ফন্ট সাইজ:
থিম:
Our Dark Obsession

১ম পর্ব

লেখক: রওনোক জাহান হায়াত

–”আমি রওশন ভাইয়াকে বিয়ে করতে পারবো না, চাচিমা।”

–”কেনো? কোন দিক দিয়ে কমতি আছে আমার ছেলের মধ্যে?”
–”সব দিক দিয়েই কমতি আছে। আমি যখন বলেছি আমি তাকে বিয়ে করবো না, তার মানে আমি তাকে বিয়ে করবো না।”
এই বলেই নিশান সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলো। আর ধপ করে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো। নিশানের এমন তেজি জবাবে রুবি বেগম রাগে বোম হয়ে বিস্ফোরিত ভাবে গজগজ কন্ঠে রহিম মির্জাকে বলল, 
–”লাই দিয়ে দিয়ে এই বেয়াদপ মেয়েটাকে মাথায় তুলেছো। এখন আমাদের মাথার উপর উঠে ধেই ধেই করে নাচছে।”
রহিম মির্জা তেতিয়ে উঠে বললেন, 
–”তো আর কি করতাম? বাপ-মা মরা মেয়ে, গায়ে হাত তুললে আল্লাহর গ*জ*ব পড়বে আমাদের উপর।”
রুবি বেগম গিয়ে রহমান মিজার পাশে বসলেন। কপাল চাপড়ে বললেন, 
–”এখন কি করবো আমরা? এই মেয়েতো বলছে রওশনকে বিয়ে করবে না। ও যদি রওশনকে বিয়ে না করে,তাহলে এইসব সম্পত্তি আমরা কিভাবে নিজেদের আয়ত্তে আনবো?”
রহিম মির্জাও চিন্তায় পড়ে গেলেন। নিশান যদি তোদের ছেলেকে বিয়ে না করে,তাহলে এই সম্পত্তির কানা কুড়িয়েও তারা পাবে না। 
চলো আগে পরিচয় করিয়ে দেই। নিশান হলো মির্জা বাড়ির একমাত্র মেয়ে এবং তার বাবা সাইফুল মির্জার সকল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরসূরী। যার পুরো নাম 
#নিশান_মির্জা_আরহা। তার বয়স সবে একুশ। একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবা-মায়ের খুব আদরের ছিলো। কিন্তু গত চার বছর আগে একটি কার এ*ক্সি*ডেন্টে নির্মমভাবে মৃ/ত্যুে ঘটে সাইফুল মির্জা আর জুঁই বেগমের। তাদের মৃত্যুর পর থেকেই মেয়েটা কেমন যেন হয়ে গেছে। রাগি, জেদি আর রগচটা। ঘাড়ত্যাড়াও বলা চলে। নিজের মর্জি মতো চলে সে। কারোর সামনে নিজের অনুভূতি আর দূর্বলতা প্রকাশ করতে যেনো ভুলেই গেছে। আর রুবি বেগম ও রহিম মির্জা হলেন নিশানের চাচা-চাচি। যারা ওর বাবা-মায়ের মৃ/ত্যুর পর থেকেই ওর সাথেই ওদের বাড়িতে থাকছে। তাদের নজর সাইফুল মির্জার সম্পত্তির দিকে,যা বর্তমানে নিশানের নামে উইল করা আছে। আর তার জন্যই তারা চাইছেন নিশান যেনো তাদের ছেলে #রওশন_মির্জা কে বিয়ে করে। রওশন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে, বর্তমানে একটা বেসরকারি কম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছে। অন্যদিকে নিশান রওশনকে পছন্দ করে না। সে শুধু তাকে একজন ভাই হিসেবেই দেখে। তাইতো নিশান সোজা চাচির মুখের উপর ‘না’ করে দিয়েছে। 
নিশান নিজের রুমে প্রবেশ করেই নিজের নরম দেহখানা বিছানায় এলিয়ে দিলো। কিছুক্ষণ সিলিংয়ের দিকে তাকায় রইলো। ওর ভাবতেও অবাক লাগে ওর চাচ-চাচি নামক শয়তান গুলো ওকে সম্পত্তির জন্য তাদের ছেলেকে বিয়ে করতে জোর করছে। আজ এরা নিজেদের আসল রূপ দেখিয়েই দিলো। ওর রক্ত যে এতোটা নেম*কহা*রা*ম হবে, তা ও কখনো ভাবতেই পারেনি। সিলিং থেকে চোখ সরিয়ে নিজের ফোনটা হাতে নিল। ফোনটা আনলক করতেই স্ক্রিনে বাবা-মার সাথে ওর ওয়ালপেপার জ্বলজ্বল করে উঠলো। তা দেখে নিশান একটা তপ্ত শ্বাস ছাড়লো। তারপর কল লিস্টে থাকা একটা নম্বরে কল করল। দুবার রিং হওয়ার পর ফোনের ওপাশ থেকে কেউ কলটা রিসিভ করল। নিশান শান্ত স্বরে বলল,
–”বড় মামা!”
ফোনের ওপাশ থেকে ওর বড় মামা সোহেল সিকদার
কোমর স্বরে আওয়ালেন, 
–”কিরে, মামুনি! কেমন আছিস?”
–”জা*হা*ন্নামে আছি, মামা।”
নিশানের ঝাঁঝালো কন্ঠ কর্ণপাত হতেই সোহেল সিকদার বেশ অবাক হলেন। আর চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, 
–” কি হয়েছে মামুনি? বাড়িতে সব ঠিক আছে তো?”
নিশান তিরতির কন্ঠে বলল, 
–”আমার আদরের চাচা-চাচি চাইছেন আমি যেন তাদের গুণধর ছেলেকে বিয়ে করি।ওরা এই সম্পত্তির লোভে পাগল হয়ে ওঠেছে , মামা।”
নিশানের উত্তর শোনার পর সোহেল সিকদার বেশ খানিকটা সময় চুপ রইলেন।গভীর ধ্যানে কিছু একটা ভাবলেন। তারপর ধাতস্থকণ্ঠে বললেন, 
–” তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না,মামুনি। তুমি বরংচ 
আজকের মধ্যেই মামার বাড়িতে চলে আয়। আমি এর একটা না একটা ব্যবস্থা করবো।”
–”ওকে ফাইন।”
তারপর নিশান কল কেটে দিলো। বিছানা থেকে উঠে গিয়ে আলমারি খুলে তা থেকে নিজের জামা কাপড় আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগেজে প্যাক করতে শুরু করে। ওর মামা ওকে আশ্বস্ত করেছে মানে নিশ্চয়ই তিনি কোনো বড়সড়ও প্ল্যান করছেন। নিশান শীতল ভাবে হাসলো। 
_________________
ইতালিকে বলা হয় “The Land of Love and Art”। এটি এমন দেশ যেখানে একদিকে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া আর অন্যদিকে আছে আধুনিকতার সৌন্দর্য। ইতালির রোম শহরের রাতের সোডিয়ামের আলোতে ছুটে চলেছে কালো রঙের একটি ‘Ducati Panginal v4’ মোটরবাইক। বাইকটির ইঞ্জিনের তীব্র শব্দে, নিঃশব্দ রোম শহর হঠাৎই যেনো কেঁপে কেঁপে উঠছে। বাইকের উপর বসে আসে ইতালির আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। কালো লেদার জ্যাকেটে ঢেকে আছে তার চওড়া কাঁধ, গ্লাভস পড়া হাত গুলোটা দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে বাইকের হ্যান্ডেল। মাথায় তার কালো হেলমেট, visor-এর ভেতর থেকে তার ধূসর বর্ণের চোখ জোড়া জ্বলজ্বল করছে। যেই চোখে মিশে আছে হিংস্রতা আর বিপদজ্জনক স্থিরতা। সে বাইকটি একটি নির্দিষ্ট ওয়ারহাউজের সামনে থামালো। তাকে দেখতে পেয়ে দ্রুত গার্ড গেট খুলে দিলো আর বাকি গার্ডরা একসাথে লম্বা সারিতে জড়োসড় হয়ে দাড়ালো। সকলের পরনে কালো রঙের সুট। এক একজনের সুঠামদেহ পালোয়ানের মতো। ব্যক্তিটি সোজা ওয়ারহাউজের গার্ডেনে প্রবেশ করলো। যেখানে লিওন আর রিকা উপস্থিত ছিলো। ব্যক্তিটিকে আসতে দেখে দুজনেই তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালো। ব্যক্তিটির দৃষ্টি যায় তাদের সামনে দাড়িয়ে থাকা একজন মধ্যবয়স্ক ইতালিয়ান ব্যক্তির দিকে। তখনই সেই ইতালিয়ান ব্যক্তিটি হেসে বলে উঠলো, 
–”Ti stavo aspettando solo per te,Mehfil”
(আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম,মেহফিল।) 
মেহফিল কোনো উত্তর দিলো না। সে শীতল দৃষ্টিতে ইতালিয়ান ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে রইল। তার এমন চাহনি দেখে লোকটি ইতস্তিত হয়ে পড়ে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। তার এমন অবস্থা দেখে মেহফিলের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসির রেখা স্পষ্ট হলো। মেহফিল কোনো কথা না বলে নিজের পকেট থেকে তার ব*ন্দু*ক বের করে। যা দেখে লোকটি ভয়ে দু কদম পিছিয়ে যায়। আর ভয়ার্ত কন্ঠে বলে, 
–”Mehfil, cosa vuoi fare?”
(মেহফিল, তুমি কি করতে চাইছো?)
মেহফিল শীতল কন্ঠে জবাব দিলো, 
–”Addio”
(বিদায়।)
মেহফিলের কথা শেষ হতেই ‘ঠাস্’ করে শব্দে পুরো ওয়ারহাউজের গার্ডেন কেঁপে উঠল। ইতালিয়ান ব্যক্তিটির দেহখানা সঙ্গে সঙ্গে হাওয়ার গতিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তার কপাল বয়ে তাজা উষ্ণ তরল র*ক্ত গলগল করে ঝরছে। মেহফিলের হাতের ব*ন্দু*ক টি থেকে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে।এই দৃশ্য দেখেও লিওন আর রিকা নিজ স্থানে ঠায় দাড়িয়ে রইলো। এই সব 
তাদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার। মেহফিল মুখের ভঙ্গিমা শক্ত রেখেই গার্ডদের হুকুম করল, 
–” Puliscil il posto.”
(জায়গায়টি পরিষ্কার করো।) 
এই বলেই সে লিওন আর রিকাকে নিয়ে ওয়ারহাউজের ভেতরে প্রবেশ করলো। গার্ডরা ওই ইতালিয়ান ব্যক্তিটির লা/শটা একটা বস্তাতে ভরে তাদের একটি গাড়িতে করে পাঠিয়ে দেয় অন্যস্থানে। 
এবার পরিচিত হওয়া যাক! মেহফিল যার পুরো নাম #অভ্রান_মেহফিল। ইতালির আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিপজ্জনক গ্যাংস্টার এবং মাফিয়া পরিবারের সদস্য। যার ক্ষমতার প্রভাব ইতালি ছাড়িয়ে বিস্তার করেছে আরো বহু দেশে। অত্যন্ত উন্মাদ, রগচটা, বেপরোয়া ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার ব্যক্তি সে। ইতালির রোম শহরের সবাই তাকে এক কথায় “Night Monster or A.V” নামেই জানে। কারণ সে তার সবধরনের কাজ রাতের আঁধারে করে। কোনো প্রকার প্রমাণ সে রাখে না। সে নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সবরকম সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। তার কাছে সহানুভূতি আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। সে যেন এক হৃদয়হীন মনস্টারের মতো,অন্যকে কষ্ট দিয়ে সে আনন্দ পায়। পুরো ইতালির এক আতঙ্কের নাম অভ্রান মেহফিল ওরফে “Night Monster or A.V“। সে মূলত ড্রাগ ডিলিং আর অস্ত্র পাচারের সাথে যুক্ত। তার কাজ খুবই স্বচ্ছ। ভুল করা যেনো তার ডিকশনারিতে লিখাই নেই। তার ডান হাত হলো লিওন। যার মূল কাজ হলো ড্রাগ ডিল ও অস্ত্র পাচারের সকল ইনফরমেশন মেহফিলকে দেওয়া। আর তার বাম হাত হলো রিকা। যে মূলত তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বডিগার্ড। 
অভ্রান ওয়ারহাউজে প্রবেশ করেই লিওন কে প্রশ্ন করে, 
–”Are all the weapons ready?”
লিওন ‘হ্যাঁ’ মাথা নাড়ে। অভ্রান তবুও ভালোভাবে চেক করে নিলো। তখন লিওন শান্ত স্বরে বলে উঠলো, 
–”Mr. Larson wants to meet with you.”
–”Why?”
–” To finalize the deal.”
লিওনের উত্তর শুনে অভ্রানের মুখের অন্ধকারে ছায়া নেমে এলো। সে লিওনের দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 
–”Just ki*ll him. He is a f**king liar.”
অভ্রানের কথার মানে বুঝতে পেরে লিওন শান্তভাবে তার আদেশ মাথা পেতে নেয়। অভ্রান সোজা ওয়ারহাউজ থেকে বেরিয়ে যায়। লিওন বা রিকা কেউই তার সাথে যায় না। কারণ অভ্রান এ মুহূর্তে প্রচন্ড রেগে আছে। তার পিছনে যাওয়া মানে নিজের বিপদকে আলিঙ্গন করা। 
_________________
নিশান নিজের কাপড় গুছিয়ে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য ছোট মামার বাড়িতে যাওয়া। নিশানকে লাগেজ নিয়ে নিচে নামতে দেখে রহিম মির্জা আর রুবি বেগম ওর কাছে এগিয়ে এলো। রহিম শান্ত স্বরে ওর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়লো, 
—”কোথায় যাচ্ছিস তুই এই সন্ধ্যার সময়?”
নিশান একবার চাচার দিকে তাকালো। তারপর তীক্ষ্ণ কন্ঠে উত্তর দিলো, 
–”বড় মামার বাড়িতে।”
ওর উত্তর শুনে রুবি বেগম চেঁতে উঠলেন, 
–”আগামীকাল তোর আর রওশনের বিয়ে। আর তুই কিনা এখন তোর মামার বাড়ি যাচ্ছিস?”
চাচির কথায় নিশানের গা রি-রি করে উঠলো। ইচ্ছে করছে চাচির চুলের মুঠি ধরে তিন-চার ঘা লাগিয়ে দিতে। কিন্তু সে নিজেকে শান্ত করে নিলো। আর তীক্ষ্ণভাবে জবাব দিলো, 
–”আমাকে দেখে কি তোমাদের বলদ মনে হয়? তোমাদের ছেলেকে বিয়ে করার চেয়ে ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে পটল তোলা অনেক ভালো। ছেঃ!”
নিশানের জবাবে ওর চাচির রাগ সপ্তম আসমানে উঠে গেলো। তিনি যখনই নিশানকে ঠাসিয়ে একখানা চড় মারতে যাবেন তখনই রহিম মির্জা তাকে থামিয়ে দিলেন আর ইশারায় গায়ে হাত তুলতে বারণ করলেন। তারপর নিশানের দিকে তাকিয়ে কড়া কন্ঠে বললেন, 
–”আগামীকাল রাতে তোমার আর রওশনের বিয়ে, তা তুমি চাও বা না চাও। এখন নিজের ঘরে গিয়ে নিজেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করো।”
তারপর তারা সেখান নিজেদের রুমে চলে যায়। নিশান তাদের যাওয়ার দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বিড়বিড় করে বলল, 
–”আমার উপর হুকুম চালানোর অধিকার কারোর নেই। এই বিয়ে কখনোই হবে না। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে কিভাবে তা বাঁকাতে হয় তা এই নিশান মির্জা আরহা খুব ভালো করেই জানে।” 
___________________
শহরের আলো-ছায়ার সীমা ছাড়িয়ে, এক নির্জন পাহাড়ি রাস্তার শেষের দিকে দাঁড়িয়ে আছে “Mehfil Villa” ,অন্ধকারে ঢাকা এক নীরব রাজ্য। গেটের ওপরে খোদাই করা নামটা ‘Mehfil Villa’ ম্লান আলোয় এমনভাবে জ্বলে ওঠে, যেন কোনো অদৃশ্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বাড়ির দেয়াল ধূসর আর কালো ছায়ার মিশেলে তৈরি, বিশাল কাঁচের জানালাগুলো দিনের আলো গিলে রেখে রাতে শুধু প্রতিফলন ফেরত দেয়। ভিতরের আলো বাইরে বেরোয় না। ভেতরে ঢুকলেই প্রশস্ত অথচ শীতল হলরুম। উঁচু ছাদ থেকে ঝুলে থাকা ঝাড়বাতি আলোয় ভেতরটা আলোকিত। বাড়ির পেছনের বাগানটা দিনের বেলায় সবুজ হলেও রাতে তা যেনো অন্ধকার জলাশয়ের পাশে এক রহস্যময় ছায়াপথ। যেখানে প্রবেশ করলে মনে হয় এক অন্ধকার জগতে প্রবেশ করেছি। 
অভ্রান বাড়িতে প্রবেশ করল। বরাবরের মতোই বাড়িটি শান্ত,নিরব অথচ ভয়ংকর। কালো মার্বেলের ফ্লোর ডেঙিয়ে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরের দিকে গেলো সে। ঘরে প্রবেশ করতেই অভ্রানের শান্ত মুখখানা নিমেষেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করলো। তার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো, ধূসর বর্ণের চোখ জোড়া লাল বর্ণ ধারণ করলো, যেনো আগ্নেয় লাভা। সে তড়িৎ গতিতে বেডের কাছে এগিয়ে গেলো। দাঁত কিটমিট করে বলল, 
–”What the he*ll are you doing here?”
বেডের উপর বসে থাকা মেয়েটি অভ্রানের দিকে একটু এগিয়ে এসে প্রলোভনসঙ্কুল স্বরে বলল, 
–” Baby, I was missed you.”
–”Why? Am I your f**king boyfriend.”
মেয়েটি নিজের ঠোঁট কামড়ে একই কন্ঠ বলল, 
–”No.But dad said that very soon he will arrange our marriage.”
মেয়েটির কথা শুনে অভ্রানের রাগে মাথার রক্ত টগবগ করে উঠলো। নিজের ব*ন্দু*কটা পকেট থেকে করতে করতে হুংকার দিয়ে বলল, 
–”I'd rather ki*ll than marry a girl like you.”
এই বলেই অভ্রান মেয়েটিকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তার কপাল বরাবর গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার দেহখানা নিথর হয়ে বেডের উপর পড়ে যায়। তাজা তরল রক্তে ভেজে যায় বিছানার চাদর। গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে লিওন, যে কিন সবে বাড়িতে প্রবেশ করেছিলো সে দ্রুত ছুটে আসে অভ্রানের রুমে। রুমের অবস্থা দেখে সে খানিকটা অবাক হয়। তার মুখ থেকে ‘Boss’ শব্দটি উচ্চারিত হয়,কিন্তু অভ্রান তাকে থামিয়ে দিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, 
–” How did this wh*or*e enter my mansion without my permission?”
লিওন একটা ঢোক গিলে উত্তর দিলো, 
–”Sorry, Boss.”
–”Clean my room before I'll ki*ll you.”
এই বলে অভ্রান ধপধপ করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। 
লিওন যেনো হাপ রয়েছে বাঁচে। আর বিড়বিড় করে বলে, 
–” একদম ঠিক হয়েছে। বসের সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করতে গেলে এমনই হয়। এখন আমি সুন্দর করে তোমার লা*শটা প্যাকেট করে তোমার বাপের কাছে পাঠিয়ে দেবো।”
এই বলে লিওন দুজন গার্ডকে ডাকে লাশটা সরিয়ে নিতে। আর মেইডদেরকে বলে ঘরটা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে। কিছুক্ষণ পর অভ্রান আবার রুমে ফিরে আসে। তখন রুমটি একদম পরিষ্কার ছিলো। একটু আগে যে সে একটা মেয়েকে কোনো দয়া ছাড়াই শুট করেছে তার কোনো প্রমাণই এখন আর নেই। তবে অভ্রানের রাগ কমলো না। সে লিওন আর রিকা কে রাগান্বিত কন্ঠে ডাকলো। ওর কন্ঠ কর্ণপাত হতেই ওরা দুজন রুমে ছুটে এলো। অভ্রান চেঁচিয়ে বলল, 
–”ওই বু*লশি*টটা আমার বেডে বসে ছিলো। এই বেডাটা আমার রুমে থেকে বের করে আগুন জ্বালিয়ে দে।”
#our_dark_obsession 
#সূচনা_পর্ব
#রওনোক_জাহান_হায়াত

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন