#স্বর্ণকোমল
#পরিণীতা_আরা_হৃৎ
#পর্ব_৪
[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]
🕊️
কোমলের কথায় সবাই নিজেদের মাঝে চাওয়া চাওয়ি করলেন।ভূত আছে মানে ? এই জামানায় এসে কেউ ভূতে বিশ্বাস করে? আর এই মেয়ে না বিদেশে থেকে বড় হয়েছে। তাহলে এ আবার ভূতের কথা বলে কিভাবে? আর যদি ভূত বলতে কিছু হয়েও থাকে তাহলে কই কেউ এর আগে কিছুই দেখেনি।কই এর আগে তো কেউ কখনও ভূত দেখেনি। সবাই বুঝলেন কোমলের কোথাও একটা বুঝতে ভুল হয়েছে।শমসের চৌধুরী নাতনির মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে শুধালেন কি হয়েছে খুলে বলতো দাদুভাই? তুমি পড়লে কিভাবে?
কোমল শ্বাস ফেললো আস্তে করে। সকলকে খুলে বললো ওর ভূত দেখার ব্যাপারটা।ওর কথা শুনে সকলের মুখ কালো হয়ে গেলো। ইরিশ পারছে না হাসি চেপে রাখতে।কিন্তু এখন হাসলে মোটেও চলবে না। সেটা সকলেই খারাপ ভাবে দেখবে।দাত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকে রেখেছে বহু কষ্ট করে। এখন যদি এলিজা কিছু বলে।কিংবা রাগারাগি করে।সকলের মনে ভয় ঢুকে গেলো। হলোও তাই।এলিজা রেগে গেলেন প্রচন্ড। দাঁত কিড়মিড় করে চোয়াল শক্ত করে নিলেন।
~দেখলেন বাবা আপনার আদরের নাতি কিভাবে আমার মেয়ে টাকে ফেলে গেলো।যদি ব্যথা পেতো কোমরে তাহলে কি হতো? ভালোবাসা সব ফুস হয়ে গেলো? সেদিন তাহলে আমার সিদ্ধান্ত ভুল কিছু ছিলো না।
কোমল কিছুই বুঝতে পারলো না। কোথায় এরা ভূত নিয়ে চিন্তা করবে তা না করে কি নিয়ে রেগে গেলো মা।কিছুই ওর বোধগম্য হলো না। কিসের ভালোবাসা টালোবাসার কথা বলছে? সব যেনো ওর মাথার এক হাত উপর দিয়ে গেলো। শমসের চৌধুরী হতাশার শ্বাস ফেলে বলে ~
~দেখো বৌমা। তুমি ভুল বুঝোনা।আসলে কিয়ান এখন আর আগের মতো নেই। আগের চঞ্চল কিয়ান তোমাদের সাথেই বিদায় নিয়েছে এই বাড়ি থেকে।।ও মেয়েদের খুব একটা পছন্দ করে না।মা দাদি ছাড়া আর কোনো মেয়েদের সাথে মিশে না। অফিসেও ওর জন্য কোনো মেয়ে এমপ্লোই রাখি না।প্রথম প্রথম যাদের রেখেছিলাম তাদের সকলকে বিদেয় করেছে অফিস থেকে। দেখলে না বয়স ত্রিশ পার হয়েছে কবে এখনও একটা বিয়ে করাতে পারলাম না।
এলিজা এবার একটু ভাবলেন। সত্যিই তো ওকে ফেলে গেছে তার মানে কি সত্যিই ভুলে গেছে কিয়ান কোমল কে। হতেও পারে।একটু স্বস্তির ছাড়লেন তিনি।
এদের কথাবার্তা কিছুই বুঝতে পারছে না কোমল।সাথে ইলারা ইরিশ ও। কোমল সকলের এটেনশন পেতে কেশে গলাটা একটু ঝেরে প্রশ্ন করলো ~
~কি হয়েছে আমাকে বলবে তোমরা।আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কোথায় তোমরা ভূত তাড়ানোর ব্যবস্থা করবে। তা না করে কি সব বলছ বলতো।
এবার আর সহ্য করতে পারলো না ইরিশ। হো হো করে হেঁসে ফেললো।আর বললো~
~কোনো ভূত টুত নয় কমলা।ওটা তো কিয়ান ভাইয়া ছিলো।
কোমল গাল ফুলিয়ে বললো~
~নট কমলা,কোমল।তাহলে কিয়ান ভাইয়া আমাকে ফেলে দিলো কেনো?
~আসলে তুমি ভুল বুঝো না। ভাইয়ার আসলে মেয়ে মানুষে এলার্জি তো তাই আরকি এমনটা করেছে ।ভাইয়ার হয়ে আমি সরি।
~হুম।
~~~
তিয়ানের বিয়ে উপলক্ষে বাড়ির কর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই এক সপ্তাহ কেউ অফিসে যাবেন না।তবে মানা করে দিয়েছে কিয়ান। সে কোনো বিয়ে টিয়েতে থাকতে পারবে না বলে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এইসব রিচুয়াল,বিয়ে ফিয়ে তার কাছে নাকি ডিসগাস্টিং লাগে। তাই এতো হইচইয়ের মাঝেই অফিসে যায়।
রুমে এসে নিজের ফর্মাল ড্রেসআপ খুলে কাবার্ড থেকে টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো কিয়ান।কেনো জানি বড্ড অস্বস্তি লাগছে ওর কাছে।ও কেনো এখন এই অবেলায় বাড়িতে চলে আসলো। ফাইল গুলো তো নাওফিলকে দিয়েই নিতে পারতো। তবে কেনো সে বাড়িতে আসলো? নিজের করা প্রশ্নের এই কেনোর উত্তর নেই তার কাছে। ওয়াশরুমে ট্যাপ ছেড়ে ঝর্নার শীতল পানিতে একটু ঠান্ডা থাকার চেষ্টা করছে। এক হাত দেয়ালে ঠেস দিয়ে মাথা টা নিচু করে দাঁড়িয়ে।ভাবতে লাগলো আজকে সকাল থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা গুলো।
° ফ্ল্যাশব্যাক °
সকালে ঘড়ির কাটা তখন আটটা ছুঁই ছুঁই। কিয়ান নিজের বেলকনিতে দাড়িয়ে বাম হাত পকেটে গুঁজে ডান হাতে একটা সিগারেট ফুকছিলো আপন মনে । চারদিকে একটা নরম নীরবতা। শীতকালীন সকালের ঠান্ডা বাতাস ছুয়ে দিচ্ছে ওর উন্মুক্ত কায়া। এলোমেলো চুল গুলো উড়ে বেড়াচ্ছে। আকাশটা নীলচে সাদা মেঘে ছেয়ে আছে। মাঝে মাঝে এক চিলতে রোদ এসে মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবে শীতের প্রভাবে তার ঝাঁঝ টের পাওয়া বড়ই মুশকিল।দৃষ্টি সকালের মনোরম দৃশ্য পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত । তখনই ওর কানে এলো গাড়ির হর্নের শব্দ। কৌতূহলী চোখ না চাইতেও গেটের কাছে চলে গেলো।একটা গাড়ি মাত্রই গেট থেকে ভিতরে ঢুকে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়েছে।ওর বেলকনিতে দাড়িয়ে বাড়ির গেট থেকে শুরু করে সদর দরজা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। এইটুকুই, একপলক দেখে আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো। তারপরই কি দেখে যেনো আবার তড়িৎ গতিতে গাড়ির দিকে দৃষ্টি নিলো ও।ছেলেটা চমকালো, থমকালো, ভরকালোও বটে।এত লম্বা চুল তাও আবার সোনালী কালার। এমনটা নয় বড় চুল এই প্রথম দেখছে। ওর গ্র্যান্ডমার চুলও বড় তবে এত বড় নয়। এই মেয়ের চুলগুলোও সোনালি কেনো। পিছন ফিরে থাকায় মেয়েটার মুখ দেখা গেলো না। তবে সেখানে আরও দেখা গেলো ওর দাদাভাই,বাবা,আর ভাইকে। সাথে আরও একটা পরিচিত মুখ। কতবছর হলো ওই মুখটা দেখা হয় না ওর। কাকিয়াকে এত দিন পর দেখলেও চিনতে অসুবিধা হয়নি ওর।তবে ওই সোনালি চুলের মেয়েটি কি সেই ছোট্ট মেয়েটি যাকে নিয়ে ওর কাকিয়া এই বাড়ি ছেড়ে ছিলো। দৃষ্টি ঘুরিয়ে আবার মেয়েটির দিকে চাইলো ও। মুখ দেখা যাচ্ছে না। ওই চুলের দিকে চেয়ে এক মুহূর্তের জন্য যেনো মনে হলো হার্টের কোনো বিট মিস করে গেছে । বুকের মাঝে অসহনীয় পীড়া দিতে লাগলো ওর।তবে কি আবার ওই অদ্ভুত চোখের জালে ফাসতে হবে ওকে । না ! ওই চোখের দিকে ও কোনোদিন তাকাবে না । হাতের সিগারেট যে কখন হাত ফসকে নিচে পড়েছে সেই খেয়াল ও নেই ছেলেটার। দৃষ্টি ঘুরিয়ে তৎক্ষণাৎ রুমে চলে গেলো।ভাগ্য কি আর নিজের নিয়মে চলে।ফর্মাল ড্রেস পরে একদম রেডি হয়ে পরিপাটি ভাবে নামলো ও। সকাল বেলা ও কোনো কালেই সকলের সাথে ডাইনিং টেবিলে বসে নাস্তা করেনি। স্বভাব সুলভ আজকেও তাই।আজকে নিচে এসে দেখলো ডাইনিং টেবিল ফাঁকা জটলা বেঁধেছে ড্রয়িংরুমে।ওর চতুর মস্তিষ্ক বুঝে নিলো এই জটলার কারণ।সবার অগোচরে চলে যেতে চাইলো।কিন্তু বেহায়া চোখ যেনো আজ পন করেই নিয়েছে ও কিয়ানের কথায় আজ চলবে না।সদর দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় অচিরেই একবার ফিরে চাইলো পিছনে। ব্যাস,ফের একবার হার্ট বিট মিস হলো।না চাইতেও দেখে নিলো ওই রহস্যে ঘেরা ভয়ংকর ঘোলা চোখ জোড়া সাথে প্রাণঘাতী হাসি একদম ফ্রি দিলো বোধহয়।অনেক কষ্টে বেহায়া চোখ গুলোকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চললো অফিসে।এতেই কি ক্ষান্ত হলো কিছু যদি হতো তাহলে হতই । অফিসে গিয়ে ঠিক মতো কাজে মন বসাতে পারলো না। অস্থিরতা জেঁকে ধরলো ওকে। বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগলো ওই রহস্যময়ীর ভয়ংকর চোখ,সোনালী কেশরাশি আর মনোমুগ্ধকর হাসি। প্রেন্টেশনের সময় তো বার বার ওই ভয়ংকর সুন্দর চোখ,ওই প্রাণঘাতী হাসি,ওই সোনালী দূতি ছড়ানো কেশগুচ্ছ ভেসে উঠছিলো প্রেনটেশনের জাগায়।ওর মস্তিষ্ক এতকিছু সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত প্যানিক এটাক করে বসলো ।ওর ত্রিশ বছরের জীবনে বোধহয় এই প্রথমবার একদিন এতো বেখেয়ালি হলো ও।
° বর্তমান °
পনেরো মিনিট শাওয়ার নিয়ে একটা সাদা টাওয়েল জড়িয়ে বের হলো। রেগুলার জিম করার দরুন ওর ফর্সা পেটানো সুঠাম শরীর দেখার মতো আকর্ষণীয়।আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে দেখে ভাবতে লাগলো শেষ কবে ভরদুপুরে শাওয়ার নিয়েছে ও?আজকে আর কি কি দেখতে হবে ওকে ? হাহ! হতাশার শ্বাস ফেলে কাবার্ড থেকে একটা ব্ল্যাক ট্রাউজার সাথে ব্ল্যাক টি শার্ট নিয়ে পরে বের হলো রুম থেকে।
ডাইনিং টেবিল ইতিমধ্যে প্রায় খালি হয়ে এসেছে। শমসের চৌধুরী,সাদমান চৌধুরী,আর কোমল এখনও টেবিলে।রেহানা চৌধুরী আর জাহরা বেগম আর রাফা বেগম তিনজনই কোমল কে ঘিরে দাড়িয়ে রয়েছে ।কিয়ান এসে একটা চেয়ার টেনে বসলো ।খাবার রেডি করাই ছিলো।ওর মতো এলিজা আর কোমল ও তো এইসব ঘাসপাতা খায়।কোমল অবশ্য বায়না ধরেছিলো দেশীয় খাবার খাবে বলে।কিন্তু এলিজা রেমান কাঠ কাঠ গলায় নিষেধ করে দিয়েছেন।হুট করে এভাবে তেল মসলা জাতীয় খাবার খেলে পেট খারাপ করতে পারে তাই সে ও বাধ্য মেয়ের মত নিজের জন্য তৈরিকৃত খাবার খেতে লাগলো।
#চলবে
[ আসসালামুয়ালাইকুম পাখিরা। সেহরীর পরে গল্প দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখনই দিয়ে দিলাম। ভোর রাতে সেহরীর পরে আরেক পর্ব আসবে। নজর রাখিও কিন্তু।আর গল্প ভালো লাগলে রেসপন্স করতে ভুলবেন না যেনো। রেসপন্স না পেলে লেখার আগ্রহ পাই না।” ]
Inspired by > বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের কাল্পনিক - অকাল্পনিক সকল কিছু।
হ্যাপি রিডিং 🫰