ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

৩য় পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরাণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_৩

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

কোমল ওর জন্য বরাদ্দ কৃত রুমে চলে গেলো। এখন একটা লম্বা শাওয়ার আর ঘুম দরকার।আর তূর্য ওর রুমে।তূর্য রুমে ঢুকে দরজা লাগানোর পূর্বেই ওর কানো ভেসে এলো একটা চিকন মিষ্টি মেয়েলি কন্ঠস্বর ~

~এক্সকিউজ মি!

তূর্য দরজা লাগাতে গিয়েও লাগালো না।

~ইয়েস

~ইয়ে মানে…..

~কি মানে….

~আর ইউ সিঙ্গেল?

হঠাৎ এমন প্রশ্ন করায় ছেলেটা প্রথমে ভরকে গেলো।সাথে একটু ইতস্তত বোধ করলো।এটা আবার কেমন প্রশ্ন? চিনে না জানে না।হুট করে এমন প্রশ্ন করায় একটু ইরেটেটিং ফিল হচ্ছে।ও একটু গলা টা খাকারি দিয়ে উল্টো না বোঝার ভান ধরে প্রশ্ন করলো ~

~সরি?বুঝলাম না। হোয়াট ডু ইউ মিন?

রাইসা একটু লজ্জায় পড়ে গেলো।আমতা আমতা করে বললো ~

~মানে আপনি কি সিঙ্গেল নাকি মিঙ্গেল?

~আই এম ম্যারিড।

বলেই ঠাশ করে ওর মুখের উপর দরজা টা লাগিয়ে দিলো। যাক বাবা এবারের মত বেচে গেছে।ও খুব ভালোই বুঝতে পেরেছে এই মেয়ের মনে মনে কিছু চলছে।তাই তো পাত্তা না দিয়ে দোর দিলো।রাইসা হতচকিত হলো, থমকালোও। ম্যারিড মানে? বেচারীর মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। কাচের টুকরোর মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো ওর ছোট্ট হৃদয়খানি।মনে হলো প্রেম না করেই বোধহয় ছ্যাঁকা খেয়ে গেলো। লাইফে ফার্স্ট কাউকে প্রেম করার মতো পেলো তাও আবার….আর ভাবতে পারলো না মেয়েটা। কিন্তু চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে না কেন।এত বড় একটা ছ্যাঁকা খেলো অথচ চোখ থেকে পানি বের হচ্ছে না কেনো? শালার চোখ টাও বেইমানী করলো। মিছি মিছি চোখে থুতু দিয়ে কান্নার ভান ধরতে ধরতে, উদাস মনে চলে গেলো নিজের ঘরে। গুন গুন করে গান ধরলো নিজের মতো~

চোখের জলে পাঠিয়ে দিব

তোমায় উগান্ডা,

বউরে তুমি না জানি পাও

কোনো দিনও খুইজ্জা।

শুধু তোমার দুঃখে সুখের জোয়ারে

ভাসবে আমার বুক,

নিত্য করবো তাঁধীন তাঁধীন

হাসবো আমি খুব......

শুধু তোমারই দুঃখে…

শুধু তোমারই দুঃখে…

_

দ্বিপ্রহর চলমান। সময় দুইটার ঘরে।বাহিরে কড়া রোদ। অথচ এই গরমেও ফুরসত নেই কারো। বাহিরে ডেকোরেশন এর লোকজন চেয়ার টেবিল পেতে খেতে বসেছে।খাওয়া শেষে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজ শুরু করবে। সন্ধ্যার মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। স্ট্যান্ড ফ্যান থাকলেও সকলের ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা।

তবে বাড়ির ভিতরে এসি থাকায় গরম ভাব টা নেই। বাড়ির গিন্নীরা সকল আত্মীয় স্বজনদের খাওয়াতে ব্যস্ত,হাতে হাতে এগিয়ে দিচ্ছে কাজের লোক জন।সকলের খাওয়া প্রায় শেষ।এখন শুধু বাকি আছে হাতে গোনা কয়েকজন। তাও নিজেদের লোক।মানে নিজেরাই। রেহানা চৌধুরী,রাফা বেগম ও জাহরা বেগম সকলকে খাওয়ানো শেষ করে তারপর খেতে বসবেন।

শমসের চৌধুরী আর সাদমান চৌধুরী কোমলের সাথে খাবেন বলে এখনও না খেয়ে আছেন। আর কোমল সেই যে ঘরে গিয়ে দোর দিয়েছে। এখনও নামার নাম নেই। অবশ্য কেউ আর ডাকেনি ওকে।এতদূর জার্নি করে এসেছে এখন একটু বিশ্রাম নেয়া দরকার।এতদিন পর কোমল কে কাছে পেয়ে খুশির আর শেষ নেই তাদের।রেহানা চৌধুরী জাহরা বেগমকে বললেন ~

~যাওতো বৌমা।বাকিদের ডেকে আনো।

জাহরা বেগম বাকিদের ডাকতে চলে গেলেন। একে একে শমসের চৌধুরী, সাদমান চৌধুরী, তিয়ান, রাতুল, এলিজা আরা,অনিল তালুকদার, ইলারা, ইরিশ সকলেই চলে এসেছে। সবাই খাওয়া শুরু করলেও শমসের চৌধুরী আর সাদমান চৌধুরী খাওয়া শুরু করেনি কোমল আসলে একসাথে শুরু করবেন। টুকটাক কথা আর টুংটাং চামচ নাড়ানোর মৃদুমন্দ আওয়াজ তৈরি হচ্ছে।

খেতে খেতে তিয়ানের চোখ যায় দরজার কাছে।অমনি খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় ওর। তিয়ানকে ভয়ার্ত নয়নে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইরিশ ও কৌতূহলী চোখে দরজার দিকে তাকায়। প্রথমে ভাবলো হয়তো ভুল দেখছে আবার চোখ ডলে তাকায়,না ঠিকই দেখছে,মুখ ফুটে অবিশ্বাস স্বরে বলে ~

~ভাইয়া!

ইরিশের কথায় ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে সকলে দরজার দিকে তাকায়।অমনি সকলে হা হয়ে যায়।এটা কি সত্যি দেখছে। তখনই পা জোড়া থেমে যায় কিয়ানের।ঘুরে দাঁড়ায় ডাইনিংয়ের দিকে। কিয়ানকে ঘুরে দাঁড়াতে দেখে তিয়ান খাওয়া ভুলে দাড়িয়ে হড়বড় করে বলতে থাকে ~

~সরি ভাইয়া। আসলে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। তুমি কোনো চিন্তা করো না।আমি এক্ষুনি ফাইল গুলো নাওফিলকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

বলেই উত্তরের আশায় না থেকে তখনই হুড়মুড় করে খাওয়া রেখেই পগারপার তিয়ান।সকলেই হা হয়ে গেলো।বুঝতে আর বাকি নেই কিয়ান কেনো এই দুপুরে বাড়িতে এসেছে।কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে কিয়ান বলে~

~খাবার রেডি করো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

একমাত্র এলিজা রেমান বাদে সকলে চমকালো, থমকালো,ভরকালো।কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস করলো না, পাছে না আবার ফিরে যায় ছেলেটা। এলিজা রেমান দেখলেন। ছেলেগুলোকে কত ছোট রেখে গিয়েছিল। এই একটা মাত্র ছেলের জন্য আজ যত অশান্তি।এই ছেলের জন্যই তিনি এই বাড়ি ছাড়া হয়েছেন।এই ছেলেকে তিনি দু চোখে দেখতে পারেন না। অতীতের সকল কাহিনী ও কার্যকলাপের জন্য তিনি আজও কিয়ান কেই পরোক্ষভাবে দায়ী মনে করেন। কিছুটা বিরক্তি আর রাগ নিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলেন তিনি।

সবাই আবার খাওয়াতে মনোযোগ দিল। কিয়ান ঘুরে যেই সিঁড়িতে পা রাখবে অমনি ওর বুকের সাথে ধাক্কা খেলো কেউ।আর একটু হলে পরেই যেতো।কিন্তু মানুষটাকে না দেখে ধরে ফেললো হাত দিয়ে। কোমল নিচে নামার সময় খেয়াল করেনি যে সিঁড়ির কাছে কেউ দাড়িয়ে আছে।

ঘুম ঘুম চোখে যেই লাস্ট সিঁড়িতে পা দিয়ে নামতে যাবে তখনই করো বুকের সাথে ধাক্কা লাগে।তাও লোকটা ধরে ফেলায় পরতে পরতে বেচে গেলো। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয়।একটা মেয়েকে ধরেছে ভাবতেই গায়ের মধ্যে ঘিনঘিন করে উঠলো কিয়ানের।নাক মুখ কুচকে এলো ওর। ভ্রু যুগল এক হয়ে গেলো।হাত টা আলগা করে ছেড়ে দিলো কোমল কে। আর গট গট পায়ে চলে গেলো উপরে।

ঠাস করে সিঁড়িতেই বসে পড়ল মেয়েটা। ব্যথা না পেলেও লজ্জা পেয়েছে বেশ।এত গুলো মানুষের সামনে কিভাবে পারলো লোকটা ওকে ফেলে দিতে । ভাবতেই লজ্জা লাগছে ওর।কিন্তু এসব এখন এসব ভাবার একদম সময় নয়।কে এই লোক? অসাবধান বশত ধাক্কা খেয়েছিল, ইচ্ছে করে তো আর দেয়নি।ও নাহয় ঘুম থেকে উঠে এসে খেয়াল করেনি এই লোক কি কানা নাকি? আজব! ধরেছিল যেহেতু আবার ছেড়ে কেনো দিলো?ভাবতেই মাথা গরম হয়ে গেলো ওর। অসভ্য,ইতর লোক।ওর বাড়িতে এসে ওকেই ফেলে দিলো।মাথার ভিতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে লাগলো ওর।

কিছু বলবে ভেবে মাথা তুললো। নেই, কোথাও নেই লোকটা। যাহ বাবা গেলো কই? পিছনে ফিরে সিঁড়ির দিকে উপরে চেয়ে দেখলো একটা ছায়া চলে গেলো।সাথে সাথেই রাগ চলে গিয়ে ভয় জেঁকে বসলো ওর মনে।ভূত টুত নয়তো আবার? এজন্যই মায়া দয়া না দেখিয়ে এভাবে ফেলে চলে গেলো বুঝি? শেষ পর্যন্ত কিনা একটা ভূতের সাথে ধাক্কা লাগলো ওর।আর কিছু ভাবতে পারলো না মেয়েটা।একটা শুকনো ঢোক গিললো মেয়েটা।গলা শুকিয়ে কাঠ ওর।

হঠাৎ কিছু পরার শব্দ হতেই ডাইনিং টেবিলের সকলে সিঁড়ির দিকে তাকালো।দেখলো কোমল সিঁড়ির গোড়ায় বসে মাথা নিচু করে তাকিয়ে আছে ফ্লোরের দিকে। এলিজা রেমান খাওয়া রেখে ছুটে আসলেন মেয়ের দিকে।সাথে বাকিরাও।এলিজা দৌঁড়ে আসার পূর্বেই রেহানা চৌধুরী এসে নাতনিকে জড়িয়ে ধরলেন ।

কোথাও ব্যথা পেয়েছে নাকি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলেন। নাহ কথাও কোনো আঘাত লাগেনি দেখে সকলে স্বস্তির নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। ব্যথা পায়নি তো কি হয়েছে ভূতের সাথে ধাক্কা লেগেছে ভেবেই মেয়েটার মুখ কালো হয়ে গেছে।এত সুন্দর একটা বাড়িতে ভূত রয়েছে সেটা যেনো বিশ্বাসই করতে পারছে না ও।রেহানা নাতনিকে নিয়ে বসালেন চেয়ারে।এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন সামনে। কোমল এক নিঃশ্বাসে পুরো গ্লাস ফাঁকা করে দিলো। এবার একটু শান্তি লাগছে। পানিটার বড্ড দরকার ছিলো এই সময়।

~কতবার বলবো বড় হয়েছো এখন এসব দুরন্তপনা বাদ দাও।যদি কোনো বড় ক্ষতি হয়ে যেতো তখন?

মায়ের ঝাঁঝালো শব্দে কেঁপে উঠলো কোমল। সচরাচর মায়ের ধমক বকুনি খায় না।বকুনি খাবে কিভাবে ও তো তেমন কোনো কাজ করেই না।সব মায়েদেরই বোধহয় অভ্যাস এটা বলা যে °দুরন্তপনা বাদ দাও°।ও তো বরাবরই ভদ্র মেয়ে।মায়ের কথায় মিন মিন করে কোমল বললো ~

~এই বাড়িতে ঘোষ্ট আছে মম।

মেয়ের কথায় কপাল কুচকালেন এলিজা। মুখ ফুটে বেড়িয়ে এলো একটি মাত্র শব্দ,

~ ঘোস্ট?

পরপরই বিরক্তি নিয়ে বললেন,

~ একদম বাজে কথা বলবে না বলে দিলাম। ছোট নয় দিন দিন বড় হচ্ছো তুমি কথাটা মাথায় রাখবেন।

~ আমি সত্যি বলছি মম। এই দেখো আমাকে ধাক্কা মেরে চলে গেলো।

#চলিত

Inspired by > বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের কাল্পনিক - অকাল্পনিক সকল কিছু।

[ গল্পটা কেউ সাধারণ ভাবে নিবেন না। কিছু কিছু টুইস্ট আছে গল্পে। সেটা দশ/বারো পর্ব পর্যন্ত পড়লেই বুঝতে পারবেন। আর ভালো লাগলে রেসপন্স করতে ভুলবেন না প্লীজ। আগামীকাল গল্প আসবেনা। গল্প আসবে পরশুদিন সেহরীর পরে।আসসালামুয়ালাইকুম ।” ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন