ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ের অঙ্গিকার

১ম পর্ব

লেখক: মুক্তি আক্তার শ্রাবন্তী

#হৃদয়ের_অঙ্গিকার

#মুক্তি_আক্তার_শ্রাবন্তী
#পর্ব_০১
আব্বু আমি বিয়া করমু না, তুমি আমারে ওই খচ্চর বেডার লগে বিয়া দিও না।
আমি কিছু জানি না মা, তোর আম্মু বলছে এই বিয়ে হবে।
তুমি আমার খবিশ বাপ, বউকে ভয় পেতে লজ্জা করে না?
না রে মা লজ্জা করে না বিশ্বাস কর।
সব গুলা মির্জাফরের বংশধর। এই যাও তো তুমি তোমার বউয়ের আচলের নিচে গিয়ে বসে থাকো।
মেহরিমার কথা শুনে হেলতে দুলতে চলে গেলেন আশরাফ দেওয়ান। তার এমন একটা ভাব যেনো সে বউ কে ভয় পায় বলে বেশ গর্ব হয় তার। তাকে এমন করে চলে যেতে দেখে মেহরিমার ইচ্ছে করছে ফ্লোরে হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদতে।
"মেহরিমা দেওয়ান" দেওয়ান বাড়ির বড় মেয়ে। বয়স সবে মাত্র ১৯ বছর। সবে মাত্রই ভার্সিটি তে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাবা আশরাফ দেওয়ান। তিনি একজন ব্যাংকের ম্যানেজার পোস্টে আছে। আর মা তাসলিমা দেওয়ান, তিনি একজন গৃহিনী। "মেহের দেওয়ান" দেওয়ান বাড়ির ছোট মেয়ে। বয়স ১৫ বছর, এবার এসএসসি দিবে। 
মেহরিমা কাল পর্যন্ত বিয়ের জন্য রাজী ছিলো। কারন তার ছোট বোন বলেছে ছেলে অনেক হ্যান্ডসাম, টল, একদম বিদেশি দের মতো। এতো সব বর্ণনা শুনে মেহরিমা বিয়ের জন্য রাজি হয়। কিন্তু আজ সকালে যখন জানলো ছেলে আর কেউ না তার ভার্সিটির বাংলা প্রফেসর "আদনান মল্লিক" তখন থেকেই সে মর্জি ধরে সে এই লোককে কিছুতেই বিয়ে করবে না।
প্রথম কথা, তিনি মেহরিমার শিক্ষক। তাই শিক্ষক কে সে কখনোই বিয়ে করবে না। আর দ্বিতীয় কথা, এই লোক তাকে কারনে-অকারনে অপমান করে। সেজন্য মেহরিমা তাকে দেখতে পারে না। তাই মেহরিমা তার মতো খচ্চর লোক কে সে বিয়ে করবে না। কিন্তু তার কথা কেউ মানতে নারাজ। মেহরিমার আম্মু অনেক বেশি রাগী মানুষ। সে একবার যা বলবে তাই হবে। তার কথার উপর কেউ কথা বলতে পারে না, এমন কি আশরাফ দেওয়ান ও না। 
আশরাফ দেওয়ান চলে যেতেই মেহরিমা তার বেস্টফ্রেন্ড হিয়া কে কল করে.........
জানটুস আমার সব শেষ হয়ে গেলো?
মেহরিমার হঠাৎ এমন কথায় ভ্যাবাচেকা খেয়া যায় হিয়া। সে কপাল কুঁচকে বলে........
তোর আবার কি শেষ হলো?
মেহরিমা নাক টেনে হেচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে.......
ওই খচ্চরের সাথে আম্মু আমার বিয়ে ঠিক করতে চাইছে।
হিয়া বুজলো না মেহরিমা কার কথা বলছে। সে মেহরিমা কে জিজ্ঞেস করে.........
এই খচ্চর টা আবার কে রে মেহু?
মেহরিমা দাতে দাত চেপে বলে..........
আদনান মল্লিক ওরফে খচ্চর গল্লিফ।
মেহরিমার কথা শুনে হিয়া চেঁচিয়ে বলে.....
কীীীীীী,,,আদনান মল্লিক! মানে আমাদের বাংলা প্রফেসর আদনান মল্লিক স্যার?
হ্যা রে জানটুস,,,
কিন্তু কেমনে কি?
জানি না, শুধু এতটুকুই জানি, ওই খচ্চর আমার আম্মু খালাতো বোনের ছেলে।
তার মানে তোর কাজিন হয়?
ওই আর কি?
কিন্তু তোর আর আদনান স্যারের বয়সে তো ৯ বছরের পার্থক্য।
সেটা আমার আম্মাজান বুজতাছে না।
তাহলে এক কাজ কর তুই স্যারকে সরাসরি বল, তুই স্যার কে বিয়ে করতে চাস না।
ওই খচ্চর কে আমি এখন পাবো কোথায়?
তাহলে তুই ফোন করে সরাসরি বল, আর যদি তাও না মানে তাহলে বলবি তুই আরেক জন কে পছন্দ করিস। আর তোকে যদি স্যার বিয়ে করে তাহলে বিয়ের রাতেই তুই তোর প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাবি।
হিয়ার পরামর্শ মেহরিমার মনে ধরেছে। সে চোখ মুছে হাসি মুখে বলে........
ঠিক বলেছিস, এই ট্রিক টাই এবার এপ্লাই করবো। 
মেহরিমা আর কিছু বলবে তখনি তার আম্মু তার রুমে ডুকতে ডুকতে বলে...........
মেহু, কি সমস্যা তোমার? তুমি নাকি বলেছো এই বিয়ে করতে পারবে না?
মায়ের ডাকে লাফিয়ে উঠে মেহরিমা। ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে। হিয়া তখনো লাইনে, সে ঠোট টিপে হাসে। ফোন না কেটে চুপ করে কানে ধরে রাখে তাদের কথা শুনার জন্য। মেহরিমা ঠোটে মেকি হাসি ঝুলিয়ে বলে........
আস্তাগফিরুল্লাহ্, আম্মু কে বললো তোমাকে এই কথা? আমি এই কথা তো বলিনি। আমি তো আরো বললাম ছেলে পক্ষ কখন আসবে আমাকে দেখতে, আমার রেডি হতে হবে না।
মেয়ের কথায় সন্দিহান চোখে মেয়ের দিকে তাকায় তাসলিমা দেওয়ান। মা কে তার দিকে এভাবে তাকাতে দেখে মেহরিমা দাত কেলিয়ে হাসে। মেয়ে কে এভাবে হাসতে দেখে তাসলিমা দেওয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে........
এভাবে হাসার মতো কিছু হয়নি, বিকেলে ছেলের বাড়ির লোক আসবে রেডি থেকো। দ্বিতীয় বার যেনো বলতে না হয়।
আচ্ছা ঠিক আছে আম্মু, দ্বিতীয় বার বলতে হবে না। তুমি চাইলে আজই বিয়ে করে কাল বাচ্চা পয়দা করে ফেলবো।
বেয়াদব, থাপ্পড়ে দাত ফেলে দিবো।
মায়ের ধমকে আবারো কেঁপে উঠে মেহরিমা। তাসলিমা দেওয়ান মেহরিমা কে আর কিছু বলতে না দিয়ে রুম থেকে চলে যায়। তবে যাওয়ার আগে তার ঠোটে ফুটে উঠে মুচকি হাসি, যেটা মেহরিমার চোখে পরে না। তাসলিমা দেওয়ান চলে যেতেই মেহরিমা ফোন কানে নিতেই শুনতে পায় হিয়ার অট্টহাসি। হিয়া হাসতে হাসতে বলে.......
মেহু তুই আন্টি কে যেই পরিমানের ভয় পাস, তাহলে বিয়ে টা ভাঙ্গবি কিভাবে? আদনান স্যার যেই রাগী, তোকে তো অকারণেই বকে! না জানি বিয়ের পর তোকে কি করে। আচ্ছা তোদের বিয়ের পর কি তোকে আমি ম্যাম বলে ডাকবো?
হিয়ার কথা শুনে মেহরিমা দাতে দাত পিষে চিৎকার করে বলে.........
হিয়ার বাচ্চা তোকে আমি দেখে নিবো,,,
হিয়া নাক-মুখ কুঁচকে বলে........
ছিঃ, তুই মেয়ে হয়ে আমাকে দেখতে চাইছিস? লজ্জা করে না? 
মেহরিমা দাত কিড়মিড় করে ফোন টা কেটে দিলো। তারপর ধপ করে শুয়ে পরলো বিছানায়। সে বার-বার ভাবতে লাগলো আজকে সকালের ঘটনা,,,,
ফ্ল্যাশব্যাক,,,,,
মেহু আপু তোমার বরের ছবি এনেছি দেখো,,,
আজ শুক্রবার হওয়ায় মেহরিমার ভার্সিটি অফ ডে ছিলো। সে রুমে শুয়ে শুয়ে ফোনে রিলস্ দেখছিলো, তখনি তার ছোট বোন মেহের এসে এই কথা বলে। মেহেরের কথা শুনে মেহরিমা তড়িৎবেগে বিছানায় উঠে বসে........
কই দেখি দেখি,,,
বড় বোন কে এমন করতে দেখে মেহের মৃদ হাসে। মেহের ভালো করেই জানে তার বোন কেনো এত বিয়ে পাগল। মেহরিমার ধারনা মতে বিয়ে হলে আর পড়ালেখা করতে হবে না। সারাদিন স্বামী নিয়ে ঘুরবে-ফিরবে, আর রেস্টুরেন্টে খাবে। তার কাছে পড়ালেখার মানে হলো অযথা টাকা খরচ। বরংচো এই টাকা তাকে দিলে, সে শপিং করতে পারে, রেস্টুরেন্টে খেতে পারে। কিন্তু কে শুনে কার কথা! তার কথার কেউ পাত্তা দেয় না। মেহরিমা মেহেরের হাত থেকে টান দিয়ে উৎফুল্লতা নিয়ে ছবিটা দেখতেই তার মাথায় বাজ পরে। সে ছবিটা ফ্লোরে ফেলে দিয়ে দুই হাতে তার দুই কান চেপে ধরো চিৎকার করে বলে..........
নাাাাাাাা,,,এ হতে পারে না! এটা কিছুতেই হতে পারে না। আমার বর এই খচ্চর বেডা কখনোই হতে পারে না।
বোনকে হঠাৎ করে এভাবে চেঁচাতে দেখে মেহের চমকে উঠে "ও মা গো" বলে নিজেও চিল্লিয়ে উঠে। তারপর বোন কে ধমকে বলে...........
এই ছেমড়ি এমনে চিল্লাও কে? একটুর জন্য কলিজা হাতে আসে নাই। বা*ল জামাইয়ের ছবি দেখে এমনে কে চিল্লায়? 
মেহরিমা অসহায় ফেইস করে বোনের দিকে তাকায়........
মেহি সত্যি করে বলতো সোনা বোন আমার, এটাই কি আমার হবু বর?
মেহের কপাট রাগ দেখিয়ে বলে.......
হ্যা, আম্মু এই ছবি দিয়ে বললো,,,তোমাকে দিতে।
তুই জানিস এই বেডা কেডা?
জানবো না কেনো? জানি তো! আম্মুর খালাতো বোনের ছেলে। মানে আমাদের আরেক কাজিন ব্রাদার, আর তোমার সাথে বিয়ে হলে উনি আমার দুলাভাই হবে।
ছেমড়ি সেটা আমিও জানি, তার চেয়ে বড় কথা এই বেডা আমার ভার্সিটির বাংলা প্রফেসর। শালায় আমাকে অকারণে কথা শুনায়। আমি খচ্চর বেডা কে জীবনেও বিয়ে করবো না।
ওকে, সেটা তুমি আম্মু কে বলো। আমি কিছু জানি না।
মেহের কথা টা বলেই চলে যায় রুম থেকে। আর মেহরিমা ধপ করে আবারো বিছানায় শুয়ে পরে হাত-পা ছুড়ে কাঁদতে থাকে।
"আদনান মল্লিক" মল্লিক বাড়ির বড় ছেলে আদনান মল্লিক। পড়ালেখা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর হয়েছে। বয়স ২৮ বছর। দেখতে সুদর্শন, তুলনা মূলক একটু বেশিই ফর্সা, ৬ ফুট লম্বা, সিল্কি চুল, ধূসর কালো চোখের মনি, বলিষ্ঠ দেহের অধিকারি, গুরুগম্ভীর স্বভাবের একজন মানুষ। তার বাবা "শাফায়েত মল্লিক" তার নিজস্ব বিজনেস আছে। আদনান প্রফেসর হওয়ার পাশাপাশি বাবার বিজনেস ও সামলায়। আদনানের মা "হালিমা মল্লিক" তিনি একজন গৃহিনী। আদনানের ছোট বোন "নিদি মল্লিকা"। বয়স ১৭ বছর, এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে আছে। আদনানের চাচ্চু "শরিফ মল্লিক" তিনি তার বড় ভাইয়ের সাথেই বিজনেসে আছে। তার স্ত্রী "কাকলি মল্লিক" তিনিও গৃহিনী। তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে "আনান মল্লিক" আপাতত পড়ালেখা শেষ করে পারিবারিক ব্যবসায় হাত দিয়েছে। তার বয়স ২৬ বছর। সে আদনানের ২ বছরের ছোট। আর "কেয়া মল্লিক" নিদির সম-বয়সী। তাদের বয়সের পার্থক্য কেবল ২ মাসের। সেও নিদির সাথে একই কলেজে পড়ালেখা করছে।
____________
সময় টা বিকেল ৪ টা, ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে সকলে। মেহরিমা তার রুমে শাড়ি পরে বসে বসে দাত দিয়ে নখ খুটছে। তার পাশে বসে আছে মেহের আর সামনে দাড়িয়ে আছে হিয়া। হিয়া কিছুক্ষন আগেই মেহরিমাদের বাড়িতে এসেছে। 
মেহু আগে উনাদের সামনে যা, তারপর যা হবার হবে। আমার বিশ্বাস আদনান স্যার তোকে দেখলেই না করে দিবে। আদনান স্যার হয়তো জানে না পাত্রী তুই। তোকে তো আদনান স্যার দেখতে পারে না, দেখিস এক দেখায় না করে দিবে স্যার।
মেহু দাত বের করে হেসে বলে.......
সত্যি বলছিস জানটুস?
হিয়া তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে.......
হ্যা সত্যি বলছি,,,
আচ্ছা দিয়ান কোথায়? ও আসছে না কেনো?
কোথায় আবার, গিয়ে দেখ হয়তো কোনো মেয়ের পিছে লাইন মারছে।
দিয়ান, মেহরিমা আর হিয়ার আরেক বেস্টফ্রেন্ড। এক কথায় তিন জনের গলায় গলায় ভাব। স্কুল থেকে একসাথে পড়ালেখা করছে তিনজনে। কেউ কাউকে ছাড়া কিছুই বুজে না। দুটো মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করায় দিয়ান কে স্কুল, কলেজে অনেকে অনেক কথা বলতো! কিন্তু দিয়ান, মেহরিমা, হিয়া সেগুলো কে কখনোই পাত্তা দেয়নি। বরং তারা সেই মানুষ গুলো কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলেছে। দিয়ান কে মেহরিমা এবং হিয়া ফ্যামিলির সবাই ছোট থেকেই চিনে, তাকে একদম নিজেদের ছেলের মতো আদর করে। 
মেহরিমা বিছানা হাতরে তার ফোন টা খুঁজে বের করলো। তারপর ডায়াল লিস্টে গিয়ে "হারামি" নামে সেইভ করা নাম্বার টায় কল দেয়.........
ওই হারামি তুই কোথায়, এখনো আসছিস না কেনো? আমার বিয়ের পর বাচ্চা-কাচ্চা হলে পরে আসবি?
মেহরিমার কথায় দিয়ান ফোনের অপাশ থেকে ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলে...........
আরে বাল আসতাছি, তোর হবু বরের সুন্দরী একটা বোন আছে। ওইটারে আমার চাই, তাই আমার আসতেই হবে।
না আমি ওই খচ্চররে বিয়া করমু, আর না তোরে ওই খচ্চরের বোনের লগে প্রেম করতে দিমু।
চেতোস কেন বা*ল?
তুই এখানে আসার আগে খচ্চর বেডার নাম্বার যেখান থেকে পারোস নিয়া আসবি।
আরে চিন্তা করিস না, নাম্বার পেয়ে গেছি।
ওকে, তাড়াতাড়ি আয়!
আসতাছি,,,,,
________________
মেহরিমা মাথা নিচু করে বসে আছে একটা সোফায়। তার পিছে দাড়িয়ে আছে হিয়া, দিয়ান আর মেহের। মেহরিমা আড়চোখে বার-বার কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে খুঁজলো, কিন্তু পেলো না। এতে সে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে। মেহরিমার সামনে বসে আছে আদনানের বাবা-মা "শাফায়েত মলিক" "হালিমা মল্লিক",,, কাকা-কাকি "শরিফ মল্লিক" "কাকলি মল্লিক"। আদনানের বোন "নিদি মল্লিক" আর আদনানের চাচাতো বোন "কেয়া মল্লিক"। আদনান আর আনান দুজনের একজনও আসেনি। 
তাসলিমা দেওয়ান তার খালাতো বোন হালিমা মল্লিক আর কাকলি মল্লিকের সাথে খোশ গল্পে মেতেছে। এইদিকে আশরাফ দেওয়ান, শাফায়েত মল্লিক, আর শরিফ মল্লিক বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছে। অপরদিকে নিদি আর কেয়া মেহেরিমার সাথে কথা বলছে। তারা দুইজন মেহরিমা কে নানান কথা বলছে, আর মেহরিমা শুধু হাসি মুখে উত্তর দিচ্ছে। তার এসব অসহ্য লাগছে। আর এইদিকে দিয়ান হা করে তাকিয়ে আছে নিদি আর কেয়ার দিকে। হিয়া দাত দিয়ে নখ খুঁটছে আর তাদের কথোপকথন শুনছে। হঠাৎ হিয়ার চোখ যায় দিয়ানের দিকে। সে ভ্রু কুঁচকে দিয়ানের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকাতেই যা বুজার বুজে গেছে। সে দাতে দাত পিষে দিয়ানের পেটে কনুই দিয়ে গুঁতো মারে। এতে দিয়ান "আহহ্" করে উঠে। সবাই দৃষ্টি ঘুড়িয়ে তার দিকে তাকালে, সে দাত কেলিয়ে হেসে বলে..........
পিপড়া কামড়েছে, ব্যাপার না আপনারা কন্টিনিউ করুন।
সবাই আবার কথা শুরু করে। আর দিয়ান চোখ রাঙ্গিয়ে হিয়া কে ফিসফিস করে বলে.......
ষাঁড়ের মতো গুতা দিলি কেন?
হিয়া নাক-মুখ কুঁচকে ফিসফিস করে বলে........
কই মেহুর বিয়ে ভাঙ্গার ব্যবস্থা করবি, তা না তুই মেয়ে দেখছিস শালা।
আরে দূর তুই চিন্তা করছিস কেনো? আদনান স্যার মেহুর কথা জানলেই বিয়ে ক্যান্সেল করবে। আমি যতদূর জানি, এই বিয়ের ব্যাপারে আদনান স্যার কিছুই জানে না।
তুই জানলি কিভাবে?
আরে আমার আনান ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে। আনান ভাইয়ার সাথে আমি পূর্বপরিচিত হওয়ায় এখানে আসার আগেই তার কাছে কথায় কথায় জানতে চেয়েছিলাম। তখন উনি বললো, আদনান স্যার কে না জানিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করছে। কারন আদনান স্যার নাকি বিয়ে করতে চায় না।
দিয়ানের কথা শুনে হিয়া সন্দিহান কন্ঠে বলে.......
বিয়ে করতে চায় না মানে? এক মিনিট, উনার কি কোনো শারীরিক প্রবেলম আছে, যার জন্য বিয়ে করতে চা না।
কথা টা বলেই হিয়া মুখে হাত চাপা দেয়। দিয়ান হিয়ার কান্ড দেখে বিরক্তি নিয়ে বলে........
বা*ল এমন কিছুই না। সে আরো পরে বিয়ে করতে চায়। 
ওহহ্ তাই বল, আচ্ছা স্যারের বয়স কত?
২৮+ হবে মেইবি,,,
ও মাগো, এই বেডা তাহলে আর কবে বিয়ে করবে? বুড়ো বয়সে বিয়ে করলো বাচ্চা পয়দা করবে কখন?
সেটা তুই গিয়ে স্যার কে জিজ্ঞেস কর।
দিয়ানের কথা শুনে হিয়া মুখ ভেঙ্গছি কাটে। তখনি শুনা শাফায়েত মল্লিকের কন্ঠ। তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলে.........
তাহলে বিয়ে আগামী মাসে হবে। আর ডেট টা আমি আমার ছেলের সাথে কথা বলে জানিয়ে দিবো। মেহরিমা মামনি কে আমাদের বেশ পছন্দ হয়েছে। তাহলে কথা এটাই রইলো, আজ আমরা আসি। আদনানের সাথে কথা বলে আমরা ডেট জানিয়ে দিবো।
তার কথায় সহমত পোষন করে আশরাফ দেওয়ান বলে.........
ঠিক আছে ভাইজান, আপনারা যা বলবেন তাই হবে। 
ঠিক আছে ভাই, আজ আসি তাহলে।
তারপর সবাই একে একে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আর মেহরিমা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে শাড়ি দুই হাতে ধরে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়। তাকে এভাবে যেতে দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারপর তার পিছু পিছু হিয়া, দিয়ান, আর মেহের ও চলে যায়। 
মেহু কি হয়েছে তোর, এভাবে চলে আসলি কেনো? দরজা খোল, পাগলামি করিস না সোনা।
তৎক্ষণাৎ রুমে ভেতর থেকে ভেসে আসলো মেহরিমার কণ্ঠস্বর..........
আরে বা*ল শাড়ি পরে থাকতে থাকতে শরীর খুটখুট করছিলো, তাই শাড়ি পাল্টাতে রুমে এসেছি। হিয়ার বাচ্চা তুই উল্টা-পাল্টা ভাবিস কেন?
মেহরিমার কথায় থতমত খেয়ে গেলো তারা তিনজনই। আর নিচে দাড়িয়ে থাকা আশরাফ দেওয়ান আর তাসলিমা দেওয়ান মেয়ের কথা শুনে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে। তারা ভেবেছিলো এত তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য মেয়েটা এমন কষ্ট পেয়ে দৌড়ে চলে গেছে। তাসলিমা দেওয়ান কোনো বাক্যব্যয় না করে কিচেনে চলে যায়, আর আশরাফ দেওয়ান তার দিকে এক পলক তাকিয়ে নিজেও রুমে চলে যায়।
প্রায় ১০ মিনিট পর মেহরিমা রুমে দরজা খুলে। আর দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে রুমে ডুকে হিয়া, দিয়ান, মেহের। মেহরিমা গিয়ে বসে তার রুমে রাখা সোফায়, আর বাকি বিছানায় বসে। তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। 
মেহু আপু, এখন কি করবে? বিয়ে তো ঠিক হয়ে গেলো।
মেহেরের কথায় মেহরিমা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে দিয়ান কে বলে.........
নাম্বার টা দে ভাই,,,
দিয়ান মেহরিমার কথা মতো আদনানের নাম্বার দিয়ে দেয়। মেহরিমা তার ফোনে নাম্বার তুলে কল দেয়। দুইবার রিং হতেই কল রিসিভ হয়, আর সবাই উৎসুক হয়ে ফোনের দিকে তাকায়। মেহরিমা ফোনে লাউড স্পিকার দেয়........
আসসালামু ওয়ালাইকুম,,,
ওয়ালাইকু সালাম,,,কে আপনি?
আদনানের কণ্ঠস্বর শুনে আতকে উঠে মেহরিমা। শুকনো ঢোক গিলে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় সামনে বসে থাকা হিয়া, দিয়ান, আর মেহেরের দিকে। হিয়া তারা দিয়ে আস্তে করে বলে........
কথা বল, না হলে ঝামেলা হবে।
মেহরিমা আবারো ঢোক গিলে বলে..........
আমি কে আপনি চিনবেন না, কিন্তু আপনাকে আমার কিছু কথা বলার আছে?
অপরপাশ থেকে ভেসে আসলো ভারী কণ্ঠস্বর.........
জ্বী বলুন, কি বলবেন?
মেহরিমা আমতা আমতা করে বলে........
আপনি কোথায় আছেন?
সাথে সাথে অপর পাশ থেকে আদনান বলে........
সে কথা আপনাকে বলতে আমি বাধ্য নই, যা বলতে চান তাড়াতাড়ি বলুন, আমার কাজ আছে।
আচ্ছা আপনি তো আদনান মল্লিক?
জ্বী,,,
আচ্ছা চলুন যা বলার সরাসরি বলি,,,আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। আপনার ফ্যামিলি আপনাকে আমার কথা বললে, বলবেন আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না। আপনার আমাকে পছন্দ না, ওকে?
ও আচ্ছা আপনাকেই আজ আমার ফ্যামিলি থেকে দেখতে গিয়েছিলো? আর আমি এই কথা গুলো আমার ফ্যামিলি কে বলতে যাবো কেনো? আম্মুর মুখে আপনার বর্ণনা শুনে তো আমার কাছে বেশ লেগেছে। আমি তো রাজি আছি এই বিয়ে করতে।
আদনানের কথা শুনে তারা চারজনেই হতভম্ব হয়ে একে অপরের দিকে তাকায়। দিয়ান ঝুকে মেহরিমার কানে কানে বলে........
মেহু তুই জিজ্ঞেস কর,,উনি তোকে চিনে নাকি?
মেহরিমা দিয়ানের কথা মতো আদনান কে জিজ্ঞেস করে.........
আপনি আমাকে চিনেন?
তৎক্ষণাৎ ফোনের অপাশ থেকে আদনানের উত্তর এলো..........
না চিনি না, তবে বিয়ে হলে চিনে নিবো। 
দেখুন, আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। আপনি প্লিজ এই বিয়ে টা ভেঙ্গে দিন।
আমার পক্ষে সম্ভব না, আমার ফ্যামিলির সবার আপনাকে পছন্দ হয়েছে! এমন কি আপনার বর্ণনা শুনে আমারো ভালো লেগেছে। তাই আমি তো বিয়ে তে রাজি, এবার আপনি রাজি না থাকলে আপনার ফ্যামিলি কে আপনি জানান। আমি বিয়ে তে রাজি আছি, তাই এসব কথা আমি আমার ফ্যামিলি কে বলতে পারবো না। আম স্যারি,,, 
মেহরিমার এবার খুব রাগ লাগলো। এ তো ভেবেছিলো আদনান বিয়ে করতে চায় না, আর এটা দিয়ান ও বলেছিলো! তাহলে আদনান এখন বিয়ের কথা বলছে কেনো? মেহরিমা কটমট করে দিয়ানের দিকে তাকিয়ে খেঁকিয়ে আদনান কে বলে.........
লজ্জা করে না আপনার মেয়ের বয়সী মেয়ে কে বিয়ে করতে রাজি হতে? আপনি সময় মতো বিয়ে করলে আজ আপনার আমার মতো চার-পাচটা গেদা-গেদি থাকতো। কিন্তু আপনি তো তা না করে, বরং গেদির বয়সী একটা মেয়ে বিয়ে করতে চাইছেন! অসভ্য, লুচ্চু, লোক একটা। আপনার সাথে আমার বিয়ে হলে আমি বিয়ের দিন রাতেই পালাবো আমার প্রেমিকের সাথে।
কথা গুলো বলেই মেহরিমা ফোন টা কেটে দিয়ে রাগে ফুঁসতে থাকে। আর এইদিকে হিয়া, দিয়ান, মেহের চোখ গুলো রসগোল্লা মত বড় বড় করে তাকিয়ে আছে মেহরিমা দিকে। তারা মনে মনে একটা কথাই ভাবছে,, আদনান যদি একবার জানে এই কথা গুলো মেহরিমা বলেছে, তাহলে মেহরিমার কপালে শনি আছে।
চলবে....................

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন