#মনের_রঙে_তুমি
#লেখনীতে_সুমনা_সাথী
#অন্তিম_পর্ব
আহিরের বন্ধুদের মধ্যে সবাই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে আবিষ্ট।
হঠাৎ ভিড়ের ফাঁক দিয়ে রোশন এসে উপস্থিত হলো। তাকে দেখে আহিরের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। হাত বাড়িয়ে আলিঙ্গন করতে চাইলো। কিন্তু রোশন আচমকা আহিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। ঠোঁট কামড়ে বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,
' খবরদার যদি আমাকে ছুঁয়েছিস তো! শা'লা কি যেন বলেছিলি তুই?ওই মেয়েটা আমার সাথে মানাবে না। আরও কি বলিসনি তাই বল! শেষ পর্যন্ত তুই নিজে বিয়ে করে বসে আছিস। তুই তো বলেছিলি আমি নাকি এর চেয়ে ভালো মেয়ে ডিজার্ভ করি। কই রে? চারপাশে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না!'
রোশনের কথায় আশেপাশে থাকা বাকিরা হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। আহির মুচকি হেসে রোশনকে জোর করে আলিঙ্গন করলো। বন্ধুর কাঁধে চাপড় মেরে হালকা মজা করে বলল,
' আরে ভাই এত রাগ করছিস কেনো? আমি এখনো বলছি তুই ওর থেকে ভালো মেয়ে ডিজার্ভ করিস। কিন্তু ওকে তুই ডিজার্ভ করিস না।বিশ্বাস কর ভাই ও একেবারে ডেঞ্জারাস আইটেম! ওর বাপ-ভাই কারও চরিত্র ভালো না। একেকজন ডাকাত টাইপ। তুই সামলাতে পারতি না।'
রোশন চোখ কুঁচকে তাকালো। অন্তঃক্লিষ্ট ভঙ্গিতে বলল,
' চুপ কর তুই। যা বোঝার আমি বুঝে গেছি। আমাকে কী তোর ছোট বাচ্চা মনে হয়?'
আরিফা বেগমের ডাকে রোশনকে ছেড়ে আহির মায়ের দিকে এগিয়ে গেল। নুহার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই নুহা চোখমুখ কুঁচকে আহিরের দিকে তাকালো। অভ্যন্তরের দহন চেপে রেখে দাঁত কিঁচিয়ে বলল,
'এতদিন পর এক্স'কে দেখে সুখানুভূতির প্রাচুর্যে মগ্ন হয়ে গেছেন দেখছি।মনের মধ্যে হাজার হাজার প্রজাপ্রতি ওড়াউড়ি, দৌড়াদৌড়ি করছে নিশ্চয়ই। আপনার বউকে কেন্দ্র করে যে এই আয়োজন সেদিকে তো আপনার খেয়ালই নেই? আপনার যে একটা বউ আছে সেটা ও ভুলে বসেছেন মনেহয়।'
আহির বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
'কি বাজে কথা বলছো? তোমাকে আগেও বলেছি ও আমার এক্স না। তাও তুমি এক কথা বারবার বলতে থাকো। সমস্যাটা কোথায় তোমার? '
'এখন এই রিয়া আবার রিয়া থেকে আপনার ও হয়েগেছে তাইনা৷ যদি আপনার সাথে আপনার ওর কোনো সম্পর্ক না থেকে থাকে তাহলে সেদিন অত রংঢং করে আমাকে সাজিয়ে ওকে জেলাস ফিল করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন কেনো?'
'দেখো তোমাকে আমি মোটেও জেলাস ফিল করাতে নিয়ে যায়নি। রিয়ার অনেক আগে থেকেই আমার প্রতি একটা দুর্বলতা ছিলো। কিন্তু আমি ওকে মানে রিয়াকে কখনো সেই চোখে দেখিনি। কোনোভাবেই ওকে বোঝাতে পারছিলাম না বিষয়টা। আমি চাইনি ও হার্ট হোক তাই রোশনের বুদ্ধিতে ছোট একটা নাটক করতে হয়েছে। ব্যাস এই টুকু। আর ও তোমার মতো না বুঝেছো। এত কিছুর পরেও আমাকে ভালোবাসে। আমার আফসোস হওয়া উচিত ওর মতো কাউকে আমি হারিয়েছি।'
'খুব আফসোস হচ্ছে না আপনার? ঠিকআছে আমাকে তো আর আপনার ভালোলাগে না তো জান আপনার ওই ওর কাছে। গলায় ঝুলে পড়ুন। ওকে হারিয়ে একদমই আফসোস করবেন না এখনো যতেষ্ট সময় আছে।'
কথাগুলো বলে নুহা তড়িৎ পায়ে সিঁড়ির দিকে চলে গেল। আরিফা বেগম পাশে একজনের সাথে কুশল বিনিময় করছিলেন আচমকা নুহাকে যেতে দেখে অবাক চোখে আহিরের দিকে তাকালেন। নুহা যাওয়ার পর অনেকটা সময় পার হওয়ার পরেও সে ফিরে এলো না। আস্তে আস্তে অতিথিরা ও খাওয়া-দাওয়া শেষ করে প্রস্থান করলেন। আরিফা বেগম ভাবলেন নুহার হয়তবা শরীর খারাপ লাগছে।কেউ নুহার কথা জিজ্ঞেস করলে ও তিনি অসুস্থতার কথা বলে বিষয়টা কাটিয়ে দিলেন।বাড়ি ইতোমধ্যে পুরোপুরি ফাঁকা। আরিফা বেগম আহিরের ঘরে ঢুকতেই দেখলেন নুহা লাগেজ গুছানো শুরু করেছে। সাথে সাথে ফুফিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। আরিফা বেগমকে দেখে দ্রুত চোখের পানি মুছে হাসি মুখে তাকিয়ে বলল,
'আম্মু আপনি এখানে?অতিথিরা কি সবাই চলে গেছেন?'
আরিফা বেগম মাথা নাড়িয়ে নুহার কাছে এসে বললেন,
'এসব কি নুহা? তুমি কি কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছো?'
নুহা মাথা নাড়ালো। আরিফা বেগম কিছু বলার আগে আহির ভিতরে ঢুকলো। আহিরের দিকে একবার তাকিয়ে আরিফা বেগম কিছু না বলে চলে গেলেন। ভীত চোখে একবার নুহা আহিরের দিকে তাকিয়ে পুনরায় নিজের কাজের গতি বাড়ালো। আহির খাটের উপর থেকে নুহার ব্যাগটা নিয়ে সোফায় রেখে দিতেই নুহা ক্ষু্দ্ধচোখে আহিরের দিকে তাকালো। প্রচন্ড রাগে নাকের পাটা ফুলে উঠলো তার। তবে একটাও কথা বলল না। আহির ঘরের দরজাটা বন্ধ করে খাটে এসে বসে বলল,
'এখন অনেকটা রাত হয়েগেছে আমর বরং কালকে সকাল সকাল চলে যাব। তবে আমি কিন্তু দু'দিন এর বেশি
থাকতে পারবো না। '
নুহা ভ্রুকুঁচকে আহিরের দিকে তাকালো। বলল,
'সকালে আপনি কোথায় যাবেন?'
'বিয়ের প্রথমবার শ্বশুর বাড়িতে জামাই-বউ একসাথেই যায় জানতাম। তোমাদের ওইখানের কি নিয়ম ভিন্ন ?রাতের বেলায় যাওয়ার নিয়ম নাকি?'
'দেখুন এখন না আর এসব কথার কেনোমানে নেই। একটা কথা পরিষ্কার শুনুন কালকেই আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। আর আপনার জীবন থেকে ও বরবরের মতো চলে যাব।আপনি ঠিকিই বলেছেন আমি হয়তবা সত্যি আপনাকে ভালোবাসিনি। যদি সত্যি ভালোবাসতাম তাহলে নিশ্চয়ই এত সহজে অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা ভাবতে পারতাম না৷ আসলে আপনার জন্য সবটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে আমার কাছে এতটা সহজ ছিলো না। জন্মের পর থেকে কখনো আব্বুকে আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলতে শুনিনি। না তো আমার বিষয় নিয়ে ভাবতে দেখেছি। কিন্তু যখন আব্বু নিজে আমার বিয়ে নিয়ে উৎসাহ দেখালো। আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলল আব্বু আমাকে ভালোবাসে আর এই বিয়েটা দিয়ে সারাজীবন আমাকে তার সাথে রাখতে চাই আমি না করতে পারিনি।অবশ্য আমি আপনাকে এসব কেনো বলছি আপনি কি এসব শুনতে চান নাকি।'
'ঠিক বলেছো আমি এসব একদমই শুনতে চাইনা। আপাতত তুমি চুপ করলে খুশি হব। রিয়াকে একটা কল করে জিজ্ঞেস করতে হবে ঠিকঠাক বাড়ি পৌঁছালো কিনা। '
আহিরের গা ছাড়া কথাবার্তায় নুহার রাগটা তরতর করে বাড়লো। এগিয়ে এসে আহিরের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে ছুড়ে মেরে বলল,
' কালকেই আমাকে ডিভোর্স দেবেন? আমি আর থাকতে চাই না আপনার মতো মানুষের সঙ্গে!”
আহির শুধু মাথা সম্মতিসূচকভাবে নাড়াল। তারপর বসা থেকে উঠে ঘরের লাইট অফ করলো। অন্ধকারে হঠাৎ নুহাকে কোলে তুলে নিলো নুহা ছটফট করতে করতে আহিরের শক্ত বুকে ঠেসে গেল। আহির পাত্তা দিলো না। ধীর ধীর নুহাকে বিছানায় শুইয়ে নিজেও আধশোয়া হলো। নুহার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো,
' এত ছটফট করছো কেন? কালকেই ডিভোর্স দেব তো। সেটা নাহয় কালকে দেখা যাবে। তুমি তো স্বামী থাকতে কোলবালিশ নিয়ে একা ঘুমাতে পারবে না তাই বিছানায় তুলে এনেছি।'
কিছু বলার আগেই গ্রীবাদেশে আহিরের পুরুষালী ওষ্ঠের স্পর্শে কেঁপে উঠলো নুহা। শরীর যেন সবল অজ্ঞান। প্রতিটি কোষ অদৃশ্য উত্তাপে ঝলমল করছে। পৃথিবীর সমস্ত শব্দ হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেলো। শুধু নিঃশ্বাসের গতি স্পর্শের নরম তরঙ্গ এবং কাছাকাছি থাকা অদৃশ্য ঘ্রাণেরই অস্তিত্ব রইলো। নুহা অনুভব করলো আহিরের হাতের কোমল স্পর্শ। নিঃশ্বাসের উষ্ণতা। অম্লান প্রলয়ের মতো ঘনিষ্ঠ উত্তাপ। সমস্ত তিক্ততা সমস্ত ক্ষোভ মুহূর্তের সঙ্গে মিলেমিশে অদৃশ্য হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে নুহা আঁকড়ে ধরলো প্রতিটি মিষ্টি স্পর্শ। প্রতিটি নীরব আবেগের স্পন্দন। আহিরের চুলের ভাজে রাখা হাতের মুষ্ঠি প্রবল হলো। কয়েক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু নুহার চোয়াল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো। আহির কোমল মমতায় সেগুলো মুছে দিল। মুহূর্তগুলো ভেসে গেলো সেই অদৃশ্য সীমানায়।
_________
সূর্যের প্রথম কিরণ ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকছে। জানালার কাচে পড়ে নরম সোনালি আলো ঘরের প্রতিটি কোণকে আলিঙ্গন করেছে। মুহূর্তের মধ্যে নুহার ঘুম ভাঙলো। পিটপিট করে চোখ মেলতেই সে অনুভব করলো নিজেকে আহিরের নগ্ন বাহুর মাঝে বন্দি। রাতের সমস্ত দৃশ্য একরাশ আখিপটে ভেসে উঠলো।গাল দুটো রক্তিম আভায় ছেয়ে গেল নুহার। অস্থির হাত বাড়িয়ে নুহা ছুঁয়ে দিলো আহিরের এলোমেলো ভাবে কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো। আহিরের চোখে সূর্যের আলো পরতেই ঘুমের মধ্যেই চোখমুখ কুঁচকে ফেলল। নুহা হাত দিয়ে আলো আরাল করতেই মুহূর্তের মধ্যে আহিরের মুখে বিরক্তির রেশ ম্লান হয়ে গেল। নুহা মৃদু হেসে ঠোঁট ছোঁয়ালো আহিরের কপালে। ওঠার জন্য নড়াচড়া করতেই আহিরের ঘুম জড়ানো কণ্ঠ কানে এলো,
'সকাল সকাল ছটফট করছো কেনো? সারারাত যন্ত্রণা দিয়েও শান্তি মেলেনি তোমার। এখনো ডির্ভোস লাগবে?'
নুহা অবাক হয়ে আহিরের দিকে তাকাল। মুখের হাসিটুকু জোর করে চেপে রেখে বলল,
'আর একবার রিপিট করুন আপনি কথাটা।'
'ভালোভাবে কিছুক্ষন চুপচাপ শুয়ে থাকোতো। নয়তো অনেক কিছু রিপিট করতে হবে।'
'আপনার মতো সবাই বেকার না। ছাড়ুন আমাকে মিথ্যেবাদি, অসভ্য লোক।'
আহির শুনলো না। নুহাকে আরও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ধীরে ধীরে ফের পাড়ি জমালো ঘুমের দেশে। নুহাও গুটিসুটি মেরে ঢুকে গেল প্রিয় পুরুষের বুকে। আবেশে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল।
----------পরিশিষ্টঃ
ওটির বাইরে অসহায়ভাবে পায়চারি করছেন আরিফা বেগম আর রউফ মীর। ভিতরে নুহার ডেলিভারি চলছে। আরিফা বেগম বারবার ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সাহসে কুলাচ্ছেনা তার। অযথা রউফ মীরের উপর রাগ দেখাচ্ছেন বারবার। নুহার নরমাল ডেলিভারি হবে। আহির নুহার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে। পাশে আরও চারজন নার্স। সবাই নুহার কান্ডে ঠোঁটটিপে হাসছে। নুহা দাঁতমুখ খিঁচে ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করছে। তীব্র ব্যথার সঙ্গে তার নিশ্বাস ছন্দহীন হয়ে গেছে। সারা মুখে ঘামের বিন্দু চোখে পড়ছে। আহিরের দেওয়া শান্ত্বানা যেন আরও অসহ্য মনে হচ্ছে। প্রতিটি শব্দ যেন ব্যথার তীক্ষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আহির নুহার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,
' আর একটু সহ্য করো। এই তো....।'
নুহা অগ্নি দৃষ্টিতে আহিরের দিকে তাকালো। দাঁতমুখ খিঁচে বলল,
' তখন থেকে আর একটু আর একটু করেই যাচ্ছে। আহ… আমি মরে যাচ্ছি! আপনার মজা মনে হচ্ছে তাই না?'
'দেখো নুহা আমি বুঝতে পারছি…'
আহিরের কথা শেষ হওয়ার আগেই নুহা চেঁচিয়ে উঠল,
'কিভাবে বুঝতে পারছেন আপনি! কয়টা বাচ্চা প্রসব করেছেন আপনি? এই আপনার বকবক আমার একটুও ভালো লাগছে না। জাস্ট অসহ্য লাগছে। নার্স প্লিজ, ওনাকে বাইরে বের করে দিন।'
একজন নার্স নরম কণ্ঠে বলল,
' স্যার, উনি যখন বলছেন তখন আপনি সরুন। আমি ওনাকে দেখছি।'
নার্সটা মাথার দিকে আসতেই নুহা আরও চেঁচিয়ে উঠলো,
' সরে দেখাখ উনি। ওনার কত সাহস! আপনি আপনার জায়গায় থাকুন।'
নার্স করুন চোখে আহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
'স্যার উনি আসলে কি চাইছে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা।'
আহির বিরবির করে বলল,
'চার বছরে আমি এখনো বুঝে উঠতে পারলাম না।আপনি চার ঘন্টায় আর কি বুঝবেন?'
নুহা দাঁতমুখ খিঁচে চিৎকার করল,
'আমি এখানে ব্যাথার চোটে মরতে বসেছি…আর আপনি... নার্সের সঙ্গে আপনার এত কিসের গুজুর গুজুর… আ… আপনাকে তো… আমি পরে দেখছি। আগে এই বজ্জাতটা আসতে দিন… বাপ-বাচ্চা দুইজনেই শেষ করে দিলো আমাকে...উফ।'
বেশকিছুক্ষণ পর শিশুর প্রথম কান্না কানে পড়তেই চমকে উঠলেন আরিফা বেগম আর রউফ মীর। নার্স শিশুটিকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে আহিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,
'কংগ্রাচুলেশন! মেয়ে হয়েছে।'
আহির নিস্তেজ নুহার কপালে ঠোঁট ছুয়িয়ে কাঁপা-কাঁপা হাতে শিশুটিকে কোলে নিলো। নুহার ক্লান্ত চোখেমুখে মুহুর্তেই উত্তেজনা দেখা গেল। সাথে চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা তপ্ত জল। এটা বেধহয় আনন্দ অশ্রু। আহির শিশুটিকে নুহার কাছে দিতেই নুহা ঠোঁট ছোঁয়ালো ওর কপালে। আহির মৃদু হেঁসে নুহার কানে কানে বলল,
'এখনো কান্নার কি আছে। নার্সের সাথে কথা বলেছি তাই? নাকি মেয়ে হয়েছে আমি জিতে গেছি তাই?চারটা বছর কেটে গেছে নুহা৷জীবনের শেষ বছর অব্দি কাটাতে হবে বেকার ডাক্তারের সাথে ৷আমি চার বছরেও তোমাকে একটা কথা বলিনি তাইনা?'
নুহা মাথা নাড়ালো মানে সে শোনেনি। আহির নুহার কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো বলল,
❝ভালোবাসার ঢেউয়ে বয়ে যায় প্রাণ,
তুমি না থাকলে শূন্য এই জান।
আকাশ সমুদ্র অথবা ভূমি,
আমার চির আশ্রয় ‘মনের রঙে তুমি।❞
______________
গল্পটা আজ এখানে শেষ করলাম।একটু তাড়াহুড়ো মনে হতে পারে তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এই গল্পটা আসলে আরও আগেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। কারণ এর প্লট খুবই সাধারণ।ইচ্ছে করেই আমি নতুন কোনো চরিত্র যোগ করিনি। আহির আর নুহা এরা মূলত আমার আগের গল্প “নির্বাণের পথে”এর চরিত্র। পাঠকদের চাহিদায় তাদের নিয়ে আবারও লেখা। ভবিষ্যতে হয়তো তাদের নিয়ে আর লিখবো না। এই গল্পে কিছু জায়গায় হয়তো আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারতাম। তবে আমি অযথা পর্ব বাড়াতে চাইনি। ওদের বাচ্চার নামকরণের দায়িত্ব রইলো আপনাদের হাতে।
সবাই ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন। আপনাদের অনেক অপেক্ষা করিয়েছি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আমার ফোনে কিছু সমস্যার কারণে নিয়মিত আসতে পারিনি। আশা করি খুব শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে গেলে নতুন গল্প নিয়ে আবার ফিরে আসতে পারবো।আপনাদের ভালোবাসা মতামত ও মন্তব্যই আমার লেখার প্রেরণা। শেষ পর্বে অবশ্যই জানাবেন কেমন লেগেছে। আমি যাতে ভবিষ্যতের লেখাগুলো আরও সুন্দর করে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি। আজকের পর হয়তবা অনেক কে হারিয়ে ফেলবো। ব্যাপার না এটাই নিয়ম। ভালোবাসা সবার জন্য রইলো। ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম 💙