#প্রণয়ে_খলনায়ক - [০৯]
লাবিবা ওয়াহিদ
[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]
মোহ চোখ-মুখ কুঁচকে ইরতেজার শার্টের দিকে তাকিয়ে আছে। সে একবার ভেবেছে ফেলে দিবে শার্টটা। কিন্তু ইরতেজা তাকে সাবধান করেছে,
--"আমার জন্য এক দুইটা শার্ট নষ্ট হওয়া কোনো ব্যাপার না। কিন্তু তুমি এই ইরতেজার ওপর বমি করে ভালো করোনি সুইটহার্ট। তাই তুমি যেটা ডিজার্ভ করো, সেটাই বলছি— সুন্দর করে এটা ওয়াশ করে আমার কাছে আনবে সিম্পল।"
--"আমি কেন আপনার কথা শুনতে যাব?"
ইরতেজা কিছু একটা মনে করার ভান করে বলল,
--"তুমি নাকি দাদাকে কন্ডিশন দিয়েছ, তোমার আমার বিয়ের ব্যাপারে যেন কেউ না জানে?"
মোহ চমকে গিয়েছিল ইরতেজার কথায়। ইরতেজা তখন তার দিকে ঝুঁকে বলেছিল,
--"আমার এটা পাবলিক করতে সমস্যা নেই। তবে তোমার বয়ফ্রেন্ডদের জন্য সমস্যা হতে পারে।"
মোহ জানে এটা তার জন্য কোনো থ্রেট না। তারা বিয়ে করেছে, কোনো অপরাধ নয়। তবুও মোহর কোথাও একটা ভীষণ অস্বস্তি তাদের এই বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে। তার লাগেই না সে বিবাহিত, কেউ কখনো সেভাবে অনুভবই করায়নি। আর রইলো ইরতেজার কথা, সে যে বিয়ের কথা মনে রেখেছে এটাই চরম আশ্চর্যের বিষয়। তাও সে চায় না এই বিয়েটা প্রকাশ পাক, ভার্সিটি গিয়ে টের পেয়েছে কী পরিমাণ পাগলামি হয় ইরতেজাকে নিয়ে, তার আশেপাশে।
মোহ শুয়ে শুয়ে শার্টের দিকে চেয়ে আকাশ পাতাল ভাবল। এরপর আচমকা তার নিজের সেই সাদা টপসটার কথা মনে পড়ল। সে চট করে উঠে বসল। টপসটা আজও ওয়াশ করেনি সে, ব্যাগে ভরে আলাদা করে রেখেছে। সে কী মনে করে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করল। ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখল রাদিন গাল ফুলিয়ে মোহর বিছানায় বসা। রাদিন বলল,
--"উফ এলাচি আপু, জামা বদলাতেই এত দেরী লাগে আর সাজতে তো আরও দেরী করবা।"
মোহ ভ্রু কুঁচকে বলল,
--"একদম তৈরি হয়ে ফিটফাট হয়ে বসে আছিস কেন?"
রাদিন এক গাল হাসল। বলল,
--"আমি দেখেছি তুমি জামা নিয়ে বাথরুমে ঢুকছ, এজন্য আমিও তৈরি হয়ে এসেছি তোমার সাথে বের হওয়ার জন্য।"
--"মানে কী? তুই আমার সাথে আসবি কেন? আমি কাজে যাচ্ছি।"
--"তুমি কাজে গেলেও আমিও তোমার সাথে কাজেই যাব, আমার কোনো সমস্যা নেই।"
--"চুপ করে পড়তে বস। তুই কোথাও যাচ্ছিস না!"
এর মাঝে মৌরি মেসেজ করল, সে মোহর সাথে একটা রেস্টুরেন্ট যেতে চায়। মোহ সম্মতি জানিয়ে দিল। কিন্তু রাদিন একদম ফ্লোরে গা এলিয়েছে প্রবল জেদে, তার একটাই কথা সে মোহর সাথে যাবেই। নীলিমা এসে দেখলেন এসব, দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ছেলেটা এত ধূর্ত আর পাজি যে কী জন্য হয়েছে। তাদের বংশে এমন ফাজিল ছেলে কখনো ছিলই না। সবকিছুতে বাড়াবাড়ি পর্যায়ের জেদ আর দুষ্টুমি। নীলিমা হাল ছেড়ে বললেন,
--"নিয়ে যা ওকে।"
মোহ অসহায় চোখে তাকাল মায়ের দিকে। রাদিন মোহর চোখের ভাষা টের পেতেই চট করে উঠে দাঁড়াল। নিজের নতুন শার্ট প্যান্ট ঝাড়ার ভঙ্গি করে বলল,
--"রাজি হলে শুরুতেই হতা, শুধু শুধু আমার এত প্রিয় প্যান্ট-শার্ট পরে ফ্লোরে গড়াগড়ি করতে হয়েছে!"
নীলিমা চোখ রাঙানি দিলেন ছেলেকে, কী অসগ্য এই ছেলে। মুহূর্তের মধ্যেই পলটি নিয়েছে। মোহর হাত ধরে বলল,
--"চলো আপু, দেরী হচ্ছে।"
বলেই মোহকে টানতে লাগল। মোহ কোনো রকমে রেডি হয়ে টপসের ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। রাদিন তো সেই খুশি বোনের সাথে বের হতে পেরে। এখন সময়টা সন্ধ্যার পরপর। নীলিমা এই সময়ে মেয়েকে বের হতে না দিলেও বুরহান সাহেবের নির্দেশ, মেয়েকে কোনো কিছু নিয়ে জোরাজুরি করা যাবে না। কোথাও যাওয়া আসা নিয়ে তো একদমই না। নীলিমা আজ অবধি বুঝেননি তার শ্বশুরের কীর্তিগুলো। তবে আরিভ ধারণা করছেন মোহর সমস্ত চলাফেরার ওপর বুরহান সাহেব সবসময় নজরে রাখেন— সবার অগোচরে। মোহও সম্ভবত আজ অবধি বুঝতে পারেনি।
রাদিন তো বেশ খুশি এতদিন পর মোহর সাথে বের হতে পেরে। মোহ সবসময় তার থেকে লুকিয়ে বের হয়, রাদিন একবার তাকে ধরতে পারলে খপ করে ধরে, ঠিক আজকের মতোই। মোহ রাদিনকে নিয়ে সিএনজিতে উঠে তৈমুরকে কল দিল। তৈমুর কল রিসিভ করে বলল,
--"ডেটে আছি, পরে কথা বলি। কলে কথা বললে তোর ভাবী রাগ করে।"
--"কত নাম্বার ভাবী?"
--"আর ইউ ফুল আড়াচি? এটা ওর সামনে বলার মতো?"
মোহ হেসে ফেলল। বলল,
--"তোমার সাথে জরুরি কাজ আছে আমার।"
তৈমুর মোহর কথা না শুনেই খট করে কল কেটে দিল। মোহ অবাক হয়ে ফোনের দিকে শুধু তাকিয়ে রয়। ওরা পৌঁছায় মৌরির বলা রেস্টুরেন্টে। এই রেস্টুরেন্টটা রুফটপে, খুব সুন্দর ডেকোরেশন। মোহ আশপাশ ঘুরে মৌরির সাথে বসতেই চেনা-পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পেল মাইকে। মোহ চমকে স্টেজের দিকে তাকাল। লাইভ কনসার্টে ইরতেজা আর স্বচ্ছ। মোহ চোখ গরম করে তাকাল মৌরির দিকে। মৌরিও অবাক হয় ইরতেজাকে এখানে দেখে। মোহ দ্রুত নিজের মাথায় ওড়না জড়িয়ে গলা খাদে নামিয়ে বলল,
--"এই মেয়ে, এখানে এসব কী?"
মৌরি শুধু ওদের দুজনকেই না, নিহিনকেও দেখতে পেল। তার ভেতরটা যেন ঢিপঢিপ করছে ভয়ে। এমনিতেই ভার্সিটিতে যেই হারে র্যাগ দেয় এরা, তার উপর বসেছেও এদের মুখের সামনে। যদিও তারা অনেকটা দূরে বসেছে। মৌরি নিজের ভয় চেপে বলল,
--"আমি সত্যিই জানতাম না দোস্ত। বিশ্বাস কর।"
রাদিন তখন মোহর ফোন দেখতে ব্যস্ত। মোহ বলল,
--"চল এখান থেকে উঠি।"
মৌরির মুখ শুকিয়ে গেল, "খাবার তো অর্ডার করে দিয়েছি।"
মোহ চুপ মেরে গেল, আর যাই হোক— খাবার অর্ডার দিয়ে না খেয়েই সে যেতে পারে না। কিন্তু এই মুহূর্তে তার বড়ো ভয় তার পাশে বসে থাকা রাদিন। এই ছেলে যদি একবার টের পায় ইরতেজা এখানে গান গাইছে, কিংবা ইরতেজাকে চিনতে পারে, মোহ শেষ। এই ছেলে ডেঞ্জারাস। মোহ রাদিনকে দেখিয়ে দিয়ে বলল,
--"এই ছেলে যদি একবার জানতে পারে ইরতেজা এখানে, ও নিজে মুখে মাইক চেপে ঢোল পিটাবে "এলাচি ইরতিজা দুলাভাইয়ের বউ"।"
মৌরি শুকনো ঢোঁক গিলল।
--"এতে এত ভয় পাওয়ার কী আছে?"
--"রাদিন মানেই ভয়, এই ছেলে ঠিক কী কী করবে তুই ভাবতে পারবি না।"
তাদের ভয়ই সত্যি হলো। রাদিন ইরতেজাকে দেখতেই মোহর ফোন ফেলেই চলে গেল। মোহও তার পেছন পেছন ছুটল। মৌরি উঠতে গিয়েও পারল না, খাবার চলে এসেছে। রাদিন স্টেজের সামনে গিয়ে কোমরে হাত গুঁজে বলল,
--"এই, আমিও গান গাইব। আমাকেও গাইতে দাও।"
ইরতেজা তার গিটারে সুর তোলা বন্ধ করে দেয় আচমকা মোহ এবং রাদিনকে দেখে। মোহ রাদিনকে টেনেও এক চুল নাড়াতে পারল না। ইরতেজা ভ্রু কুঁচকে বলল,
--"গাইতে চাও?"
রাদিন অনুমতি না নিয়েই স্বচ্ছের হাত থেকে মাইকটা নিয়ে নিল, মাইক হাতে নিয়ে সবার উদ্দেশে বলল,
--"আমি এখন আপনাদের উদ্দেশে একটা গান গাইব, কারণ আমি অনেক রিকুয়েষ্ট পেয়েছি। আমি আবার কেউ রিকুয়েষ্ট করলে না রেখে থাকতে পারি না।"
দর্শক মহলে সবার হেসে ফেলল। মোহর ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে এই ছেলের কাণ্ডে। সে এখনো চোখ গরম করে রাদিনকে স্টেজ থেকে নামতে বলছে। ইরতেজা মোহ আর রাদিনকে একসাথে দেখছে। রাদিন মুখের সামনে মাইক চেপেই বলল,
--"তুমি আমাকে গান গাইতে না করছ কেন? তুমি যে বাথরুমে গান গাও তখন ত আমি মানা করি না।"
দর্শকদের মধ্যে হাসির ঝড়। শেষ, মোহর যতটুকু মান-সম্মান ছিল সেসবও এই ছেলে মেরে দিল। মোহর গাল, কান লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। ইরতেজা মোহর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
--"বাথরুম সিঙ্গার, হুঁ?"
মোহ চুপ করে স্টেজের একপাশে গিয়ে দাঁড়াল। সে ইরতেজার কথাটা শুনতে পেরেছে কিন্তু লজ্জায় ইরতেজার দিকে তাকাতে অবধি পারল না। রাদিনকেও আর কোনো কিছুতে নিষেধ করল না, এই ছেলে মুখ খুলবে মানেই নিজেকে ইজ্জত হরণ নিজে করা। আর কী কী যে এর পেটে আছে আল্লাহ মালুম।
ইরতেজা তার গিটার বাজাতে লাগল, আর রাদিন গান ধরল,
"চুমকি চলেছে একা পথে,
সঙ্গী হলে দোষ কী তাতে..
হার মেনেছে দিনের আলো
রাগলে তোমায় লাগে আরও ভালো
চুমকি চলেছে একা পথে হেহে"
সবাই তালি দিল। স্বচ্ছ পাশ থেকে বলল,
--"এইটুকুনি ছেলে এসব কী গান গায়?"
ইরতেজা কখনো রাদিনের সাথে মিশেনি, তাই রাদিন কী রকম স্বভাবের সে জানে না। তবে সে যে জীবন-যৌবন ধ্বংস করে দেওয়ার মত ধারালো মরিচ সেটা এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে। সবাই মিলে তখন ওয়ান্স মোর করছে। ইরতেজা মোহর দিকে তাকাতেই দেখল মোহ দূরে গিয়ে ওর বান্ধবীর সাথে বসেছে। মেয়েটার নাম খেয়াল আসছে না তার।
মৌরি তো সেই মজা তুলছে রাদিনের। কী দুষ্টু-মিষ্টি ছেলেটা। এইটুকুনি ছেলের এত তেজ! যখন চুমকি চলেছে গানটা গাইছিল যেন তার কান ফেটে যাচ্ছিল। মোহও মুখে ঝামটা মেরে একটা চিকেন ললিপপে কামড় বসাল। মৌরি তো ঠাট্টা করে বলল,
--"এরা দুলাভাই, শালা কেউ কোনো দিক থেকে কম নয়। আমি ত ভাবছি তোর ভাই বড়ো হলে কত মেয়েকে চরকির মতো ঘুরাবে।"
--"এখনই ঘুরায়।"
--"মানে?"
মোহ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
--"ওর ক্লাসের কিছু মেয়েরা ওকে অনেক পছন্দ করে। ওর সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু রাদিন ওদের এড়িয়ে যায়। এক মেয়ে বেশি ওর গায়ে পড়তে নিলে রাদিন ওকে থাপ্পড় মেরে চুল টেনে দিয়েছে।"
মৌরি বিষম খেল। সে কোনোরকমে চকোলেট শেক দিয়ে গলা ভিজিয়ে বলল,
--"হোয়াট!"
--"হুঁ। ওর নাকি এসব গায়ে পড়া মেয়ে ভালো লাগে না।"
--"কী সাংঘাতিক তোর এই ভাই।"
রাদিন বলল, "আমি চাইনি গান গাইতে। আবারও তোমরাই গাইতে বললে। আচ্ছা এটাই শেষ হ্যাঁ, নয়তো আমার আপু আমার সব খাবার খেয়ে ফেলবে।"
মোহ চোখ পাকিয়ে তাকাল রাদিনের দিকে। মৌরি পাশ থেকে হেসে দিল। রাদিন আরেকটা গান ধরল,
"ভালোবাসব বাসবরে বন্ধু,
তোমায় যতনে।
তোমার ঘরের ঘরে চাঁদের আলো
চুয়ে চুয়ে পড়ে।"
রাদিনের এই গানটা ভীষণ পছন্দ। কিন্তু সে চান্দরে চাঁদ আর চুইয়া কে সবসময় চুয়ে চুয়ে বলে। এজন্য গানটা একটু অন্যরকম শোনায়। দর্শক এবারও হাত তালি দেয় আর হাসে রাদিনের বাচ্চামোতে। ইরতেজা রাদিনের পিঠ চাপড়ে বলল, "গুড জব।"
কাশিফ, নিহিন আর সোবহান নিজেদের সিটে বসে রাদিনের কাণ্ড দেখেছে শুধু। সোবহান অবাক হয়ে বলল,
--"আই কান্ট বিলিভ এটা মোহর ভাই! এটার তো অধরার ভাই হওয়া উচিত ছিল।"
নিহিন বলল,
--"অধরা বাদ দে, এই ছেলে কী পরিমাণে পাকনা সেটা দেখ।"
কাশিফ বলল, "আনবিলিভেবল।"
নিহিন বলল, "আয় ওকে আমাদের র্যাগিং দলে নিয়ে নিই। এ আমাদের চাইতেও ভালো র্যাগিং দিতে পারবে।"
কাশিফ বলল, "তোর এত লো কনফিডেন্ট কেন রে নিহিন?"
--"কী করতাম বল, আফসোস র্যাগিং এ মারপিট নেই। তুই ভাবতে পারবি না আমার হাত-পা ইদানীং কী পরিমাণে জ্বালাতন করে কাউকে ধোলাই দেওয়ার জন্যে।"
--"এবারের প্রেমটা করে ফেল, দেখবি ভূত ছুটে যাবে। মেয়ের সাথে নাকি ডেটে যাচ্ছিস?"
--"হ্যাঁ কালই। দেখা যাক কেমন হয়।"
সোবহান বলল,
--"মেয়ে তো বোধ হয় লাফাচ্ছে গাড়ির মালিকের সাথে ডেটে যাবে ভেবে।"
নিহিন ভাব নিয়ে বলল,
--"কেন নয়, আই এম নিহিন পাটোয়ারী।"
রাদিন দৌড়ে স্টেজ থেকে নেমে খেতে বসে গেল। মোহ ধপ করে তার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বসল। রাদিন না কেঁদে উলটো বিরক্তি দেখিয়ে বলল,
--"আম্মু শিখায় নাই তোমাকে খেতে গেলে কাউক্ব মারতে নেই?"
মোহ চোখ কপালে তুলে বলল,
--"আজ তোকে আমি এখানেই ফেলে যাব। দেখব নে কে তোকে নিয়ে যায়। যখন হিঁজড়ার মুখের পড়বি তখন বুঝবি।"
রাদিন কিছুটা ভড়কে যায়। সে তৃতীয় লিঙ্গদের ভীষণ ভয় পায়। একবার এক হিঁজড়া তার হাত ধরেছিল, রাদিন কেঁদে-কুটে অজ্ঞান। রাদিন কেঁপে উঠে বলল,
--"তুমি না নিয়ে গেলেও ইরতেজা ভাই আমাকে নিয়ে যাবে।"
--"স্বপ্ন দেখতে থাক। আমার খাওয়া শেষ।"
আজ ইরতেজার টাইমও তাড়াতাড়িই শেষ। সে বের হতে নিলে দেখল রাদিন মোহর টপস ধরে রাস্তার ধারে বসে আছে। ইরতেজা কৌতুহলবশত এগিয়ে গেল ওদের দিলে। রাদিন রীতিমতো কাঁদছে। ইরতেজা ভ্রু কুঁচকে বলল,
--"কী হয়েছে?"
রাদিন নাক টেনে বলল,
--"দেখো না ইরতেজা ভাই, ওইযে দূরে হিঁজড়া দাঁড়ানো। আপু বলছে আমাকে এখানে ফেলেই চলে যাবে।"
ইরতেজা ভ্রু কুঁচকাল। ইরতেজার বন্ধুরা অবাক যে ইরতেজা রাদিনের পরিচিত। নিহিন মৌরিকে দেখতে পেতেই ভ্রু নাচাল। মৌরি চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকাল। এতে নিহিন হাসল। মোহ ইরতেজার নজর অবজ্ঞা করে তার হাতে ব্যাগটা দিয়ে দিল। ইরতেজা প্যাকেটে একটা জামা দেখে বলল,
--"এটা কী?"
--"ওয়াশ করে আনবেন।"
--"হোয়াট?"
--"আমি আপনার শার্টে বমি করেছি বলে আপনি আমাকে শার্ট ধুঁতে দিয়েছেন, আপনি আমার জামাতে কফি ফেলেছেন। এর মানে আপনিও আমার ড্রেস ওয়াশ করবেন শোধবোধ।"
--"আর ইউ কিডিং মি?"
--"কেন, আপনিই তো রুলস করেছেন। নিজের রুলস নিজেও মানুন।"
--"ইরতেজা কোনো রুলস মানে না। আমি ধুঁবো তার ড্রেস? ইন ইওর ড্রিম!"
মোহ ইরতেজার কথায় কান দিল না। উলটো রাদিনকে টেনে তুলে বলল,
--"চল আমার সাথে, এবারের মতো মাফ করছি।"
মোহরা চলে গেলেও ইরতেজা ঠায় দাঁড়ানো। নিহিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
--"এই, তুই এই লিটল চিলিকে চিনিস?"
ইরতেজা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
--"ও রাদিন। আমার চাচাতো ভাই।"
--"ওয়েট হোয়াট? এর মানে মোহ তোর কাজিন হয়?"
--"হুঁ।"
কাশিফ মাথায় হাত দিয়ে বলল,
--"এই দলের সবগুলা দেখি কাজিন হয়ে বের হচ্ছে। কিরে?"
চলবে—
বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ম্যালা বড়ো পর্ব দিয়েছি, দ্রুত সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করুন। আমি অপেক্ষায় আছি।