করলে আমার মতো খারাপ কেউ হবে না, নুহা! বড়দের সাথে কথা বলার তামিজ শেখো। এইটা সিনেমা না। তুমিও কোনো নায়িকা না। রাতে রাস্তায় বের হবা, বিপদে পড়বা আর কেউ এসে উদ্ধার করবে। এইসব হিন্দি ড্রামা এখনি বন্ধ করো।কাল সকালে সাতটার ট্রেনে যাবে তুমি। আমি নিজে নিয়ে যাবো। আর এখন এক্ষুনি চুপচাপ ঘরে যাও। নয়তো কোলে তুলে নিয়ে যাবো বুঝছো?'
নুহার গলা আটকে এল। রাগ, অপমান, ক্ষোভ সব মিলে এক বিশাল ঢেউয়ের মতো গলায় জমা হলো। রাতের নিস্তব্ধতা তাকে চেপে ধরেছে বলেছে নয়তো নুহাও দেখিয়ে দিতো। অসভ্য, স্বার্থপর লোক একটা। মতিন মিয়া এগিয়ে এলেন নুহার হাত ধরে আবার বারান্দায় নিয়ে এলেন। নুহা বসে পড়ল বারান্দায়। তার শরীর কাঁপছে। চোখের পানি থামছে না। নুহা ওড়না দিয়ে বার বার চোখ মুছে, নাখ টানছে। দূরে দাঁড়িয়ে আহির সবটাই দেখল। অদ্ভুত এত রাগ, এত উত্তেজনার মাঝেও কেন জানি তার হাসি পেল।
--------------
হেমন্ত বিদায় নিয়েছে। শীত এখন ভালোভাবেই দখল নিয়েছে প্রকৃতির। হালকা কুয়াশা নামছে। বাতাসে একরকম কাঁপুনি ছড়িয়ে আছে। নুহা শীতের কিছুই নিয়ে আসেনি। রাহেলা তাকে একটা শাল জড়িয়ে দিয়েছেন।
সেই শালটা গায়ে দিয়ে নুহা এখন চুপচাপ চাঁদের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। পাশেই বসে আছেন রাহেলা।সকালে নতুন চালের খই ভেজেছিলেন, তার পাশে রাখা নলেন গুড়ের ছোট পাত্র। বারবার নুহাকে খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন। নুহা হালকা হাসে। কিন্তু চোখে কি এক অস্থিরতা। বারান্দার অপর প্রান্তে বসে আছে আহির। চুপচাপ সব পর্যবেক্ষণ করছে, নুহার প্রতিটি ক্ষণিক চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। হাত দিয়ে শাল ঠিক করে নেওয়া। সব তার চোখ এড়াচ্ছে না। চাঁদের আলোতে নুহার গম্ভীর মুখটা মোহনীয় লাগছে। কেনো যেন আজ এই অচেনা পরিবেশে মেয়েটাকে পেয়ে অদ্ভুত ভালোলাগা ঘিরে ধরেছে, আহিরকে। তার মনে থাকা যত, রাগ সব যেন বিলিন হয়েছে কোথাও। এই সময় হেনা এলো। রাহেলাদের পাশের বাসার মেয়ে। হাতে একটা ছোট বাটি। ভেতর থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছে। হেনার চোখে আহিরের জন্য একটা ভালোলাগা বহুদিনের। তার মা-ও আহিরকে সন্তানসম ভালবাসেন। এই জন্যই আজ দুপুরে রান্না করা হাসের মাংসের এক বাটি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
বাটিটা রাহেলার হাতে দিতে দিতে হেনা বলল,
' আম্মা বলেছে, ডাক্তার বাবুর যেন মজা করে খাওয়া হয়। শীতে হাসের মাংস অনেক ভালো লাগে।'
আহির হালকা হাসলো।
' অবশ্যই খাব। আন্টিকে আমার সালাম দিও, আর অনেক ধন্যবাদ, হেনা ।'
হেনা একটু সাহস করে নুহার দিকে তাকাল। চোখে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
' দাদি, উনি কে?'
রাহেলা হেসে বললেন,
' তোর ডাক্তার বাবুর বউ।'
শুনেই হেনার মুখটা যেন একটু ফ্যাকাশে হয়ে গেল।চোখে একরাশ বিস্ময়। নুহা সেই ক্ষণিকের পরিবর্তনটা লক্ষ্য করলো। মেয়েটা যেন একটু থমকে গিয়েছিল। হেনা সামলে নিয়ে কণ্ঠে কৃত্রিম হাসি মেখে বলল,
' ডাক্তার বাবু, আপনি বিয়ে করে নিয়েছেন নাকি?'
এই প্রশ্নে নুহা চুপচাপ মুখ ঘুরিয়ে চাঁদের দিকে তাকালো। উত্তরটা শোনার জন্য সে বেশ আগ্রহী। কিন্তু আহিরকে বুঝতে দিলে চলবে না। আহির নুহার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। চোখাচোখি হতেই নুহা চোখ সরিয়ে নিল। ভান করলো যেন কিছুই শুনছে না। আহির এবার হেসে বলল,
' আরে না, আমি উনাকে চিনি না। আমি অবিবাহিত। তবে যদি ভালো মেয়ে পাই, খুব শিগগিরই বিয়েটা সেরে ফেলবো। ভাবছি বিয়ের পর দাদির এইখানেই থাকবো। ফেরার ইচ্ছে নেই আমার। '
নুহা মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে। রাহেলা বেগম আহিরের ঠোঁটে থাকা দুষ্টু হাসিটা লক্ষ করলেন। চোখ রাঙিয়ে হেসে উঠলেন। হেনা খানিকক্ষণ বসে গল্প করল। আহিরও হালকা স্বরে তার সাথে কুশল বিনিময় করল। নুহা পুরোটা সময় মেয়েটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো। মেয়েটার ত্বক ফর্সা। মুখ গোলাপি আভায় টসটসে। দেখতে ভীষন সুন্দরী। চোখে সরলতা। তবে তার নিচে জমে থাকা একটুখানি ঈর্ষাও নুহার চোখ এড়ায়নি।অদ্ভুত অস্থিরতায় নুহার ভিতরটা কুঁকড়ে উঠল। আহিরকে হেনার সাথে হাসতে দেখে হঠাৎ করেই মনে হলো, সবচেয়ে বড় ভুলটা কি সে-ই করেছে? নুহার ভীষণ রাগ হচ্ছে। সহ্য করতে পারছে না সে? চোখ নিচু করে এক চিমটি খই মুখে দিলো। গিলতে গিয়ে বুঝলো বুকের কাছে কিছু একটা দলা পাকিয়ে উঠছে।