ফন্ট সাইজ:
থিম:
Our Dark Obsession

২য় পর্ব

লেখক: রওনোক জাহান হায়াত

#our_dark_obsession

#পর্ব_২
#রওনোক_জাহান_হায়াত
–”ড্যাড প্লিজ, আই ওয়ান্ট, অভ্রান।”
নিজের মেয়ের এমন আবদারে মিস্টার লারসন হতবাক না হয়ে পারলেন না। তিনি রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন তার মেয়ে সোফিয়ার দিকে। আর বিস্ফোরিত কন্ঠে বললেন, 
–“Quel ragazzo ieri ha aggredito tua sorella maggiore e mi ha minacciato di morte. E nonostante tutto questo, tu vuoi lui?”
(গতকাল ওই ছেলে তোমার বড় বোনকে হ/ত্যা করছে আর আমাকেও মা/রার হুমকি দিয়েছে। আর তুমি কিনা ওই ছেলেকেই চাইছো?) 
মিস্টার লারসনের কথায় সোফিয়া অভিব্যক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটলো। সে একই ঠান্ডা চেহারা আর শীতলতর কন্ঠে বাবাকে উদ্দেশ্যে করে বলল, 
–“Era la mia sorellastra. Meglio così, ora è morta.”
(সে আমার সৎ বোন ছিলো। ম/রে গেছে ভালো হয়েছে।) 
মেয়ের এমন লেশহীন উত্তরে মিস্টার লারসন আর নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। মেয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে তার গালে ঠাসিয়ে একখানা চড় বসিয়ে দিলেন। বাবার এমন আচমকা চড় সামলাতে না পেরে সোফিয়া দুই কদম পিছিয়ে গেলো। তার ফর্সা গাল খানায় পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট হলো। তবে সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, 
–”I want Avran Mehfil at any cost.”
এই বলেই সে লারসন হাউস থেকে বেরিয়ে গেলো। মিস্টার লারসন মেয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। দুই বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রথম স্ত্রী ইলাকে মানে তার বড় মেয়েকে জন্ম দেওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর সাধ আস্বাদন করেন। তাই মেয়ের দেখাশোনা করার জন্য আর নিজের জন্য আরেকটি বিবাহ করেন। সেই ঘরেও একটা মেয়ে হয় মানে সোফিয়া। তার দ্বিতীয় স্ত্রীও অকালে ক্যান্সারে মা/রা যায়। তারপর থেকেই তিনি সোফিয়া আর ইলাকে নিজের হাতেই বড় করেছেন। ইলা বাবা ভক্ত হলেও সোফিয়া নিতান্তই অভদ্র একটি মেয়ে। বড়-ছোট কাউকেই সে মান্য করে না। তার চোখ একবার কোনো কিছুতে পড়ে সে তা হাসিল না করা পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত হয় না। ইলাকে সে বরাবরই পছন্দ করতো না। তাইতো ইলার মৃ/ত্যুতে তার একটুও আফসোস হয় নি। বরং তার কাছে মনে হচ্ছে এতে তারই সুবিধা হলো। এতে করে অভ্রানকে নিজের করে পাওয়ার রাস্তায় তার অন্য কোনো কম্পিটিটর নেই। 
মিস্টার লারসন নিজের চেয়ারে বসলেন। তখনই তার ফোনে একটি কল আসে। তিনি স্ক্রিনে লিওনের নম্বর দেখে একটা ঢোক গিললেন। কাঁপা হাতে কলটি রিসিভ করতেই লিওনের ক্যাটক্যাট কন্ঠ প্রতিধ্বনিত হলো ফোনের অপর পাশ থেকে, 
–” গতকাল নিজের বড় মেয়েকে হারিয়ে নিশ্চয়ই নিজের কর্মের ফল পেয়েছো? এখন নিজের ছোট মেয়েকেও সাবধান করে দাও, যেনো সে বস্ এর থেকে দূরে থাকে। নাহলে তার পরিণতিও তোমার বড় মেয়ের মতোই হবে।” (ইতালিয়ান ভাষায় বলল) 
লিওনের হুমকিতে মিস্টার লারসন কেঁপে উঠলেন। কল কাটার শব্দে একটা ছোট্ট শ্বাস ছাড়লেন। তার চোখে ভেসে ওঠে তার বড় মেয়ের মৃ/ত্যু দেহখানা। মেয়েটার কপাল খানা গু/লিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছিলো। এই দৃশ্য চোখে ভেসে উঠতেই তিনি চোখ বন্ধ করে নিলেন। অভ্রান মেহফিল তাকে প্রাণে মা/রার বদলে তার মেয়ের প্রাণ নিয়েছে। মুহূর্তেই তার মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠলো। প্রতিশোধের তাড়নার আগুনে চোখ জোড়া পুলকিত হলো। তিনি তার মেয়ের মৃ/ত্যুর প্রতিশোধ নেবেন।
________________
সকালে সূর্যের উজ্জ্বল আলো পর্দা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করতেই নিশানের ঘুম ভেঙে যায়। ধীর গতিতে শোয়া থেকে উঠে বসলো। গতকাল রাতে প্ল্যান করতে করতে দেরি করে ঘুমিয়েছিলো সে। হঠাৎই রুমের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে নিশানের মুখখানিতে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ পরিলক্ষিত হলো। সে বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো। কয়েক পা ফেলে দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলতেই রওশনকে সামনে আবিষ্কার করলো। যার পরনে এইটা টিয়া কালারের টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট। নিশানের বিরক্ত আরো বেড়ে গেলো। ঝাঁঝালো স্বরে আওয়ালো, 
–”কি হয়েছে? সকাল সকাল এমন ডিস্টার্ব করছিস কেনো?”
নিশানের ঝাঁঝালো কন্ঠ কর্ণপাত হতেই রওশনের কানের পোঁকা গুলো নড়েচড়ে উঠলো। এই মেয়ে গলা এমন ফাঁটা বাঁশ কেনো? রওশন ঝেড়ে কাশলো। আর মাখমাখ স্বরে বলল, 
–”আজ তো আমাদের বিয়ে, নিশান। তাই মা বললো তোকে ডেকে দিতে।”
বিয়ের কথা কর্ণপাত হতেই নিশানের মেজাজ বিগড়ে গেলো। তিরতির কন্ঠে চেঁচিয়ে বলল, 
–”করবো না আমি তোকে বিয়ে।”
–” আমায় বিয়ে করলে কি সমস্যা,নিশান? আমার কোন দিক দিয়ে কমতি আছে? আমার মত এতো কিউট আর কুচুপু ছেলেকে তুই কিভাবে বিয়ে না করার কথা বলিস?”
নিশানের রাগ চটে সপ্তম আসমানে। ইচ্ছে করছে এই ছেলেকে কসিয়ে এক চড়ে সোজা করে দিতে। ওর বাপ-মা সবাই ওর সম্পত্তির পিছনে কু*ত্তার মতো পড়ে আছে। আর এই ছেলে কিনা বিয়ে পড়ে আছে! নিশান চেঁচিয়ে বলল, 
–”আইশশ! যেইনা চেহারা;নাম রাখছে পেয়ারা। তোর মতো কাউয়ারে বিয়ে করার চেয়ে কচু গাছে ঝুলে মরা ভালো। নিজের পায়ে কুড়ুল মারার মতো বেয়াক্কেল মেয়ে এই নিশান মির্জা আরহা নয়।”
নিশানের এমন কড়া জবাবে রওশন ‘থ’ হয়ে গেলো। 
কথার বলার জন্য সঠিক বাক্য সে খুঁজে পাচ্ছে না। ওদের এমন চেঁচামেচি শুনে রুবি বেগম নিচ থেকে দোতলায় উঠে এলেন। নিশানের ঘরের সামনে এসে দেখলো নিশান রওশনের দিকে ক্ষুব্ধ চাহনিতে তাকিয়ে আছে আর রওশন বাক্যহীন ভাবে দাড়িয়ে আছে। তাই তিনি আগ বাড়িয়ে বললে, 
–”কি হয়েছে? তোমরা দুজন এমন চেঁচামেচি করছো কেনো?”
–”পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি চলছে। তাই আমরা খুশির ঠেলায় জানেমান জানেমান বলে চেঁচাচ্ছি।”
নিশানের এমন ত্যাড়া উত্তর শুনে রুবি বেগম চটে গেলেন। এই মেয়ে তার সাথে এখানে ইয়ারকি মারছে! তিনি বেশ রাগান্বিত কন্ঠে বললে উঠলেন, 
–” তোমার মতো বেয়াদপ,অসভ্য আর অভদ্র মেয়ে আমি আমার জীবনে আর দুটোও দেখিনি।”
এতোগুলো নামের উপাধি একসঙ্গে পেয়ে নিশান বাঁকা হাসলো। ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে নিজের নরম নাকখানা হালকা ঘষতে ঘষতে গা-ছাড়া ভাব নিয়ে শীতল কন্ঠে রুবি বেগমকে বলল, 
–” দেখবেন কিভাবে? এই নিশান মির্জা আরহা তো দুনিয়াতে শুধু ওয়ান পিসই আছে। সুতরাং,আমাকে মন ও পেট দুটো ভোরেই দেখুন,কেমন চাচিমা!”
ওর এই উত্তরটা রুবি বেগমকে চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। নিশান আর কোনো কথা না বলে মা-ছেলে দুজনের মুখের উপর রুমের দরজা লাগিয়ে দিলো। তা দেখে রুবি বেগম আর রওশন একে অপরের দিকে চোখাচোখি করলো। রুবি বেগম গজগজ করতে করতে বললেন, 
–” একবার শুধু বিয়েটা হয়ে যেতে দে। তারপর এই মেয়ের পাখনা কিভাবে ভাঙতে হয়,তা আমি খুব ভালো করেই জানি।”
অন্যদিকে নিশান নিজের রুমের বারান্দায় গেলো। 
আশপাশটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিলো। বারান্দাটা বাড়ির পিছনের দিকে হওয়ায় একদিক দিয়ে ভালো হয়েছে। ও আজ রাতে যা করতে যাচ্ছে, তারজন্য এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আর কিছুই হতে পারে না। এই ভেবেই নিশানের অধর জোড়ায় এক রহস্যময় হাসির রেখা স্পষ্ট হলো। 
___________________
“Mehfil Villa” তে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। ভিলার চারপাশ ঘিরে রেখেছে অসংখ্য গার্ডস। যাদের পরনে কালো রঙের সুট, এক এক জন দেখতে সুঠামদেহী মস্ত পালোয়ানের মতো। ভিলার লিভিং রুম একদম খালি, কোনো ব্যক্তিবর্গের অস্তিত্ব নেই। কিচেন রুমে দুজন মেইড রান্না করছে। ভিলার পেছনের বাগানের সুইমিং পুলের পাশেই অভ্রান নিজের পালিত ‘White tiger’ কে নিয়ে বসে আছে। যার নাম সে দিয়েছে ‘Blue Shadow’। কারণ সাদা বাঘটির নীল চোখ জোড়া সমুদ্রের পানির মতো স্বচ্ছ, শীতল আর হিংস্র। ব্লু শ্যাডো শুধু মাত্র অভ্রানের কথা মতো চলে, তার কাছে পোষ মানে। আর অন্যদের কাছে সে একটি হিংস্র দানবীয় পশু। সে যেনো অভ্রান মেহফিলের প্রতিচ্ছবি। অভ্রান যখন ব্লু শ্যাডোকে নিয়ে বসেছিলো তখনই সেখানে লিওন আসে। লিওন অভ্রানের পেছনে দাড়ালো। ব্লু শ্যাডো তার নীল চোখ জোড়া দিয়ে একবার লিওনকে পর্যবেক্ষণ করলো। পরিচিত মুখ দেখে সে কোনো প্রকার হিংস্র প্রতিক্রিয়া দেখালো, শান্ত পশুর নেয় অভ্রানের পাশে বসে রইলো। লিওন হালকা কাশি দিয়ে অভ্রানকে উদ্দেশ্য করে ঠান্ডা স্বরে বলে, 
–”বস্, মিস্টার লারসনকে সাবধান করে দিয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় না এতে খুব একটা লাভ হবে। ওনার ছোটো মেয়েটা বড় মেয়ের চেয়েও বেশি বদমাশ।”
অভ্রান শীতল দৃষ্টিতে লিওনের দিকে তাকলো। তারপর আবার ব্লু শ্যাডোর দিকে তাকিয়ে, তার মস্তকে হাত বুলাতে বুলাতে শান্ত কন্ঠে বলল, 
–”সমস্যা নেই, লিওন। প্রয়োজন পড়লে ওকে জ্যান্ত আমার ব্লু শ্যাডোর কাছে ছেড়ে দিবো,তারপর বাকি কাজটা আমার শ্যাডোই করবে।”
অভ্রানের এতো শান্ত জবাবে লিওনের চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে গেলো। কারণ,ব্লু শ্যাডোর সামনে কোনো অপরিচিত মানুষকে ছেড়ে দেওয়া মানে এর অর্থ হলো হিংস্র আক্রমণের শিকার হওয়া আর নাহয় নির্ঘাত মৃ/ত্যুকে আলিঙ্গন করা। তবে অভ্রানের উপর কিছু বলার সাহস লিওন করলো না। তাই মৃদুভাবে মাথা নেড়ে সে যখনই যেতে নিবে তখনই অভ্রান পেছন থেকে কড়া কন্ঠে বলে উঠলো, 
–”ভিলার সিকিউরিটি আরো বাড়িয়ে দে, লিও। আমার অনুমতি ব্যতীত কেউ যেনো ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। বিশেষ করে কোনো জ'ঘ'ন্য নারী যেনো একদমই প্রবেশ না করতে পারে।”
অভ্রানের কড়া কন্ঠ শ্রবণ পাত হতেই লিওন জমে গেলো আর তার দিকে ঘুরে তাকালো। কিন্তু অভ্রানের ধূসর বর্ণের চোখ জোড়া তখনও ব্লু শ্যাডোর দিকে নিবদ্ধ। লিওন মৃদুভাবে মাথা নেড়ে আদেশ গ্রহণ করলো আর ধীর গতিতে বাগান থেকে বেড়িয়ে গেলো। ভিলার লিভিং রুমে প্রবেশ করতেই রিকা তাকে থামিয়ে দিলো আর প্রশ্ন করলো, 
–”বস্ কখন বিয়ে করবে,ব্রো?”
রিকার প্রশ্নে লিওন ভ্রুঁ কুঁচকালো। রিকার অসময়ে এমন প্রশ্ন ফিকে লাগলো লিওনের কাছে। সে একবার ভালোভাবে রিকার পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালোভাবে পরক্ষ করে নিলো। তারপর তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
–”তোর বয়স কত রে, রিকা?”
–”এবার বত্রিশে পা বাড়ালাম।”
–”তারজন্যই তোমার প্রেম করার শখ জেগেছে, তাই তো?”
–”তো জাগবে না! বস্ নিজেও বিয়ে-সাদি করছে না আর আমাদেরটাও হতে দিচ্ছে না। ভাই, এরপর তো আমি বুড়ো হয়ে যাবো। তখন কেউ মেয়ে দিতে চাইবে না।”
রিকার উত্তর শুনে লিওন না চাইতেও হেসে ফেললো। তা দেখে রিকা বিরক্তিতে কপাল কুঁচকালো। লিওন ওর কাঁধে হাত রেখে বলল, 
–” কেউ মেয়ে না দিলে মিস্টার লারসনের মেয়ে সোফিয়াকে বিয়ে করে নিস।”
–”এ্যাহ! ওই শাকচুন্নিটা! ধুর ওকে বিয়ে করার চেয়ে সারাজীবন সিঙ্গেল হয়ে কাটিয়ে দেওয়া অনেক ভালো। শা*লির দুই বোনেরই ক্যারেক্টার লুস আছে, খালি বস্ পিছনে পড়ে থাকে।”
_____________________
মির্জা বাড়ি বেশ জাকজমকপূর্ণ ভাবে সাজানো হয়েছে। বাড়ির চারপাশে আলোর ছড়াছড়ি। বিভিন্ন প্রকার ফেয়ারি লাইট,স্ট্রিং লাইট দিয়ে দোতলা বিশিষ্ট পুরো বাড়িটি সাজানো হয়েছে। হবে নাই বা কেনো? সবার চোখে আজ বাড়ির একমাত্র মেয়ে আর ছেলের বিয়ে। রহিম মির্জা অথিতি আপ্যায়নে ব্যস্ত আর রুবি বেগম হেসেল সামলাচ্ছেন। রাতের তখন প্রায় ৮ বেজে ৩৯ মিনিট। কাজী এসেছেন বিয়ে পড়াতে। প্রথমে রওশন নিচে নেমে এলো। পরনে একটি সাদা শেরওয়ানি, চুলে জেল দিয়ে স্টাইল করা আর ঠোঁটে একগাল হাসি। ছেলেকে দেখে রুবি বেগম উৎফুল্লিত কন্ঠে বলে উঠেন, 
–”মাশাল্লাহ, আমার সোহাগ চাঁদ বাবাটারে কত সুন্দর লাগছে। ওই মেয়ের কপাল ভালো যে আমার ছেলেকে স্বামী হিসেবে পাচ্ছে।”
মায়ের মন্তব্যে রওশন হাসলো। তারপর সে গিয়ে কাজীর পাশে গিয়ে বসলো। অন্যদিকে নিশান তার ঘরেই ছিলো। সকাল থেকে কাউকে নিজের ঘরে প্রবেশ করতে দেয় নি। পার্লারের মেয়েরা সাজাতে আসলে সে বারণ করে দিয়েছে, বলেছে সে নিজেই সাজতে পারবে। নিশান একটা লাল রঙের সোনালী পাড় দেওয়া বেনারসি শাড়ি পড়েছে, সাথে কিছু ভারি গহনা, আর হাতে লাল চুড়ি। নিজেকে আয়নায় দেখে সে নিজে নিজেই কহিলো, 
–”মাশাল্লাহ, একদম লাল টুকটুকে বউয়ের মতো লাগছে তোকে নিশান। শুধু শা'লার বরটাই মন মতো হলো না। এই কচুরে আমি ইহ-জিন্দেগিতে বিয়ে করমু না।”
এই বলে মেয়েটা আপন মনে হেসে উঠলো। ফোনটা হাতে নিয়ে সোহেল সিকদারকে কল করো। দুবার রিং হওয়ার পর ফোনের ওপাশ থেকে সোহেল সিকদার কল রিসিভ করলেন। নিশান সিরিয়াস কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো, 
–”সব ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে তো, মামা?”
ফোনের ওপাশ থেকে সোহেল সিকদারের মৃদু হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তিনি ফুরফুরে কন্ঠে উত্তর দিলেন, 
–”সব বন্দোবস্ত হয়ে গেছে,শুধু তুই আসার বাকি।”
–”আমি আসছি।”
এই বলে নিশান কল কেটে দিলো। তারপর নিজের গুছানো লাগেজটা বের করলো। তখনই দেওয়ালে লাগানো ফ্যামিলি ফোটোর দিকে চোখ পড়লো মেয়েটার। সে থামলো আর মলিন স্বরে বলে উঠলো, 
–”আই এম সরি, আব্বু-আম্মু। কিন্তু এখন যদি বংশের মান-সন্মানের কথা ভাবতে যাই, তাহলে নিজের জীবনকে ওই নর'পি'শাচ গুলোর হাতে বলী দিতে হবে। আর এই নিশান এমন ভুল কখনোই করবে না।”
শেষের কথাটুকু সে গভীর দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের বলল। অন্যদিকে রওশন, রহিম মির্জা আর রুবি বেগম লিভিং রুমে বসে আছে। আশপাশটা অথিতি দিয়ে ঘেরা। কাজী এবার বিয়ে পড়াবেন। তাই কনেকে ডাকার জন্য রুবি বেগম কয়েকজন মেয়েকে পাঠান নিশানের ঘরে। 
চলবে...
________________________________________

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন