ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

২য় পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ০২

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

নতুন ঘর। নতুন পরিবেশ। অথচ বিয়ের সাজে এখনও পুরোটা ঢাকা যেন পরবাসে থাকা একটি কোমল মেয়ে—আইলিন। এতসব নতুনত্বের চাপে তার ভেতরটা কেমন অস্থির হয়ে আছে। ঘুমোতে যাওয়ার কথা, কিন্তু শান্তি যেন তার কাছ থেকে বহু দূরে পালিয়ে রয়েছে।

বিছানায় শোয়া অবস্থায়ই বারবার মনে হচ্ছিল—এভাবে থাকা যাবে না। প্রথমেই দরকার ফ্রেশ হয়ে নেওয়া। কিন্তু তার আগে গায়ে থাকা ভারী গহনার ওজন যেন তাকে আরও ক্লান্ত করে তুলছে। অবশেষে আইলিন ধীরে ধীরে উঠে বসল। হাত বাড়িয়ে একে একে চুড়িগুলো খুলতে শুরু করল। চুড়ির রিনিঝিনি শব্দে যেন সারা ঘরটা ভরে উঠল—মিষ্টি হলেও এই নীরব রাতে শব্দটা অস্বস্তিকরভাবে স্পষ্ট শোনাচ্ছিল।

চুড়ির শব্দ শুনেই ত্রিয়াশ বিরক্ত হয়ে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল। শুয়েই রইল, কিন্তু তার বিরক্তি স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল, যেন শব্দটা তার মাথার ভেতর ঢুকে অস্বস্তি তৈরি করছে।

আইলিনের এসময়ে নিজের যন্ত্রণা আরও বেড়ে গেল। চুলে গাঁথা অসংখ্য খোঁপা-আলপিন আর ক্লিপ—এগুলো খুলতেই তার মহা কষ্ট। কত টান লাগে, কিন্তু কিছুতেই খুলছে না। যতবারই চেষ্টা করে, ততবারই হতাশা বাড়ে। অল্প অল্প ব্যথা জমতে জমতে তার মনটাকেও আচ্ছন্ন করে ফেলছে। রাগে গরম হয়ে উঠছে ভেতরটা, আর সেই রাগের সঙ্গে মিশে কান্না আসছে গলায়—একটা অসহায়, নিঃশব্দ কান্না।নতুন জীবনের প্রথম রাত—তবু এই মুহূর্তে আইলিনের মনে শুধু একটাই অনুভূতি… যেন সে একা। খুব একা।

আইলিন চুল থেকে একে একে ক্লিপগুলো খুলছিল, আর সঙ্গে সঙ্গেই নিজের বেশ কিছু চুলও অনিচ্ছায় ছিঁড়ে ফেলছিল। বিরক্তিতে গরম হয়ে থাকা মুখটা আরও গুমোট হয়ে উঠছিল তার। শোয়া অবস্থায় থাকা ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে উঠে বসল, আর ভ্রু দুটো কুঁচকে আইলিনের এই অদ্ভুত চুল-ছেড়ার কান্ড দেখতেই লাগল।

ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় ত্রিয়াশের দৃষ্টি পড়তেই আইলিনের রাগ যেন আরও দু’গুণ বেড়ে গেল। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রাগে সে প্রায় ফুঁসতে লাগল, যেন শরীরের ভেতর আগুন দপদপিয়ে জ্বলছে।

গোটা ঘরটা মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠল আইলিনের রাগে।

আইলিন ত্রিয়াশের দিকে ঘুরে রাগে বলে।

-“শুধু আপনার কারণেই আজ আমার এতগুলো চুল ছিঁড়ে গেল। ভেবেছিলাম বিয়ের প্রথম রাতে স্বামীই স্নেহভরা হাত বাড়িয়ে আমার চুলের ক্লিপ খুলে দেবে। কত কথা জমা ছিল মনে—আজ সব বলতে চাইছিলাম,ভালোবাসার ঘর বুনতে চাইছিলাম । কিন্তু না… কোনো কিছুই আর বলা হলো না। এই ৩০শে নভেম্বর আমার জীবনের কালো দিনে পরিণত হলো, শুধু মাত্র আপনার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার জন্যই।”

আইলিনের কণ্ঠ কাঁপছিল রাগে আর অভিমানে। গভীর শ্বাস নিল, চোখ দুটো লাল হয়ে ওঠেছে এই বুঝি টুপ করে পানি গরিয়ে পরবে।ত্রিয়াশ বিছানা থেকে উঠে এসে মেঝের একেবারে মাঝখানে দাঁড়াল। বুকে দুই হাত ভাঁজ করে সে নিবিড় দৃষ্টিতে আইলিনের দিকে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ নীরবতার পরে শান্ত স্বরে বলল

-“ তোমাকে জোর করেছিলাম... আমাকে বিয়ে করার জন্য? ”

ত্রিয়াশের কথায় আইলিন চুপ করে আছে। আইলিন ত্রিয়াশের দিকে তাকিয়ে ভাবে— সত্যি তো এই মানুষটা তো বিয়ের জন্য কোনো জোর জবরদস্তি করেনি তবুও আইলিনের ত্রিয়াশের প্রতি কিঞ্চিৎ রাগ। আইলিনকে চুপ করে থাকতে দেখে ত্রিয়াশ ধমকে বলে উঠে।

- “আন্সার মি, ড্যাম ইট!”

ত্রিয়াশের ধমকে আইলিন একটু কেঁপে উঠে — নিজেকে স্বাভাবিক করে আবারও আইলিন আগের ন্যায় বলে।

-“ মানলাম আপনি বাধ্য করেন নাই। আপনার মা তো সব করলো। আমাকেই কেন আপনার মায়ের চোখে পড়লো? আমার মতো ভোলা ভালা মেয়েরে আপনার মতো খচ্চরের সাথে কেন বিয়ে দিলো?”

ত্রিয়াশ পকেটে হাত দিয়ে দাড়ালো ।আইলিনের কথায় ত্রিয়াশ বলে উঠে।

-“ ভোলা ভালা তাও তুমি! তুমি তো একটা ধানিলংকা।”

আইলিন মুখ মোচড় দিয়ে বলে।

-“ ধানিলংকা তবুও আপনার মতো ননভার্জিন নয়! হুহ।”

আইলিনের কথায় ত্রিয়াশ কপালের একপাশে চুলকে বলে।

-“ শোনো মেয়ে চোখে দেখা সবকিছু সত্যি হয় না।”

ত্রিয়াশের কথায় আইলিন চোখ কুঁচকে তাকায়।

-“তা হলে? যা দেখলাম তা–ও মিথ্যা?আপনি কি বলতে চাইছেন, আমি ভুল ছিলাম?”

ত্রিয়াশ এবার একটু এগিয়ে আসে। দূরত্বটা আইলিন বুঝতে পেরে এক পা পেছোতেই ত্রিয়াশ থেমে যায়।

-“ভুল না… অসম্পূর্ণ। তুমি যেটা দেখেছ, সেটা গল্পের অর্ধেক। বাকি অর্ধেকটা তুমি জানোই না।”

-“ শুনুন মশাই, আপনার প্রেম–লিলার গল্প শোনার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। কারণ আমার নিজের জীবনের গল্পই তো শেষ হয়ে গেছে। কত স্বপ্ন দেখেছিলাম—যে মানুষটি আমার স্বামী হবে, তাকে আমি মন–প্রাণ দিয়ে ভালোবাসবো। সেই ভালোবাসা একদিন সত্যি হবে ভেবেই এতদিন কোনো প্রেম করিনি। সবটুকু অনুভূতি, সবটুকু বিশ্বাস শুধু সেই এক মানুষের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলাম… অথচ শেষমেশ আমার স্বপ্নটাই ভেঙে গেল। এখন মনে হচ্ছে সারাজীবন আমার ভার্জিনই থাকতে হবে। না হবে প্রেম না হবে ভালোবাসা — বাচ্চা হওয়া তো দূরের কথা। ”

আইলিনের কথা গুলো ত্রিয়াশ চুপচাপ শুনছিল। আইলিনের বলা শেষ হলে ত্রিয়াশ একটু চেচিয়ে বলে।

-“আই হেইট দ্য ওয়ার্ড কল্ড লাভ।এসব ভালোবাসা –টালোবাসা আমার কাছে আশা করো না। ”

ত্রিয়াশের কথায় আইলিন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। চোখ দু’টো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল তার। ভালোবাসার প্রতি ত্রিয়াশের এত তীব্র ঘৃণা—এ যেন আইলিনের কাছে এক অজানা অন্ধকার গভীরতা। সে বুঝতে পারল না, আর বুঝবার চেষ্টাও করল না। শুধু নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল ত্রিয়াশের দিকে, যেন তার চোখের ভেতর লুকিয়ে থাকা অমীমাংসিত কোনো ব্যথা খুঁজে বের করতে চাইছে।

ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে নিল। কণ্ঠে এক অচেনা খাদ নেমে এলো, যেন প্রতিটি শব্দের নিচে লুকিয়ে আছে ভাঙা স্মৃতির ভার। সে বিছানার কোণে গিয়ে বসে পড়ল, কাঁধ সামান্য ঝুঁকে আছে, যেন তার ভেতরের সব ক্লান্তি হঠাৎ করে দেহে নেমে এসেছে।

আইলিন তখনও তাকিয়ে আছে। চারপাশের নিস্তব্ধতা ভারী হয়ে আছে তাদের মাঝখানে। ত্রিয়াশের নিঃশ্বাসের শব্দও যেন কাঁপিয়ে দিচ্ছে ঘরের আলো-হাওয়াকে। আর আইলিনের চোখে—কৌতূহল, প্রশ্ন, আর একটুখানি অদম্য মমতা।আইলিন কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে — ত্রিয়াশ আইলিনকে খোঁচা দিয়ে বলে।

-“ ভালোবাসা দিয়ে কি করবে? আমার মতো সুদর্শন পুরুষ তোমার মতো কাইলার স্বামী এটাই তো অনেক। এটাই তো তোমার সাত কপালের সৌভাগ্য।

এর বেশি আর কী চাই তোমার?”

ত্রিয়াশের কথাটা আইলিনের বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধে গেল। সে ত্রিয়াশের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে রইল। সত্যিই—ছেলেটা অসম্ভব সুদর্শন। আইলিনের চোখ যেন থমকে গেল ত্রিয়াশের ওপর। ছাই রঙের ট্রাউজার, সাদা টি-শার্ট, ডান হাতে সিলভারের ব্রেসলেট, আর স্ট্রেট করা চুলের কিছু গোছা কপালের ওপর আলতোভাবে পড়ে আছে—সব মিলিয়ে ত্রিয়াশকে যেন আরও আকর্ষণীয় লাগছিল।

ত্রিয়াশকে দেখেই আইলিনের মনে অকারণে এক ধরনের ক্রাশের ঢেউ উঠল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল—ত্রিয়াশ তাকে ‘কালা’ বলেছিল। কথাটা তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। কারণ আইলিন তো কালো নয়, উজ্জ্বল শ্যামলা, আর স্বভাবগতভাবেই সুন্দর। তার টানা টানা চোখ, চাঁদের বাঁকের মতো বাকা ঠোঁট,হাসলে একপাশে টোল পড়ে, আর তার পুরো চেহারার ফ্রেশনেস—যে-ই দেখবে নিশ্চয় মুগ্ধ হয়ে বলবে “মাশা-আল্লাহ।”

তবুও, এতোটা সুন্দর হয়েও আইলিনকে বারবার ‘কালো’ বলে অপমান সহ্য করতে হয়েছে সেই ছোট থেকেই —এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দেয়।

আইলিন ত্রিয়াশের কথার কোনো জবাব দিল না। সে চুপচাপ পিছন ফিরেই চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছে ফেলল। আয়নার দিকে তাকাতেই ত্রিয়াশ আইলিনের অশ্রুসিক্ত চোখ দেখে বুঝতে পারল—তার কথায় আইলিন সত্যিই কষ্ট পেয়েছে। অথচ সে ইচ্ছে করে এমনভাবে বলতে চায়নি।

ত্রিয়াশ কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আইল ফ্রেশ হতেই ওয়াশরুমের দিকে দৌড়ে গেল, যেন দ্রুত নিজেকে সামলে নিতে চায়।

~~

সকাল সকাল ফ্রেশ হয়ে আইলিন নিচে চলে এল। বাড়ির গিন্নিরা সবাই তখন রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত।

আইলিনকে দেখে তিশা বেগম মুচকি হাসি দিয়ে শুভ সকাল জানালেন। ভদ্রতার খাতিরে, আইলিনও মুচকি হাসি দিল।

আইলিন ধীরে ধীরে রান্নাঘরের কাছে চলে গিয়ে উঁকি মারল। তখন সে দেখল আইরা এবং তার শ্বাশুরি মুনিরা বেগম কাজ করছেন। তারা আইলিনকে দেখে মুচকি হাসি দিল এবং শুভ সকাল জানালো।

আইলিনের কাছে এই পরিবারটি সত্যিই নজরকাড়া—আজকালকার যুগেও তারা একত্রিত পরিবারে বসবাস করছে। সকলে হাসি-খুশি হয়ে মিলেমিশে থাকে, আর সেই দৃশ্য আইলিনকে খুব আনন্দ দিয়েছে।

আইলিনের মুখ দেখে তিশা বেগম বুঝলেন, হয়তো খিদে পেয়েছে। তাই তিনি আইলিনকে টেবিলে বসিয়ে, প্লেটে কিছু খাবার এনে দিলেন। তবে এখনো বাড়ির কেউ খায়নি, বিশেষ করে কর্তারা। এই পরিস্থিতিতে আইলিনের খেতে বসার অনুভূতি কিছুটা অদ্ভুত—মানুষ ভাবতে পারে মেয়েটা পেটুক। তবে আইলিন নানা ধরনের চিন্তা-ভাবনা করে, এবং শেষে তিশা বেগমের উদ্দেশ্যে বলল—

-“আন্টি, আমি সবার সাথে একসাথে খাবো।”

আইলিন যখন তিশা বেগমকে ‘আন্টি’ বলল, তিনি ভ্রু কুচকে তাকালেন। তারপর তিশা বেগম আইলিনকে বলেন—

-“আগের কথা ভুলে যাও! আন্টি কি? হুম! আমি তোমার শ্বাশুড়ি মা, আমাকে আজ থেকে মা বলে ডাকবে। সঙ্গে তুমি বলবে মনে রাখবে।”

তিশা বেগমের কথায় আইলিন কেবল মাথা নাড়াল।এর মধ্যে নাহিদ মির্জা আর তার ছোট ভালো নিখিল মির্জা চলে আসেন। তারা আইলিনকে দেখে মিষ্টি হাসি দিলো। নাহিদ মির্জা আইলিনের দিকে এগিয়ে এসে বলে।

-“ নতুন মায়ের নতুন পরিবেশে কেমন লাগছে? হুম! ”

আইলিন কিছু বলবে তার আগেই তিশা বেগম বলে

-“ তোমার নতুন মা আমাকে আন্টি বলছে। ”

তিশা বেগমের কথায় নাহিদ মির্জা আর নিখিল মির্জা হেসে ফেলে। নাহিদ মির্জা আইলিনকে বলে।

-“ আমাকে আবার আঙ্কেল বলো না আমি তোমার আরেকটা বাবা হই।”

নিখিল মির্জা বলে উঠে।

-“ আর আমি ছোট বাবা হই। ”

আইলিনের সাথে কিছু কথা বলে বাড়ির দুই কর্তা অফিস চলে গেল — তারা অফিসে গিয়ে নাস্তা করবে। আইলিন ভাবছে বাড়ির বড়রা কি সুন্দর মিশুক। সুন্দর মিষ্টি পরিবার। আইরা রান্না ঘর থেকে এসে আইলিনের পাশে বসলো। আইলিনের মুখটা ছোট হয়ে আছে — এভাবে হুট করে বিয়েটা আইলিন মানতে পারছেনা এটা বেশ বুঝলো আইরা। আইরা তো জানে আইলিনের কতো ইচ্ছে ছিল তার বিয়েটা ধুমধামে হবে — গর্জিয়াছ বউ সাজবে, বউ ঠিকই সাজলো কিন্তু ধুমধামে বিয়ে হলো না। আইরা আইলিনের মনের কথা বুঝলো — আইরা আইলিনের মাথায় হাত দিয়ে বলে

-“ বোনু রাগ করে আছিস? রাগ করে না সোনা বোন দেখবি আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে।”

-“ হ্যা! সব ভালো শুধু আমার সাথে করে।”

আইরা দেখলো আইলিনের চোখে পানি — যা আইলিন গড়াতে চাচ্ছে নাহ। আইরা আর কিছু বললে আইলিন ভ্যা ভ্যা করে কেদে দিবে। আইরা চুপ চাপ আবারও রান্না ঘরে চলে গেল।

চেচামেচি করতে করতে বাড়ির ছোট সদস্যরা চলে আসে। নিভান, নিয়তি, নিশি হইহই করতে করতে আইলিনের পাশে বসে পড়ে। এতোক্ষণ আইলিন নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়েছে। নিভান উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলে

-“ ছোট ভাবি আমি নিভান আপ....

নিভানকে আর করে বলার সুযোগ না দিয়ে আইলিন বলে উঠে।

-“ কি আশ্চর্য! এখানে আগুন ধরেনি আপনি কি নিভাবেন? দুই বছর আগে আপুর বউভাতে কিছু একটা নিভানের কথা বলছিলেন?”

আইলিনের কথা শুনে নিয়তি আর নিশি খিলখিল করে হাসতে লাগলো। এদিকে বেচারা নিভান মুখ গোমরা করে বসে রইলো। মাঝে মাঝে চোখ রাঙিয়ে দিচ্ছে নিয়তি আর নিশিকে। আইলিন বুঝলো না তাদের হাসার কারণ কি? নিয়তি হাসতে হাসতে বললো

-“ ছোট ভাবি ভাইয়ার নামই নিভান। কোনো আগুন নিভাবেনা। ”

বলেই নিয়তি আবারও খিলখিল করে হাসলো। এতোক্ষণ আইলিন আসল কথা বুঝলো। আইলিনও লজ্জা পেল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আইলিনের নিভান, নিয়তি আর নিশির সাথে ভাব জমেছে — মনে হচ্ছে তারা কতো কালের বন্ধু। তারা খুব বেশি ছোট বড় না এই জন্য হয়তো এতো তাড়াতাড়ি মিশে গেছে। তাদের কথার মধ্যে নিলয় উপস্থিত হয়। নিলয়ও খুব সহজে সবার সাথে মিশে যায় শুধু ত্রিয়াশ ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ।

নিভান হাক ছেড়ে ডেকে বলে।

-“ ছোট মা, আজ মেনুতে কি কি আছে। স্পেশালি কি কি রান্না করলে?”

মুনিরা বেগম হাতে একটা বাটি নিয়ে আসতে আসতে বলে।

-“ আজ বেশি কিছু রান্না করতে পারিনি বাপ।”

নিশি বলে।

-“ আরে মা! যা যা রান্না করছো সেগুলোই বলো। ”

মুনিরা বেগম হাসি হাসি মুখে বলে।

-“ এই তো মুলা দিয়ে ছোট মাছ,মুলা দিয়ে বড় মাছের ঝোল, মাংসের মধ্যে টুকরো টুকরো করে কয়েক পিছ মুলা দিয়েছি আর সাথে আছে মুলার পায়েস। ”

এই কথা শুনে নিভান, নিয়তি আর নিশির জীবন যায় যায়। আইলিন শুধু অবাক হয়ে শুনছিল।নিলয় হাসি মুখে বলে।

-“ আরে মা রেসিপির নাম পরে বলো আগে খেতে দাও আমার তো শুনেই জ্বিভে পানি চলে আসছে। ”

নিভান মুখ ভেঙ্গচি দিয়ে বলে।

-“ তোমার তো গরুর ল্যাদা রেসেপি শুনেও জিভে ভিজে উঠবে। ”

নিলয় খেতে খেতে বললো

-“ আহ শান্তি মায়ের হাতের মুলার রেসিপি। খেয়ে দেখ মনে হবে অমৃত খাচ্ছি। ”

নিশি বলে।

-“ শোনো ভাইয়া এসব তুমিই খাও। ”

নিয়তি কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে

-“ রেসিপি বানানোর জন্য কি শুধু মুলায় চোখে দেখো।আল্লাহ গো এই মুলার সিজন কবে যাবে।”

নিভান বলে

-“ কাল ত্রিয়াশ ভাইয়ার বিয়ে হলো ভেবেছিলাম আজ বাড়িতে ভালো কিছু রান্না হবে কব্জি ডুবিয়ে খাবো। মুলা দিয়ে সব ঘেটে দিলে। ”

তিশা বেগম এসে তাদের ধমকে দিল। সবাই চুপ করে আছে তবে এগুলো খাবে না। তিশা বেগম বলে।

-“ তোদের থেকে আমার নিলয় বাবা ভালো সব গিলে ফেলে। তোরা বড়লোকি ভাব দেখাস। তোদেরকে খেতে হবে না আজ তোরা না খেয়ে থাক। ”

আইলিন শুধু বসে এদের কান্ড দেখছে। আজ তার ভার্সিটি যেতে হবে — মনে হতেই লাফিয়ে উঠে। আইলিন এভাবে উঠতে দেখে মুনিরা বেগম জিজ্ঞেস করে।

-“ কি হলো, এভাবে দাঁড়িয়ে পড়লে কেন? ”

-“ আসলে ছোট মা আজকে আমার ভার্সিটির প্রথম দিন। ”

তিশা বেগম এসে বলে।

-“ আইলিন মা! তুমি কি আজ ভার্সিটি যেতে চাচ্ছো? আসলে কালই তো বিয়ে হলো। ”

আইলিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে।

-“মা, বিয়েটা তো আর জাঁকজমক ভাবে হয়নি — এখানে না যাওয়ার কি আছে। ”

কারোর পায়ের শব্দে আইলিন পিছনে তাকিয়ে দেখে ত্রিয়াশ সিড়ি দিয়ে নামছে। পড়নে সাদা শার্ট ডান হাতে ব্রেসলেট বাম হাতে রোলেক্সের ঘড়ি,চোখে চিকন ফ্রেমের গ্লাস — তাকে দেখতে মাশাআল্লাহ লাগছে। ত্রিয়াশকে অনেক আকর্ষণীয় লাগছে — আইলিন চোখ সরিয়ে নিল। বাচ্চা গুলো ত্রিয়াশকে দেখে ভয় পেলেও আজ আবদার করলো।নিয়তি ভয়ে ভয়ে বলে।

-“ ভাইয়া! তোমার বিয়ে উপলক্ষে আজ আমাদের ট্রিট দাও। বাড়িতে সবই মুলার রেসিপি। ”

ত্রিয়াশ আজ মানা করলো না শুধু বলে গেল।

-“ গাড়িতে অপেক্ষা করছি "এভরিওন উইল কাম কুইকলি।”

ত্রিয়াশ যেতেই সবাই হইহই করে চেচিয়ে উঠলো। মুনিরা বেগম আফসোস নিয়ে বলে।

-“ তাহলে এই মুলার রেসিপি কে খাবে?”

নিভান বলে।

-“ ছোট মা তুমি আর মা বসে বসে খাও। আর নিলয় ভাইয়া তুমিও খাও আর পাদো।”

বলেই দৌড়ে চলে গেল বাইরে। নিয়তি, নিশি আইলিন আর আইরাকে সাথে নিয়ে এলো। তাদের সাথে নিলয়ও আছে।

চলবে.......

(ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। সকলে সাপোর্ট করো রেসপন্স করো। এটা নতুন লিখছি গল্প কেমন হয় সেটাও বলো প্লিজ।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন