ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নিরবতায় আমি

২য় পর্ব

লেখক: samira
তোমার নীরবতায় আমি
পর্ব — ২
✍️ samira
সকালটা অন্য দিনের তুলনায় একটু বেশি অস্থির লাগছিল মেহরিনের কাছে।
আজ তার Rayhan Holdings-এ প্রথম দিন।
হাতে ফাইল, কাঁধে ব্যাগ—সব ঠিকঠাক আছে কিনা বারবার দেখে অবশেষে অফিসের বিশাল কাঁচের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল সে।
গত রাতের ঘটনাটা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন করল।
কাল বৃষ্টির মধ্যে দেখা সেই মানুষটা—
সাহরিয়ার রায়হান।
আজ থেকে সে-ই তার বস।
মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভেতরে ঢুকে গেল।
রিসেপশনে নিজের নাম বলতেই মেয়েটি কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে বলল,
—“মেহরিন আহমেদ?”
—“জি।”
—“আপনাকে ৩২ তলায় যেতে বলা হয়েছে। CEO স্যারের অফিসে।”
মেহরিন থমকে গেল।
সরাসরি CEO-র অফিসে?
সে কিছু না বলে লিফটে উঠে গেল।
৩২ তলায় পৌঁছে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড নিঃশ্বাস নিল।
তারপর—
Knock… knock…
ভেতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল,
—“Come in.”
মেহরিন দরজা খুলে ঢুকল।
সাহরিয়ার তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল।
কাল রাতের মতোই ঠান্ডা, গম্ভীর মুখ।
মেহরিনকে দেখেই তার চোখ কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল।
—“আপনি দেরি করেছেন।”
মেহরিন ঘড়ির দিকে তাকাল।
—“আমি তো ঠিক সময়েই এসেছি।”
সাহরিয়ার ফোনটা নামিয়ে রাখল।
—“আমার সময় অনুযায়ী পাঁচ মিনিট দেরি।”
মেহরিন ভ্রু কুঁচকে বলল,
—“আপনার ঘড়ি কি অফিসের ঘড়ির চেয়ে আলাদা?”
সাহরিয়ারের ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটে উঠল।
—“আপনি প্রথম দিনেই আমার সঙ্গে তর্ক করছেন?”
—“আপনি প্রথম দিনেই আমাকে দোষ দিচ্ছেন।”
দুজনেই কয়েক সেকেন্ড চুপ।
সাহরিয়ার চেয়ার দেখিয়ে বলল,
—“বসুন।”
মেহরিন বসল।
সাহরিয়ার তার সামনে একটা মোটা ফাইল রাখল।
—“আজকের মধ্যে এটা পড়ে একটা analysis তৈরি করবেন।”
মেহরিন ফাইলটা হাতে নিয়ে চোখ বড় করল।
—“এটা তো প্রায় দেড়শো পৃষ্ঠা!”
—“জানি।”
—“আজকের মধ্যেই?”
—“সমস্যা?”
মেহরিন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
—“না। কাজটা কঠিন হলে ভালোই লাগে।”
সাহরিয়ার এবার সরাসরি তার দিকে তাকাল।
—“ভালো। আমি এমন মানুষ পছন্দ করি যারা কঠিন কাজ দেখে পিছিয়ে যায় না।”
মেহরিন ফাইলটা নিয়ে উঠে দাঁড়াল।
—“তাহলে আশা করি আপনিও এমন মানুষ পছন্দ করেন যারা অন্যায় কথা শুনে চুপ থাকে না।”
সাহরিয়ার কিছু বলল না।
মেহরিন বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ হওয়ার পর সাহরিয়ার ধীরে ধীরে নিজের চেয়ারে বসল।
তার চোখ চলে গেল টেবিলের ওপর রাখা মেহরিনের CV-র দিকে।
কিছু একটা তাকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
এই মেয়েটা এখানে আসা নিছক কাকতালীয় নয়।
দুপুরের দিকে মেহরিন অফিসের ক্যান্টিনে বসে ফাইল পড়ছিল।
হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,
—“তুমি নতুন?”
মেহরিন তাকিয়ে দেখল হাসিখুশি একটা মেয়ে।
—“জি।”
—“আমি নীরা।”
মেহরিন হাসল।
—“মেহরিন।”
নীরা তার পাশে বসে ফিসফিস করে বলল,
—“একটা কথা বলব?”
—“বল।”
—“তোমাকে প্রথম দিনেই CEO স্যারের অফিসে পাঠিয়েছে কেন?”
মেহরিন হেসে বলল,
—“জানি না।”
নীরা চোখ ছোট করে তাকাল।
—“হুম… ব্যাপারটা সন্দেহজনক।”
—“তুমি সবকিছুতেই সন্দেহ খুঁজে পাও?”
—“অবশ্যই। অফিসে কাজের চেয়ে gossip বেশি interesting।”
মেহরিন হেসে ফেলল।
অনেকদিন পর অফিসের প্রথম দিনেই তার একটু স্বস্তি লাগল।
সন্ধ্যার কিছু আগে মেহরিন ফাইলটা নিয়ে সাহরিয়ারের অফিসে গেল।
—“স্যার।”
সাহরিয়ার চোখ না তুলেই বলল,
—“রাখুন।”
—“আমি analysis শেষ করেছি।”
এবার সাহরিয়ার তাকাল।
—“এত দ্রুত?”
—“আপনি তো বলেছিলেন আজকের মধ্যে।”
সে ফাইলটা এগিয়ে দিল।
সাহরিয়ার কয়েক পৃষ্ঠা উল্টে দেখল।
তারপর থামল।
—“ভালো কাজ করেছেন।”
মেহরিন একটু অবাক হলো।
এই মানুষটার মুখ থেকে প্রশংসা বের হয়?
—“Thank you.”
সাহরিয়ার বলল,
—“আপনি চাইলে আমার সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারবেন।”
মেহরিন বলল,
—“আমি চাই।”
কথাটা বলেই সে নিজেই একটু থেমে গেল।
সাহরিয়ারও কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল।
সে কল ধরল।
ওপাশ থেকে কারও দ্রুত কথা শোনা গেল।
সাহরিয়ারের মুখের ভাব মুহূর্তেই বদলে গেল।
—“কোথায়?”
কয়েক সেকেন্ড শুনে বলল,
—“আমি আসছি।”
কল কেটে সে মেহরিনের দিকে তাকাল।
—“আপনি আজ একা বাড়ি যাবেন না।”
মেহরিন অবাক।
—“কেন?”
—“কেউ আপনাকে follow করছে।”
মেহরিনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সাহরিয়ার জানালার দিকে তাকাল।
নিচে পার্কিংয়ের পাশে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
ঠিক সেই গাড়ি—
যেটা মেহরিন গত রাতেও দেখেছিল।
সাহরিয়ার ধীরে বলল,
—“ওরা আবার এসেছে।”
মেহরিন জানালার কাছে গিয়ে তাকাল।
তার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
—“ওরা কারা?”
সাহরিয়ার তার দিকে তাকাল।
—“সেটাই জানার চেষ্টা করছি।”
তারপর এক মুহূর্তও দেরি না করে বলল—
“আজ রাতে আপনি আমার সঙ্গে যাবেন।”
মেহরিন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
আর সাহরিয়ারের চোখ তখন নিচের সেই কালো গাড়ির দিকে।
কারণ সে জানত—
যে মানুষটা তিন বছর ধরে তাকে খুঁজছে, সে এবার মেহরিনকে কেন খুঁজছে—তার উত্তরটা খুব শিগগিরই সামনে আসবে।
চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন