ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৫৫তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৫৫ #অন্তিমপার্ট

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

ভার্সিটি আর অফিস দুই দিক সামলাতে সামলাতে ত্রিয়াশের দিন-রাত যেন এক হয়ে গেছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া ব্যস্ততা শেষ হতে হতে রাত গভীর হয়ে যায়। ভার্সিটির একের পর এক ক্লাস নেওয়া, তারপর সোজা অফিস। অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায়ই রাত এগারোটা কিংবা বারোটা বেজে যায়।

এই ব্যস্ত জীবনে যেন নিজের পরিবারটার জন্য সময়ই বের করতে পারছে না সে। ছোট্ট ত্রিয়া বাবাকে কাছে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। আর আইলিন… সে প্রতিদিনই অপেক্ষা করে। কখন দরজায় কলিংবেল বাজবে, কখন মানুষটা ফিরে আসবে—এই আশায় বসে থাকে। কখনো ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ে।

ত্রিয়াশ বাসায় ফিরে প্রতিদিন একই দৃশ্য দেখে। ক্লান্ত মুখে ঘুমিয়ে থাকে আইলিন। তখন খুব যত্ন করে সে আইলিনকে কোলে তুলে নেয়, ঘরে এনে বিছানায় সযত্নে শুইয়ে দেয়। মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকে। কিন্তু কথা বলার সময় আর হয়ে ওঠে না। এভাবেই ব্যস্ততার ভিড়ে কেটে যাচ্ছে ত্রিয়াশের দিনগুলো।

তবে আজকের দিনটা একটু ভিন্ন। আগামীকাল বাড়িতে অনুষ্ঠান, তাই আজ বিকেল থেকেই ত্রিয়াশ বাসায় আছে। পুরো বাড়ি যেন উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে। বাড়ির সামনের বড় বাগানজুড়ে সবাই ব্যস্ত সাজসজ্জা নিয়ে। কোথায় লাইট লাগবে, কোথায় ফুলের সাজ হবে—সবকিছু নিয়েই আলোচনা চলছে।

ত্রিয়াশও ছোট্ট ত্রিয়াকে নিয়ে বাগানে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা বাবার হাত শক্ত করে ধরে এদিক-ওদিক ঘুরছে। মাঝে মাঝে ছোট্ট ছোট্ট প্রশ্ন করছে, আর ত্রিয়াশ ধৈর্য ধরে উত্তর দিচ্ছে।

আজ বাড়ির সবাই উপস্থিত। মুনিরা বেগম রান্নাঘরে ব্যস্ত হালকা ভাজাপোড়া তৈরিতে। গ্রামের বাড়ি থেকে রিদিশার বাবা-মাও এসেছেন । তিশা বেগম এই গরমে সবার জন্য ঠান্ডা শরবত বানাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর তিনি আইলিন আর জরিনার হাতে কয়েক গ্লাস শরবত ধরিয়ে দিয়ে বললেন,

“বাগানে সবাইকে দিয়ে আসো তো মা।”

জরিনা একে একে সবাইকে শরবত দিতে লাগল। আর আইলিন আস্তে করে ত্রিয়াশদের দিকে এগিয়ে এলো।

ঠিক তখনই ত্রিয়াশ বাগানের গাছ থেকে ছোট্ট একটা ফুল ছিঁড়ে মেয়ের চুলে গুঁজে দিল। ফুলটা পেয়ে ত্রিয়া খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল।

এমন সময় আইলিন তাদের সামনে এসে দাঁড়াতেই ত্রিয়াশ চোখ তুলে তাকালো। আইলিনের হাতে শরবতের গ্লাস। বিকেলের স্নিগ্ধ আলোয় মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। ত্রিয়াশ মুচকি হেসে শরবতের গ্লাসটা হাতে নিল।

বাবা-মেয়ে দুজনেই মজা করে শরবত খেতে লাগল।

হঠাৎ ত্রিয়া খুশিতে লাফিয়ে উঠে নিজের মাথার ফুলটা দেখিয়ে বলল,

“মাম্মাম! মাম্মাম! দেখো, পাপা ফুল দিয়েছে!”

আইলিন মেয়ের গাল টিপে মিষ্টি হেসে বলল,

“আমার মেয়েটাকে খুব সুন্দর লাগছে।”

ত্রিয়া খিলখিল করে হেসে দৌড়ে তার দাদুর কাছে চলে গেল ফুল দেখাতে।

মেয়ের চলে যাওয়া দেখে ত্রিয়াশ এবার পুরো মনোযোগ দিল আইলিনের দিকে। কিছুটা অভিমান, কিছুটা আদর মিশিয়ে বলল,

“সারাদিন কোথায় ছিলে তুমি? যতক্ষণ আমি বাসায় থাকব, ততক্ষণ আমার পিছনে পিছনে থাকবে।”

আইলিন মুখ ভেংচি কেটে বলল,

“বউ পিছনে পিছনে থাকবে নাকি জামাই বউয়ের আঁচল ধরে ঘুরবে?”

ত্রিয়াশ ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে ধীরে বলল,

“তাহলে আঁচলে বেঁধে নাও।”

“নিয়েছি তো।”

ত্রিয়াশ আরও একটু কাছে ঝুঁকে মৃদু স্বরে বলল,

“তাহলে এবার বুকে জড়িয়ে নাও।”

আইলিন চারপাশে একবার তাকিয়ে আস্তে করে উত্তর দিল,

“নিবো… রাতের আধারে।”

কথাটা বলেই লজ্জা পেয়ে দ্রুত পা চালিয়ে সেখান থেকে চলে গেল সে।

আর ত্রিয়াশ? সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আইলিনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎই শব্দ করে হেসে ফেলল।

~~~~

আজ সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। সকাল থেকেই পুরো বাড়িজুড়ে উৎসব মুখর। বাড়ির প্রতিটি কোণ সাজানো হয়েছে রঙিন আলো, ফুল আর নানান সাজসজ্জায়। সন্ধ্যা নামার অপেক্ষায় যেন সবাই ব্যস্ত হয়ে আছে। একটু পরই চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যাবে, আর তখনই পুরো বাড়ি ঝলমল করে উঠবে অসংখ্য রঙিন লাইটের আলোয়। পরিবেশটা এত সুন্দর যে মনে হচ্ছে কোনো রূপকথার আয়োজন চলছে।

ত্রিয়াশ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে হাত বুলিয়ে ব্রাশ করছিল। পরনে তার ব্লাক রঙের ফর্মাল ড্রেস, যেটা তাকে আরও বেশি সুদর্শন লাগাচ্ছে। প্রস্তুত হতে হতেও তার চোখ বারবার ঘরের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে নিজের বউ আর মেয়েকে খুঁজছে। একবার ড্রয়িংরুমে যায়, তারপর করিডোরে উঁকি দেয়, কিন্তু কোথাও তাদের দেখতে পায় না। শেষে হাল ছেড়ে দিয়ে আবার নিজের রুমে ফিরে আসে।

রুমে ঢুকে অজান্তেই বেলকনির দিকে এগিয়ে যায় সে। নিচে তাকাতেই মুহূর্তের জন্য থমকে যায় ত্রিয়াশ।

তার চোখ যেন আটকে যায় সেই দৃশ্যে।

নিচের বাগানে ছোট্ট ত্রিয়া আগে আগে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আর তার পেছনে পেছনে আইলিন ছুটছে। কখনো মেয়েকে ধরার ভান করছে, আবার কখনো ইচ্ছে করেই হার মেনে যাচ্ছে। মা-মেয়ের খিলখিল হাসির শব্দ পুরো পরিবেশটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সেই হাসির শব্দ যেন সরাসরি এসে ত্রিয়াশের হৃদয়ে আঘাত করছে— শান্ত, উষ্ণ এক অনুভূতিতে ভরিয়ে দিচ্ছে তাকে।

ত্রিয়াশ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।

আজ মা-মেয়ে দুজনেই একই রকম মাল্টিকালার ফ্লোরাল প্যাস্টেল লেহেঙ্গা পরেছে। হালকা বাতাসে লেহেঙ্গার ঘের উড়ছে, যেন রঙিন ফুলের পাপড়ি ভেসে বেড়াচ্ছে চারপাশে। আইলিনের মুখে হালকা সাজ, ঠোঁটে স্নিগ্ধ হাসি, আর হাতে গাঢ় মেহেদীর নকশা। ত্রিয়ার ছোট্ট হাতেও সুন্দর করে মেহেদী দেওয়া, যা সে বারবার উচ্ছ্বাস নিয়ে সবাইকে দেখাচ্ছে।

দুজনের সাজ যেন একই সুতোয় গাঁথা। দেখে মনে হচ্ছে মা-মেয়ে নয়, বরং একে অপরের প্রতিচ্ছবি।

সেই দৃশ্য দেখে ত্রিয়াশের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে ওঠে। মুগ্ধ স্বরে সে ধীরে বলে ওঠে

“মাশা-আল্লাহ...”

এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সব সুখ বুঝি এই ছোট্ট দৃশ্যটার মাঝেই লুকিয়ে আছে। এত ব্যস্ততা, এত দৌড়ঝাঁপ, এত ক্লান্তির পরও দিনের শেষে এই দুজন মানুষই তার শান্তি।

ত্রিয়াশ কিছুক্ষণ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে শুধু তাদের দেখতেই থাকে। তার চোখে এক ধরনের প্রশান্তি, যেন বহুদিন পর নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটাকে ছুঁয়ে দেখছে সে।

একসময় আর নিজেকে দূরে রাখতে পারে না। ধীর পায়ে নিচে বাগানে নেমে আসে ত্রিয়াশ।

ত্রিয়া বাবাকে দেখেই আনন্দে চিৎকার করে ওঠে

“পাপাআআ!”

ছোট্ট পা দুটো নিয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বাবাকে। ত্রিয়াশ হেসে মেয়েকে কোলে তুলে নেয়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইলিনের দিকে তাকাতেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য দুজনের চোখ আটকে যায় একে অপরের চোখে।

এর মধ্যেই হঠাৎ করেই সবাই হইচই শুরু করে। গান বাজনা জোরে চলতে থাকে, আর ছেলেরা যার যার মতো করে এলোমেলোভাবে নাচতে শুরু করে। তাদের এমন অদ্ভুত নাচ দেখে মেয়েরা হাসিতে ফেটে পড়ে। ঠিক তখনই ত্রিয়াশ আর আইলিন সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তাদের দুজনকে দেখামাত্রই হইচইটা আরও বেড়ে যায়, সবাই যেন আরও উৎসাহ পেয়ে যায়।

আয়োজনটা যেহেতু পুরোপুরি ঘরোয়া, তাই বড়রা কেউই এই অংশে আসেননি। ফলে ছেলে-মেয়েরা নিজেদের মতো করেই আনন্দে মেতে আছে, কারও কোনো বাঁধা নেই। মুহূর্তটা যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

আইরা বাড়ির বড় বউ সকলের ভাবি। আইরা ছেলেদের সরতে বললো কারণ এখন মেয়েরা ডান্স করবে। রাফসান একটা চেয়ারে বসে আছে তার পাশে রাহি, সে এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই অবস্থায় নাচা তার জন্য ঠিক না। রাফসানের কোলে পৃথার দুই বছরের ছেলে পাশের দুই টা চেয়ারে নির্ঝর আর ত্রিয়া বসে আছে মূলত তারা এখন মেয়েদের ডান্স দেখবে। আজ সকল মেয়েরা লেহেঙ্গা পড়েছে দেখতে সবাই কে সুন্দর লাগছে।

নাচের প্রস্তুতি নিয়ে দাঁড়িয়ে পরে আইলিন, আইরা, নিয়তি, নিশি, রাত্রি, পৃথা আর রিদিশা। সাউন্ডবক্সে গান বেজে ওঠে,

Mere maahiya sanam jaanam

Kive kariya nami daanam

Shab ghuzri te jag soy

Ni main jagya nami daanam

Ni main kamli kamli

Ni main kamli kamli

Ni main kamli kamli mere yaar di

গানের তালে তালে মেয়েরা নাচতে থাকে। তাদের নাচ দেখে ছেলেরা চোখের ইশারায় কিছু বলে। বিশাল বড় বাগানে একপাশে মেয়েরা নাচছে আরেকটা পাশ খালি আছে। হঠাৎ গান বন্ধ হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা ডান্স অফ করে এর মধ্যে আরেকটা গান বেজে ওঠে,

Jhoome Jo Pathaan meri

jaan mehfil hi Lut Jaaye..

Dede Jo jubaan meri jaan

Uspe marr mit jayee...

Jhoome Jo Pathaan meri

jaan mehfil hi Lut Jaaye..

Dede Jo jubaan meri jaan

Uspe marr mit jayee...

সবাই পাশে ফিরে দেখে ছেলেরা ডান্স করছে। তারা সবাই ফর্মাল ড্রেস পরেছে দেখতে মাশা-আল্লাহ লাগছে। নাচের স্টেপ গুলো ফাটিয়ে দিচ্ছে তা দেখে সকলে চিৎকার করে উঠলো। সবাই সবার জামাইয়ের ডান্স দেখে ফিদা। নতুন করে যেন আরেক দফা প্রেমে পড়লো। আজকের দিনটা তাদের জন্য সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

~~~~~~~~~~~~~~~~

সময় বহমান। দেখতে দেখতে কেটে গেছে অনেকগুলো মাস। দিনগুলো যেন নীরবে বদলে দিয়েছে অনেক কিছু। সুখ, ভালোবাসা আর ছোট ছোট মুহূর্তে ভরে উঠেছে পুরো বাড়িটা। আর সেই সুখের মাঝেই আবারও নতুন এক অনুভূতির অপেক্ষায় আছে সবাই। আইলিন দ্বিতীয়বারের মতো অন্তঃসত্ত্বা। আবারও মা হওয়ার অনুভূতি তাকে ঘিরে রেখেছে এক অন্যরকম প্রশান্তিতে।

এই কয়েক মাসে ত্রিয়াশের ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়েছে। আগেও সে আইলিনকে ভীষণ ভালোবাসতো, কিন্তু এবার যেন সেই ভালোবাসার সঙ্গে মিশে গেছে ভয়, দায়িত্ব আর অদ্ভুত এক মায়া। আইলিন এখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। যেকোনো সময় প্রসব বেদনা উঠতে পারে। এই ভাবনাটা ত্রিয়াশকে সবসময় অস্থির করে রাখে। বাইরে থেকে শান্ত থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে সে সবসময় এক ধরনের দুশ্চিন্তায় থাকে।

ভার্সিটির কাজ শেষ করেই সে এখন আর অফিসে যায় না। অফিসের বেশিরভাগ কাজ বাসা থেকেই সামলায়। তার পুরো পৃথিবী যেন এখন আইলিন আর ছোট্টো ত্রিয়াকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ। দায়িত্বও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আইলিনের যত্ন নেওয়া, সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, খাবারের খেয়াল রাখা, রাতে ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে কিনা দেখা—সবকিছুতেই ত্রিয়াশ নিজে জড়িয়ে থাকে। এমনকি ত্রিয়ার দিকেও তার আলাদা নজর রাখতে হয়।

বাড়িতে এত মানুষ থাকা সত্ত্বেও ত্রিয়াশ যেন কাউকে খুব একটা দায়িত্ব দিতে চায় না। নিজের হাতেই সব করতে ভালো লাগে তার। আইলিনের একটু কষ্টও যেন তার সহ্য হয় না।

তবে ত্রিয়াশ বাসায় না থাকলে বাড়িটা একদম নিরব থাকে না। নিয়তি, নিশি, রাত্রি, আইরা সবাই প্রায় প্রতিদিনই চলে আসে আইলিনের কাছে। এমনকি পৃথাও সুযোগ পেলেই এসে আড্ডায় যোগ দেয়। সবাই মিলে হাসি-ঠাট্টায় পুরো ঘর মাতিয়ে রাখে। কেউ চায় না এই সময়টাতে আইলিন একটুও মন খারাপ করুক। তার মুখে হাসি রাখার জন্য সবাই যেন আলাদা করে চেষ্টা করে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিছুক্ষণ আগেও সবাই এ ঘরে ছিল।

দুপুর গড়িয়ে প্রায় বারোটা বাজতে চলেছে। বাড়ির সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কেউ রান্নাঘরে, কেউ নিচতলায়, কেউবা অন্য কোনো কাজে মগ্ন। এই মুহূর্তে আইলিন নিজের ঘরেই একা বসে আছে। খাটের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে আছে সে। সামনে ছোট্ট একটা ফলের প্লেট রাখা। কিছুক্ষণ আগেই তিশা বেগম নিজের হাতে ফল কেটে দিয়ে গেছেন।

আইলিন ফলগুলো খাচ্ছে। তার শরীর এখন অনেক ভারী হয়ে গেছে। পেটটা বড় হয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো নড়াচড়া করতেও কষ্ট হয়। মাঝে মাঝেই হাঁটতে গেলেও হাঁপিয়ে ওঠে সে। তবুও মুখে এক ধরনের কোমল প্রশান্তি লেগে আছে। কারণ তার ভেতরেই তো বেড়ে উঠছে তাদের আরেকটা ছোট্ট অস্তিত্ব।

ত্রিয়াশ আজ একটা জরুরি মিটিংয়ের জন্য অফিস গেছে। যেতে তার একদমই মন চাইছিল না। সকাল থেকে কতবার যে আইলিনকে জিজ্ঞেস করেছে,

“ তোমাকে রেখে যেতে মন চাচ্ছে না। আমি না গেলে হবে না?”

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে যেতেই হয়েছে। বের হওয়ার আগেও বারবার আইলিনের দিকে তাকাচ্ছিল সে। যেন মনটা বাসাতেই রেখে গেছে। আইলিন অবশ্য হাসিমুখেই তাকে আশ্বস্ত করেছে।

ত্রিয়া এই মুহূর্তে দাদুর ঘরে খেলছে। নির্ঝর আর ইউশাও তার সঙ্গে আছে। তিনজন মিলে পুরো ঘর এলোমেলো করে খেলায় মেতে উঠেছে। মাঝেমধ্যে ত্রিয়ার হাসির শব্দ ভেসে আসছে করিডোর পেরিয়ে। সেই শব্দ শুনে আইলিনের ঠোঁটেও অজান্তে হাসি ফুটে উঠছে। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি রেখে এক হাত পেটের ওপর রাখে। কিন্তু আসতে আসতে তার হাসি মিলিয়ে যায়। কপালে তিনটা ভাজ পরে, ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে আসে। কেমন অস্থির অস্থির লাগছে মনে হচ্ছে এখনই ম'রে টরে যাবে। গলা শুকিয়ে আসছে, পাশের সেন্টার টেবিলে পানির গ্লাস রাখা হাত বাড়িয়ে নিতে গিয়েও পারলো না, হাতের ছোঁয়া লেগে শব্দ করে মেঝেতে কাচের গ্লাস পরে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

তীব্র ব্যথায় আইলিনের চোখ-মুখ খিঁচে আসছে। শরীরের প্রতিটি শিরা যেন অসহ্য যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে—এ কোনো সাধারণ ব্যথা নয়, এ এক নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার পূর্ব মুহূর্তের যন্ত্রণা। লিভার পেইনে পুরো শরীর কাঁপছে তার। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, কিন্তু চিৎকার করার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে। শুধু চাপা গোঙানি ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে।

কষ্ট করে বিছানা থেকে পা নামিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে ধপ করে মেঝেতে পড়ে যায় সে। পড়ে যেতেই বুকফাটা আর্তনাদ বেরিয়ে আসে তার কণ্ঠ থেকে,

“আল্লাহ গোওওও...!”

অনেকক্ষণ ধরেই ত্রিয়া দাদুর ঘরে খেলছিল। হঠাৎ মায়ের কথা মনে হতেই ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে রুমে আসে সে। এসে মাকে মেঝেতে ছটফট করতে দেখে ভয় পেয়ে যায়। ছোট্ট মেয়েটা তড়িঘড়ি করে মায়ের মাথার পাশে বসে পড়ে। ঠোঁট কেঁপে ওঠে তার, চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে টলমলে অশ্রু।

“মাম্মাম… মাম্মাম… কী হয়েছে?”

নিজের অসহ্য ব্যথাই যেখানে সামলাতে পারছে না, সেখানে মেয়েকে সান্ত্বনা দেওয়ার শক্তিও নেই আইলিনের। ব্যথায় তার চিৎকার আরও তীব্র হতে থাকে। আর মায়ের সেই অবস্থা দেখে ত্রিয়াও হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।

মা-মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে নিয়তি দৌড়ে এসে রুমে ঢুকতেই থমকে যায়। মুহূর্তেই ভয় চেপে বসে তার মনে। তাড়াহুড়ো করে চিৎকার করে ওঠে—

“কে কোথায় আছো? এদিকে আসো! ছোট ভাবি কেমন করছে!”

তার চিৎকার শুনে বাড়ির সবাই ছুটে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাড়িতে তখন কোনো পুরুষ মানুষ নেই। নিশি কাঁপা হাতে একের পর এক ইউভি আর ত্রিয়াশকে কল করেই যাচ্ছে, কিন্তু তারা তখন মিটিংয়ে থাকায় ফোন ধরতে পারছে না।

ঠিক তখনই কোথা থেকে নিভান দৌড়ে এসে পুরো পরিস্থিতি দেখে নেয়। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে দ্রুত আইলিনকে কোলে তুলে নেয়। তার চোখেমুখেও স্পষ্ট আতঙ্ক।

বের হওয়ার আগে তাড়াহুড়ো করে নিশিকে বলে ওঠে

“নিশি, গাড়ি বের কর!”

কথাটা বলেই নিভান দ্রুত পায়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটে যায়, আর পিছনে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে সবাই তাদের অনুসরণ করতে থাকে।

ঘন্টা দুয়েক পেরিয়ে গেছে। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে যেন অদৃশ্য এক চাপা উত্তেজনা। ভেতরে আইলিনের অপারেশন চলছে। রুদ্র নিজেই অপারেশন করছে। আর বাইরে বাড়ির সবাই উৎকণ্ঠায় পায়চারি করছে।

ত্রিয়াশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অস্থিরতায় তার বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে। গায়ের ব্লেজার খুলে পাশের বেঞ্চে ছুড়ে ফেলেছে সে। এলোমেলো হয়ে গেছে চুলগুলো, কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে। বারবার শার্টের হাতা দিয়ে ঘাম মুছে নিচ্ছে, অথচ অস্থিরতা কিছুতেই কমছে না। তার পুরো মনজুড়ে এখন শুধু একটাই নাম আইলিন।

ঠিক তখনই হঠাৎ করিডোরে ভেসে আসে এক ক্ষীণ কান্নার শব্দ। মুহূর্তেই সবাই থমকে যায়। ত্রিয়াশ দ্রুত সামনে তাকাতেই দেখে অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে রুদ্র বেরিয়ে আসছে। তার কোলে ছোট্ট, নরম এক পুঁটলি।

ত্রিয়াশ প্রায় দৌড়ে গিয়ে কাঁপা গলায় বলে উঠল,

“এই রুদ্র… আমার আইলিন কেমন আছে?”

রুদ্র মুচকি হেসে বন্ধুর কাঁধে হাত রাখল।

“চিন্তা করিস না। এখন ঠিক আছে, তেমন কোনো সমস্যা নেই। আরেক ঘণ্টার মধ্যে কেবিনে দিয়ে দেবে।”

একটু থেমে আবারও বলে,

“ব্যাডা, তুই তো পুত্র সন্তানের বাপ হলি! নে, এবার ছেলেকে কোলে ধর।”

কথাটা শুনেই ত্রিয়াশের চোখ ভিজে উঠল। কাঁপা কাঁপা হাতে ছেলেকে কোলে নিল সে। এত ছোট্ট, এত কোমল একটা প্রাণ— যেন তার বুকের ভেতরটা ভালোবাসায় ভরে গেল। আস্তে করে ছেলের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল ত্রিয়াশ।

তারপর একে একে বাড়ির সবাই ছোট্ট বাবুটাকে কোলে নিল, আদর করল। নাহিদ মির্জা নাতির কানে আজান দিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটা নাম দিলেন, মেহরান আইয়াশ, বাবা মায়ের নাম মিলিয়ে রাখলেন। মেয়ের নাম মেহরিন ত্রিয়া আর ছেলের নাম মেহরান আইয়াশ খুব সুন্দর নাম। সবার পছন্দ হয়েছে। ইউভি কোলে নিয়ে বলে,

“ আমাদের পরিবারে আসার জন্য স্বাগতম চ্যাম্প। চিন্তা করো না চ্যাম্প আমি তোমার প্রেমের পিয়ন হবো। কেউ বাঁধা হলে তাকে শুদ্ধ তুলে আনবো। ”

রুদ্র এগিয়ে এসে বলে,

“ এখন থেকেই ট্রেনিং দে। ”

“ হুম...ভবিষ্যতে তোর মেয়ে নিয়ে ভাগবে। ”

“ মেয়ে দিবো নাহ। "

“ আমাদের বাড়ির মেয়ে নিতে পারবি আর দিতে পারবি না। না দিলে তুলে আনবো,হুহ। ”

“ একটা দিছি। ”

“ আরও দিবি। ”

এই ইউভির কথার সাথে রুদ্র পারবে না। কাজ থাকায় চলে গেল।

~~~~~~~~~~

পুরো ঘরময় এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানান রকম খেলনা। কিছুক্ষণ আগেই আইলিন যত্ন করে সব গুছিয়ে রেখেছিল। ছাদ থেকে শুকনো কাপড় এনে রুমে ঢুকতেই আবারও সেই একই অবস্থা দেখে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তবে ছেলে-মেয়ে দুটোকে ইচ্ছে করলেও ধমক দিতে পারে না, আর তার সবচেয়ে বড় কারণ ত্রিয়াশ। বাচ্চারা সামান্য কিছু করলেই ত্রিয়াশ উল্টো তাদের পক্ষ নিয়ে আদর করতে শুরু করে।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ছয়টা মাস। ছোট্ট আইয়াশের এখন ছয় মাস চলছে। আইয়াশ আর ত্রিয়া দুজনই যেন পুরোপুরি তাদের বাবার কপি। মায়াভরা নিষ্পাপ মুখ দুটো দেখলে আইলিনের সমস্ত ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর হয়ে যায়। মাঝে মাঝে সে অবাক হয়ে ভাবে, এই বাচ্চা দুটো সত্যিই কি তার পেট থেকে হয়েছে? চেহারা, গায়ের রঙ কোনোটাতেই তো তার ছাপ নেই। শুধু হাসিটাই যেন একদম তার মতো পেয়েছে। টোল পড়া হাসি আর সেই হাসিই আইলিনের হৃদয়টা বারবার ভালোবাসায় ভরিয়ে তোলে।

আইলিন শুকনো কাপড় গুলো ভাজ করতে বসে। মায়ের সঙ্গে ত্রিয়াও যোগ দেয়, এদিকে ছোট্ট আইয়াশকে খাটের মাঝখানে বসিয়ে রাখছে চারপাশে বালিশ দিয়ে। ত্রিয়ার এখন বুদ্ধি হয়েছে তাই তো মায়ের যেকোন কাজেই হাত লাগায়। ত্রিয়া তার বাবাকেও অনেক ভালোবাসে, এই তো সপ্তাহ খানেক আগে ত্রিয়াশ অফিসের কাজের জন্য লন্ডন যাবে। সেখানে ত্রিয়াও বায়না ধরে সে যাবে পাপাকে একা ছাড়বে না। ত্রিয়াশ মেয়ের কান্ডে হেসে ফেলে, মেয়ের জেদ বায়নার কাছে হাড় মেনে তাকে সাথে করে লন্ডন নিয়ে ঘুরে আসে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে মাত্র বাসায় ফিরেছে ত্রিয়াশ। বাসায় ঢুকতেই ছেলে মেয়ে কেনত্রিয়াশ হাসিমুখে তাদের আদর করে নেয়।

অন্যদিকে আইলিন মুখ গোমড়া করে খাটের একপাশে বসে আছে। আজকাল ত্রিয়াশ যেন বাসায় ফিরেও তাকে ঠিকমতো খেয়ালই করে না। সব মনোযোগ যেন বাচ্চাদের দিকেই। বুকের ভেতরটা কেমন অভিমানে ভারী হয়ে আছে তার।

গোমড়া মুখেই উঠে চলে যেতে নেয় আইলিন। ঠিক তখনই ত্রিয়াশ হঠাৎ তার হাত টেনে নিজের কাছে এনে ফেলে। আচমকা এমন টানে আইলিন হকচকিয়ে যায়। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বিরক্ত গলায় বলে,

“ সরে যান , আগে ফ্রেশ হয়ে আসুন।”

কিন্তু ত্রিয়াশ তাকে আরও শক্ত করে হাত ধরে। তারপর একবার বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে,

“আমার পাখিরা, ম্যাজিক দেখতে চাইলে চোখ বন্ধ করো।”

সঙ্গে সঙ্গে ত্রিয়া দু’হাত দিয়ে নিজের চোখ চেপে ধরে। ছোট্ট আইয়াশও বোনকে দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলে।

সুযোগ বুঝে ত্রিয়াশ ঝুঁকে টুপটাপ করে আইলিনের ঠোঁটে কয়েকটা চুমু এঁকে দেয়। মুহূর্তেই হতভম্ব হয়ে যায় আইলিন। লজ্জা, বিস্ময় আর অভিমানের মিশ্র অনুভূতিতে সে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

এরপর ত্রিয়াশ মুচকি হেসে বলে,

“আচ্ছা, এবার চোখ খোলো।”

চোখ খুলতেই ত্রিয়ার সামনে বড় একটা ক্যাডবেরি চকোলেট। আনন্দে ছোট্ট মেয়েটার চোখ চকচক করে ওঠে। খুশিতে লাফিয়ে উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে । ত্রিয়ার হাসি দেখে ছোট্ট আইয়াশও খিলখিল করে হেসে ওঠে।

এই সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে ঝুম বৃষ্টি নামল। বৃষ্টি আইলিনের ভীষণ প্রিয়। সংসার জীবনে পা রাখার পর এই বৃষ্টিতে তার খুব একটা ভেজা হয়নি, শুধু স্মৃতির ভেতরেই জমে ছিল কিছু মুহূর্ত। একবার ত্রিয়াশের সাথে বৃষ্টিতে ভেজার সেই দিনটা আজও তার মনে স্পষ্ট।

আইলিন পা বাড়িয়ে বেলকনির দিকে এগিয়ে যায়। ভিজতে না গেলেও বৃষ্টিকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে তার ভেতরে দোলা দেয়। গ্রিলের পাশে এসে দাঁড়াতেই ঠান্ডা বাতাস আর বৃষ্টির ছিটে এসে গায়ে লাগে। অনেকটা সময় পর সে যেন নিজের ছোট্ট একান্ত পৃথিবীতে ফিরে আসে।

সময় গড়িয়ে গেছে। সবাই এখন নিজের সংসার আর ব্যস্ত জীবনে ডুবে গেছে। আইলিনও দুই সন্তান নিয়ে নিজের ছোট্ট সুন্দর সংসার গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকে সারাদিন। কিন্তু এই মুহূর্তটা যেন তার জন্য আলাদা।

হঠাৎ পেছন থেকে ত্রিয়াশ আসে। কোলে ছোট আইয়াশ, আর এক হাত ধরে আছে ত্রিয়া। শান্তভাবে এসে সে বেলকনিতে দাঁড়ায়। তারপর আইয়াশকে আলতো করে আইলিনের কোলে দিয়ে দেয়, আর ত্রিয়াকে নিজের কোলে তুলে নেয়। মুহূর্তটা যেন ছোট্ট এক টুকরো ভালোবাসায় ভরে ওঠলো।

ত্রিয়াশ গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ছুঁয়ে দেখে। ঠান্ডা পানির স্পর্শে সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে, তারপর নিচু স্বরে আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলে,

“আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফিআ।”

বৃষ্টির পানিতে হাত রেখেই বলল,

“তুমি আমার হৃদয়ের তিন কবুলের পূর্ণতা, আমার জীবনের সবচেয়ে মিষ্টি অধ্যায় তুমি। তুমি

আমার ভালোবাসার সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা।

তোমার সঙ্গেই কাটাতে চাই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই জীবন, আমাদের সন্তানদের জন্য হতে চাই সেরা এক বাবা। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তোমাকেই পাশে চাই,

বৃদ্ধ বয়সের শেষ চৈত্রের বিকেলে তোমার হাত ধরে হাঁটতে চাই। এই দোয়াই করি—চিরকাল তুমি থাকো আমার হয়ে, আমি তোমার হয়ে। ”

আইয়াশ আর ত্রিয়া বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাসে ঘুমিয়ে গেছে। আইলিন ত্রিয়াশের কথা গুলো মন দিয়ে শুনলো। ত্রিয়াশের একটু কাছে এসে বুকে মাথা রেখে বলল,

“ম'রণের পর আবারও যদি জীবন পাই, সেই জীবনেও শুধু তোমাকেই চাই। তুমি আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা।”

ঠান্ডা পরিবেশে দু’জন এভাবেই নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো, হৃদয়ে একরাশ ভালোবাসার স্বপ্ন নিয়ে।

চারপাশের বৃষ্টির শব্দ যেন তাদের অনুভূতিগুলোকে আরও গভীর করে তুলছিল।

চোখে ছিল আমৃত্যু পথ চলার অগণিত সুন্দর আগামী দিনের আশা। ভালোবাসার এই বন্ধন থাকুক সারাজীবন জুড়ে ঠিক একইরকম উষ্ণ ও মায়াময়।

তাদের প্রতিটি পথ হোক সুখে ভরা, আর প্রতিটি মুহূর্ত হোক শান্তি ও ভালোবাসাময়।

~সমাপ্ত~

[ ২রা ডিসেম্বর ২০২৫ গুটি গুটি করে শুরু হয়েছিল #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া র পথচলা।

দীর্ঘ ৫ মাস ২০ দিনের অনুভূতি আর ভালোবাসার এই গল্প আজ ২২শে মে ২০২৬ সমাপ্তি পেল।

এই পুরো যাত্রায় পাশে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। #অজান্তে_বাঁধা_অনুভূতি খুব শীগ্রই দেওয়া হবে। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন