ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

১ম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ০১

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

“ সন্ধ্যা নামার পর থেকেই বউ সেজে নিঃশব্দে বসে আছে আইলিন। লম্বা ঘোমটা, সাজগোজ, মোমবাতির নরম আলো—সবই যেন তার সামনে নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই ভারী হয়ে উঠছে ঘর ও তার বুকের ভেতরের ব্যথা। এখন রাত একটা বাজতে চলেছে—তবুও বরের কোনো খবর নেই। এমনকি আইলিন জানেও না সে আদৌ আসবে কি না।

প্রতিটি মেয়েই বাসর ঘরে প্রবেশ করে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে—নতুন জীবনের আশায়, অজানা সুখের প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু আইলিনের রাতটা সেই সাধারণ গল্পের মতো নয়। তার চোখে নেই কোন স্বপ্নের ছায়া—বরং ভয়, হতাশা আর অস্থিরতা তাকে ঘিরে রেখেছে। বারবার একটাই প্রশ্ন তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে—

“তাহলে কি সত্যিই সারাজীবন মরতে মরতে বাঁচতে হবে? এমনটা না হলেও পারতো… দুনিয়ায় কি সত্যিই ছেলের অভাব ছিল?”

আইলিনের পুরো নাম—আইলিন মেহনাজ। আর আজ যে ছেলের সাথে তার বিবাহ হয়েছে, তার নাম নাভিয়ান ত্রিয়াশ মির্জা—এই মানুষকে সে ভয় পায়, এবং যার সঙ্গে ভবিষ্যতের পথ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। আগে সে ছিল আইলিনের বোনের দেবর আজ সেই পরিচয় পাল্টে গেছে—ত্রিয়াশ এখন তার স্বামী। কিন্তু আইলিনের মন এখনো এই সম্পর্ককে মেনে নিতে পারছে না। "স্বামী" শব্দটা তার কাছে এখনো ভয়ংকর এক বন্ধনের মতো।

সাজসজ্জায় মোড়া ঘরে বসে আইলিনের মনে হচ্ছে—তার জীবনের গল্পটা যেন অন্যরকম হয়ে গেল। চারপাশে উৎসবের গন্ধ, কিন্তু তার ভিতরে চলছে এক অদৃশ্য কান্না। রাত বাড়ে—অপেক্ষা বাড়ে—আর আইলিনের হৃদয়ের মধ্যে জমতে থাকে হাজারো অনিশ্চয়তা।

আইলিন বসে আছে অনেকক্ষণ ধরে। কোমরে টনটন ব্যথা ধরেছে—কিন্তু তার চেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে মন। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে একটু চোখ বুজে ঘুমিয়ে নেবে, আবার সাথে সাথেই মনে হচ্ছে—যদি সে মানুষটা ভুল কিছু ভাবে! এইসব দোটানা, অস্বস্তি আর ভয় মিলে আইলিনের বুকের ভেতর যেন ভারি একটা পাথর চেপে বসে আছে।

তার মনটা চাইছে ঠিক ছোটবেলার মতো গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে। বিয়েকে নিয়ে তার কতই না স্বপ্ন ছিল! ভেবেছিল স্বামী হবে তার আপনজন, যার কাছে মন খুলে সব বলতে পারবে, যার সাথেই ভাগ করে নেবে জীবনের সব রঙ, সব চাওয়া–পাওয়া। ভালোবাসা, মায়া আর নিরাপত্তায় ভরপুর একটা জীবন—এমনটাই তো কল্পনা করেছিল আইলিন।

কিন্তু বাস্তবতা যেন পুরো উল্টো। বাবা–মা তাকে যে মানুষের সাথে বিয়ে দিয়েছে, তাকে দেখলেই আইলিনের দম আটকে আসে। অজানা এক ভয়, অস্বস্তি আর অঘোষিত দূরত্ব তাকে অবিরাম চেপে ধরে। সেই মানুষটার সামনে দাঁড়ালেই মনে হয় কেউ যেন তার বুকের উপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে—শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

স্বপ্নের বিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। আর আইলিন শুধু বসে আছে নানান দোটানা আর নীরব যন্ত্রণার মধ্যে..

আইলিন দুই হাঁটুর ওপর মাথা রেখে চুপচাপ বসে আছে। মনে পড়ে যাচ্ছে ঠিক দুই বছর আগের সেই সময়টার কথা...

ফ্ল্যাসব্যাক....

কয়েকদিন আগেই আইলিনের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দীর্ঘ চাপের দিনগুলো শেষ হওয়ায় তার মন এখন বেশ হালকা। সামনে আরও একটি আনন্দের ঘটনা—মাত্র সাতদিন পরেই আইলিনের বড় আপু আইরার বিয়ে। বরপক্ষ মির্জা পরিবারের বড় ছেলে; পরিবারটিও বেশ সম্মানিত, তাই সবার মাঝেই একধরনের উৎসবমুখর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে আছে।

আইলিন ভীষণ খুশি। পরীক্ষার চিন্তা নেই, এখন মন ভরে আপুর বিয়ের সব আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। আসলে আইলিনের পরীক্ষার তারিখ মাথায় রেখেই বিয়ের দিনটা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই সবকিছু মিলিয়ে এবারের জুন মাসটা আইলিনের জন্য যেন বিশেষ হয়ে উঠেছে।

আগামী ১৫ই জুন আইরার বিয়ে—হাতে গোনা আর কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। ঘরজুড়ে এখন সাজসজ্জা, আত্মীয়-স্বজনের আসা–যাওয়া, আর নানা প্রস্তুতির ব্যস্ততা। প্রায় সব শপিং-ই হয়ে গেছে; শুধু টুকটাক কিছু কেনাকাটা বাকি আছে, সেগুলোও কাল হলেই সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হবে।

দেখতে দেখতে সাত দিন চলে গেছে — আজ আইরার বিয়ে সম্পন্ন হলো নিলয় মির্জার সাথে। সব নিয়ম কানুন মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিদায়ের পালা —সকল স্মৃতি রেখে চলে যেতে হবে নতুন পরিবার নতুন মানুষের কাছে যা আজ থেকে তারাই আপনজন হলো।

বিদায় বেলায় আইরা অনেক কান্না করছে —সাথে আইলিন নিজেও...

আইলিন নিজেকে নিজেই বুঝ দিয়েছে —কাল বৌভাত তখন দেখা হবে এমনকি কাল তার আপু আবারও তাদের বাড়ি আসবে। কান্না কাটির পালা শেষ করে সকলে ঘুমুতে চলে গেল —রাত অনেক হয়েছে আবার কাল বরের বাড়িতে যেতে হবে।

মির্জা বাড়ি বেশ বড়, আর বৌভাতের আয়োজনটাও হয়েছে এখানেই। পুরো বাড়ি জুড়ে সাজসজ্জার ছড়াছড়ি—বাড়ির ভেতরের বাগান পর্যন্ত আলো আর রঙে ভরে উঠেছে। অতিথিদেরও কোনো অভাব নেই; সবাই নিজের মতো করে ঘুরে ঘুরে খাচ্ছে, গল্প করছে, উৎসবের আমেজে মেতেছে।

আইলিনের পরিবারের সবাই উপস্থিত। আইলিন আইরার সঙ্গে দেখা করে দুই বোনের জমানো কথা বললো।কথা শেষ করে আইলিন বাগান জুড়ে হাঁটতে শুরু করল। চারপাশের প্রতিটি সাজসজ্জা আইলিনের হৃদয় ছুঁয়ে গেল—সবকিছুই তার কাছে অপরূপ লাগছে।আইলিন একটি জুসের গ্লাস হাতে নিল। বাগানের পেছন দিকে দোলনা রাখা—ভাবল, সেখানেই বসে জুস খেতে খেতে পুরো বাগানটা দেখবে আর শান্তিতে একটু সময় কাটাবে।

কিন্তু পেছনের দিকে যেতেই হঠাৎ তার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল, আর মুখটা যেন রসগোল্লার মতো হা হয়ে রইল। দৃশ্যটা যে এভাবে তাকে চমকে দেবে, তা সে মোটেও ভাবেনি।আইলিন হা করেই সামনে দৃশ্য দেখলো —

একটা ছেলে আর একটা মেয়ে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভীর চুম্বন করতে ব্যস্ত — তবে ছেলেটা মেয়েটার থেকে দূরে সরে গেল, তার চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে ভীষণ রেগে আছে কিন্তু কেন? আইলিন কেমন অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। সরে যাবে এই শক্তি টুকু যেন পাচ্ছে না — এমন পরিস্থিতিতে পরতে হবে আগে জানলে আইলিন কখনো আসতো না। আইলিন উল্টো হয়ে ঘুরে নিজে নিজেই বিরবির করলো।

-“ ছিঃ আপুর দেবর ত্রিয়াশ ভাই এতো নোংরা পাবলিক প্লেসে চুম্মাচুম্মি করে। খোদা ভালো জানে এই পরিবারের ছেলে গুলো কেমন?”

এই দৃশ্য দেখে আইলিনের ছোট মাথায় —এই পরিবারের মানুষদের তার কাছে এ-ই মূহুর্ত কেমন যেন লাগছে। আইলিন অনেক সাত পাচ ভাবছে। ভাবতে ভাবতে পিছনে ঘুরতে কারোর সঙ্গে ধাক্কা খায় — আইলিনের হাতে থাকা জুসের গ্লাসটা কেঁপে উঠে, আর পুরো জুস গিয়ে পড়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির গায়ে।

চমকে উঠে আইলিন চোখ তোলে—সামনেই ত্রিয়াশ দাঁড়িয়ে, তার পোশাকে গড়িয়ে পড়ছে কমলা রঙের জুস। ভয় পেয়ে আইলিন তড়িঘড়ি করে হাত বাড়িয়ে জুসটা মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক তখনই হঠাৎ তীক্ষ্ণ ব্যথায় চমকে ওঠে সে—ত্রিয়াশ তার বা গালে কষিয়ে থাপ্পড় মা'রে ।

গালে হাত চেপে ধরেই আইলিন ছলছলে চোখে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। ত্রিয়াশ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চেঁচিয়ে ওঠে

-“ হোয়াট দ্য হেল? স্টুপিট গার্ল! ”

আইলিন ভয়ে কেঁপে উঠে। কোনোরকম বলে।

-“ সরি। ”

আইলিন এক মুহূর্তও দাঁড়াল না—চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, আর সে অবাধ্য ছুটে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।একটু সামনে আসতে হঠাৎ একটা ছেলের সামনে পড়ে — আইলিনের এখন নিজের প্রতি রাগ লাগছে তার সাথেই কেন এমন হচ্ছে?আইলিন পাশ কেটে সামনের দিকে পা বাড়ায় —ছেলেটি হাসি মুখে বলে।

-“ আরে বেয়ান সাহেবা। আমি নিভান। ”

আইলিন নিজেকে স্বাভাবিক করে — জোর করে হেসে দাঁত চেপে বলে।

-“ ওই দিকে আগুন ধরেছে গিয়ে নিভান। ”

আইলিন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল। নিভান আইলিনের এভাবে চলে যাওয়া দেখলো।

কাউকে কিছু না বলেই সেই দিন সে বাড়ি ফিরে আসে।পরে অনেকে জিজ্ঞেস করেছিল, “কি হয়েছিল? একা একা বাড়ি চলে এলে কেন?”

আইলিন ইনিয়েবিনিয়ে শুধু বলেছিল, “পেট ব্যথা করছিল।” সবাই জানে—পেট ব্যথা হলে আইলিন কোথাও থাকে না, সোজা বাড়ি ফিরে যায়। তাই আর কেউ প্রশ্ন না বাড়িয়ে চুপ করে যায়।

কেটে গেছে প্রায় দুই মাস—এই সময়ের মধ্যে আইলিন একবারও আইরার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। আইরা বহুবার বলেছে যেতে, কিন্তু নাছোড়বান্দা আইলিন রাজি হয়নি। কেন যায় না, সে প্রশ্নটাও আইরা কখনও তাকে করেনি। আইরার মনে হয়েছে—হয়তো আইলিন ওখানকার মানুষগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছন্দ বোধ করে না।

এদিকে নতুন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আইলিনের দিনও মোটামুটি ভালোই কাটছে। প্রতিদিনের মতো আজও সে আর পৃথা ক্লাস শেষে আইসক্রিম খেতে খেতে বাড়ি ফিরছে। দুই বান্ধবীর গল্পের যেন শেষ নেই; কথায় কথায় চারপাশের দুনিয়াই ভুলে গেছে তারা। সামনে মানুষ আছে, সে খেয়ালও নেই।

হঠাৎই চলতে চলতে আইলিন ধাক্কা খায় কারও প্রশস্ত বুকে। নাক-মুখ কুঁচকে ওপরের দিকে তাকাতেই তার চোখ স্থির হয়ে যায়—ত্রিয়াশ দাঁড়িয়ে আছে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে। আইলিনের হাতে থাকা চকোলেট আইসক্রিমটা ত্রিয়াশের সাদা শার্টে লেগে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। দৃশ্যটা দেখে আইলিন মনে মনে শুধুই বলে ওঠে—“যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়!”

মুহূর্ত পরই তীক্ষ্ণ ব্যথায় চমকে ওঠে সে—ত্রিয়াশ তাকে থাপ্পড় মেরে দিয়েছে। নাকের ডগায় রাগ নিয়ে ত্রিয়াশ গর্জে ওঠে—

-“হোয়াট দ্য হেল! চোখে দেখো না? ছেলে দেখলেই গায়ে পড়ে যাওয়ার শখ নাকি? রাবিশ!”

অপমানে আইলিনের চোখে পানিতে ভরে যায়। আজ আইলিন কিচ্ছু না বলেই চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে আসে। পৃথাও ত্রিয়াশকে দেখে চিনে ফেলে — আইলিন অনেক আগেই বলেছিল। পৃথাও আইলিনের পিছনে পিছনে দৌড় দেয়।ত্রিয়াশের আজকের ব্যবহারে আইলিন ভীষণ কষ্ট পায় সাথে ত্রিয়াশের জন্য ঘৃণা জন্ম হয়। আইলিন মনে মনে ঠিক করেছে আর কখনো কোন দিন ত্রিয়াশদের বাড়িতে যাবে না — যাকে এতোটা অপছন্দ আজ তারই বউ হয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে। এ ভাবনাই আইলিনকে আরও বেশি ব্যথা দেয়।

হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে আইলিন দুই বছর আগের ভাবনার জগৎ থেকে বেড়িয়ে এলো — আইলিন শক্ত করে লেহেঙ্গার এক পাশ ধরে বসে রইলো। ত্রিয়াশ আজ কিছু বললে বা করার চেষ্টা করলে আইলিন চুপ থাকবে না — নিজেকে প্রস্তুত করে শক্ত করে বসে রইলো।

ত্রিয়াশ দরজাটা শব্দ করে লাগিয়ে দিয়ে আইলিনের কাছে এসে দাঁত চেপে বলে।

-” তোমার উদ্দেশ্য ছিল আমাকে বিয়ে করে এবাড়িতে ঢোকা — এতোটা লোভী আর নিচু মনের। ”

আইলিনের রাগে শরীর জ্বলে উঠে। লোকটা যেভাবেই পারে শুধু অপমান করে কেন?কিসের অহংকার?যত চুপ থাকবে এই লোক ততই মনগড়া কথা বলে যাবে। আইলিন আর চুপ থাকলো না — আর না কখনো চুপ করে অন্যের মনগড়া কথা শুনে যাবে। আইলিন তেতে উঠে বলে।

-” মিস্টার নাভিয়ান ত্রিয়াশ মির্জা মুখ সামলে কথা বলবেন। নয়লে ওই মুখ আর থাকবে না ভেঙে দিবো। নিচু মনের মানুষ কাকে বলেন?”

ত্রিয়াশ সহজ ভাবে বলে।

-“কে আবার তুমি। তুমি একটা নোংরা মেয়ে। ”

ত্রিয়াশের বলতে দেরি হলেও তার গালে থাপ্পড় পড়তে দেরি হলো না। আইলিন নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ছয় ফুট ত্রিয়াশ মির্জা কে থাপ্পর মা'রে।ত্রিয়াশ এই আইলিন কে দেখে অবাকের চরম পর্যায়ে। আইলিন তর্জনী আঙ্গুল তুলে বলে।

-“ আপনি একটা নোংরা তাই তো বাগানের মধ্যে চুম্মাচুম্মি করেন — নিজে নোংরা হয়ে অন্য কে নোংরা বলতে বাঁধে না। ”

ত্রিয়াশ ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসছে — মুখে কিছু বলছে নাহ। আইলিন ফ্রেশ না হয়েই শুয়ে পড়ে। এটা দেখে ত্রিয়াশ গম্ভীর কণ্ঠে বলে।

-“ সরো ঘুমাবো। ”

আইলিন ফাল মাইরা উঠে বসে বলে।

-”আমি কি নাচবো? আমিও ঘুমাবো শুনুন সিনেমার নায়িকাদের মতো সোফায় ঘুমাতে পারবো না, ইচ্ছে হলে ঘুমান না হলে মঙ্গল গ্রহে যান। ”

আইলিন ধপ করে শুয়ে পড়ল। আজ প্রচণ্ড ক্লান্তি তার সারা শরীরে, যেন ঘুম ছাড়া আর কিছুই প্রয়োজন নেই। কিন্তু নতুন জায়গায় ঘুম কি আদৌ আসবে? এই ভেবে তার চোখের পাতা আরও ভারী হয়ে আসে।

ত্রিয়াশ বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকে আইলিনের দিকে। কিছুক্ষণ পর সেও পাশে শুয়ে পড়ে, তবে মাঝখানে একটু ফাঁকা জায়গা রেখে। তারপর নিজের অজান্তেই ধীরে ধীরে বিড়বিড় করে বলে ওঠে—

-“মেয়ে তো নয়, যেন ধানিলংকা!”

চলবে......

(ক্যাটাগরি:সামাজিক, রোমান্টিক ,। এটা নতুন গল্প সবাই সাপোর্ট করবেন। ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আশা করি গল্পটা ভালো লাগবে। সকলে পাশে থাকবেন প্লিজ, রিয়েক্ট করবে সবাই)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন