ফন্ট সাইজ:
থিম:
ফাইযান সিকদার

৩য় পর্ব

লেখক: তানজিলা আহমেদ স্পর্শীয়া

#ফাইযান_সিকদার

পর্ব ৩
লেখিকা: #তানজিলা_আহমেদ_স্পর্শীয়া
[ অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ।]
“ এই বেয়া/দব মেয়ে জামাইকে ভাই ডাকো কেন?”
ফাইযান এর ধমক খেয়ে ভয়ে চুপসে গেল অবনীর মুখ। ছোট বেলা থেকেই এই পুরুষের রাগ দেখে এসেছে সে। হৃদয়টা তাড়াহুড়ো করে ধকধক করছে, হাতগুলো অজান্তেই কেঁপে উঠছে। অবনী গভীর চেষ্টায় নিজের ভয়কে সামলায় এবং ফ্রেশ হয়ে ধীরে ধীরে দরজা খুলে। দরজা খুলতেই দেখা গেল ফাইযান দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে নিদ্রালুভাব। এখনও ঠিকভাবে ঘুম হয়নি বোধহয়। অবনী ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে নিচে যেতে নিলে পেছন থেকে ফাইযান বলল,
“রুম থেকে বের হবে না।”
মুহুর্তেই অবনী দাঁড়িয়ে গেলো। পিছু ফিরে মিনমিনে গলায় বলল,
“তো আমি এইখানে কি করবো?”
“কি করবা মানে? জামাই কে একা রুমে রেখে কেউ বাইরে যায়? চুপচাপ ড্রয়ারের উপরে একটা প্যাকেট আছে ওইখান থেকে কাপড় বের করো আমার। আর টাওয়াল টা দাও।”
“কাপড় দিয়ে কি করবেন এখন?”
“গোসল করবো।”
“সাত সকালে গোসল?”
“নতুন বিয়ে করলে গোসল করতে হয়। তুমি তো পঁচা তাই করোনি।”
“আরে শুধু বিয়ে করলে গোসল করতে হয় এমন না আসলে তো.........”
বলতে বলতেই থেমে গেল। কি বলতে কি বলে ফেলছে বুঝতে পেরে। ইস্ কি লজ্জা। ফাইযান এখন কি ভাববে? ভাবনার মাঝেই ফাইযান অবনীর লজ্জা বাড়িয়ে দিতে বলল,
“আসলে নকলে কিছু না আমার মুড ছিল না তাই কিছু করিনি। এর মানে এই না যে আমি সকালে গোসল করাবো না।”
অবনীর মুখ লালচে হয়ে গেল ফাইযানের কথায়। চোখ দুটো নিচের দিকে নামিয়ে ফেলল, যেন মাটির ভেতর ঢুকে যায়। কেন যে এই কথা বলে ফেলল সে! ভেতরে ভেতরে কেমন যেন লজ্জা, আবার বিরক্তিও কাজ করছে।
ফাইযান অবনীর এই অবস্থা দেখে মুচকি হাসল। কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“তোমার গালগুলো এত লাল কেন বলো তো? আমি কি কিছু বলেছি নাকি?”
অবনী কোনো উত্তর দিল না। দাঁত চেপে টাওয়ালটা দিল ফাইযানের হাতে।
“নিন, এই নিন আপনার টাওয়াল।”
ফাইযান টাওয়াল নিলেও অবনীকে ছাড়ল না। এক হাতে টাওয়াল নিয়ে অন্য হাতে তার আঙুলগুলো আলতো করে চেপে ধরল।
“শোনো, তোমার লজ্জা আমার খুব পছন্দ। কিন্তু এত ভয় পেতে হবে না। আমি রাগি হলেও তোমার জন্য আলাদা।”
অবনীর বুকের ভেতর ধকধক শব্দ আরও বেড়ে গেল। কী উত্তর দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। ঠিক তখনই ফাইযান হাত টেনে অবনীকে সহ ওয়াশ রুমে নিয়ে গেলো। ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকতেই অবনী থমকে গেল। তার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে উঠল। দরজাটা ফাইযান ভেতর থেকে টেনে বন্ধ করে দিল। অবনী ভয়ে ভয়ে বলল,
“এই যে… আপনি কেন আমাকে ভেতরে টানলেন? আমি… আমি বাইরে থাকলেই তো হতো।”
ফাইযান মুচকি হেসে টাওয়াল কাঁধে রেখে অবনীর দিকে এগিয়ে এল। বলল,
“বউ, তোমাকে ছাড়া গোসলের প্রস্তুতিও নিতে ইচ্ছে করে না।”
অবনী কেঁপে উঠল, লজ্জায় মাথা আরও নিচু করে ফেলল। পরবর্তীতে কোনোরকম নিজেকে সামলে বলল,
“আপনি… এসব কি বলেন? আমি বের হচ্ছি।”
ফাইযান শক্ত করে তার হাতটা চেপে ধরে বলল,
“যাবে না। এত ভয় পাও কেন? আমি বলেছি না, রাগি হলেও তোমার জন্য আলাদা আমি।”
অবনী কিছু বলার আগেই ফাইযান ধীরে ধীরে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“তুমি শুধু আমার, অবনী। এই সত্যিটা তুমি যত দ্রুত মানবে, ততই ভালো থাকবে।”
অবনীর শরীর শিউরে উঠল। সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। চোখে-মুখে পানি পড়তেই হুট করে চোখ খুললো সে। মূলত ফাইযান শাওয়ার ছেড়ে দিয়েছে। শাওয়ারের নিচে তারা দুজন। অবনী ভয় আর অস্বস্তিতে কেঁপে উঠল। কাঁপা গলায় বলল,
“আপনি এটা কি করছেন? আমাকে একা থাকতে দিন। আমি... আমি বাইরে যাচ্ছি।”
অবনী দরজার দিকে এগোতেই ফাইযান হাত বাড়িয়ে তাকে থামাল। নরম স্বরে বলল,
“যাওয়ার চেষ্টা করলেও আমি তোমাকে একা ছাড়ব না। তুমি এখন আমার স্ত্রী। এটা মনে রাখবে।”
অবনীর বুক ধড়ফড় করতে লাগল। সে কেঁপে উঠল ফাইযানের আঁকড়ে ধরা বাহুর নিচে। চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কিন্তু আমি ভয় পাই…”
ফাইযান নিঃশ্বাস ছেড়ে একটু কাছে ঝুঁকে বলল,
“তোমার ভয় পাওয়ার দরকার নেই। ভয় যদি পেতেই হয়, তবে শুধু আমার হারানোর ভয় পেয়ো।”
অবনীর শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেল। ফাইযান দু’হাতে তার মুখটা আলতো করে তুলল। গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“আমার বউ কতোদিনের সাধনা তুমি জানো?”
অবনী ডানে বামে মাথা নাড়ালো যার অর্থ না। সে জানেনা। ফাইযান ওর কপালে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে বলল,
“জানতে হবে না। একদিন জেনে যাবে।”
“ছাড়ুন ভিজে যাচ্ছি।”
“ভিজে তো গেছো।”
“আমাকে এইখানে আনলেন কেন?”
“ যাতে তোমার ভিজা চুল দেখে আলভী ভাবে আমাদের মধ্যে কিছু হয়েছে।”
“মানে?”
“ বাচ্চা মানুষ তুমি বুঝবেনা। তোমার সাথেও আমার বোঝাপড়া আছে‌।”
একে একে সকলেই নাস্তার টেবিলে বসেছে। অবনী,ফারিহা বেগম নাস্তা এনে টেবিলে রাখছেন। ইতিমধ্যে আলভী এসে বসেছে টেবিলে। কাল বেশ রাত হওয়ার আলভী আর আমেনা বেগম কে যেতে দেননি অবনীর বাবা। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে ফাইযান। টেবিলে আলভী কে দেখে তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।অবনী টেবিলে নাস্তা সাজাতে ব্যস্ত। সে ফাইযানের দিকে তাকাতে সাহস পাচ্ছে না। আলভী ইতিমধ্যেই বসে বসে হালকা হাসি দিয়ে বলছে, “আজকে সকালের পরিবেশটা বেশ সুন্দর, তাই না?”
ফাইযান চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। মনে হচ্ছে তার মনে ছোটখাটো হিংসা জেগেছে। সে ভেতরে ভেতরে চায় অবনী শুধু তার পাশে থাকুক।
“অবনী আমার কফিটা দাও।”
অবনী লাজুক স্বরে হাত বাড়িয়ে কফির কাপ ফাইযানের দিকে এগিয়ে দিল। ফাইযান কাপটা হাতে নিয়ে একহাতে অবনীর কাঁধ জড়িয়ে ধরলো। আপাতত এইখানে আলভী আর তারা দুজন ছাড়া কেউ নেই। অবনী হঠাৎ থমকে গেলো। ফাইযানের আঁকড়ে ধরে তাকে কাছে টানায় তার শরীর অজান্তেই একটু কেঁপে ওঠল। চোখ নামিয়ে সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
ফাইযান একটু হেসে কফিতে চুমুক দিয়ে বলল,
“ওয়াও বউ কফি টা বেশ মজা হয়েছে ধন্যবাদ।”
অবনী কিছু বলতে যাবে তার আগেই সেখানে অবনীর দাদি মাহবুবা খাতুন এসে উপস্থিত হন। সাথে সাথেই ফাইযান অবনীকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু তাকে কি? মাহবুবা খাতুন তো দেখে নিয়েছে। তিনি মুচকি হেসে বললেন,
“কাল বিয়ে করবে করবে না করে এখন দেখি জামাইরে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আবার দেখি চুলও ভিজা। এক রাতেই শেষ তোদের সব বাহ্।”
অবনী ঠোঁট উল্টে বলল,
“আমি তোমার নাতীকে জড়িয়ে ধরি নি দাদি।”
পরপর সে বিড়বিড় করে বলল,
“তোমার নাতী লুইচ্চা খালি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে।”
বিড়বিড় করে বললেও ফাইযান ঠিকই শুনলো। দুষ্টু হেসে সে মাহবুবা খাতুন এর উদ্দেশ্যে বলল,
“ আরে কি বলো তো নানু তোমার নাতনী তো আমাকে ছাড়তেই চায় না। এইযে কফি দিতে দিতে বলল তাকে একটু জড়িয়ে ধরতে। আমি তো বউ পাগল মানুষ তাই বউ এর কথা ফেলতে পারিনি।”
অবনী কিছু বলতে চাইলে ফাইযান ইশারায় চুপ করতে বললো। মাহবুবা খাতুন ওদের উদ্দেশ্যে বললেন,
“এইভাবেই থাকো আজীবন।”
ফাইযান আলভীর দিকে তাকালো কিন্তু সে একদম স্বাভাবিক। যেনো কিছু হয়নি। দিব্যি সে নাস্তা করছে।
ফাইযান অবনীকে আরও কাছে টেনে নিয়ে হাসি মুখে বলল,
 “বউ, নাস্তা শেষ হলে রেডি হয়ে নিও শ্বশুর বাড়িতে যাবে তোমার।”
অবনীর মন খারাপ হলো। এতো বছর এই বাড়িতে থেকেছে সে কিন্তু আজ থেকে তার ঠিকানা হবে ফাইযান এর বাড়ি। এখন থেকে সে এই বাড়িতে আসবে শুধু মেহমান হয়ে। ভাবতেই চোখে পানি চলে এলো। তা দেখে মাহবুবা খাতুন বললেন,
“কাঁদছোস কেন? আমিও তো যাবো তোমার সাথে। আর ওই বাড়ি তোমার একেবারে অপরিচিত না। নিজেরই বাড়ি তোমার।”
বাবাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদছে অবনী। আলমগীর সাহেব মেয়েকে এটা সেটা বলে সান্ত্বনা দিচ্ছেন কিন্তু এতে লাভ হচ্ছে না। এদিকে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে ফাইযান। বহু কষ্টে অবনীকে শান্ত করলেন আলমগীর সাহেব। মেয়েকে গাড়িতে তুলে দিলেন সেই সাথে মাহবুবা খাতুন ও ফারিহা বেগমও গাড়িতে উঠলেন। মাহবুবা খাতুন আর এই বাসায় থাকবেন না। তিনি একেবারে ফাইযান দের বাসায় থাকবেন। কারণ অবনীকে ছাড়া তিনি থাকতে পারবেন না। অবনীর মা মারা যাওয়ার পর অবনীকে বড় করেছেন তিনি। নাতনির প্রতি উনার প্রচুর টান।
গাড়ি এসে থামলো ফাইযানদের বাড়ির সামনে। দরজার সামনে ফুলের বাগান, উজ্জ্বল রঙের দেয়াল আর উঁচু জানালা সবই যেন নতুন জীবনের স্বাগত জানাচ্ছিল। ফাইযান দরজা খুলে বলল,
 “বউ, আসো।”
অবনী ধীরে ধীরে গাড়ির দরজা খুলে বের হল। তার চোখে অশ্রু, মুখে অদ্ভুত এক উদাসীনতা। একদিকে পুরোনো বাড়ি, তার বাবা, স্মৃতিগুলো সবই মনে ভেসে উঠছে। যদিও এই বাড়িতে সে আগে বহুবার এসেছে। নিজের ফুফুর বাড়ি এইটা। জানালার কাঁচ দিয়ে সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকছে, যা করিডোরের ফ্লোরে ছড়াচ্ছে। ফাইযান অবনীর হাত ধরে ধীরে ধীরে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেল। ফারিহা বেগম তাকে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসিয়ে মিষ্টি মুখ করালো। পর পর ফ্রেশ হতে রুমে পাঠিয়ে দিলেন।
রুমে ঢুকতেই অবনীর নাকে লাগল এক ধরনের মিষ্টি গন্ধ হালকা ফ্রেশ, যেন ফুলের সুবাস আর খানিকটা সুগন্ধি মিশ্রিত। গন্ধটা এতই শান্তিময়, যে সে কিছুটা অজান্তেই চোখ বন্ধ করে তা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে লাগল। ফাইযান পাশে এসে দাঁড়ালো, এক হাতে তার হাত ধরল। বলল,
“আলমারিতে তোমার জন্য অনেক কাপড় আছে যেটা ভালো লাগে পড়ে নাও। গরমে শাড়ি পরে থাকতে অসুবিধা হবে।”
অবনী অবাক হয়ে বলল,
“আমার জন্য কাপড়?”
“ জ্বি আপনার জন্য আগেই বানিয়ে রেখেছিলাম।”
“আপনি জানতেন আমি আপনার বউ হবো?”
“ বলদের মতো কথা বলো তুমি। ভালোবাসি বহু আগে থেকেই। বিয়ে করলে তোমাকেই করবো এইজন্যই তো আপনার শান্তির জন্য এতো আয়োজন। দেখো পছন্দ হয় কিনা।”
অবনী মিষ্টি হেসে বলল,
“ ধন্যবাদ ফাইযান ভাই।”
ফাইযান ভ্রু কুঁচকে তাকালো। পর পর বলল,
“ এই মেয়ে তুমি আমাকে আবার ভাই ডাকছো?”
“ ভাই তো ছিলেন।”
“ ছিলাম এখন না।”
অবনী গাল ফুলিয়ে বলল,
“ এইভাবে বলার কি আছে? মুসলমান মুসলমানের ভাই এটা জানেন না?”
“ চুপ আমি এখন তোমার স্বামী। তোমার ভবিষ্যৎ বাচ্চার বাপ।”
ফাইযানের কথাগুলো শুনে অবনীর বুকে ধুকপুক শুরু হলো। এতদিন যা শুধু অনুমান করত, তা যেন আজ স্পষ্ট করে সামনে দাঁড়াল। রুমের মিষ্টি সুবাসের সঙ্গে সঙ্গে তার মনে একটু একটু করে উষ্ণতা ছড়াতে লাগল।
অবনী ঠোঁট কামড়ে আস্তে বলল,
“আমি তো ভাবতেই পারিনি…”
ফাইযান হেসে বলল,
‘ভাবতে না পারলেও আমি ভেবে রেখেছি অনেক আগেই। তোমার জন্য কোনটা আরামদায়ক হবে, কোনটা ভালো লাগবে এসব ভাবতে ভাবতেই আলমারি ভরে ফেলেছি।”
অবনী আলমারির দিকে এগিয়ে গেল। ধীরে দরজা খুলতেই ভেতর থেকে ঝলমলে পরিপাটি কাপড়ের সারি বেরিয়ে এলো হালকা রঙের কামিজ, সুন্দর সালোয়ার, নরম কাপড়ের ওড়না… সবকিছুই যেন তাকে মাথায় রেখে কেনা। সে অবাক দৃষ্টিতে পিছনে তাকাল। বলল,
“এগুলো সবই… আমার জন্য?”
ফাইযান দু’হাত গুটিয়ে দরজার ফ্রেমে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে, হালকা দুষ্টুমিভরা হাসি নিয়ে বলল,
“হ্যাঁ বউ, তোমার জন্য। আর কার জন্য হবে?”
অবনী লজ্জায় মাথা নিচু করতেই ফাইযান ধীরে এগিয়ে এসে বলল,
“চলো, একটা পছন্দ করে নাও। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে বিশ্রাম নাও। খেতে হবে।”
ফাইযানের শেষ কথাগুলো যেন খুব নরমভাবে গা ঘেঁষে গেল অবনীর মনে। এত যত্ন, এত চিন্তা সবটাই শুধু তার জন্য। অবনী কাপড়গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখল, প্রতিটা যেন তার রুচি বুঝে কেনা। হাত বুলোতেই কাপড়ের নরম স্পর্শে বুকটা আরও হালকা লাগল। বলল, “ঠিক আছে, পছন্দ করি।"
ফাইযান এগিয়ে এসে আলমারির একপাশে হাত রেখে নরম গলায় বলল,
“আর একটা কথা বাসায় নতুন বলে লজ্জা পাবে, টেনশন করবে এসব কিছুই লাগবে না। তুমি এখানে আমার বউ হিসেবে না, নিজের মানুষদের বাড়িতে এসেছো মনে করে থাকবে। আর তুমি যখন ভালো থাকলে তখনই আমার ভালো লাগবে।”
অবনী কিছু বলতে গেলেও শব্দ বের হলো না। শুধু মাথা নাড়ল আস্তে। ফাইযান সরে যাওয়ার আগে আরেকবার মৃদু হেসে বলল,
“আর হ্যাঁ, বাইরে দরজা লাগিয়ে দেবো? নাকি খোলা রাখবে?”
অবনী হকচকিয়ে বলল,
“খোলা… থাক, দরকার নেই।”
“ঠিক আছে বউ।”
ফাইযান ঘর থেকে বের হয়ে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে যোগ করল,
“সময় নাও। আমি নিচে আছি।”
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন গুছিয়ে লিখতে পারিনি।
চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন